Skip to main content
Internet Archive's 25th Anniversary Logo

Full text of "Rammohan- Samiksha"

See other formats











৯৭ রর নি মা 
১০৯ চির ) 
সত ' ৯. এপি সপ 
1. ৮ লছ £ বক 
রর কী ৯১১ ৫ সা এস্টি এ ঈ 


১, সিল সিন 
রঃ 107 ৯4১৭৮ 


লা 
সখ ) ৫ মরা 









| কি: চা (5 ।. 
বাঁক কিল, ৯৪ ৃ 
স্ব সি কঃ ৭ এ 
১৭ $ &* এ) 1 পি ২০ 
* » আর সির $ ৃ 
পু ্ নর ৯:২১ মর টা 
059 চে তত এ ৬4), ৮ টন বির টি 
* ৬৯ দেহ ৬ যি ॥ ১ টা নি কি, 
4 ৮ নপগ রে (৮ ও ঘ 
১) পি উপ | 0 
তত» ্ ৪ ৪ ঃ ৬ 4. রা 
দু ;, 181 ৫৮11 4. না ॥ স . [বাগ ছি 2 . / | 4৮ 
না খু । এ এব নি চা পট রব ঃ 
1 : লী / ] 
রব ক 
চি লন না । পর্গা. 
ৃ চা । টা ) 
রি ডি ৪ লি ণ 
এ বৃ 
| 


পি এরি? যি 


সস 
রিও 


ৃ 
: পু 
/1 ১০ ৭ 





| | রঃ / 
সু ৫ হলঃ 
কাকি পি টি ্ রে 
৯০. নিত ও রা রর 
টা *.দ $ 
! . রা 
এর চি 8 ৭ 
- 
) 
া : ৮ 
রি ত রা 4. 
৬, ২০ 8 স সদ সি 2 এ 0, পাও "* 
ৃ ১ 
্ ্ ৫ 
ঃ বৃ 
ৃ ! 
& রঃ 
! ] 
| ৃ 
রঃ ; 
্ 1 ূ 
ৰ ্ রর ৃ ৃ 
এপস... 0টি. এরাজটারারাটা এ... ;. রর সনের ই হারার 
৮৯ সি 1০ শিক মনত জি রাই. জাজ শপ ৪.৬. 





) ঞ০ 


[হন কতৃক ভার 1010101 ৪ | ৃ | 3 ( লগুল ১৮৩২ 
হন কর্তৃক হার 10010191 804 40৬ ৩0816 9$5161) 11 17013 ( লগ 

মুদ্রিত ভারুততধের মানচিত্র | 

জাতীয় গ্রন্থাগার, কলিকাতা । 


লামমোহন-সমীক্ষ। 


দিলীপকুমার বিশ্বাস 


নদে 


সারুক্ষত লাইব্রেরী 


স২৬তড বিধান সব্নী 2 কজিকাতা-৭০ * * ০৬ 


প্রকাশক : 

প্রশান্ত ভট্টাচাধ 
সারন্বত লাইত্রেব্ী 
২০৬ বিধান সরণী 
কলিকাতা ৭০০০৬ 


দিলীপকুমার বিশ্বাস 


পিথধম প্রকাশ 
আছ ১৩৭৩ 


প্রচ্ছদ-শিল্পশ : 


চাকু খান 


মুদ্রক 

সুধাবিষ্ক সরকার 
ব্রাক্ষমিশন প্প্রেস 
২১১/১ বিধান সবুণী 
কিকাতা-৭ ০০০০৬ 


মুল্য 2 ৬৫০৯ টাকা 


স্র্গত পিতৃদেব ও ন্বর্গতা মাতৃদেবীর 
পুণ্যম্মৃতির উদ্দেশ্যে 


প্রাক্‌-কথন 


রামমোহন বায়ের জীবন ও ত্তার কাল সম্পর্কে গত প্রায় কুড়ি বৎসর যা 
ভেবেছি এবং অনুসন্ধান ও অনুশীলন করেছি সে নব মিলিয়ে বর্তমান গ্রন্থখানি 
গডে উঠেছে । ১৯৬২ সালে যখন হ্বর্গত প্রভাতচন্র গঙ্গোপাধায়ের 
সহযোগিতায় শ্রীমতী পোফিয়া ভবসন কলেট ক্লুত রামমোহনের ইংরেজি জীবন- 
চবিতের নূতন সংস্করণ সম্পাদনা করি তখন থেকেই এই জাতীয় একখানি 
্রন্থরচনার চিন্তা আমার মাথায় এসেছিল। অবশেষে এতদিনে সেই 
পরিকল্পনাকে রূপ দেওয়া সম্ভব হল। এই গ্রন্থে রামমোহনের জীবনী নৃতন 
করে লেখবার চেষ্টা করা হয় নি। আমি মৃখাত তার চিন্তার সামগ্রিক বিগ্লেষণ 
করে এর বৈশিষ্ট্যনির্ণয়ের প্রয়াপ পেয়েছি। আমাদের জাতীয় জীবনে 
রায়মোহনের চিন্তা উল্লেখঘোগাভাবে প্রতিফলিত হতে আরস্ত করে ১৮১৪-১৫ 
্রীষ্টাকে কলিকাতায় স্থায়ীভাবে তার বসবাস আরম্ভ হবার সময় থেকে । তার 
ভারততাগ ( ১৮৩০ )ও বিদেশে মৃত্যুর ( ১৮৩৩ ) পরেও এই প্রভাবের শ্রোত 
কেবল যে অবাহত ছিল তা নয় ক্রমশ তা আরও প্রবল ও বহুমুখী হয়ে 
উঠেছিল। আমি সপ্তম অধ্যায়ে এর পরিণতি উনবিংশ শতান্ধীর মধাভাগ 
পর্যস্ত অনুসরণ করেছি । কোনও বিশিষ্ট ভাবধারার উৎপত্তি ও বিকাশের 
আলোচনায় বাহঘটনাভিত্তিক এঁতিহাদিক কাঁলক্রম সর্বদা নির্ভরযোগ্য নয়। 
তবুমনে হয়, ১৮১৪-১৫ থেকে আনুমানিক ১৮৫৫ পর্ধস্ত সময়কে গ্রন্থের 
বিষয়বস্তর কালসীম! ধরলে খুব বেশী ভুল হবে না। 

রবীন্দ্রনাথ রামমোহনকে আখা। দিয়েছিলেন 'ভারত-পথিক'। অভিধাটির 
তাৎপর্য গভীর । ভারতবর্ষের খদ্ধিবান পরম্পরাগত সভাতার একটি একান্ত 
নিজন্ব সাধদার ধারা আছে। বেদ-উপনিবদ্দের কাল থেকে অষ্টাদশ শতাবীর 
শেষ, এমন কি উনবিংশ শতাবীর আরস্ত পর্যস্ত--সর্ববিধ রারীয় ও সামাজিক 
পরিবর্তন,"ঘাত প্রতিঘাত, সংকীর্ণত! ও কুসংস্কারের অন্থবালে এই অসাম্প্রদায়িক 
উদ্ধার পার্বভৌম অধ্যাত্মপাধনার ধারাটি অস্ত:সলিলা ফন্তর মত প্রবহমান । 
উনবিংশ 'শতাব্ধীতে রামমোহন নিঙ্গেকে তারই অন্তর্গত বলে দাবি করেছেন 
এবং এই আদরশটিকেই দেশে নবাগত প্রাশ্চাতা জ্ঞানবিজ্ঞানের আলোকে 


[ ৫ ] 


পরিমার্জিত করে তার ভিত্তিতে যুগোপযোগী নৃত্ন জীবনদর্শন রচনাদ় ব্র্তী 
হয়েছেন। এ হল ভারতবর্ষের চিরস্তন সত্তাকে নৃতন করে আবিষ্কারের সাধন1। 
সেই সঙ্গে এ কথাটিও মনে রাখা প্রয়োজন রামমোহন ছিলেন বিশ্বপথিক । 
আধুনিক যুগে তিনিই বোধ করি সর্বপ্রথম মুক্তকণ্ে বিশ্বমানবের একজাতিত্বের 
কথা ঘোষণ! করেছেন এবং বিভিন্ন দেশের মধো শাস্তি ও মৈত্রীর ভিত্তিতে এক 
বিশ্বসংস্থা গড়বার স্প্র দেখেছেন । কলিকাতায় স্থায়ীভাবে এসে বসবার সঙ্গে 
সঙ্গেই তিনি করতে থাকেন শুর ইংলগ্ড নয় আমেরিক1 পবিক্রমারও পরিকল্পন1 ; 
তার ফাসণ সংবাদপত্র 'মিরাৎ-উল্‌ আখবার এর গ্রাহক-পরিধি সম্প্রসারিত ছিল 
স্দ্নর পাবশ্য পর্ধন্ত ; ভারতবর্ষে বাস করে পত্রালাপের দ্বারা তিনি নিজেকে যুক্ত 
করেছিলেন ইংলগু, আমেরিক1, পারন্ত ও পরথিবীর অন্যান্য বহু দেশের 
সঙ্কে এবং সে যোগ এতই অন্তরঙ্গ ছিল যে কোনও অস্থবিধার জন্য 
সাময়িকভাবে তা বন্ধ হলেই তত্রস্থ বন্ধুরা অভিযোগ করতে থাকতেন 
€(01)65 ৬০5 9০০1) 0770] €1)01161]5 106€160060 205 ০01165101)- 
01706 আ100 1[061819, চ17618170, 48100610108. 800 2৬65 0810 01 
0006 90114. 7515 ৬১৪11100941) 00 00৬ 0161005 17 ৮৪110115 00810215 
1১0 00121191116 ০ [76160000610 000)1001001)1081010195- 
উইপ্রিয্ম আপেক্সাণ্ডাককে লিখিত রামমোহনের ১৬ জুলাই ১৮৩১ তারিখের 
পত্জাংশ) ; ইউরোপ থেকে ফিরবার সময় রাশিয়া, তুরস্ক ও পারম্য পটন করবার 
ইচ্ছা তার ছিল (জষ্টবা, গাঁ] দ্য তাসীবর সাক্ষ্য প: ৫৩৯); সমকালীন 
আমেরিকায় দাসপ্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের একজন রামমোহনের প্রতি 
গভীর শ্রন্ধাবশত “রামমোহন বায় ছয্নামে উক্ত মুক্তি-আন্দোলনের একখানি 
ইন্তাহার স্বাক্ষর করেন দ্রষ্্বা, পৃঃ ২৮২ )7 ১৮১২ গ্রীষ্টাবে প্রতিষ্ঠিত স্পেনের 
স্থবিখাত উদ্দারনৈতিক সংবিধানের একটি সংস্করণ রামমোহনকে শ্রদ্ধার সহিত 
উপহার দেওয়া হয়েছিল; ইত্াদি বহু সমকালীন দলিলপত্রের সাক্ষ্য এ 
বিষয়ে উপস্থিত কর] যেতে পারে। প্রকৃত অর্থেই রামমোহন ছিলেন তর 
কালের সর্বগ্রধান বিশ্বনাগরিক | এই বিশ্বচেতনা তার ভারতচেতনাতে এক নৃতন 
মাজা যুক্ত করেছে। তার বিশ্বমার্গ তার ভারতমার্গেরই হুচিস্তিত পরিণতি ; 
তার চিন্তায় ছই-এর মধো কোনও বিরোধ ছিল না। তার ম্বদেশচিস্তার 
এই বৈশিষ্ট্য উত্তরকালে সর্বাধিক মূর্ত হয়েছে ববীন্দ্রনাথে। কবি যখন বলেন, 


| ৬ ] 


[10 51501178006 20100101006 001 01001600 ৩ 81381] 108৬৩ 
1)61760 00 501৮6 1136 ভ0:10] 701001609.--7156 10016 0110 15 
06০01001776 0106 ০0০20 00100610 501500120 8011105.-700066 5 
015] 0175 1)1800175--0156 10150015014 1081. 4৯11 17201010821] 18158001163 
816 0061615 01900615 11 0106 19166 0795 ৯৬৪৬ 216 ০0190613011 
[0019 00 50961 00: 5001) 2 8520 08055. (44 26107721157 [01700 
1950, 70 99), তখন তার উক্তিতে আমরা রামমোহনেরই প্রতিধ্বনি শুনি । 

বর্তমান গ্রন্থের সাতটি অধ্যায়ে রামমোহনের চিন্তা ও কীন্তির বিশ্লেষণ ও 
মূলায়ন প্রসঙ্গে তার দেশ থেকে বিশ্বে উত্তরণের এই শ্ৃজ্রটি সর্ধদা সামনে 
রাখবার চেষ্টা করেছি। প্রথম জীবনে তিনি পাশ্চাতা বিগ্ার সংস্পর্শে আসেন 
নি; মাতৃভাষায় এবং দেশীয় পদ্ধতিতে আরবী-ফার্সা-সংস্কৃতে পাঠ নিয়েছেন, 
হিন্দি-উদ্ুতে মাতৃভাষার মতই স্বচ্ছন্দ অধিকার অর্জন করেছেন। সেই সঙ্গে 
ব্যাপক পর্ধটনের ফলে দেশের সমাজ-সংস্কৃতির সঙ্গে তার গড়ে উঠেছে নিবিড় 
পরিচয়। উত্তরকালে যখন তিনি পাশ্চাত্য জ্ঞানবিজ্ঞান-ধ্যানধারণার জগতে 
প্রবেশ করলেন সে-সময়ে তার চিন্তা ভারতীয় সংস্কারে দৃঢমুল। ভারতীয় 
উপাদানে তার মনের জমিটি তখন তৈরী হয়ে গেছে। পাশ্চাত্য জ্ঞানবিজ্ঞানের 
আলোকে এই পূর্বাঞ্জিত দ্বেশীয় আধ্যাত্মিক ও নৈতিক মৃল্যবোধগুলি পরীক্ষিত ও 
পরিমাজিত হয়েছিল। হিন্বু ও ইসলাম ধর্ম এবং সংস্কৃতির গভীর অহ্থশীলনের 
ফলে তিনি যে অসাম্প্রদায়িক সার্বভৌম জীবনদর্শনে দীক্ষিত হয়েছিলেন পাশ্চাতা 
প্রভাবে তা পরিক্রুত হয়ে ক্রমশ বিশ্বজনীনতার ভূমিতে উত্তীর্ণ হল। প্রাচ্য ও 
পাশ্চাতা ছুই'উপাদানই এই প্রক্রিয়াতে সমানভাবে ক্রিয়াশাল; তার চিন্তার 
মূল্যায়ন প্রসঙ্গে দুটিকেই সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে হয়েছে। এই 
গ্রন্থের প্রথম অধ্যায়ে তাই বামমোহণ-মানসে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য উপাদানগুলির 
সংস্থান নিয়ে সাধারণ ভাবে আলোচনা করেছি। এটিকে পরবর্তী অধ্যায়গুলির 
প্রয়োজনীয় ভূমিকা রূপে পাঠ করা যেতে পারে। 

ভারতে ইংরেজ শাসনের প্রতি বামমোহনের মনোভাব নিয়ে অনেক 
আলোচনা হয়েছে। এ কথা সত্য যে ভারতবর্ষে ইংরেজশাসনকে তার কালে 
ভিনি স্বাগত জানিয়েছিলেন । এব কারণ ধূর্জটিপ্রসাদ মুখোপাধ্যাক্ন বাক্ত করেছেন 
ঠার স্বভাবসিদ্ধ অন্তরঙ্গ ভাবায় : “রাজ বায়যোহনের কৃপায় আমাদের মনের 


[ ৭ ] 


দরজা-জানালা খুলে গেল, আমরা মুক্ত হাওয়া পেলাম; আমরা বুঝলাম 
বিদেশী গভর্ণমেণ্টের পিছনে আছে এক বড় সভ্যতা, সে-সভ্যতাকে ভিক্টো- 
বিয়ান যুগের শুচিবাই-গ্রস্ততা পর্বস্ত নষ্ট করতে পারে নি-সে সভ্যতা 
নিতান্তই জীবন্ত এবং তার মুপ কথা হচ্ছে প্রত্যেক ব্যক্তির গ্রহণ করবার দান 
করবার সি করবার ন্বাধীপতা।” আর একটু ভেঙ্গে বলতে গেলে বলতে হয় 
- ব্রিটিশ শাসন ও পাশ্চাত্য সভাতাধ ঘনিষ্ঠ সংম্পর্শের মধ্যে তিনি দেখতে 
পেয়েছিলেন ছুটি সম্ভাবদ1--ভাখতে একটি মুক্তিকামী সুসংগঠিত বুর্জোয়া- 
শ্রেণীর আবিভাব এবং পাশ্চাত্তা জ্ঞাশবিজ্ঞান ও তেয়োগবিদ্যায় ভারতবাসীর 
শিক্ষালাত করবার স্থযোগ। বামমোহন ও তার অনুবন্ডিগণ আগ্নিকভাবেই 
বিশ্বাস করতেন ভারতবর্ষের সবজন্মের বীজ যুগোপযোগী এই নবশিক্ষার মধ্যেই 
শিছিত; এই শিক্ষাই ভবিষ্যতে ভারতবামীকে স্বাধীনতার মন্ত্রে দীক্ষিত করবে; 
এবং এঞ্জন্ু অন্ততপক্ষে অর্ধশতাব্বদীকাল ভারতে ব্রিটিশ শাসনের প্রয়োজন আছে। 
পামমোহনশিষ। প্রলম্নকুমার ঠাকুর তো ১৮৩১-৩৫ গ্রীষ্টাব্ধে ভার [২€£07061 
পে ম্প্টই লিখেছিলেন, এই নবশিক্ষার ফলে ভারতবাসী ভবিষ্যতে একদিন 
স্বাধীনতা দাবি করবে এবং নিজ বাণিজ্যিক স্বার্থ অঙ্ুপ্ন থাকার অঙ্গীকার পেলে 
(নাপাবার কোনও কারণ তিনি দেখতে পান নি) ইংরেজ সেদ্বাবি মেনে 
নিতে আপত্তি করবে *1 ( জষ্টব্,, পঞ্চম পরিশিষ্ট পৃঃ ৫৯৯-৬১৪)। হয়তো 
এমন কল্পনার মধ্যে বিদেশী শাসনের সদিচ্ছ! সম্পর্কে সরল বিশ্বাসের কিছু 
আধিকা ছিল। কিন্তু ভারতবর্ষেনন ভবিষ্যৎ স্বাধীনতা যে এদের কল্পনা-বহিভূর্ত 
ছিল না তার প্রমাণ আছে। কার্ল মার্ক সের ভাষায় বলতে গেলে ভারতবর্ষে 
ইংরেজশাসনের দুটি ভূমিকা, একটি ধ্বংসের €069::9০7৫) অপরটি 
পুনকুজ্জীবনের ( 16866780108 )। ধ্বংসাত্মক ভূমিকাটি সম্পর্কে রামমোহন 
অনবছিত ছিলেন না। ইংরেজশামনে ভারতবর্ষের অর্থসম্পদ কিভাবে শোধিত 
হয়ে বিদেশের ও বিদ্েশর সেবায় লাগছে (058815886 ) তিনিই প্রথম 
'ছিমাব করে ত1 দেখান ( ষ্টবা, £1%81157; 0705 0৮. ]]] 26. 73-77 )। 
ইংরেজ প্রবর্তিত নুতন ভূমিখ্যবস্থার অধীনে কুষককুল (008৫ 2008 
4098108 6৪০ 170018600 ০1939 0£ 10551) 89৮16০5 ০৪81160 
চ১০৪ ) কি ভাবে উত্তবোত্তর ছূর্শাগ্রস্ত হচ্ছে মষকালীন ভারতীয়দের মধ্যে 
মর্বপ্রথম ভারই রচনায় সে কাহিশী বিবৃত। কিন্তু তা সত্বেও 16867067800, 


[ ৮ ] 


বা পুনকজ্জীবনের দিকটির উপরই তিনি বেশী জোর দিয়েছিলেন, কেন না ভিনি 
জানতেন এই পথই ভারতের ভবিষৎ মুক্তির পথ। ইংরেজ শাসনের নানা 
অন্ধকার দিক সম্পর্কে সচেতন হওয়া সত্বেও এর প্রতি তার তৎসামগ়িক অনৃকৃল 
মনোভাবের এই হল মর্কথা । ইংরেজশালন এবং এই আমলে প্রবন্তিত পাশ্চাতা 
শিক্ষার অন্থনিহিত ভাবধারার স্ববিবোধ যেমন রামমোহন ও তার অন্ুবন্তিগণের 
দৃষ্টি এড়ায় নি তেমনি এ-সম্পর্কে অবহিত দেখা ঘায় একাল্লের একজন ব্রিটিশ 
এতিহাসিককে | সম্পূর্ণ বিপরীত মের থেকে বেটিংকের নবশিক্ষানীতি 
সম্পর্কে তিনি মন্তবা করেছেন £ ৮.৫ আঃ 206 80 00101] 006 
680 0021 1781151) 23 85020115060 ৪5 00০ 0180121 5৪00 
11027517085 £6 0000 ৩:85 01701001786) 05 006 010910€ ০0: 
1000615৪150 067৮০০০15 800:5/8105 120806. [9০10 
17৮6 0661 01006515000 02) 00550101600 18০8৪ 601 
5616-£0৮ 17100067605 00001080176 01090161006 00 18৬ ঠেে ৪ 
5৪196 01 01501011176. 10176 আ1)016 0600 01 007811910 10698 1001 006 
766 26 56215 185 1 006 01160010101 00100017060 1154151018- 
|1এা] 2100 06010 £1010 16580100156 00105 ০৮ ৪15 1100. 
[78115000061 10) 18৬/-810101136 770 0001600871010 (60006120191) 
০9910 1107001018০ 17 16501000182 01)601168 ড/100006 2115 
00010567016 606০6 110010 6061] 01800156300 005 00101521810 
50100161 101717 06 0106 02161708115 17060 809 ৪0০ 00 160 8780018- 
091 8120 20001; 80810. 00176 00956 0000618, 017 91)101) 01 
[738175% 56818 [1)01812 €0100801017 ৪৩ 12860) ০01)81560 01 9001106, 
861)017300, 11]1 2120 005 01011980010102] 28010815.  £১0581015 
৩000060 0700 58506107 5001605 615 01508160101 21011760061 
0816 177) 005 80610156176 06 005 5001) 05 006 50005 ০0: 
ও10166159 ভা)০ 08081060080 £05 21012106150 108516 %88 2া 765 ৪ 
06069391 &91]. ৮/৩ 20060000500 18156 ৪ 1506 0% 800011001808- 
0058 02 008 11660807506 6৬০1০ (0. 5. 00652125625 0 
21৮5 1725511000 205 96০০০০৮ 10501620 10096551020, 2977, 


[ ৯ ] 


ঢ. 304)1 এই থেদোক্তির মধ্যে আর কিছু থাক বানাথাক সততার অভাব 
নেই! 

বামমোহন নিজের আধ্যাত্মিক জীবনে শান্্র ও যুক্তির একটি সমন্বয় 
করেছিলেন | এ ক্ষেত্রে 'তুহফাৎ্-উল্-মুওহাহিদিন্*-এর সময় | ১৮৩-০৪) থেকে 
জীবনের অস্ভিম পর্ব পর্যস্ত তার চিস্তায় স্পষ্ট ক্রম-অভিব্যক্তি লক্ষা করা যায়। শেষ 
পর্ঘস্ত শান্ত ও যুক্তি উভয়কেই তিনি শ্রদ্ধ৷ করেছেন এবং উভয়ের শীমাকেও 
মেনেছেন। 'তৃহফাৎণ-পরবর্তী যুগে আধাজ্সিক প্রসঙ্গে তার কাছে উচ্চতম 
সত্য অবশ্যই কেবলমাত্র অন্ভভূতিগমা ; সে ভূমিতে লৌকিক যুক্তির অনুসরণ 
ফলদায়ক হতে পারে না। তার ভাষায় £ 7৮006 16585011078 08001 
1101) 16703 17061) 00 06102115117 0011085  আ161)17 15 16201), 
0৫006$ 170 €3০০৮ টো), 00650101703 0650100 105 ০0100161)61)51018 
(77175180697 06 217 ১010100600616 0 006 ভ6৫8100, [170600000101 
15711115717701%5 [1 0607 আরও দ্রষ্টবা, পৃঃ ৭৩, ১*৬-০৭)। কিন্ত 
বাবারিক জীবনের নিয়ন্ত্রণে বা বিচার-বিতর্কের ক্তরে অবলদ্িত তার মার্গে 
যুক্তির স্থান ছিল সর্বপ্রথম । বেকন, লক, নিউটন প্রত্ভৃতি যে সব ইউরোপীয় 
মনীষীদের দ্বারা তিনি অনুণ্রাণিত হয়েছিলেন তাঁর মনের ছাঁদটা এইখানে 
তাঁদের সঙ্গে মিলেছে। সামগ্রিক বিচারে তার মননে তাই একাধিক মাত্রার 
অন্তিত্ব দুতি আকর্ষণ করে। উত্তরকালে ভারতীয় চিস্তাজগতের উপর 
বামমোহনের প্রভাবের বাপকতা ও বৈচিত্রোর মূল হ্ত্বও এই বহুমাব্রিকতার 
মধো খুঁজে পাওয়া যাবে। বিশুদ্ধ জ্ঞানমাগণ অক্ষয়কুমার দত্ত, স্বাধীন চিস্তার 
উপামক 'ইয়ং বেঙ্গল' গোঠীভূক্ক যুবকগণ, মরমী ব্রদ্মজিজ্ঞাহথ দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, 
পরবর্তণীকালে রবীন্দ্রনাথ বিবেকানন্দ সকলেই নিজ নিজ ভাবে বামমোহনের 
চিন্তা থেকে অনুপ্রেরণা লাভ করেছেন। অথচ এদের নিজেদের মধ্যে 
দৃষ্টিভঙ্গীর কত প্রভেদে ! এমন কি যোগমাগর্ণ অরবিন্দকেও এই প্রসঙ্গে হিসাব 
থেকে বাদ দেওয়া চলে না। নিজের স্বীকৃতি অনুসারে তার ০৪1০ 9801921) 
্রন্থখানি রামমোহনের অশবীরী সত্তার অনুপ্রেরণায় লিখিত (ত্রষ্টবা, নলিনীকাস্ত 
গুপ্ত, "স্মৃতির পাতা”, শঅরবিন্দ পাঠমন্দির, কলিকাতা ১৩৭*, পৃঃ ৮৯)। 
বহুম্তরবিশিষ্ট এই গহন চিন্তারণ্যে বিচরণ সহজ কাজ নয়; এর দুবুহতা! 
আরগু বুদ্ধি পেয়েছে এই জন্য গ্রে রামমোহন কোনও একটি স্থানে বা গ্রন্থে 


[ ১৭ ] 


সুশৃঙ্খল ভাবে তীর চিস্তাশ্ত্রগুলি বিবৃত করে যান নি--জীবনে সে সময়ই তিনি 
পান নি। একাধিক ভাষায় রচিত ত্বার টাকা, ভাষা, অন্বাদ, বিচাবগ্রস্থ ও 
পত্রাবলীতে এবং সমকালীনগণের বিশ্বাসযোগ্য বিবরণে এগুলি ছড়িয়ে রয়েছে, 
কোথাও স্পষ্ট কোথাও বা অস্পষ্ট আকারে । জিজ্ঞান্বকে সেগুলি স্বীয় 
চেষ্টায় খুঁজে বার করে সাজিয়ে নিতে হয়। তবেই এ চিন্তারাজোর সমগ্র রূপের 
আভাস পাওয়া! যায়। আমার মনে হয় এ পর্যস্ত একমাত্র ব্রজেন্ত্রনাথ শীল ছাড়া 
রামমোহনের ব্যক্কিত্ব ও মনীষার এই বহুমান্তিকতার প্রতি আমাদের দৃষ্টি 
সমাক্‌ ভাবে কেউ আকর্ষণ করেন নি। তার চিন্তা বা কীতির এক-একটি 
বিশিষ্ট ধারা নিয়ে আলোচনা! অনেকেই করেছেন এবং অনেক সময় সার্থক 
তাবেই করেছেন। কিন্ত অস্থবিধা হয়েছে তখনই যখন এই আংশিক মূল্যায়ন 
সমগ্রভাবে রামমোহনের উপর আরোপিত হয়েছে। এতে পরিপুণ চিত্র ফোটেনি। 
নিতাস্ত পরিতাপের বিষয়, ব্রজেন্দ্রনাথ শীলের মত ভূয়োদশী মনীধীও এ-বিষয়ে 
স্তক্াকারে কয়েকটি ইঙ্ষিতের বেশী আর কিছু লিপিবদ্ধ করে গেলেন না। 
বর্তমান গ্রস্থের দ্বিতীয় থেকে সঞ্চম অধায়ে আমি পাক্ষাপ্রমাণের ভিথিতে 
কিছু বিস্তারিত ভাবে রামমোহনের চিন্তার সমগ্র রূপটি আবিষ্কারের চেষ্টা 
করেছি। দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ অধ্যায়গুলিতে এর কয়েকটি মৌলিক 
উপাদানের স্বতন্ত্র বিশ্লেষণ করা হয়েছে যেগুলি সচরাঁচর উপেক্ষিত। হষ্ঠ 
অধ্যায়ে ধর্ম, সমাজ ও রাষ্ট্র সংক্রান্ত বামমোহনের চিন্তাস্থত্রগুলির একত্র 
আলোচনাপ্রসঙ্গে তার জীবনদর্শনের একটি সমগ্র পরিচয় দেবার প্রয়াস পাঠক 
লক্ষ্য করবেন। পঞ্চম ও সণ্তম অধ্যায়ে আলোচিত বিষয়গুলির প্রাসঙ্গিকত৷ 
নিয়েও আশা করি কোনও প্রশ্ন উঠবে না। প্রধানত অষ্টাদশ শতকের শেধার্ধ 
থেকে পাশ্চাত্য পত্তিতসমাজ প্রাচ্যবিদ্ভার চর্চা আরম্ভ করেন। *উনবিংশ 
শতাবীতে এই প্রয়াস অপেক্ষারত স্থবাবন্থিত, বিচিত্রমৃখী ও গভীরগামী 
হয়। সম্প্রতি এমন একটি মত প্রচারিত হয়েছে, ইংরেজ পণ্ডিতগণের প্রাচ্য 
বিদ্যানুশীলন ভারত-সংস্কৃতির প্রাচীন সম্পদ শিক্ষিত বাঙালী হিশ্ুসমাজের 
সম্মুখে উদ্ঘাটিত করে দেওয়ার ফলেই উনবিংশ শতাব্দীর বঙ্গীয় চিত্তজাগৃতি 
সম্ভবপর হয়েছিল। রামমোহনের জীবন ও সাধনার পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত 
প্রশ্নটির বিচার করেছি পঞ্চম অধ্যায়ে । হিন্দু কলেজের প্রতিভাশালী তরুণ 
শিক্ষক ডিরোজিও এবং তত্প্রভাবিত ছাত্রদল বাঙলা দেশে যে স্বাধীন 


[ ১১ ] 


টিস্কান্রোত প্রবাহিত করেন তার সঙ্গে বামমোহনের যোগাযোগের বিষয়টি 
সপ্গম অধায়ের আলোচা। ছুই সমকালীন মনীষী রামমোহন ও ডিরোজিওকে 
পরস্পরের সঙ্গে তুলনা করবায় একটি প্রবণতা বর্তমানে কিছু অধিক পরিমাণে 
লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে সগুম অধ্যায়ের বক্তব্য পাঠকের কৌতৃহল 
উদ্রিক্ত করবে বলে আমার বিশ্বাস । 

পঞ্চম অধ্যায়ে উপস্থাপিত বিষয়বস্ত সম্পর্কে আর একটি বক্তব্য আছে। 
আমি রামম়োহনের গ্রষ্টধ্ঘসংক্রান্ত গবেধণাকে তার ঞাচ্যবিগ্যান্ধলনের কোঠায় 
ফেলতে ছ্িধা করিনি। খ্রষ্টধর্দের উদ্ভব গরাচাভূমিতে ; এর প্রবর্তক স্বয়ং 
প্রাচাদেশয়। আদি গ্রষ্টায় শান্তর প্রাচা ভাষা হিক্রতে রচিত; পরে অবশ্য গ্রীক 
এবং লাটিন তার মাধায় হয়েছিল। এ শান্ত আলোচনা-গবেষণার নিমিত্ত 
বামমোহনকে হিক্র-গ্রীক-লাটিন-সিবিয়াক ভাষাসমুহের চর্চা এবং উক্ত ক্ষেত্রে 
স্থপ্রতিষ্ঠিত অনেক পাশ্চাত্য পণ্িতের গ্রস্থাদদি ব্যবহার করতে হয়েছিল। 
তাদের নাম তিনি উল্লেখ করেছেন । আমি এই পণ্ডিতদের পরিচয় যথাসাধ্য 
উদ্ঘাটন করে এ বিষয়ে রামমোহণের অন্থশীলনক্ষেত্রের পরিধি নির্ণয় করবার 
চেষ্টা করেছি (ভ্রষ্টবা, পৃঃ ২৩০-৩৫ । যতদুর জানি এ প্রসঙ্গটির কোনও উল্লেখযোগ্য 
আলোচনা এখন পধন্ত হয়নি। রামমোহন যে সব পাশ্চাত্য ইতিবৃত্তকারদের 
সাহাযা নিয়েছেন তাদের গ্রন্থাদির নাম তিনি উল্লেখ করেছেন প্রায়ই খুব 
অংঙ্গেপে (জবা, 21,115 1170115 [1] 19 61))1 সে সবের পূর্ণ পরিচয়ও 
পঞ্চম অধ্যায়ে পাওয়া যাবে ( জ্রষ্টবা প: ২৫১-৫৩)। উল্লেখা যে লগুন থেকে 
১৮৩২ সালে ১7100 50136. 800০9 কর্তৃক প্রকাশিত তার ঘ:ফ[90310101) 
৮0)০ 019001001 01১61801607) 516 076 10010818170 [২65 €706 
১৬১৪ 0 1১০15 গ্রন্থের মুখবন্ধরপে বাময়োহন ভারতবর্ষের যে সংক্ষিপ্ত 
ভৌগোলিক ও এতিহাসিক বিবরণ লেখেন সেটি বিশদ করবার জন্য তিনি এই 
গ্রন্থে ভাবতবধের একখানি মানচিত্র মুদ্রিত করেছিলেন। রামমোহন-গ্রস্থাবলীর 
পুনমুদ্রিত সংস্করণগুলিতে সেখানি দেখা যায় না। বর্তমান গ্রন্থের মুখচিত্ররূপে 
মেটি প্রকাশিত হল। সে যুগে ভারতীয়গণের মধ্যে খুব কমসংখাক বাক্তিই 
তঘদেশবিষয়ক আপন বক্তব্য স্পষ্ট কধবার উদ্দেশে মানচিত্র-বাবহারের কথা 
ভেবেছেন। এখানি হুদ্দেশের ভৌগোলিক এঁক্ সম্পর্কে রামমোহনের নিশ্চিত 
ধাবণার গ্যোতক। ৫ 


| ১২ ] 


এই গ্রস্থরচনায় আমি যে সব নৃতন দলিলপত্রের সাহাযা নিয়েছি তার কিছু 
কিছু আটটি পরিশিষ্টে মুদ্রিত হল। সপ্তম ও অষ্টম পরিশিষ্টে মুদ্রিত 
সমকালীন ব্রিটিশ সমাজতন্ত্বাদী নেতা ববার্ট ওয়েন ও ভার পুত্রকে লিখিত 
পত্রগুলি রামমোহনের এক নৃতন পরিচয় উদ্ঘাটন করেছে। মৃত্ার পূর্বে 
তিনি নবপ্রবন্তিত সমাজতন্ত্রবাদের প্রতি আকুষ্ট হয়েছিলেন-_-কিন্ত ওয়েনের প্রবল 
ধর্ঠবিরোধিতা ও নাস্তিকতা এই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত হবার পক্ষে তার 
কাছে বাধাস্বরূপ মনে হয়েছিল। এই স্থত্রে ওয়েন-পুত্র ববার্ট ডেলকে লিখিত 
পত্রে তিনি একটি গভীর তাৎপর্যপূর্ণ উক্তি করেন যার মর্ম এই : “যদি কোনও 
যুক্তিবাদী (£€€-0)1701567 ) ধর্মের তত্বভাগ ( ঈশ্বর, পরকাল ইত্যাদি সম্পকণয় 
বিশ্বাস) গ্রহণ করতে অপারগও হন তা হলেও স্রীপটায়, হিন্দু প্রত্ৃতি উচ্চপর্ধায়ের 
ধর্মসমূহ যে প্রেম ও মৈত্রীর বাঁণী প্রচার করে আসছে সেই চিরস্তন পুকধার্থগুলি 
গ্রহণ করবার পক্ষে তার বাধা কোথায়? রবা্ট, ওয়েন সেটুকু করলে তীর 
সমাজতন্ত্র প্রচারের পথ স্থগম হবে ।” সাম্প্রতিক নীতিবোধের জগতে বামমোহন 
উত্থাপিত এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে । আন্রষ্ঠানিক ধর্মে বিশ্বাসহীন কিছু 
কিছু পাশ্চাত্য বুদ্ধিজীবী মনীষী বর্তমান ভোগলোলুপ, বিচ্ছিন্নতাবোধপীড়িত 
আণবিকযুদ্ধাতস্বগ্রস্ত সভ]তার পক্ষে ধর্প্রবর্তকগণের, বিশেষ করে খ্রীষধর্মের 
প্রেমের বাণীকেই একমাত্র প্রতিষেধক মনে করুছেন। বার্ট বাও রাদেলের 
নাক্তিকতা স্ুবিদিত। ধারা কার ভ/1)5 [710 17008. 007171091 পড়েছেন 
তীর! জানেন গ্রটধর্মতত্ব ও ইতিহাসে খ্রীষটধর্মের ভূমিকা সম্পর্কে তার বিরূপতা কত 
তীব্র । স্বতন্ত্রভাবে খ্রষ্টধর্মনীতিকে কিস্ক রাসেল চিরদিন উচ্চ মর্যাদা দিয়ে 
এসেছেন। বহু বৎসর পূর্বে লেখা 2০2৫8 ৫০ 7729207-এ তিনি বলেছিলেন 
(1191107 চণ, 9. 188), *4১ 116 1160 11) 0015 50111 076 891016 0080 
2)0)5 20016520106 72006710022 09356551178--10585 2০610102115 01787 
006107021 109011)658 0: 01)1010 10 08110010 05 100060 05 ৪৫৮86 
০170010)5181)068, 71015 15 0196 9৪5 0৫6 1162 16001006176 11) 0106 
308১619, ৪10 ৮5 81] 00০ £520 6620106180৫ 005 ০0:10. । 
দ্বিতীয় মহাযুক্ষের পর এ বিষয়ে তিনি হয়ে পড়েছেন আরও আবেগপ্রবণ--এই 
সহয়কার অপর এক গ্রন্থে কাকে বলতে শোনা যায় £ 47006 1০০৮ ০0৫ 006 
00806 38 ৪ ভা 8100016 8150 ০010:465815101560 00805) ৪ 05178 ৪০ 


[ ১৩ ] 


8103016 0726] ৪0 ৪10)056 851390060 0012) 6101010 10, 101 162 0৫ 006 
06115156 5101] 100) 50101) 156. 0510105 ড1]] £666 205 10108. 
1006 00178 1 00621---ত 15 106, (01010130191 10৮6) 01 00108891012. 
[1 ৮০00 €66] 0১15, 5০০৩ 188৬6 2. 10)005€ 600 6315061)05. ৪, £0106 11 
8008022) ৪. 168$01. 10 ০0010886, 217) 10006120156 17806855165 £01 
10611600091 10016505, 16 ৮00 656] 0015 5০৮. 1386 ৪11 008 
৪10791000% 81800101660 10] 0176 আ৪ড 04 16118101. 4১10000805০) 
[08 000 5100 11919010258, 900. ড/1]] 17৮61 10107 0৪ 062০ 
065$1917 046 00056 5/1)09396 1166 19 81101655 210 ৮০910 0 170700996 ; 
€01 00665 15 ৪1/053 5012)6011075 0৪6 5০00 021 00 0০0 
00100110151) 01) 25600] 57000 06 1)000)917 0015615, (776 11772702016 
07 50167706601 5001219. 9200900 1079016555101) 1959, 0 114) । 
জি. ই. মুরের মত বিঙ্লেষণমাগর্ণ, বাহ্যার্থবাদী (18115) দার্শনিকও নীতি- 
দর্শন সংক্রান্ত তার গ্রন্থে খ্রীষ্ধর্মনীতিকে যথাযোগ্য মর্যাদা দিতে ভোলেন নি 
(21775778520162 081011986 1960, 6. 177 )। মোট কথা ঘাত- 
প্রতিঘাতময় পরিবর্তনশীল বাহা পরিবেশের উপর মাশ্ুষের নীতিচিস্তাকে স্থাপন 
করার পরিবর্তে চিরস্তন পুরুষার্থরূপে প্রেম, মৈত্রী ও কারুণ্যের অনুশীলনের 
পথেই যে বাক্তিগত ও সামাজিক শ্রেয় লাভ সম্ভব এ ভাবন! বর্তমানে আন্তিক- 
নান্তিক নিধিশেষে কিছু কিছু বিচারশীল চিন্তানায়কের মনকে নাড়া দিয়েছে। 
রবার্ট, ডেল ওয়েনকে লিখিত পত্রে রামমোহনকে সংক্ষেপে এই সমাধানস্থত্রটিই 
তুলে ধরতে দেখা যায়। 

এই গ্রন্থের কোনও কোনও অংশ ইতিপূর্বে পত্র-পত্রিকায় বা অন্তত্র 
প্রাথমিক আকারে প্রকাশিত হয়েছিল-যথ1 “রামমোহন বায় ও বেদাস্ত' 
(বিশ্বভারতী পত্রিকা বর্ধ ২৮ সংখা ২) “রামমোহন রায়, ভিরোজিও ও 
ইয়ং বেঙ্গল' (“উনবিংশ শতাব্দীর বাংলার কথা ও যোগেশচন্দ্র বাগল-__ 
যোগেশচন্দ্র বাগল ন্মারক-্রন্থ' নব বারাকপুর ১৯৭৪ )) রামমোহন রায় ও 
পুরাণ-তন্ত্র অধ্যায়ের তস্্সংক্রাস্ত অংশ (রামমোহন বায়ের ধর্মমত ও তন্ত্রশান্ত 
--বিশ্বভারতী পত্রিক! বর্ষ ১৬, সংখা ৪); এবং পরিশিষ্টভুক্ত “রামমোহন রায় 
ও ফরাসী বিছন্সগুলী”-র প্রথম অংল ( বিশ্বভারতী পত্রিকা, বর্ষ ১৫) সংখ্যা ১) ও 


॥ ১৪ ] 


“জবাব-ই-তুহ.ফাৎ-উল্-মুওহাহিদিন্‌' (“তত্বকৌমুদী' ১-১৬ শ্রাবণ ১৩৭৬ 3 ১-১৬ 
ভাত্র, ১৩৭৬ ; ১-১৬ আশ্বিন, ১৩৭৬ )। মুলত সে রচনাগুলি গ্রস্থপরিকল্পনারই 
অন্তভূর্ত ছিল। গ্রন্থভুক্তির সময় সবগুলিই পরিমাঞ্জিত ও পরিবর্ধিত এবং 
স্থলবিশেষে পরিবতিত হয়েছে । দীর্ঘদিন ধরে ছাপার কাজ চলেছে ; এর মধ্যে 
আমার অনবধানতার জন্য কোনও কোনও শকের প্রচলিত ছু'রকম বানান মুদ্রিত 
হয়েছে । এর জন্ত এবং আরও কয়েকটি অসাবধানতাপ্রস্থত ভুলের প্রতি পাঠক- 
সাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সেগুলির জন্তও পাঠকবর্গের ক্ষমা প্রার্থনা 
করছি £ (১) প্রাচাবিদ্যাবিশারদ কোলক্রকের ম্বত্যু তারিখ ২১৮ পৃষ্ঠায় 
১৮৩৭-এর স্থলে ১৮৩৬ ছাপা হয়েছে । পাঠক লক্ষ্য করবেন ২৩৯ পৃষ্ঠায় এটি 
যথাযথ ১৮৩৭ ই আছে; (২) পৃঃ ২৭২-_উল্লেখ সংখা ১৩৩ ভ্রমক্রমে ১৭৩ 
ছাপা হয়েছে ; (৩) পৃঃ ২৭২-দ্বিতীয় পঙ.ক্তি, 'বিধবাবিবাহ সমর্থন? স্থলে পাঠ 
'বিধবাবিবাহ নিবারণ' হবে ; (৪) পৃঃ ১২৩, পঙ্‌ক্তি ১৭-তে প্রদত্ত বেদাস্তা- 
চার্যদের তালিকায় 'শ্ীপতি' স্থলে অনবধানতাবশত 'ভ্রীকর' মুদ্রিত হয়েছে। 
'শ্রকর' প্রকৃতপক্ষে বীরশৈব ভাস্তকার শ্রীপতি রচিত বেদান্তভাঙ্তের নাম। পাঠক 
লক্ষ্য করবেন শ্রীপতি ও তত্কৃত শ্রীকরভাম্ত অন্থাত্র ঘথাযথভাবেই উল্লিখিত ও 
ব্যবহৃত হয়েছে (দ্রষ্টবা, পৃঃ ১২৪, ১৬১ ও ১৯৭ উল্লেখ '২৭; ও +২৮ )7 (8) 
পূ: ২৮০-_পড.ক্তি ২__উল্লেখ সংখ্যা “১৪৭ ক" ভ্রমক্রমে 4১৪৬ ক ছাপা হয়েছে। 
এগুলি আবিষ্কার করে ভয় হচ্ছে, এ জাতীয় আরও ভুল থেকে যাওয়1 অসম্ভব 
নয়। 

এই গ্রন্থ বচনায় আমার দুই পুজনীয় অধ্যাপক প্রহ্ুশোভনচন্দ্র সরকার ও 
ডঃ নীহাররঞ্জন রায় প্রথম থেকে আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন। এবা আজ 
প্রয়াত। আমার প্রচেষ্টার মধ্যে দোষক্রটি যাই থাকুক আমি জানি তাবা 
বইটি শেষ পর্বস্ত প্রকাশিত হয়েছে দেখলে কত খুণী হতেন। দুজনকেই 
আজ শ্রদ্ধার সঙ্গে ম্মরণ করছি। বামমোহনের মূল বিচারগ্রন্থগুলি অধ্যয়ন 
করতে হুলে ভারতীয় শান্বিচারপদ্ধতির সঙ্গে কিছু পরিচয় থাকা একাস্ত 
আবশ্বক। সংস্কত কলেজ টোলবিভাগের মহাচার্য পণ্ডিত প্রমোহন 
তর্কবেদাস্ততীর্থ ও সংস্কৃত কলেজ গ্রন্থাগারের পু থিবিভাগের প্রাক্তন পণ্ডিত 
অনস্তদেব তর্কতীর্ঘের কাছে ভারতীয় দর্শনের পাঠ নেওয়ার ফলে এ বিষয়ে 
আমি পরম উপকৃত হয়েছি। আমার এই দুই আচার্কে সশ্রন্ধ প্রণাম 


[১৫] 


জানাচ্ছি । দ্বিতীয় অধ্যায় রচনাকালে বুদ্ধবচনপ্রামাণ্য সংক্রান্ত ছু'খানি 
পাপি শান্তগ্রস্থের প্রতি আমার দৃত্টি আকর্ষণ করেছেন সংস্কৃত কলেজের ও 
কলিকাতা! বিশ্ববিষ্ঞালয়ের পালি বিভাগের অধ্যাপক ড: স্বকোমল চৌধুরী । 
পঞ্চম অধায়ের ধর্মশান্ববিষয়ক প্রসঙ্গগুলি লিখবার সময় সংস্কৃত কলেজের 
সংস্কতবিভাগের অধ্যাপিকা ডঃ শ্রয়তী ন্বব্রতা সেনের সঙ্গে আলোচনা! করে বিশেষ 
উপরুত হয়েছি। আমার ছাত্র স্নেহাম্পদ শ্রীমূণালকাস্তি চন্দ ও ছাত্রী কলাণীয়া 
প্রীমতী অনীত| কুমার আমাকে নান1 ভাবে সাহাযা করেছেন। আমার 
পিদ্ধাস্তসমূহের এবং ক্রটিবিচাতির দায়দায়িত্ব অবশ্য সবই আমার নিজের । গ্রন্থের 
মধো যথাস্থানে এদের সকলেরই উল্লেখ পাওয়া] যাবে । কিন্তু স্রেহভালবাসার 
খণ তার দ্বারা শোধ হয় না। আমার পত্বী আমতী ভারতী দেবী যদি সংসারের 
সমস্ত ভার স্বেচ্ছায় ও প্রফুল্ল চিন্তে বন করে সে বিষয়ে আমাকে সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত 
না করতেন তাহলে বইটি লিখতে এতখানি সময় ও শ্রম বায় কর] আমার পক্ষে 
সম্ভব হত না। এ খণও অপরিশোধা । বইটি স্থুধীসযাজ ও ছাত্রগবেষকদের 
দ্বার! সমাদৃত হলেই সকল শ্রম সার্থক হয়েছে বলে মনে করবো। 

সাধারণ ব্রাঙ্গদমাজ কর্তৃপক্ষ অশেষ সৌজন্য সহকারে তাদের সংগ্রহ 
থেকে ছু'খানি ব্লক বাবহার করবার অনুমতি দিয়েছেন। সারম্ত লাইব্রেরী 
বইটি ন্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে £কাশ করতেই শুধু এগিয়ে আসেন নি, ছুই বছরের 
অধিক কাল ধর্ধ, নিষ্ঠা ও পরিশ্রম সহকারে মুদ্রণকারধের তত্বাবধান 
করেছেন । এদের উদ্যম ছাডা গ্রন্থখানি এভাবে প্রকাশিত হতে পারত কিনা 
সন্দেহে । কামনা করি এদের উহ্রোস্ুর শ্রীবৃদ্ধি হোক। এই সংস্থার সঙ্গে 
যুক্ত ভ্রাতৃত্বয়, শ্রীবিভাস ভট্টাচার্য এবং কলিকাতা বিশ্ববিষ্ভালয়ে আমার সহকর্মী 
ডঃ অশোক ভট্রাচার্ষের জন্য প্রীতি ও শুভেচ্ছা রইল । সর্বশেষে ত্রাঙ্মমিশন 


প্রেস কর্তৃপক্ষ ও কমীদের তাদের আস্তিক সহযোগিতার জন্য ধগ্যবাদ 
জানাচ্ছি। 


দিলীপকুমার বিশ্বাস 


[ ১৬ ] 


বিষয়-সূচী 


অধায় 


পরিশিষ্ট 


রামমোহন বায়ের দৃষ্টিতে হারত্বধ 
রামমোহন রায় ও শান্ত 

রামমোহন বায় ও বেদান্ত 

রামমোহন রায় ও পুরা ণ-তম্ 

রামমোহন বার ও সমকালীন ইউরোপীয় 
প্রাচাবিদ্যাবিশারদ পণডিতসমাজ 
রামমোহন রায়ের ধর্ম, সমাজ ও 

রাষ্ট্র চিন্তা £ মূল প্রেবণা 

রামমোহন বায়, ডিরোজিও ও ইয়ং বেগল 


রামমোহন বায় ও ফরাসী বিদ্বন্মগুলী 

বাঙলার ভূমিব্যবস্থা সম্পর্কে বোর্টংক্কে 

গ্রদত্ত রামমোহন রায়ের ম্মারক-লিপি 

হোরেস হেমান উইলসন ও অন্যানথদের নিকট 
লিখিত রামমোহন রায়ের কয়েকখানি ও 
রামমোহন-সংক্রান্ত একখানি পত্র 
জবাব.-ই-তৃছফাৎ-উল্-মুওহাহিদিন্‌ 

ভাবতের ভবিষ্যৎ শ্বাধীনতা প্রসঙ্গে গ্রসন্নকুমার ঠাকুর 
ইংলণ্ডে বামমোহনের সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারের বিবরণ 
রবাট ওয়েন ও তাঁর পুত্রকে লিখিত রামমোহনের 
কয়েকখানি পত্র 


শির্ঘণ্ট 


[ 8৭ ] 


৪৬ 
চে 


১৫১ 


৪৪8 


৫৫৫ 


৫৬৭ 
৫৭৫ 
৫৪৯ 


৬১৫ 


১৯ 
৭৪ 


চিত্রসূচী 


ষ্ঠ 
রামমোহন কর্তৃক তার গ্রন্থে মু্রিত ভারতবর্ষের মানচিজ্র -** মুখচিত্র 
রামমোহন কর্তৃক ১৮১৮ খ্রীষ্টাৰধে কলিকাতা থেকে প্রকাশিত 
্র্গস্ত্র-শাংকর ভাবের এক পৃষ্টা '** ১২২ 
কাপ্টেন বেনলনকে লিখিত জেম্স কাল্ডারের পত্রের প্রথম পৃষ্ঠা ২৫৮ 
রামমোহন কতকি বেটিংকৃকে প্রদত্ত ম্মারক-লিপির প্রথম পৃষ্ঠ ৫৬* 
'জবাব-ই-তৃহ-ফাৎ-উল্-মুওহাহিদিন-এর প্রথম পৃষ্ঠা -.' ৫৮৬ 
সাক্ষাৎকার-বিবরণের পাতুলিপির প্রথম পষ্ঠ - ৬১৬ 
রবাট্‌ওয়েনকে লিখিত রামযোহনের একখানি পত্র -১. ৬২৯ 
ববাট্‌ডেল ওয়েনকে লিখিত রামমোহনের পত্র ”* ৬২২ 


[ ১৮ ] 


সংক্ষেপিত উল্লেখ-তালিক। 


্রন্থাবলী_ রামমোহনগ্রস্থাবলী ( সাতখণ্ডে সম্পূর্ণ )) বঙ্গীয়-নাহিত্য- 
পরিষৎ, কলিকাতা । 

নগেন্দ্রনাথ-নগেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় রচিত মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের 
জীবনচরিত' পঞ্চম সংস্করণ; ইত্ডিয়ান্‌ প্রেস, এলাহাবাদ, ১৯২৮ । 

0011617-01)6 1166 8100 1[€06615 0৫6 1২918 [২8100001018 
[০ 05 9. 1, 00116500010 01000, 6৫, [01110 
[01081 [31505 8170 121701926 (0351791)4158 08170850113 
0210০000৪ 1962. 

[71061151) ভি/ 07005 -৮01)5 7081150 ভ/0115 0৫6 [817 [২.৪17)- 
0901001) [05 €৫. 7811085 18£ 2100 10208) 001 90071081)) 
25910 1-৬] 7 08100009 1945-5].. 

1081151) ৬৬০15 00)51701)6 25061151) ভি/01155 01 7818 
1২710100010007) [05, ৪৫. 10861)018. (001021)079 0310081) 
৬০], 1) ০8100001885 7 ৬০1. 11, ০8100008 1887. 

[850 10958-501)6 1850 10255 11) 11051875001 006 181900 
[২8201001017 205 05 1815 081060665 0810002 
[7401001১ 1915. 

[60615 2770 100000067765 75 16006181800 10000206190 
161801778 00 006 15166 0£ 1২908 18001001001) 1২09) ৬০1, 
1) (1791-1830)$ €৫. 7২810801888 01981508 ৪170 18011)018 
[01081 7%1210100081, 08100051938. 

77081655155 1005 213)610055 2818 18101501001 05 ৪130 
[00087655155 11056106175 11) 15018: 4৯ 562160000 
£003 0:6০০:৫8 1775-]845 7 ৫, 7)8015018 701091 0080010- 
087) 0810008 1941]. 


[ ১৪ ] 





প্রশ্র অঞ্ট্যাস্ 
রামমোহন রায়ের দৃষ্টিতে ভারতবর্ষ 


জাতীয় সংহতি অর্জনের সমস্যা সম্ভবত বর্তমান তাঁরতবর্ষের সম্মুখে কঠিনতম 
অবশ্ঠযবিচার্য প্রশ্নগুলির একটি। প্রাক-শ্বাধীনত| যুগে যতদিন দেশ বিদেশী 
শস্নবিন্যাসে শৃংখলিত ছিল ততদিন এ সমস্যা আজকের মত কঠোর বাস্তবে 
বপাস্তরিত হয় নি। ইংরেজ শাসনের আমলে প্রবতিত পাশ্চাতা শিক্ষার মাধামে 
'মাগত নবা চিন্তার সংস্পর্শেই ভারতবাসীর জাতীয় চেতনা সর্বপ্রথম সন্ষিয় 
হয়ে গঠে। ভাবতীয় নবজাগৃতির প্রথম পর্বের নেতৃম্বাণীয় পুরুষগণ যে সব 
কারণে ইংরেজ শাসনকে বিধাতার আশীর্বাদন্বূপ জ্ঞান করেছিলেন এটি তার 
অন্ততম। প্রথম যুগে এই দেশচৈতন্ ছিল প্রধানত একটি ভাবগত আদর্শ; 
কিন্ধ উত্তরকালে তা ক্রমশ একটি বাস্তব রূপ পরিগ্রহণ করে এবং শানা 
ভ্যন্তবীণ স্তরভেদ ও বিরোধ সত্বেও শেষ পর্যস্ত একটি উগ্র ও একমুখী 
আন্দোলনে পরিণত হয়। শেষ পর্বে এই জাতীয় আন্দোলনের প্রধান লক্ষ্য 
হয়ে ঈাঁড়িয়েছিল ভারতবর্ধ থেকে বিদেশী শাসনের অপসারণ | যে বিকেন্ত্রিক 
শক্তিগুলি সাম্প্রতিক কালে সমগ্র ভারত'চেতনাকে খণ্ডিত করতে উদ্যত 
সেগুলির অস্তিত্ব যে স্বাধীনতা-পূর্ব যুগে ছিল না তা নয়? কিন্তু ইংরেজ-বিরোধী 
মনোভাব ও ইংরেজ-বিতাড়নের আকাজ্জার তীত্রতাই সেগুলিকে বনলাংশে 
প্রশমিত রেখেছিল। অপর পক্ষে ইংরেজ সরকার প্রতিষ্ঠিত শাসনব্যবস্থা দেশের 
বায় অঙ্গবিন্তাসে এমন এক মমরূপতার সৃষ্টি করেছিল যাকে বাহাদৃিতে সহজেই 
মৌলিক জাতীয় এক্য বলে ভুল হতে পারে। এই কাঠমোটিকে রক্ষা করবার 
জন্য ইংরেজ কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনমত কখনও দমননীতি, কখনও বা কুটকৌশল 
প্রয়োগের ঘার! বিকেন্দ্রিক স্বার্থের স্বাধীন ক্ফৃত্তিতে বাধা দিয়ে এসেছে। তার 
আচরণের বাতিক্রম ও বৈপরীত্য ঘটল শাসনের অস্ভিম পর্বে- যখন তার ভারত- 
তগগ যে ইতিহাসের অমোঘ পরিণতি এ বিষয়ে সে স্থনিশ্চিত। 'আঞ্চলিকতা, 
ধ্যান্ধাতা, গোর্ঠীবিরোধ প্রভৃতি সর্ববিধ সংকীর্ণ মনোভাব এই সময়েই সম্পূর্ণ 


বল্গামুক্ত হয়ে মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে আবন্ত করেছিল। বিদেশী শাসনের 
অবসানের সঙ্গে সঙ্গে ইংরেজ-বিবোৌধিতারূপ যে একাস্থত্্টি এই পরস্পর বিরোধী 
হ্াথগুলিকে বাহাত আবদ্ধ রেখেছিল চেটিও লুপ হল; ইংরেজের শাসন- 
দ্যিস্ণ ও আর “ইল ৮1। এই ভাবে অন্তকবাহিবের বাধা একযোগে অপসাবিত 
হওয়ার ফলেই যে সাম্প্রতিক বিভক্ত ভারতবর্ষেও এঁকাচেতনা ৪ খণস্বার্থবোধের 
সংঘাত ক্রমশ তীব্র হয়ে উঠেছে-_ ইতিহাসের নিরপেক্ষ পাঠক সে কথা স্বীকার 
করবেন । কি-হ্ধ সমস্যাটি বর্তমানে প্রবল আকারে আমাদের দৃষ্টিগোচর হলেও 
এব লুন্ত্রগুপি পুরাতন এব ভাবত্বষীয় সভাতার এতিহাপিক ক্রমবিকাশের 
সঙ্গে জড়িত। আধুনিক যুগের অভ্যুদয় থেকেই ভারতীয় মশীধিবুন্দ এ বিষয়ে 
চিন্তা করেছেন এবং তাদের মনন ও কম্মসাধনার মধ্য সমাধানের মূলাৰান 
টঙ্িত রেখে গিয়েছেন । জাতীয় জীবনের অপশাপন ক্ষেত্রের ন্যায় এখানেও 
রামমোহন রায়াক পথিকুৎ মনে করলে তুল হবেনা। 

একথা স্বীকার কবে নেয়া ভাল যে আধুন্কি কালে ই'রেজি নেশন' ও 
'স্তাশনালজিম্‌” এর বাঙলা প্রতিশবরূপে যে 'জাতি, ও 'জাতীয়তা' শব্দদ্য়ের সঙ্গে 
আমরা পরিচিত্ব_-সে ছুটির অন্তপিহিত প্রতায় আমরা লাভ করেছি পাশ্চাতা 
শিক্ষা থেকে | এই অর্থে অথণ্ড দেশচেতনা ভারত্বাসীব স্বভাবসিদ্ধ নয়। 
এ-সম্পকে বৃদ্থিমচন্গেরে উক্তি ম্বরণীয় £ “এই ভাবতবধে নানা জাতি। বাসস্থানের 
প্রভেদে, ভাষার প্রভেদে, বংশের প্রভেদে, ধদের প্রভেদে, নানা জাতি। 
বাঙ্গালি, পাঞ্জাবী, তৈলঙ্গী, মহাবাস্ট্ী, রাজপুত, জাঠ, হিন্দু মুসলমান, ইহার মধ্যে 
কে কাহার সঙ্গে একতায়ক্ত হইবে? ধগত একা থাকিলে বংশগত একা নাই, 
বংশগত ইকা থাকিলে ভাষাগত কা *াই, ভাষাগত একা থার্কিলে ঠিবাসগত 
উ্কা দাই । বাজপুত, জাঠ, এক ধমাবলদ্দী হইলে, ভিন্নবংশয় বলিয়া ভিন্ন 
জাতি ; বাঙ্গালি, বেহারী একব'শয় হইলে, ভাষাভেদে ভিন্ন জাতি; মৈথিলী 
কনোজী একভাষী হইলে, নিবাসভেদে ভিন্ন জাতি। কেবল ইহাই নাহে। 
ভারততবধের এমনই অদৃষ্ট, যেখানে কোন প্রদেশয় লোক সর্বাংশে এক ; যাহাদের 
এক ধম, এক ভীষা, এক জাতি, এক দেশ, তাহাদের মধোও জাতির একতা 
জান নাই 1-. ইংরেজ ভারতবর্ষের পরমোপকারী। ইংরেজ আমাদিগকে নৃতন 
কথা শিখাইত্রেছে। যাহা আমবা জানতাম না, তাহা জানাইতেছে ; যাহা 
কখন দেখি শাই, শুনি নাই, বুঝি লাই, তাহা দেখাইতেছে, শুলাইতেছে, 


বুঝাইতেছে ; যে পথে কখন চলি নাই সে পথে কেমন করিয়া চলিতে হয় তাহ! 
দেখাইয়া দিতেছে। সেই সকল শিক্ষার মধ্যে অপেক শিক্ষা অমূলা। যেসকল 
মহলা বত্ব আমরা ইংরেজের চিত্তভাগ্ডার হইতে লাভ করিতেছি, তাহার মধো 
দুক্টটিব আমবা এই প্রবন্ধে উল্লেখ করিলাম- স্বাতস্তরাপ্রিয়তা এবং জাতীয় প্রতিষ্টা । 
'হ" কাহাকে বলে হিন্দু জানিত ন1।”১ 

বঙ্কিম তা উক্তিতে জাতি শবে পশ্চিমী অথে '০শন' বা ন্যাশশালিটি? 
বুঝেছেন | এই অথে 'জাতি' শব্দের প্রয়োগ ইউরোপেও আধুনিক কালের 
”ব প্রচলিত হয় নি। 'রেণেশাস' ও 'রিফহেশন' ইউরোপীয় সমাজ ও রাষ্ট্রে 
যে ধুগাস্তকারী পরিবর্তনের সচনা! করেছিল তারই ফলে ইউরোপের মধাযুগীয় 
মানচিত্র বদলে যায় ও জাতিভিত্বিক রাজতন্ত্রশাসিত রাষ্্রগুলি (১%19178070101081 
[3901057 ১০৪০৪) সেখানে ধীরে ধীরে রপগ্রহণ কবে । এই প্রক্রিয়া পাশ্চাতা 
ভগতে উনবিংশ শতাবী পর্বস্ত চলেছিল। ইতালী, জাগানী প্রভৃতি রাষ্ট্রে 
জন্ম এই শতাবদীতেই । 'জাত্ি' শব্বের এই নৃতন অর্থ ও জাতীয়তাবাদ 
শম্পকিত এই মাধুনিক প্রতায় পাশ্চাত্য শিক্ষার মাধামে অন্ত পাঁচটি পশ্চিমী 
ভাবধারার মতই এদেশের শিক্ষিত সমাজের চিত্ত আলোড়িত ও আক 
করেছিল। ভারতবর্ষের এত্হিগত চিন্তার ইতিহাসে যে এর নজির খুজে 
পাওয়া] যাবে না তাতে আশ্চযের কিছু নেই। কিন্তু বঙ্ধিমচন্ত্রেণ সিদ্ধান্ত সমীচীন 
বলে যেনে নিলেও এমন ধারণা কর] ভুল হবে, ভারহবাসীর মনে দেশটৈবন্য 
কখনও কোনও রূপেহ প্রতিকলিত হয় দি। 

ইতিহাসে ভারত্বাসীর এঁকা-চেতনাকে সাধারণত: তিল্টি ধারায় প্রবাহিত 
হা দেখ] যায়। এর প্রথমটি ভৌগোলিক পরিধিগত একাবোধ। তার 
সমাক প্রকাশ হয়েছে সমগ্র ভূথগ্ুটির জন্য একটি দাম পরিকল্পনার মধো। 
্রাঙ্গণা ইতিষ্বে এই নাম হল ভারতবধ ; বৌদ্ধ সাহিতো পৌরাণিক এঁতিস্ 
থেকে একটি নাম গ্রহণ করে বাবহার করা হয়েছে-জগ্ু্বীপ; ও মধাযুগে 
এএ পরিবর্তে এসেছে হিন্দ বা হিন্ুস্তান। ভৌগোলিক অর্থে এই নামগুলি 


সমগ্র ছ্েশবাচক। তার প্রমাণ পাওয়া যায় বিষুপুরাপের এই ভারত্ব্ 
বপনায় £ 


ৰ্ঙ্া। 


উত্তরং যৎ সমুদ্রন্ত হিমাপ্রেশ্চৈব দক্ষিণম্‌। 
বধং তঘ্‌ ভারতং নাম তাবতী যন্ত্র সম্্তি: ;২ 


এই উক্তি বিচ্ছিন্ন বা আকম্মিক নয়। পৌরাণিক সাহিতো গানের ধুয়ার 
মতই বার বার তা উচ্চারিত হয়েছে । বাযুপুরাণে এটিকেই আমরা আবিদ্ধার 
করি পরিবর্তিত আকারে £ 

উত্তরং যৎ সমুত্রন্ত হিমবদ্দক্ষিণং চ যৎ। 

বর্ধং ভদ ভারতং নাম যন্ত্রেয়ং ভারতী প্রজা! ॥৩ 
থব] মার্কেগেয় পুবাণে £ 

দক্ষিণাপরতে হান্তয পৃর্বেণ চ মহোদধি | 

হিমবান্ত্তরেণাশ্ত কারমুকম্ত যথা গুণ: ॥£ 
মৌরসমাট 'অশোকের সামাজা পূর্বে ও দক্ষিণে অল্প কিছু অংশ বাদ দিয়ে 
প্রায় সমগ্র ভারতে বিস্তীর্ণ ছিল। তিনি ম্বয়ং তাঁর এক শিলালেখে এই দেশকে 
অভিহিত করেছেন 'জশ্ৃদ্বীপ' নামে | দ্বিতীয় ধারাটিকে বলা চলে ধা্থীম 
ধঁকাচেতনা । আসমুদ্রঠিমাচল বাষ্ট্প্রতিষ্ঠাব স্বপ্র অবশ্ট ভারতবনে প্রাচীন ও 
মধামুগে বাস্তবে রূপায়িত হয়েছে অতি অল্পকালের জন্য ; তবু চিন্তার স্তরে 
একবাষ্ কল্পনার অস্তিত্ব একেবারে তুর্পভ নয়। কোটিলা কাব অর্থশান্তে 
হিমালয় থেকে দক্ষিণ সমুদ্র পর্যন্ত উত্তর-দক্ষিণ-বিস্তীরণ ও তিক ভাবে সহম্র 
যোজন পূর্ব-পশ্চিম-বিস্তীর্ন ক্ষেত্রকে ( অর্থাৎ আসমুদ্রহিমাচল সমগ্র তারতবর্যকে) 
চক্রবহ্ি-ক্ষেত্র-__অর্থাৎ একচ্ছত্র চক্রকর্তী সম্রাটের অখণ্ড শাসনক্ষেত্র নামে 
অভিহিত করেছেন উত্তরকালে নাটাকার ও আলঙ্কারিক বাজশেখবেব 
( নবম-দশম শতাব্দী ) 'কাবামীমাংসা? গ্রন্থেও শামর1 'চক্রবতি-ক্ষেত্র'-এর প্রায় 
একই সংজ্ঞা পাই ।* এখানে বলা হয়েছে কৃমারিকা অন্তরীপ থেকে বিন্দু 
সরোবর ( হিমালয়ে অবস্থিত) পর্যন্ত সহম্যোজনব্যাপী ভূমিখগ্ডের নামই 
চক্রবত্তি-ক্ষেত্র । এই ভূমি যিনি জয় করতে পারেন তিনিই চক্রবর্তী সম্রাট 
গণা হন। থেরবাদী বোদ্ধশাস্তগ্রস্থ “অঙ্কৃত্তর-নিকায়” সমগ্র জদ্ুত্বীপথণ্ডে ধর্মরাজ্য 
প্রতিষ্ঠাতা এক চক্রবর্তী সম্রাটের শাসনের বিষয় কিছু বিস্তারিতভাবে বর্ণ“ 
করেছেন ।* কিন্তু এই একরাষ্ট্র কল্পনা প্রাচীন ও মধাযুগে বাস্তবে রপায়িত 
হয়েছে অভি অল্প সময়ের জন্তই | ভারত-ইতিহাসের প্রাচীন পর্বে চন্দ্রগুগ্ 
থেকে অশোক পধন্ত মৌধবাজগণ ও গুধধবংবয় কয়েকজন নরপতি এই কল্পনাকে 
বাস্তব বূপদানের প্রয়াস পেয়েছিলেন কিন্তু স্থায়ী ফললাভ করতে পারেন ন। 
'মালাউদ্দীন খল্জি থেকে রংজিব পযন্ত মধাঘুগের সআাটগণের উত্তর ভারতী 


রাষ্ট্রের সঙ্গে সুদূর দক্ষিণ অঞ্চলকে যুক্ত করবার কয়েক শতাবীবাপী উদ্যমের 
মধোও একই মনোভাব প্রতিফলিত : কিন্তু খল্জি-তৃঘলক পর্বে অতাল্পকাল ও 
'ইরংজিবের রাজত্বের শেষ কয়েক বৎসর ভিন্ন এ স্বপ্নের পূর্ণ সাফলা কোথায় ? 
উত্হাসিক ভারত-চেতনার শেষ ধারাটি তুলনায় সম্ভবত সর্বাধিক জটিল। 
প্বিধিগত অথগ্ত্ব বা শাসনতাস্ত্রিক সমীকরণের স্তর অতিক্রম করে একাবোধ 
এখানে যে ভূমিতে উত্তীর্ণ, সেখানে ভৌগোলিক রূপ বা! বাষ্্বিস্তারের কল্পনার 
তার কোনও মূর্ত প্রকাশ হঠাৎ চোখে পড়ে না। একে বলা যেতে পারে, 

বণ, ধম, ভাষা, লোকবাবহার, কৃষ্টি প্রভৃতি ক্ষেত্রে অসংখা বৈচিত্র, বিরোধ ও 
বাবধানের অস্তিত্ব সত্বেও জাতীয় জীবনে একটি মানসিক ও আত্মিক এঁকাভূমি 
মাবিষ্কার করবার সদা জাগ্রত প্রবণতা । এই ভাবরূপী ও অন্তর্ুখীন এঁকাবোধ 
সর্বদা জনমানসের সচেতন স্তরের বস্ত নয়। অতি সুক্ষ ও সংবেদনশীল মনের 
গ্তভূতিতে ভিন্ন তা সহজে ধরা পড়ে না। এর আভাস পাওয়া যায় কবির 
কল্পশায় বা সাধকের ধ্াানে। উদাহরণস্বরূপ নেওয়া যেতে পারে স্থপরিচিত 
সপ্তীর্য বর্ণনা £ 

অযোধা] মথুব1 মায়া কাশী কাঞ্চী অবস্তিকা। 

পুরী ভ্বারবতী চৈব সধৈতা মোক্ষদায়িকা: 
অথবা অন্থরূপ সপ্চনদীত্ততি : 

গঙ্গে চ যমুনে চৈব গোদাবিরি সরম্বতি । 

নঃদে সিন্ধো কাবেরি জলেহুশ্মিন্‌ সন্নিধিং কুক ॥ 
হরগুপি আবৃত্তির সঙ্গে সঙ্গে মনে সমগ্র দেশের একটি বিশেষ ভাবমুতির 
উদয় হয়। অথচ তা পৃর্ণমাত্রায় ভৌগোলিক রূপ নয়, রাষ্ট্রীয় একাগত রূপ তো 
স্মই | ভারতবষষ এখানে মাত্র ভৌগোলিক সত্তা বা অথণ্ড রাষ্ট্র অপেক্ষা 
বেশ কিছু-এক কথায় বলতে গেলে একটি বিশি্ই সংস্কার | বস্তগৎ 
শ্বব্লছগন করে এই সংস্কার বিকশিত হলেও শেষ পর্যস্থ বন্ধু আশ্রয় ছেড়ে তা 
এক ভাবসামান্তে রূপান্তরিত হয়েছে। ভারতের দ্তম দক্ষিণ প্রান্তে সমূত্র- 
পির্গত শিলাথণ্ডের উপর বসে বিবেকানন্দের চিত্তে সমগ্র দেশের যে রূপ উদ্ভাসিত 
হয়ে উঠেছিল, এ দেই রূপ । 

পামমোহনের জন্ম অষ্টাদশ শতাব্ধীর দ্বিতীয়ার্ধে ভারত-ইতিহাসের এক 

যুগনদ্ধিক্ষণে | সর্বভারতীয় মুঘল রাষ্টরব্যবন্থা ও শাসনতন্ত্র তখন ভেঙে পড়েছে, 


€ 


আঞ্চলিক স্বার্থের ঘাতত-প্রতিঘাতে সমস্ত দেশ বিমধিত। এরই মধ্ো ধীরে ধীরে 
ইংরেজ-রাজত্বের বুনিয়াদ গড়ে উঠছিল, কিন্তু তা সুনিশ্চিত ও দৃঢ় ভাবে 
প্রতিষ্ঠিত হল উনবিংশ শতাব্দীর প্রথম তই দশকে মাবাঠা শক্তির পতনের পর । 
১৮১৮ খ্রীষ্টাব্দে গভর্নর জেনারেল মাকুয়িস অফ হেষ্টিংস্‌ এক প্রকাশ্ট ঘোষণায় 
বলেন, ইস্ট ইত্ডিয়া কোম্পানি ভারতবর্ষে সার্বভৌম ক্ষমতা অধিকার করেছে । 
বণিকের মানদণ্ডের বাজদত্ডে কপান্তব এইবার সম্পূর্ণ হল। রামমোহন কৈশোব- 
যৌবনে এই ভাঙাগড়ার দৃশ্য স্বচক্ষে দেখেছিলেন । ভারতের পূর্বতন নিজন্থ 
বাষ্টীম একাকল্পনার সঙ্গে এই নবাগত সার্বভৌম বিদেশী শাসনাদর্শের মৌলিক 
পাথকা ও দ্বিতীয়টির স্বকীয় সহজেই তা? দৃষ্টতে ধলা পড়েছিশ । আধুনিক 
ভারতবধে ট্শিই সর্বপ্রথম উপশন্ধি করেন, নবপ্রতিষঠঠিত পাশ্চাতা শাসনের 
পশ্চাতে রয়েছে এক বিবাট সভানা যার ঘনিষ্ট সংস্পর্শ ই একমাত্র ভারতবালীব 
পিজন্ব সভাতাপ প্রাণশক্তিকে ঘগপত্বিতনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে উপযুক্তভাবে 
সক্রিয় ও সষ্টিশীল কবে তুলতে পাবে । একথাও বুঝনে ভাব মত প্রতিভাধরের 
বিলঙ্ক হয়নি যে ভারতীয় সংস্কৃতি বাষ্টচিন্তায় দুর্বল ; আধুনিক কালের রাষ্ট্রনির্ভর 
জাঙীয়তাবোধের আদর্শ অন্যায়ী ভারতবাসীকে যদি বিশ্বের দরবাবে এক- 
জাতিরূপে প্রতিষ্ঠিত হতে হয় তবে প্রাচীন ও মধাযুগের তাবতীয় রাষ্ট্রচিস্তা ও 
রাষ্শাসনাদশেব পবিবতে আধুনিক জ্ঞানবিজ্ঞাননির্ভর ও প্রযুক্তিবিষ্যায় সমৃদ্ধ 
পাশ্চাতা বাষ্্রশাসনের অন্ুন্পপ কোনও বাবস্থা অবলম্বন করতে হবে। অপর 
পক্ষে শেষোক্ত বাষ্টাদর্শের মধো যে সর্বগ্রাসী সমীকরণত্বের সম্ভাবনা নিহিত 
আছে দে বিষয়েও তাঁএ দৃষ্টি সজাগ ছিল। ভারতীয় দৃষ্টিতে এক্য ও সমীকরণ 
এক নয়। নানা প্রান্তিক বৈচিত্রা সত্বেও ভারতবর্ষের ভৌগোলিক অখণ্ডত 
যেমন স্বীকৃত, সংক্কতির জগতে নানা বিচিত্র, এমন কি বিরোধী উপাদানের 
সহাবস্থান সত্বেও সমমানসিকতার একটি বুনিয়াদ ভারতীয় চিন্তায় তেমনি 
সুনির্দিষ্ট । এ-কথা মনে করবার কারণ আছে । ভৌগোলক ও সাংস্কৃতিক 
দেশচৈতন্ত মনে প্রবল থাকায় পাশ্চাতা বাষ্্রাদর্শকে রামমোহন দেশগঠন সমস্যার 
একমান্্র সমাধান বিবেচনা করেন নি। 

ভৌগোলিক পরিধিগত ও সংস্কৃতিগত একাবোধ ছুই স্বতন্ত্র স্তরের চিন্ত 
হলেও পরস্পর ঘনিষ্টভাবে সম্পক্ত। বাহ দেশপারচয় থেকেই ভারতবাসীব 
দেশচেতনা ক্রমশ অন্তর্লোকে উত্তীর্ণ হয়েছে | প্রাচীন ও মধাযুগে এই ছুই 


ঙ 


স্তরের চৈতন্যকে অধিগত করবার মুখা উপায় ছিল তীর্ঘভ্রযণ_-যা তখনকার 
দিনে সাধিত হত প্রধানত: পদত্রজে- কখনও বা আজকের তুলনায় আত 
মস্থরগতি যানবাহনের সাহাযো। ভারতীয় সংস্কৃতির প্রাণরহশ্তের ধার] ধারক- 
বাহক সেই পণ্ডিত, সন্ন্যাসী, যোগী, শ্রমণ, পীর, ফকীব, দরবেশ, বাউল প্রভাতর 
অধিকাংশ ছিলেন পর্যটক | এই অভ্রত, বিপদসক্ক্ুল, শ্রমসাধা ভ্রমণের মাধামে 
দেশের বন্ৃবিচিন্র প্রকৃতি, মানুষ, জীবনচর্যা ও সংস্কৃতির সঙ্গে এদের ঘনিষ্ট 
সংস্পর্শ ঘটত । বহুযুগসঞ্চিত সেই পরিচয়ের অভিজ্ঞাই ছিল ভৌগোলিক ও 
সংস্কতিগত একাবোধের জনক | এই একাচেতন। রাষ্ট্রকে আধাবরূপে অবলণ 
কবে নি. কেননা ভারতীয় চিন্তায় সার্বভৌম রাষ্ট্রের কল্পনা থাকলেও ইতিহাসে 
তার সফল পরীক্ষা হয়েছে খুব কম, এবং ভারতীয় সমাজবিবঙতনে পা্রশক্তির 
প্রভাব অনুপাতে পড়েছে অল্প। আধুনিক যুগে তীথযাত্রার আকধণ ক্ুম়শ 
কমে এলেও এই পরধটক-মনোবৃস্তির বুহত্তর তাৎ্পর্ষের প্রুতি মনীষিবুনদ উদাসান 
থাকেন নি। তাই দেখা যায় এ ঘুগের চিস্তানায়ক ও জননেতৃবুন্দ প্রায় সকলেই 
যথাসাধা ভারত-পরিক্রমার দ্বারা নিজ নিজ দেশপরিচয়কে স্থনিশ্চিত ও সদ 
করেছেন এবং এদেশের সাংস্কৃতিক অস্তংপ্রক্কতির পরিচয় নেবার প্রয়াম 
পেয়েছেন । দেবেন্দ্রনাথ, কেশবচন্দ্র, 1শবনাঁথ শাস্ত্রী প্রমুখ ব্রাক্মসমাজের 
নেতৃবৃন্দ, বিবেকানন্দ, অভেদানন্দ প্রসৃতি রামকুষ্ধাশয্গণ, দয়াণনা সরন্বতী, 
মহাত্মা গান্ধী,__এমন অনেক নাম এই প্রসঙ্গে উদাহরণম্মরপ উদ্লেখ করা খায়। 
রামযোহনের জীবন পরধালেচনা করলে তাকে বর্তমান কালের এই ভারত- 
আবিষ্কারক দলের অগ্রণী মনে করতে আমাদের দ্বিধা হবার কথা নয়। কিংবদস্তী 
৪ তথা মিলিয়ে তাঁর কৈশোর-যৌবনের যে চিত্র পাওয়া যায় তার থেকে এট্রকু 
স্থনিশ্চিত সিদ্ধান্ত কর] চলে, প্রথম বয়স থেকে পর্যটনের নেশা তার চরিত্রের 
অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল। বিছ্যার্জন, ধঠজিজ্ঞাসা, চাকরি, ব্যবস! প্রভৃতি উপলক্ষ 
তরুণ বয়ম থেকে বার বার তাকে ঘরছাড়া করেছে৷ ১৮৩-০৪ শ্রীষ্টাকে 
প্রকাশিত তার ফার্সী পুস্তিক। 'তুহ ফাৎ-উল-মুণ্হাহিদিন'এর আববী ভূমিকা 
তিনি স্বয়ং তার বিভিন্ন দেশপর্যটনেবু উল্লেখ করেছেন এই ভাবে £ 1 178৮61160 
10 006 1610010650 70815 01 006 0110, 11 0151155 85 5/6]] 83 11) 1511]5 
181505... 1৮ এরই প্রতিধ্বনি লক্ষ করা যায় তার শেষ জীবনে লিখিত আত্ম- 
জীবনীমূলক ্ববিখ্যাত পত্রে । এখানে তিনি নিজের প্রথষ বয়সের ভ্রমণ সম্পর্কে 


ঙ 


বলেছেন 2 4...1 01০০6606001) [78% 08613, 8150 1985580 01001 
0761617)0 00817100165, 01)166]% 10011), 0065000606১ 0150, 006 
59975 ০0£ 17110905080, 100 2 691106 0£ £:6526 ৪৬ €15101 £01 
0০ 65090115100 0: 006 301019]) 006] 112 [17019 1”*  তথ্যবিচার 
কিপে দেখলে মনে হয় কিশোর রামমোহনের তিব্বত-পর্যটন সম্পকিত যে 
কাহিণীটি প্রচলিত আছে তার হল সতাতা। অস্বীকার করবার সম্ভবতঃ কোনও 
কারণ নেই । হিল্মস্তান বা ভারতবনের হীমানগার বাইরে যে সব দেশ তিশি 
পরিদর্শন করেছিলেন, তিব্বত সেগুলির অন্ু তম হওয়া অসম্ভব নয়। « পাটনা, 
বারাণশী ও উত্তর ভাবের স্বদূরবর্তী আরও অনেক স্থান যে তিনি ভ্রমণ 
করেছিলেন তাঁর প্রমাণ তাঁর মোকদ্দমা-সংক্রান্ত নথিপত্রের মধোই আছে। ১১ 
কঞ্জোপলক্ষে বঙ্গ-বিহ্বাপের শানা স্থানে তাকে বাস করতে হয়েছিল এবং রংপুরে 
অবস্থানকালে তাকে ইংরেজ-সরকারের দূত হয়ে দুর্গম পার্বত্য পথ অতিক্রম করে 
ভুটান-বাজা পর্ধস্ত পরিদর্শন করতে হয়েছিল ।১২ এই সঙ্গে মনে রাখতে হবে 
হিন্দী ও উদ ভাষাঘয়ে ভার অধিকার ছিল প্রায় মাতৃভাষা বাঙলারই মত এবং 
সম্ভবত: কোনও একটি দক্ষিণ ভারতীয় ভাষাও তিনি কতকটা আয়ত্ত 
করেছিলেন ।১৩ স্তরাৎ এই পর্যটনপর্বে জনজীবন ও জনসংস্কৃতির অগ্তুরঙ্গ 
পরিচয় লাভে তাঁর ভাষাগত কোনও অস্থবিধা বা বাঘাত ঘটেমি। দুঃখের 
বিষয় বামমোহনের পর্টক-জীবনের কোনও স্বরচিত ধারাবাহিক বিবর্ণ 
আমাদের হস্তগত হয়নি কিন্ত আর এক প্রসঙ্গে তিনি যে উক্তি করেছেন 
তা থেকে হয়তো এই দেশভ্রমণের পশ্চাতে কি উদ্দেশ্ট ছিল সে-বিষয়ে কিছু 
ইঙ্গিত পাওয়া যাবে। পূর্বোল্লিখিত আত্মজীবনীমূলক পত্রে অন্যত্র আছে : 
*] 1১0৬ 4610 ৭ 509776 আ15]) 00 51516 [010106, 21)0 00817 ৮5 
[70615917781] 00561৮9010785 ৪ 00015 01509100810 15518061100 215 
[031)1)615, 01050012)5, 7€1161097) 2170 1901)0098] 1050610000175” 1১৪ 
অন্ততঃপক্ষে ১৮১৬-১৭ শ্রীষ্টাব্ষ থেকে রামমোহন যে ইউবোপ-যাত্রার সংকর 
করেছিলেন এমণ প্রমাণ আছে ।১ এই সিদ্ধান্তের মূলে যে মনোভাব ছিল তা৷ 
তার নিজের স্বীকৃতি অগ্ুযায়ী বাক্তিগত পর্বেক্ষণলন্ধ অভিজ্ঞতার মাধামে 
ইউরোপীয় জীবনচধা ও রাজনীতি সম্পর্কে সম্পূর্ণতর ও' গভীরতর জ্ঞান 
আহরণ। এই উদ্দেশ্ত সিদ্ধ হয়েছিল দীর্ঘ চোদ্দ বৎসর পরে দিল্লীর বাদশাহের 


চ 


দৌঁতাকাধকে উপলক্ষ করে। একই প্রেরণার বশে তিনি আমেবিক! 
পরিদর্শনেও ইচ্ছুক ছিলেন ও এক সময়ে স্থির করে ফেলেছিলেন ১৮২৪ খ্রীষ্টাবে 
তিনি আমেরিকা যাবেন ।১* তার এই বাসন পুর্ণ হয় নি। যাই হোক এই 
সবের থেকে ধরে নিলে অন্যায় হবে না, রামমোহনের বিশ্বাস ছিল প্রতাক্ষ 
অভিজ্ঞতা ভিন্ন দেশপরিচয় সম্পূর্ণ হয় না; এবং বাহা উপলক্ষ যাই হোঁক সার 
ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল পর্যটনের প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল ভারতবর্াঁয় জীবনধারা 
সক্ষে অন্তরঙ্গ হওয়া । এই দেশপরিক্রমাই রামমোহনের ভারতচিন্তাকে এত 
বাস্তবান্থগ ও জীবন্ত করে তুলেছিল। স্বদেশ সম্পর্কে তার জ্ঞান কেবলমাদ 
দেশী-বিদেশী কিছু পুথির পাতায় আবদ্ধ থাকেনি। জনৈক ফরাসী মনীষী 
বলেছিলেন, অন্গণীলনের বিষয়বন্ত সম্পর্কে প্রতাক্ষ অভিজ্ঞতা লাভ না করে,_দূর 
থেকে অন্সন্ধান করতে গেলে কখনও কখনও একটি গ্রস্থাগারকেই একটি দেশ 
বলে ভুল করবার সম্ভাবনা থাকে (4৯ 07৬৪91116] 101]8 ৪ 10016 062 585 
€ 00065 01) 11506 06 70:67016 00610061013 9716 01৮11006006 
2০0] 15001581506 080. 0855) বামমোহন সে ভুল করেন নি। 

স্বদেশ সম্পর্কে এই প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জনের সঙ্গে সঙ্গে রামমোহনের 
তারত-জিজাসা তরুণ বয়স থেকেই অগ্রসর হয়েছিল স্থবিস্তীর্ণ অধায়ন ও 
অন্রশীলনের পথে । ইংরেজি ভাষা ও পাশ্চাতা বিদ্যার চর্চা তিনি আরম্ভ করেন 
পরিণত বয়সে। তীর জ্ঞানচর্চার দু বুনিয়াদ প্রতিষ্টিত হয়েছিল এদেশের 
টোলচতুষ্পাঠী-মক্তব-মাদ্রাসায় প্রচলিত শিক্ষাপদ্ধতির মাধমে । ফলে ভারতীয় 
বিদ্বার প্রাচীন ও মধাযুগীয় এতিহা কেবল যেতার স্বাভাবিক মনীষাঁকে সমৃদ্ধ 
করেছিল তাই নয়, তা সম্পূর্ণভাবে তার সত্তার সঙ্গে মিশে গিয়েছিল। পাশ্চাতা 
'ওরিয়েপ্টালিস্ট এর কেতাবী দৃষ্ট দিয়ে তিনি ভারতীয় সংস্কৃতির বিচার করতে 
অগ্রসর হন নি। সংস্কৃত, আরবী ও ফার্সা ভাষাত্রয় প্রাচীন ভারতীয় ও 
ইললামী মননভাগ্াব্রের তিন চাবিকাঠি । আর কে না জানে ভারত-ইতিহামের 
মধাযুগে ইসলামের বাষ্নৈতিক ও সামাজিক প্রভাব যেমন বহুবিস্তাবী তেমনি 
গভীর? উক্ত তিন ভাষায় অগাধ পাণ্ডিতা অর্জন করার ফলে ভারতীয় হিন্দু ও 
মধাযুগে ভারতে ন্ুগ্রতিষ্ঠিত ইসলামীয় জ্ঞানরাজ্যে রামমোহনের সঞরণ ছিল 
অনায়াস ও অবাঁধ। বাঙলা, হিন্দস্থানী ও ইংরেজি বাতীত আরবী ও 
ফার্সীতেও তিনি কথোপকথন করতে পারতেন»* এবং গদাপদ্যাত্মক সংস্কৃতরচনা 


৪ 


কার যেট্রক পাওয়! গেছে সেখানে লিখনশৈলীর প্রসাদণগ্ডণ আজও আমাদের 
মুগ্ধ করে 1১৮ ইসলামের সঙ্গে গভীর পরিচয় তার চিন্তাকে তিনভাবে প্রভাবিত 
করেছিল। কুরাণ শরীক অধায়নেব ফলে হিন্দ্ধর্নের প্রচলিত প্রতীকোপাসনায় 
তাঁর বিশ্বাস শিথিল হয় ও তিনি আজীবন নিশ্ছিদ্র একেশ্বরবাদের অন্তরাগী হয়ে 
ওঠেন | ছ্বিতীয়ত: ইসলাম ধর্ের মুতাজিল] সম্প্রদাষের যুক্তিবাদ ও আপেক্ষিক 

স্কাবমুক্ত দৃষ্টিভঙ্গী ব্ভল পরিমাণে তাঁর অসম্প্রদায়িক ও বিচাঁরশীল মনোভাব 
গঠনে স্কায়ক তয় । উপবান্থ বযোবুদ্ধিল সঙ্গে সঙ্গে তিনি সুফী মবমীয়তাবাঁদের 
প্রতি ক্রমশ গভীব ভাবে আরুই হথে পাডেছিলেন । হিন্দ ব্রহ্গবিদ্তার সঙ্গে তার 
পরিচয় মুখান উপনিষদ, ব্রঙ্গন্র। ৪ গীহা মোক্ষশান্্েশ এই প্রস্থানজয়ের 
মাধামে। পেদাশ্থ অনগলন প্রগশিত হিন্দ প্রতিমাপূজাম তাব শিথিল বিশ্বাস 
সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ কাণে দিয়েছিল । উন্ুকালে বৈদান্ধিক এ বেদাম্থ-বাখাতারূপেই 
যগিও তার প্রসিদ্ধি, তধু মতাভাবত, বামায়ণ, পুবাণ, তন্ত্র ইতাদির সঙ্গে তার 
পরিচয় যথে্ট গভীর ছিল । হিন্দ ষডদর্শন, ধঃ়শাস্ত্, স্বতিনিবন্ধ ও লৌকিক 
কাবাদি তিনি যত্ব করেই পড়েছিলেন । তাঁব বিচারপগ্রস্থগুলিতে ও জীবনের 
ঘটনাবণীর মধো এই স্বিস্তীর্ণ অধায়ন-অন্তশীলনেব প্রচুর প্রতাক্ষ ও পরোক্ষ 
প্রমাণ ছড়িয়ে রয়েছে । সম্ভবত তরুণ বয়সে তিব্বত-পর্যটন ও ভুটান-ভ্রমণের 
সময়ে রামমোহন কিছু পরিমাণে মহাযান বৌদ্ধধর্মের সংস্পর্শে আসেন । উত্তর- 
কালে কথোপকথনপ্রসঙ্গে একবাব তিনি বেভাঃ আলেকজাগ্ডার ডাফকে 
বলেছিলেন, বৌদ্ধ ব্রিপিটক তিনি অধায়ন করেছেন ।* রামমোহনের মৃত্যুর 
পরে স্থাগুফোর্ড আনট 'এথেনিউম" পত্রিকার অক্টোবার ৫, ১৮৩৩ সংখায় যে 
স্বতিকথা লেখেন তাতে তিনি উল্লেখ কবেছেন, মাঁণকতলার বাডীতে একবার 
এক নিরীশ্বরবাদী বৌদ্ধ সন্নাসীর সঙ্গে রামমোহনের দিনব্যাপী বিচার-বিতর্ক 
হয়; আনট স্বয়ং সেখানে উপস্থিত ছিলেন 1১* তা ছাড়া বৌদ্ধ সাহিত্যের. 
সঙ্গে রামমোহনের সংশ্রবের প্রতাক্ষ প্রমাণও আছে। ১৮২৮ শ্রীষ্টাকে তিনি 
বাঙলা! অন্তবাদ সমেত সম্ভবত কোন ও বৌদ্ধ আচার্ধ প্রণীত 'বজ্রস্চী" গ্রন্থটির এক 
সংস্করণ প্রকাশ করেছিলেন । রংপুরে বাশকালে (১৮*৯-১৮১৫ ) তিনি 
'কল্পস্ত্র' ইতার্দি কিছু জৈন শান্তগ্রন্থও অধায়ন করেছিলেন বলে প্রকাশ ।২৯ 
সবশেষে উল্লেখ করা প্রয়োজন, উত্তরভারত পরিভ্রযণ, বিশেষত কাশ-প্রবান 
এবং হিন্দী ভাষায় অধিকারের ফলে তিনি ভারতীয় মধাযুগের ভক্তি-আন্দোলনের 


১ 


সঙ্ষে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হয়েছিলেন এবং এব শ্রষ্টা সম্ভতমগ্ুলীর সঙ্গে সর্বদা 
আধ্যাত্মিক নৈকটা অনুভব করতেন। 'প্রার্থনাপত্র' (১৮২৩) শীর্ষক পুস্তিকায় 
এই প্রসঙ্গে তার উক্তি ম্মরণীয় £ “দশনাম! সন্গাসিদের মধ্যে অনেকে এবং গুক- 
নানকের সম্প্রদায় ও দাদুপস্থী ও কবীরপন্থী এবং সম্ভমতাবলম্বী প্রভৃতি এই 
[রামমোহন ব্যাখ্যাত সার্বভৌম একেশ্বরবাদী ] ধর্মাক্রান্ত হয়েন; তাহাদের 
সহিত ভ্রাতৃূভাবে আচরণ করা আমাদের কর্তবা হয়।”২২ এই ভাবে কালামু- 
ক্রমিক বিচার করলে দেখা যায় প্রাচীন ও মধাযুগে বিকশিত ভারতীয় চিন্তাণ 
প্রধান ধাবাগুলির প্রায় সব কটিব সঙ্গেই বামমোহনের চিত্তেব যোগ স্থাপিত 
হরেছিল।২৬ বাহা দেশপরিক্রমার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল মানস কালপরিক্রম] | 

এই ভাবে দেশে ও কালে ভারত-পরিক্রমার মাধামে রামমোহন যে বিশিষ্ট 
মানসিক প্রবণতাঁটি লাভ করেছিলেন তা ছিল তার জীবনদর্শনের ভিত্তিম্বরপ | 
ঘনিষ্ট দেশপরিচয়ের ফলে ভারতবষীয় সংন্বতি ও জীবনচর্যার প্রতি তিনি যে 
শ্রদ্ধা ও মমত্ববোধেব অধিকারী হয়েছিলেন তার আভাস তার রচনার মধ্যে 
বভ স্থলেই পাওয়া যাবে। ডঃ টাইটুলাবের সঙ্গে বিতর্কের প্রসঙ্গে এক স্থানে 
তিনি উক্তি করেছেন হ “1605 0176 2২৪ 0 1166111661705 1071 10101) 
01)6 (01)115091) 5895 ৮2 812 11)0610060 060) 0136 151051151), 1)6 120681)5 
0176 11)009400001% 06 05860] 006201)8101081 2105, ] ৪10 7884 09 
6%007255 10% 25561) 2100 2190 170 81210100067 0116 10) 12519৩1 
00 901617)06, 11061806016 01 [২6116101), ] 00 1706 70111016186 
[01720৮৮2216 018060 81)061 2185 01911690101, 501 05 2 12121151006 
00 1015001 10 1008% 106 01০9৬৬0 0090 005 ভ/০119 ৬৪৩ 11716006601 
00 080 21706500915 101 0006 9150 082৬7 01 10005/16086, ৬/1)1০1) 
50197861017) 110 01)6 77850 8170. 081)]58 00 0006 (3040658 0 ৬৬150), 
5 1)8%6 5011] ৪ 0191109500101081 2170 501980903 18910813986 ০ 
097 0৮1), 9/10101) 150067315155 05 (0000 00106 128010178 100 
৩8101000 5201555 50161700190 01 80508.06 10685 ৮/101)0810 
১১::0571778 055 17778088601 60161807618. 1২৪ নিজ সংস্কৃতি সম্পর্কে 
গববোধের এমন স্পষ্ট উদ্দাহরণ আর কি হতে পারে? 772 13727787021 
4428425 এর তৃতীয় সংখ্যায় গ্রিসনারী প্রতিপক্ষকে তিনি বলেছেন, 


১১. 


ইউরোপীয়গণের গার্স্থা জীবনের নৈতিক বিশুদ্ধতা ভারতীয়দের চেয়ে মোটেই 
বেশা নয়: “49 00 006 00018] 06801 85011960 €0 01600 05 006 
[11001] 10181002515 08৮7 ৪ ০0108101501) 70606219096 
00106500 001800100 0£ 0)6 10705858100 0080 0৫ 006 11109018105 
04 01096, 60 5150 17616 0106 £05965€ 06206161505 11657 ০৪ 
৪3 81101) 2 01300106 15 21)01615 1016181) 00 006 70165210 ০018- 
0০৬5৬, ] 76509817) 00556]6 (ো। 50:015886681016 ৪ 50916০0 
19061 9079161161)5101) 0080 10 03161060505 £60618] 015- 
[01695016.” 1২৪ ত্রান্মলমাজের প্রথম অধিবেশনে (৬ ভাত্র, ১২৩৫; ২৩ 
আগস্ট ১৮২৮ ), আচার রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ যে উপদেশ দেন, তারাাদ চক্রবর্ত 
কত তার ইংরেজি অনুবাদ সম্পর্কে কোনও ইংরেজ বন্ধুর নিকট.তিনি মস্তবা 
করেন, ব্যাখানটির মধো যে দৃষ্টিভঙ্গী প্রকাশ পেয়েছে তা হল “..-*'-086 
8110])1101) 0017)1161)61)51৮ €1)555 2170 00161901017 ড/10101) 015৫1)- 
£0191) 006 16118109815 06116 8170 ৬0191010 1010062115 ৪0000 0 
0196 ০0 0196 10099 ৪1)01600 18010175 06 096 2৪10) 2150 50111 
801,160 00 0 006 10015 171181)0621760 700100170৫6 00611 
705661151২৯ ব্রাঙ্গণসেবধির ইংরেজি সংস্করণ 101)6 9781)171771081 
14198951196 এর দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকায় এই গর্বমিশ্রিত শ্রদ্ধার স্ষুটতর 
প্রকাশ লক্ষ করাযায় £ 4] 15 /৪11-1070%/1) 60 006 আ1)016 আঅ০]ণ, 
01091 1)0 19601916 01) 6210) ৪16 120016 001612150 00217 006 [71700095 
1০ 06115৮৪ 91] 1061) 00 706 ৪0018]19 9101)11) 076716801০0 
[)1৬11)6 06169061706 1910] 60010008085 0১৪ 89০00 06 €৬ছাচে 
121881915 5৪৩০ ৪19] 00101071601) 3.-1”২৭ এমন উদ্দাহরণ আরও 
বাড়ানো চলে। বেশ বোঝা যায়, ভারতীয় জীবনচর্যার সঙ্গে এক ঘনিষ্ 
আত্মিক যোগ তার প্রত্যক্ষ উপলব্ধির বস্তছিল এবং এর ফলে তিনি এক 
গভীর স্বাজাত্যবোধেব অধিকারী হয়েছিলেন। তার দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় 
এই স্বাজাত্যবোধ পূর্ণমাত্রায় প্রাতফপিত। শিক্ষিত সমাজকর্তৃক পশ্চিমের 
সেই অন্ধ অন্থকরণের যুগেও আহার-বাবহারে তিনি ছিলেন সর্বাংশে ভারতীয় । 
তৎকালীন সন্ত্াস্ত ভারতবাশীর মৃনলমানী দস্তরের পোশাক এদেশে ও ইউরোপে 


১৭ 


সর্বদা তার অঙ্গে শোভা পেত। তার মধ্যান্ছের আহার ছিল সম্পূর্ণ বাঙালী 
ধরনের, রাত্রে তিনি খেতেন মুসলমানী খানা । এদেশে ইংরেজি শিক্ষা 
প্রবর্তনের ছারা মেকলে এক শিক্ষিত গোষ্ঠী সি করবার স্বপ্ন দেখেছিলেন 
ধার] হবেন £ 41150191) 11) 01900 87১0 17) 0010], 00006118011 
685065, 111 00117109179 8150 11817001815 82180 1 1180611600৮ 1২৮ 
রামমোহন পশ্চিমের অনুরাগী ও পাশ্চাতা বিদ্যায় সিদ্ধ হয়েও এ স্প্রের মতিমান 
প্রতিবাদ। এই স্তজ্ে ১৮২২ সালের ৩১ জানুয়ারী সংখা! 08105068 
[০০৪] এ প্রকাশিত ৫ মার্চ ১৮২২ সংখা! “সংবাদ-কৌমুদী'র বিষয়স্চীর 
অন্তর্গত সপ্তম প্রসঙ্গটির উল্লেখ করা যেতে পারে। এটি হল একখানি 
“660 09170176006 076 810501015 0৫ 0005 :00180/00 
০6 50175 801৮25 ৮1709 101410015 01061 0%/77 1081717575 ৪10 
০050000$ 1 0:06 08৪10 0065 90070080101) 06 [০- 
6৪079.” |২*ক রামমোহন প্রতিষ্ঠিত এই বাঙলা সাঞ্চাহিক পত্রখানিতে অন্ধ 
পাশ্চাত্যাঙ্করণ সম্পর্কে কি জাতীয় আলোচনা প্রকাশত হত-পত্রের বিষয়বন্ত 
থেকে তার কতকটা আন্দাজ পাওয়। যায়। এ বিষয়ে ত্দানীস্তন হিন্দু কলেজে 
শিক্ষাপ্রাপ্ত 'ইয়ং বেঙ্গল' গোঠঠার সঙ্গে তার দৃষ্টিভঙ্গীব পার্থকা লক্ষণীয়। সপ্তম 
অধ্যায়ে প্রসঙ্গটি যদিও বিস্তারিত ভাবে আলোচিত হয়েছে তবু এখানে সংক্ষেপে 
অল্প কয়েকটি কথা বলা প্রয়োজন । “ইয়ং বেঙ্গল' দলত্ুক্ত বেশ কিছু তরুণের 
চিত্তে ইংরেজি শিক্ষা মাদকের নায় প্রভাব বিস্তার করেছিল। ফলে তার! 
সাময়িক তাবে মানসিক ভারসামা হারিয়ে ফেলেছিলেন । এদেরই প্রতিনিধি- 
স্থানীয় মাধবচন্দ্র মল্লিক সগর্বে দিখেছিলেন+ 2 00676 06 805 00008 
15061 162৬ &1) 0080 21006] 01 009 £1210705 10010 11901 ৮5101) 
00030 81010776706, 16 13 17100001510, 4100 1 00615 05 ৪1750101178 
0080 2 165810 85 006 10650 11790000067) 016 €511, 1015 01117 
00909900-..1*২১ ফোঁটা তিলকধারী ব্রাহ্মণ পণ্ডিত দেখলেই বিদ্ধপ, নিষিদ্ধ 
খান খেয়ে আন্ক্নুলন ও ভুক্তাবশেষ বক্ষণণল প্রতিবেশীর গৃহে নিক্ষেপ, 
ঠাকুরঘরে মন্ত্রের পব্িবর্তে হোমাবের 'ইলিয়াড' আবৃত্তি, প্রকাশ্তে রাপান 
প্রভৃতি উদ্ধত ও উচ্ছৃঙ্খল 'আচরণেও তাদের দ্বিধা ছিল না। অবশ্ট গভানগু- 
গতিকতা ও জীর্ণ আচারের বিরুদ্ধে যে বিদ্রোহী মলোভাৰ এই সব কাজের 


১৩ 


মধো প্রকাশ পেয়েছে তা শ্রদ্ধার যোগা। এ কথাও স্বীকার্য যে এই তরুণ দল 
উত্তর জীবনে আত্মস্থ হয়ে াপন আপন প্রতিভার বলে জাতীয় জীবনের বিভিন্ন 
ক্ষেত্রে নেতৃত্ব গ্রহণ করেছিলেন এবং এদেরই মধা থেকে আবিভূ ত হয়েছিলেন 
মাইকেল মধুকদপের মত কবি, রামগোপাপ ঘোষ, হরিশচন্দ্র মুখোপাধায়ের 
মত বাষ্্রপীতিঠিপুণ দেশকল্যাণকর্মী, শিবচন্্র দেব ও গামতন্থ লাহিড়ীর মত 
তচরিজজ আদশশিষ্ঠ পুকষ, ভূদেব মুখোপাধায়ের মত স্থিতধী শিক্ষাবিদ, 
প্যাবীঠাদ মিত্র, কিশোবীচাদ মিত্র মত মাদশবাদী সাহিত্যিক ও সংগ্কারক, 
রাধাণাথ শিকদারের মত বৈজ্ঞাশিক প্রতিভাসম্পন্ন মন্পীষী, রলিককুষ্ণ মলিকের 
মত নিভগক, ম্পঞ্টবক্তা, সংস্কারমুক্ত জ্ঞানী ও রাজনারায়ণ বস্থর মত ঈশ্বরভক্ত ও 
স্বদেশপ্রেমিক | কিন্তু হিশু কলেজলনধ ইংরেজি শিক্ষার মাধামে পাশ্চাতা 
সভাতার সঙ্গে পরিচয়ের প্রথম পগ্নটিতে এদের চিত্তে যে অস্থিরতার সঞ্চার 
হয়েছিল তার বশবতী হয়ে এর! স্বদেশীয় সভাতা ও সংস্কৃতির প্রতি সম্পৃণ 
শ্রচ্ধাহীন হয়েছিলেন । এ সতা অন্ীকার করবার উপায় নেই । এমন অশ্রদ্ধা 
পোষণ করা পামমোহনের পক্ষে অসম্ভব ছিল। মনম্বী লেখক অজিতকুমার 
চক্রবতীর ভাষায় : “রামমোহন বায় পরিষ্কার বুঝিয়াছিলেন যে পাশ্চাত্য জ্ঞান- 
বিজ্ঞানের আলোকে আমাদের ধ্শান্্কে আমরা না পড়িতে পাবিলে কোন 
কালেই তাহার শিতা তত্ব এবং খণ্ডকালের হিসাবেও তাহার নিগুঢ তাৎ্পধ 
আমরা ধবধিতে পাধ্ব পা।" রামমোহন রায় তাই পশ্চিমের দিকে দেশের 
মুখ ফিবাইয়াছিলেন যাহাতে দেশেন দিকেই সেই মুখখানা তাল কবিয়া 
ফেবে | হেয়ার, মেকলে বা ডিরোজিয়োর মত তিনি স্প্রে মনে করেন নাই 
যে হিন্দমভাতার মধো শিখিবার কিছুই নাই, যাহা কিছু আছে তাহা পশ্চিমের 
সভাতার ভাগারে ।”* এই সামগ্স্তাবোর ও ভবিস্যদুষ্টি 'ইয়ং বেঙ্গল' গোটাতুত্ক 
অধিকা, শ তরুণের মানসিক উন্মেষের প্রথম পর্বে দৃশ্যমান নয়। ভারত্বদে 
আধুনিক হগেব প্রানন্তে বামমোহনের আবিভাবই প্রমাণ করেছে, ভারভেনু 
ঠিজন্ব সভাতাব প্রাণশক্তি তখনও শিঃশেষিত হয়নি । দেশে নবাগত পাশ্চাতা 
জ্ঞান-বিজ্ঞানের কষ্টিপাথরে 'এদোশের শ্রীচীন ও মধাযুগীয় আধাত্মিক ও 
সান্কৃতিক য্লাবোধগুলিকে পরীক্ষা করে যথোচিত গ্রহণ-ব্জনের মাধামে 
সেগুলিকে জাতীয় জীবনে প্রতিষ্ঠা করবার ও এর দ্বারা নৃতন যুগোপযোগী 
জীবনদর্শন গড়বার কাজে তিনি অগ্রণী হয়েছিলেন। তার গভীর দেশচেতলা 


১৪ 


'৪ দেশতএমই এ ব্যাপারে তার পথপ্রদর্শক ছিল। মেকলের দস্তোক্কিকে তা 
শেষপর্যন্ত মিথা প্রতিপন্ন করেছিল । 

প্রাণবস্ত ভাবতীয় চিত্ত যে বিদেখা সংস্কৃতি ও ভাবধারাঁকে কখন অশ্রস্থা 
করে নি ভারতবধেন অতীত ইতিহাসে তার বধ এজির আছে । এই এঁতিহাগত 
গ্রহণশল মনোভাব রামমোহদনের চিস্তাধারারও এক বিশিষ্ট লক্ষণ। তার 
জীবশের ঘটপাবলীন কালক্রম পর্যালোচনা করলে দেখা যায় ভারতীয় ভাবধাবাস্ব 
তাব জীবনদর্শনের ভিত্তিভূমি প্রতিষ্ঠিত হবার পর তিনি রীতিমত ইংরেজি ভাষা 
এ পাশ্চাতা বিছ্বাব অন্শীলণ আবন্ত করেছিলেন । তার ব্রঙ্গবাদের প্রতিচা 
উপনিষদ্-ব্রন্গস্তত্রে। একেশ্বববাদের প্রনিষ্ঠটা ইসলামে, যুক্তিবাদেব ভিত্তি 
মুতাজিলা সম্প্রদায়ের মন্বাদ ও তর্কপদ্ধতিতে । ভাবতবমের মধাযুগীয় ভক্তি- 
পস্থিগণের সংগীতাশ্রমী উপাসন] পদ্ধতি তাঁকে বিশেষভাবে আকর্ণণ কবেছিল ।০১ 
বৌদ্ধধর্মের তত্বভাগের না হলেও বর্ণাশ্রমবিরোধী উদার সামাজিক দৃষ্টির তিনি 
মন্ঠবাগী ছিলেন এব” এই মনোভাব তার ১৮২৮ খ্রীষ্টান্জে প্রকাশিত 
'জনটী" নামক সংস্কত গ্রন্থেব অন্ঠবাদে প্রতিফলিত।৩২ ইউরোপীয় 
ম্নজগতের গভীরে যখন তিনি মাঁনসযাত্রা শুরু করেন (সম্ভবত অষ্টাদশ 
শুকর শেষ বা উনবিংশ শকেব প্রথম দশকে এর সুচনা) তখন এই ভাবে 
প্রাচা ভাবধাবরায় আত হয়ে তাব মনরে জমিটি তৈরী হয়ে গিয়েছে। 
বামমোহনের জীবনদর্শনের এই অগ্াদশ-শতকীয় বুনিয়াদটিকে সর্বদা যনে 
গাখলে তীব চিন্তার বিচাব ও ম্লায়ন আমাদের পক্ষে সহজ ও সম্পূর্ণ হবে। 
&াব জীবনের পরবর্তী অধায়ে বভ সাধনায় অজিত পাশ্চানা বিদ্যা ছিল এই 
মৌল প্রাচা ৪ ভারতীয় চিন্তার পরিপূরক | 

ভিগবীর অধীনে রংপুরে কর্মরত থাকা কালে তিনি আমেরিকার স্বাধীনতা- 
ঘুদ্ধ ৪ ফবাসী বিপ্রবের অন্তনিহিত মানবপ্রগতির আদর্শের প্রতি আকষ্ট হল 
এবং এ দুটি এতিহািক অন্ভাদয়ের পিছনে যে জ্ঞানদীপ্ধ দার্শনিক চিন্তার প্রেরণা 
ছিল তার সঙ্গে পরিচিত হন। বেকণ, লক, নিউটন, হিউম, গিবন, ভোলতেয়ার, 
ভোলশি, টম পেইন প্রমুখ দার্শনিক, বৈজ্ঞানিক, এঁতিহাসিক ও সমাজ- 
তাত্বিকদের রচনা এই পর্বে তার প্রধান পাঠ্য ছিল। ১৮১৪-১৫ খ্রীষ্টাব্দে 
কলিকাতায় বসবাস আরম্ভ করবার পর শ্রীধমের তত্ব ও ইতিহাস হয় তাঁর 
বিশেষ অনুসন্ধানের বন্ধ । সম্ভবত উনবিংশ শতাবীর তৃতীয় দশক থেকে তিনি 


১৫ 


ব্রিটিশ দার্শনিক জেরেমি বেস্থাম ও জেম্স মিল ব্যাখ্যাত হিতবা্দী দর্শন ও 
সমাজতত্ব অধায়ন করতে আরম্ভ করেন । এই দর্শনের মুখ্য প্রবক্তা বেস্থামের 
সঙ্গে তার ব্যক্তিগত অন্তরঙ্গতাও গড়ে উঠেছিল। জীবনের শেষ পর্বে সম্ভবত 
তিনি তৎকালীন পাশ্চাত্য (মুখ্যত ব্রিটিশ) সমাজতন্তরবাদী চিন্তাধারার সঙ্গে 
পরিচিত হবার সুযোগও পেয়েছিলেন এবং এই প্রসঙ্গে ব্রিটিশ সমাজতস্ত্রবাদের 
প্রবন্তা ববার্ট ওয়েনের সঙ্গে তার তর্কবিতর্ক ও ওয়েন-পরিবারের সঙ্গে 
বাক্তিগত যোগাযোগ ও পত্রালাপ ম্মরণীয়। এই সংক্ষিপ্ত হিসাব থেকে দেখ! 
যাচ্ছে তদদন্শিন্তন পাশ্চাত্য জগতের মুক্তিবাদী ও আধ্যাত্মিক ছুই চিন্তাধারারই 
গভীর অনুঞলন বামমোহন করেছিলেন । এক্ষেত্রে ভার জ্ঞানের পরিধি ধম, 
দর্শন, ইতিহাস, সমাজতত, বাষ্রুবিজ্ঞান ইত্যাদি সর্ববিষয়ে বিস্তী+ ছিল। তার 
সংঙার ও দেশগঠনমলক কাধাবলীর প্রতোকটিকে স্বাতন্্রভাবে বিচার না কবে 
সেগুলির মধো যদি একটি মুল স্তর আবিষ্ধাবের চেষ্টা কণা যায় তাহলে দেখ! 
ধাবে, যে আদশকে তিনি জীবন্বাপী সাধনার দ্বারা কপদান ক?তে চেয়েছেন 
তা পাশ্চাতা চিন্তার উক্ত এভিহ্দ্বয় কর্তৃক সুমাজিত তার মৌল ভারত-চেতশারই 
প্রকাশ । 

রামমোহগের সম্মুখে দেশগঠন সংক্রান্ত ছুটি প্রবল সমস্যা ছিল। তীর 
সময়ে ভারতবদের মধাধুগীয় রাষ্ট্ব্যবস্থা সম্পূণ বিধ্বস্ত ; অতীতে শিবদ্ধদৃষটি 
সামস্তচত্র কর্তৃক প্রভাবিত আঞ্চলিক স্বারখের খাত-প্রতিঘাত ভাবতবষীয় রাজ- 
শীতির একমাত্র বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে । এই পরিস্থিতিতে অথও ভারতবাষ্ট্রের 
কল্পণ। পধস্ত লুধধ। অপর পক্ষে ভারতে যে বিদেশ শাসনের স্ত্রপাত হয়েছে 
তা এমন এক সভ্যতার প্রতীক যা আধুনিক কালের নৃতন জ্ঞানবিজ্ঞান ও 
প্রযুক্তিবিষ্ঠায় বলীয়ান । দেশে নবাগত এই সত্যতা সঙ্গে নিয়ে এসেছিল 
জাতীয়তার এক নৃতপ সংজ্ঞা । উক্ত সংজ্ঞান্সারে একজাতিত্ব ও রাস্ত্ীয় 
অথগ্ডত্ব_এই ছুটি প্রতায় অবিচ্ছেগ্যরূপে পরম্পরন্িব। যুগসন্ধিক্ষণে 
হ্বদেশচিস্তায় বামমোহনের সর্বাধিক কৃতিত্ব তিনি আদর্শ নির্বাচনে ভুল করেন 
নি দেশের ভবিষ্তুৎ প্রগতি ও কল্যাণের জন্য সামায়কভাবে ইংরেজ শালনকে 
স্বাগত জানিয়েছিলেন । তান একথা জানতেন, ভারতবাসীকে একজাতিরুপে 
গড়ে তুলতে হলে যে সার্বভৌম বাষ্টগঠনের প্রয়োজন ভারতবর্ষের স্বাথেই তার 
গড়ন পশ্চিমী ছাচের হওয়া আবশ্তক, প্রাচীন বা মধাঘুগের ভারতীয় 


্ৈ 


১৩ 


রাষ্ট্রবাবস্থা সেক্ষেত্রে অচল । ইংরেজ-শাসনের প্রতি এই অনুকূল মনোভাব 
রামমোহন খেকে শুরু করে উনবিংশ শতকীয় নবজাগৃতির প্রায় সমস্ত 
চিন্তানায়কের মধ্যে লক্ষণীয় ৬১ কিন্ত এখানে প্রশ্ন জাগে তদানীস্তন ভারতবর্ষের 
পক্ষে ইংরেজশাসনকে মঙ্গলজনক মনে করলেও বামমোহন কি একে ইতিহাসের 
এক চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত হিসাবে মেনে নেওয়ার পক্ষপাতী ছিলেন? তাঁর 
বিভিন্ন রচনায় এ প্রশ্বের উত্তরের ইঙ্গিত বরয়েছে। ভারতবর্ষের পক্ষে 
ইংরেজশাসনের মঙ্গলকারিত্ব সম্পর্কে তিনি যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিলেন 
তাঁযে শেষ কথা নয় এবং ভতবিষাতে যে এ বিষয়ে পুনবিঠারের প্রয়োজন হতে 
পারে এমন সম্ভাবনার কথা উল্লিখিত হয়েছে তার 90161 [২6008115 
[২6£9101176 1%1006]া) চ21)0102701017)616 01) 0176 4১100161)01২18110 0£ 
[761798165  82000101195 00 015 71170001792 0£ [171)611081)0€ 
(১৮২২) শীর্ষক গ্রন্থে £ "4১6 01556700076 11016 12016 (10 096 
€7০600101 0৫ ৪. ০ 0-0৬115065) 125 0261) 718060 01706] 1311051 
০১০৮ 8170 90105 70৬71808655 198৮০ 8116805% 06217 0611৮60 
10170 0065 01:00610 00217766116 01 105 10103 012 
৮/1)056. 56106218] 0107180667৪ 19075 ০0 10015 00160 8150 
19810175655 15 10050]5 62100610811)6,700106 500086৫1178 26176180012 
৮111 100৮7৮6৬502 10015 70600880600 01018011706 01) 006 1681 
8৫৬81808865 06 0015 6০0৬ 21001061)0 158 ১৮ আগস্ট, ১৮২৮ এক 
ইংরেজ বন্ধুকে লিখিত পত্রে তিনি ইংরেজ-ভারতবাসী সম্পর্কের যে ভবিষ্যৎ 
বূপকল্পনা করেছেন সেখানেও দেখ] যায় পরবর্তী এক শতাব্ীর ব্যবধানে 
ই“রেজশাসনের কবল থেকে ভারতবর্ষের মুক্তিলাভের সম্ভাবনা স্পষ্টত স্বীরুত : 
102০99108 8010 170100150 5৪৪15 176০৩ 00 ০0৮০ ০1591806061 
96০০০) €165206০0 60100. 507)5091)6 21706105000756 আ100) £0:906828 
81১0 006 ৪০016036708 01 £606121 8100 70০01101081 10170516086 ৪৪ 
1] ৪৪ 0৫6 0)00€17 2105 2170 501610068) 15 16 00551016 0090 0065 
11] 1506 189০ 005 80101 25 61] &8 0006 10011178010) 00 15518 
€$০০০৪115 217 31500502100 07001588156 006881119 5851738 ১. 
06£806 (19620 115 006 5০816 0£ 80০০ 2 [65150010170 06 1056 


২ ১৭ 


51017611030 076 70051001706 10017 15 ৮25 016616100০0 0026 
(6 ]16191)0, 06) 2) 00710601101 210 72051150066 17095 
5011161)1৬ ০02৮6৬৮8000 ০4 0০6 1১১ 070 202% 00106 10 আ৪গ 11 
006 1৮0015106 ৫016500101) 21715100660 17) 51706551706 ৮6৮ 
60011 7167 0শোঠ 100 665 [7018 00 5106 006 10201) 
৫1 010 10177160025 210 21061£5 016 0000 0০100, 51) ০০1৫ 
[010৮০ 10017.) 15611617005 51017710075 006010010765 2157 06 250 
[00001401001 6101301056001 0101 077007012 ৭5 ০১ 2115 01005 
131051) 61111011601 11. 0125,)15)6 0711 210777৬1106 45 ২ 906661711.,1705ণ 
11617 1% তলতগ পালামেণ্টের সিলেট, ক্মিটিব নিকট প্রেরিত তার 
সাক্ষোব অন্য ক ভবনবগে হংরেজছেপ স্থায়ী বদবাস-মমসা সংক্রান্ত শ্মারক- 
লিপিতে 9 নি ভবিষাতে ইহ ব্জেশাসনঘুক্ত স্বাধীন ভারতবর্ষে আবিভাবের 
সস্তাবণাতে। কাক করেছিলেন এবং ইতলগ্ ৭ উক্ত স্বাবীন্‌ ভাবতবষের 
পারস্পরিক পাাতপম্পক অক্ষুন্ন থাকবে এমন আশা গকাশ করেছিলেন £ 
৮... ১111 ২1116141521) 10181)]1581৮21707655)015 00000020191 
17061 0001, 1732%1700106000061৬621) ০)062 180 01001501217 
৩০])01৬১ 101৬1 05 0065 1] 0061) 0০ ০9৬ [65601012155 ০0: 
13170010710 7611675),) &15৭ 000719615 » 1৩৬ ভারতবধের ভবিষ্যৎ হ্বাধীনতার 
এই কম“ কামঙ্মাহনেশ ক্ষণিক চিস্তাবিলাম ছিল না। সমগ্র রামমোহন- 
গোদা সত্বত এব দ্বাণ) তাবিত ছিলেন । রামমোহনের মৃতার পর প্রসন্নকুমার 
ঠাকুববে, তাপ সম্পাদিত 'রিফদার? পত্জিকার স্তপ্তে এই বিষয়ে একই মন্তব্য 
করতে দেখা যায় । পঞ্চম পরিশিষ্টে প্রসন্নকুমাবের প্রাসঙ্গিক মতামতের কিছু 
বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এ সব তো গেল ভবিষ্ৎ সম্তাবনাব ইঙ্গিত। 
এ ছাড়াও প।মমোহন সমকালীন ফরাসী পর্যটক ভিকতর ঝাকম ও নিজের 
একাস্ত সচিব স্যাগুফোড আনটকে এই প্রসঙ্গে যা বলেছিলেন তা স্পষ্ট প্রমাণ 
করে, ভাবত যে চিরকাল ইংরেজ শাসনাধীন থাকবে না এ তার স্থির বিশ্বাস 
ছিল। প্রথম জনের সঙ্গে আলোচনাপ্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, “ভারতৰধের 
পক্ষে এখনও আরও বেশ কিছু দিন ইংরেজ অধিকারের প্রয়োজন যাতে সে 
যখন তার বাই্নৈতিক স্বাধীনতা পুনকুদ্ধার করবে তখন তাকে অনেক কিছু 


১৮ 


শ্বভকর বস্ত হারাতে না হয় (1 এট 01100670161) 065 7110655 
15 0.১101070010 510617156 0০০ 0016]15 0001556 06 05৭ 767415 
[১৩111510610 765571515501)6 5010 110051017001706 1901101006) 1 
হাতা ভবিষাতে ইংব্জেশাসনমুক্ত স্বাধীন ভারতবর্ষ ₹". ইঈড়িহাসের অনিবাধ 
“দ্ণন্তি এ বিষয়ে রামমোহনের মনে অন্তত কোনও সন্দেহ বা অনিশ্চয়তা 
ছেল নাঁ। অংনটের সাক্ষা আলও স্পট £ 4176---. 717 5 00010611016] 

60767655551 01 00001001776 81081101৩07 
[০ ৪: হিতে 0 নিচে ৪75 তি 00600000015 09০0.৩ 
(11677561563 -, ০1৩৮ দেখা যাচ্ছে ভারছে ব্রিটিশ বাঁজত্ব কতদিন থাকা 
4য় সে-সম্পর্কেও বামমোহনেব একটি শির্দি্ট ধাবণা ছিল। তিনি 
মগভর করেছিলেন. ইতব্জশীমনের ক্ত্রে পাশ্গতা সভাতাব সংস্পর্শ 
গ্ঘতপক্ষে অর্ধশতান্দী কাল শা পেলে ভারদ্বর্মেৰ পুণকুজ্জীবন সন্থব পয়। 
»একয় স্বাপীনতা- সংগ্রামের পর আসবে তাব পরবে | 'এই কারণে তাব সময়ে 
বর প্রপ্তিতঠঠিত ইঈতব্জশাসনেব উচ্ছেদকল্পে কোনও আন্দোলনের শত্রপাত করা 
রি যুক্তিযুক্ত মনে কবেন শি পরাধীনতার বেদনা অনুভব করা সন্বেও 
(দশে ভবিষ্যৎ কলাণের আশায় বিদেশী শাসণকে মেনে নিয়েছিলেন । 
“লণ্ু থেকে প্রসন্নকুমার ঠাকুরকে লিখিত এক পত্রে তাকে বলতে শোনা যায় : 
১081) 1015110700581012 টি এ. 00101001178 00017 00001661106 
€৮:15 17600110162] 50) 10100 0034 050577451705 01700016180) 
7০ 016, ৬০ ৮1760) 9০ :6600 07 0176 74217702005 %1800%£ 
001৮6 0611৮০67010 000 001010)60061017 ৬10 ০6৪6 7191 এ 


1010৬ 006 15050100116 09 0০ 016556180 50906 (00 11)11785 ড/1)101) 


৩৯ 
] 





[0101565 08100815600 06556 60 0 99506]809' 

কিন্ত এই পাশ্চাতা সংস্পর্শ দ্বারা ভবিষ্যৎ দেশগঠন তরান্থিত হবে কি ভাবে 
এ কোন পথে? এই প্রশ্নের উত্তর খুজতে হলে সর্বপ্রথম “আধুশিক' বিশেষণটির 
|সজ্ঞ নির্ধারণ করতে হয়। 'মধাযুগ' থেকে “আধুনিক” যুগে উত্তরণের খুলে যে 
সামার্জিক প্রক্রিয়াটি কাধকরী হয়েছে সে-লম্পর্কে রামমোহন ও তার মণ্ডলীর 
মরার প্রয়োজন। পাশ্চাত্য জানবিজানে 
ামমোহনের চিত্ত অন্প্রবিষ্ইট ছিল এবং সমকালীন পাশ্চাত্য সভ্যতার 


১৪ 


ইতিহাসেরও তিনি অঙ্রাগী পাঠক ছিলেন । তার সন্ধানী দৃষ্টিতে এ সতা ধরা 
পড়েছিল যে রেণেশণাসের কাল থেকে ফরাসী বিপ্লব অবধি ইউরোপের 
আধুনিকীকরণ সম্ভব হয়েছে বুর্জোয়াশ্রেণীর অভ্যুত্থান ও সংগঠনের মাধ্যমে 
আনীত অর্থনীতি, সমাজ ও রাষ্টরব্যবস্থার ক্ষেত্রে আমুল পরিবর্তনের ফলে। এই 
রূপান্তর জীর্ণসংস্কার নয়, পরিপূর্ণ বিপ্লব_ মধ্যযুগীয় সামস্ততন্ত্ের স্থলে সম্পূর্ণ 
নৃতন এক শ্রেণীতস্ত্ের অভিষেক । এই সমাজবিপ্লবের পরিপ্রেক্ষিতেই আধুনিক 
জ্ঞান-বিজ্ঞান  প্রনুক্তিবিগ্ভাব এতিহাসিক গুরুত্ব। অষ্টাদশ শতাবীর শিল্প- 
বিপ্লব বুর্জোয়াশ্রেণীর এই এঁতিহাসিক অগ্রগতিকে অত্যন্পকালের মধ্যে প্রায় 
অবিশ্বাশ্তরূপে তরান্বিত করেছিল। এর ফলে প্রায় অকল্পপীয় উৎপার্দন-শক্তির 
সষষ্টি হল এবং ইতিহাসে নবোখিত এই শ্রেণীর উৎপাদন-ব/বস্থার উপর 
সর্বতোমুখী ও সামগ্রিক কর্তৃত্ব স্থাপিত হল। ইউরোপের অর্থ নৈতিক ও 
সামাজিক বাবস্থার এই মৌল রূপান্তর থেকেই জন্ম নেয় নবধুগের নৃতন জীবন- 
দর্শন যা মধাযুগীয় সমস্ত অন্ধসংস্কার ক্রমশ অস্বীকার ও বর্জন করেছে ও 
মানুষের বাক্তিম্বরূপকে পূর্ণ মধাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছে । ফরাসী বিপ্লবের 
মাধামে নবধুগের রাজনৈতিক মুক্তির আদর্শ স্প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। প্রতিক্রিয়া- 
শল প্রাচীন বাবস্থার সংরক্ষণে দৃঢপ্রতিজ্ঞ রাষ্শক্কিসমূহের বিরদ্ধে জাতীয়তাবাদ 
ও গণতন্ত্রের যুগ্ম আদশে উ্,দ্ধ বুর্জোয়াশ্রেণীর নিরবচ্ছিন্ন স্বাধীনতা- 
সংগ্রাম উনবিংশ শতাবীর ইউরোপীয় ইতিহাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য । 
ধর্জোয়াশ্রেণীর এই এতিহাসিক ভূমিকা সম্পর্কে মাকৃন ও এঙ্গেল্সের 
কিছু সুপরিচিত উক্তি আমরা এই প্রসঙ্গে ম্মণ করতে পারি; “পু১০ 
10০908601516, 1)155011081]5, 1085 [19960 ৪ 1000950 1:6৬01000- 
৪79 080 1106 000186091516 ড1)212৬€7 11388 £০9০ 0196 0967- 
138130, 185 046 ৪0 500 00 ৪11 66008], 08018101081, 1051110 16. 
18010105.*-77 10108506610) 0196 250 00 9100 আ 51108000815 ৪০0৬10 
০৪1) 0017)8 ৪৮০০. [01395 80002301181760 7070615 £87 ৪0108591176 
18510191) 09518001055 0২010081 ৪071601505 8150 00040 ০8010807815; 
££ 1983 501300০060 5স80)019175 01380 60০ 119 0056 815806 ৪1] 69006 
€3:00)569 0£ 7১81:10193 2150 010058065. ৭196 ০০031801515 ০৪75180 


85190 আ103000 ০0150813015 155 0100101715808 006 13800120670 0£ 


নত 


0:000000101) 8150 01)6:65 006 7618001)9 0£ 10700800102 8150 103 
00600 006 10016 16181010178 06 ৪০০1৪ -**-, 4১1] 2560. 05506002561 
161861005 10) 00617 হে 06215016170 2170 668016 0:6]0- 
01565 ৪150 01311710195 215 56৮ ৪৮2, ৪1] 106৮ 1010060 01865 
০9০০০70 ৪1061008050 0660916006৮ ০81) 0955169.----*. 176 ০০07 
8601516 0011176 105 1016 06 5০821020108 100180760 5৪15, 1395 
01686000016. 1799516 21701790165 ০0109558] [9:06 01085 
6091 1356 ৪1] [07205601176 £217618010195 60£601)61. 901016০0101 
০0% 08006560105 60 1081, 228.01)11)615 2901158001) 0৫ ০0০- 
[0190 01000505217 88110010016, 5062110-1709 5189 002, 1911 
০৪, 212061৩ €616:8015, ০1681011075 06 10015 ০0196116105 0: 
০৪10৮821001, ০2081158001) 0৫6 11525, 1)015 00241800183 ০018- 
10750 006 01 006 £001)0--ড01)86 8211161 56106051380 2৮13 &. 
[16961700810 0086 5001) 01000800152 £01055 81017006160 11) 006 
180 ০৮ 50০18] 18001” ?০ অবশ্ঠ এটা জান] কথা, মার্কস ও একঙ্গেল্স 
বুর্জোয়াশ্রেণীর প্রশংসা করে একথা লেখেন নি- বুর্জোয়া শোষণের স্বরূপ 
উদ্ঘাটিত করে সর্বহারা শ্রমিকশ্রেণীকে পুঁজিবাদী বুর্জোয়া মালিকপ্রেণীর বিরদ্ধে 
সংঘবদ্ধ হতে ভাক দেওয়াই ছিল তাদের উদ্দেশ্য । কিন্তু অকল্পিতপূর্ব সামাজিক 
শক্তিরূপে এই বুর্জোয়াশ্রেণীর অভ্ভারথানই যে মধাযুগের অবসান ঘটিয়ে আধুনিক 
যুগ ও আধুনিকতার স্ষ্টি সম্ভব করেছে সভ্যতার এঁতিহাসিক বিশ্লেষণ প্রসঙ্গে 
তাঁদের এ স্বীরুতিও ছিল দ্বিধাহীন ও মুক্তকঠ। আশ্চর্ষের বিষয়, মার্কস ও 
এঙ্ষেল্স যার প্রবক্তা সেই বিশিষ্ট সমাজদর্শনের সঙ্ষে কোনও পরিচয় বা 
মতসাদৃশ্ঠ না থাকলেও রামমোহন ও তার ক্ষুদ্র মণ্ডলী তাদের পূর্বেই এই 
বিশ্লেষণাত্মক সামাজিক দৃষ্টি স্পষ্টত আয়ত্ত করেছিলেন এবং এর সাহায্ো 
বাঙলাদেশের পাশ্চাতা সংঘাতজনিত সমকালীন সামাজিক ও অর্থ নোতক 
পরিস্থিতির বিচার করতে অগ্রসর হয়েছিলেন । প্রসন্নকুমার ঠাকুর, ছারকানাথ 
ঠাকুর, রাজরুঞ্ণ সিংহ প্রভৃতির সহযোগিতায় রামমোহন ১৮২৯ স্রীষ্টাবে 867891 
[75181 নামক যে চতুর্ভাষী ( ইংরেজি-বাঙলা-হিন্দস্থানী-ফার্সা ) সাপ্তাহিক 
পত্র প্রকাশ করেন তার ১৩ জুন ১৮২৯ সংখ্যার সম্পাদকীয় নিবন্ধে লেখা হয়েছে : 


২১ 


“শ্)2৩ ০771 66 11006 07096 086 006 100158550 আ6৪100 17 
07100152150. 070081)000 3607591, 1575 09617) 18010. 100 006 
[79 6৬ ৮৪25, 200 ৪. 212 090018115 150 60 21000176006 
1875017) 1121:606. 700 ৬০106 01187007085 06 858181120 25 076 
[01০ 1011716011706, 0170 006 1555617 16901001091. 010. ০01020106০6 
2101] (05766 11700050001 01 81101028105, 05 [1162 70111778715 0210156 
0৫ 0715 9০176970181 01001706...0% 1098105 04 0015 66100100119] ৮৪106) 
2. 1155 (0 5/১0160 1375 51017 11900 6%15021106) 0086 ড/8:5 0০6075 
010]000ড/1) ; 00656 772 [091409ণ] 960৮ 261) 006 80150001705 9180 
0০ 0001, 0190 875 07115 600011)58100956 10006170198] ০1855. 
10765৬10005 [0 00611 10177101017, 006 ০৪10) 01002 ০0190 ৪৪ 
11) [116 1):11015 00 716 £1001111101015, 10116 011 0010605 216 
16196181100 0918 00610, 210 01) 09] ৮1 006 0001916 আছ: 11) ৪ 
৪1৩ 0 9101506 70০9৮ 09৫ [01190 81) ০০৫১, ড71)101) জা1]] 
[6101)1105 £)7 2 10506] 12950100010 005 0017৬801175 1000791] 
0919486৩091 01121711790905 0)71) 006 1006 97920109095 07989 0: 
01117810601 1:61161010 ..,,., [615 006 ৫71) 0৫ 21067 21৪. ৬/1)617- 
৪৬০] 9101) 218 01061 01 1061) 1756 0661) 516206ণ, 06560071989 
[)110/50 113) 15 00011). [0০0 2 10660. 21) 5391001016 ?-_10901 ৪ 
£৮06171)0 7006 006 00818 091000650 121) 01)6 7060016 জ/216 
58115 81).1 01) 11734-19011215 11560 95 22510110815 0£ 01715 ০0010০ 
014 50022 8875 269; 00৮ ০) 0061 07:0£0655 0১ 10 61১০ 
€181)0) 17625, আ1)51) ৪10 0০০8006 0007:6 €008115 0167560 
৪180 ০:)01306 0106 ৮16৬ 010] 006 5010 01 8. 00001)61 06511)101060 
৪04 4০717109060 ৪. 01019101) 2130 107906 11)6 [27000110 ০৫ 
21819100680 2150. 20001:50 5 0)6 ০11৭. 0০0 আ৪ 10690 
৪0 11030017050 0106 10150100106 01 10510 01019 (০ 1210]59 11 
৪ ০০150519910 26 308179, 1216 ৪৬6 1082) 0786 0810 8010 


10 11553 ড/101016 6106 1021091 01 9০৫1১ 199০, 2190 ০181705 


২২ 


00০ 18000 0 27 229180. 16 ৪ £০ 00006 --1001 ৪ 
081591925 001210, 19615 002 099581)05 275 5010 100 006 501]. 
৬৬101) 00211002125 5%:2000163 0: 00151526016 0660165 05, 1017085 1800 
06 066090 0769810100010903 60 35610 00৪6 006 1001001170 01953 
01 1101)9101657065 01 361068], 2:7970. 006 05950 ০1066111705 10015700173 
০ 21) 0056 3156 ৪ 002 00556156 080170.৮ 1৪১ এতিহাসিক জ্ঞানে 
সমৃদ্ধ এই উক্তির কিঞ্িৎ বিস্তারিত আলোচনা আমাদের করতে হবে পরবর্তী 
ষষ্ঠ অধায়ে। বর্তমানে এইটুকু মনে রাখাই যথেষ্ট, এই মধাবিত্ত শ্রেণী- 
চেতনার পরিচয় রামমোহন প্রাতষ্ঠিত বাঙলা সাপ্তাহিক পত্রিকা “সংবাদ- 
কৌমুদী'র পৃষ্ঠাতেও অলভা নয়। “সংবাদ-কৌমুদী'র কোনও সংখা এখন 
পর্স্ত আবিষ্কৃত না হলেও এর প্রথম নয় সংখার বিষয়স্থচী ইংরেজি অনুবাদে 
সমসাময়িক 0910809 ]0001581-এর ৩১ জানুয়ারী ১৮২২ সংখায় প্রকাশিত 
হয়েছিল। তার মধ্যে তৃতীয় সংখায় প্রকাশিত একটি সম্পাদকীয় রচনার 
বিষয় £ “41500)51 9190681] [0 0106 30৮61080061) 60 09102 11000 
70610 06132৮0151)0 50175106171010,) 6115 56110115  [9015761017 
00061 10101) 0106. [010016 01755 0৫ 15 180৮6. 31101605 17101 
নিট 0102 ৮781) 06 010796] 1%1501081] 2০106 8170. 0162. 00061). 18২ 
সমাজের এই নৃতন শ্রেণীর বিস্তাস ও বূপাস্তর সম্পর্কে চেতন! ও মধাবিত্ত 
শ্রেণীর এতিহাসিক ভূমিক! সম্পর্কে স্থম্পষ্ট ধারণা প্রমাণ করছে, রামম্যেহনের 
মতে মধাবিত্ত শ্রেণীই হবে ভবিষ্যৎ ভারতীয় রাষ্ট্র ও সমাজের মেরুদণ্ড । 
সমসাময়িক জগতে পাশ্চাত্য বাষ্্রগুলির স্থসংগঠিত মধাবিত্ত শ্রেণী প্রভাবিত 
বিপ্লব আন্দোলনগুলির দুটি মৌলিক আদর্শ ছিল জাতীয়তাবাদ ও গণতন্তর। 
রামমোহন যে এই বিপ্লবাদর্শের প্রতি একান্ত সহানুভূতিশীল ছিলেন একথা 
স্থবিদিত।** সুতরাং সহজেই মেনে নেওয়া যেতে পারে, তিনি বিশ্বাস 
করতেন পাশ্চাতা শিক্ষায় শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর নেতৃত্বে ভারত একজাতিবূপে 
সংগঠিত হবে এবং এদেশের ভবিস্তৎ সংবিধানের ভিত্তি হবে গণতত্ত্ব। এই 
গণতান্ত্রিক দেশ শেষপর্যস্ত অবশ্যই হবে স্বাধীন। স্বাধীন ভবিষ্যৎ ভারতের অস্তিত 
যে তার কল্পনায় ছিল তা পূর্বেই দেখা গেছে। ভবিষ্যৎ ভারতের গঠনতন্ত্র 
সম্পর্কে ভার চিন্তার আরও কিছু পরিচয় আমরা পেতে পাবি তার 


২৩ 


জীবনের শেষ পর্বের ঘটনাবলী বিশ্লেষণ করলে । গত শতাব্দীর কুড়ির দশকে 
কলিকাতায় ঘন তিনি স্তুপ্রতিষ্টিত তখন তিনি সম্ভবত কতকটা ইংজত্তীয় 
সংবিধানের ভক্ত । “মিরাঁৎ-উল্-আখবার” নামক যে ফার্সা সাপ্তাহিক পত্র 
তিনি প্রকাশ করেন (১৮২২) তার দ্বিতীয় সংখ্যায় বিতিন্ন শাসনতন্ত্র 
একটা তুলনামূলক বিচার আছে। সেখানে তিনি স্বৈররাঁজতন্ত্র (82030106 
010138109 ), অভিজাততন্ত্র (0115:007705 ) ও প্রতাক্ষ গণতন্ত্র ( প্রাচীন 
গ্রীক গণতন্ত্রের অন্থরূপ বাবস্থা ফেক্ষেত্রে প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক স্বাধীন নাগরিক 
বাট পরিচালন বাঁপারে অংশগ্রহণ করবার অধিকারী )_এই তিন পদ্ধতির 
শাসনকেই ( ভারতের পক্ষে ) অনুপযুক্ত গণা করে বাতিল করেছেন । মনে 
বাখতে হবে শেষোক্ত বাবস্থায় গণতান্ত্রিক আদর্শ পূর্ণ ভাবে বূপায়িত হলেও 
ইতিহাসে তাঁর সার্থক প্রয়োগস্থল প্রাচীন গ্রীসের ক্ষুদ্রায়তন নগবপাষ্ট্রগুলির 
বাইরে বিশেষ কোথাঁও দেখা যায় না। ভারতের মত নান1 গোষ্ঠী-জাতি-ধর্ম- 
ভাষা অধাষিত বিশাল দেশে তার কল্পনাও অসম্ভব। সে যুগে রামমোহনের 
গণতন্ত্রচিত্তায় এই সতর্কতা ও অত্ত্দূ্টি সত্যই বিষ্ময়কর । কিন্তু তখন পর্যস্ত 
ইংলগ্ডের সাংবিধানিক বাঁঞ্ততন্ত্রের উপরই তাঁর আস্থা । এ বাবস্থা গণতান্ত্রিক-_ 
কিন্তু সর্বসাধারণের পরিবর্তে শাসনকাধের ভার নির্বাচিত জন্প্রতিনিধিগণের 
উপর ন্যস্ত; রাজ! সেখানে নামে সর্বোচ্চ শাসনকর্তা হলেও জনসাধারণের 
( অর্থাৎ জনপ্রতিনিধিগণের ) ইচ্ছায় চলতে বাধ্য ( 0১6 63:6০00৮6 00৬21: 
৪1,00210 106 00100710660 00 ৪. 510615 17901৬19081) 017 50750161017 
0৪ 176 00 1706 11700110766 01)2 1355 25081011960. 05 032 180101 : 
ড/1101) 123 06610 €%0061161)065] 00 02 002 10550 0£ 211 10117)5 
০0 £9৬100171)0 7 51706 17. 0015 ০856 00৩ 51016563108 ১6 
209৬6: 01 /2001)1116 006 01002601089 ০0৫ 006 6%600616 
8০৮60000200 7 10101) 15 00850011850 0০ ০০৮ 006 8০০৭ 11] 
0105 90155 )15৪ কিস্তু জীবনের শেষপর্বে ইংলগ্ডে অবস্থানকালে ক্রমশ: 
দেখা যাচ্ছে ইংলগীয় সংবিধানের এই শূহ্বগর্ভ রাজতন্ত্রে তাঁর বিশ্বাস যেন 
অস্তহিত হয়েছে । ইংলগ্ডে রামমোহনের অস্তরঙ্গমহলের একাংশের তার 
মৃত্যুর কিছুকাল পূর্ব হতেই বিশ্বাস জন্মেছিল যে তিনি রাঁজনীতিতে 
সাধারণতন্ত্ বা 163115810190এ বিশ্বাসী হয়ে পড়েছেন। জেম্স 


৪ 


সাদার্লাণ্ড বা স্তাগুফোর্ড আর্টের মত ধাধা তাকে ঘনিষ্ঠ ভাবে 
জানতেন তাদের উক্তিতে এর সুম্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়।*ং রাজভক্তি 
ইংরেজচবিত্রের ( অন্তত: উনবিংশ শতকীয় ইংরেজচরিজ্রের ) অন্যতম বৈশিষ্ট্য ) 
সাদদার্লাণ্ড ও আন্নট এক্ষেত্রে বাতিক্রম ছিলেন না। রামমোহনের সাধারণতন্ত্র- 
প্রীতি এদের কাছে সম্ভবত কিছুটা অস্বস্তি ও অস্বাচ্ছন্দোর কারণ হয়ে 
উঠেছিল; ব্যাপারটির উল্লেখ করেই তাই তারা সযত্বে প্রসঙ্গটিকে এড়িয়ে 
গেছেন। সাদার্লাণ্ড তো একটু সাফাই গাওয়ার ভঙ্গীতে একথাও বলে 
ফেলেছেন__সাধারণতন্ত্রের প্রতি বামমোহনের অন্থরাগ থাকলেও তিনি 
ইংলগ্ডের পক্ষে একে প্রয়োজনীয় মনে করতেন না) তাঁর মতে রামমোহন 
480101160 16100110917150) 11 056 20500806 150 07০58100 00861 
4১106110810 01150 আ 61], 1৪৯ কিন্তু তার্দের উক্তি থেকে একথাও 
পরিষ্কার বোঝা যায়, ত্দানীস্তন ইংলগ্ডের ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের 
ঘৃ ধারণ ছিল রামমোহন রাজনীতিতে সাধারণতন্ত্রে বিশ্বাসী। এর কিছু 
প্রমাণও বর্তমান লেখকের হস্তগত হয়েছে। ইংলগ্ডে পৌছে রামমোহন প্রথম 
পদার্পণ করেন লিভারপুল লহবে। এখানে রেভাঃ উইলিয়ম স্বোর্সবীর সঙ্গে 
তাঁর যথেষ্ট ঘনিষ্ঠতা হয়েছিল। উত্তরকালে তীর স্বতিকথায় স্কোর্সবী স্পষ্ট 
উল্লেখ করেছেন, রামমোহন ইংলগডে প্রকাশ্ত আলোচনায় বাজনীতিপ্রসঙ্গে 
খুব সাবধানে কথাবার্তা বলতেন, কেন না তিনি জানতেন, তাঁর সাধারণতান্ত্রিক 
মতবাদ ইংরেজদের কাছে প্রীতিপ্রদ হবে না ( 4১৪16, [ 57006156170, 68 
1015 16000110817 56000061905 আ০০]এ 1806 91070 ৮615 £6176:5] 
8০020081)06,--16 5002 ০8110100915 11) 10150 30০16) 012 
ঢ০0116108] 90150. )1৭ ই্ডিয়া অফিস গ্রন্থাগারে রক্ষিত রামমোহন 
সংক্রান্ত একটি অপ্রকাশিত সমসাময়িক বিবরণ এ বিষয়ে কিছু অতিরিক্ত তথ্য 
সরবরাহ করে। ১৯ মার্চ ১৮৩২ রামমোহনের এক ইংরেজ বন্ধু ( ছঃখের 
বিষয় তিনি নিজ নাম উল্লেখ করেন নি) তার সঙ্গে নান! বিষয়ে দীর্ঘ আলাপের 
পর উক্ত সাক্ষাৎকারের বিবরণটি লিপিবদ্ধ করেন। দেখ! যায় আলোচনায় 
রাজনীতি, ধর্ম, সংগীত প্রভৃতি নান! প্রসঙ্গ উঠেছিল। সাধারণতন্ত্রবা ৫- 
00175810150) সম্পর্কেও তার! আলাপ করেছিলেন। বিবরণকাঁর এই সুত্রে 
রামমোহন সম্পর্কে বলছেন £ “৬1618 106 19680 1017815 (0৬ €10- 


৫ 


76170 10751860 106 30111602170. 5710, 176 ৫10 150 1070 1080 0০ 
88 0 07031550010 1700 55100700156 100 006 .051151) ]18 
05617 02107110 টা 16708000676 আ০5. 10660 006 101517650 
8010170116 8£81056 70 ;--7৮ 18৮ গণতান্ত্রিক দেশ হওয়া সত্বেও রাজা 
ব। রাজতন্কের পপ্রাত ইংবেজ জাতীয় চবিত্রে যে দুর্বলতা আছে সেটুকু তার 
দৃষ্টি এডায়নি-__কগোপকথনপ্রলঙ্গে অণতিপবে তিনি তা নিয়ে সঙ্গীর সঙ্গে 
সরিদ্ধ কৌতুক কাবেতেন (477 00515 15 2 1681 87602.01010 6170 00 
[২০৬৪] 11) 0515 06010৮১1)6 0017010060) “71061 1 9750 ০8006 
2100 5৮৮ 0106 00 ২০017557072 1 100 015059 ০0% 0051655 
& 71101015617)61715 27,1 250800113151061705 07 ৮7010015  101005 ] 
00001110070 00610106107150 10৮6 1070 50101251715 11) 07611: 
90011017607 ৬7৭ 17 50106 ভাযেত 001:50108]]$ ০0101920020 7100 
00610.” )। ততবাৎ একথা নিরাপদে মেনে নেওয়া চলে শেষজীবনে 
রামমোহন রাজতঙ্ত্রের মোহমুক্ত হয়েছিলেন এবং প্রতিনিধিমূলক গণতন্ত্রের 
সঙ্গে সাধাবণতম্ব্ের যোগকেই আদর্শ বাষ্বাবস্থা ভাবতে স্তর করেছিলেন। 
সম্ভবতঃ ফ্রাম্দ ৪ আমেরিকার দৃ্রাস্ত এবিষয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গী পরিবর্তনের কারণ 
কেননা এই ঢুই দেশের সঙ্গে তার নিবিড় আত্মিক যোগ ছিল। আমেরিকার 
স্বাধীনতা-সংগ্রাম ও ফরাসী-বিপ্লবের আদর্শ তাকে যৌবনকাল থেকেই গভীর 
ভাবে আকধণ করেছে। অল্প সময়ের জন্য হলেও ফ্রান্স পরিদর্শন করবার 
অবসর তিনি পেয়েছিলেন যদিও তাব আমেরিকা দর্শনের স্বপ্ন সফল হয়নি | 
অবশ্য আমেরিকাস্থ কোন কোনও বন্ধুকে লিখিত পত্রে তিনি আমেরিকার 
তৎকালীন শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে ম্পষ্টত শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন। স্থৃতরাং 
ভারতবর্ষের ভবিষাৎ সম্পর্কে ভার পূর্ণ পরিণত ধ্যানটি যদি তিনি সবিস্তারে 
প্রকাশ করে যাবার স্থযোগ পেতেন তাহলে আমরা সেখানে ভারতকে 
জন্প্রতিনিধিযলক সাধারণতম্ব (061070০1800 500011০) রূপে কল্পিত 
দেখতে পেতাম এ অঙ্থুমান ন্যায়সঙ্গত ভাবেই করা চলে। দুঃখের বিষয় 
অকালম্ৃতা তাকে এই অবসর দেয়নি । 

রামমোহনের ভারতচিস্তার আর এক বৈশিষ্টা, তিনি এই বিশাল ও বিচিত্র 
দেশকে কেবলমাত্র হন্দু জাতির, বাসতৃমি ও হিন্দসংস্কৃতির বিকাশভূমি রূপে 


১৬০ 


কল্পনা করেন নি। অথচ হিন্দুধর্মের ব্যাখাতা ও হিন্দুসমাজের সংস্কীরপ্রয়াসী 
হিসাবে এরূপ একদেশদপ্রিতা তার মনকে আচ্ছন্ন করলে সে যুগের পরিপ্রেক্ষিতে 
'তা নিতান্ত অস্বাভাবিক ও অপ্রত্যাশিত হত না। তার রচনার মধো বার বার 
তার এই ধারণা অতি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত দেখা যায় যে ভারতবধধ হিন্দু- 
মুসলমানের যৌথ বাসভূমি। এদেশে আঁট শতাব্ীবযাপী মুসলিম শাসনকালে 
মুসলমান সভ্যতার ঘে দৃঢ বুনিয়াদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাকে অন্বীকাঁর করলে 
ইতিহাসকেই অস্বীকার করা হয়। ধর্মবিতর্কে রামমোহন যেখানে খ্রীষ্টীয় 
মিশনারীদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন সেখানে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হিন্দু-মুসলমান 
উভয় ধর্ম ও সম্প্রদায়ের স্বপক্ষে তার ক উচ্চারিত । ব্রাহ্মণ সেবধি'র (১৮২১) 
ভূমিকাতে তার এই মনোভাবের স্পষ্ট প্রকাশ লক্ষ্য করা যায় ; “..*ইদানীস্তন 
বিশ বমর হইল কতক বাক্তি ইংবেজ যাহার! মিসনরি নামে বিখ্যাত হিন্দু ও 
মৌছলমানকে তাহাদের ধর্ম হইতে প্রচাত করিয়া খিষ্টান করিবার যত্ব নানা- 
প্রকারে করিতেছেন। প্রথম প্রকার এই যে নানাবিধ ক্ষুদ্র ও বৃহৎ পুস্তক 
সকল রচনা ও ছাপা করিয়া! যথেষ্ট প্রদান করেন যাহা হিন্দুর ও মোছলমানের 
ধর্মের নিন্দা ও হিন্মুর দেবতার ও খষির জুগুপ্না ও কুৎ্সাঁতে পূর্ণ হয় (0) দ্বিতীয় 
প্রকার এই যে লোকের দ্বাবের নিকট অথবা রাজপথে দাড়াইয়া আপনার ধর্মের 
ওঁৎকধ্য ও অন্যের ধর্মের অপরুষ্টতাস্চচক উপদেশ করেন () তৃতীয় প্রকার এই 
যে কোনো নীচলোক ধনাশায় কিন্বা অন্য কোনে! কারণে খি ষ্টান হয় তাহাঁদিগো 
কর্ম দেন ও প্রতিপালন করেন যাহাতে তাহা দেখিয়া অন্যের ৎসকা জন্মে ।” 
এর পর রামমোহন তার যুক্তিকে আরও সম্প্রসারিত করে বলছেন-_ বঙ্গদেশে 
রাজশক্তি ইংরেজ এবং সেই সুবিধা নিয়েই মিশনাবীরা হিন্দ-মুসলমান প্রজার 
ধর্মের এমন নিন্দা ও উৎপীড়ন করতে সাহসী হচ্ছেন। তুকণ, পারস্য প্রভৃতি 
ক্বাধীন মুসলমানরাষ্ট্রে তাঁদের এমন আচরণ করবার স্পর্ধা হবে নাঃ কিন্ধ"" 
মিসন্রি বা ইংরেজের অনধিকাঁরের রাজ যেমন তুরকি ও পারসিয়া প্রতৃতি 
দেশে যাহ! ইংলগ্ডের নিকট হয় এরূপ ধম উপদেশ ও পুস্তক প্রদান যদি করেন 
তবে ধর্শার্থে নির্ভয় ও আপন আচার্ধের যথার্থ অন্গামীরূপে প্রসিদ্ধ হইতে 
পারেন (1) কিন্তু বাঙ্গালা দেশে যেখানে ইংরেজের সম্পূর্ণ অধিকার ও ইংরেজের 
নাম মাত্রে লোক ভীত হয় তথায় এরূপ দূর্বল ও দীন ও ভয়ার্ত প্রজার উপর ও 
তাহাদের ধর্মের উপর দৌরাত্ম্য করা ফি ধর্মত কি লোকত প্রশংসনীয় হয় 


৭ 


না... 1৮১৯ অন্যত্র তীর 0. 4১206810036 0005050001০ গ্রস্থেও 
দেখা! যায়, গরীয় প্রাতপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় তিনি হিন্দু মুসলমান উভয় ধর্ম ও 
সম্প্রদায়ের কথা মনে রেখেই যুক্তিপ্রয়োগ করেছেন £ “17117010502 
182. 60000 0৫6 91110) 176211]5 07166 9603 04 006 11191010210 
৪76. 171770005 8100 €5/0-9600)5 1৬001521008175--7-1- /61£1011)5 00656 
0100105817085, 8110. 217য005 20010510136 63.061167)05 ০৫ 
[611810005 ০01700052155 10778015655, 00 ৪০10 01006] 
01505686101) 10) 05600, 006 05010191167 56150০62. 00936 512081069 
0৫ 169015, 006 01967161006 (০ ৬1010) 1)6 06115৬00908 [990০0119115 
[20071060062 (01010150191) 210. 5001) 95 ০010 05 10 168185 6৪20, 
11) 000011)6, 00 €%0106 01)6 11611510905 1)01701 0: 1$[001)9.017)8 0815 
01 006 8০095 0 [711009095. ৬/1)30 0610990 01 06806 ০0৫ 0011)0 
০71) ০ 102500 0001) 2 1৮015211721) 100 15 21) 2100116 50181861 
00 06 010115091 0110 05 0010110111710701176 00 101] 10000 
[01608120015 11500506101 ৪1] 0.6 7090001197 00£0095 0৫ (0115- 
ঢ0810105... ?”+* ভারতবর্ষের সামাজিক ও অর্থ নৈতিক পরিবেশ আলোচনা" 
প্রসঙ্গেও দেখা যায় রামমোহনের এই দৃষ্টিভঙ্গী অব্যাহত । তিনি সর্বদা ম্মরণে 
রেখেছেন এ দেশ হিন্দু-মুসলমানের মিলিত নিবাস এবং এই ছুটি উপাদানকে 
হ্ুনিপুণ ভাবে মেলাতে পারলেই ভারতীয় জাতিগঠন সম্পূর্ণ হতে পারে। 
পার্লামেপ্টের সিলেক্ট কমিটির সম্মুখে প্রদত্ত তার সাক্ষ্যে এ বিশ্বাস উজ্জলরূপে 
প্রকাশ পেয়েছে ঘে দেশের ভবিষ্যৎ মঙ্গল নির্ভর করবে হিন্দু ও মুসলমান 
সম্প্রদ্দায়দ্বয়ের সহযোগিতার উপর যে হেতু এদের বিশিষ্ট গুণগুলি অনেকাংশে 
পরস্পরের পরিপূরক 20106 74101771010 708105 216210016 20012 2120 
০808016 01 25%:21000. 01081) 00617710005, 006 006 1866 ৪162 8150 
£61)6718115 09616106০0৫ 18০0 2100 011162170 117) 03617 2007109- 
[061)05.”1৭১ সরকারী কাজে লোক-নিয়োগ সংক্রান্ত প্রশ্নে দেখা যায় হিন্দু 
ব্রাহ্মণ সম্তান রামমোহনের মন আশ্চর্যরকম সংস্কারমুক্ত | “4১16 01)2 10806 
19 ৮-855685075 £6176181]% 00007966180?” সিলেক্ট কমিটির এই প্রঙ্থের 
উত্তরে রামমোহন বলছেন ; “5৮ 2162 £61)618119 3০: ৪0115 ০ 


গে 


0০ 7000: (1৬089117781) 18-8.55555018) 816 2067) 04 8001) 10181 
00200 210. 11)066110, 008 006৮ 1085 06 €10:0১55৫ অ100 006 
006 0 ৪ 10 আঃট0॥ 0665০ ৪৪5৮9 1৫২ আর একটি প্রশ্ত্ের 
(91091015096 06 1015 06 56160060 £010 0615015 0 ৪11 16116101045 
5605 200 1%1510175 ?) উত্তরে বাযমোহন বলেন, *91002 00০ 
০1110011021 19 1785 10101061700 0661 2 010011819662620 9৩ 0156 1101)9100- 
[70208709) €0 00170111805 10015 01753) 1116 859653015 51)01010 5011 06 
52160060700) 20)0176 002]0, 0061] 006 00161 519556$ 1702 198৬ 
82000111650 0102 9217)6  0009115080191)5 2190 006 7400179170107808173 
17085 0600106 12001)01180 0০ ০০-0761866 108 01)610-১ 1৩ মোটকথা 
দেশে তৎকাল প্রচলিত ফৌজদারী আইনে যে সন্তরান্ত ও শিক্ষিত মুসলমাঁনরাই 
তুলনায় অধিক পারদর্শা এ কথা রামমোহন তাঁর সাক্ষ্যে বেশ জোর দিয়েই 
একাধিক স্থলে বলেছেন ।*৪ ১৮২৬ গ্রীষ্টাকবে জুবী আইনের বিরুদ্ধে 
রামমোহনের উদ্যোগে ছু'শ-একুশটি স্বাক্ষর-সংযুক্ত যে আবেদনপত্র প্রেরিত 
হয় তাও হিন্দু-মুসলমানের মিলিত প্রতিবাদ। স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে একশ 
ছাব্বিশ জন ছিলেন হিন্দু ও পঁচানব্বই জন মুসলমান” সুতরাং হিন্দু 
মুসলমান উভয় সম্প্রদীয়ের সহযোগিতা ও মৈত্রীর পথই যে ভারতীয় 
জাতিসংগঠন্রে উপযুক্ত পথ রামমোহনের চিন্তায় এ সত্য ধর পড়েছিল। জাতি 
হিসাবে ভারতবাসী হিন্দু-মুসলমানের ঘোগ্যতার প্ররশ্নেও দেখা যায় তাঁর কোনও 
হীনমন্যতা (11766110785 50100168) নেই । সিলেক্ট কমিটির পক্ষ থেকে 
তাকে “৬1080 ০80911115০৫ 1000৬ 20061 4০ 01065 0095259 ? এই 
প্রশ্ন করা হলে তিনি দ্বিধাহীন উত্তর দিয়েছিলেন £ “[1065 11956 0136 
8806 ০2821] 01 17000610610 85 ৪7) 0096] 015111560 
290০16.1** বৃদ্ধত আধুনিক ভারতীয় জাতীয়তার ক্রম-অভিব্যক্কির ইতিহাসে 
রামমোহনের এই সুস্থ সামগ্রিক জাতীয় চেতনা বিশেষভাবে স্মরণীয়, কেনন! 
উত্তরকালে স্বদেশী আন্দোলন, চরমপন্থী আন্দোলন ও বিপ্লবী আন্দোলনের 
কোনও কোনও পর্বে একে সংকীর্ণ ও উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবোধের ভ্বারা খণ্ডিত 
হতে দেখা গিয়েছে। জাতীয় আন্দোলনের এই পায়ে রামমোহন জীবিত 
থাকলে সম্ভবতঃ “ঘরে-বাইরে'র নায়ক নিখিলেশের মতই সাবধানবাণী উচ্চারণ 


৪ 


করতেন ঃ “ভারতবর্ধ যদ্দি সত্যকার জিনিষ হয় তা হলে ওর মধ্যে মুসলমান 
আছে।” 

ভারতননের সভাতা রুধিভিত্তিক । এদেশের জনসাধারণের অধিকাংশ 
গ্রামবাসী ও রুধষিজীবী। এই বর্ণণা সাম্প্রতিক কালের পক্ষেও সতা,_ 
বামমোহশের সমকালীন ভ্ডাবহ সম্পর্কে তো আরও অশেক বেশা যথাযথ । 
জাতির মেরুদণ্ুম্বরপ দেশের বিশাল রুধককুলের মঙ্গল চিন্তা রামমোহনের 
জাতীয়তাবোধ ও উদার মানবিক দৃষ্টিণ ভিত্তিম্ববপ ছিল। বেন্িঙ্কের কাছে 
তদাশীল্তণ ভূমিবাবস্থা সম্পর্কে তিনি থে স্মারকলিপি পেশ করেছিলেন ও 
পাললামেণ্টের মিলের, কমিটিপ সাঁমনে তিনি যে সাক্ষা দিয়েছেন তার মধ্যে 
প্রকাশ পেয়েছে দেশেব দাপিদ্রালাপ্তিত রুষকেব প্রতি তাঁর গভীব সহান্ভূতি। 
ইংরেজ প্রবর্তিত বাযওয়ারি ও. চিথস্বায়ী-উভয়বিধ ভূমিবাবস্থার ফলে 
ভারতীয় কুলুকণ অবস্থা যে উত্তবোত্তব শোচশীয় হয়েছে এ কথা তাব সাক্ষো 
তিনি ছ্বিধাহীণ ভাবেই ঘোঁষণা কবেছিলেন ।"* জমিদারের অর্থলিপ্লা ও 
শোষণ 'এবং বাজকণ্চাপিবুন্দেব উৎ্পীভনের হাত থেকে কষকগণকে রক্ষা 
করবার উদ্দেশ্যে সরকারী কর্তৃপক্ষের কাঁছে তার কয়েকটি স্ুনিিষ্ট স্থপারিশ 
ছিল। এবিময়ে কিছু নৃত্ন তথা বর্তমান লেখকের হস্তগত হয়েছে এবং সেই 
স্তরে দ্বিতীষ্ পরিশিষ্টে কিছু বিস্তাবিত আলোচন1 করা হয়েছে; এখানে তাব 
পুরাবৃত্তি পা করে শুধু এক বলাই যথেষ্ট হবে, তিনি প্রস্তাব করেছিলেন 
কষকগণের উপব কণেধ বোঝা আর না বাড়িয়ে তা চিরদিনের মত নির্দিষ্ট করে 
দিতে হবে 2 *৮0006170আ ১৪০৪1) ৪০০এ 00010 00006 01,65 1750 
101৮ ৬2015 179৬: 8107016 006 18100190105 €0 250 2:0817) 076 
£011 [06851151061 31 18145 00 0009] 9৬1) 58015800101) ৪130 09 
301006551৮6 €%20010105 60 12156 0106 1:21) 01 0) 010581015 00 
076 0070050 09531016 66670, 0016 ৮৪1 1285 [০৪07 02090095601 
96200610106 006: 00701001801 0106 70685810% 15 81080111651 0 
1176610106 813১ 10101)27 10015752 0৫ 16100 018 81) [912661)06 ড্য1)2- 
506৮ 6].......” |৫৮ অর্থাৎ রামমোহনের মতে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কেবলমাত্র 
জমিদারের সঙ্গে নয়-_রায়তের সঙ্গেও হওয়া দরকাঁর। ভারতবর্ষের মত 
কষিপ্রধান দেশে এইভাবে নিঃস্ব গ্রামীণ কৃষিজীবী সমাজের স্বার্থরক্ষার উপায় 


25 


নিদেশ করে রামমোহন তবিস্তৎ জাতিগঠনপন্থার ইঙ্গিত দিয়ে গিয়েছেন। 
নবগঠিত নাগরিক মধ্যবিত্ত শ্রেণী ও গ্রামীণ কৃষকসমাজ সম্পর্কে তার এই 
ধারণার কথা মনে রাখলে বোঝা সহজ হয় কি কারণে তিনি এদেশে 
ইউকো* গণের স্থায়ী বসবাস বা 'কলোনাইজেসন” এর পক্ষপাতী ছিলেন । তার 
বিশ্বাস ছিল-_ইউবোপীয়গণের.উদ্যমশীল চরিত্র ও মূলধনের সংস্পর্শ পরোক্ষভাবে 
এদেশে একটি প্রগতিশল মধাবিত্ত শ্রেণীকে ক্রুত সংগঠিত ও শক্তিশালী 
হতে সাহায্য করবে; এবং ভূমাধিকারীরপে একটি ইউরোপীয় সম্প্রদায় 
ভারতে প্রতিষ্ঠিত হলে তাদের অবলঙ্বিত বিজ্ঞানসমৃদ্ধ উন্নততর কুধিপদ্ধতি 
এদেশের কৃ'বকার্ধে নবযুগ আনয়ন করবে। স্মরণ বাখা উচিত তিনি যোগ্য, 
উন্নতচবিত্র ও সুশিক্ষিত ইউরোপীয় ও নশিষ্পস্তরের অর্ধশিক্ষিত বেপরোয়া 
ইউরোপীয় ভাগ্যান্বেষীর মধ্যকার পাক্য সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। তার 
প্রত্যাশা ছিল ভাবতে যদি ইউরোপীয় বসতি গড়ে ওঠে তা হলে বসবাসকারীবা 
পাধাধ্ণতঃ প্রথম শ্রেণীভুক্ত হবেন ও তারা এদেশকে সম্পূর্ণ নিজের বলে গ্রহণ 
বসবে | এ্বপ্র অবশ্ত সফল হয়ান। কিন্তু সে যুগে এমন স্বপ্ন রামমোহন 
একা দেখেন নি; ডিবোজিও ও তত্প্রভাবিত নবাবঙ্গ গোগীও এই উন্নত শ্রেণীর 
ইউবোগীয়গণের ভাঁরতে বসতিস্থাপন বাঁ কলোনাইজেসন্*”এর স্বপক্ষে মত 
প্রকাশ করেছেন। তা ছাড়া ভারতের সঙ্গে সম্পফিত ইউরোপীয়গণের মধো 
গুণগত বিভাগ-নির্ধারণের অভ্যাসটিও বামমোহনের সময় থেকে দীর্ঘকাল 
পযন্ত ভারতীয় চিস্তানায়কদের মধ্যে টিকে গিয়েছিল। এই প্রসঙ্গে 
রবীন্দ্রনাথ কৃত “বড় ইংরেজ" ও “ছোট ইংবেজ'-এর পার্থক্যও মনে পড়ে। 

এই পথে জাতীয় সংহতির ভিত্তি রচনা সম্ভব হলেও একটি মুল সমস্ত! 
অমীমাংসিত থেকে যায়। ভারতবধের অসংখ্য প্রাকৃতিক ও সংস্কৃতিগত 
বৈচিত্র্য সত্বেও যে হ্বতক্কর্ত ভৌগোলিক-সাংস্কৃতিক দেশচৈতন্য ভারতবাসী 
বহুযু্গ ধরে অন্তরে পোঁষণ করে এসেছে তা আদৌ রাষ্ট্রতিত্তিক নয়। তার 
মূল ব্যক্তিচৈতন্যের অতি গভীরে অবস্থিত। এই বোধটিকে জাগরিত রাখতে না 
পারলে ভারতবর্ষের পক্ষে পশ্চিমী ছাদের জাতীয় রাষ্ট্রেরে আদর্শ তার 
যুগোপযোগিতা সত্বেও গুরতরবূপে অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। নিজ জীবনের 
অভিজ্ঞতা ও সাধনার দ্বারা ভারতীয় প্রর্কতির' এই বৈশিষ্ট্য রামমোহন স্বয়ং 
ভালভাবেই উপলব্ধি করেছিলেন; আর নেই কারণেই তিনি নবমুগের 


৩১ 


দেশোপলব্ধিকে এই পূর্ণতর ও গ্রভীরতর ভিত্তির উপর স্থাপন করবার প্রয়াসী 
হয়েছিলেন । ভারতবধের ইতিহাসে এমন প্রয়াস রামমোহনের পূর্বেও দেখা 
গেছে। আপাতদৃষ্টিতে ভারতবর্ধের অসংখ্য ধর্মমত ও ধর্মসম্প্রদায়ের অস্তিত্ 
ভারত্বাসীর মধো একটি মানসিক সমভূমি আবিষ্কারের পথে প্রধান বাধাম্বরূপ | 
এই সমস্যাটি প্রায় প্রতিযুগেই ভারতের চিস্তারাজ্যের নেতৃস্থানীয়গণকে বিব্রত 
করেছে__এবং প্রায় প্রতিবারই ইতিহাসে আমরা এক-একটি অমাধান-থত্রের 
ইঙ্গিত পেয়েছি যার কোনটি প্রচ্ছন্ন, কোনটি বা! ম্পষ্ট। উপনিষদের উদার 
্রহ্ষবাদ, এসিয়াবিজয়ী মহাযান বৌদ্ধধর্ম, সম্রাট আকবর উদ্ভাবিত দীন্-ই- 
ইলাহি, হিন্দু-মুসলমান ধর্চিস্তার সমন্বয়ের ভিত্তিতে উদ্ভূত মধ্যযুগের ভক্তি- 
আন্দোলন প্রভৃতিকে এর নিদর্শন গণ্য কবা যেতে পারে- যদিও সমাধান 
হিসাবে এর সব কটি সমান সফল বা পূর্ণাঙ্গ নয়। রামমোহনের যুগে 
পূর্বপ্রচলিত সাম্প্রদায়িক ও উপসাম্প্রদ্দায়িক ঘাত-প্রতিঘাতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল 
এদেশে নবোগ্যমে প্রচারিত শ্রীষ্টরর্মের সংঘাত । বিভিন্ন ধর্মগোষ্ঠীর তর্ক-বিতর্ক 
ও কলহ-বিবাদ তখন প্রতিপদে ভারত-চেতনাকে খণ্ডিত করে চলেছিল । এই 
মত-সংঘর্য নিরোধে রামমোহন ছুটি ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন। তার প্রথমটি 
হল সংগ্রামের । তিনি হিন্দু, মুসলিম ও খ্রীষ্টীয় ধর্মশান্ত্র (তৎ্সহ সম্ভবত বৌদছ্ 
ও জৈনধমের কিছু অংশ ) গভীর ভাবে বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত করেন--প্রত্যেক 
ধর্মে কালক্রমে সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণতা ও অন্ধ আচারের স্তূপ জমা হয়, কিন্ত 
প্রকৃত আধাত্মিকতার সঙ্গে মানবসমাজে ভেদ স্ষ্টিকাবী সে-সব অন্ধ বিশ্বাস 
ও সংস্কারের কোনও সম্পর্ক নেই। সমগ্র 'তুহফাৎ-উল্-মুওহাহিদিন্,-এ এই 
ছিল ততবার অন্যতম প্রতিপাগ্য । উত্তর জীবনেও ধর্মীয় রক্ষণশ।লতা৷ ও অর্থহীন 
আচারপরায়ণতাকে আক্রমণ করতে কখনও তিনি দ্বিধা করেন নি। ফলে 
সকল ধর্মের রক্ষণশীল গোষ্ঠী তাঁর উপর খড্াহস্ত হয়েছিলেন । শোন যায় 
রংপুরে অবস্থানকালে মুসলমান সম্প্রদায়ের এক ধর্মান্ধ অংশ তাঁকে হত্যার 
চেষ্টাও করেছিল। সতীদাহ উচ্ছেদে আইন পাশ হবার পরে রক্ষণঞ্ঈল 
হিন্ুসমাজের সমস্ত আক্রোশ তার উপর পড়ে ও গুপ্ত আততায়ীর ভয়ে তাঁকে 
সর্ধদা কতখানি সতর্ক থাকতে হত সমসাময়িক 001) 901] পত্রিকা তার 
বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন ।*৯ জবধৃষ্থীয় সম্প্রদায় তাকে কিরূপ হিংস্র আক্রমণ 
করেছিলেন তার প্রমাণ থেকে গিয়েছে 'জবাব.ই-তুহ ফাৎ-উল্‌-মুওহাহিদিন, 


১৩৭ 


নামক ফারসী পুস্তিকার পৃষ্ঠায় ।*ৎ শ্রীষ্টীয় মিশনারীদের সঙ্গে তাকে ভারতবাসী 
হিম্মু-মুসলমানের পক্ষ নিয়ে সংগ্রামে অবতীর্ণ হতে হয়েছিল। বাঙলা! ব্রাহ্মণ 
সেবধি' (১৮২১) ইংরেজি "115 15100815108] 7/882280€ ( প্রথম 
তিন খণ্ডের প্রকাশ ১৮২১; চতুর্ধ খণ্ডের প্রকাশ ১৮২৩ ) ও £0081 6০ 00৪ 
(01)715081) 001011০ পর্যায়ের তিনখানি গ্রন্থ (প্রকাশকাল ১৮২০, ১৮২১ ও 
১৮২৩ ) এই উপলক্ষে রচিত। এই সব বাদানুবাদের ভূমিতে রামমোহনকে 
দেখা যায় সংগ্রামী সংস্কারকরূপে । এ ক্ষেত্রে তিনি যুক্তিতর্কের শাণিত অন্ত 
প্রয়োগ করে ধর্মবিরোধের মূলম্বরূপ অন্ধবিশ্বাস ও প্রাণহীন আচাবের রাশিকে 
বিশুদ্ধ আধ্যাত্মিকতার অঙ্গন থেকে দূর করতে উদ্যত। কিন্তু এর পরিপূরক 
তার একটি দ্বিতীয় ভূমিকা আছে। এটি হল সমন্বয়াচার্ধের,_ধর্দ ও 
আধ্যাত্সিকতাকে নকল সম্প্রদায়ের মিলনভূমি রূপে কল্পনা এই দৃষ্টিভঙ্গীর 
বৈশিষ্ট্য | এই সমন্বয়াদর্শ বূপায়িত করতে বামমোহনের দীর্ঘ সময় লেগেছিল। 
তরুণ বয়স থেকে তিনি সার অধ্যাত্ম-জিজ্ঞাসার উত্তর খুজেছেন শাস্ত্রে ও 
জীবনের অভিজ্ঞতায়। অবশেষে ১৮২৮ খ্রীষ্টাব্বে তিনি স্থাপন করেন 
ব্রাঙ্মসমাজ বা! ব্রহ্ষমভা। ১৮৩০ খ্রীষ্টাব্দে রচিত এই প্রতিষ্ঠানের ন্যাসপত্রে*১ 
এর আদর্শ ও লক্ষ্য সন্ধে যে বিবৃতি আছে সেখানে বল! হয়েছে, ত্রাক্ষ- 
সমাজের উপাসনাগৃহ জাতিধর্মসম্প্রদায়নিবিশেষে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত 
থাকবে; এখানে একমাত্র অনস্ত, অচিন্ত্য, বিকাররহিত, অক্ষয়, অবিণাশী 
বিশ্বত্হ্মাণ্ডের হ্বপ্রিস্থিতিপ্রলয়কর্তা পরমেশ্বরের উপাসনা হবে; কোনও 
বিশেষ সাম্প্রদায়িক চিহ্ন বা প্রতীক উপাসনায় ব্যবহৃত হবে না বা কোনও 
চিত্র, মৃত্তি বা প্রতিমৃত্তি এখানে স্থান পাবে না) এবং উপামনাকালে কোনও 
সম্প্রদায়ের উপাদ্য দেবদেবী, ধর্মশান্র বা ধর্মগুরুর নিন্দা করা এখানে 
চলবে না| ধর্মচিন্তা ও উপাসনাপদ্ধতিকে সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িক 
বিশিষ্টতার উধের্বে এক সামান্য ভূমিতে স্থাপনের প্রয়াস এখানে স্পষ্টই লক্ষ্য করা 
যায়। যদি বিভিন্ন ধর্মসম্প্রদায়ভুক্ত মান্যকে এই উপাসনামন্দিরে প্রবেশ 
“স্করবার সময়ে তাদের নিজ নিজ সাম্প্রদায়িক মত ও আচার ত্যাগ করবার 
অঙ্গীকার পত্রে স্বাক্ষর করতে হত, তবে আপন বৈশিষ্ট্য রক্ষা করেও আত্মিক 
এক্যভূমিতে.-উপনীত হবার চিরস্তন ভারতীয় আদর্শ অবশ্ঠই ক্ষুণ হত। কিন্ত 
রামমোহনের ব্রাক্ষমমাজ সমবেত উপাসকগণ্বে কাছে এই জাতীয় আধ্যাত্মিক 


৩ ৩৩ 


সমীকরণ দাবী করে নি। হিন্দু, মুসলমান, খ্রীষ্টান ও অন্যান্য ধর্মসম্প্রদায়ভুক্তগণ 
নিজ মতে প্রত্িঠিত থেকেও জড়পৃজা, স্থল ও ,নিরর্থক ক্রিয়াকর্মের স্তর 
(প্রত্যেক ধর্মের এ্রতিহাসিক অভিব্ক্তিতে যেগুলি মূল অধ্যাত্মচেতনার 
চতুর্দিকে প্রলিঞ্চ ) অতিক্রম করে যাতে বিস্তদ্ধ সার্বভৌম আধ্যাত্মিকতার 
ভূমিতে মিলিত হতে পারেন_এমন একটি পরিবেশ ও স্থযোগ স্যষ্টি করাই 
আদে ব্রাক্ষদমাজের লক্ষা ছিল। রামমোহন স্বয়ং বিগ্রহপূজা ত্যাগ 
করেছিলেন__কিস্ত তাঁর মত জোর করে তিনি কারও উপর চাপিয়ে দেন নি__ 
এমন কি নিজ পুর্রদ্যয়ের উপরও নয়। 'প্রাথথনাপত্র (১৮২৩; এর ইংরেজি 
সংস্করণ [7017)016 908£2506101)5 60 1713 00005 1061) আ1)0 02116 ৩ 
17) 076 006 0৪ 0০৭ এক সঙ্গে একই সময়ে প্রকাশিত হয়েছিল ) শীর্ষক 
পুষ্ভিকায় তিনি দেশী বিদেশী সকল ধর্মস্প্রদায়ের প্রতি মতভেদসত্বেও অরুত্রিম 
সৌহার্দা ও প্রীতিপূর্ণ মনোভাব বাক্ত করোছন। ব্রাক্ষপমাজের প্রথম পর্বের 
উপাসনাতে সর্বসন্প্রদায়ের মানুষ যে উপস্থিত থাকতেন তার উদাহরণস্বরূপ বলা 
ঘেতে পাবে, মাঝে মাঝে এখানে স্তবগানের ভার দেওয়া হত ফিরিঙ্গী ও 
মুসলমান বালকদের উপর ।*২ এই ভাবে উপাসনার হিন্দুধর্মসম্মঘত কাঠামো 
বজায় রেখেও আধাত্মিক মার্গে এক মিলনভূমির কল্পনার মাধ্যমে রামমোহন 
তার ভাবত্চেতনারই এক গভীরতর ভূমি অন্বেষণ করেছিলেন । তার প্রচেষ্টা 
সম্পর্কে বিপিনচন্দ্র পালের মূল্যায়ন যথার্থ: “জীবের সকল অঙ্গ যদি নষ্ট 
হুইয়া একমাত্র অঙ্গে পরিণত হয় তাহাতে যেমন সে পঙ্গু হইয়া পড়ে সেইরূপ 
জগতের তিন্ন ভিন্ন জাতিসকল যদি একাকার হইয়া যাঁয় তাহা হইলে বিশ্বমানবও 
পঙ্গু হইয়া পড়িবে। বাজা রামমোহন এই সত্য প্রত্যক্ষ করিয়াই ভারতবর্ষের 
ভিন্ন ভিন্ন সমাজ, ধর্ম এবং সাঁধনাকে ভাঙ্গিয়া চুরিয়! এক ছাচে ঢালিয়া নৃতন 
করিয়া গড়িবার চেষ্টা করেন নাই। হিন্দকে তিনি হিন্দু রাখিয়া বড় করিতে 
চাহিয়াছিলেন, মুসলমানকে মুসলমান রাখিয়াই বিশ্বমানবের অভিমুখী করিতে 
চাহিয়াছিলেন, শ্রীষ্ীয়ান, বৌদ্ধ, জৈন প্রভৃতি ভিন্ন ভিন্ন ধর্মাবলঘ্িদিগকে নিজ 
'নিজ সিদ্ধাস্ত এবং সাধনে স্থপ্রত্বিষ্ঠিত রাখিয়াই সেই সকল সিদ্ধান্ত ও সাধনের 
মধ্যে যে সনাতন সত্যের ও কল্যাণের ধারা প্রবাহিত, যুগে যুগে সাধক এবং 
সিদ্ধ মহাজনপরম্পরায় যে সত্য ও কল্যাণের আশ্রয়ে নিজ নিজ জীবনে সিদ্ধিলাভ 
করিয়া গিয়াছেন, তাহাকে ফুটাঁইয়৷ তুলিয়াই নিজেদের সাম্প্রদায়িক ধর্মকে 


৩৪ 


উদার বিশ্বধর্মের প্রতি উন্মুখ করিতে চাহিয়াছিলেন।'.মেই মহামিলনক্ষেত্রের 
পথ গড়িয়া তুলিবার আশাতেই রাজা! '্রহ্ষসভা'র প্রতিষ্ঠা করেন ।:" ভারতবর্ষ 
আপনার বৈচিত্র্যে একটা! ক্ষুদ্র বিশ্বের মতন ।***এখানে বহু ভাষা, বু ধর্ম, বহুবিধ 
সামাজিক রীতিনীতি বহু আচারপদ্ধতি, বহু সাধনা এবং সভ্যতা আসিয়া 
মিলিয়াছে। এই ভারতে যদি এক মহাঁজাতি প্রতিষ্ঠা করিতে হয়, তাহা হইলে 
এই সকল বৈচিত্র্য এবং বৈষম্যকে যথাযোগ্যভাবে বজায় রাখিতেই হইবে ।"". 
আধুনিক জগতে ভারতবর্ষকে স্থপ্রতিষ্ঠিত করিতে হইলে তাহার এই প্রকৃতিগত 
ধর্মান্থরাগকে নষ্ট করিলে চলিবে না। ধর্ম যেখানে সংস্কারবদ্ধ হইয়া নিজের 
প্রাণত৷ হারাইয়াছে সেখানে তাহাকে সংস্কারমুক্ত করিয়া সজীব করিতে হইবে; 
যেখানে সংকীর্ণ হইয়া পড়িয়াছে সেখানে উহাকে উদার হইতে হইবে, কিন্ত 
ভারতের ধর্মপ্রাণতাকে নষ্ট করা তো দূরের কথা, উপেক্ষা করিয়াও একটা 
জাঁতিগঠন করা সম্ভব নহে। আর অন্যদিকে হিন্দুকে মুসলমান কিংবা 
মুসলমানকে হিন্দু অথবা হিন্দু এবং মুসলমান উভয়কে খ্রষ্টধর্ষে দীক্ষিত করিয়া 
এবং জৈন বৌদ্ধ প্রভৃতি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে সেই সংঘভুক্ত করিয়া ভারতে 
একট! ধর্মের প্রতিষ্ঠা করাও সম্ভব নহে ।-. অন্তপক্ষে এ সকল ধর্মের মধো যে 
ভেদ ও বিরোধ আছে তাহার তীব্রতা যদি নষ্ট না হয়, তাহা হইলেও হিন্দু 
মুসলমান শ্রীষ্টীয়ান প্রভৃতি ভারতের ভিন্ন ভিন্ন ধর্মাবলধ্গিণ পরস্পরের সঙ্গে 
সম্মিলিত হইয়া! নিজ নিজ সমাজের এবং সমষ্টিভূত ভারতীয় জাতীয় জীবনের 
কল্যাণসাধনে নিযুক্ত হইতে পারিবে না। সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণতা৷ ও সম্প্রদায়ে 
সম্প্রদীয়ে যে বিরোধ আছে তাহা দূর না হইলে ভারতে আধুনিক আদর্শে একটা 
নৃতন জাতির পত্তন কিছুতেই হইতে পারে না। রাজা ইহা প্রত্যক্ষ 
করিয়াছিলেন । এবং ভারতের জাতীয়তার মূল অস্তরাঁয় দুর করিবার উদ্দেশ্টেই, 
মনে হয়, তিনি তাহার 'ব্রহ্মলভা?র প্রতিষ্ঠা করেন।"""ধর্মে ধর্মে ঘে ভেদ-বিরোধ 
তাহা বহিরঙ্গের ; আচার-বিচারের সাধন অতি নিয়জ্তরের ।*হিন্দু মুসলমান 
প্রভৃতি ভিন্ন ভিন্ন ধর্ষের চিন্তানায়ক ও উদার সাধকের পরস্পরের সঙ্গে মিলিত 
হুইয়। যাহাতে একে অন্যের ধর্মের অস্তপ্নিহিত সত্যের ও কল্যাণের সন্ধান পাইতে 
পারেন এবং সেই সন্ধান পাইয়া একে অন্যের ধর্মকে শ্রদ্ধার চক্ষে দেখিতে 
পাঁরেন ইহাই বাজার '্রক্ষসভা" প্রতিষ্ঠার নিগুঢ় উদ্দেশ্ত মনে হয়।-"'এইরূপে 
ভারতের জনসমুদ্রের ধর্ম ও আচারগত ভেদ ও,বিরোধের অন্তরায়কে ক্রমে ক্রমে 


৩৫ 


দূর করিয়া এ সকল তেদের তিতর দিয়াই ভারতবর্ষে একটা বিরাট জাতীয় 
একতার প্রতিষ্ঠা করিবার আশাতেই মনে হয় রাজ! তাহার ব্রদ্ম-সভা'র প্রতিষ্ঠা 
করেন ।”*০ উত্তরকালে প্রধানত মহষি দেবেন্দ্রনাথের যুগ থেকে ব্রাহ্গধর্ম ও 
ব্রাহ্মমমাজ যে প্রতিষ্ঠানগত রূপ ধারণ কবে তার প্ররুতি রামমোহন পরিকল্পিত 
'্রাহ্মদমাজ' বা 'ব্রহ্মদতা” হতে মৌলিকভাবেই ভিন্ন । বষ্ঠ অধ্যায়ে এ বিষয়ে 
কিছু বিস্তারিত আলোচন। কর! হয়েছে । 

রামমোহনের জাতিগত এঁকাচেতনার একটি বৈশিষ্ট্যের কথা উপসংহারে 
উল্লেখ না করলে প্রসঙ্গ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ভারতবর্ষে জাতি ও রাষ্ট্রের 
সংগঠন বিষয়ে তার সুম্পষ্ট ও মৌলিক চিন্তা ছিল এবং এর গতীরতর ভিত্তি 
হিসাবে ধর্মীশ্রয়ী ভারতবর্ষের নানা বিচিত্র ভাবনাধারার একটি আত্মিক মিলন- 
ভূমি রচনার পরিকল্পনাও তিনি করেছেন। রামমোহনের চিন্তাধারাকে 
কালান্ক্রমিকভাবে অন্থসরণ করলে দেখা যাঁয় এই ভারতচেতনাই তাকে ক্রমশঃ 
উত্তীর্ণ করেছিল বিশ্বচৈতনায়। একদিকে তার ক্রন্ষবাদ সর্বপ্রকার ধর্মীয় 
আচারগত সংকীর্ণতা থেকে তাকে মুক্তি দিয়েছিল, অন্যদিকে ছিল সমকালীন 
পাশ্চাতা দর্শন-বিজ্ঞানের দীক্ষা। তাই কেবলমাত্র জাতীয়তাবাদের পরিধির 
মধো তার চিত্ত শেষ পর্ধস্ত আবদ্ধ থাকে নি। ১৮৩১ খ্রীষ্টাব্দে ইংলগ্ড থেকে 
ফ্রান্সের তদানীন্তন পররাষ্ট্মন্ত্রীকে লিখিত ভার পত্রথানিতে এই মনোভাবের 
উজ্জ্বল প্রকাশ লক্ষ্য করবা যায়। সেখানে তিনি পৃথিবীর দেশ ও জাতিসমূহের 
মধো মৈত্রীস্থাপনের জন্য একটি জাতি-সংঘ স্থাপনের প্রস্তাব করেছেন ও এই 
প্রসঙ্গে তার যে উক্তিটি চিরম্মরণীয় হয়ে থাকবার ঘোগ্য তা এই: 
“015 10 ৫6156191195 80101060 00৪ 500 16115101 0115 ৮৫ 
01010159560 ০0100017) 52055 25 21] 25 2.0০07865 06001561019 ০0£ 
৪8০16170100 15965101) 1680 00 006 ০01)017191017) 0926 2]] 1021011)ণ 
215 0156 £15901910)11% 01 1010] 70000061015 18810101705 ৪150 01065 
5315011)8 ৪16 01915 ৬৪11015 10191)01)65.:176106 [01151906176] 00615 
1) ৪1] ০0001300169 10000501561 2 আ191) 00 670০0100866 ৪150 £80111096 
101100817 1100610001756, 20 2€াচে 00910176] 5 16000513625 পি ৪5 
70551616 ৪11 11009601106 00 16 থে 0106 60 700100050১০ 


12010010021 92021799865 2170 21010510061) 0£ 006 19016 130870218 


৩৩৬ 


1৪০.” (৬৪ রামমোহনের ভারতচিস্তা এই ভাবেই বিশ্বমানবিক চেতনার সঙ্গে 
নিজেকে সমন্বিত করবার প্রয়াম পেয়েছিল । মনে রাখতে হবে ইংলগ্ডে বাঁনকালে 
যখন তিনি এই উক্তি করেন-_-তখন তিনি সর্বতোভাবে স্বদেশ-সেবায় নিযুক্ত | 
প্রিভি কাউনসিলে সতীদাহবিরোধী আইন উচ্ছেদকল্পে ভারতীয় রক্ষণ শীলগণের 
আবেদনের বিরুদ্ধে জনমতসংগঠন, ইস্ট, ইত্ডিয়া কোম্পানীর নৃতন সনদে 
ভারতবর্ষের ভবিষ্যৎ কল্যাণস্থচক ধারা সংযোজনের প্রচেষ্টা, মুঘলসমাটের 
ভাতাবৃদ্ধির প্রয়াস ইত্যাদি বিষয়ে অক্লান্ত পরিশ্রমে তার দেহমনের শক্তি 
অনবরত ক্ষয় হচ্ছে। এই দেশাত্মবৌধের মধ্য থেকেই তাঁর বিশ্ববোধ প্রন্থৃত-_ 
ছইএর মধো সামগ্রস্তসাধনই তার প্রতিভার বৈশিষ্ট্য । খগু-ছিন্ন-বিক্িপ্ত 
ভারতবর্কে তিনি জাতীয় চেতনায় উদ্বদ্ধ করবার চেষ্টা করেছেন কিন্ত 
সেখানেই তার চিন্তার গণ্ী টানেন নি। শেষ পর্যস্ত জাতীয়তার ভূমিতে দৃ 
প্রতিষ্ঠিত থেকেও সে চিন্তা জাতীয়তার সীমানা অতিক্রম করে উত্তীর্ণ হয়েছে 
বিশ্বমানবের মিলনপ্রাঙ্গণে । 


প্রমাণপঞ্জী £ 


১. বিবিধ প্রবন্ধ । “ভারত-কলক্ক-ভারতবর্ষ পরাধীন কেন ?' উদ্ধত অংশ যুক্ত একটি 
পাদটাক্তায় লেখক স্পষ্ট বলেছেন, এই প্রবন্ধে জাতি শব্দে 281008118 বা। ৪৮০৮, বুঝিতে 
কইবে।” 

২. বিঞু পুরাণ £ ২, ৩.১* (জীবানন্দ বিদ্ভাসাঙগর কৃত সংক্করণ, পৃঃ ২৩০ ) 

৩. বাধু পুবাণ; ৪৫. ৭৫-৭৬ (বঙ্গবাসী সংক্করণ পৃঃ ২২৯) 

৪. মার্কগেয় পুরাণ £ ৫৭, ৫৮ (নিরপেক্ষ ধর্ম-সঞ্চারিণী সভা সংস্করণ পৃঃ ৯১) 

৫. অর্থশান্ত্র;ঃ ». ১: “দেশঃ পৃথিবী । ততন্তাং হিমবৎসমুদ্রাস্তরমুদীচীনং যোজন- 
সহম্বপবিমাণং তির্ধক চক্রবতিক্ষেত্রমূ।' (গণপতি শাস্ত্রী সম্পাদিত সংস্করণ, তৃতীয় খণ্ড, 
পৃঃ .৪৫)। কেউ কেউ 'এই অংশের তির্ধক? শব্দটিকে “অতির্যক্* পড়েছেন। আমি গণপতি 
শান্ত্রীর 'তির্বক পাঠই গ্রহণ করেছি। উক্তিটিকে বুঝবার পক্ষে এই “পাঠই অপেক্ষাকৃত 
উপবুক্ত বলে মনে হয়। 

৬. কাব্যমীমাংসা, সপ্তদশ অধ্যায় £ 'তত্রেদং ভারতং বর্ষমূ। অন্ত চ নৰ ভেদা:।-- 
পঞ্চশতানি জলং পঞ্চ স্বলমিতি ধিভাগেন প্রত্যেকং যোজনসহম্রাবধয়ে। দক্ষিণাৎসমুত্রাদতরি- 
রাজং হ্মবস্তং যাবৎপরম্পরমগমাস্তে। তাগ্ভেতানি যে! জয়তি স সত্ত্রাডিত্বাচতে । কুমাবী- 
পুরাৎ প্রভৃতি বিদ্দুসরোহবধি যোজনানাং দশশতী চক্রবতিক্ষে্রমূ। তাং বিজয়মানশ্চক্রত্তী 
ভবতি। (গাইকোয়াড় সংস্কত সিরিজ- দালাল ও শান্তী সম্পাদিত সংস্করণ পৃঃ »২।) এই 


৩৭ 


প্রসঙ্গে অধ্যাপক পীনেশচত্্র সরকার প্রণীত 52%2165 ৮৮ 05 36০2090 ০) 4412518 0৮৫ 
21541554115405 (প্রথম সংস্করণ, ১৯৬০ ) গ্রন্থের 054455101-08550) শীর্ষক সুলিখিত 
অধ্যায়টি প্ঠিতধ্য। প্রাচীন ভারতীয় সাহিতা ও অনুশাসনাবলীর প্রায় সমন্ত প্রাসঙ্গিক 
সাক্ষ্যপ্রমাণ এখানে নিপুণভাবে একত্র কর হয়েছে। 

৭. অন্গুত্বর নিকায়-_-পালি টেকদট্‌ সোসাইটি সংক্কবণ, চতুর্থ খণ্ড, পৃঃ ৯* £ 

; চকৃকবত অন্থং রাজ ছুনগ্ডস্স ইস্সরো 
মুদ্ধাভিসিত্তে৷ খতিয়ে মন্্স্লাধিপতী অহুং | 
অদ্ডেন অস্ত্‌থেন বিজেয.য পঠবিং ইমং 
অলাহসেন ধম্মেন সমেন মনুসানিয়! | 
থশ্মেন রজ্সম্‌ কারেত্বা অন্মিং পঠবিমণ্ডলে । 
এক্ষেে জদুখণ্ডের এট অধিপতিকে পৃথিবীর অধাশ্বররূপেই বর্ণনা কর হয়েছে বটে" কিন্ত 
একচ্ছর্র রাজাদের সম্পর্কে এমন অতিরঞ্রিত উক্তি প্রাচীনকালে প্রথাগত ছিল। সম্রাট 
অশোকের রাজের আয়তন ছিল পূর্বে ও দক্ষিণে অল্প কিছু কিছু অংশ বাদদিয়ে সমগ্র 
ভারতবর্ষ | এই সাম্রাজ্য তার এক শিলা-লেখে জদ্ুত্বীপ নামে উল্লিধিত হয়েছে। তা৷ সত্বেও 
খোঁলিতে প্রাপ্ত তার পঞ্চম মুখ্য শৈলানুশালনে তিনি পরোক্ষভাবে বলেছেন সভার শাসনক্ষেত্র 
সমগ্র পৃধিবী (এ ইয়ং ধংমনিপিতে তি ব ধংমাধিথানে তি ব দানসযূতে ব সব-পুঠবিয়ং ধংমযুতঙ্ি 
বিয্লাপট| ইমে ধংমমহায়াতা )। 
৮. ড্রষ্টব্য 774712671 ৬1645)07777011, ০04 93710 106155, মোলবা ওবেছুল-আল' 
ওবেদ কৃত ইংরেজি অনুবাদ, পুনমৃর রণ, কলিকাত। ১৯৪৯, ভুমিক]। 
৯. 0০91198, 0. 49৭ 

১০. রামমোইনের তিব্বতভ্রমণের এতিহাসিকতায় কেউ কেউ সন্দেহ প্রকাশ করে 
থাকেন। প্রসঙ্গটির বিস্তারিত আলোচন! সম্পকে স্রষ্টব্য 0০119% 00, 19-18 1 রামমোহন 
তার অন্তরঙ্গ বন্ধু ডঃ লা্ট কার্পেন্টারের কাছে স্বয়ং ছু'বার ার তিববত-ভ্রমণের কাহিনী 
বলেছিলেন-_-একবার লণ্নে, আর একবার ব্রিস্টলে (ত্রষ্টবা, লান্ট কপেন্টার-_4/% 7591 ০% 
816 1280%50221015 070 01/012061 তঁ 8৭11, [27770707209 179000 ৪0৫. 
18218৮০1, 1853, 2০, 201-08, বিশেষতঃ ১০২ পৃষ্ঠায় সংযোজিত পাদটাক1)। কালক্রমের দিক 
দিরে বিচার করলে মনে হয় ১৭৮৮ থেকে ১৭৯০ পর্বস্ত তিন বৎমর বা এই পর্বের কোনও ভাগ 
রামমোহনের পক্ষে তিববতে অতিবাহিত কর অসস্তব ছিল না। 

১১, দ্রষ্টব্য [60065 ৫70. 1)0০4/10) 70০. 292, 165, 169১ 259 । বারাণসীর সমকালীন 
কমিশনার দফতরের নথিপত্র থেকে সম্প্রতি জান! গিয়েছে ১৮০৩ খীষ্টাবখে রামমোহন 
ৰারাণলীতে সরকারী কর্মে নিযুক্ত ছিলেন (দ্রষ্টব্য 0০1166 0. 412) । 

১২, ভ্ষ্টব্য 0০1166 0০, 39-40 , রাষমোহনের ভুটান-পরিদর্শনের একটি অতিরিভ্ 
প্রমাণ পাওয়া যায় “জবাব্-ই-তুহ.ফাৎ-উল্-মুওহাহিদিন, নামক সমকালীন ফার্সী গ্রন্থে। 
জটব্য পরিশিষ্ট--৪। 


২১৮ 


১৪. পৌভাগ্যক্রমে রামমোহনের হিন্দী ও উর্ররচনার নিদর্শ ন অল্প কিছু বিছু পাওয়। 
গেছে। তার হিন্দী লিখনশৈলী সম্পর্কে ত্রষ্টব্য পণ্ডিত হাজারি প্রসাদ দ্বিবেদী “হিন্দী ভাষায় 
রামমোকন? 16 72661 ০0] 24092617 17,06 ;:7211770150 061/8679019 0০177721707 200%, 
০1877 ৮৮, হ] 0, £65-69 $ উর“ রচনার নমুন। সম্পর্কে ত্রষ্টব্ গার্সয। ্ তাপিকে লিখিত 
তার উর্ঘপত্র--পরিশিষ্ট_-১। বলা বাহুল্য এই ছুই ভাষাতেই তিনি অনর্গল কথোপথন 
করতে পারতেন। ঠার দক্ষিণ ভারতীয় ভাষা শিক্ষা! বিষয়ে একটি শ্রুত কাহিনীর উল্লেখ 
করেছেন জীবনীকার নগেল্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় (নগেশ্রনাথ পৃঃ ২৬৯)। নম্তৃত রামমোহনের 
মত ছিল, কোনও দেশের অন্তরঙ্গ পরিচয় লাভ করতে হলে সেখানকার ভাষ! উত্তমরূপে শিক্ষা 
কর! একাস্ত আবশ্যাক। ফ্রান্সে অঙ্পকাল বাস করেই তিনি ইংলত ফিরে গিয়েছিলেন__ 
কারণ তথন পর্যস্ত ফরাসী ভাষা তার পাকাপাকি আয় হয়নি। ফরাসী ভাষা! ভাল করে 
শিখে নিয়ে তার দ্বিতীয় বার ফ্রান্সে যাবার ইচ্ছ। ছিল এবং এই উদ্দেশ্যে তিনি রীতিমত ফরাসী 
চর্চাও শুরু করেছিলেন । (দ্রষ্টব্য, ৩১ জানুয়ারী ১৮৩৩ মিঃ উড.ফোর্ডাক লিখিত তার পত্র» 
0০11৩; 849) । অকাল মৃত্যুর ফলে এই আশ! পূর্ণ হয়নি। 

১৪, 0০91196 20 498. 

১৫, দ্রষ্টব্য, ১৮১৬-১৭ খ্রীষ্টান্বের কোনও সময়ে ইংলগ্ডে জন্‌ ডিগ.বীকে লিখিত রাম- 
মোহনের পত্র-:0০119% 0. ৭2; ১৮১৭-১৮ খ্রীষ্টাব্দে লেঃ কর্ণেল ফিৎস্ক্ল।ারেক্সের কাছেও 
রামমোহন তার ইংলও গামনের ও সেথানকার কোনও বিশ্ববিভ্ভালয়ে ছাত্র হিসাবে যোগদান 
করবার সংকল্পের কথ। প্রকাশ করেছিলেন (ভ্রষ্টবয 258. 0০1. 7165015150096 70%7] ০7 ৫ 
1306 45070551701. €1৮0%01 222 10 7270210150 চা 07061796671 1270 0 0৮6 9201 
1817 ০1৮৫ 016 9680৮56 01 19718, 15004901819, 0. 107) 

১৬, ১৭ অক্টোবর ১৮২২ রেভা:ঃ জ্যারেড, ম্পার্ক,সকে লিখিত এক পত্রে রামমোহন 
লিখছেন : ] 81091] 10 ৪1] 0:0১৯11189 5958 40067009 10 1824০, 1 েষ্টবা। 7067661 
7৫56 0, 196561৮6 0৯0081- 00৬, 1975 (০] স্017 2 2 মি০. 178) 0. 981 

১৭, রামমোহনের মৃত্যুর কয়েকদিন পরে তার প্রাক্তন একাত্ত-সচি৭ স্যাগু-ফোর্ড 
আর্লট লণ্ডনের “এথেনিউম' পত্রিকার & অক্টোবর, ১৮৩৩ সংখ্যায় যে "স্মৃতিকথা? লেখেন তাতে 
তিনি বলেছেন 5 '29781870১ 109 ০০৪2৫ 18058859 ০1 6১09 89৪৮ 106 106৬ ৪9 119 
100096: 60080৩ ***১ | অন্যত্র এ প্রবন্ধে রামমোহনের ভাষাজ্ঞান সম্পর্কে তিনি আরও 
বলেছেন 8 “10 79880. 6০ 11৪ 1169281 &865100706088, 006 ৪ 80008170690. 78016, 
০71988 161) 190. 180808£69 5 93870901856) 47:8050, 791:918109 1187005962101) 36181, 
[)0815810) 116015দা১ 07698, 1860) 500. 07767001), 1005 ০ 0186 06 দা019 ০2368- 
98115 &3 ৪ 8019018: 7 6105 (08705 10026155065 500 91380 05 80০99 &:0 ছ70$6 
90670৮]5 1 10 60১6 5150060, 0091008709১ 01৪ ৪690798 ০ 7:98008 00 0096 63১90 220801) 
৮৪5০৭ 60০ 01810818০01 605 010018660 ৪011100158) 500. 80. 6116 19697 6৬/০ 1018 


8:০০16089 ৪৪ ৪0081520115 20075 11700650 ; ১০9৪০ 10 ৪7007 1035 90 ৩৪:1৫ 


৩৪ 


10৫09517716 20৪5 59 006166৫6056 005 190. 58100815798 017)60 6205 8005 ০1 মা9018 
10 609 0158508 5587৮) | জেমস বাকিংহাম ইংলগ্ডের সমকালীন পত্রিক1 716 7০১ 
£৫০5019 01 71591029 97৫ 06601 116158185-এর অষ্টাদশ থণ্ডে ১৮১৮ সালে 
যামমোধনের সঙ্গে ঠার প্রথম পরিচয় সম্পরকে লেখেন, 5 ঠি৪ট 00008 90200188010 
ভ।$]) 1010) 9188 10 815010 608৮ 05708 ৮0৬ 01161055] 1508 0586 20956 080011187: 6০ 
209, 80৫ 006 100 106 5৮ 918৮ 6056 009 50016 08118 আ100 5989 ৪00 009৩5. 


(পুনমুদছিত 1০৫67, 7691%০ 745:০%) 1999 0. 281 )। 


১৮. রামমোনধনেব সংক্ুত রচনা! যা পাওয়া গেছে সেগুলি এই: (৯) 'উৎ্সবানন্দ 
খিগ্তাবাগীশের সপ্চিত' বিচার শীধক তিনখানি সংস্কৃত পুস্তিক] (১৮১৬-১৭) : (২) প্সুরন্বণ্য 
শাস্্রীব সন্থিত বিচার, এব সংস্ষত অংশ) (বাউলা, হিন্দী ও ইংরেজি ভাষাতেও এটি 
প্রকাশিত হয়েছিল (৮২১))। (৩) 'গাধত্তা ব্রন্মোপালনাবিধানম্‌ (বঙ্গানুবাদ সহ) 
(১৬২৭)। 

১৯. দরষ্টরায 0০78৪ 90016) 116 ০7 49168006710 0] 1, 1,950) 1879, 
10. 11171 

২০, 11106 "77106 79206707878 20010610100 56 118 08761070056, 7687 
0519065+ 0706 56017 ১০ ৪6৩) ০, 0190, 0105108 & 015109 ড/11) 006 01 6008 
1০1101678০1 7101), ৮১০ 06:0160. (156 63156700601 & 09189. 1109 [38181 184 
57506 005: 510019 ৫৪ড £0. 606 ০07005885% আ180০৩$ ৪00100010€ 10: 60০৫, 23৪6 ০02 
7667981)70061065 &00. 191010108 00019 10. ০০701067106 ০0109 89186 60090 10. (001001010105 
05৪7 & 10000190 10019018 :...) 88006970 41700 17 009 4178060০6০৮ 


৮, 1833 | 


২১. উষ্টবা [01080 1351019 0 1186 7370110 ২০777 08109665 189. 7. 99, 

২২, গ্রস্থাবলী ৪, পৃঃ ২৭। 

২৩, শিক্ষিত সমাজ বহিভূতি লোকসংস্কৃতিব অন্তর্গত ভারতীয় অধ্যাত্মসাধনার কোনও 
থার। রামমোহনকে আকধণ করেছিল কি? এই প্রসঙ্গে অধ্যাপক তুষার চট্োপাধ্যায় 
কলিকাতার ও নিকটবতী নিয়গালেয় অঞ্চলে প্রতিঠিত “কর্তাভজ1, নামক সাধকগোঠীর 
প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকধণ করেছেন। এ'র| ঈশ্বরের কোনও বিশিষ্ট নাম স্বীকার করেন 
না-স'ধারপত তাদের উপাসন| ও সঙ্গীতে ঈশ্বরকে “করা, বলে উল্লেখ করে থাকেন। 
এই সম্প্রদায়ের প্রতিঠাত! গুর আউলে ব| আউলেটাদ ( ঘোড়শ-সপ্তদশ শতাব্দী )। এদের 
উপাসনায় জাতিতেদ বা ্ত্রী-ুরুষভেদ অশ্বীকৃত এবং প্রাণায়াম প্রভৃতি যোগমার্গের 
কিছু কিছু ক্রিয়া এ'দের সাধনপ্রণালার অন্তভূক্ত। সঙ্গীতও এ'দেব উপাসনার একটি 
প্রধান অঙ্গ । অধ্যাপক চট্োপাধ্যায় সংগৃহীত কিংবদন্তী অনুসারে রামমোহনের সঙ্গে 
অমকালীন এই সাধক-সম্প্রদায়ের যোগাযোগ ঘটেছিল। অষ্টাদশ-উনবিংশ শতাব্ধীর 
কলিকাতার সমস্ত শিক্ষিত সমাজতুক্ত কেউ কেউ যে এই সম্প্রদায়ের সাখন-গ্রণালীর 

৪ 


৪8৩ 


প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন এমন প্রমাণ আছে। উত্তরকালে ব্রাক্ঘলমাজের নেতৃস্থানীয়গণের 
মধ্যে উমেশচল্ দত, বিজয়কু্ক গোন্বামী, নগেন্্রনাথ চট্োপাধ্যায় প্রভৃতির সঙ্গে সাধনসৃত্রে 
কর্তাতজ|-সম্প্রদায়ের কোনও সাধকের যোগ স্থাপিত হয়েছিল বলে জান! যায়। অধ্যাপক 
চটোপাখ্যায়ের অনুসন্ধানের ফলে যদি রামমোহনের সঙ্গে এই সম্প্রদায়ের যোগাযোগ 
সম্পর্কে সুনিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে রামমোহনের আধ্যাত্মিক সাধনার ইতিহাস- 
চর্চায় নিঃদন্দেহে একটি অতিরিক্ত মাত্র। যুক্ত হবে। 

২৪, [57/1151% 57018 56, ড় 20০,717. 

২৫, [77/01151 70175 5৮. 2] 02677 ব্রাহ্মণ-সেবধি--তৃতীয় সংখা গ্রন্থাবলী-৫ 
পঃ ২৯। 

২৬, 001196 20. 295. 

২৭, 19101151% ৮7০0115 2৮, 2 01140. 

২৮. মেকলের ২ ফেব্রুয়ারী ১৮৩৫ তারিখের শিক্ষাবিষয়ক সুপ্রসিদ্ধ মন্মব্যলিপি,_দরষ্টব্য 
চা. 8152, 96120610795 1901 208০৫650701 [৫6০০705787৮ 1) 1781-1889 (0819088+ 
1990) %, 116. 

২৮ক, 70675655196 1৬ 0$61161,:5 ই০. 109, 0. 89০, 

২৯, অধ্যাপক ভবতোষ দত্ত সম্পাদিত “বক্কিমচন্্র প্রণীত ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের জীবনটরিত 
ও কবিত্ব' (কলিকাতা ১৯৬৮) পৃঃ ২৯৫-৯*৬-এ উদ্ধত: এর বাঙলা সংহ্থরণের জন্য 
ব্য, ব্রজেন্রনাথ বন্দেযাপাধ্যায়, সংবাদপত্রে সেকালের কথা, (চতুর্থ সংস্করণ) দ্বিতীয় 
খণ্ড, পৃঃ ৫২। 

৩০. অজ্িতকুমার চক্রবর্তী, মহধি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, ( ইওিয়ান প্রেস, এলাহাবাদ 
১৯১৬ ) পৃঃ ৩০-৩১। 

৩১, দ্রষ্টব্য ঃ «প্রার্থনাপত্রণ ১ প্দশনাম! সন্যাসিদের মধ্যে অনেকে এবং গুরু নানকের 
সম্প্রদায় ও দাছুপন্থী ও কবীরপন্থী এবং সন্তমতাবলম্থি গুভৃতি এই ধর্মাক্রাত্ত হয়েন 
তাহাদের সহিত ভ্রাতৃভাষে আচরণ আমাদের কর্তব্য হয়। ভাষাবাক)ই কেবল তাহাদের 
অনেকের উপদেশের দ্বার এবং ভাষাগানাদি উপাসনার উপায় হইয়াছে অতএব তাহাদের 
পরমার্থসাধনে সন্দেহ আছে এমত আশঙ্কা! কর! উচিত নহে।'? এর পরে সঙ্গীতের দ্বারাও 
যে মোক্ষপ্রাপ্তি সম্ভব এই সিদ্ধান্তের সমর্থনে রামমোহন শাস্তরবচন উদ্ধৃত করেছেন। ্রস্থাবলী 
৪, পৃঃ ২৭। 

৩২, গ্রস্থাবলী ৪, পৃঃ ৪৫-৪৮। সংস্কৃত ভাষায় 'বজ্রসৃচী নামক ছুঃখানি গ্রন্থ আছে £ 
(১) 'বজ্রমূচী, বা “বভ্রসৃচিক1' নামক একটি উপনিষদ পদবাচ্য গ্রন্থ 8 (২) বৌদ্ধ আচার্য 
অঙ্বঘোষ প্রণীত 'বজসৃচী” । ছু'খানি খসথেই ক্রাহগপ্য বর্ণাশ্রমধ্মের তীব্র সমালোচনা করা 
হয়েছে। গ্রস্থ্য়ের বিষয়বস্তু এক, আলোচনাপ্রণালীও এক, এমনকি ভাষাও স্থানে স্বানে 
প্রায় এক; যদিও দ্বিতীয় পন্থধানির আলোচনা! অপেক্ষাকৃত বিস্তারিত | রামমোহন উল্লিখিত 
্রস্থতবয়ের মধ্যে প্রথমধানির মল ও বলাৃধাদ প্রকাশ করেন (১৮২৭)। এই প্রথম গ্রশ্থখানির 


৪6১ 


জজ্ঞাত গ্রস্বকারকে কেউ কেউ বৌদ্ধ মনে করেন না। কারও কারও মতে এই 'ব্রসৃচী 
উপনিহদ-এর রচয়িত1 স্বয়ং শংকরাচার্ধ বা তার সম্প্রদায়তূক্ত কোনও অহ্বৈতবাদী বৈদান্তিক, 
(দ্রষ্টব্য, সৃুজিতকুমার মুখোপাধায় 216 ৮০1754015 07 /5)08150575%5 200. 60. স1৪5৬- 
58:51, 1960, 700. আছ) | কিন্তু এর! ভেবে দেখেননি, রক্ষণশীল বর্ণাশ্রমপন্থী শংকর 
ষ! তার সস্প্রদায়ত্ুক্ত কারও পক্ষে_এই দ্বই গ্রন্থে যেমন আছে_ বর্ণাশ্রমধর্মের তেমন কঠোর 
সমালোচন। কর] একেবারে অসস্ভব। অঙ্বঘোষের গ্রন্থতে। স্পটত বৌদ্ধ রচনা। প্রথম 
গ্রন্থধানিও ব্রাঙ্গণ্য ছদ্মবেশে বর্ণাশ্রমবিরো ধী কোনও বোঁদ্ধের রচন1 হওয়াই সম্ভব, কেননা! 
বোঁদ্ধরাই বর্ণাশ্রম ধর্মসন্্ত ব্রাহ্ষণপ্রাধান্তের সমালোচনা করেছেন সবচেয়ে বেশী। এর 
সঙ্গে উত্তরকালে রচিত “আললোপনিষদ্‌-এর তুলনা কর! যেতে পারে । আল্লা ও মুসলমান- 
ধর্মের মাহাজ্্য ঘোষণ। করবার জন্য কোনও সংস্কৃতজ্ঞ মুসলমান মধ্যযুগে এটি রচন] করেন। 
শ্রাক্গণ) সমাজে উপনিমদের উচ্চমর্ধাদার কথ মনে রেখেই এই সব বিরোধী সম্প্রদায় তাদের 
ত্রাঙ্গণাধর্ম বিরোধী বক্তবাকে উপনিষদেব আকারে রূপ দিতেন। এলে উল্লেখ্য, অন্মঘোষ- 
কত 'বজসুচী?র জাপানী অনুবাদের ভূমিকায় অনুবাদক ডঃ তাকাকুসু অ্ঘোষের গ্রন্থখানিকে 
“বলসূচী; উপনিষদের টীকা বলে গণ্য করেছেন। 

৩০. আমাদেব জাতীয়তাবাদের ক্রম-অভিব্যক্তির ইতিহাসে ম্পষ্টত ছুটি স্তর আছেঃ 
(১) হ্বদেশচেতনার জন্ম ও পরিণতির পর্ব ॥ (২) পরাধীনতামুক্তির আকাঙ্ষ৷ ও তার অন্য 
সংগ্রামের পর্ব। উনবংশ শতাব্দীর নবজাগৃতির নীয়কগণ প্রায় সকলেই অনুভব করেছিলেন 
স-পাশ্চাত্য ষভ্যতা৷ ও সংস্কৃতির সংশ্পর্শে ভারতবর্ষের চিত্তভাগ্ডার সমৃদ্ধ হচ্ছে__মধ্যযুগের: 
অন্ধকার ও বিশৃঙ্খল! থেকে ভারতব্ধ আধূনক যুগের জ্ঞানালোকদীপ্ত ভূমিতে উত্তীর্ণ 
হতে চলেছে। ইংরেজ শাসন মাধামে এই পাশ্চাত্য সংযোগ সম্ভব হয়েছিল বলেই 
ইংরেজ শাসনকে তার! ম্বাগত জানিয়েছিলেন । তাদের যুগ-_আধুনিক ভারতীর জাতীয়তা- 
যাদের জন্ম ও ক্রমপরিণতির যুগ। এই জাতীয়তাবাদের জদ্মেরও প্রধান কারণ পাশ্চাত্য- 
সংস্পর্শ । ইংরেজ শাসন সম্পর্কে সম্পূর্ণ মোহ্মুক্তি ঘটতে দীর্ঘকাল লেগেছিল। উনবিংশ 
শতাব্দীর একেবারে শেষের দিকে ও আরও স্পষ্টভাবে বিংশ শতাব্দীর আরম্ভ থেকে পরাধী'নতা- 
মুক্তির আন্দোলন শুরু হয়। অব্য উনবিংশ শতাব্দীর নবজাগরণপর্বে রাজনৈতিক 
ক্বাধীনতার প্রসঙ্গ ঘে একবারের জগ্যও উচ্চারিত হয় নি তা নয়। কিন্ত এসব জল্পন! 
বা আলোচনাও ছিল প্রায় সবটুকৃূই বিমূর্ত ও ভাবসর্বস্ব। কেউই ভাবেন নি--ভারতবর্ষের 
অবিলদ্বে স্বাধীনতালাভ বানুবতার দিক থেকে সম্ভব। 

৩৪, 75781851% 57০15 5০1. ] 0. 10. 

৩৫. 1840 £৮. [ড় 0. 203. 

৩৬, 19৫ 02৮, ]]] 0, 85. 

৬৭, 1960: 0900367006 1/০90£6 2215 ]' 17১06 [0005 1, 78288 1842) 2, 187. 

৩৮, 4১51200 ০%70 ৮০ এ ঈগদ্দ 567559, 980662097 60708062027, 
9985 20. 929. 


৪৭ 


৩৯. প্রসন্নকৃমার ঠাকুর সম্পাদিত [12 757-এ প্রকাশিত ও 17012 0০:66, 
22 ৪20৬৯ 1838-এ উদ্ভুত ; ডঃ যতীন্ট্রকুমার মজুমদার সম্পাদিত 17010) 56765 
01৮0 1900%41761565 0:70100151% 2616 (1821-1919) - (1.0708208708 39910, 08700৮৬ 
1987) 7. 48 ; আরও দ্রষ্টব্য 19027655189 1৬০$৫7/6155 ০. 9205, 0. 394. 

8০, 71017716510 ০1 1116 00171187571 (1848), 

৪১, এ. 0 118)970083 (90+) 98165066015 1901) 17050 ৬1৫601501৮0 10064176005 
01) 4310151 16916 (1821-1919) 00, 96-31 : 17105765616 24096776115 ০. 29], 
70, 434-95 ? একই তারিথে (১৩ জুন, ১৮২৯, ১ আঘাঢ ১২৩৬) 86782] 1761016-এর 
বাঙল! অংশ 'ব্তদ্বত'এ-এর বঙ্গানুবাদ প্রকাশিত হয়েছিল 'গোঁড়াদশে ্রীবৃদ্ধি' শিরোনামে, 
র্টব্য ব্রজেন্্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, সংবাদপত্রে সেকালের কথা (চতুর্থ মুদ্রণ) প্রথম খণ্ড, 
পৃঃ ৩৫২-৫৪। 

৪২, £700765516 44086161505 0, 2809. 

৪৩, 00116 7070. 16:-68. 

৪৪, 28007655166 14 0$61761)5 00, 994.96. 

৪৫, 00119 700. 994-96. 

৪৬. 17012 7226006, 6:08: 1834; পুনমুদ্রিত 7776 ০910%66 616 
ড০], &%, ০. 1 (০০৮০১৪: 1996) 0. 69. 

৪৭. ভা, 9০০:৪৪৮৩ 41677012] 01 01৮ 01606077006 ৫70৫ ৫8111] 5015 2720610 
[. 2. 5০065চ9 %)10 1610 83166) চা) 46585 10606177661 31) 1934. 1,920807 2897, 
0.6. 

৪৮, লওনস্থ ইণ্ডয়। অফিসের পক্ষ থেকে শ্রীমতী জেন ববিংটন ১১ আগস্ট ১৯৭২ অশেষ 
সৌজন্যসহকারে আমাকে এই বিবরণটির জেরকস_ প্রতিলিপি পাঠিয়েছিলেন । প্রতিলিপির 
উপর লিখিত এট০, 1689. 10010097 566. ভাঃ]] 9৪. 89০898107080. 19667 
পাণুলিপিখানির পৃষ্ঠ সংখ্য। চার। উল্লিখিত পঙ-ৃক্তগুলি তৃতীয় পৃষ্ঠায় আছে। ষষ্ট পরিশিষ্টে 
সমগ্র বিবরণটি মুদ্রিত হল । 

৪১৯. গ্রস্থাঝজী *, পূ: ৩। 

৪৯, [70175 7০715 58. স্ব 20. 67-68 1) আরও দ্রষ্টব্য 44700981) 77215 7০74 
৮. ছ্. 00. 66-66 1 99০০৫ /06881॥ 57৮21251৮ 57015 66, ৬] 00, 28-80, ££। 
47108] &700598]1) 11)61651% ড7০01715 (3)? ০1 1, 0- 968. 

৪১, 79761151 ৮7০75 ৮, হা 0. 66. 

৫২, 106 70, 90. 

৫৩, 1060 0, 9৫. 

৫৪, 40569619708 0৫ 409675 ০0 106 ৫1028] 9586500 0£ 17008? শীর্ষক 


প্রশ্োত্তরমালায় ৬৪, সংখ্যক প্রশ্সের (০20 0086 01888 ০01 20060 ০৪1৫ ০৩ ৪৪190$ 


৪৩ 


856 19055 10 6005 11001051০০০?) রামমোহন প্রদত্ত উত্তর ) বিশেষ দ্রষ্টিব্য-_ 
£721157) 70715 111 2, 81 

৫8৪. 1102165519৩ 1৬০61761515 ০. 196, 020. 968-70. 

৫৬. 17781151% 57075 22 0. 66. 

4৭. 1010 0. 4৮5, 


৫৮, 1010. 
৫৯. 701, 13%11 17600৬7 27 1890, 00968 10. 005 4১51৫00০087] ০1 21, 


ভয 59718৪ (1187 60 /১080৪৮ 1830) : £818610 1069111067)99, 0. 209; আরও 
জরষ্টরা দেবেজ্জনাথ ঠাকুর, ব্রাহ্মসমাজে পঞ্চবিংশতি বৎসরের পরীক্ষিত বৃত্তাত্ত (নব সংহ্করণ, 
কলিকাতা ১৩৬) পৃঃ ২৬। 

৬*. চতুর্থ পরিশিষ্ট দরষ্টবা। 

৬১. 0০119৮-এর চতুর্থ পরিশিষ্টরূপে ন্যাসপত্রথানি মুদ্রিত হয়েছে। 

*২. তত্ববোধিনী পত্রিকা, আশ্বিন, ১৭৮৯ শক. পুঃ ৮৯-৯২ ) দেবেল্্রনাথ ঠাকুর, ব্রাহ্ম- 
সমাজে পঞ্চবিংশতি বৎসরের পরীক্ষিত বৃত্তাত্ত (নব সংহ্করণ, ১৩৬০ বঙ্গাব্দ) পৃঃ ১৩। 

৬৩. বিপিনচন্ত্র পাল, নবযুগের বাংল! (কাঁলকাত| ১৩৬২) পৃঃ ৩৬-৩৮, ৪১। 

৬৪, 127/00,51% 57০75 ০৮ [ড় 0. 1থ7 1; অধাপক রমেশচক্র মজুমদার (01 8777 
10147 159 [- 49) রামমোহনের এই বিশ্বমানবিক চেতন! সম্পর্কে একটি অদ্ভুত 
উক্তি করেছেন : “05702001788 90520070011650750 021 106908007811017) 7 
095 89566 07 10181)07 51606) 006 16180106906 1707) 786100 81187005 800. (0: 
৮075 08601961800 850 0861008] 901090100870988, 1101) 21)871080 10)5 2৪ &£9, &2৪ 
3870881)8 &5 1097102108 10098 6০ 7)670210 65৪1 70076 6020 605 &0868০0% 10898 
01 17980000 01087181১90 ৮3 [79170001080 000061) 00৪5 আ৪75 91 1108:8] 800 
8০১1৪, | ডিরোজিও এবং তার প্রভাবমণ্ডলের অন্তর্গত তরুণ শিক্ষিত সমাজের সঙ্গে 
রামমোহনের চিন্তাধারার সম্বন্ধ বিষয়ে সপ্তম অধ্যায়ে সবিস্তারে আলোচনা করেছি। এখানে 
বালা হলেও কেবল এইটুকু বলা কর্তব্য দেশচৈতন্েব সঙ্গে বিশ্ববোধের কোনও মৌলিক 
বিরোধ নেই। আধুনিককালে রামমোহনের চিন্তাতেই সর্বপ্রথম সুসমগ্রস ভারতচেতনা আত্ম- 
প্রকাশ করেছে এবং তার সঙ্গে পূর্ণ সঙ্গতি রক্ষা! করে বিশ্মমানবিক দৃষ্টিও। জাতীয় সংস্কৃতি 
সম্পর্কে তার গববোধ বেদাস্তশাপ্রের আলোচন! ও প্রচার-হিন্দু-মুদলমানে সমদৃষ্টি, উদীয়মান 
মধ্যবিত্ত শ্রেণীর এতিহাসিক ভূমিকা সম্পর্কে সৃম্প্ট ধ।প্ণা, কৃষিভিত্তিক ভারতীয় সমাজে 
বিশাল কুবককুলের গুরুত্ব সম্পর্কে নিভু ল অন্তরূ্টি ও জমিদারের অতাচারের বিরুদ্ধে কৃষক- 
বার্থ রক্ষার জগ্ত কতৃপক্ষের নিকট সৃপারিশ, ভারতের ভবিস্তৎ কল্যাণের জন্য আমৃতু অক্লান্ত 
পরিশ্রম-প্রতিপদে তার দেশবাৎসল্য প্রকাশ করে। হ্বামী বিবেকানন্দের মত ম্বদেশ- 
প্রেমিকের দেশভক্তিও রামমোহন কর্তৃক অনুপ্রাণিত। দ্বামীজি একদ| হ্বশিস্ত। ভগিনী 
নিবেদিতাকে বলেন, তিনটি বিষয়ে তিনি রামমোহন নিদিষ্ট পন্থা অনুসরণ করেছেন ।__ 


(১ বেদাস্ত অনুশীলন ও প্রচার, (২) দেশতভি ও (৩) হিল্গু-সুসলমানে সমদৃষ্টি ( ১1৪ 
89980681006 ০ ৮05 60570681088 03580108508 ০£ 2296:106$520 0৫ 6195 1059 6০৪৮ 
970025950 0005 01588010002) 600৯]]3 ১০৮, 6০৪ 13556.) | (দ্রষ্টং) 91991 9৫56৪ 
20665 07 5০776 চ701,067065 8৮৫1৮ 5%/০1% ৬ /6101/7৫ 05199665 1948. 0. 16 )। 
বস্তত নিরপেক্ষ তথ্যনিষ্ঠ বিচারে রামমোহুনকে স্বদদেশচেতনার আ![দগুর হিসাবে স্বীকার ন। 
করে উপায় নেই। বঙ্িমচন্ত্র বাঙ-লাদদেশে আধুনিককালে স্বদেশপ্রীতির উত্তবের কথা যলতে 
গিয়ে তাই বখার্থভাবেই রামগোপাল ঘোষ, হুরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় ও ঈীশ্বরচন্্র গুণের সঙ্গে 
রামমোহনকেও ল্মরণ করেছেন এই ক্ষেত্রে আদিপুরুষ রূপে ( “দেশবাৎনল] পরম ধর্ম, কিন্ত এ 
ধর্ম অনেক দিন বাঙ্গাল! দেশে ছিল না। কখনও ছিল কিন! বলিতে পারি না ।-- **-মহাস্। 
রামমোহন রায়ের কথ! ছাড়িয়া দিয়। রামগরোপাল ঘোষ ও হরিশ্ন্ত্র মুখোপাধ্যার়কে বাঙ্গালা” 
দেশে দেশবাৎসল্যের প্রথম নেতা। বল! যাইতে পায়ে।, --ঈশ্বরচন্ত্র গুপ্ত-জীবনচরিত ও 
কবিত্ব'-_তৃতীয় পরিচ্ছেগ )। অপর পক্ষে জাতীয়তার ভিত্তিতে প্রত্ভিত থেকেও রামমোহনের 
দৃষ্টি সার্বভৌমিক। গার প্রতিভার এখানেই বিশেষত্ব। এক্ষেত্রে তার যোগ্য উত্তরসূরী 
রবীন্দ্রনাথ । অবশ্য রামমোহুনের এই বিশ্বমানবিক চেতন! তার যুগের তুলনায় অনেক বেশী 
অগ্রলর ছিল। সে বুগে ভারতে কেন, পাশ্চাত্য দেশেও এর মর্মখ্রহণ করবার যোগ্য মানৃষ 
প্রায় ছিলেন ন৷ বললেই হয়। এযুখেও এর বৈশিষ্ট বুঝবার ক্ষমত|। যে সকলের নেই 
রমেশচন্ের দৃষ্টান্ত থেকেই তা বোঝ! গেল। 


৪9৫ 


ভ্িভীক্ম অন্র্যা্স 


রামমোহন রায় ও শাস্ত্র 


হিন্সধর্ম ও হিন্দুসমাজের সংস্কারকরপেই মুখাত রাঁমমোহনের পরিচয় ও 
€তিষঠা। সমসাময়িক প্রধান ধর্মমতগুলির বিস্তারিত আলোচনা করে তিনি 
ধর্ম ও সমাজ সঙ্গন্ধে তার নিজসিদ্বান্তে উপনীত হয়েছিলেন। হিন্দু, মুসলমান 
ও খ্রীষ্টান ধর্মত্রয়ের আলোচনা প্রসঙ্গে শাস্ত্প্রামাণোর প্রশ্নটি তাঁর নিকট স্বভাবত 
খুব বড় হয়েই দেখা দিয়েছিল__কেননা এই সব ধর্মই কোনও না কোনও 
ভাবে শান্্বাকাকে সর্বোচ্চ প্রমাণ গণা করেছে। বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মদ্য়ে অবশ্থ 
হিন্ধর্মের মূল প্রমাণ বেদ অগ্রাহা, কিন্ত এগুলিরও প্রামাণিক শাস্গ্রস্থের বা 
আগ্তবচনের যে একেবারে অভাব ছিল এমন কথা জোর করে বলবার উপায় 
নেই। জৈনসপ্্রদায়ের কাছে বর্ধমান মহাবীর ও তাঁর পূর্ববর্তী তীর্থংকরগণের 
উক্তিগুলি শ্রেষ্ঠ প্রমাণরূপে স্বীকৃত__এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে “শ্রুত'। এই 
স্থভাধিতাবলী যে শাস্ত্রের অস্তভূ ক্ত-_তার নাম দেওয়া হয়েছে 'অঙ্গ'। নিষ্ঠাবান 
জৈনের নিকট এই অক্ষ, হিন্দুর নিকট বেদের মতই মান্য । দিগম্বর জৈন- 
সম্প্রদায়ের চারখানি প্রামাণিক শাস্তগ্স্থ হল (১) প্রথমান্থুযোগ, (২) করণান্থযোগ, 
(৩) ভ্রবান্ৃযোগ, ও (৪) চরণীম্যোগ। এই গ্রন্থচতুষ্টয় দিগম্ধর জৈনসম্প্রদায়ের 
'চতুর্বেদ' আখায় পবিচিত। তেমনি কার্ধত বৌদ্ধধর্মে গৌতম বুদ্ধের বচনরূপে 
প্রসিদ্ধ উক্তি সকল- ব্রাহ্মণাধর্মে বেদের যে স্থান_-কতকটা তার অনুরূপ স্থান 
গ্রহণ করেছে। সম্প্রদায়তুক্ত শ্রদ্ধাশীল বৌদ্ধের দৃষ্টিতে সমগ্র ত্রিপিটকশান্ত্রই 
ু্ধবচনরূপে মান্য। পালি বৌদ্ধশান্তের স্থপ্রসিদ্ধ টাকাকর্তা বুদ্ধঘোষ “অভিধন্ম- 
পিটক'-এর 'অথশালিনী' নামক যে টাক1 রচনা! করেছেন তাঁর মধ্যে ব্রিপিটকের 
কোন্‌ অংশকে 'বুদ্ধবচণ' বলা যাবে এ সম্পর্কে একটা বিচার আছে। বুদ্ধ- 
ঘোষের সিন্বান্ত__ ত্রিপিটকের অন্তর্গত তগবান বুদ্ধের স্থ্পরিচিত উক্তিগুলিই 
ঘে কেবল আধবাকারপে মান্য তাই নয়, বুদ্ধের সাক্ষাৎ শিষ্যগণের উক্তিকেও 
ুদ্ধবচনের মর্যাদা দিতে হবে ; কেননা তারা এ সকল দেশনা বুদ্ধের স্বমুখ থেকেই 
শ্রবণ করেছিলেন। এখানেই শেষ নয়। বুদ্ধের পরবর্তী কালে যে সকল গ্রশ্ 


৪৬ 


ব্রিপিটকের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে_ বুদ্ধঘোষ এগুলিকেও প্রকারান্তরে প্রামাণিক বুদ্ধ- 
বচনের মর্ধাদা দিতে কার্পণ্য করেন নি। “কথাবখ নামধেয় অভিধম্মগরস্থটি 
ষটপূর্ব তৃতীয় শতকে তৃতীয় বৌদ্ধ মহাসঙ্গীতির অধিবেশনে ত্রিপিটকের 
অন্তভু্তি হয়। 'কথাবখ,প পকরণ-অট্ঠকথা? নামক এর যে টীকা বুদ্ধঘোষ 
লিখেছেন তাতে তিনি মতপ্রকাশ করেছেন-_ আলোচ্য গ্রন্থখানি ( বুদ্ধের ছুই 
শতাব্ধী পরে সংকলিত হলেও ) -_বুদ্ধবচনরূপেই গণ্য, কেনন৷ সর্বজ্ঞ ভগবান 
বুদ্ধ তার প্রজ্ঞাদৃষ্টির লাহাযো তার জীবদ্দশাতেই ভবিষ্যতে রচনীয় এই গ্রন্থের 
বিষয়স্থচী ও বচনাপদ্ধতি নির্ধারণ করে গিয়েছিলেন; বুদ্ধপবিনির্বাণের 
ছুই শতাব্দীরও অধিক কাল পরে মৌর্ধসম্রট অশোকের রাজত্বে অনুষ্ঠিত 
তৃতীয় মহাসঙ্গীতির অধিবেশন উপলক্ষে স্থবির মোগগলিপুত্ত তিস্স “কথাবখ 
নামধেয় যে গ্রস্থ রচনা করেন ওযা ত্রিপিটকের অস্তভুক্তি হয়, তা! সেই বুদ্ধ- 
বচনেবই অস্থবর্তন মাত্র। এই যুক্তিতে বুদ্ধঘোষ সমগ্র গ্রস্থখানিকেই বুদ্ধবচনের 
মর্যাদা দান করেছেন ।১ 
ভারতীয় দার্শনিক বিচারে নিধিচারে গৃহীত এই শ্রুতিপ্রমাণ বা আধ্ব- 

সাক্ষ্যের বিরুদ্ধ কথস্বর যে কখনও শোন! যায় নি তা অবশ্য নয়। তৃতীয় অধ্যায়ে 
বেদাস্তবিদ্‌ রূপে রামমোহনের মূল্যয়িন প্রসঙ্গে আমর] দেখতে পাব তিনি শান্- 
বিচারের ক্ষেত্রে যুক্তিমার্গের প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে গিয়ে বৃহস্পতির নামে 
প্রচলিত এক বচন নিজমতের সমর্থনে ব্যবহার করেছেন £ 

কেবল শান্ত্রমাশ্রিত্য ন কর্তব্যো৷ বিনির্ণয়; | 

যুক্তিহীনবিচারেণ ধর্মহানিঃ প্রজায়তে ॥২ 
“কেবলমাত্র শাস্ত্রের উপর নির্ভর করে কোনও কিছু সম্পর্কে স্থির সিদ্ধাস্তে 
আসা উচিত নয়। বিচার যুক্তিহীন হলে ধর্মহানি ঘটে ।” তেমনি বুদ্ধের মুখে 
বৌদ্ধ আচার্ধগণই এমন বাণী সন্নিবেশ করেছেন : 

তাপাচ্ছেদাচ্চ নিকযাৎ সথব্ণমিব পণ্ডিতৈ:। 

পরীক্ষ্য ভিক্ষবো গ্রাহাং মদ্ধচো ন তু গৌরবাৎ ॥* 
“জ্ঞানিগণ যেমন ত্বর্ণকে ছেদন করে, উত্তপ্ত করে, কষ্টিপাথরে ঘর্ষণ করে তার 
যাথার্ঘ্য পরীক্ষ! করে তাকে গ্রহণ করেন, তেমনি হে ভিক্ষুগণ, তোমরা আমার 
উক্তি পরীক্ষা করেই গ্রহণ করবে, আমার প্রতি শ্রদ্ধাবশত নয়।” জৈন 
দার্শনিক সংগ্রহকার হরিভদ্রস্থরি রচিত “যড়দুর্শনসমূচ্চয়' গ্রন্থের জৈন টীকাকার 


৪৭ 


মণিভদ্র ৫৪" সংখাক ক্সোকের ব্যাখা! প্রসঙ্ষে উদ্ধত করেছেন প্রায় একই 
শ্রেণীর একটি আশ্চর্য শ্লোক : 
পক্ষপাতো ন মে কীরে ন দ্বেষঃ কপিলাদিযু। 
যুক্তিমদ্ধচনং যন্তয তশ্য কাধ; পরিগ্রহঃ ॥£ 

“মহাবীরের প্রতি আমার কোনও পক্ষপাত নেই; (সাংখাকার ) কপিল 
প্রভৃতির প্রতিও কোনও বিরাগ নেই; যিনি যুক্তিযুক্ত কথা বলেন তার মত- 
গ্রহণই কর্তবা।” দেখা যাচ্ছে শাস্ত্রীয় বা বাক্তিগত আগ্তবচন এবং 'যুক্তির 
মধো আপাতবিরোধের সমস্তাটি প্রায় সব সম্প্রদায়ভূত্ত চিন্তাশীল ব্যক্তিগণের 
কাছেই কোন না কোন সময়ে প্রবল হয়ে দেখা দিয়েছিল। তবে এটা 
সম্পূর্ণ বাক্তিগত পরধায়েরই কথা। কার্যত আন্তিক ব্রাহ্মণ দার্শনিকগণ বা 
বুদ্ধ ও মহাবীরের শ্রদ্ধাশীল অন্গবত্তিগণ দীর্শনিক বিচার প্রসঙ্গে সর্বদা এতটা 
মুক্ত ও নিরপেক্ষ মনের পরিচয় দিয়ে এসেছেন কিনা সন্দেহ । রামমোহন 
হিন্মু-মুসলমান-্রীষ্টীয় শান্ত অতি নিষ্ঠা ও শ্রম সহকারে অধ্যয়ন করেছিলেন 
একথা স্থবিদিত। বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মশান্ববয়েও তার যে সম্ভবত কিছু প্রবেশ 
ছিল প্রথম অধ্যায়ে তার ছু'একটি সমসামূয়িক প্রমাণ উপস্থিত করা হয়েছে ।' এই 
স্ববিস্তী্ণ শান্তজ্ঞানের পাশাপাশি তিনি অধিগত করেছিলেন পাশ্চাত্য জঞান- 
বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদ । ন্থতরাঁং ধর্মের নৃতন যুগোপযোগী সংস্কারের প্রশ্নে 
প্রচলিত ধর্মগুলির শান্তপ্রামাণ্যে বা আঞ্তবচনপ্রামাণ্যে বিশ্বাস ও আধুনিক 
মনের যুক্তিণীলতা ও বিচারপ্রবণতা__এই ছুই আপাত-বিরোধী চিন্তাধারার 
সামগ্রশ্যবিধানের সমস্যাটি তার সম্মুখে প্রবল ও জটিল রূপেই বর্তমান ছিল। 
তার জীবনব্যাপী অনুশীলন ও অনন্যসাধারণ ধীশক্তির দ্বার! তিনি এর একটি 
মমাধানও করেছিলেন যা আধুনিক কালের চিন্তায় যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ । বিষয়টি 
কিছু বিস্তারিত আলোচনার দাবী রাখে। 

রামমোহন তার প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ “তুহ ফাৎ-উল-মুওহাহিদিন্*-এ 
পরিপূর্ণ যুক্তিবাদীরূপে আত্মপ্রকাশ করেছেন । এই গ্রস্থথানি আর্বী ভূমিকা 
সংবলিত ফারী রচনা, প্রকাশিত হয় আহ্থমানিক১৮*৩-০৪ গ্রষ্টাব্দে। যদি 
প্রকাশকালের উক্ত অনুমান নিভু'ল হয় তাহলে ধরতে হবে এ গ্রন্থ রচিত 
হয়েছিল লেখকের ৩০-৩২ বৎসর বয়সে-যে সময়ে তাঁর বুদ্ধি ও বিচারশক্তি 
পূর্ণ পরিণতি লাত করেছে। শোনা যায় কিশোর বয়সে তিনি প্রচলিত হিন্দু 


৪৮ 


প্রতিমাপূজার নানা দৌোষ-ত্রটি প্রদর্শন করে ফার্সী ভাষায় এক গ্রন্থ রচনা 
করেন, কিন্ত এমন কোনও গ্রন্থ অগ্যাবধি আবিষ্কৃত হয়নি। 'তুহ ফাৎ গ্রন্থে 
তিনি (ফার্সা বা! 'তুহফাত'-এর মত মিশ্র আর্বী-ফার্সী ভাষায় ) স্বরচিত 
মনাজাবাৎথউল্-আদিয়ান্ ( “নান! ধর্মের বিচার”? ) নাঁষক এক গ্রন্থের উল্লেখ 
করেছেন_কিন্তু এখানিও আজ পর্যস্ত অনাবিষ্কৃত। স্ৃতরাং দুর্ভাগ্যবশত তার 
পূর্ণ যুক্তিবাদী দৃ্টিভঙ্গীর আলোচনার জন্য 'তুহ ফাৎউল-মুওহাহিদিন' 
পুক্তিকাখানিই আমাদের একমাত্র সম্বল। 

'তুহ ফাৎ, গ্রন্থটি বিশ্লেষণ করলে ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতা সম্পর্কে রামমোহনের 
তৎকালীন যে কটি সিদ্ধান্তের পরিচয় পাওয়া যায় তা এই: (১) সকল 
ধর্মেই জগতের কর্তা ও বিধাতা একজন পরমেশ্বরের অস্তিত্ব স্বীকার করা 
হয়েছে। এই বিশ্বাস বিশ্বজপীন। মানুষ স্বভাবত এক অনাদি অনস্ত ঈশ্বরে 
বিশ্বাস করে। স্থৃতরাঁং মানুষের পক্ষে তা স্বাভাবিক । এই জগতৎ্কর্তা পরমেশ্বরে 
বিশ্বান কোনও কৃত্রিম উপায়ে কেবল অভ্যাসের বশে মান্ষের মনে উৎপন্ন হয় 
না। মানবমনের স্বাভাবিক গতি ঈশ্বরবিশ্বাস অভিমুখী । 

(২) দ্েহাতিরিক্ত আত্মায় এবং পরলোকে বিশ্বাস সকল ধর্মের ভিত্তি। 
এই পরলোককে এমন এক স্থানরুপে কল্পনা করা হয় যেখানে মানুষ মৃত্যুর পরে 
সংসারের অনুষ্ঠিত তার পুণ্য বা পাপকর্মের জন্য পুরস্কার বা দণ্ড লাভ করে। 
যদিও আত্মা বা পরলোকের অস্তিত্ব মান্ববুদ্ধির অগম্য এক গ্রপ্ত রহস্ত--তবু এই 
বিশ্বাসের সামাজিক মূল্য আছে, কারণ পারলৌকিক শান্তির ভয়ে সাধারণ মানুষ 
জীবদ্দশায় পাপানুষ্ঠানে বিরত থাকে (45 0) 10150901012 ০৫ 16511810105, 
15 12550 01) 0106 1061166 117) 006 23150621705 0৫6 5001] [ড/1)101) 13 
069076 00 95 ৪. 50050805 £০€17117£ 0০৫5] ৪:00 ০01) 00০ 
53015021306 01 006 17626 আ০1]ন জ1)1010 13 19610 €০ ০6 09০ 019০৪ ০0: 
16068151108 50106158100] 107 005 €0০00 2190 251] 0669 00176 11) 
1১15 ড০110 86661 006 56021801017 06 006 800] 20100 006 00৫5 ; 
00065 [10817101707] 816 00 92 6300560 11) 80170100176 ৪150 (22017 
175 0৮০ 000০0106026 55156210601 0196 300] 2150 0176 10650 ০110 
৪1070081) 006 1621] 61962170201 800] 2120. 006 10656 ৮0110 13 
10100612- ৪190 00596610105, 601 006 82105 ০0৫ চ761916 0: 076 


৪৪৯ 


৪০116 [5০০1609] ৪3 0065 51211551007 005 ভি ০৫ 01019191060 
|) 056 76৮ ড/0110.----16রিনয। 020 00101015510) 0: 1016881 
05605.) ।" 

(৩) বিশেষ বিশেষ দেবতা, মহাপুরুষ, আচার, অনুষ্ঠান, শাস্ত্র বা উপাসনা- 
প্রণালীতে বিশ্বাস মানুষের পক্ষে স্বাভাবিক নয়; এ সব তার পরিবেশ, শিক্ষা 
ও অভ্যাসের ফল। এক্ষেত্রে সম্প্রদায়ভেদদে বা দেশ-কাল-অঞ্চল ভেদে 
ধর্মবিশ্বাসের মৌলিক প্রভেদ দেখা যায় (6 1015 ০1627 0090 €৬€1:5০076 
11) 11701080101) 0৫ 015 10015100813 01 01)6 1)80101% 810001)8 19000 
[১1795 10661) 0005100 00, 0101555 006 23150675020 2 09107 
০9]71 [01৮101গ [10 081000187 8001000655 85010106000 1017] 
৪10 ৪001015 ০810911) 161)605 6091109117)6 0096 08270009127 ০:6৪. 
ঢ0: 110501)06 30106 01 00160) 02116৬6 11) ৪. 300 00811960710) 
1000081 20001000655 85 80661, 10060০5* 10800502100. 10৬6; 8100 
00065 0611656. 11) & 8611)6 00100001 61161)01106 2100 63621001706 81] 
0৮611990112; 2 12 916 110111)50 00 21011219510) 01 01311010176 006 
10217 (0006) ০01: 72576 95 076 0128052 0101010916 ০01 006 
[01015 8156, 8190 30106 01 00610 £1৮2 [01৩1175 20001000653 00 15185 
০6866 0611)85 ৪150 008156 0106) 0015505 ০ 0151010.) 1" এই 
প্রসঙ্গে রামমোহন মানুষের স্বভাবগত ও অভাসগত বিশ্বাস ও আচরণের মধো 
স্পষ্টত পার্কা করেছেন £ 0256 76750105009 1706 2081:6 81 
01501750011 ০6৮62 006 ০611605 15101) 2165 0102 1250165 0: 2. 
306015] 00911911768 178010 210 ৪1॥ 20501016 176116£ 10; 002 
১০৪০৫ 0 01680101) ড/1)101) 15 21) 17801561758] 017278002115010 
28 00910101770.-1780. 00616 9661) ৪1) 768] 65০6 0£ 0656 
17098118875 [1011085 10 000050108৬5 0661) 00101001810 211 170911013 
০% 0166761)0 67508510195 ৪10 51)00]0 17006 1)8%6 19661) 001591760 
6০ 010 79800150193 719:010155 1১611658700 18105, [02 21000041 
0) 08:66 ০৫ 09 906080 ০৫ 66০৮ 57169 2০০070786০0 


006 0161616০808 05069 ০৫ 7615075 501606 6০ 16 950 10 19 


৮ পি 


906 06961705100 0001) 006 61166 016 2. ০6210 06116% 2) 1” 
উল্লেখা যে তিনি নিরীশ্বরবাদদকেও মানুষের অভ্যামগত বিশ্বাসের (1৪010) 
অন্তর্ত/ক্ত করেছেন__শ্বতাবগত বৃত্তির (0৪৮:6) নয় । | 

(9) ঈশ্বর ও পরলোকে বিশ্বাস__মান্ুষের স্বভাবগত সার্বভৌম এই বৃত্তি- 
হয়কে বাদ দিলে মানুষের অভ্যাসগত সংস্কার ও অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে বাভন্ন 
ধর্মসন্প্রদায়ের মধ্যে প্রচুর মতভেদ ও পার্থক্য দেখা যায়। পরস্পরের মত খণ্ডনে 
এর! সর্বদাই সচেষ্ট ও সক্রিয়। স্থতরাং স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন জাগে-_-এই সব 
ধর্ম গুলিই কি সত্য ? অথবা সব ধর্ম মিথ্যা? সর্ব ধর্ম সত্য-_-এ কথা স্বীকার্ধ নয়, 
কেনন] বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী ঈশ্বরের স্বরূপ সম্পর্কে বিপরীত মত পোষণ করেন এবং 
এক ধর্মের আচার-অনুষ্ঠান সংক্রান্ত বিধি অপর ধর্মে নিষিদ্ধ। এই পরম্পর- 
বিরোধী সিদ্ধান্ত ও ব্যবস্থাসমূহের সব কটি এক সঙ্গে বা এককালে সতা হতে 
পারেনা। আবার কোনও এক বিশেষ সাম্প্রদায়িক মত সত্য ও অবশিষ্ট 
সকল ধর্ম মিথ্যা এমন কথাও স্বীকার করা যায় না। ঈশ্বরের স্বরূপ, পরকাল, 
মুক্তি ও ধর্মের বাহ্‌ অনুষ্ঠান বিষয়ক কোনও বিশেষ ধ্সম্প্রদায়ের প্রচলিত 
বিশ্বাসগুলির পক্ষে এমন কোনও অমোঘ যুক্তি নেই যা প্রমাণিত করতে সক্ষম 
যে এই বিশেষ ধর্মটিই সত্য এবং অন্য সব ধর্ম মিথ্যা। এই অভ্যাসগত সংস্কার ও 
বিশ্বাস সর্বমানবের পক্ষে স্বাভাবিকও নয় ব! সর্বমানবের জ্ঞানের বিষয়ও নয়। 
স্থতরাং ধারা বলেন_ তাদের ধর্মই একমাত্র সত্য, অন্য সব ধর্ম মিথ্যা-তারা 
অযৌক্তিক কথ! বলেন। যখন সব ধর্ম সত্য একথ৷ স্বীকার করা যাচ্ছে না, 
কোনও বিশেষ ধর্ম সত্য-_তাও যুক্তিদ্বারা প্রতিষ্রিত করা যাচ্ছে না__তখন 
সিদ্ধাত্ত করতেই হয়, সব ধর্মই মিথ্যা। তা না বলে যদি বলা যায় কোনও 
কোনও ধর্ম মিথ্যা এবং কোনও কোনওটি সত্য--তাহলে সে যুক্তি আর্বী 
তর্বশান্্র অনুসারে 'তঞ্জিবিলা মূরাজ্জে' বা "অহেতুক অযৌক্তিক পক্ষপাতিত্ব 
দোযছুষ্ট হয়ে পড়ে। 

(৫) ধর্মপ্রবতা ও ধর্মগ্তরুগণের উপর বিশ্বাসস্থাপন করা অযৌক্তিক ও 
নিরর্থক । ঈশ্বরই এ বিশ্বের সব কিছুর আদি কারণ। অবশ্ঠই তিনি ছাড়া 
কিছু গৌঁণ ও পরবর্তী কারণ আছে যার উপর মান্ষের অস্তিত নির্ভরশীল। 
উত্ত ধর্মনীয়কগণের তথাকথিত প্রাপ্ত ঈশ্বর-প্রত্যাদেশ সাক্ষাৎ ঈশ্বর-সষ্ট নতুবা 
কোনও গৌণ মধ্যবর্তী কারণসঞ্কাত। যদি এই প্রত্যাদেশ সাক্ষাৎ ঈশ্বর- 


৮:৫৯ 


প্রেরিত হয় তাহলে তার জন্য কোনও মধাবর্তী প্রবক্তা বা! গুরুর প্রয়োজন নেই ; 
কেন নাঁ যা সাক্ষাৎ ঈশ্বর-প্রেরিত তাতে সর্বমানবের সমান অধিকার ; আর 
যদি মধাবত্তিত স্বীকার করতে হয়-_-তাহলে একজন মধাবর্তীর পরিবর্তে একটি 
মধাবরতী-পরম্পর1 মানতে হয় যার কোনও শেষ নেই। কিন্তু দেখা যায় প্রচলিত 
শান্ত্রগুলি তা করেন নি-_অবতাঁর বা প্রবন্তাদের ধারাকে ইতিহাসের কোনও 
এক মুদুর্তে এনে ছেদ টেনে দিয়েছেন এবং ঘোষণা করেছেন এর পরে আর 
অবতার ৰা প্রবন্তা জন্মাবেন না । বিভিন্ন জাতি ও সম্প্রদায়ের মধ্যে এই জাতীয় 
বহু পরম্পর-বিরোধী পরম্পরা স্বীকৃত হয়েছে। অভ্যাস ও সংস্কারগত বিশ্বাসের 
ক্রিয়াই এখানে লক্ষণীয়-_এ বিশ্বাসের স্বাভাবিক বিশ্বজনীনতা! নেই । তাই রাম- 
মোহনের সিদ্ধান্ত £ “721,066 ৪0৮10 01 70101019505 8100 16৮61901010 1116 
00161 01)17565 117 1091016 06061)0 01901) €66]010)91 020565 10100 
1616161)06 (09 000 1, &. 0765 06196190 01901) 0106. 11) 61010101304 278 
17) 61700. 10101017605 €0০, 216 :1)00 09101019]1]5 00155101780 01 
11)3000010105 01 177 611660 016605. 13291065 7178 2. 1780101 02118 
৪ 60106 0৫ 002 169100, 21)001617 8115 16৪ (60106) 2015158017)6 0০ 
৪1) 61100060945 আ৪১৮ |৯ বামমোহনের যুক্তির সমর্থনে বলা যায়, নান। শাস্ত্রেই 
এই প্রেরিত-পরম্পরা বা 29509110 5000895109-এর দৃষ্টান্ত আছে। পঁচিশজন 
বদ্ধ-পরম্পরা, চব্বিশজন জৈন তীর্ঘক্কর-পরম্পরা ইহ্‌দী ও খ্রষটীয় প্রবক্তা ও প্রেরিত 
পরম্পরা প্রভৃতির শিদর্শন এই প্রসঙ্গে ম্মরণীয়। কুরাঁণে হজরৎ মহম্মদকে বল! 
হয়েছে নবীগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও শেষ । ইসলাম ধর্মে ইহুদী ও গ্রীষ্টায় প্রাক্তন 
ধর্মীচাধগণকেও পরম্পরাভুক্ত করে সম্মানিত স্থান দেওয়া হয়েছে। 

(৬) অলৌকিক (0818016), অতিপ্রাকৃত (31961800181), এতিহৃগত 
অর্থহীন সংস্কার প্রভৃতিতে বিশ্বাস সর্বথা বর্জনীয়। এই সিদ্ধান্তের স্বপক্ষে 
রামমোহন অনেকগুলি তীক্ষ যুক্তি দিয়েছেন; সংক্ষেপে সেগুলির মর্মোদ্ধার 
করা যেতে পারে । বিভিন্ন ধর্মগুরু ও ধর্মপ্রবক্ত! নিজেরা জনসাধারণের নিকট 
সম্মান ও গৌরব অর্জন করবার উদ্দেস্টে কতকগুলি অযৌক্তিক মত ব্যক্ত করেন 
এবং অলৌকিক শক্কি ও অলৌকিক ক্রিয়াকারিত্ের দাবী করে সেই মতসমূহের 
যাথার্থা প্রতিপন্ন করবার চেষ্টা করেন। এই ভাবে সাধারণ মানুষকে 
পরিত্রাণের লোভ দেখিয়ে তাবু! শিষ্ষ করেন। এদের অলৌকিক শক্তির 


২ 


মোহ সাধারণ মালগষের বিবেক ও বিচারবৃদ্ধি নষ্ট করে এবং তারা 
সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণতা ও বন্ধ আচারনিষ্ঠতার পথে অন্ধের ন্যায় এদের অনুসরণ 
করে। অলোৌকিকত্বের দাবী ও লোকমুখে প্রচারিত এই ধর্মগুরুগণসংক্রান্ত 
অসম্ভব কাহিনীসমূহ মান্থষের অযৌক্কিক অন্ধবিশ্বাসেরই পুষ্টিসাধন করে। 
লোকের ধর্মবুদ্ধি এই অনিষ্টকর প্রভাবের ফলে এতই বিকারপ্রস্ত হয় যে বিশেষ 
বিশেষ সম্প্রদায়ের কাছে মিথাকথন, চৌর্য, বিশ্বাসঘাতকতা, বাভিচার পর্যস্ত 
পবিজ্র ধর্মানুষ্ঠান রূপে গণা হয়--যেগুলি জনসমাজের পক্ষে অনিষ্টকর ও 
পরলোকে দুর্গতির কারণ। এই মোহ মানবমনকে এমনই আচ্ছন্ন করে যে যদি 
কারও চিত্তে কখনও স্বাধীন ভাবে সত্যনি্য্বের প্রবৃত্তি জাগে-_-সকলে, এমন 
কি সে বাক্তি নিজেও, নে ইচ্ছাকে পাপবুদ্ধি বলে নির্দেশ করে থাকে । 

(৭) প্রত্যাদিষ্ট বা আধুশান্ত্রের বাক্য বিশ্বাসের অযোগ্য, কেন না বিভিন্ন 
ধর্মশান্ত্রে পরম্পর-বিরোধী উক্তির সাক্ষাৎ পাওয়া যায়। হিন্দু শাস্ত্রে যে সব বিধি 
আছে তা অন্ধভাবে অনুসরণ করবার ফলে হিন্দুজাঁতির দুর্দশা] ও অধঃপতন 
ঘটেছে। অপরপক্ষে মুসলমান ধর্মশান্ত্রে বিধ্মশদের প্রতি অত্যাচার এমনকি 
তাদের হত্যা! করবার নির্দেশ পর্যন্ত স্থান পেয়েছে। একদল তাদের ধর্মশাস্ত্রের 
উপর নির্ভর করে বলেন, তাদের ধর্মগ্রবক্তার আবিভাবের সঙ্গে সঙ্গেই 
প্রবক্তাগণের আবির্ভাবকালের সমাপ্তি; আবার অন্য সম্প্রদায়ের মতে এশী বিধান 
এই যে, দায়ুদের বংশ যতদিন থাকবে- প্রবক্তা-পরম্পরা ততদিন চলবে। 
অন্যান্য সম্প্রদায় এই পরম্পরাকে প্রায় আধুনিক কাল পর্যন্ত টেনে এনেছেন, যেমন 
ভারতবধে নানকের সম্প্রদায় ; তাদেরও অন্রাস্ত শাস্ত্র আছে। এই স্ববিরোধগুলি 
অতি নিপুণভাবে দেখিয়ে রামমোহন বলছেন £ “বিণ, 216 00696 ০01)0:8- 
0100015 01505106501 0102153 00910515021) জ/100 002 13000, 211৫ 
00605 06 09০ £6৪6, £1)600105 2150 01511)061655660 052601 01 
212 01)652 006 191011580109105 0: 0১6 10110957215 01 16511810197 1 
01101 2 50010 101170 11] 200 1062810962 60 0166০ 006 12602 
81210080152 ৮ 1১০ 


(৮) স্বাধীন বিচারবুদ্ধি ঈশ্বরের শ্রেষ্ঠ দান। এরই প্রয়োগ করে এবং 
প্রত্যাদেশবাদ বর্জন করে, অন্ধভাবে কোনও শান্্রবিধানের উপর আস্থা না রেখে 
সদসৎ বিচারপূর্বক-_জাতিধর্মস্প্রদায় নিহিশেষে, সর্বমানবকে গ্রীতিপাশে বদ্ধ 


৫ 


করে-__উদার ও গভীর আধ্যাত্মিক জীবন গঠনই মান্গুষের লক্ষা হওয়া উচিত ॥ 
স্বাধীন বিচারবৃদ্ধির শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে এখানে রামমোহনের সিদ্ধান্ত অতি স্পষ্ট; 
“[3681069 (16 18০6 0£ 30905 6150০/115 2৪০1) 10015101081 0৫ 10081)- 
10770 16) 1790661160002] €৪00106163 2170 5678565, 10091165008 196 
8100]0 1706, 1106 06067 2101709]5, (0110 0106 38100165 ০0: 1015 
£6110/-016001617 06 1015 7808, 00 5170010 65:61:0155. 1015 ০0] 
17061120008] 90৬6] আট) 056 00610 01 ৪০011150 151,05/16086, 6০ 
01806) ৪0০04 তো 620, 50 0086 0015 58102016 015106 81 
8])01310 106 66 164 0561689৮1১১ প্রচলিত প্রত্যাদেশবাদ সম্পর্কে তিনি 
ছ্িধাহীনভাবেই কঠোর 2 101)056 আ1)0 0:62 006 50-০81160 1021060 
₹৪৮৪19001) 0£ 10817150000 00608001781] 10090119001 00 0০৭, 
ড/17101) 50183150511 206620116 00 50017] 1166 ৬101) 0061 01) 
66110 5060165, 2150 1)951176 2 10601021800] 0 019071- 
10117801176 8900 000 6৮11, 1105665800৫ £8101176 10101) 01 1068105 
10) 10000811056 2170 ৪6061018091] [1061 £2110৬-0122001655 
/100006 0176161)06 117 538]96 100 0091007 01 06605 2100 
[€11£1015 10101) 152. 00165 06৬০06101) ৪০০61১969৮16 100 300 8770 
290016,001751060 50075 5০018] 21661801015 ৪100 ০1]5 
[0090101005 00102 006 02055 ০0: 5818001) 8130 160615178 10001) 
00 4১120120300 1১৫ 

'তুহ ফাৎ-উল্‌ মুওহাহিদিন্*এর অস্তভূ্ত যুক্তি ও সিদ্ধান্তগুলির আন্ুপূর্বিক 
আলোচনা করলে দেখা যায় রামমোহন এখানে অবতারবাদ, মধ্যব্তিবাদ, 
গুরুবাদ, গুরুপরম্পরাবাদ, অন্রাস্তশান্ত্রবাদ, প্রত্যাদেশবাদ, অলৌকিক ও 
অতিপ্রাকতে বিশ্বাস, অন্ধ সংস্কার, অর্থহীন আচার-অনুষ্ঠান প্রভৃতি . প্রচলিত 
সাম্প্রদায়িক ধর্মবিশ্বাসের সবগুলি লক্ষণকেই বর্জন কবেছেন। তার মতে 
সার্বভৌম ধর্মের পক্ষে ছুটি বিশ্বাস অপরিহার্ধ ও বাঞ্ছনীয়__জগতের শরষ্টা, পাতা, 
নিয়ন্তা, অক্ষয়, অনস্ত ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস এবং আত্ম! ও পরলোকে বিশ্বাস । 
আত্মা ও পরলোককে তিনি তত হিসাবে কতকটা অজ্ঞেয় বা ছুক্ঞেয় বহম্তের 
€াঠায় ফেলেছেন। এ বিশ্বাসের স্বপক্ষে তার যুক্তি--এটি মানবমনের 


দ্বাভাবিক বৃত্তি এবং সামাজিক শুচিতা ও সংহতি রক্ষার বিশেষ উপযোগী । 
এ বিশ্বাসের তাত্বিক মূল্য অপেক্ষা সামাজিক মূল্যের উপরই তিনি বেধী জোর 
দিয়েছেন। শোলা যায় উত্তরকালে তিনি বলতেন মাতৃগর্ভস্থ শিশু বহির্জগং 
সম্পর্কে যেটুকু জানে_ পরলোক সম্পর্কে তার জ্ঞানও তন্্রপ।১ এই ছুটি 
প্রত্যয় যে কেবল সর্বমানবের পক্ষে স্বাভাবিক তাই নয়-_মানবসমাজের কলাণ, 
শৃঙ্খলা ও সংহতি এর উপর নির্ভরশীল। অধিকম্ত তিনি এই গ্রন্থে স্বাধীন 
বিচারবুদ্ধি, বা £6৪507. এর শেষ্টতব স্বীকার করতে ছ্বিধা করেন নি। 

তৃহফাৎ' পুক্তিকাঁখানি সম্পর্কে রামমোহনের জীবনীকার ও মতব্যাখ্যা- 
তাদের মধো দৃষ্টভঙ্গীর পার্থকা আছে। শ্রীমতী কলেট এই গ্রন্থে প্রতিভাত 
লেখকের আন্তরিকতা ও যুক্তিনৈপুণ্যের প্রশংসা করলেও সমগ্রভাবে এটিকে 
বলেছেন শৃঙ্খলাহীন ও অপবিণত : “[5 81781620616 15 006৩6] 
00166 05552101805 270 006 18016 13 10€16]15 2 561165 0% 
065011761৮2 91062601865 ; 17006 00656 91707 10001) 20062176258 01 
0056:5801017) 2150 168530181105...11)6 06210165 15 11010010206 25 0) 
68711950 25811921015 50165510170 1015 [0110 2100 25 51)0ড/11)8 
1015 686601655 6০ ৮2৪] 7100655 86811750 101 000 1615 6০০. 
100101816.....1৮১৪ অন্যান্য ধারা এ বিষয়ে উল্লেখযোগা মন্তব্য করেছেন, 
তারা কিন্তু রামমোহনের শান্ত্রাহ্ছলীলন ও শান্ত্রের প্রতি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গীর, 
পরিপ্রেক্ষিতে এই গ্রস্থকে এতটা তাচ্ছিল্য করেন নি; বরং এর বিশেষ তা্পধ 
স্বীকার করেছেন।১ এদের প্রায় সকলের মতেই 'তুহ ফাৎ-উল্-যুণহাহিদিন্‌? 
এ প্রকাশিত রামমোহনের যুক্তি ও সিদ্ধান্তগুলি যথেষ্ট স্থপরিকল্লিত, সুশৃঙ্খল 
ও পরিণত; শান্ত্রম্পর্কে তার উত্তর জীবনের অন্থশীলন ও অভিজ্ঞতাজাত 
মতবাদের মধোও “তুহ ফাৎ" পর্বের চিন্তাধারার প্রভাব বিশেষভাবে কার্যকরী । 

'তুহ ফাৎ-উল্-মুওহাহিদিন্‌' গ্রন্থের লেখর হিসাবে রাঁমমোহনের যে বৈশিষ্ট্য 
আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ কবে তা ইসলামীয় ধর্মশান্ত্ে, বিশেষত আরবী তর্কবিদ্যায় 
তাঁর অসাধারণ অধিকার । আপন বক্তব্যের সমর্থনে এখানে তিনি যে সব যুক্তি 
ও প্রমাণ উপস্থিত করেছেন তার সবগুলিই ইসলামীয় শান্তর থেকে সংগৃহীত। 
বইখানি আচ্যোপান্ত পড়লে সন্দেহ থাকে না, ধর্মবিশ্বীসের ক্ষেত্রে শান্্রনিরপেক্ষ 
যুক্তিবাদ এর প্রতিপাঘ্ভ এবং তাঁর উৎস হল ইসলামীয় ধর্মসাহিত্যের ইতিহাসে 


৫৫৪ 


কালক্রমে উদ্ভাবিত “ইলম্-উল্-কালাম্‌ (বা ৪০150185015 €)6০910%5) ও কিছু 
পরিমাণে উত্তরকাঁলীন সুফী মতবাঁদ। এই 'ইলম্উল্-কালাম্‌ এ ধারা পণ্ডিত 
তারা ইসলামের হীতহাসে 'মুতকলিম' নামে পরিচিত। প্রথমে যুক্তিবাদী 
'মুতাজিলা' সম্প্রদায়ই 'মুতকল্পিম" আখা! লাভ করেছিলেন। ইসলামের কট্টর 
শান্্রপস্বিগণের সঙ্গে কুরাণ-শরীফ. সম্পর্কে এঁদের দৃষ্টিতঙ্গীর মৌলিক পার্থকা 
ছিল। রক্ষণনীল শরীয়ৎ-বিশ্বাসীরা মনে করতেন কুরাণ নিতা, ঈশ্বরের অবাক্ত 
বাঁণীর স্মা্ট-এক দিব্য আকররূপে তা সপম স্বর্গে নিত্য বিরাজমান। এই 
অনাদি উৎম থেকে জিব্রাইল কুবাণের বাণী মহম্মদের অন্তরে প্রেরণ করেছেন। 
মুললমান সম্প্রদায় ঘে কুরাণ অন্রাস্ত ধর্মগ্রস্থরূপে অধায়ন করেন তা কোনও 
বন্ধ নয়, উক্ত নিতা কুরাঁণেরই বাণীৰ্প। এই মতের সমালোচনায় মুতাঁজিলা 
»ম্প্রদায় বলতেন, কুরাঁণশরীফ অনাদি ও নিত্য হতে পারে না, এই গ্রন্থ ঈশ্বরের 
বাণী হলেও তা সুষ্ট বন্ত (খাল্ক )। একে যদি অনাদি ও নিত্য বলা যায় 
তাহলে অনাদি, অনন্ত, নিতা পরমেশ্বরের অতিরিক্ত আর একটি অনাদি ও 
নিত্য বন্ধ স্বীকার করতে হয় এবং তার দ্বারা ইসলামের মুল তত্ব একেশ্বরবাদই 
খণ্ডিত হয়। মুতাজিলাপন্থিগণ ঈশ্বরের গুণ স্বীকার করেন নি, মৃতার পর 
শারীরিক কিয়ামতে বা স্বর্গে ঈশ্বরের চাক্ষৃষ দর্শনলাভের সম্তাবাতায় এদের 
বিশ্বাস ছিল না । তা ছাড়া এদের দৃষ্টিভঙ্গীতে আরও কিছু মৌলিকতা৷ ছিল ঃ 
মান্থষের পাপ-পুণা, বিশ্বাস-অবিশ্বাস, কর্তব্যাকর্তবা নির্ধারণের দায়িত্ব 
মানুষের নিজের, এই তত্ব স্বীকার করে এরা মানুষের স্বাধীন ইচ্ছার 
ক্রিয়াশীলতাকে কিছুদুর পর্যন্ত মেনেছেন। উত্তরকাঁলীন মরমীয়া স্ফীগণের 
মত এরা৷ গুহ তত্বে শ্রদ্ধানীল ছিলেন না। শিয়া সম্প্রদায়ের গুরুবাদকে 
এরা প্রকাশ্টে আক্রমণ করেছেন। প্রচলিত প্রত্যাদেশবাদের ধারণায় এবং 
অলৌকিক ক্রিয়াকলাপেও এদের আস্থা ছিল না।১* এই যুক্তিবাদী সম্প্রদায়ের 
মতবাদ তাই স্বভাবত বরামমোহনকে আকর্ষণ করেছিল। দশম-একাদশ 
ষ্টার আরব কবি ও দার্শনিক আবুল-আলাল মাআরির চিন্তার সঙ্গে 
তৃহ ফাৎ্, এ বাক্ত রামমোহনের চিন্তার সাদৃশ্যের প্রতিও কেউ কেউ ইঙ্কিত 
করেছেন।১* আল-মাআরিও রামমোহনের মত প্রচলিত আহ্ুষ্ঠ।নিক ধর্মকে 
মা্ছষের অভাস, পরিবেশ ও শিক্ষাজাত সংস্কারের ফল বলেই গণা করেছেন 
এবং ধর্মগ্রবক্তাদের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রতাববৃদ্ধি ও স্বার্থদিদ্ধির উদ্দেশ্টে কাল্পনিক 


€৬ 


ধর্মমত প্রচারের অভিযোগ এনেছেন। এই প্রসঙ্গে ইবন আববি ব্যাখ্যাত 
ইসলামীয় দর্শনের “আল্-নূর" বা দিবাজোঁতির ধারণার সঙ্গে বামমোহন কর্তৃক 
মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিকে ঈশ্বরের দানরূপে স্বীকারের ধারণার সাদৃশ্ঠের প্রতিও 
ইঙ্গিত করা হয়েছে।১* ইবন আরবি বলেন, মানবজ্ঞানকে আমুল বিশ্লেষণ 
করলে দেখা যাবে যে মান্ষের যে বোধশক্তি সেটি জ্যোতি ছাড়া আর 
কিছু নয় ( আল্-নূর্‌) (19103 0০0৬2 00 20:51)600--005 00৬61 
0৪6 0065 0308115 02300192 25 9011101)6 0691769 8.9 11510, 21-1751. 
[7 7081) 0015 11500 1:6৬ 0065 0100) 0 6) 17010081 5001) 
13101) 11 (00, 15 2; 1200906  01 [00101 2581] 17628501) ৫/-27%1 
21175110006 40150066112 4866176 100611500 0: 16০-12601010 
[,0609-*-৮300 07610651] 0016165 28100 522175015  761:069010173 
০৬০ (061 1800281 01081806200 6086 1780, 005 528 01: 
জা1)101) 101) 4১8201 10600625 10) 2 001-01)5 51081] 021705 
ভা10101) 116 ০8113 006 16876 01 90100600065, 006 11)৮810 ৪০6, 21- 
29727 21 7251727. [0৮215001178 0108৮ 51781016505 100 21012106150 
1166, 10 2806 001: ৮65 25721610655 0৫ 115117£ 15 0015 11610 )1১৯ 
রামমোহনের উপর এই সিদ্ধান্তের প্রভাব থাকা অসম্ভব নয়। তুহ ফাঁৎ-এ 
রামমোহনের বুদ্ধিবৃত্তির বিশ্লেষণ অবশ্য এত পুঙ্থান্থুপুঙ্খ নয়। কিন্তু অন্ধ 
শাপ্রান্ছগত্য, প্রত্যাদেশবাদ, অলৌকিক ও অতিপ্রারুতে বিশ্বাস প্রভৃতির 
বিরুদ্ধে তিনি যে ভাবে মানুষের সার্বভৌম স্বাধীন বিচারবুদ্ধি (10061160694] 
(8001065 2190 52565) ও স্বাভাবিক অন্তর (1068106 8০1 )কে 
ঈশ্বরের শ্রেষ্ঠ দান বলে গণ্য করেছেন তা ইবন আরবির কথা মনে করিয়ে 
দেঁয়। সুফী মরমীদের মধ্যে রমী, সাদি, হাফিজ প্রমুখ কবিগণ রামমোহনের 
প্রিয় ছিলেন। এরা শাস্ত্রীয় সংকীর্ণতা থেকে বহুলাংশে মুক্ত ছিলেন এবং 
ঈশ্বরের সঙ্গে সাক্ষাৎ যোগে এবং ঈশ্বর ও জীবজগতের এঁক্যে বিশ্বাসী ছিলেন 
বলেই রামমোহনের চিত্তকে আকর্ষণ করেছিলেন । 
ইস্লামীয় ধর্মশান্তে প্রগাঢ় পাত্ডিত্যসত্বেও 'তুহ ফাৎ-উল্-মুওহাহিদিন্‌ ছাড়া 
রামমোহন উক্ত শাস্ত্রের আলোচনামূলক আর কোনও গ্রন্থ প্রকাশ করেছিলেন 
কিনা জানা যায় না। সেরকম কোন গ্রন্থ আবিষ্কৃত হয়নি। মনাজারাৎ- 


€৭ 


উল্‌-আদিয়ান' বা 'নানা ধর্মের বিচার? শীর্ষক একখানি গ্রন্থ তিনি রচনা। 
করেছিলেন এমন উল্লেখ 'তুহফাৎ-এ আছে। এখানি প্রকাশিত হয়েছিল 
কিন! লন্দেহ। জরুষ্্ীয় সম্প্রদায় কৃত 'তুহফাৎ-এর সমালোচনার প্রত্যুত্তর- 
স্বরূপ “জওআব-ই-তুহ ফাৎ উল্-মুওহাহিদিন নামে যে পুস্তিকাঁটি সম্ভবত 
১৮২০ স্ত্রীষ্টাব্ে প্রকাশিত হয়েছিল সেটি বর্তমান লেখক ব্রিটিশ মুজিয়ম 
্রস্থাগার থেকে সংগ্রহ করে সর্বপ্রথম তার বঙ্গান্থবাদ করেছেন ( পরিশিষ্ট-৪ 
রষ্টবা )। অন্রমান করবার কারণ আছে, এ গ্রন্থ বামমোহনের রচিত নয়, 
তার অন্তরঙ্গ কোন (সম্ভবত মুসলমান ) বন্ধুর রচিত। স্ৃতরাং এর সাক্ষ্য 
আমাদের বর্তমান আলোচনায় কাঁজে লাগবে না। কলিকাতা বাসকালে 
রামমোহন হজরৎ মহন্মদের এক জীবনী লিখবার সংকল্প করেছিলেন; 
দুর্ভাগাবশত এই সংকল্প কাজে পরিণত কবতে পারেন নি। এই প্রসঙ্গে বন্ধু 
এাডামকে তিনি বলেছিলেন, মহম্মদের গোঁড়া ভক্ত ও বিরুদ্ধবাদী শক্র ও 
সমালোচকগণ- কেউই এই মহাপুরুষের প্রতি স্থবিচার করেন নি। মহন্মদের 
প্রকৃত মাহাত্মা সম্পর্কে জগত্বাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করাই ছিল এই জীবনীরচনার 
উদ্দেশ ।১৯ক যদি গ্রন্থটি তিনি লিখে যেতে পারতেন আমর! তার প্রজ্ঞার 
আলোকদীপ্ত, ইসলামীয় আকরের ভিত্তিতে বচিত মহম্মদ্দের জীবনী ও 
উপদেশ সংক্রান্ত একখানি গ্রন্থ লাভ করতাম এবং ইসলামীয় শাস্ত্র সম্পর্কে তার 
পরিণত মতামতের পরিচয়ও সে গ্রন্থে অবশ্যই পাঁওয়! যেত। কিন্তু এক্ষেত্রেও 
আমাদের নিরাশ হতে হয়। পরবত্ণা বচনার মধো তাঁর খ্রীষ্টায় বিতর্কের স্থানে 
স্থানে বামমোহনকে মুসলমান শাস্ত্রের সাক্ষ্য ব্যবহার করতে দেখা যায় যেমন-_ 
96০০7 4১95৪1 €9 0005 015015082 চ4০]1০ -এর তৃতীয় অধায়ের 
উপসংহারে । কিন্তু এই পর্বে তিনি তার পূর্বের কট্টর যুক্তিবাদকে কতকটা 
নমনীয় করে শাস্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাণীল হয়েছেন এবং যুক্তির পরিপূরক হিসাৰে 
প্রতাদেশকেও গ্রহণ করেছেন। এবিষয়ে কোন সন্দেহ নেই, এই পর্ধে 
্র্টীয় শাস্ত্রের মত বিচাব-বুদ্ধির সঙ্গে সামগশ্ত বক্ষা কবে তিনি ইসলামীয় 
শান্তকেও প্রতাদিষ্ট বলে স্বীকার করতেন। তাছাড়া এই বিচারগ্রন্থগুলিতে 
প্রায় সর্বত্র প্রতআদিষ্ট ইহুদী ধর্মশ'ন্্র বা ]6%7151) [২৪৮৪1৪0070কেও যে শ্রীষীয় 
প্রত্যাদেশ বা 010105081) 1২56190107-এর সঙ্গে সমমর্ধাদ। দেওয়া হয়েছে তাঁও- 
লক্ষণীয় । শাস্ত্র সম্পর্কে রামমোহনের এই সংশোধিত দৃষ্টি যথাস্থানে আলোচ্য । 


£৮, 


রামমোহনের উপর ইসলামীয় চিন্তার এই বিঁশষ্ট ধারাগুলির প্রভাব স্বীকার 
করে নেবার পরেও একটি প্রশ্ন থেকে যায়। ইসলামীয় জগতের যে সব সম্প্রদায় 
বা মনীধীর সঙ্গে রামমোহনের চিন্তার সাদৃষ্ঠ আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে 
তাদের কেউই কুরাণশরীফের প্রামাণ্য অস্বীকার করেন নি--এমন কি যে 
মুতাজিল৷ সম্প্রদায় কুরাণের নিত্যতা মানতেন না, তারাও নয়। সুফী 
মরমীদের মধ্যে শরীয়তী বিধিনিষেধ পালনে তেমন উৎসাহ দেখা যেতনা এবং 
তাদের সাধনপ্রণালীর মধো এমন অনেক উপাদান কালক্রমে প্রবেশ করেছিল 
যা হয় তো ইসল!মের মূল তত্বের অঙ্গ নয় ।২* কিন্তু অন্রান্ত শান্ত্রবাদ্দের বিরুদ্ধে 
সজ্জানে হুপরিকল্পিততাবে বিদ্রোহ করবার আগ্রহ তারা দেখান নি। বরং 
তাদের মধ্য কিছু সংখ্যক পণ্ডিত ও সাধক মূল ইসলামের লঙ্গে স্ফীমতবাদের 
সামঞ্তশ্যবিধানের জন্য সচেষ্ট হয়েছিলেন। স্ুবিখ্যাত মনীষী আল্-গজ্জালি 
(১০৫৮-১১১১)-র যত্বে শেষ পর্যস্ত শবীয়তের সঙ্গে স্থফী মতবাদ সমন্বিত হয় ।২১ 
'তুহফাৎ্'এ প্রতিফলিত যুক্তিবাদ কিন্তু সম্পূর্ণ শান্ত্রনিরপেক্ষ। এর প্রেরণা 
সেক্ষেত্রে রামমোহন পেলেন কোথা থেকে? 

এ পর্যস্ত সকলেই অনুমান করেছেন, 'তুহফাৎ্-এর রচনাকাল ১৮*৩-৯৪ 
শষ্টাৰ। প্রচলিত ধারণা,-সে সময়ে রামমোহন যদিও ইংরেজি শিখেছেন, 
তবু ভার ইংরেজি জ্ঞান তখন পর্যস্ত এতদূর অগ্রসর হয়নি ঘার সাহাযো 
ইউরোপীয় বিজ্ঞানদর্শনে তিনি পূর্ণ অধিকার অর্জন করতে পারেন। কিন্ত 
যে শান্ত্রনিরপেক্ষ যুক্তিবাদী সিদ্ধান্ত তিনি “তুহফাৎ'এ প্রকাশ করেছেন তার 
যুক্তিবাদের অংশ ইসলাম-প্রভাবিত হলেও শান্্রনিরপেক্ষতার প্রশ্নে তা আমাদের 
ইউরোপীয় যুক্তিবাদী চিস্তাধারার এঁতিহাই শ্মরণ করিয়ে দ্বেয়। ষোড়শ থেকে 
অষ্টাদশ শতাব্দী পর্বস্ত এই ধারা পরিপুষ্ট হয় যথাক্রমে বেকন ও লক্‌; 
কলিন্স, টিগ্যাল, টোলাগ্, মরগান, শ্যাফট্সবেরী প্রস্তুতি যুক্তিমূলক 
একেশ্বরবাদের পরিপোষক (19615)গণ ; ফরামী বিপ্রবের পশ্চাদস্থ দার্শনিক 
প্রেরণার উৎস ভোলতেয়ার্‌, দিদেরো, হেলতেপিয়াস, দ্চ'লেম্বোর, রুষো, ভোলনি 
প্রভৃতি দার্শনিকবৃন্দ ; এবং টমান পেইন্‌ ও ডেভিভ, হিউমের ছাতে। এদের 
অনেকের ছার! রামমোহনের চিত্ত যে প্রভাবিত হয়েছিল তার যথেষ্ট প্রমাণ 
আছে। বেকন বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও চিন্তার জন্য এক নূতন প্রণালী উদ্ভাবন 
করেন (0০00) 01£81)010 বা 196 08817) এবং জ্ঞানবিজ্ঞানের সর্বক্ষেত্রে 


৫৯ 


জনশ্রতি, কুসংস্কার ও আধ্বাকোর শাসন থেকে মুক্ত হয়ে কি ভাবে সত্য নির্ণয় 
করতে হবে__তার পথনির্দেশ করেন । লক্‌ এই প্রণালীর আরও উন্নতি সাধন 
করে তাকে দার্শনিক ভিত্তির উপর স্থাপন করেন । তাঁর মতে সত্য নির্ণয়ের পূর্বে 
জান! আবশ্যক সত্য কি? জ্ঞান কি? জ্ঞেয়ই বা কি? মানুষের কোন্‌ কোন্‌ বিষয়ে 
জ্ঞানলাভ করা সম্ভব এব” কোন্‌ কোন্‌ বিষয়ে জানবার শক্তি একেবারেই নেই ? 
এই প্রশ্নগুলির সঠিক উত্তরের উপর আমাদের জ্ঞানের সত্যতা নির্ভর করছে। 
কিন্ত বেকন ও লক্‌ অভ্রান্ত শান্ত্রকে সম্পূর্ণ বর্জন করেন নি। তাদের মতে, যে 
সব তত্ব এই জগৎকৌশল দেখেও জানি যায় না_যা আমাদের স্বাভাবিক বুদ্ধি ও 
অভিজ্ঞতার বহিভূ ত-_সেই'গুলিই আমরা শাস্তরবিশ্বাসের মাধামে জানতে পাবি; 
কিন্ত এই বিশ্বাসলন্ধ তত্ব স্বাভাবিক জ্ঞানাতিরিক্ত হলেও, স্বাভাবিক জ্ঞানের 
বিরোধী নয়। লক্‌ তার এক গ্রন্থে যুক্তি ও বিশ্বাসের এই পরস্পর-নির্ভরতা 
সম্পর্কে বলেছেন 2 4“ --] 0011010101085 1500 102 2100195 00 €৪105 107090106 
61780106৮61 08101 102 00095980 00 768501) 18100, 15 17010101175 
000 ৭ 0 25561000£ 01)21001100 7 ড/1)101) 16 1056 155019150৪5 
15 0101 00105, ০81000 02 ৪0106ণ0 00 83516101106 1006 0001) £০০৫ 
167501] ৪170 50 08.101)00 02 01১209590 6০91৮ 1২২ কিন্ত ইংরেজ 
ডীয়িস্টগণের সিদ্ধান্তে শাস্ত্রবিশ্বাসের এই সীমিত স্বানটুকুও ছিল না। ঈশ্বর ও 
পরলোক সংক্রান্ত প্রতায়গুলিকে অগ্রাহ না করলেও তীরা কোনও শাস্ত্রেরই 
অভ্রাস্ততায় বিশ্বাসী ছিলেন না । এ বিষয়ে তাদের প্রধান যুক্তি ছু'টি ঃ (১) কোন 
বিশেষ শাস্ত্রকে অত্রান্ত বলে স্বীকার করলে ঈশ্বরের প্রতি পক্ষপাতিত্ব দোষ 
আরোপ করতে হয়, কেনন! বিভিন্ন দেশে ও কালে নান। গ্রস্থই শাস্ত্রের মদ! 
লাভ করেছে ; (২) শান্ত্রবিশ্বাস অনৈসগিক ক্রিয়ায় বিশ্বাসেরই নামান্তর । 
অনৈসগিক ক্রিয়ায় বিশ্বাস অযৌক্তিক, কেন ন| তা মানুষের স্বাভাবিক জ্ঞান ও 
নৈতিক প্ররুতি থেকে ভিন্ন। প্রাগুক্ত ফরাসী চিস্তানায়কগণের মধ্যে 
ভোলতেয়ার্‌, শে! ও ভোলনি ঈশ্বরবিশ্বাসী ছিলেন, বাকীরা প্রায় সকলেই 
হয় জড়বাদী নাস্তিক না হয় সংশয়বাদী। এদের আক্রমণ ও সমালোচনার 
লক্ষা ছিল-_সমাজে, বাষ্ছে, ধর্মবাবস্থায় পু্ধীভূত সর্বপ্রকার কায়েমী স্বার্থ, নিপীড়ন, 
অসামা ও কুসংস্কার; এবং আরাধা ছিল জ্ঞান ও স্বাধীনতা ॥ এদের মধ্যে 
হারা ধর্মবিশ্বাসী তাদের মতে ধর্মশান্ত্রে কিছু সত্য থাকলেও তার সঙ্গে বনু 


৮ কু 


আল 


নীতিবিরুদ্ধ কথা, অবিশ্বাস্য অলৌকিক কাহিনী এবং কুসংস্কারের সমাবেশ 
ঘটেছে। সমসাময়িক ব্রিটিশ দার্শনিক ডেভিড হিউম ছিলেন পবিপূর্ণ 
সংশয়বাদী ; তিনি হ্বাভাবিক বৈজ্ঞানিক প্রণালী দ্বারা ধর্মের উৎপত্তি ও ইতিহাস 
ব্যাখ্যা করেন ও সত্যনির্ণয়ের পথে কার্ধকারণসন্বন্ধমূলক যুক্তির অসারতা 
প্রতিপন্ন করেন। অলৌকিক ক্রিয় (12018015 ) বা অভ্রাস্ত শাস্ত্রে তার 
বিশ্বাস ছিল না। অলৌকিক ক্রিয়া বা 20179০16 সংক্রান্ত তার বিখ্যাত নিবন্ধে 
তিনি বলেছেন, “4৯ 10011801615 2. $10918001) 0৫6 006 1855 06 180016 
8190 2.3 2. 01) 2150 0117216791916 23101615055 17099 590801151)60 
07652 17545, 005 00904 88911)50 ৪ 170118.016) 11010 006 9615 1980016 
0৫ 006 19০0 15 85 61006 25 25 811106136 010) €30961161006 
০21) 009551015 76. 1108611)60. 1৮২৩ উক্ত প্রবন্ধের দ্বিতীয় ভাগে তিনি 
অলৌকিক ক্রিয়াবাদের বিরুদ্ধে তার যুক্তিগুলিকে আরও বিস্তারিত করেছেন 
এবং শেষপর্যস্ত এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে যুক্রিছ্বারা! খ্রষ্টধর্মকে কিছুতেই 
সমর্থন কর চলে না যে হেতু গ্রীষটধর্মের ভিত্তি হল অলৌকিক ক্রিয়ায় বিশ্বাসের 
উপর ([ ৪1) 006 05০57 6158550 100) 006 1060)00 0£ 18950103798 
1676 02115 2:20, 85 ] 01101 10 11085 961৮০ 00 00130970180 00056 
09.101£610005 117161)05 0: 015501560 £176109169 01 006 (0771512% 
79115207 আ1)9 13852 01061081561) 00 0665180 10 05 006 01178010919 
0 1)010098 1885015. 0041 09095019015 161181018 15 60019060010 47267, 
[)06 010 1658.8017) 3.7 006 071751557 2217607% 2১060 01815 ৪ ৪ 
5156 26061)060 101) 101180165 006 2৬61) 20 01015 025 0০211009006 
56116560 5 ৪105 15850788016 721907) আ10)00 0176. )1২৪ অষ্টাদশ 
শতাব্দীর ইউরোপের জ্ঞানবিভামিত যুগের (486 ০? 7511617051/0067)6 ) 
দার্শনিকগোর্ঠীর মধ্যে ধারা ঈশ্বরবিশ্বাসী তারা শাস্্বিশ্বাম ও অলৌকিক 
ক্রিয়াদির ধারণ! বিবলিত এক ধর্মের পরিকল্পনা করেন যার নাম দেওয়া 
হয়েছিল 7,80818] 1116107, বা! নৈসগিক ধর্ম॥। সংশয়বাদী হিউমও তার 
[01910950565 (00106177117 ৪001৪] [6116101) গ্রন্থে ধর্মের উৎপত্তির 
মূলন্বপ কণ্পিত সকল অনৈসগিক তন্বকে অগ্রাহ করেছেন। স্থতরাং 
রামমোহনের অনতিপূর্বে পাশ্চাত্য চিন্তায় নৈসগিক ধর্ম সম্পর্কে ছুটি বিশিষ্ট 


৬১ 


দৃষ্টিভঙ্গী লক্ষা করা! যাচ্ছে-_(১) ধর্মবিশ্বাসী (২) সংশয়বাদী। 'তুহফাৎ- 
উল্‌-মুওহাহিদিন্‌ গ্রন্থে রামমোহন এই নৈসগিক-ধর্মবাদী রূপেই আত্মপ্রকাশ 
করেছেন। তবে 'তুহফাৎ পাঠে এ কথাও স্পষ্ট ঘে তিনি বিশ্বাসীদেরই 
দলভুক্ত, ধর্মের মূল সত সম্পর্কে সংশয়বাদী নন। 

'তুহ ফাৎএ রামমোহন শান্্বিশ্বান সংক্রান্ত যে দৃষ্টিভঙ্গী প্রকাশিত আধুনিক 
যুগেব ইউরোপীয় জ্ঞানরাজোর যুক্তিবাদের সঙ্গে তার বিস্ময়কর সাদৃশ্য নিশ্চয় 
লক্ষা করবার মত। ব্রজেন্ত্রনাথ শীল সর্বপ্রথম দেখান, এই গ্রস্থের উপসংহারে 
তিনি ভোলতেয়ার ও ভোলনির মত অলৌকিক ক্রিক্ায় বিশ্বাস সম্পর্কে 
মানবজাতিকে চার ভাগ করেছেন £ (১) যাঁরা প্রতারক, অর্থাৎ লোক- 
সংগ্রহের জন্য ইচ্ছাপূর্ক অলৌকিক কাহিনী স্ষ্টি করে মানুষকে প্রতারণা 
করে; (২) যার] প্রতারিত--অর্থাৎ নিধিচারে এ সব ব্ক্তিদের রচিত 
উদ্দেশ্বঃলক আজগুবি কাহিনীতে বিশ্বাস করে ঠকে ; (৩) যারা একযোগে 
প্রতারক এবং প্রতারিত-_ অর্থাৎ যার! নিজের! অলৌকিক কাহিনী বিশ্বাস করে 
এবং অন্যদ্েরও তা বিশ্বাস করতে প্রণোদিত করে; (৪) যারা ঈশ্বরের 
আশীরবাদে প্রতারণাঁও করেন! প্রতারিতও হয় না।২৫ কিন্তু তা সত্বেও মনে 
রাঁখতে হবে তুহ ফা প্রকাশের কালে রামমোহনের ইংরেজি শিক্ষা ও ইউ- 
বোপীয় বিদ্যায় প্রবেশ বেশী দূর অগ্রসর হয়নি। সুতরাং পাশ্চাত্য জ্ঞানবিজ্ঞান 
ও যুক্তিবাদ এই গ্রন্থের চিন্তাঁধারাকে প্রভাবিত করেছিল-_-এমন সিদ্ধান্ত মেনে 
নেওয়া একটু কঠিন। সযত্বে অজিত ইসলামীয় বিদ্যার ছাপ “তুহ ফাৎ-এর 
প্রতি পঙভিতে এবং সমগ্র রচনাভঙ্গীতে অতিস্পষ্ট। এই প্রখর যুক্তিবাদের 
উত্স তাই ইসলামীয় আকরেই অনুসন্ধান করতে হবে। কিন্তু ইসলামীক 
স্তরের এই যুক্তিবাদ শাস্ত্রনিরপেক্ষ ছিল না- শাস্ত্রের যুক্তিবাদী ব্যাখ্যাই তার 
বৈশিষ্ট্য । 'তুহফাৎ-এ রামমোহন দীঁড়িয়েছেন সম্পূর্ণ মুক্ত মনেব স্বাধীন বিচার 
বুদ্ধির উপর। শান্তপ্রমাণকে এখানে তিনি সম্পূর্ণ বাতিল কবে দিয়েছেন। 
'তুহফাৎ”-এর ধর্ম সন্তারিখের হিসাবে পাশ্চাত্য ডীইস্ট বা! নৈসগিক ধর্মবাদীদের 
দ্বারা গ্রভাবিত হওয়া অসম্ভব হলেও তাদের মতবাদের যে সমগোত্রীয় এ বিষয়ে 
সন্দেহ নেই। তাই একথা মেনে না নিয়ে উপায় থাকে না যে রামমোহন 
এখানে মুখ্যত যুক্তিবাদী ইসলামীয় দর্শনের দ্বার! অনুপ্রাণিত। তার যুক্তিবাদ 
আবও অগ্রসর হয়ে যে সম্পূর্ণ শান্ননিরপেক্ষতার স্তরে পৌছেছিল, সে সিদ্ধান্ত 


ছহ 


ইসলামীয় দর্শন মাজিত তীর মনীষার তৎকালীন স্বকীয় বৈশিষ্ট্য । 'তুহফাৎ 
প্রকাশের পরবর্তীকালে ইউরোপীয় জ্ঞান-বিজ্ঞানে তার অধিকার ক্রমশ গভীর 
হলে তার ছারা এই মনোভাব নিশ্চয় আরও সমৃদ্ধ ও শাণিত হয়েছিল | 

জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ে বক্ষণশীল হিন্দু ও গ্রীষ্টীয় প্রতিপক্ষগণের সঙ্গে 
বিচার প্রসঙ্গে রচিত গ্রন্থগুলিতে শাস্ত্রের প্রতি রামমোহনের যে দৃষ্টিভঙ্গী প্রতি- 
ফলিত-_তা “তুহ ফাৎ' পর্বের অকৃত্রিম যুক্তিবাদ থেকে আপাতদৃষ্টিতে কিছু পৃথক । 
দেখা যায় উভয়ন্ত্র তিনি যথাক্রমে হিন্দু ও খ্রীষ্টীয় শাস্ত্রের প্রামাণা ন্বীকার করে 
নিয়েই বিচারে অগ্রসর হয়েছেন। এর থেকে হ্ভাবত মনে হতে পাবে 
ততুহফাৎ-এ তার যে পরিপূর্ণ যুক্তিবাদী মানসের পরিচয় পাঁওয়! গিয়েছিল উত্তর 
পর্বে তার পরিবর্তন হয়েছে এবং পরবতী গ্রন্থগুলিতে সেই প্রখর যুক্তিবাদ 
খানিকটা সংশোধন করে তিনি শান্ত্প্রমাণকে স্বীকাতি দিয়েছেন। প্রা্টীন 
লেখকগণের মধো অক্ষয়কুমার দত্ত এবং একালে কাজি আবছুল ওয়াদুদ এই 
সিদ্ধান্ত মানতে চাননি । শেষোক্ত জন বলেন 'তৃহ ফা”-এ যে দৃষ্টিভঙ্গীর পরিচয় 
পাওয়া যায়, শান্ত্প্রামাণ্যের প্রশ্নে সেইটি বামমোহনের প্রকৃত মনোভাব; 
উত্তরকালের বিচারপ্রন্থগুলিতে শাস্তপ্রামাপ্য স্বীকৃতির যে নিদর্শন আছে _তা 
তর্ককৌশলমাত্র__সমসাময়িক রক্ষণশল ত্রাক্ষণ পণ্ডিত ও গৌড়া এ্রস্রীয় মিশনারী 
মহুলের অন্ধ শান্ত্রাগতোর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করবার জন্য তাকে এই তর্কপ্রণালী 
উদ্ভাবন করতে হয়েছিল।২* রামমোহনের শান্ত্রসম্পকীয় মতের অগ্রপশ্চাৎ 
সামগ্তশ্ত করা সম্ভব কিন! সে গু বিচারের পূর্বে হিন্দু ও খ্রীশরীয় শাস্তদ্বয় সম্পর্কে! 
তীর বক্তব্যগুলির সংক্ষিপ্তসার উদ্ধার কব প্রয়োজন। পরবর্তী অধ্যায়ে 
বামমোহনের বেদান্তচর্চা সংক্রান্ত আলোচন। প্রসঙ্গে হিন্দুশান্ত্রের প্রামাণোর প্রশ্নে 
তার মতের কিছু বিস্তারিত উল্লেখ করতে হয়েছে। তাই পুনবাবৃত্তির জন্য 
অগ্রিম মার্জনা চেয়ে এখানে কেবল স্থত্রগুলি পরপর সাজিয়ে দ্বেওয় যাচ্ছে £ 

১. বেদই সর্বাধিক প্রামাণিক এবং ঘা! বেদবিরোধী তা শান্তরূপে গণ্য হুবানন 
যোগ্য নয়; ২. জ্ঞান ও কর্মের মধ্যে জ্ঞানই হল শ্রেষ্ঠ, এবং সেই স্তরে বেদের 
জ্ঞানকাণ্ড বা উপনিষদ্ভাগ তার কর্মকাণ্ড অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ; ৩. বেদ ও উপনিষদে 
যে সব পরম্পর-বিরোঁধী সিদ্ধান্ত দেখা যায় সেগুলি শান্ত্রগ্রামাণ্য স্বীকারের পথে 
কোন বাধা নয়। তাত্বিক দৃষ্টিতে সমগ্র বেদ এক অথগ্ড সামগস্যপূর্ণ শান্ত্। 
পরম্পর-বিরোঁধী শ্রুতিবাক্যের একবাকাতা স্থাপন করেই উক্ত স্ববিরোধ ও. 


ভও 


অসঙ্গতিগুলি দূর করতে হবে; ৪. পুরাণ-তন্ত্রাদি বেদোত্তর কালে রচিত 
্রন্থসমহও শ্ুতিবিকদ্ধ "1 হলে শাস্ত্ররপেই গণ্য হওয়া উচিত। এগুলির বিষয়বস্তর 
মধো এক অংশ উপনিষদের মতই ব্রদ্জ্ঞানপ্রতিপাদক। এ সম্পর্কে কোন 
আপত্তি উঠতে পারে না। অন্যত্র যেখানে সাকার দেবতা ও সাকারো- 
পাঁসনার বর্ণনা আছে, সেগুলি দুর্বল অধিকারীদের জন্য গ্দত্ত বিধান মাত্র। 
চিত্তে একত জ্ঞানোদয় হলে এই সব কাল্পনিক উপাসনার প্রয়োজন ফুরিয়ে 
যায়। এই ভাবে শ্রুতির সঙ্গে একবাকাতা ও বিষয়বস্তর একবাকাতা স্থাপন 
করে পুরাণ-তন্ত্রকে শান্ত্ররপে মান্য করা কর্তবা; ৫, শ্রুতি ও স্মৃতির বিরোধ 
উপস্থিত হলে শ্রুতি সবত্র মান্ত, প্রমাণ হিসাবে স্থৃতির স্থান শ্রুতির অনেক নিয়ে। 
শ্বতিসহহের মধো মন্ুস্বতির প্রামাণা সর্বাধিক; যে স্থৃতির সাক্ষ্য মন্থর বিরোধী 
মে স্মৃতি গ্মাণ হিসাবে অগ্রাহা । 

হিন্ুশান্ত্রের আলোচন] প্রসঙ্ষে রামমোহন শ্রুতিপ্রমাণ স্বীকার করেছেন। 
তার প্রতিপক্ষগণ এক্ষেত্রে সকলেই সনাতিনপন্থী ছিলেন এবং শ্রুতি তাদের 
কাছে অবশ্মান্ত ছিল। স্বতন্তরভাবে তারা এই প্রমাণপ্রসঙ্গ আলোচন! 
করেন নি। সেই কারণেই বামমোহনকেও প্রমাণরূপে শ্রুতি কি হিসাবে 
কতদূর গ্রাহথ সে প্রশ্নটিকে বিচারের বিষয় করতে হয়নি, যদিও শ্রুতিপ্রমাণের 
দোহাই তাকে অনেকবারই দিতে হয়েছে। আস্তিক হিন্ুদর্শনের সবকটিতেই 
বেদপ্রামাণ্ স্বীরুত, কিন্তু সেগুলির মধ্যেও এই প্রসঙ্গে দৃষ্টিতঙ্গীর তারতম্য 
আছে। মীমাংসকগণের মতে বেদ স্ৃষ্টবস্ত নয়। কোনও পুরুষ বা ঈশ্বর 
একে হুষ্টি করেন নি। মীমাংসা ঈশ্বর স্বীকার করেন না। এই মতে বেদ 
অপৌরুষেয় ও নিত্য, এর বাক্যসকল শব্ধ ও বর্ণের মতই চিরস্তন__অনাদিকাল 
থেকে সেগুলি বর্তমান এবং অনস্তকাল বর্তমান থাকবে। বেদমস্ত্রের সঙ্গে যে 
সব ঝধির নাম যুক্ত তারা মন্ত্রগুলির রচয়িতা নন,_ এগুলির ত্রষ্টা ও ব্যাখ্যাত! 
মাত্। জৈমিনিকত মীমাংসান্ুত্রের প্রথম অধ্যায়ের প্রথম পাদের ২৪ থেকে 
৩২ সুত্র পর্যন্ত এই বিষয়টির আলোচনা আছে এবং শবরস্বামীর ভাষ্মে এই 
সিদ্ধান্তের সমর্থনে সুস্ম ও বিস্তারিত যুক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে। সায়ণাচার্ষের 
খণ্ধেদ ভান্ত-ভূমিকাতেও অনেকাংশে অন্ুরূপ যুক্তির সাহায্যে বেদের অপৌরুষেয়ত্‌ 
স্থাপন করবার প্রয়াম লক্ষিত হয়।২*ক এর বিরুদ্ধ মত প্রকাশ করেছেন 
নৈয়ায়িকগণ। ন্যায় মতে বেদ নিত্য নয়, তা ঈশ্বর বা! পুরুষ কর্তৃক স্্__তাই 


৪ 


একে পৌঁকুষেয় বলতে হবে। ঈশ্বর সৃষ্টির আদিতে বেদ স্থাট ক.শস্থেন, 
প্রলয়কালে সৃষ্টির সঙ্গে সঙ্ষে বেদও ধ্বংস হবে; আবার নবকল্পে নৃতন সুষ্টিকালে 
নৃতন বেদের সষ্টি হবে। পূর্বকল্পের বেদের সঙ্গে এই ন্ববেদের মিল এনহ্‌, 
কল্পভেদে শ্রুতিও ভিন্ন ভিন্ন। সুতরাং প্রতি কল্পেই বেদবাহিত এতিহোর 
ধারাচ্ছেদ ঘটে । প্রতি কল্পারস্তে ঈশ্বর নৃতন করে বেদ স্ষ্টি করেন; ঈশ্বরস্থষট 
বলেই বেদ মান্ত। বৈদান্তিকগণের দৃষ্টিতে এই ছুই সিদ্ধান্তের কোনটিই 
সম্পূর্ণ সতা নয়। বেদ নিতা হতে পারে না, কেন নাবেদ যে সৃষ্ট বস্ত এমন 
উক্তি বেদেই পাওয়া যায়। শংকর ব্রন্মস্থত্জের প্রথম অধ্যায়ের প্রথম পাদের 
তৃতীয় স্তত্র 'শান্বযোনিত্বাৎ-এর উপর কৃত শিজভাঙ্তে বলেছেন, যে খথেদ 
প্রভৃতি মহাঁশান্ত্র নান! বিদ্যার আকর. সমুদায় জ্ঞানবিজ্ঞানের আশ্রয়, প্রদীপের 
হ্যায় সর্বাবভাসক-_স্ৃতরাং সর্বজ্ঞতুলা, সেই খণ্েদ প্রভৃতির যোনি ব? উদ্ভবস্থান 
ব্র্গ ।২* অর্থাৎ বেদ যে ক্রহ্গকর্তৃক হুষ্ট বস্ত তা তিনি স্বীকার করেছেন। 
কিন্ত এই অর্থে বেদে নিতা না হলেও, তা ক্ষণিক নয়, পৌরুষেয়ও নয়। বর্ণসমষ্ি 
পদসমঠি ও বাক্যসমষ্টিৰপ বেদ আকাশাদির মত হ্ষ্টিকালে উৎপন্ন এবং প্রলয়- 
কালে বিনষ্ট ; স্ষ্টি ও প্রলয়ের মধো কোনও সময়ে তাব আর উৎ্পত্তি-বিনাশ 
নেই। সুতরাং তা ক্ষণিক নয়।২৮ আর পুরুষাধীন বা উৎ্পন্ন বস্তু বলেই যে 
তা পৌরুষেয় গণ্য হবে তাঁও নয়। কেনন! কবির কাবাস্থ্টি ও ঈশ্বরের বেদ- 
স্টির মধো মৌলিক পার্থকা আছে। কবিযা স্থ্টি করেন তা৷ তার পূর্বে আর 
কেউ করেন নি, সে স্বষ্টি সম্পূর্ণ তারই অধীন, স্থতরাং তা পৌরুষেয়। কিন্ত 
প্রতি হুষ্টির প্রারন্তে ঈশ্বর বেদ স্থ্টি করেন বটে, কিন্তু সে সৃষ্টির স্বাতশ্া নেই, 
তিনি পূর্বকল্ের বেদের সমান আন্মপূধিক বেদ রচনা করেন। সুতরাং এই 
স্টি তার ইচ্ছাঁধীন নয়, পুরাতন এতিহ্যের পুনরাবর্তন মাত্র ।২* এই অর্থে বেদ 
'অপৌকুষেয়। রামমোহন তার ত্র্বস্থত্রভাঙ্তে ছুটি স্ুত্রস্থলে (১, ১, ৩ এবং 
১, ৩, ২৮) শংকরকে অনুসরণ করেছেন । সুতরাং শ্রাতপ্রমাণের প্রশ্নে তার 
সিদ্ধান্ত বেদান্তভান্ক প্রকাঁশকালে, অর্থাৎ ১৮১৫ খ্রীষ্টাব্দে, দাড়াল £ বেদ ঈশ্বর- 
সষ্ট ব্ত এবং বেদ নিত্য না হলেও বেদবাক্যের এঁতিহ্‌ নিত্য | পূর্বেই বলেছি 
এই সিদ্ধান্ত মীমাংস! ও ন্যায়মতের মধাবর্তী | 

হিন্দুশাস্ত্র সংক্রান্ত বিচারপ্রসঙ্ষে রামমোহন শব্দপ্রমাণ বা বোপ্রমাণের 
প্রনঙ্গটি যেমন একাধিক স্থানে উত্থাপন করেছেন, ্ীষটীয় প্রতিপক্ষগণের সঙ্গে 


৫ ৬৫. 


আলোচনাকালে শ্রীপ্ঠীয় শান্ত্রের অন্রান্ততার প্রশ্ন নিয়ে তেমন কোন স্বতু্ 
আলোচনা করেন নি। কিন্তু তার পরোক্ষ উক্তিগুলি থেকে বুঝতে অন্ুবিধা 
বা বিলম্ব হয় না যে এ ক্ষেত্রেও তিনি খ্বীষ্টীয় শান্তর বা বাইবেল গ্রন্থকে প্রমাণন্বরূপ 
অবলম্বন করেই বিচারে প্রবৃত্ত হয়েছেন। তাঁর এই বিষয়ক প্রথম গ্রন্থ [1১6 
7760০50050৫ 76905--02 £106 6০ 76208 ৪10 1791011)655-এর 
ভূমিকাতে তিনি স্বীকার করেছেন, ব্রঙ্গের স্বরূপ ও গুণাবলী, আত্মার প্রকৃতি 
প্রভৃতি দুরূহ তত্ব মানববুদ্ধির অগমা। এই সকল বিষয়ে বুদ্ধিমাগীয় জিজ্ঞাপা 
আমাদের শাস্তি বা তৃষ্চি দিতে পারে না। কিন্ত এক অদ্বিতীয়, স্থষ্টি-স্থিতি- 
পালনকর্তা ঈশ্বরে বিশ্বাস ও এমন নৈতিক চূলাবোঁধ যা! আমাদের শিক্ষা দেয় 
অপরের প্রতি মেই আচরণ করতে যা আমর! নিজের প্রতি অপরের নিকট হতে 
কামনা করি,_আমাদের জীবনকে রমণীয় ও সর্বমানবের পক্ষে কল্যাণকর করে 
তোঁলে। শ্বরবিশ্বীস মাঙষের পক্ষে স্বাভাবিক ও সার্বভৌম, এর উৎস 
শাস্ত্রীয় এতিহা ও পরম্পরাগত শিক্ষা (0801001) ৪100 1785000001019) 3 
এবং প্রকৃতির মধো পরমেশ্বরের ঘে অপূর্ব হুষ্টিকৌশল পরিষ্ফুট তাঁর অনুশীলন । 
অপর পক্ষে নৈতিক হৃলাবোধের প্রয়োজনীতা সব ধর্মেই যদিও স্বীকৃত তথাপি 
্রীষ্টধর্মে সমগ্রভাবে তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বস্তুত এটিই শ্রীষ্টধর্মের 
বিশিষ্ট লক্ষণ। কিন্তু বিভিন্ন খ্রষ্টায় সম্প্রদায় 'শ্রষ্টান, অভিধাটি বিভিন্ন অর্থে 
প্রয়োগ করে থাকেন। কেউ বা বলেন খ্রীষ্টের ঈশ্বরত্ব, পবিভ্রাত্মা' (হোলি গোস্ট) 
ও ঈশ্বর-_এই.তিন তত্বে বিশ্বাসী না হলে নিজেকে খ্রীষ্টান বলা চলে না; কারও 
মত উদ্ারতর, তার] শুধু বলেন বাইবেলকে ঈশ্বর-প্রত্যাদিষ্ট শাস্ত্ররূপে গ্রহণ 
করাই খ্রীষ্টান বলে চিহ্নিত হওয়ার পক্ষে যথেষ্ট, সেই বাইবেলের অংশবিশেষের 
ব্যাখ্যায় একের সঙ্গে অপবের যতই মতপার্থকা থাকুক না কেন; আর এক 
দল আছেন ধার] বলেন বাইবেল শান্তে স্বয়ং খরীষ্টের মুখনি:স্ছত যে উপদেশাবলী 
আছে সেগুলি যথাযথভাবে পালন করলেই খ্রীষ্টান হওয়া যায়।৩ কেননা 
গরষ্টের প্রেরিত শিশ্কগণের উক্তির মধ্যে অনেক সময় স্ববিরোধ দেখতে পাওয়া 
যায়। উক্ত তৃতীয় সিহ্বান্তই রামমোহনের নিকট গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হওয়ায় 
তিনি সর্বসাধারণের জন্য খ্রীষ্টোপদেশ সংগ্রহে প্রবৃত্ত হয়েছিলেন। তার এই 
সংকলনটি শ্রীরামপুর ব্যাপটিস্ট, মিশন কর্তৃপক্ষের মনঃপৃত না হওয়ায় তারা 
রামমোহনের গ্রস্থকে আক্রমণ করেন। এর ফলে যে সুদীর্ঘ বিতর্ক শুরু হয় সেই 


৬ঙ 


উপলক্ষে রামমোহনকে রচনা করতে হয় £&10 40651 60 006 01130212 
700110 (১৮২০) 98০০0750 4১268] 00 006 00100150812 000110 
(১৮২১) এবং 081 45068] 00 005 0101150815 09116 (১৮২৩)। 
[155 0:5০€05 0£ 15505এ রামমোহন যদিও বাইবেলভুক্ত খ্রীষ্টের নিজস্ব 
উক্তিগুলিকে এই শাস্ত্রের অন্তান্য অংশের থেকে পৃথকীকরণের পম্থাই বেছে 
নিয়েছিলেন, তবু বাইবেল ঈশ্বর-প্রত্যাদিষ্ট শান্তর এ মত তিনি প্রত্যাখ্যান 
করেন নি। দেখা যায় এখানে তিনি ঈশ্বরবিশ্বাসের যে ছুটি উৎস নির্দেশ 
করেছেন তার একটি শাস্ত্রীয় এঁতিহা (£:৪016107) অপরটি পরম্পরাগত শিক্ষা! 
(109090002)। এখানে ম্পষ্টত তিনি “তুহফাৎএ ব্যক্ত তার পরিপূর্ণ 
যুক্তিবাদ কিছু পরিমাণে সংশোধন, করেছেন। 'তুহফাৎ্এ ঈশ্বর-বিশ্বাসকে 
তিনি বলেছেন মানুষের ম্বভাবজাত, এবং শাস্ত্রীয় এতিহা ও অভ্যাস্জাত 
সংস্কারকে বলেছেন সর্বথা বর্জনীয়। এই প্রসঙ্গে তওয়াতুর” বা এঁতিহোর 
বিশ্বীসযোগ্যতার বিরুদ্ধে তার তীক্ষ যুক্তিগুলি মনে পড়ে ।১ চ:৪০৪9৪- 
এর ভূমিকায় তাকে আরও কিছুদূর অগ্রসর হয়ে বলতে শুনি : 969188, 
1)107206215 0৫616118101) 0816150015715 1021) 17) £61)618] 012:00£1) 
015100105 2170. 02101211 60 002 01017710195 15101) 0025 01006 
10077, 085 1100]6 01 790 20617001700 00005165 5210/010021)0 
(1)09575৮6 16250917810165 01765 1085 02) 8730 0621) 00102 
৪4686 9691 00 71080 15 20056 5091)519661)6 7100) 0105 185 
0 1580006, 2180. 5091)60100)81016 00 006 41009055 0% 10010)818 129.501 
8130 0152)6. 1:5% 61900. 1২ স্ৃতরাং আদৌ 'তুহফাৎ এ ব্যাখ্যাত এবং 
এখানে পুনরুক্ত নৈসগিক নিয়ম ও স্বাধীন বিচারবুদ্ধির নির্দেশের সঙ্গে এখানে 
একটি নৃতন মাত্রা যুক্ত হয়েছে__৫15116 25819001) বা এশ প্রত্যাদেশ। 
সমালোচকের আক্রমণের উত্তরে 41 /১20681 00 0)6 0010150217 290116 
এ বামমোহন তার 7:০6 গ্রন্থের এই ভূমিকার প্রাতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে 
বলেছেন £ [5655 63165510175 8212. ০8159012060, 10. 105 100201012 
01910101, 00001511506 ৪৮1 01100 1706 10185560 05 0:6100156, 
0086 05০ 501001161 06116 60 1700 ০0]5 17) 0206 300 "***"" 006 2 


206 000১9 16%62160 5 006 001180910 $5 80610. 1*৬  (26518০5 লেখক 


৬৭ 


সংযোজিত)। এই গ্রস্থেই আবার অন্ত্র তিনি ঈশ্বরসত্তার একত্ব (বা! 80:05 
0£ 00৭) সম্পর্কে ম্পষ্টোক্তি করেছেন__১৪ ০215 0০০011756 0078915- 
061) ৮৮101) 15850172150 16৮61701010 378 কিন্তু সেই সঙ্গে প্রতিপক্ষকে 
সর্্ক করে বলেছেন--প্রত্যাদেশ বা 1৪৮ 61901) স্বীকাব 2] করেও ঈশ্বরবিশ্বা 
সম্ভব, এবং এমন বিশ্বামী বহু আছেন 2 “] 800 ৪০ ৪ 1055 0০0 0৪০2 016 
01181] 0 1015--8100061)0 11000016 2006190) 00 606 [09]911 
0£ 01)056 ড/1)0 061) 0106 01511510501 0006 12151) ৪190 05170156181) 
[5৬619 0010., £0 000৮/101)509179116 205 2০0 108107087)06 ৬7101) 
82৬ ০1:2] [17701029195 21) /১5120105 ৮৮119 00900 0102 00985101110 
0 1২2৮9100101) 110৮2 17661 10066 ৮711) 0186১ 09 005 0950 ০01 
[0)% 1200,112050101), 1))811)021101106 20106515100) 190 %৮2৮6] 14619 0125 
08161) 01061 0001) 0105 [51০৬০ [| বামমোহনের 7:2০6065-এর 
সমালোচক খ্রীষ্টীয় গ্রতিপক্ষ ] ৪1১এ 0০ 00101816া [012০6]65-এর সংকলক 
বামমোহন ম্বঘং ] 1 4. 61580 0081)/ 19911005046 09116 151901758 
6০ 006 105” 1৩৫ রামমোহন রচিত 92০0:)0. 40969] (১৮২১) ও 
71761 4১0091 ( ১৮২৩) গ্রন্থদ্ধয়ে শেষ পর্যন্ত বিতর্কের বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে 
ভ্রিতত্ববাদ (1:01151021101)1500) বনাম একেশ্বরবাদ ( [01010819171570 )7; এবং 
এই স্থত্রে রামমোহন প্রতিপন্ন করতে চেয়েছেন যীশুর মানবত্ব এবং ঈশ্বরাধীনত্ব। 
এই প্রসঙ্গে তিনি যীশুর ঈশ্বরত্ব (19105 ) মতবাদ, যীশ্ু-প্রায়শ্চিত্তবাদ (বা 
[০0০00106০06 4১001017061 0 0000156স্বৰমানবের পাপের প্রায়শ্চিত্তের 
জন্য যীত্ত স্বেচ্ছায় প্রাণ বিস্্জন দিয়েছিলেন,__ প্রচলিত শ্রীষ্টধর্মের এই সিদ্ধান্ত ১ 
এবং যীশুর অলৌকিক ক্রিয়াকলাপ সংক্রান্ত কাহিনীগুলি অশাস্ত্ীয় এবং যুক্তি 
ছারা বিশ্বাসের অযোগ্য বলে ঘোবণা করেছেন। এই প্রচলিত শ্রীষ্টীয় 
সংস্কারগুলির পরিবর্তে তিনি যীশুকে ঈশ্বরস্থষ্ট (০:2৪65এ ), ও ঈশ্বরপ্রেমিক 
ধর্মোপদেষ্টা রূপে প্রতিষ্ঠিত করবার প্রয়াস পেয়েছেন। তাঁর অবলদ্িত প্রণালী 
খ্রীষ্টায় শাস্্গ্রন্থের উপযুক্ত পওক্তি-বিচার বা 65:0981 ০010101500 | সর্বত্র তিনি 
প্রতিপক্ষগণকে বোঝাতে চেয়েছেন, তাদের ধর্মশান্ত্রের প্ররুত ব্যাখ্য। প্রচলিত 
ত্রিতত্ববাদের অন্গকুল নয়। এই বিচারে শাস্তরপ্রমাণই তার অন্ত্র। | 


এই স্থত্রে রামমোহনকৃত শান্ত্রবিচারের যে বৈশিষ্ট্য চোখে পড়ে সংক্ষেপে 


৬৮ 


সেগুলির উল্লেখ করা যেতে পারে ঃ ১. তিনি আক্ষরিক অর্থে শান্ত্রকে গ্রহণ 
করবার ঘোর বিরোধী । তার শ্রীষটীয় প্রতিপক্ষগণ বাইবেলকে বর্ণে বর্ণে অভ্রাস্ত 
মনে করেছেন-_ তাঁদের দৃষ্টিতে এর শুধু অর্থ নয়-__ প্রতিটি শব এবং তার বিন্যাস 
পর্যন্ত নিতা এবং অভ্রান্ত। রামমোহন এব প্রতিবাদে সঙ্গত ভাবেই দেখিয়েছেন 
মূল বাইবেলের ভাষা বপকবহুল ও অলঙ্কারাকীর্শ_একে আক্ষরিক অর্থে ব্যাখ্যা 
করলে অর্থসঙ্গতি কিছুতেই বক্ষা করা যায় ন1। শ্বীষ্টায় ধর্মশান্ত্রের গ্রাচাদেশে 
উদ্ভব ; প্রাচা ভাঁষাসমূহের প্রকাঁশভঙ্গী স্বভাবত অলঙ্কারমণ্ডিত, প্রাচ্যদেশীয়রা 
আজন্ম এই ভাঁষা শুনতে অভ্যস্ত । তাই বাইবেল বা কুরাণের বচন শুনলে 
বাহাড়ম্বরেব অন্তরালে নিহিত প্রকৃত অর্থ গ্রহণে তাদের অসুবিধা হয় না। 
কিন্ত শত পাণ্ডিত্য সত্বেও অনভান্ত ইউরোপীয়দের পক্ষে এর প্ররুত অর্থ অন্থধাবন 
করা সহজ নয়; তাই তারা আক্ষরিক ব্যাখা। করে ভ্রমে পতিত হন ।৩৬ 
১৪০১0 4১7৪] গ্রন্থে এই হাস্তকর আক্ষরিক ব্যাখ্যার এক উদ্দাহরণ তুলে 
ধর হয়েছে 2 4] 8199 60 105 £16206 501100156, 0086 00৪ 1910181] 0] 
0 6%0155510]. 1] 002 2000 ৮6156 0 002 2150 015810021০0: 
036172515, 4৯150. 300. 5813 166 05 10810610817 17) 00] 107856, 
91061 00] 1110616955১ 1085 10261 00090650 1705 ৪9105 01৬11169 28 
62001707600 17010ড2 60০ 00001060005 0616ঠ 0: 00০ [7015 
(10990. 8110 01586 01 01065 9910 7100 606 06165 0£ 076 80)61 0£ 
606 070152159, ০00017)01015 021160 0106 00060106০0৫ 006 11015. 
৮৬৬০6 ০ 25০1) €29 01556810 €005]]5 006 10101) 0£ 006 
176016৬, 47810102130 017 8100056 8]] /510610 1817802193 112 
10101) 006 0101791] 10010010921 15 01021) 0560 01 006 8106001916০ 
00255 0172 155060০6006 €০ 002 062150105 06180662005 006 17001), 
“৮006: 0006861010 ০০10 9011] 7 170 0062135 2:1055/51 0061 
0810056 3 "0 00952 আ1)0 216 06010181015 5550. 11 13606 
৪00. 4১181010910 15 2 জ6]] 1000 09০0 096 10 006 0০181) 8150 
1$001)8001080218 50017060165, 23 961] 83 17. ০00210001) 015000196, 
006 01012510100 15 0061) 0560. 179 8. 511780181 561756) ছ1)61) 006 


80061101151 0: 6106 9015০ 0৫ 0150010396 15 11702170650 €0 06 1:০০ 


৬৯ 


17) ড16জ : ৮1" এই শান্ত্রোক্তির ৪ শব্দটিতে যে প্রাচ্য ভাষাবীতি 
অনুযায়ী গৌরবে বহুবচনের প্রয়োগ হয়েছে__এটি যে প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বরের 
বহুত্বনির্দেশক নয় এই সহজ তত্টি প্রতিপক্ষকে বোঝাতে রামমোহনকে এতগুলি 
কথা খরচ করতে হয়েছিল। 

২. হিন্দুশান্ত্রের বেলায় যেমন তিনি বেদ এবং পুরাঁণ-তন্ত্রের মধ্যে পার্থক্য 
স্বীকার করে শ্রুতি বা বেদকে সর্বোচ্চ স্থান দিয়েছেন এবং বেদের অন্গগত হলে 
তবেই পুরাণ-তন্ত্রের প্রামাণ্য মেনেছেন, শ্রীষ্টীয় শাস্ত্রের ক্ষেত্রেও তেষনি থ্রীষ্টের 
মুখনিংস্ছত বাণীকেই উচ্চতম মর্যাদা দিয়েছেন। বাইবেলের যে সব অংশ 
এতিহাসিক বিবরণ, অলৌকিক কাহিনী, রহস্যময় তত্ব ইত্যাদির বর্ণনায় মুখর 
সেগুলিকে তিনি প্রাধান্য দেন নি, কেন না সে বিষয়গুলি বিতফ্িত ও যুক্তিবাদী 
এবং অস্রীষ্টানগণ সেগুলিকে অগ্রাহ্হ করে থাকেন। একমাত্র ্রীষ্টের অমূল্য 
উপদেশাবলীই সর্বজনগ্রাহ্হ এবং প্রারৃতিক নিয়ম, যুক্তি, শান্ত্র-_সব কিছু দ্বারা 
সমধিত (0956 501751506100 10) 06 1915 0£ 178001:6, 810 001700100- 
21016 00 0106 01008055 0: 1)01081) 1758500. 210 0151776 16561811010) | 

৩. এঁশ প্রত্যাদেশ অবশ্যই মান্য, কিন্তু তার সঙ্গে সহজ বুদ্ধি, প্রারুতিক 
নিয়ম এবং মানববুদ্ধির কদাচ কোনও বিরোধ নেই । 

৪. ধারা প্রত্যাদেশবাদ গ্রহণ করতে অক্ষম তারাও স্বচ্ছন্দে ঈশ্বর-বিশ্বাসী 
হতে পারেন। প্রত্যাদেশে অবিশ্বাস করলেই কেউ নাস্তিকরূপে অপাঙক্রেয় 
হয়ে যান না। 

৫. অন্যের ধর্মবিশ্বাস ও ধর্মীচরণে হস্তক্ষেপ করার কারও অধিকার নেই 
(4১5 121151010 001)51505 11) ৪ 0006 01 0810165 10101) 002 01:28 0216 
72116565112 0৬৮5 60 1715 0:58601,-46 00050 02 00105106150 
71550170000 003 880 0181050 101 006 1091) 0 82065001ট 00 117621- 
6216 16 006 11651151005 90561: 81)069 ০06 00015) 101 ৮/19101) 1)€ 
জা2]] 10109, 192 15 1500 11210 25001551016 05 25 17৩7 21006 
10001070292 0] 0151106 ) 1৩৮ 

দেখা যাচ্ছে, প্রায় প্রত্যেক ধর্মের এঁতিহেই শান্তপ্রামাণ্য বা আপ্তবচন- 
প্রামাণ্যের একটি নির্দিষ্ট ও গুরত্বপূর্ণ স্থান আছে। তবে হিন্দু মুসলমান ও 
্রীষটীয় ধর্মত্রয়ের এঁতিহাঁসিক আ্ভিব্যক্তিতে শান্তরপ্রামাণ্যবিশ্বাসের যে স্তরভেদ 


৩ 


ঘটেছিল তার মধ্যে একট] সাদৃশ্ঠট লক্ষ্য করা যায়। সর্বত্র দুই স্তরের পার্থক্য 
প্রধানত অক্রাস্ত শাস্ত্র ও প্রত্যাদিষ্ট বচন নিয়ে। মীমাংসকগণ যে অর্থে 
বেদপ্রামাণ্য মেনেছেন তদনুযায়ী বেদকে শুধু প্রামাণিক গ্রস্থই বল! হয় নি, তাকে 
নিত্য, অপৌরুষেয় ও বর্ণে বর্ণে অভ্রাস্ত বলা হয়েছে। এই মতে ঈশ্বর বা খষিগণ 
বোদন্রষ্টা নন। নৈয়ায়িকরা এরই প্রতিবাদে প্রমাণ করবার চেষ্টা করেছেন বেদ 
ঈশ্বর কতৃক স্থষ্ট বস্ত, ঈশ্বরের বাণীরূপেই তাঁর প্রামাণিকতা প্রতিষ্ঠিত। 
মুসলমান ধর্মশান্ত্ের ইতিহাঁসেও তর্কটা উঠেছিল; সনাতনপস্থিগণ (হিন্দু 
মীমাংসকদের মত ) ঘোষণ| করেছিলেন কুরাঁণশরীক নিতা,__এ গ্রন্থ ঈশ্বরের 
অব্ক্ত বাণীর সমষ্টি--সপ্ধম ব্বর্গে রক্ষিত এক দিব্য আকর থেকে জিব্রাইল কর্তৃক 
এই বাণী মহম্মদের অন্তরে প্রেরিত হয়। স্ৃতরাঁং এর শুধু অর্থই নয়, প্রতিটি 
শবধই নিত্য এবং অভ্রাস্ত। এই মতের প্রতিবাদ করেন যুক্তিপন্থী মৃতাজিলিগণ 
অনেকটা ভারতীয় নৈয়ায়িকগণের অনুরূপ যুক্তির অন্তসরণ করে। তাদের 
মতে কুবাঁণ প্রামাণিক শান্তর হলেও তা সৃষ্ট বন্ত, নিত্য নয়। এর বাণীগুলি 
ঈশ্বরপ্রেবিত, কিন্তু প্রেরণকালে স্ষ্ট-তা কোনও নিত্য অব্যক্ত সত্যের 
প্রতিধ্বনি নয়। ইহুদী ও খ্রীস্টীয় শাস্ত্র সম্পর্কেও একই কথা। বাইবেলের 
প্রামাণাও প্রথম যুগে বিশ্বাস করা হত এই অর্থে যে এর প্রতিটি শব্ধ এমন কি 
প্রতিটি অক্ষরই অভ্রাস্ত (01108 5০0100018), এবং বাইবেল বণ্ধিত প্রবক্তা ও 
প্রেবিতগণ অন্লিপিকার মাত্র। পরবর্তী কালে এই বিশ্বাসের স্বপক্ষীয় 
যুক্তিগুলি দূর্বল হয়ে পড়ে এবং ক্রমশ এর পরিবর্তে মনে করা! হয় বাইবেলের 
শব্দ ও অক্ষরগুলি কোনও নিতা, অব্যক্ত, আধ্যাত্মিক সত্যের বহিঃপ্রকাশ নয় ; 
মহাপুরুষগণের অন্তরে যোগলব ঈশ্বরের যে বাণী শ্ফূর্ত হয়েছিল, বাইবেলে তাই 
লিপিবদ্ধ হয়েছে । এখানেই £৪ড1৪101, কথাটির অর্থ বদলে যাচ্ছে । মহাপুরুষ 
যোগযুক্ত অবস্থায় ঈশ্বরের বাঁণী স্বাভাবিক ভাবেই শুনেছেন, এর মধ্যে কোনও 
অলৌকিকত্ব নেই। অন্রাস্ত শান্ত্বাদ থেকে এই প্রেরণাবাদ বা 0১6০5 
04 11151012101) সম্পূর্ণ ভিন্ন। শেষোক্ত মতে যোগী মহাপুরুষগণ জীবনে 
যে এশী বাণী লাভ করেছেন, শান্ত্র তারই সমষ্টি এবং সেই কারণেই মান্য । 

এখন প্রশ্ন আসবে শান্্রপ্রামাণ্য সম্পর্কে রামমোহনের মত উত্তরজীবনে এর 
কোনটি ছিল-_-আঁক্ষরিক অর্থে অভ্রান্ত শান্ত্বাদ ন1 প্রেরণাবাদ ? ইসলামীয় 
ধর্মশান্্ অধ্যয়নের সঙ্গে সঙ্গে ইসলামীয় যুভ্িবাদ ও তর্কশান্ত্রে দীক্ষার ফলে 


৭১ 


তুহক্াৎ রচনাকালে তিনি উগ্র এবং পরিপূর্ণ যুক্তিবাদী বা ৫59৫ রূপে 
আত্মপ্রকাশ করেছিলেন । মোক্ষশান্ত্ বেদীস্তের প্রস্থানত্রয_উপনিষদ্‌, 
্র্স্ত্র ও গীতা € এবং সাধারণভাবে ভারতীয় দর্শন ) গভীর ভাবে অন্শীলনের 
ফলে তার প্রথম জীবনের কঠোর যুক্তিবাদী মনোভাব অনেকটা নমণীয় 
হয়েছিল ৷ খ্রীষ্টধর্ণের আধাত্মিক তত্বেব সঙ্গে অন্তরঙ্গ পরিচয় এই পরিবর্তনের 
ভিত্তিকে দৃঢতর করেছিল। তিশি ক্রমশ শাস্ত্রকে শ্রদ্ধা করতে শিখেছিলেন। 
কিন্তু শান্ত্রচ্ার পাশাপাশি প্রথম পর্বের যুক্তিবাদী চিন্তাধারাটিও ক্রমশ আরও 
পরিপুষ্ট হয়ে উঠেছিল পাশ্চাত্য জ্ঞানবিজ্ঞানের সংস্পর্শে-এর উপর আস্থা তিনি 
কোন সময়েই হাঁধাঁণ নি। তাই ইসলামের শরীয়ত্পন্থিগণের অভ্রান্ত শান্ববাদ, 
ভারতীয় মীমাংসা-বেদান্ত-ভণয়-দর্শণের বেদণামাণা-প্রতিপ্রাদক থুক্তি (তা 
যতই লুক্মদশ্িতাঁর পবিচায়ক হোক না কেন ), বা প্রচলিত শ্রীষ্টধর্মের অন্ধ 
শান্্রানুগতা শেষ পর্যন্ত তাকে তৃপ্চি দিতে পারে নি। শাস্ত্র সম্পর্কে শ্রদ্ধা অটুট 
রেখেও এব” শাস্্রসাক্ষের গুরুত্ব ও মর্ধাদা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবহিত থেকেও__ 
প্রাচীন অর্থে শান্্-নিতাতা সম্পর্কে তিনি সন্দিহান হয়েছিলেন। তার পরিণত 
জীবনের মত এই বিষয়ে যা দাড়ায় তা এই £ বিভিন্ন দেশে ও কালে বিভিন্ন 
ধষি ও ভ্রষ্টাদের অন্তরে প্রজ্ঞালন্ধ সত্যসকল উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে । বিভিন্ন 
ধর্মশান্ত্ এই সকল সত্যেরই বাণীরূপ। অন্ুভূতিমূলক এই আধাত্মিক সত্যগুলি 
নিতা এবং শিছক যুক্তি বা লৌকিক বিচারবুদ্ধির অগম্যা। এর পাশাপাশি শান্তর 
ধর্মজজীবনের পক্ষে অপ্রয়োজনীয় ও অবাস্তব বু প্রসঙ্গ, স্থল বর্ণনা, বিশ্বাসের 
অযোগ্য অলৌকিক কাহিনী, বাক্তি ও সমাজের পক্ষে অনিষ্টকর কুসংস্কার 
ইত্যাদি পুঞ্তীভূত হয়ে আছে। এগুলি বর্জনীয় ; কিন্ত ধর্মজীবন গঠনের পক্ষে 
নিত্য আধাত্বিক সত্যগুলি একান্ত এয়োজনীয়। সঙ্গে সঙ্গে যুক্তি বা বিচার- 
বুদ্ধিরও সমান প্রয়োজন বয়েছে। শান্ত্রীয় আধ্যাত্মিক সত্যের সঙ্গে যুক্তি বা 
প্রাকৃতিক নিয়মের কোনও বিরোধ নেই। বামমোহনের দৃষ্টিতে তাই শাস্ত্র ও 
যুক্তির সমান মর্যাদা । বিচারপ্রস্থগুলিতে নিছক শান্ত্রনির্ভর মনোভাবের 
সমালোচন। প্রসঙক্ষে তিনি একাধিকবার যে বৃহস্পতিবচনটি উদ্ধার করেছেন তা 
পুনরায় এই প্রসঙ্গে ম্মরণীয় £ 
কেবলং শান্ত্রমা শ্রিত্য ন কর্তব্যো বিনির্য়ঃ | 
যুক্তিহীনবিচারেণ ধর্মহানিঃ প্রজায়তে ॥*, 


প্‌ 


অপর পক্ষে কেবল যুক্তিতর্ক আধ্যাত্মিক সত্যলাভের সহায়ক নয়। 
যুক্তিমার্গের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে কেনোপনিষদের ইংরেজি অনুবাদের ভূমিকায় 
তাঁর স্পষ্ট উক্তি রয়েছে: ৬৬12 আ 19010 00 61৪ 0:20100175 ০ 
8.00161)0 18201019095 ০ | 0:06] 5110 01210 20 ড৪1101706 101) 2৪01) 
0012; 8190 ড1)61) 01500701820 05 0015 ০1000750206, ০ 8019621 
€0 1652.5010) 25 8. 51161 (70105, ৮5 5001) 0170 1)0৬/ 11001096617 10 
15, 21016, €0 ০010000 05 €9 02 001506 01 0আ] [0015016 ৬৬০ 
0061) 810 00৪0, 105:652.0 0: 12.011109005 001 10068৮০0015 07 
০162116 00 001 061016%016165 16 01015 567৮65 00 £616:706 ৪ 
0115 61521] 00000 11000100108011012 আ10) 002. 701011)510169 01) ড10101) 
000 50000108190 10800110255 17081101]% 061921)0, 017০ 725 
10)60)00 70213815 19) 7)6101721 60 £1৬6 001551563 01) 3০1051৬6515 
€0 006 £01091)02 ০0৫ 1) 0105 01 01)6 0012; 090105 & 0:09 
05০ 0৫ 00০2 1181065 10115151060 05 0009১ £10062%001 60 1101):06 
০০: 11)0611600081 21017001921 (70016125, 161511)6 01) 0006 £00901)658 
0:002 £১100151)65 202, 1101) 21010)2  21590165 015 60 82669117 
০৪০ 10101) দ০. 581:029505 2100. 01116617015 56০]. 011৪০ সুতরাং 
শান্ত্র সম্পর্কে রামমোহনের পরিণত মত বিশ্লেষণ করলে দেখা! যাচ্ছে ঃ শান্ত নিত্য 
এই অর্থে যে তা প্রজ্ঞালব্ধ ঈশ্বরীয় বাণী যা খষি, ত্রষ্টা ও মহাপুরুষগণের অস্তরে 
সাধনালন্ধ প্রজ্ঞাদৃতির মাধ্যমে উদ্ভাসিত হয়; সর্বদেশে ও পর্বকালে এমন 
নরোত্তমগণ জন্মগ্রহণ করেছেন ধাঁদের অন্তরে এই বাণী প্রত্যাদেশের আকারে 
প্রকাশিত হয়েছে ও শাস্ত্রে সঞ্চিত হয়েছে । স্থৃতরাং শান্্ব কোনও বিশেষ দেশে 
বা! কালে আবদ্ধ নয়; ব্রজেন্ত্রনাথ শীলের ভাষায় এই অর্থে বিভিন্ন শান্তরকে 
বল ঘেতে পারে 12951601165 0£ 075 ০09116061৬6 ড150010 0: 010 
109009028০৪ | এই শাস্ত্রীয় চিরস্তন আধ্যাত্মিক সত্য এবং মানুষের স্বাধীন 
বিচারবুদ্ধি পরস্পরের পরিপূরক | এমন দিদ্ধাস্তকে কিছুতেই আক্ষরিক অর্থে 
অন্রান্ত শাস্ত্রে বিশ্বাস বল! যাবে না_-একে যুক্তি দ্বারা পরিমাজিত প্রেরণাবাদ 
ৰা প্রত্যাদেশবাদ বলাই নঙ্গত। আপত্তি উঠতে পারে, '“তুহ্‌ফাৎ পর্বে তিনি 
প্রত্যাদেশবাদকে বাতিল করে দিলেও স্বাধীন স্বাভাবিক বিবেকবুদ্ধি বা 


ণ৩ 


1)8001:8] 11789180018 তে! শ্বীকার করেছিলেন। কিন্তু এই 1580018] 
1781:9001)কে সেখানে তিনি মান্গষের ঈশ্বরদত্ত একটি স্বাভাবিক বৃত্তি 
বলেই ব্যাখ্যা করেছেন। উত্তর পর্বে তিনি যে £৪৬৪180012 বা প্রত্যাদেশে 
বিশ্বাপী হয়েছিলেন তা! মহাপুরুষগণ কর্তৃক বিশেষ ব্রন্মযোগে লব্ধ। 
সর্বমানবের অস্তরস্থ হ্বাভাবিক বিবেকবুদ্ধির সঙ্গে তাঁর মৌলিক পার্থক্য 
আছে। 

শান্ত্রপবিব্রমায় প্রথম পর্বের যুক্তিবাদ থেকে উত্তর পর্বের প্রত্যাদেশরাদে 
উত্তরণ পর্বস্ত রামমোহন-মানসের অভিবাক্তিকে বিশ্লেষণ করলে তার একটি 
বৈশিষ্ট্য সহজেই দৃষ্টি আকর্ণ করে। পরিণত জীবনে শাস্ত্র ও যুক্তি উভয়কে 
তিনি মরধাদা দিয়েছেন । কিন্তু তু ফাৎএ প্রত্যাদেশ, অলৌকিক ক্রিয়াকলাপ 
(00180169), মধাবন্তিবাদ, অবতভারবাদ প্রভৃতির বিরুদ্ধে তার যে সুস্পষ্ট মত 
প্রকাশিত হয়েছিল, উত্তরজীবনের শান্্্বীরৃতি দ্বারা তা কিছু পরিমাণে সংশোধিত 
হলেও খণ্ডিত হচ্ছে নাঁ। খধি, জ্ঞানী বা এশভাবাপন্ন মহাপুকষগণ ব্রহ্মযোগের 
অবস্থায় সতা লাভ করে থাকেন। শাস্ত্রে তালপিবদ্ধ। এই প্রজ্ঞালব্ জ্ঞান 
যুক্তি ও বিচারবুদ্ধির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে তবেই তা গ্রহণযোগ্য একথা পরবর্তী 
জীবনেও রামমোহন খুব জোরের সঙ্গেই বলেছেন । 7::5065 ০৫ ]59এ5-এর 
ভূমিকায় যীস্তর উদ্দ্ধ উপদেশগুলি সংগ্রহের অন্যতম কারণ তিনি এই 
দেখিয়েছেন যে, এগুলি হল “0050 50175150617 10 185 01 109 0016, 2100 
০0201009191 00 0106 01002065046 152.5077 20 1)01081) 12ড612- 
০7” | দেখা যাচ্ছে তিনি শান্বকে অতিপ্রাককৃত বা অলৌকিকের প্রভাব থেকে 
মুক্ত রাখবার ও যুক্তির আলোকে পরীক্ষা! করবার পক্ষপাতী ; এবং 7780076 ও 
1685018 তার ক্রমবিন্থাসে 15৮০196102. বা প্রতাদেশের অগ্রব্তী | এই 
1885$01) এবং 16৬61901019 (05৬61801017 এবং 5০000015 তার পরবর্তী 
ব্যাখ্যায় সমার্থবাচক)-এর সঙ্গে তিনি অন্য একটি প্রমাণের উল্লেখ করেছেন-_ 
যেটিকে তিনি বলতেন ০01700001) 561)56 ব। সহজ বুদ্ধি। শান্্সালোচনা ও 
ধর্মসাধনার ক্ষেত্রে এই তিনটি বৃত্তির উপযুক্ত সংমিশ্রণই ছিল তার মতে আদর্শ। 
ইংলগ্ডে ইউনিটেরিয়ান এাসোসিয়েশন কর্তৃক সংবর্ধনার উত্তরে ভাষণ 
প্রসঙ্গে তিনি বলেন ; 4710216515৪ 92005 £০9$06 ০01) ০6৮6] 
60079, 9০000016 2170 ০010001) 32056 2170 ০2101), 0061 


প৪ 


৪180 01:2]00105. 701)656 00:66 1982 0661) 50006611778 আঃ 
002 006 00166. 18১ লক্ষণীয় এখানেও £৪০-এর স্থান প্রথম | 

শান্্কে যুক্তির কষ্টিপাথরে পরীক্ষা করবার আদর্শ নি:সন্দেহে রামমোহনের 
গভীর মনীষালব। কিন্তু এক্ষেত্রে কয়েকটি প্রভাবের সম্ভাবনাও বিচার্ষ। 
ইসলামীয় তর্কশান্ত্--বিশেষত মুতাঁজিল সম্প্রদায়ের যুক্তিবাদ তাকে যথেষ্ট 
আকর্ষণ করেছিল এবং 'তুহফাত্পর্বে এদের প্রভাব তার উপর অস্বীকার 
করবার উপায় নেই। সম্ভবত এরই ফলে রামমোহনের জিজ্ঞাস্থ মন অন্ধ 
শান্ত্রাগতা থেকে মুক্তির পথে প্রথম অগ্রসর হয়। শান্গ্স্থ সষ্ট বস্ত নয়, নিতা 
ও অপৌরুষেয়, এবং এর বর্ণমাত্রই অপরিবর্তনীয়-__এ জাতীয় বিশ্বাস তিনি তার 
অন্ুশীলিত স্বধর্মেই প্রতাক্ষ করেছিলেন। এই মত যে তিনি প্রথম থেকেই 
অগ্রাহ করেছেন তার প্রমাণ রয়েছে 'তুহফাৎএ ও পরবর্তা কালের খ্রীষ্টীয 
বিতর্কে । আমরা পূর্বে দেখেছি ধর্মশান্ত্রের অলঙ্কারবহুল ভাষাকে আক্ষরিক 
অর্থে গ্রহণ করবার বিপদ সম্পর্কে তিনি শ্রীষ্টীয় প্রতিপক্ষকে বার বার সচেতন 
করেছেন এবং এই প্রসঙ্গে গৌরবে প্রযুক্ত বহুবচনকে আক্ষরিক অর্থে নেবার 
জন্য ১৪০০1) £৯০০6৪]-এ তাঁকে যথেষ্ট সমালোচন] ও বাঙ্গ করেছেন । এই 
কারণেই দেখা যাঁয় সমস্ত শাস্ত্রের ক্ষেত্রেই তিনি শাস্ত্রে মুখা আর গৌণ অংশের 
মধ্যে একটি স্পষ্ট সীমারেখা নির্দেশ করতে ভোলেন নি। মুখ্য অংশটি তার 
মতে ঈশ্বর প্রত্যাদিষ্ট মহাঁপুরুষ বা! খধিদের অভিজ্ঞতার সাক্ষ্য; গৌণ ভাগ 
অলৌকিক কাহিনী ও কিংবদস্তীতে পূর্ণ। এই ধরণের প্রত্যাদেশবাদের আদর্শের 
নজির তিনি অবশ্যই লক্ষ্য করেছিলেন খ্রীষ্টধর্মের অভিব্যক্তির স্থদীর্ঘ ইতিহাসে 
যাতে তাঁর অধ্যয়ন ছিল গভীর । ভারতীয় দর্শনের মধ্যে ন্যায়শান্ত্রেও এই 
রকম একটা মত আছে : ঈশ্বর বেদশ্রষ্টা, কিন্তু তিনি নিরাকার সেই অবস্থায় 
তার পক্ষে ক্ষ্টি সম্ভব নয়; তাই তিনি খধিদেহ ধারণ করে বা খধিশরীরে 
আবিষ্ট হয়ে খষিমুখমাধ্যমে বেদ হ্ষ্টি করেছেন।২ আবেশ বা! 1092178- 
€০:,-এর মতবাদটি স্থতরাং এখানেও পাওয়া যাচ্ছে । তারতীয় দর্শনে পারঙ্গম 
রামমোহনের চিত্তে এই প্রভাবও কারধকরী হয়েছিল, এমন সম্ভাবন! উড়িয়ে 
দেওয়া চলে ন1। প্রত্যাদেশবাদকে যুক্তির ছারা পরিমাজিত করে নেবার প্রেরণা 
পরবর্তা জীবনে রামমোহনের চিত্তে এসেছিল পাশ্চাত্য দর্শন-বিজ্ঞানের সঙ্গে তার 
ক্রমবর্ধমান পরিচয়ের ফলে। এ বিষয়ে সন্দেহের কোনও অবকাশ নেই। 


৭৫ 


এই প্রসঙ্গে ইতিপূর্বে আমরা ষোড়শ থেকে অষ্টাদশ শতকের ধর্মবিশ্বাসী ও 
ংশয়বাদী বা নাস্তিক ইউরোপীয় চিন্তানায়কদের নাম করেছি এবং এদের 
ছুই দলের চিন্তা রামমোহনকে প্রভাবিত করলেও তিনি যে ধর্মবিশ্বাস হারাঁন নি 
তারও উল্লেখ করেছি। রামমোহনের রচনায় যেটুকু প্রকাশ পেয়েছে তার থেকে 
মনে হয় যে দুই মনীষীর প্রভাব সেখানে অতি স্পষ্ট তারা হলেন ডেভিড হিউম 
ও জন লক। 

ডেভিড হিউম ছিলেন সংশয়বাদী, বামমোহন ছিলেন বিশ্বাসী । বামমোহনের 
ধর্মবিশ্বাসে অলৌকিক বা! অতিপ্রারুতের কোনও স্থান ছিল না । অলৌকিক 
ক্রিয়া বা [917801€ সম্পর্কে হিউমের বিরুদ্ধ উক্তি পূর্বে উদ্ধত হয়েছে। তাঁর 
56০01)0 /20871এ রামমোহন শ্রীষ্টীয় 11179015 বা অলৌকিক কাহিনী 
সম্পর্কে যা বলেছেন তার প্রতি ছত্র হিউমকে ম্মরণ করিয়ে দেয়, যদিও হিউমের 
নাম তিনি করেন নি 2৮700601002 10050 06 961] 2৮216, 018 
002 210210125 00765 21910001) 7৪৬ 2 11106 01 01561750101) 018 01) 
919)500 0৫ [910015 105 (69500001955 02072617005 ০01062106 € ০09 
01 1070012171011101 00 002 910565 ০৫ 1702.0101170) 2:10 71001) 
610০ 5001702 শে 1)1]000]) 52100101057 2100 ০৮801011721 18065 
92501700106 1100105 0£ 00170100010 ০1961161706, 8190 25071520 108 
01606 11)66700510101) 0৫ 01511720092] 5059217011)6 00০ 05081] 
৩০0156  0£ 0210165. 1] 81] 95521010975 আ21০ 009 0৪ 10015- 
01001102061 20101066085 18005, 1161 6]1% 10902096 0065 215 
66901960105 1)1117010215, 1907 0810 ৮5 0150066 076 0০) 0 06 
170190125 ড713101) 272 9810] 0০ 18556 766] 19616010600 7067:50183 
8555210120 25 11015 0177010650 090568 0 0015 ০001765 1৪৩ 
এ যেন হিউমের উক্তির প্রতিধ্বনি । বামমোহনের উপর হিউমের মত 
সংশয়বাদীদের প্রভাব ছিল খণাত্মক-অন্ধ বিশ্বাসের খগ্ুনেই তা মুখ্যত 
কার্যকরী হয়েছে। কিন্তু যুক্তির সঙ্গে শান্ত্রবিশ্বাসের সমন্বয় সাধনের ক্ষেত্রে 
যে মনীষী তাকে সর্বাধিক প্রভাবিত করেছিলেন তিনি নিঃসংশয়ে ইংরেজ 
দার্শনিক জন লক ( ১৬৩২-১৭০৪ )। লকের গ্রন্থাবলী তিনি যতুসহকারে 
অধ্যয়ন করেছিলেন এবং প্রতিপৃক্ষগণের সঙ্গে বিতর্ক প্রসঙ্গে একাধিকবার 


গত 


তিনি লকের উল্লেখ করেছেন ও তার রচনা থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন।,ঃ 
[1178] 40968] গ্রন্থে লককে তিনি ০0৪ 06 006 £16526550 20020. 00৪ 
€৬€ 11 বলে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ।** মৃত্যুর অল্লকাল পূর্বে ১৯ এপ্রিল 
১৮৩৩ তারিখে রবাটু ডেল ওয়েনকে লিখিত এক পত্রেও তাকে পরম 
শ্রদ্ধাভরে লকের উল্লেখ করতে দেখা যায়।** লকের দার্শনিক গ্রন্থ & 
7888 ০01)0211)11)6  1301091) [700621502.501175 (১৬৯৫) ছাড়াও 
অন্য যে গ্রস্থগুলি তাকে নিঃসন্দেহে প্রভাবিত করেছিল সেগুলি হলঃ 
(১) 4 815585 5015561:1811)6 10016186101, (১৬৬৭) (২) £& 1,2066] 
০01)0210101176 10012180101 (১৬৮৯) (৩) 4 9500701০006] 
0075611817)6 [012190101) (১৬৯০); (৪) 4১100177120 
001856177)1156 70168 001 (১৬৯২); (৫) [525091)81151)655 0 
(0157150191015 85 0611৮ 2:20 17) 01)6 9০117000155 (১৬৯৫) (৬) 4 
78181910852 8180 যর 9625 07 70156155 0£ ১০. 5201 00 005 
219091)5 (১৭০৫ )) (৭) 4৯ 78107017052 ৪10 1065 07 [0150168 
০৫96. 7780] 00 0০ 0010701)18175 (১৭০৬)। তা ছাড়] লকের মৃত্যুর পরে 
প্রকাশিত & 7০901010 1[,66061: 591061151776 70012180101) ( অসম্পূর্ণ ) ও 
4 [0850090252 01. 101:80155 নামক নিবন্ধ দুটিও এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য । 
লক পাশ্চাত্য দর্শনের আধুনিক পর্বে যুক্তিবাদের অন্যতম প্রবক্তা ছিলেন, এবং 
উগ্র ধর্মীয় সংকীর্ণতা তীর দ্বণার বস্ত ছিল। ধর্মের ক্ষেত্রে যুক্তি ও বিশ্বাসের 
সমন্বয় সাধন তার অন্যতম লক্ষ্য । তাঁর জীবনীকার শ্রীষ্টধর্ম সম্পর্কে লকের দৃষ্টি- 
ভঙ্গীর যে সংক্ষিপ্ত পরিচয় দিয়েছেন তা এই 2 4ম105 39509] 15 8. 124618- 
01010, 000 1015 15850159912 01010081000, 105 02117)28.0010 01 006 
001)680 25 005 ১০16006 61178, 19 06501170101) 0৫ :1710) ৪৪ 
10761001601) 165 117621091268001) 0৫ 10915 0010165 10 01 006 142৫ 
8770 105 00900216 06 705015080078 05 8100 (0181)05 010061500০9), 
2165 91] 41001] 180101781. 700011)8 11) (5101150191)10গ ০০01)009,401003 
00 10109) 1728501)7. 18৭ বাইবেলের অস্ততু্ত সন্ত পলএর পত্রাবলীর দুটি 
পরিচ্ছেদের টীক1 রচনা করে তশি আধুনিক বাইবেল-গবেষণার ভিত্তি স্থাপন 
করেন।৪” তীর ্রীষ্টধর্মবিষয়ক মতের সঙ্গে যুক্তিপন্থী একেশ্বরবাদি ( ভীইস্ট )- 


৭৭ 


গণের ও একতন্ববাদী ( ইউনিটেরিয়ান ) গ্রীষ্টীয় সম্প্রদায়ের সিদ্ধান্তের যথেষ্ট সাদৃষ্ত 
আছে- যদিও তিনি নিজে আজীবন আ্যাংলিকান সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। 
[2250178101675653 0£ 0111501917165 গ্রন্থে তিনি বাইবেল কথিত ষীস্তত্বীষ্টের 
প্রকৃত শিক্ষাবলীকে পরবর্তী নান! অর্বাচীন তত্বের সংমিশ্রণ থেকে মুক্ত করে 
বিশুদ্ধ রূপে স্থাপন করবার প্রয়াসী। তার মতে যীন্ুকে ত্রাণকর্তারূপে গ্রহণ ও 
যীশুর প্রকৃত সরল নৈতিক উপদেশগুলি পালন-_এই ছুটিই হল প্ররুত শ্রীষ্টানের 
কর্তবা ৪» অপরের ধর্মমত সম্পর্কে তিনি উদার সহিষ্টতার উপদেশ দিয়েছেন 
এবং এ বিষয়ে তার যুক্তিগুলি অতি পরিষ্কার ঃ (১) কোনও ধরমপ্রতিষ্ঠান বা 
0870 বা্টীয় শাঁসনক্ষমতা দাবী করতে পারে না । শাসন করবার অধিকার 
শুধু রাষ্ট্রের ; কিন্তু ধর্মীয় ব্যাপারে রাষ্ট্রেরও শাসন করবার অধিকার নেই; 
(২) কোনও ধর্মসংঘ ব1 বাক্তিবিশেষ এমন দাবী করতে পারেন ন1 তিনি মাঁনব- 
জীবন ও মানবভাগ্া সম্পর্কে সম্পূর্ণ সত্যকে জেনেছেন। স্থতরাং অপরকে 
জোর করে স্বমতে আনবার অধিকার তাদের নেই ; (৩) জোর করে কোনও 
বাক্তিকে মত পরিবর্তনে বাধ্য করলে তিনি ভয়ে আস্তরিক বিশ্বাস ছাড়াই 
প্রবলতর পক্ষের মন রাখবার জন্য তার মতে সায় দেবেন; এতে কোনও লাভ 
নেই।** রামমোহন যীশুকে একমাত্র ত্রাণকর্তা বলে স্বীকার করেন নি কিন্ত 
তার উদার পরমতসহিষ্ুতা, গ্র্টীয় শাস্ত্রের যুক্তিমূলক সমালোচনা, বাইবেলের 
তত্বভাগ, এঁতিহাসিক বিবরণ, অলৌকিক কিংবদস্তীগুলি বর্জন করে যীশুর 
প্রকৃত উপদেশ চয়ন__-সব কিছুই প্রতিপদে আমাদের লককে ম্মরণ করিয়ে দেয়। 
51178] £১0০০৪1-এর ভূমিকায় পরধর্মমতস হিষ্ণুতা বা 60168610918 সম্পর্কে 
তার মস্তব্য পড়লে লকের এই বিষয়ক যুক্তিগুলির সঙ্গে তার সাদৃশ্য চোখে 
পড়ে ।*১ এই প্রপঙ্গে বিবেচ্য, রামমোহন শ্রস্টীয় প্রতিপক্ষকে স্পষ্ট বলেছিলেন, 
রয় প্রত্যাদ্দেশবাদে কেউ অবিশ্বাসী হলেই তাঁকে নাস্তিক বলবার অধিকার 
কারও নেই। এই উক্ভিতেও অসাম্প্রদায়িক, সহিষ্ণু দৃষ্টি গ্রতিফলিত। যুক্তি 
(165৪50979) ও প্রত্যার্দেশ (15৬61801015 )-এর পরস্পর সম্পর্ক বিষয়ে লক 
তার 28985 ০0918০21101176 [7070081% 00150621:5081701178-এ বলেছেন £ 
“1২521861019 0811500 92 801010660 85811)50 0.6 01621 2%1061)05 
0: 1589018, 91106 150 ৪ড1061)52 06 ০0] £20010125 05 13101) 


০ 160০6129001) 12018610135, 52 230660, 1 2৫081, 06 
৫ 


পাস 


52165112501 00 126010155 00100৬16086, ৪ 082 16৬6: 1650616 
01 2 0000) 21050101155 0020 15 010650০05 ০010:815 00 00 ০1681 
৪100 211 015011)00 10,0%/16066...... [২০৬ ০18001) 1)25 (00 1)9$ 
5221) 01685201 €0 81৮62 16) 10150 ০8115 10 25911830 00০ 00081016 
501716000165 0 1582501), 80০৮ 550 16 5011 06101785 (0 158.5012 
চ০ 10066 01 005 0090) 01 10061068165 €120017) 2190 0: 006 
51£1719086107) 01 0005 0105 591)216118 10 15 02115510...,,.,,., 
৬৬1209৬6130. 1025 72৮65919019 05270917715 ঢা :1509 0090106 ০21 
70210020601 1..101015 15 00০ 01006 ০091606 01 8101); 00 
ড/1)60)06] 10106 2. 01511)5 12 21826101701: 150, 7€9501). [00150 10086 ; 
1101) 081) 12৬6] 02110016005 00110 00 15160 2 £128021 
€ড৮1021706 60 612001902 11790 15 1955 ৪৬1021)0, 1701 2110 16 00 
21006170811) 01002011165 11) 09000951001) 0 10001605 8170 
০1০10), 1010665 081) 92 20 5৬192006 0086 219 0:90100158] 
16৩ 5180101) 15 01 0111) 01161119], 11 0005 ৮0105 ৮০ 1:2০61০ 10, 
8120 11) 0062 521)52 ৮০ 011)021809)0 10, 50 01691 210 50 0612918 ৪5 
0080 01 006 71010010125 01176285010. 4৯10 006:21016) 00001176008 
19 001)0215 60১ 8180 11000151521 ৮100 006 ০1681 2170 5611-65106171 
01068665$ 0: 1658.501)) 1995 ৪. 1161) 60 02 91560 01 25961)660 60 8৪ ৪. 
17191061 0৫6:09100, 10261012850] 17800 10010001076 60 0০0.” 1৫২ 
উক্তিটিকে সহসা রামমোহনের বলে ভুল হয়। যুক্তি, প্রত্যাদদেশ ও বিশ্বাসের এই 
সমন্বয় সাধন আধুনিককালে রামমোহনের বৈশিষ্ট্য এবং এ পথে তীর স্বীকৃত 
পূর্বস্থবী মনীষী জন লক। 5০070 400681-এ লকের [২52807781016135559 
06 00115621710 ও চ109] 470681-এ সম্ভত পলের পত্রাবলীর উপর লক 
কৃত টাকাকে রামমোহন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অগ্ত্রপে ব্যবহার করেছেন।*ৎ 
সুতরাং বাইবেল-গবেষণাতেও তাঁর প্রেরণার অন্যতম সহায়ক লকের রচনাবলী 
একথা! মনে করলে অন্যায় হবে না । এখানে উল্লেখযোগ্য, লকের সঙ্গে আর এক 
মহামনীধীর নামও রামমোহন কর্তৃক একাধিকবার উচ্চারিত হয়েছে_তিনি 
প্রসিদ্ধ বিজ্ঞানী সার আইজাক নিউটন। নিউটন যে যীশুকে ঈশ্বরের সঙ্গে 


৭৪৯ 


অভিন্ন ভাবেন নি ঈশ্বর প্রেরিত মহামানবরূপে তাঁকে গ্রহণ করেছেন-_এই মতের 
সমর্থনে তিনি নিউটনের 00561810773 97১01 206 791০005০৫65 নামক 
গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন 1৫০ 

শান্্রম্পর্কে বামমোহনের দৃষ্টিতঙ্গীর অভিব্যক্তি ও পরিণতির বিষয়টি 
আলোচনা প্রসঙ্গে শান্্গ্রন্থের উপধুক্ত পাঠনির্ণয়ের জন্য তার প্রচেষ্টার সংক্ষিপ্ত 
মূল্যায়ন প্রয়োজন । ্বীস্টায় এবং রক্ষণখল হিন্দু প্রতিপক্ষগণের সঙ্গে বিচার 
করবার সময়ে তাকে একাধিক বার আলোচ্য শান্তগ্রস্থগুলির উপধুক্ত পাঠ ও 
অর্থনির্ণয়েয় উপর জোর দিতে দেখ যায়। 96০9:74 4১০6৪] গ্রন্থের তৃতীয় 
ও ষষ্ঠ অধায়ে এবং দ্বিতীয় পরিশিষ্ট ও সংযোজন অংশে; এবং 109] 
£50681-এর দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ অধ্ায়গুলিতে তিনি 
গ্রয়োজনমত বাইবেলের মুল হিক্র ও গ্রীক সংস্করণ থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে পাঠ 
ও অনুবাদের শুদ্ধাশুদ্ধ বিচার করেছেন। হিন্দু প্রতিপক্ষদের সঙ্গে বিচাবের 
বেলায় পুরাণ-তন্ত্ের শাস্ত্রীয়তার প্রশ্নে তাকে একটি বড় সমস্তার সন্মুখীন হতে 
হয়েছিল। পুরাণ-তন্ত্রকে বিশেষ অর্ধে তিনি শান্তর বলে গণ্য করেছেন। কিন্তু 
অপেক্ষাকৃত আধুনিক কালে বিশেষ উদ্দেশ্তে রচিত অনেক গ্রন্থ পুরাণ ও তন্ত্র 
নামে চলে যাচ্ছে, নির্ভরযোগ্য প্রাচীন পুরাণ-তন্ত্রাদির সমান মর্যাদা এই সব 
অর্বাচীন বচন! কিছুতেই দাবী করতে পারে না। এগুলিকে শান্তর বলতে 
রামমোহন রাজী ছিলেন না । কিন্ত প্রামাণ্যবিহীন এই সব গ্রস্থকে চিনবার 
উপায় কী? এখানে বামমোহন বিচারের ছুটি মানদণ্ড নির্দেশ করেছেন £ 
১, প্রাচীন ও প্রামাণিক গ্রন্থের সুপরিচিত টাকা থাকবে; ২. নিবন্ধকাঁর 
প্রভৃতি প্রাচীন সংগ্রহকর্তাদের রচনায় তার উদ্ধাতি থাঁকবে। এই ছুই বেশিষ্ট্ 
পুরাণ-তন্ত্র জাতীয় যে গ্রন্থের নেই তা শান্ত্রপদবাচা হবে না এবং বিচার প্রসঙ্গে 
তার প্রামাণিকতাঁও স্বীকাধ হবে না । হিন্দুশান্ত্রের বিচারে এই কথাটি রামমোহন 
তার প্রতিপক্ষগণকে বার বার বলে সতর্ক করে দিয়েছেন। তৃতীয়, চতুর্থ 
ও পঞ্চম অধ্যায়ে এই প্রসঙ্গ কিছু বিস্তারিতভাবে আলোচন! করবার প্রয়োজন 
হবে, এখানে এই সংক্ষিপ্ত উল্লেখটুকুই যথেষ্ট । শাস্ত্র বা সাহিত্য বিষয়ক গবেষণার 
ক্ষেত্রে আধুনিক যুগে পাঠের শুদ্ধাশ্ুদ্ধ বিচার রা 9৯0৪] ০1105151) ক্রমশ 
এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করেছে । কোনও প্রাচীন গ্রন্থের বিষয়বস্ত নিয়ে 
আলোচনার পূর্বে সাধারণত প্রশ্ন তোল! হয় আলোচ্য গ্রন্থথাঁনির প্রাচীনত্তের 


| 


দাবী বিচারসহ কিন) গ্রস্থের প্রকৃত পাঠ কি এবং প্রচলিত পাঠটি শুদ্ধ 
এবং গ্রহণযোগ্য কিনা । ইউরোপীয় রেনেশাসের যুগ থেকেই পশ্তিতমহলে 
এই পদ্ধতি ক্রমশ স্বীকৃত হতে শুর করেছে। রামমোহনের শাম্ত্ববিষয়ক 
পাণ্তিত্য ও গবেষণা রেণেশী সের এই বৈশিষ্ট্য মণ্তিত। এখানে উল্লেখযোগা, 
যে উচ্চতর বাইবেল গবেষণার জন্য একটি স্বতন্ত্র মাসিক পত্জিক1 স্থাপনের 
পরিকল্পনাও তার ছিল এবং ১৮২৩-এর এপ্রিল মাম থেকে এটি প্রকাশ 
করবার প্রস্তাবও তিনি করেছেন চ11 £১০621-এর ভূমিকায়।৪ সম্ভবত 
এ সংকল্প কাধে পরিণত হয় নি। 

পূর্বে বলেছি গত শতাব্দীতে অক্ষয়কুমার দত্ত এবং বর্তমানে কাঁজি আবছুল 
ওয়াছুদ রামমোহনের ধর্মমতের মুলায়ন প্রসঙ্গে তার শান্্প্রামাণা স্বীকার 
সম্পর্কে কিছু মন্তব্য করেছেন।** এদের সিদ্ধান্তের সংক্ষিপ্ত আলোচনা করে 
এই অধ্যায়ের উপসংহার কর! যেতে পারে। এদের ছুজনের সিদ্ধান্তই প্রায় 
একরকম ঃ “তুহ ফাৎ্-উল্-মুওহাহিদিন'-এ রামমোহনের যে শান্ত্রনিরপেক্ষ সম্পূর্ণ 
স্বীয় বিচারবুদ্ধিনির্ভর একেস্বরবাদী ধর্মবিশ্বাস প্রতিফলিত এরা! তাকেই তার 
পূর্ণ ও পরিণত অধ্যাত্মদর্শনরূপে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তাঁর উত্তরকালের শান্- 
স্বীকৃতি এদের মতে প্রতিপক্ষগণের সঙ্গে তর্কুদ্ধে অবলম্বিত একটা কৌশল 
মাত্র। শাস্ত্রের ব্রহ্মজ্ঞান প্রতিপাদক অংশকে তিনি শ্রদ্ধা করতেন কিন্ত কোন 
শান্্রকেই অভ্রান্ত জ্ঞান করেন নি। কথাটা অক্ষয়কুমারের সময় বিশেষ করে 
উঠেছিল এই জন্য যে, সে-সময়ে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ ব্রাহ্মমমাজের নেতৃবৃন্দের 
মধ্যে এক প্রভাবশালী দল রামমোহনকে অনেকটা উপনিষদ্-বেদাস্ত সম্মত 
ক্ষজানমার্গা বলে গণ্য করবার পক্ষপাতী ছিলেন। অপর পক্ষে অক্ষয়কুমার 
ছিলেন বিশুদ্ধ বুদ্ধিবাদী,_ ব্রাহ্মসমাজের ধর্মকে তিনি বেদাস্তের প্রভাব থেকে মুক্ত 
রেখে বৈজ্ঞানিক যুক্তিনির্ভর একেশ্বরবাদরূপেই কল্পনা করতে চাইতেন। এই 
জন্তই “তত্ববোধিনী পত্রিকা” ফাল্গুন, ১৭৭৬ শক সংখ্যায় প্রকাশিত নিবন্ধে- 
ধামমোহনকে কেন শান্ত্রপ্রামাণ্যবাদী বৈদাস্তিক গণ্য করা যেতে পারেনা 
ত৷ বিস্তারিত যুক্তি প্রয়োগ করে তাঁকে বোঝাবার চেষ্টা করতে হয়েছিল। 
এই ছুই মনীষীর বিচারে যে ছুর্বলতাটুকু দেখ যায় তা এই : এবা শান্ত্রস্পর্কে 
রামমোহনের দৃষ্টিভঙ্কি ও মতবাদের ক্রম-অতিব্যক্তিকে হিসাবের মধ্য ধরেন 
নি। এরা দুজনেই 'তুহ ফাৎ”-এ প্রতিফলিত রামমোহনের কঠোর যুক্তিবাদ ও 


ঙ ৮১ 


শান্ভুসম্পর্কে প্রগাঢ শ্রদ্ধার অভাবকেই তাদের প্রধান যুক্তি হিসাবে গ্রহণ 
করেছেন। অক্ষয়কুমারের ভাষায়, “তিনি এ পুস্তকে [ “তৃহফাৎ ] একমাত্র 
অদ্থিতীয় পরমেশ্বরে অবিচলিত ভক্তি প্রকাশ করিয়া সর্বপ্রকার প্রচলিত 
শান্তর শিরে এতাঁদৃশ দগণ্ডাঘাত করিয়া গিয়াছেন যে তদীয় যাতনা হইতে 
তাহাদিগের পরিত্রাণ পাঁইবার উপায় নাই ।৮৫৫ক কিন্তু রামমোহন যে পরবর্তী 
কালে প্রথম জীবনের এই উগ্র মতবাদ সংশোধন করে শাস্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল 
হয়েছিলেন, অক্ষয়কুমার সেটুকু বিবেচনা করেন নি। আমরা দেখেছি উত্তরজীবনে 
ধর্মজীবন লাভেব জন্য রামমোহন বিশুদ্ধ যুক্তিকে যথেষ্ট মনে করেন নি 
হিন্দু মীমাংসক, সনাতিন শরীয়ৎপন্থী মুসলমান বা সংকীর্ণ শ্রীষ্টীয় মিশনাবীদের 
মত বেদ, কুরাঁণ বা বাইবেল আক্ষরিক অর্থে বর্ণে বর্ণে অভ্রাস্ত এমন তত্ব 
স্বীকাঁব না করলেও সীমায়িত ভাবে প্রত্যাদেশ বা ৪৮ 196018 মেনেছেন এবং 
শান্তের যে সকল অংশে খষি, মহাপুরুষ বা প্রবক্তাগণের এশী প্রেরণাঁজাত 
বাণী সঞ্চিত আছে সেগুলির প্রামাণ্য স্বীকারেও আপত্তি করেননি । তৎসহ 
অন্তান্য অংশগুলির একবাক্যতা স্থাপন করে সমগ্র শাস্ত্রের মধো সামগ্তস্ত রক্ষার 
জন্যও এই পর্বে তিনি আগ্রহী । অপর পক্ষে তিনি নিজ বিচারবুদ্ধিকেও অটুট 
রেখেছেন এবং যুক্তির কষ্টিপাথরে পরীক্ষা না করে কোনও উপলব্ধির 
সাক্ষ্কেই আমল দেন নি। “তুহফাৎ্' পর্বের যুক্তিবাদের ধারাটিকে পাশ্চাত্য 
জ্ঞানবিজ্ঞানের আলোকে আরও মাজিত করে এই ভাবে তিনি শাস্্রনিষ্কাশিত 
প্রত্তাদেশবাদের সঙ্গে তাকে সমন্থিত করেছেন। তাঁর সমগ্র দৃষ্টিভঙ্গীর 
বিকাশ ও পরিণতির প্রতি লক্ষ্য না রেখে কেবলমাত্র “তুহ ফাৎএর সিদ্ধান্তগুলির 
আলোকে তাকে বিচার করতে গেলে-সে বিচার অসম্পূর্ণ থেকে যাবে । অক্ষয়- 
কুমার বা আবদুল ওয়াছুদের বক্তব্য এই অসম্পূর্ণত| বা অব্যাপ্তি দৌষ থেকে মুক্ত 
নয়। তৃতীয় ও চতুর্থ অধ্যায়ে যথাক্রমে রামমোহনের বেদাস্ত ও পুরাণতম্্ 
সম্পকীণয় মতবাদের আলোচন] প্রসঙ্গে দেখা যাবে ভারতীয় আধ্যাত্মিক চিন্তা 
তাকে কত ব্যাপক ও গভীর ভাবে প্রভাবিত করেছিল। শাস্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা ও 
শাস্ত্রীয় প্রত্যাদদেশের উপর গভীর আস্থা সেখানে প্রততিপদে পরিদ্ফুট, যদিও 
সজাগ বিচারবুদ্ধিও সর্বত্র সক্রিয় । বস্তত প্রত্যাদেশ ও যুক্তির মধ্যে সমন্থয় ঘটিয়ে 
আপন পাণ্ডিত্য ও মনীষা ছারা রামমোহন শাস্ত্রচর্চার যে ভিত্তি স্থাপন 
করেছিলেন তার প্রসার ও গুরুত্ব অসাধারণ। উত্তরকালে এই উৎসমূখ 


১৪৫ 


থেকে একাধিক ধার! প্রবাহিত হয়ে বাঙলার মননজ্গৎকে সমৃদ্ধ করেছে। 
বিশুদ্ধ ভীয়িস্ট, অক্ষয়কুমার দত্ত যখন বলেন, “বিশ্তদ্ধ জ্বানই আমাদের আচার্য। 
ভাস্কর ও আধ্ধভষ্ট এবং নিউটন ও হর্শেল যে কিছু যথার্থ বিষয় উদ্ভাবন 
করিয়াছেন তাহাও আমাদের শান্্। গৌতম ও কণাদ এবং গাল ও বেকন 
যে কোন তত্ব প্রচার করিয়াছেন, তাহাও আমাদের শান্্। কঠ্‌ ও তলবকার 
মুষা ও মহম্মদ, যিশত ও চৈতন্য এবং পার্কর ও লে হণ্ট. পরমার্থ বিষয়ে যেকিছু 
তত্ব প্রকাশ করিয়াছেন তাহাও আমাদের ব্রাহ্ষধর্ম” )৭৬ তখন তিনি 
রাঁমমোহনেরই প্রতিধ্বনি করেন। মহত দেবেজ্ত্রনাথ যখন সমগ্র বেদ-উপনিষদকে 
্রাহ্মধর্মের প্রতিষ্ঠাভূমি করবার প্রয়াসে বুদ্ধি-বিবেকের সমর্থন না পেয়ে আক্ষেপ 
করেন ২ “আমি সমগ্র বেদ এবং সমগ্র উপনিষদ্কে ত্রান্গধর্মের প্রতিষ্ঠা করিতে 
যত্ব পাইয়াছিলাম; কিন্তু তাহা করিতে পারিলাম না, ইহাতেই আমার ছুঃখ । 
কিন্তু এ ছুঃখ কোন কার্ধের নহে, যে হেতুক সমস্ত খনি কিছু স্বণ হয় না; খনির 
অসার প্রস্তরখণ্ড সকল চূর্ণ করিয়াই তাহা হইতে স্বর্ণ নির্গত করিয়া লইতে 
হয়। এই খনি-নিহিত সকল ব্বর্ণনই যে বাহির হইয়াছে তাহাঁও নহে । বেদ্‌- 
উপনিষদ্‌ রূপ খনির মধ্যে এখনও কত সত্য কত স্থানে গভীররূপে নিহিত 
আছে”**; তখন এই সশ্রদ্ধ বিচারশীল উক্তির মধোও আমরা যেন রামমোহনের 
কণ্ন্বরই শুনতে পাই। বঙ্ষিমচন্দ্র যেখানে কষ্ণচরিত্র বিচারের পূর্বে আকরগ্রন্থ- 
গুলির প্রামাঁণিকতা নিয় হুঙ্মাতিহ্ক্ম আলোচনা করেন ও শাস্ত্রের অবাচীন 
ভাগকে কঠোর হাতে বাতিল করেন সেখানেও তিনি জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে 
রামমোহনেরই উত্তর-সাধক | আবার ন্বামী বিবেকানন্দ যখন বেদপ্রামাণ্য 
সহথন্ধে তাঁর ব্যক্তিগত অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, “বেদের যতখানি অংশ যুক্তি- 
সিদ্ধ, আমি ব্যক্তিগত ভাবে ততটুকু গ্রহণ করি”**7 তখন পূর্বস্থবী হিসাবে 
রামমোহনকেই মনে পড়ে । 


৮৩ 


প্রমাণপঞ্জী £ 


১,216 19662665 00777761)019 (কথাবর্থুপ পকরণ-অট্ঠকথা-_ ইংরেজি অনুবাদ-- 
বিমঙ্গারণ লাহা!) (পালি টেক্স্ট সোসাইটি, লগ্ডন, ১৯৬৭) পৃঃ ২-৬ ; 72 820১০510 
(অথসালিনী, বুদ্ধঘোষকৃত ধন্মসঙ্গনীর টীকা ইংরেজি অনুবাদ,_পে-মউএতিন ) প্রথম খণ্ড 
(পালি টেকসটু সোসাইটি, লগ্ন, ১৯৫৮) পৃঃ ৬। এই ছুটি আকরগ্রস্থ্ের প্রতি আমার দৃষ্টি 
আকর্ষণ করেছেন সহকর্মী নদ্ধু সংন্কত কলেজ ও কলিকাতা! বিশ্ববিস্তালয়ের পালি ভাষা ও 
সাহিতোর অধ্যাপক ডঃ সুকোমল চৌধুরী । 

২, তৃতীয় অধ্যায়ে পুনরুদ্ধত। দ্রষ্টবা সেই অধ্যায়ের পাদটাক1 ৩৩ 

৩. আ্ধদেব কৃত জ্ঞানসাবসমুচ্চয়। কারিকা ৩১, বিধুশেখর ভট্টাচার্য কর্তৃক উদ্ধৃত 6 
0৫310 00706168০01 73800701577 (00159158165 01085100688 1984 ) 0, 11. 20066. 

৪. যডদর্শনসমুচ্চয় (চৌখস্বা! সংস্কৃত সিরিজ, বেনারস ১৯৫৭ ) পৃঃ ৩৪ 

৫. দ্রষ্টব্য প্রথম অধ্যায়, পৃঃ ১০ 

৬. 11101] 71959010000 508. [808186102. ৮ 2100185) 081001181) ০] 
09819 (৪০০০৫ ০, 0819 9৮৪, 1944 ), 0, & 

৭, 1010 700. ৭৪ 

৮, 1010 0, 8-9 

৯. 1910 0. এ? 

১০, 101 0, 19 

১১, 100 0. 9] 

১২,172 2 29-9£ 

১৩, নগেম্দনাথ, পৃঃ ৫৬৮ পাদটীক! 

১৪, 01196 200. 18-19. 

১৫. এই প্রসঙ্গে দ্রষ্টব্যঃ নগেন্দ্রনাথ, যোড়শ অধ্যায় ব্রজেজ্নাথ শীল 70717101:14% 
0.৫ 1071930] 1৫৫77 00. 9-10 1 সৈয়দ মুজতব! আলি “রাজা রামমোহন রায় ও ইলম্‌-উল্‌- 
কালাম? ভাবীকাল, রামমোহন সংখ্যা পৌঁষ ১৩৪০, তত্বকৌমুদী, ৬৪ খণ্ড, প্রথম সংখ্যায় 
পুনমু দ্রিত পৃঃ ৩৪-০৬ । কাজি আবদ্বল ওয়াদুদ 'তুহফাৎ-উল মুওহাহিদিন্‌' তত্বফো মুদী ৭৭ খণ্ড, 
নবম সংখা! পৃঃ ৬৭-৭০ ; নির্মল মুখোপাধ্যায় 48550090000) 18180) 500. 1081820+ 
17671017750 61250 ও ৩1]৮-39]066006£ 1969 00. 259-79 

১৬. মৃতাজিলা দর্শনের সংক্ষিপ্ত পরিচয় সম্পর্কে ডরষ্টবা 799 780 019৯0, 81212 
17708010৫65 21906 ঠা 1275009 (10209001954) 700. 129-84 1. 30$11807, 
[51417 (900 5৫ 1966 ) 2, 129-34. 

১৭, 115101775 86516$0 ও ০15-96820660092, 1969, 00. 261-69 

৯৮,1৮2. 00. 969-64 


1 


৮৪ 


১৯, 9000 1১976৬0. 2১6 211050119০1 1৮ 216৮1 (1০900, 1969 ) 00, 86-87 

১৯ ক, 0০1166 00. 201-05 

২০, দৃষটাসতত্বব্ূপ সৃী মতবাদের উপর বৌদ্ধ ও বৈদাস্তিক প্রভাব সম্পর্কে সর্ব 
খু. &. 210০1507176 8495005 ০1 15107) (150000092) 1914 ) 00. 16-91 

২১, 02199 /4৮10 70876 21৮0 25 1906 ঠ/ 77556019 00+ 819-25 52. প্র 
71661 17156019 ০% 0৮6 2৮5 (০94০0 1988 ) 00. £81-99, &86 

২৯, 55) 20179061770 17%%71%1৮ 07526150585 (60, &: 95525081565 66৪০0 
031019 [0015৭ 7788৪, 19294 ) ০. 984 

২৩, 151১0%5665 ০01৮০611816 78770 001506150৮0 7৮6 601০6171৮06 
1177010165০ 1401215 (5৫1690 ৮9 1). 4. 89105-81866) 56০০00 £7৫. ) 0. 114 

২৪. 112 00. 190-131 

২৫. 177/090-%1- 81990107570 208, 100508, 0১ 24 5 865] 71171010106 
01161501111 0. 20 

২৬, তন্তবকৌমুদী ৭৭ খণ্ড, নবম সংখ্যা, পৃঃ ৬৭-৭০ 

২৬ক. সাধারণত ব]াপক অর্থে “শ্রতি' শব্দের দ্বার! মন্ত্র, ব্রা্মণ, আরণ্যক ও উপনিষদ 
পর্যস্ত সমগ্র 'বেদ'কেই বোঝায়। কিন্তু মীমাংসাদর্শনে শ্রুতি কথাটির একটি বিশেষ অর্থও 
আছে। 'বেদশাস্ত্র' অর্থে মীমাংসকগণ যে শব্দছ্বয়ের বহুল ব্যবহার করে থাকেন সে দুটি হ্গ 
'বেদ। ব1 “আমায় । যে বেদবাকোর অর্থ ম্বপ্রকাশ, শ্রবণমাত্র যার অর্থ শ্রোতার অন্তরে 
প্রতিভাত হয়--লঙ্গ-বাক্য-প্রকরণারির লাহ্থাযো যার কোনও ব্যাখ্যায় প্রয়োজন হয় না-- 
বিশেষ অর্থে মীমাংসকগণ তাকেই "শ্রুতি? আখ্যা দিয়ে থাকেন (দ্রষ্টব্য 2080:1 19] 88157 
216 46017250 005165 ০0: 17766170166015017 5 02166 0০0 12070 1.0/-50058025 1 
15০5:89 190 £ 05156৮& 1909 70. 101-04)। বর্তমান প্রসঙ্গে শ্রুতি” শষটি আমর 
ব্যাপক অর্থে লমগ্র বেদশান্তরকে বোখাবার জন্যই ব্যবহার করেছি । মীমাংস! ব্যবহ্থত বিশেষ 
অর্থে নয়। 

২৭, ব্রন্গসূত্র, শাংকরভান্ত ১, ১, ৩ “মহত খখেদাদে ৫ শাস্তম্তানেক-বিভাগ্বানো পবুহিংতহ্য 
প্রদীপবৎ সর্বার্থাবন্ভোতিনঃ সর্বজ্ঞকল্প্ত যোনিঃ কারণং ত্রন্ম নহীদৃশগ্ শান্তর খখেদাদি-লক্ষণত্ত 
সর্বজগুণাস্থিতগ্ত সর্বন্রাদদ্কতঃ সম্ভবোহত্তি। | 

২৮, এই অর্থে বেদান্তের শঙ্গনিতাত। স্বীকৃতি সম্পর্কে ভ্র্বা, ত্রন্গনৃত্র, শাংকরভান্ত, 
১, ৩) হচ, 

২৯. দ্রষ্টব্য ব্রন্গসৃত্ত, শাংকরভাস্ত ১, ১, ৩ এর বাচম্পতি মিশ্র কৃত 'ভামতী? টাক! £ 
বৈয়ালিকন্ত মতমনুবর্তমানাঃ শ্রুতিশ্বিতীতিহাসাদিসিদ্ধ ৃষ্টস্থিতিপ্রলয়ানুলারেণ অনান্ত- 
বিদ্োপধানলব্ধ-সর্বশক্তিন্তরানন্তাপি পরমাত্মবনে! নিত্যন্ত বেদানাং ঘোমেরপি ন তেবু স্বাতস্তরম্‌ ঃ 
ূর্বপূ্সর্গান্বলারেণ তাদৃশতা দৃশানৃপূর্বাধিরচনাৎ।--“তানুরোধাৎ সর্বজ্োহপি সর্বশক্তিরপি 
পূর্বপূর্বসর্গাুদারেণ বেদান্‌ বির্্নন্‌ ন স্বতনত্ঃ1 এবেগাত্ত-পরিভাষানকার ধর্মরাজাধ্বরীন্র 


৮% 


আরও সরল ভাষায় এই বিষয়ে বেদাস্তসিদ্বাত্ত প্রকাশ করেছেন £ প্অন্মাকং তু মতে বেদে! ন 

নিত্যউৎপতিমন্বাৎ।***তখ! চ বর্ণপদবাক্যসমূদায়হ্য বেদস্ত বিষয়াদিবৎ শ্থা্টিকালীনোৎ- 

পন্ভিকত্বমূ প্রলয়কালীনধ্বংসপ্রতিযোগিত্বঞ্চ ।***তন্মান্ন বেদানাং ক্ষণিকত্বম্‌।***তথা চ 

সর্গান্তকালে পরমেশ্বর: পূর্বসিদ্ধবেদানৃপূরবাসমানান্বপূর্বাকং বেদং বিরচিতবান্। ন তু 

তদ্বিজাতীয়মিতি ন সজাতীয়োচচারণানপেক্ষোচ্চারণবিষয়ত্বং পৌরুষেয়ত্মূ।”  বেদাস্ত- 

পরিষ্ভাধা, আগম-পরিচ্ছেদঃ (প্ীমোছন তর্কবেদাত্ত তীর্থ সম্পাদিত সংক্ষরণ পৃঃ ১০৩-০৬ )। 
৩০, 1210115, 70175 26, ছা 20৭3 


৩১, 1546 06. 19-14 
৩৯, 77,01751) ৮7017168126. ড্র 0.4 


৬৩. 1010 0. 6? 
৩৪, 101 0. 10 
৩৫॥ 10৫, 


৩৬, 56001৮0 /51১621এ কবাণ প্রসঙ্গে বল] হয়েছে ১-*৮156801)077108] 63079881008 
1৪106 10900 সটট্ি 601000010 80018 0719068] 1098670109৭ 1৬1 ০)80)177808708 90010 
200 ৫81] 60 01006781600. 00610 10 00910 01006186086 8161)0081) 61889 63068810208 
0৬ 607০৭ 98৮ 011000163 20 619 আয ০1 80 003700980, 0010017597065007 5560, 0৫ 
0:01000100 16970108.৮ 12701151 570114 26, 0. 90 ; বাইবেলের ভাষাবৈশিষ্ট্য সম্পর্কেও, 


রামম্োহনের এমন একাধিক উক্তি আছে। 

৩৭, £1781151% ড70115 সু 00. 61-59 

৩৮, £চা108] &00981) 121761151 7০75 (9) ০1, [08 284 

৩৯, দ্রষ্টবা, পাদটাক। ২ 

৪৯, চ101751% 5/07155 [ 0. 15 

৪১, 08109066115 10495 0. 98 

৪২. ফণীভূষণ তর্কবাগীশ, ম্যায়-পরিচয় (তৃতীয় সংক্করণ, কলিকাতা ১৯৭৮ ) পৃঃ ১৮২ 

৪৩, £1761151% 70115 726. ভা 00, 49444 

৪৪, 4989000 70681) 15761151 07017)5 2৮. ভব 0. 89 1) 58081 &00981) 17701157 
7০74 () ৬০1 হা 70, 821-32 1 342-43 । 28 ) 600-02 

৪৫, 7109] 410095]) 11,115% ৮7০715 (3), ০1 [1], 2. 891 

৪৬, 00119 0. 494 ৃ 

৪৭, তি ]. 4:00 ০01৮৮ 10016 (05107 [0:51557816] 52985 1987 ) 2, ৪0. 

৪৮, 100 0. 9299 

৪৯, 100 070, 299-900 

৪০, 1862 00, 297-98 

8১. 5108] &100951) 157৮01651 চ7০4 (3) ০1. [10 95£ 


৮৬ 


৫২,155549 00177061176 1258771চ 015061562158076 00, 956-58 

৫৩, পাদটীকা! ৪৪ 

«৩ক., '9360000 40681) 72761751) 7071৩ 0৮5 ছা] 0,189 

৫৪. 48779] 407095,]) 12176115178 ৮7০৮৩ (2) ০), 12 2, 259 

৫৪. অক্ষয়কুমারের রচনার জন্ দ্রষ্টব্য, তত্ববোধিনী পত্রিকা প্রথম ভাগ, ১০৩ সংখা! 
(ফান্তুন ১৭৭৩ শক ) পৃঃ ১৪৬-৫০ ) তত্ববোধিনী পত্ত্িক1 চতুর্থ ভাগ, ১৩৯ সংখ্যা (ফাল্গুন, 
১৭৭৬ শক) পৃঃ ১৫৭-৬২) কাজি আবছুল ওয়াদুদ, তস্বকৌমুদী *৭ খণ্ড, নবম সংখা] 
পৃঃ ৬৭০৭০ 

৫৫ক. তত্ববোধিনী পত্রিকা, ফাস্তুন ১৭৭৬ শক, পৃঃ ১৬১ 

৫৬. তত্ববোধিনী পত্রিকা, বৈশাখ ১৭৭৭ শক, পৃঃ ১০ 

৫৭. আত্মজীবনী (চতুর্থ সংক্করণ ) পৃঃ ১৩৬ 

৫৮. ম্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা (শতবাধিকী সংহ্করণ ) দশম থও, পৃঃ ২৭২ ॥ 
এটি শ্বামীজীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তরূপেই গ্রহ্ণীয়। মীমাংস! সম্মত বেদের অভ্রান্ততাবাদের 
সপ্রশংস ব্যাখ্যা ব1 উল্লেখ তিনি বহৃস্থলে করেছেন। কিন্তু তার মত প্রথর মনীষাসম্পন্ন 
পুরুষের পক্ষে ব্যক্তিগতভাবে যুক্তিকে সম্পূর্ণ বর্জন কর! সম্ভব ছিল না। এ কথাও প্রসঙ্গত 
উল্লেখ্য, স্বামীজী বিশুদ্ধ জ্ঞানপন্থী শংকর ও তৎশিস্ত রামমোহনের মত বেদের জ্ঞানকাগ্কে 
তাব কর্মকাণ্ড অপেক্ষ! শ্রেষ্ঠ মনে করতেন । 


৮৭ 


ভুভীল্স অন্য 
রামমোহন রায় ও বেদাস্ত 


ভারতবর্ষে উদ্ভাবিত দর্শনগ্রস্থানসমূহের মধ্যে বেদীস্ত এক বিশ্বোষ মর্যাদার 
অধিকারী । ভারতীয় দার্শনিক চিন্তা সম্পর্কে সাধারণভাবে অবশ্ঠ একথা বলা 
যায়, তা কেবলমাত্র বুদ্ধি আশ্রয়ী বিচার-বিতর্কের পথে বিকশিত হয় নি। এক 
হিসাবে প্রতিটি ভারতীয় দর্শনই মোক্ষশান্ত্র; তার তবগুলি যুক্তিছ্বারা প্রতিষ্ঠিত 
হলেই সে দর্শন অন্তশীলনের উদ্দেশ সিদ্ধ হয় না। সেগুলিকে সাধনার দ্বারা 
জীবনে প্রতিফলিত করে তার নির্দেশে পরমপুরুঘার্থলাভ শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ লক্ষ্য 
বিবেচিত হয়ে থাকে । কিন্তু এর মধ্যেও বেদান্তদর্শন কিছু বিশেষ অর্থে 
প্নোক্ষশান্ত্র। বিভিন্ন ধর্শমত ও ধর্গসম্প্রদায়েব সঙ্গে এব যোগ অতি নিবিড়। 
ভাবতবধীয় ধর্মচিন্তা ও ধর্মসংগঠনের ইতিহাসে বার বার দেখা গেছে, যখনই যে 
সম্প্রদায় প্রভাবশালী হয়েছে তখনই তা প্রয়োজনমত বেদীস্তমতকেই সাম্প্রদায়িক 
রঙে রঞ্জিত কবে নিজেকে সম্প্রসারিত করেছে ও প্রতিপক্ষের আক্রমণে বাধা 
দিয়েছে। এ-সকল ক্ষেত্রে সাধারণত যে প্রণালী অবলম্বন করা হত তা! হল 
সম্প্রদায়ের বিশেষপৃজ্য দেবতার সঙ্গে বেদীস্তের মূল তত্ব পরত্রন্মের অভিন্ন 
প্রতিপাদন। বৈষ্ণব ও শৈব সম্প্রদায়ছয়ের ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে বেদান্তদর্শনের 
প্রধান গ্রন্থ ব্রহ্মন্যত্রের যে-সব সাম্প্রদায়িক ভাম্ রচিত হয়েছিল সেগুলিকে এর 
উল্লেখযোগ্য নিদর্শন গণ্য করা যেতে পারে ।১ আধ্যাত্মিক সাধনা সম্পর্কেও 
সেই একই কথা। প্রাচীন ও মধা যুগে ভারতবর্ষে যে-সকল সাধক আবিরভূত 
হয়েছেন তাদের অধিকাংশের সাধনার দীর্শনিক তিত্তি ও অবলম্বন কোনও 
না-কোনও আকারে বৈদীস্তিক চিন্তা । এই বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করেই জনৈক বিদেশী 
ধর্মযাজক বেভারেও জে. টাইস্হুল ডেভিস বলেছিলেন £ €***180 €6৪ ৪০০! 
1095 20082160. 1) 10019 00110€ 06 1850 3000 5৪৪13 0586 1)85 
2000 8০০80060 036 ০811] ০৫006 0620191776 0 00৪ 60800, 006 
52110 0 006 01065 ৪154 006 10050 €008017)6 161181005 01211090- 


৬৮ 


005 02863 106 02 80600190101 0 01 168] 63021016106 2170 
801091060 00 10 00:6০ আ01:0$--70 ৮21 251, 71090 ৪0 
73781)0081) 1৮২ এই উক্তির মধ্যে হয়তো! কিছুটা আতসরল একদেশদণিতা 
আছে, কিন্তু এর মূল বক্তবাকে অস্বীকার করবার উপায় নেই । আধুনিক যুগের 
সূচনায় যখন ধর্মসংস্কারের প্রয়োজনীয়তা অন্ভূত হয়েছিল তখন স্বতাবত ভারত- 
বয় ধর্জগতের এই চিরাচরিত এাতহা উপেক্ষিত হয় নি। ধর্মপ্রবক্তারূপে 
রামমোহন বায় যে মুখাত বেদাস্তকে অবলম্বন করেই অগ্রসর হয়েছিলেন তার 
নিগুঢ অর্থ ও প্রাসঙ্ষিকতা এর মধ্য খুজে পাওয়া যাবে। সমকালীন 
দেশকালগত পটভূমিকায় তার বেদাস্ত-অন্গশীলন ও সমগ্র চিন্তাধারায় বৈদাস্তিক 
আদর্শের স্থান ও প্রভাব সম্পর্কে কিঞ্চিৎ বিশেষ অনুসন্ধানের প্রয়োজন আছে। 
বেদাস্তশান্ত্রের মূল বৈদিক সাহিত্যের উপনিষদ্ভাগ যা শ্রুতির মধ্যে গণা। 
এর অপর ছুখানি চিরম্মরণীয় গ্রন্থ ভগবদ্গীতা ও বাদরায়ণ কৃত ত্রহ্মস্থত্র, যেগুলি 
স্থৃতিপর্যায়ভুক্ত হলেও ওপনিষদতত্বের ধারক-বাহকরূপে শাস্তগ্রন্থের মধ্যে 
অত্তাচ্চস্থানের অধিকারী । এই তিন অঙ্গ একত্র মোক্ষশাস্ত্ের প্রস্থানত্রয় নামে 
পরিচিত। ব্রাহ্মণ্যদর্শনের আত্মজ্ঞানতত্ব প্রধানত এগুলিকে অবলম্বন করেই 
বিকশিত হয়েছিল। এই আত্মতত্বচিস্তার ক্ষেত্রে রামমোহন যে হিন্দুদের পৃথিবীর 
সবাধিক অগ্রসর জাতি মনে করতেন এ বিষয়ে অন্তত দুটি স্থনিশ্চিত লাক্ষা 
আছে। ফ্রান্সের অন্তর্গত ব্লোয়ার বিশপ আব্বে গ্রেগোয়ারের নিকট তিনি এক 
সময়ে বলেন, হিন্দু তত্ববিষ্ঠার সমতুল্য কোনও কিছু তিনি ইউরোপীয় দর্শনে 
দেখতে পান নি (106 1085 00150 79001011786 17 71100681 090155 2008] 
€0 005 801)0195610 71911980715 0৫6 61০17115008) 1* দ্বিতীয়ত 
রামমোহনের অন্তরঙ্গ শিহ্যমগ্ুলীর অন্যতম চন্দ্রশেখর দেব রাঁমমোহনের মৃত্যুর পর 
যে স্বতিকথা লিপিবদ্ধ করেছিলেন তাতে দেখা যায়, হিন্দু ও খ্রষটায় ধর্মস্বয়ের 
কোন্টি উৎকষ্ঠতর, একদা চন্ত্রশেখরের এই প্রশ্নের উত্তরে রামমোহন তাঁকে 
বলেন : “0006 [5005 55210 00 108৮০ 10206 £162.061 010£7698 11) 
8৪2০:50 16810174 0081) 005 16৬5, 2৮ 16850 11১01 006 0008171819208 
আ2:5 আ11606...1£12118101) ০01751505 0৫ 006 016881169 ০4 561. 
8)016086 2150 1790:0560 15000108 ০0: 0300. 250. 1318 20001100668 
810 & ৪556500 0£ 1301:811ে ০1৫3 ৪ 50001011206 01806, [ 


৮৪ 


০6৪10] 76661 056 ড60581”8 মনে রাখতে হবে 'বেদ' অর্থে 
বামমোহন তাঁর রচনার সর্বত্র বেদের জ্ঞানকাণ্ড বা উপনিষদূভাগকে বুঝেছেন-__ 
যা বেদান্তদর্শনের প্রতিষ্ঠাভূমি। স্বতরাং বিবিধধর্মশাস্ত্ররশী রামমোহনের মনে যে 
বৈদাস্তিক তত্ববিদ্যার তৃলনামূলক শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে স্থনিশ্চিত প্রত্যয় ছিল ও তার 
প্রতি পপ্রগাঁঢ শ্রদ্ধা ছিল এ কথা স্বচ্ছন্দ মেনে নেওয়া যেতে পারে । 

এই প্রসঙ্গে ১৮২৩ খ্রীষ্টাব্দে লর্ড আমহাস্টকে লিখিত শিক্ষাসংস্কার বিষয়ক 
তার স্ববিখাত পত্রে বেদান্তদর্শন সম্পর্কে রামমোহন যে মন্তব্য করেছিলেন তা 
স্বভাবত আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে । উক্ত পত্রের একস্থানে তিনি বলেছেন £ 
“1ব6101)67 ০717. 50010 100010৬6001) 21156 [10100 5001) 607181015. 
29 006 10110571776, 01101) 216 00200 65 515£95020 05 036 8817: 
[1 ৮71)06 [09171)61 15 01)6 500] 20501920100 006 0615? ৬1081 
£2190107% 00965 10621 00 0106 01৬11)6 29561)06 ? 0 »/1]| 5০005 
96 20650 60702 06016]. 10610006215 0£ 50016 05 005 ৬ ৪9৪000 
000611)65, 91101) 02701) 00610 00 061162ড2 0086 21] 51511912 010117£5 
11860016581 25061000086 85 6800৬া, 0০9006:, ৪০. 1082 20 
158] £0 010০5 0010580106190]5 06596752 100 16521 275061010, 250 
1021607600৪ 30013] ০ 25081641000 00600 2150 1626 00৩ 
অ০7]0 ১৪ 060০61:1« বরামমোহনের এই বিখ্যাত উক্তিটিকে সম্ভবত ভুল 
বুঝে কেউ কেউ সিদ্ধান্ত করেছেন রামমোহন বেদাস্ত সম্পর্কে প্রকৃতপক্ষে 
শ্রন্ধাবান ছিলেন না এবং এই দর্শনপ্রস্থানকে আধুনিক শিক্ষার পাঠক্রমে স্থান 
পাবার অনুপযুক্ত মনে করতেন । ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায় উক্ত পত্রাংশটি উদ্ধৃত 
করে মন্তবা করেছেন ; “বেদান্ত সম্বন্ধে রামমোহনের এই মতে আশ্চর্য হইবার 
কিছুই নাই। একেখরবাদ ও নিরাকার উপাসনার পরিপোষক বলিয়াই তিনি 
বেদাস্তপ্রচাবের প্রয়ামী হইয়াছিলেন। এই পত্রে উল্লিখিত বেদাস্ত দর্শনের 
আলোচিত বিষয়গুলি তাহার রচিত বেদাস্তসার পুস্তকে স্থান পায় 
নাই।”* বেদাস্ত সম্পর্কে রামমোহনের পূর্বাপর সকল উক্তি ও চিন্তার সাধারণ 
পশ্চাদ্ভূমি থেকে এ পত্রাংশটিকে বিচ্ছিন্ন করে দেখলে, এমন-কি, সমগ্র পত্রথানি 
থেকে উক্ত কয়েক পঙ-ক্তিকে পৃথক করে বিচার করলে আপাতদৃষ্টিতে এই 
ধারণা হওয়া বিচিত্র নয়। দুঃখের বিষয় ব্রজেন্দ্রনীথ এখানে পত্রখানির সমগ্র 


ও 


বক্তবোর সঙ্গে সংগতি রক্ষা করে রামমোহনের বিশেষ উক্তির বিচার করেন নি, 
অথবা বেদাস্ত সম্পর্কে রামমোহনের আম্ুপূর্ধিক সমগ্র চিন্তাধারার সঙ্গে সেটিকে 
মিলিয়ে নেবার প্রয়োজনও বোধ করেন নি। প্রকৃতপক্ষে আমহাস্টকে লিখিত 
পত্রে রামমোহন মধাযুগের ভারতীয় ও আধুনিক পাশ্চাতা- এই ছুটি পরস্পর 
সম্পূর্ণ পৃথক শিক্ষাপদ্ধতির তুলনাপ্রসঙ্গে আধুনিক বিদ্যালয়ে মধ্যুগীয় এঁতিহা 
প্রচলনের অন্ুপযোগিতার উদাহরণস্বরূপ উক্ত পদ্ধতিগত সংস্কৃত ব্যাকরণ এবং 
বেদীস্ত, মীমাংস! ও ন্যায়দর্শন শিক্ষার উল্লেখ করেছিলেন । তার বক্তব্য ছিল-_ 
প্রাচীন টোল-চতুষ্পাঠীতে প্রচলিত সংস্কৃত শিক্ষাপ্রণাঁলীর রূপায়নের জন্য সরকারি 
অন্তমৌদন ও অর্থানকুলো কলিকাতায় সরকার-প্রস্তাবিত নৃতন সংস্কৃত বিদ্যালয় 
স্বাপন করবার কোনও আবশ্যকতা নেই, কেনন1 দেশীয় পণ্ডিতগণের বাক্তিগত 
উদ্যোগে পরিচালিত এই জাতীয় বিদ্যায়তন দেশে যথেষ্ট রয়েছে; আর আধুনিক 
যুগে জ্ঞানবিজ্ঞানের সংস্পর্শ বাতীত নিছক প্রাচীন পদ্ধতিগত শিক্ষা দেশকে 
প্রগতির পথে চালিত করতে সম্পূর্ণ অক্ষম। ইংলগ্ডের ইতিহাসে সংঘটিত 
শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিক রপান্তরের তুলন] দিয়ে উক্ত পত্রে এই মর্মে তিনি 
বলেছেন : *] 16080 0262, 10025006000 66 006 31101910) 091001 
17) 18190172005 01 158] 10)0516066 002 73800171817 [91211050015 
010 1006 108৮০ 0০61) ৪81109৬6000 01501906 006 55 56612) ০01 006 
95015001100 61), ড71)101) 28 0106 0856 08107318060 €0 19210600962 
161)0181706, ]]) 002 52012 10201761002 98107850116 55860] 0 
€00080101) ড/07010 102 0256 08100518060 00 156 01015 ০010 11 
071157655 1 5001) 1180 70661 006 70০01105 01 006 1311091) 1,661519 
047৪ 1”৭ এখানে ম্পষ্টত একটি নৃতন যুগোপযোগী শিক্ষাপদ্ধতির প্রয়োজনীয়তার 
উপর জোর দেওয়া হয়েছে । সেটির পাঠক্রম কোন্‌ কোন্‌ বিষয়ে রচিত হলে 
দেশের পক্ষে কল্যাণকর হবে রামমোহন পত্রে তারও ইঙ্গিত দিয়েছেন : “98 
85 0108 11000005600 01 0106 17905 5 0900018 001) 15 010০ 00)2০% 
0: 01)6 (0৮211702170, 10 আ1]1 50105600210]5 70109200006 2. 00016 
119672] 810 6111617661)60 85 506200 0৫ 17900000191, 6001018০178 
009.01)61080105, 1)800181 1010110950101)5% 01082015625 800 82108100075 


101) 0006] 05651] 801618063 19101) 10085 0৫ 800010191191760 101) 
ঠ 


৪১ 


106 5000 710109560৮5 20201051125 ৪ 15 £1)01610612 0: 0816153 
8150 162117106 50008660. 10. 70:06, 290 0:0ড101178 ৪ ০০11656 
(01717151160 100 006 20905655215 1000105 11560106105 2130. 00131 
80999180051” স্থৃতরাং প্রস্তাবিত সংস্কত বিছ্যালয়ের পরিবর্তে আধুনিক জ্ঞান- 
বিজ্ঞান শিক্ষাদানের উপযোগী অধ্যাপক, গ্রস্থাগার ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাগার 
সংবলিত একটি শিক্ষাকেন্ত্র স্থাপনই দেশের ভবিস্তৎ উন্নতির জন্য সর্বাধিক 
বাঞ্ছনীয় হবে বলে তিনি মনে করেছিলেন । এই নৃতন কলেজ" স্থাপনের মাধ্যমে 
প্রাচীন, প্রথাবদ্ধ, আধুনিক জীবনযাত্রার সঙ্গে সংগতিহীন শিক্ষা-পদ্ধতির পুনঃ- 
সম্প্রসারণ ঘটক, সেটা তিনি চান নি। মনে রাখতে হবে তিনি যার বিরোধিতা 
করেছেন তা হল তার ভাষায় 05 981)550110 55502102006 2৫002610177 
বা! টোল-চতুষ্পাঠীতে প্রচলিত সনাতন রীতি সম্মত সংস্কৃত শিক্ষা-প্রণালী, যেখানে 
কেবলমাত্র বাকরণশিক্ষার কাল নিদিষ্ট ছিল দ্বাদশ বৎসর এবং বেদাস্তাদি দর্শন 
শিক্ষা দেওয়া হত আধুনিক জীবনের নৃতন প্রয়োজন ও মূল্জ্ঞানের দিকে দৃষ্টি 
না রেখে । তার সমালোচন1 যে মুখাত পদ্ধতির, বিষয়বস্তর নয়, তা প্রমাণিত 
হয় এ পত্রেরই অংশবিশেষ থেকে যেখানে তিনি আমহার্টকে জানিয়েছেন, 
সংস্কৃত ভাষা ও সে-ভাষায় সঞ্চিত জ্ঞানভাগ্ডারের উপযুক্ত সংরক্ষণ ও প্রসার 
হতে পারবে-__নৃতন সংস্কত-বিদ্ালয় স্থাপনের মাধ্যমে নয় দেশের টোল- 
চতুষ্পাঠীগুলিকে ও সেখানে অধ্যাপনারত প্রাচীন সংস্কতবিদ্ার ধারক- 
বাহক বিশিষ্ট পণ্তিতমগ্ডলীকে মুক্ত হস্তে সরকারি অর্থসাহাযাদ্দানের মাধ্যমে 
(48৩০ 16 10 22 000081)0 1/506592] €0 08100601806 0019 
181759886 £07 002 5215 0৫ 0)6 ৮8110021016 177601709861015 10 50170811)8, 
015 00160 06 10000 10012 88511% 2000101151)60 ৮5 ০0061 
0)68175 01১87) 006 2509011517006000 01 ৪. 16 9817850116 001165 ; 
(0: 00616 1386 066€] 21৪55 ৪50 212 200 2006101)9 0০. 
£255015 0£ ১৪1750110 11) 0106 01761216089 01 0105 ০001)09১ 
€17£8660 17) (652:0101706 01015 18175708656 ৪89 আ]] 85 006 0006 
18001065 ০:110615 0016, আ10101) 815 0006 06 ০91606 0£ 006 176 
960011815, 10106050016 00610 10015 011156176 ০91$0526101 1 


065517816) ৮৮০৪1] 0৫ ৫65০008115 0:0100660 05 100919175 ০00 


চহ 


ঢ060010075 200 £1810006  ০6108178 211080063 6০ 036 10050 
21001116106 71066995018, আ1)0 1086 8116809 00610915617) 01 0061 
০ 80000819060 65801) 00610, 200 ০10 05 5001) 62105 
6 50100018650 60 5৮11] £:696] €য520100$”) ৯ সংস্কতবিগ্ভার প্রতি 
শ্রদ্ধা না থাকলে ও তার সংরক্ষণ ও অহ্ুশীলনকে প্রয়োজনীয় মনে না করলে 
এমন প্রস্তাব করা রামমোহনের পক্ষে সম্ভব হত না। অতএব দেখা যাচ্ছে শিক্ষা 
বিষয়ে রাষ্ট্রশক্তির নিকট তীর প্রত্যাশ! ছিল ছুটিঃ সরকারি সাহায্য পাশ্চাতা 
জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষাদানের উদ্দেশ্টে নৃতন নৃতন বিদ্যালয় স্থাপন ও সেইসঙ্গে দেশের 
প্রচলিত প্রাচীন সংস্কৃত শিক্ষা-পদ্ধতিকে তার নিজস্ব কেক্দ্রসমূহে প্রাণবন্ত 
রাখবার উদ্দেশ্ঠে বাষ্্ীয় উদ্যোগ । তিনি মনে করেছিলেন, এই ছিমুখী উদ্যমের 
ফলে প্রাচীন ও নবীন জীবনবোধ ও মূলাজ্ঞানের হষ্ঠু সামপরস্য রক্ষিত হবে । 
দ্বিতীয়ত, বেদাস্তদর্শনের বৈশিষ্ট্যগুলি রামমোহন তার “বেদাস্তসার' গ্রন্থে 
আলোচন! করেন নি, তার মন্তব্যের এই অংশের ছার! ব্রজেগ্রনাথ সম্ভবত প্রমাণ 
করতে চেয়েছেন, রামমোহন সেগুলি অশ্রন্ধেয় জ্ঞানে বর্জন করেছিলেন। 
ইঙ্গিতটি কিছু আশ্চর্য লাগে, কারণ রামমোহনের সংস্কত-বাঙলা গ্রন্থাবলীর 
( বঙ্গীয়সাহিত্য-পরিষৎ সংস্করণ ) অন্যতম সম্পাদক হিসাবে তার ন1 জানবার 
কথা নয় যে “বেদাস্তসাব” বামমোহনের বৃহত্তর ও বিস্তীর্ণতর পূর্বরচন] “বেদাস্ত- 
গ্রন্থে'র সংক্ষিপ্তসার মাত্র, তাতে সাধারণের জন্য বেদাস্তের কয়েকটি নির্বাচিত ও 
সরল প্রসঙ্গের অবতারণ! কর! হয়েছে। এগ্রস্থের বিষয়বিন্তান ও আলোচনা 
পূর্ণাঙ্গ বা বিস্তারিত নয়, তা হবার কথাও নয়। অপরপক্ষে পূর্বোক্ত পত্রোল্লিখিত : 
বিষয়গুলি যথা, পরমাত্মা-জীবাত্মার পরম্পর-সম্পর্ক, মায়াতন্ত্র ইত্যাদি, রাম- 
মোহনের বেদাস্তবিষয়ক মূল পূর্ণাঙ্গ রচন1 “বেদাস্তগ্রস্থে' যথোচিত গুরুত্ব ও 
মধাদা সহকারেই আলোচিত হয়েছে-_-অনাবশ্ঠক বা অশ্রদ্ধে় বলে বঙ্জিত 
হয়নি। উপনিষৎ-পঞ্চকের অনুবাদে ও ব্রাহ্মণ সেবধি (ও তার ইংরেজি 
জস্করণ 9:81)00017108]1 718892106) প্রেও স্থানে স্থানে প্রসঙ্গগুলি উত্থাপিত 
ও আলোচিত হতে দেখা যায়। বর্তমান অধ্যায়ে যথাস্থানে সে-সবের বিস্তারিত 
উল্লেখ প্রয়োজন হবে। স্থতরাঁং রামমোহনের “বেদাস্তসার+ পুস্তকে বেদাস্তের 


কয়েকটি, প্রসঙ্গ অন্থুপ্লিখিত, এই যুক্তিতে রামমোহন বেদাস্তের প্রতি যথেষ্ট 
শ্রদ্ধাবান ছিলেন না এমন প্রমাণ কর] অপন্ভব। , 


৯৩ 


স্বয়ং গ্রন্থরচনার মাধামে বেদাস্তমতের প্রচার ও প্রসার ভিন্ন রামমোহন যে 
নিজবায়ে স্বতন্ত্র বিদ্যালয় স্থাপন করে বেদাস্তশিক্ষারও ব্যবস্থা করেছিলেন 
বর্তমান আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটিও শ্মরণে রাখা কর্তবা । 
রামমোহানের পত্রে প্রস্তাবিত পরিকল্পনার বিরুদ্ধে কলিকাতায় সরকারি সংস্কৃত 
কলেজ প্রতিষিত হয় ১৮২৪ খ্রীষ্টাবে ফেব্রুয়ারী মাসে। সম্ভবত এর অল্নকাল 
পরেই, তিনি নিজ বায়ে কলিকাতায় একটি বেদাস্ত-বিদ্যালয় স্থাপন করেছিলেন । 
রামমোহনের ইংরেজ জীবনীকা'র এই সম্পর্কে রামমোহনের অস্তরঙ্গ বন্ধু ও শিল্ত 
পাদ্রী উইলিয়ম আডামের ২৭ জুলাই, ১৮২৬ তারিখে লিখিত এক পত্রের 

ংশ উদ্ধৃত করেছেন : 49709010101) [২০৮ 1085 1805 00110 ৪. 50781] 
০০ ৮61: 17690 2170 17818050172 ০0116£6 10101) 106 ০8119 016 
৬০৪17800116) 10) 10101) 2.5 5006105 212 ৪6 0:696186 
11150000660 05 ৪. 25 21031176100 10817016, 110 92151010110 0016 
810), ৪ ৮16৬ 10 00০ 01008896101 210 0621002 ০01 17612 
0771091019101500, ৬10) 002 10506001010 106 15 2150 ভা11111)5 00 
50117606 11150-1805010105 11) 17010102810 5০1217)06 2100 16911)11)6 2130 
118 (01000150217 [0101091019101510, 197:05%1020 0)2 11)5000010105 26 
০0105 ০0. 11) 00০ 73210759811 01: 98051016 1917508£6 1”১০ আঁডাম- 
প্রদত্ত এই সংবাদটি একাধিক কারণে বিশেষ মূল্যবান। প্রথমত এটি এক 
হিসাবে আমহাস্ট কে লিখিত পত্রের অন্তভূরক্ত বেদান্তশিক্ষাবিষয়ক রামমোহনের 
মতের পরিপূরক । এই বেদাস্তবিষ্ঠালয়ের প্রতিষ্ঠাই প্রমাণ করে রামমোহন 
বেদান্তদর্শন সম্পর্কে অশ্রদ্ধাযুক্ত তো ছিলেনই না বরং বেদান্তের অনুশীলন ও 
প্রচারে তার এতদূর আগ্রহ ছিল যে তার চর্চার জন্য তিনি একক উদ্যমে ও 
অর্থব্যয়ে একটি শিক্ষাকেন্ত্র স্থাপনে পর্যস্ত অগ্রণী হয়েছিলেন। দ্বিতীয়ত 
আ্যাডামের বর্ণনা থেকে বুঝতে অস্থবিধ! হয় না, তার বৈদাস্তিক ব্রহ্মবাদ শিক্ষা- 
দানের একটি নিজন্ব পরিকল্পনা ছিল। এর সঙ্গে তিনি পাশ্চাত্য জ্ঞানবিজ্ঞান 
ও তুলনামূলক ধমতত্বের শিক্ষা! যুক্ত করতে চেয়েছিলেন; অধিকন্ত তার এ 
ইচ্ছাও ছিল যে এই সমগ্র শিক্ষার বাহন হবে সংস্কৃত অথবা বাংলা ভাষ! । 
সরকারি কতৃপিক্ষকে লিখিত পত্রে প্রাচীন ও আধুনিক শিক্ষার ছ্বিধারার মধ্যে 
সামগ্তম্ত বক্ষার নিমিত্ত যে অম্ুরোধ তিনি কবেছেন__তার নিজ প্রতিষ্ঠান 


৪6 


বেদান্ত-বিদ্যালয়ের পাঠক্রমনিরূপণের মধ্যে সেই সামঞ্চশ্তবিধানের প্রয়াস লক্ষা 
করা যায়। আযাডামের পত্রে প্রকাশিত তথাটিকে এইভাবে বিশ্লেষণ কবে 
দেখলে সরকাঁবি সংস্কৃত কলেজেব মাধ্যমে বিকীবিত প্রাচীন পদ্ধতিগত সংস্কৃত- 
শিক্ষা ও রামমোঁহন-পরিকল্পিত আধুনিক যুগোপযোগী শান্তান্ুশীলন-পদ্ধতির 
মৌলিক পার্থকাটিও আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ও প্রাচীন পদ্ধতির কেন্রস্বরূপ 
সরকারি সংস্কৃত বিদ্যালয়ের প্রতি রামমোহনের বিরূপতার কারণটিও স্পষ্ট হয়। 
স্তরাং আন্মপৃবিক আলোচনার পরে সিদ্ধান্ত করতে বাধ! নেই, বেদাস্ত সম্পর্কে 
উচ্চ ও সশ্রদ্ধ মনোভাব পোষণ করেই রামমোহন এই শাস্ত্রের অনুশীলনে ব্রতী 
হন। ১৮১৫ খ্রীষ্টাব্দে কলিকাতায় স্থায়ীভাবে বসবাসের বেশ কিছুকাল পূর্ব 
হতেই নিশ্চয় তাঁর বেদাস্তচর্চা আরস্ত হয়েছিল; কেননা কলিকাতা থেকে এ 
বৎসরই তীর বেদাস্তবিষয়ক প্রথম ও প্রধান কীত্তি “বেদাস্তগ্রস্থ' ও সম্ভবত এর 
সংক্ষিপ্ত সংস্করণ “বেদান্তসার'ও প্রকাশিত হয়। আধুনিক যুগে বেদাস্তচর্চা ও 
বৈদান্তিক ব্রহ্মষবাদের প্রসার সম্পর্কে তার যে এক হনির্দিষ্ট ও হুচিস্তিত 
পরিকল্পনা ছিল, বেদাস্তবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও এর বিশিষ্ট পাঠক্রম-নির্মাণ-প্রয়াস 
তাব সুস্পষ্ট ইঙ্গিতবাহী । 

উনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে রামমোহন তাঁর প্রকাশ্য বেদাত্তচচা আরস্ত 
করেন। তার পূর্বে বাংলা দেশের সারম্থত সমাজে বেদাস্তের অনুশীলন বা 
অধ্যাপনার প্রসার কতদূর ছিল এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওয়া সহজ নয়। এক 
সময়ে এমন একটি ধারণ] প্রচলিত ছিল যে প্রাক্-রামমোহন কালের বঙ্গীয় 
সংস্কৃত পণ্তিতগণের প্রতিভা প্রধানত ন্যায় ও স্বৃতি শাস্তরদ্য়্কে অবলম্বন করেই 
বিকশিত হয়েছিল--বেদান্তশাস্ত্রে তারা যে কেবল অনধিকারী ছিলেন তা নয়, 
এশান্্ তাদের অনেকের নিকট ছিল সম্পূর্ণ অপরিচিত, এমন-কি, অস্রুতপূর্ব। 
রামমোহন সম্পর্কে তার এক ভাষণে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ এই ইঙ্গিত করেছেন : 
“যখন তিনি তত্বজ্ঞানের আলোকে বাঙালির মন উদ্ভাসিত করতে চেয়েছিলেন 
তখন তিনি সেই অপবিণত গগ্ঠে দুরূহ অধ্যবসায়ে এমন-সকল পাঠকের কাছে 
বেদাস্তের ভাম্য করতে কুস্তিত হন নি যাদের কোনো কোনো পণ্তিতও 
উপনিষদ্‌কে কৃত্রিম বলে উপহাঁস করতে সাহস করেছেন-** ।”১১ রামমোহনের 
সমকালীন প্রতিপক্ষগণের গ্রস্থাদি পর্যালোচনা করলে কিন্তু মনে হয় না বেদাস্ত 
সম্পর্কে তাঁদের সকলের অজ্ঞতা সর্বদা এতদুরু গভীর ছিল। তাই এই বিষয়ে 


৯ 


লমসামায়ক তথাপ্রমাণগুলি একবার যাচিয়ে দেখ! আবশ্ঠক। শ্রীরামপুর ব্যাপ টিস্ট 
মিশনের পাদ্রী উইলিয়ম কেরী ও যোস্ুয়! মাশম্যানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহকর্মী 
উইলিয়ম ওয়ার্ড উনবিংশ শতাবীর প্রারস্তে হিন্দুদের শান্ত, ধর্মবিশ্বাস ও আচার- 
আচরণ সম্পর্কে যে চিত্তাকর্ষক গ্রন্থখানি রচনা করেছিলেন তাতে তিনি 
তৎকালীন বাংলার টোল-চতুষ্পাঠীগুলিতে প্রচলিত সংস্কতশিক্ষার একটি চিত্র 
তুলে ধরবার প্রয়াস পেয়েছেন । ওয়ার্ড বলেন, বেদাস্তের প্রকৃত চর্চা ও 
অধ্যাপনা হত কাশীতে-__ বঙ্গীয় পর্ডিতদের বেদান্ত-জ্ঞান ছিল সায়ান্ ( 4১০ 
76177165, 006 10026102055) 51321910050) ৮৪081)09 বানানো 
01517851110 91397500009 8130. 005 ৪৭05 ৪16 80810019015, 0 1693, 
506 005 36789] 00170101000 01015 801905 01 010652 
00017185. )1১৭ টোলের পাঠক্রমের মধো বেদাস্ত-শিক্ষার্থীদের আন্মপাতিক 
সংখ্যানিরূপণের কিছু চেষ্টাও ওয়ার্ড করেছিলেন এবং অনুসন্ধানের ফলে যে 
সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিলেন তা এই: “£0001)550 0106 1001)01650 
010005800 101821001)0175 00065 1025 02 0176 000052.170 01 0061:6- 
8000005 10 1621) 06 12101021010 006 ৯0178510160 01 0019 
0115 [10091157110 01210170175 5190 102৬2 1281176 0)6 01)8517160 
181)81986, 60901 1)00750160 01 5৮০ 1)11170120 1079% 1520. 50108 
28715 0: 006 128৮50 513880:05, 2150 065 50100602105 01 006 
0101050210 517950005, চ01 1)01501650 0£ 0015 01009052150 1085 
[690 80006 0৫ 006 910116695. 001 0015 016 0109058)0 067:501)9 
06 06130151085 71997 02105 01 00065 চ0100:95,101065 00170160 
০00 0£ 0915 0156 00090598170 71810100195 008, 7280 12108 0৫ 006 
155950 810850:05. 09০ 0£ 012 00005800 061:50195 ভ1)0 16811 
0176 90158510000, ঠিড6 01 515 10785 1680 2818 0৫ 0106 12065610091)8580 
51081210500, %2081)00) 08091)]00]0, 01519251310 51850:08 2150 096 
₹৪৫.31”১৩ অর্থাৎ এক হাজার সংস্কৃত শিক্ষার্থীর মধ্যে গড়পড়তায় যেখানে 
কাব্যের ছাত্র ৪০*।৫০০, অলংকাবের ছাত্র ৫০, স্মতির ৪০০১ তন্ত্রের ১০, শ্যায়ের 
৩০৯, সেখানে বেদ-বেদাস্ত-মীমাংস।-সাংখা-পাতঞ্ল ( যোগ )-বৈশেষিক প্রভৃতি 
শান্গগুলি মিলিয়ে ছাত্রের সংখা। পাঁচ অথবা ছয়। তদানীস্তন বাঙলার 


ত 


টোলগুলিতে বেদাস্তের এই স্বল্পসংখ্যক ছাত্রকে কোন্‌ কোন্‌ গ্রন্থ অধ্যয়ন করানো 
হত সে প্রসঙ্গে ওয়ার্ড বলেছেন : 47102 0018108] ০] 06 ৬৪৫0-৬৪৪0 
15 0811657 981:660100-509005. 0102 00061 ফ/01]3 ৪ 01655610168 
1) 93610891816 006 00110571176 ৮12. 9816611108-0088050, 38010008- 
706) [৫010000800১ 01100010, 8100 00100, ভ20000) ড558170- 
01101588159) 91001021700 15509 91001081760-511)000 2150. 708750100- 
00391)66. 1106 55501702170 0176 8150) 0৫6 006 200৬6 0০015 276 
০01010617021168 01 006 011 016 ভ৪৫0-55280. 106 1630 816 
0020011920199 £000 056 ড৪81700 1১৪ সংক্ষিপ্ত গ্রস্থনামগুলি বিশ্লেষণ 
করলে দেখা যায় বেদাস্ত-অধ্যাপনার বিষয় ছিল বাদরায়ণ €বাব্যাস)-রুত 
রহ্মস্ত্র যার অপর নাম শারীরকস্থত্র ; শংকর-কত ব্র্ষসত্রভাঙ্ক ( বা শারীরক- 
ভান্য ); উক্ত ভাষ্যের উপর বাচম্পতি মিশ্র রচিত “ভামতী” টাকা; অযলানন্দ 
রচিত ভামতীর টাকা 'কল্পতরু' ; অগ্নয়দীক্ষিত রচিত কল্পতকুব টীকা পরিমল" ) 
সম্ভবত প্রকাশাত্মন্‌ রচিত পস্সপাদাচার্ধের 'পঞ্চপাদিকা”র টীকা 'পঞ্চপাদিকা- 
বিবরণ” অথবা তদবলম্বনে বিদ্যারণ্য রচিত “বিবরণপ্রমেয়সংগ্রহ'৯* ; শংকরাচার্ধের 
বৃহদারণ্যক-উপনিষদৃ-ভাষ্ের উপর স্থরেশ্বর রচিত 'বৃহদারণ্যক-উপনিষদ্‌-ভাষ্য- 
বান্তিক”'; ধর্মরাজাধ্ববীন্দ্েরে “বেদাস্তপরিভাষা” £ অগ্নয়-দীক্ষিত রচিত 
'সিদ্ধান্তলেশ' ; মধুসুদন সরস্বতী রচিত “সিদ্ধাস্ততত্ববিন্দু' বা! “সিদ্ধান্তবিন্দু' ; ও 
বিষ্যারণ্য-কৃত পঞ্চদশী' | লক্ষ্য করবার বিষয় অধ্যেতব্য গ্রন্থনিচয়ের সব 
কখানিই শংকরাচার্ধ-ব্যাখ্যাত নিহিশেষ অছৈতবাদের পবিপোষক | এর মধ্যে 
র্ষন্ুত্রের শাংকর ভাষ্য ( তালিকাভুক্ত দ্বিতীয় গ্রন্থ ) ও স্থরেশ্বর-প্রণীত 
বৃহদারণ্যকোপনিষদ্দের শাংকর ভাস্তের বাতিক ( তালিকাভুক্ত ষষ্ঠ গ্রন্থ )কে 
যথাক্রমে বাসের নামে প্রচলিত মূল বেদাস্তশান্ত্রের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ 
আলোচন] বলা চলে। অপর গ্রস্থগুলিতে ( এমন-কি ভামতী, কল্পতরু, পরিমল 
প্রভৃতি টীকাজাতীয় রচনাতেও ) নির্বিশেষ অদ্ৈততত্ব অনেকটা স্বাধীন ভাবে 
ব্যাখ্যাত হয়েছে। ওয়ার্ড পূর্বোক্ত গ্রন্থের পরিপূরক অপর এক গ্রন্থ 
প্রকাশ করেন ১৮১৫-১৮ শ্রীষ্টাকে। এই গ্রন্থে তৎকালীন বাংল! দেশে 
ও ভারতবর্ষের অন্তত্র অবস্থিত সংস্কৃতশিক্ষার প্রধান কেন্দ্রসমূহের এক তালিকা 
দেওয়া হয়েছে এবং বাংলার নবন্ধীপ, কলিকাতা, বাশবেড়িয়া, ত্রিবেণী, কুমারহষ্ট, 


৪৭ 


ভাটপাড়া, গোন্দলপাড়া, ভত্ত্রেস্বর, জয়নগর, মজিলপুর, আন্দুল, বালী প্রভৃতি 
স্থানে অবস্থিত চতুষ্পাঠীসমূহের অনেকগুলির পাঠ্যস্চীরও উল্লেখ আছে। 
তদল্ুসারে দেখ ঘায়, নবদ্বীপে অধ্যয়নের বিষয়-_ ন্যায়, ম্বৃতি, কাব্য, ব্যাকরণ ও 
জ্যোতিষ; কলিকাতার সর্ববমেত আটাশটি শিক্ষাকেন্দ্রে স্তায় ও স্থতি; 
বাশবেড়িয়া, গোদ্দলপাড়! ও ভদ্রেশ্বরে_ ন্টায়। অন্ঠান্ত স্থানের বিষয়ের উল্লেখ 
নেই। সমকালীন বাঙালী পণ্ডিতগণের মধো ওয়ার্ডের মতে একমাত্র ত্রিবেণীর 
স্বনামধন্য জগন্নাথ তর্কপঞ্চাননই কিছুটা বেদ-বেদান্ত অধ্যয়ন করেছিলেন 
অপরপক্ষে ওয়ার্ডের সাক্ষা অন্ক্যায়ী সেই সময়ে কাশীতে ও অন্তধদেশে বেদ- 
বেদাস্তের বিশেষ চর্চা ছিল; কাঁশীর দশাশ্বমেধ ঘাট ও হন্ুমস্ত ঘাটে বেদাস্ত ও 
মীমাংসা বিশেষরপে অধ্যয়নের জন্য ছুটি কেন্দ্র ছিল বলে জানা যায় ।১* ১৮৩৫ 
ও ১৮৩৮ খ্রীষ্টাৰে বঙ্গ-বিহারের তৎকালীন প্রচলিত শিক্ষা-ব্যবস্থা সম্পর্কে 
উইলিয়ম আডাম কর্তৃক সংকলিত তিনটি বিবরণে বাঙলার টোল-চতুম্পাঠীগুলির 
যে চিত্র ফুটে উঠেছে তা ওয়ার্ডের বর্ণনা থেকে কোনও অংশে পৃথক নয় ।১৭ 
বেদাস্ত সম্পর্কে কৌতুহল ও এর ছাত্রের সংখ্যা! অন্যান্য বিষয়ের তুলনায় তখনও 
নগণা; পাঠাতালিকায় কোনও পরিবর্তন নেই; এবং পূর্বের ন্যায় বেদাস্তচর্চার 
মুখা কেন্দ্র তখনও কাশী। রাজশাহী জেলার এক বেদাস্তের টোল সম্পর্কে 


১৮৩৫ খ্রীষ্টান আডামের মন্তবা £ “06 ৪8116 5০1১০০] 1০. 20 ০৫ 
28016 1111 ০817 50810০61506 3910 96 00 53150,1156 00001 


৪৩ ০0101601116 0১6 0508] ০00156 01 80009 11) 115 1080156 
015010০0 7২8158101, 00 55061001719 2০010161)61005 আ1)0 00 136158169 
ও121505 1)6 1080 160011160 ৪ 0)01001) 06016 ] 58ভা 10100." 
1080 190 70115 2৮ 006 21006 ০0৫ 2 5156 00 1018 ৮11182591১৮ 
উনবিংশ শতকের তৃতীয় দশকে প্রকাশিত মন্টগোমারী মার্টিন কৃত পূর্ব- 
'্ভারতের স্থবিখ্যাত সমীক্ষার সাক্ষাও এর সঙ্গে মেলে। দিনাজপুর জেলার 
শিক্ষাব্যবস্থা সম্পকে মার্টিন বলছেন £ ৮1616 18 10 72081010 [১৪101 
88 10115917002, 16 13 1150650 ৪1165] 0980 01616 25 1301)6 


12 3610881 এম 01806, আ1)21) 50205 16810160106 2০ 
3:০এ৪)৮ £000 9608165 ৮৮ ৪. 1101) চ0598000 01£ 0810962 


€ ০00171900 ০: 19001515561) ) 10 1980 ৪000160 ৪ 18166 


কীট 


1910006 10 006 $605106 0£ [+01001161”১৯ রংপুর, ও বাগুলার প্রাস্তবর্তী 
বিহারের পুণ্রিয়া জেলা সম্পর্কেও মার্টিনের সিদ্ধান্ত অন্থরূপ।,* কলিকাতায় 
১৮২৪ গ্রীষ্টাব্ধে প্রতিষ্ঠিত সরকারি সংস্কৃত কলেজে প্রথম থেকেই একটি বেদাস্ত- 
শ্রেণীর প্রবর্তন কর! হয়েছিল; কিন্তু ছাত্রাভাবে ১৮৪২ সালে কর্তৃপক্ষ সেটি 
উঠিয়ে দিতে বাধা হন।২১ অতএব দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন শৃত্রে সংগৃহীত তথাবলী 
একটি সাধারণ সিদ্ধাস্তকেই নির্দেশ করছে য। এই : উনবিংশ শতাবীৰ প্রথম 
ভাগে বাংলার পণ্ডিতসমাজে বেদাস্তেব পঠন-পাঠন সম্পূর্ণ অপ্রচলিত ন৷ 
থাকলেও ন্যায়, শ্বতি, ব্যাকরণ, কাব্য, অলংকার প্রভৃতি শান্ত্রের চর্চার তুলনায় 
এর পরিমাণ ছিল নগণ্য ; বেদাস্ত সম্পকে কৌতুহল বা বেদান্ত পাঠে আগ্রহ 
সংস্কৃতশিক্ষািগণের মধ্যে অতি অল্পই দেখা যেত) উত্তর-ভারতে বেদাস্ত- 
শিক্ষার প্রধান ও শ্রেষ্ঠ কেন্দ্র ছিল কাশী; বঙ্গীয় পণ্তিতমগুলীর মধ্য প্রচলিত 
ক্ষীণ বেদান্তচর্চা ও বেদাস্তাধ্যাপনা মৃখ্যত শাংকর অদ্ৈতবাদকেই অবলম্বন 
করেছিল; এবং মোক্ষশাস্ত্রের গ্রস্থানত্রয়ের মধ্যে টোল-চতুষ্পাঠীতে এক রন্বস্ত্রই 
টাকা-ভাস্ত সমেত পড়ানো হুত। সভাহ্য উপনিষদ্‌-গীতা পাঠ্যতালিকার প্রায় 
বহিভূত ছিল। 

পূর্বোক্ত প্রচলিত ধারণার সঙ্গে এই চিত্রের সামঞ্জস্য কতখানি? দেখা 
যাচ্ছে, রামমোহনের সমকালীন বাংলার প্রথাগত সংস্কৃত পাণ্ডিত্য মুখ্যত বিকাঁশ 
লাভ করেছিল কাবা, অলংকার, নায়, শ্বতি, পুরাণ ইত্যাদি শান্্রকে অবলম্বন 
করে; বেদাস্তপাঠে ছাত্রসমাঁজের আগ্রহ ও এ শান্ত্রের অস্জশীলন এবং অধাপনার 
পরিমাণ ছিল সে তুলনায় অতি সামান্য ; টোল-চতুষ্পাঠীতে তার যেটুকু ক্ষীণ 
অস্তিত্ব ওয়ার্ড, আযাভাম বা মার্টিনের বর্ণনা! থেকে অন্থভব করা যায় তাও ছিল 
এক বিশেষ ধারাশ্রয়ী। অপরপক্ষে এমন উক্তি নিঃসংশয়ে অতিরঞ্জন যে 
শান্্বিচারের ক্ষেত্রে রাযমযোহনের সমস্ত গ্রতিপক্ষই বেদাস্তশাঘে সম্পূর্ণ অনভিজ্ঞ 
ছিলেন। এদের মধ্যে পণ্ডিত মৃত্যুঞ্জয় বিষ্যালঙ্কার যে, গভীরভাবে না হলেও, 
বেদাস্সাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন তার প্রমাণ আছে রামমোহুন-রচিত 
'বেদাস্তগ্রস্থ'এর উত্তরম্বরূপ প্রকাশিত তাঁর “বেদাস্তচন্দ্রিকা'র পৃষ্ঠায় | আদৌ 
রামমোহনের প্রতিপক্ষ, উত্তরকালে তার মতাস্থবর্তী শিল্ক উৎসবানন্দ বিদ্যাবাগীশ 
পণ্ডিত রামচন্দ্র বিষ্ভাবাগীশের সঙ্গে ব্রাক্ষপমাজে উপনিধদ্‌ পাঠ করতেন। 
রামমোহন হয়ং “কবিতাকাবের লহিত বিচার, গ্রন্থে বলেছেন £ “আমরা ঈশ, 


টি 


কেন, কঠ, মুণ্ডক ও মাগ্ুকা এ দশোপনিষদের মধ্যে সম্পূর্ণ পাঁচ উপনিষদের 
ভাষাবিবরণ করিয়াছি-..মেই সকল ভাষাবিবরণের পুস্তক শত শত এই নগরে 
এবং এতদ্দেশে পাওয়া যাইবেক এবং এ সকল মূল উপনিষদ্‌ ও আচার্ষের ভান 
এবং বেদাস্তদর্শন ও তাহার তাত মৃত্যু বিগ্যালস্কার তট্টাচার্ধের বাটিতে এবং 
কালেজে ও অন্যান্য পণ্ডিতের নিকট এই দেশেই আছে তাহা দৃষ্টি করিলে 
বিজলোক জানিতে পারিবেন বেদের স্থান স্থানের বিপরীত অর্থকে ও 
বেদান্তদর্শনের বিপরীত স্থত্রকে ভাষায় বিবরণ কর] গিয়াছে কিন্বা সম্পূর্ণ 
উপনিষদ মকলের ও বেদাস্তদর্শনের অর্থ করা গিয়াছে।”২* বামমোহনের 
সমকালে বাঙলাদেশে অতি ক্ষীণভাবে হলেও বেদাস্তচর্চার যে অস্তিত্ব ছিল এই 
উক্কিই তার প্রমাণ । তৰে রবীন্দ্রনাথের পূর্বোদ্ধত মস্তব্যও একেবারে ভিত্তিহীন 
নয়। “কবিতাকার'এর প্রতি প্রদত্ত রামমোহনের উত্তরের শেষাংশ থেকে মনে 
হয় কবিতাকার এমন একটা! অভিযোগ তুলেছিলেন যে রামমোহন উপনিষদ্‌ ও 
বেদাত্তদর্শনের নাম করে যা প্রচার করেছেন তা প্রকৃত উপনিষদ্‌ বা বোস্ত 
নয়-_অনেকাংশে কল্পিত বা কৃত্রিম শান্্। ছুর্ভাগাবশত “কবিতাকার'এর পরিচয় 
জানা যায় নি বা রামমোহনের বিরুদ্ধে প্রকাশিত তাঁর মূল পুস্তকের সন্ধানও মেলে 
নি। তা ছাড়া 'পাষগুপীড়ন' গ্রন্থে কাশীনাথ তর্কপঞ্চাননের অভিযোগ ছিল 
রামমোহন-প্রচারিত শান্্রসমূহ “্বকপোলকল্লিত' ; যার উত্তরে বাঁমমোহনকে 
বলতে হয়েছিল : “প্রণব কি ম্বকপোলকল্লিত হয়েন? কি গায়ত্রী ও দশোপনিষৎ, 
বেদাস্ত, যাহা আমাদের উপাসনীয় হইয়াছেন, তাহা হ্বকপোলকল্পিত হয়েন? ও 
বেদাস্তদর্শন ও মনুস্থৃতি ও ভগবদ্গীতা ও প্রসিদ্ধ সংগ্রহকারধূত বচন মকল, যাহা 
ব্যতিরেক অন্য কোন বচন কোন স্থানে আমর! লিখি না, সেই সকল শান্তর কি 
স্বকপোল কল্পিত হয়েন ?”৭৩ক 

মে-যুগে যে অল্প পরিমাণ বোস্তচর্চার অস্তিত্ব ছিল সেটুকুও এর ধারক- 
বাহক পত্তিতবর্গের রক্ষণশীল গতান্থগতিক দুষ্টিভঙ্গির জন্য জাতির কোনও ব্‌হৎ 
কল্যাণসাধনে বাবহত হতে পারে নি। এই পপ্ডতিতগণ বেদাস্তকে সাধারণের 
অবোধা সংস্কৃত ভাষায় গপ্ডিবদ্ধ করে রাখবার পক্ষপাতী ছিলেন। বালা 
্রস্ৃতি প্রচলিত লৌকিক ভাষায় এই মোক্ষশান্ত্রের অনুবাদ বা সাধারণের মধ্য 
তার প্রচারের তারা ছিলেন ঘোর বিরোধী। রামমোহন কর্তৃক বাঙলা, 
হিনুস্থানী প্রভৃতি ভাষার মাধ্যমে বোস্ত-প্রচারকে বিদ্রুপ করে মৃত্যু 


উও ৫ 


বিষ্যালঙ্কার তীর “বেঙ্াস্ত-চন্দ্রিকা'তে বলেছেন £ “তাৃশ তব্জ্ঞানীদের হাটের 
মধো ব্রদ্মজ্ঞান এই লৌকিক গাথার ন্তায় যে যে অসন্ভপদেশ তাহাতে আস্থা 
করিয়া অন্ধগোলাছুল শ্যায়ে নষ্ট হইবে না ।”২৪ অন্তত্র তাঁর উক্তি আরও স্পষ্ট : 
*...শান্্সিদ্ধাস্ত নিতাস্ত লৌকিক ভাষাতে থাকে না কিন্তু ্থপন্ধ বদরী ফলবৎ 
বাকোতে বন্ধ হইলেই থাকে। আরো! ঘেমন বূপালক্কারবতী সাধবী স্ত্রীর 
হৃদয়ার্থবোছা! চতুর পুরুষেরা দিগম্বরী অসতী নারীর সন্দর্শনে পরাক্মুখ হন 
তেমনি সালক্কারা শান্তার্থবতী সাধুতাষার হৃদয়ার্থবোদ্ধা সৎপুরষেরা নগ্ন 
উচ্চৃত্খল! লৌকিক ভাবা শ্রবণমাত্রেই পরাধ্মুখ হন।”২ বামমোহন-প্রৃতিপক্ষ 
কিবিতাকার' এমন হাশ্তকর অভিযোগও করেছিলেন ঘষে রামমোহন কর্তৃক 
বেদাস্ত-উপনিষদ্‌ বিষয়ক গ্রস্থাদি প্রকাশের ফলে দেশে ব্যাপকভাবে অমঙ্গল, 
মন্বস্তর ও মারীভয় উপস্থিত হয়েছে।২* পাশ্গত্য জ্ঞানবিজ্ঞান ও গ্রীষ্টধর্মতত্বের 
সঙ্গে তুলনামূলকভাবে সংস্কৃত ও বাঙলার মাধ্যমে বেদীস্তশিক্ষার যে বাবস্থা 
রামমোহন তার বেদাস্ত-বিদ্ভালয়ের মাধ্যমে করেছিলেন এবং বাঙলা ও হিন্ুস্থানী 
অনুবাদের মাধামে ব্রন্ষত্র, উপনিষদ ও গীতার তত্ব যেভাবে সাধারণের মধ্যে 
পরিবেশন করবার প্রয়াস পেয়েছিলেন সেই নির্ভীক, মুক্ত, উদ্দার দৃষ্টির সঙ্গে 
পূর্বোক্ত পণ্তিতগণের রক্ষণশীল কুসংস্কারাচ্ছন্ন মনোভাবের কী দুস্তর প্রভেদ ! 
এই কারণেই বাঁমমোহনের ছারা আধুনিক যুগে জাতির ভাবজীবনে বেদাস্তের 
সময়োপযোগী নবজন্ম সম্ভবপর হয়েছিল আব তার সমকালীন বিরুদ্ৃপক্ষীয় 
পণ্ডিতগণের বেদাস্তজ্ঞান আপনাকে প্রমাণ করেছিল বন্ধা]। 

উত্তর-ভারতের তৎকালীন বেদাস্তচর্চার প্রধানতম কেন্দ্র কাশীতে যে 
রামমোহনের বেদাস্তচর্চার স্ুত্রপাত এই প্রচলিত ধারণায় সন্দেহ করবার বিশেষ 
কোনও কারণ দেখ যায় না। তাঁর অন্তরঙ্গ সুদ একেশ্বরবাদী (51)1691180) 
পাদরী আযডাম ১৮২৬ গ্রীষ্টাবকে মন্তব্য করেছিলেন, রামমোহন সর্বসাকুল্যে দশ 
বাবার বৎসর কাশীতে অবস্থান করেন।২ এই ধারণ! ভ্রান্ত । রামমোহনের 
বিষয়-সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলার নধিপত্র থেকে প্রমাণিত হয়, সম্ভবত ১৭৯৯ 
্রীষ্টাৰে তিনি পাটনা, কাশী প্রতৃতি দূরবর্তী অঞ্চলে যাবার উদ্দেস্তে বঙ্গদেশ 
ত্যাগ করেন। কারও কারও মতে ১৮০০ বা ১৮০১ খ্রীষ্টাবকে তিনি অল্প 
সময়ের জন্য একবার ফিরে এসেছিলেন । কিন্ত এর কোনও স্পষ্ট প্রমাণ 
নেই। অপর পক্ষে ১৮০৩ খ্রীষ্টাক্ে তিনি ঘে কাশীতে কর্মরত ছিলেন 


১০১ 


কিছু সমসাময়িক স্থানীয় নথিপত্রের সাহাঘো তার প্রমাণ পাওয়া 
গিয়েছে ।৯* রামমোহনের কাশীপ্রবাসপ আডামের অনুমান অনুযায়ী 
দশ বা বার বৎসর দীর্ঘ হলে তাঁর জীবনের এই পর্বভুক্ত অন্াস্ঠি 
ঘটনার সঙ্গে এর সামঞ্রস্ত করা যায় না। কিন্তু সম্ভবত ১৭৯৯ থেকে 
১৮০৩-০৪ এর মধো বামমোহন বেশ কিছুকাল কাশীতে কাটিয়েছিলেন। 
সে-সময়ে কলিকাতা বা বাঙলাদেশের অগ্যত্র বেদাস্তচর্চার বিশেষ সুবিধা 
না থাকায় কাশীবাসকালে সেখানে এই শান্তর অনুশীলনের প্রাঞ্ধ সবযোগ 
যে রামমোহন গ্রহণ করেছিলেন তা সহজেই অনুমেয় । উত্তরকালে জীবনের 
রংপুর-পর্বে (১৮০৯-১৮১৫) তিনি উপনিষদ্‌-বেদাস্তে তার বুৎ্পন্তি নিয়মিত 
অন্থশীলনের দ্বারা গভীরতর করেছিলেন নিশ্চয়, কেননা, দেখা যায় ১৮১৫ 
্ষ্টাব্দে কলিকাতায় স্থায়ীভাবে বসবাস আরস্ত করবার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি 
“বেদাস্তগ্রস্থ' শীর্কক তীর সুদীর্ঘ ব্রহ্ষস্ত্রভাঙ্য প্রকাশ করেছেন । এই গ্রস্থের 
প্রাথমিক রচনাপর্ব অবশ্থই রংপুরে লমাপ্ত হয়েছিল। 
বৈদাস্তিক ও বেদান্ত-ব্যাখাতা রূপে রামমোহনের আত্মপ্রকাশ ঘটে তার 
জীবনের কলিকাতা-পর্বে (১৮১৫-১৮৩০ )। হিন্দুশান্বের অনুবাদ, ব্যাখ্যা ও 
বিচার-সম্পর্কিত তাঁর সবগুলি গ্রস্থই প্রকাশিত হয়েছিল এই সময়সীমার মধো । 
তার মধ্যে বিভিন্ন ভাষায় রচিত বেদীস্ত-বিষয়ক গ্রস্থনিচয়ের একটি তালিক! 
এখানে দেওয়া যেতে পারে £ 
বাঙলা: (১) বেদাস্তগ্রস্থ (কলিকাতা, ১৮১৫); (২) বেদাস্তসার ( কলিকাতা» 
১৮১৫ বা১৮১৬)$ (৩) তলবকারোপনিষৎ ( কেনোপনিষৎ ), মূল ও 
বঙ্গাহ্বাদ ( কলিকাতা, ১৮১৬) (৪) ঈশোপনিধৎ, মূল ও বঙ্গানুবাদ 
(কলিকাতা, ১৮১৬) (৫) কঠৌপনিষৎ, মূল ও বঙ্গান্থবাদ ( কলিকাতা, 
১৮১৭); (৬) মাওুক্যোপনিষৎ, মূল ও বঙ্গানুবাদ ( কলিকাতা, ১৮১৭ )১ 
(৭) যুগ্তকোপনিষৎ, মূল ও বঙ্গান্ববাদ ( কলিকাতা, ১৮১৯ )7 (৮) শংকরা- 
চার্ধ কতৃক রচিত বলে অনুমিত 'আত্মানাত্মবিবেক” মূল ও বঙ্গানুবাদ 
( কলিকাতা, ১৮১৯ )। 
হিনুস্থানী : (১) বেদাস্তগরস্থ (এই নামের পূর্বোজ বাঙলা গ্রস্থের হিন্ুস্থানী 
অন্থবাদ ) (কলিকাতা, ১৮১৫ )$ (২) বেদাস্তসার (এ নামের পূর্বোক্ত 
বাঙলা গ্রন্থের হিন্ুস্থানী অন্থবাদ ) ( কলিকাতা, ১৮১৫ বা ১৮১৬ )। 


১৩৭ 


ইংরেজি : (২) 77891201010 06 21 01108006120 016 006 6817 
('বেদাস্তসার'-এর ইংরেজি অনুবাদ) (08108668) 1816); (২) পু ৪0818- 
0010 0156 16170721)151)80 (09109055, 1816); (৩) পা 20818- 
000) 01 6৮0০ [39008121958 (08100005, 1816); (৪) প:812518- 
007 0৫ 006 7101)00010790181550 (08108005, 1819); (৫) 8- 
$170018 0£ 096 510007817151780 (0810015, 1819)। 

জার্মান: (১) /£১0050076 083 ৬6০৪৮ (“বেদাস্তসার' এর জাঞ্জান 
অনুবাদ ) (72179. 1817 )। 

গলন্দাজ : (১) ৬6:6৪1108 ৬৪17) ড€1501)61061)6 ৬0611781706 7306]0618 
চ1800961) 27761080217) ৮21) 06 ৬5০৪5 ( 0:91701967) 1840); 
১৮৩২ খ্রীষ্টাবে ব্রাহ্মণ্য শাস্ত্রের ব্যাখ্যা ও বিচারমূলক বামমোহনের 
তেরখানি পূর্বপ্রকাশিত গ্রন্থের একটি একত্র সংস্করণ “[217518007 0৫ 
96৬61:81 [0117,0105] 93901) 02388£65 ৪10 [625 ০0৫ 0005 ৬০৫৪, 
8150 0: 80005 00100561518] ৬/০1103 1) 91510100101081 
[1)৩01085” আখ্যায় লগ্ন থেকে প্রকাশিত হয়। আপাতদৃষ্টিতে মনে 
হয় ওলন্দাজ ভাষায় সেটিরই অঙন্গবাদ রামমোহনের মৃত্যুর পরে উপরি-উক্ত 
নামে কাম্পেন থেকে প্রকাশিত হয়েছিল । 

প্রদত্ত তালিকায় এ পর্যস্ত-বামমোহনের শাস্ত্রানুবাদ ও শান্তব্যাখ্য। শ্রেণীর গ্রন্থ- 

গুলির নামই করা হয়েছে। এই পধায়ের রচনার মধ্যে তার অধুনালুপ্ত 

ভগবদ্গীতার বাঙলা পদ্যান্ছবাদের নাম অবস্থাই উল্লেখা। গীতা তার নিজের 
অতি প্রিয় গ্রন্থ ছিল।২» তা ছাড়া তিনি বেদাস্তশান্্ প্রচারের উদ্দেস্তে ঈশ, 
কেন, কঠ, মৃণ্ডক প্রভৃতি কয়েকখানি উপনিষদ্ের সংস্কৃত বৃত্তিসমেত সংস্করণ 
প্রকাশ করেছিলেন ; ক্রহ্গস্থত্রের সমগ্র শাংকর ভাষাও তিনি পৃথকভাবে মুদ্রিত 
করেন ( কলিকাতা, ১৮১৮) বামমোহনের বাঙলা গ্রস্থাবলীর সম্পাদক 
রাজনারায়ণ ব্হু ও আনন্দচন্্র বেদাস্তবাগীশ উল্লেখ করেছেন, তিনি “ছান্দোগ্য' 

ও “শ্বেতাশ্বতর' উপনিষদ্দয়ও (সংস্কৃত মূল অথবা অন্যগুলির ন্যায় বঙ্গানুবাদ সহ ) 

প্রকাশ করেছিলেন,ৎ১ কিন্তু এগুলির সন্ধান পাওয়৷ যায় নি। উপরি-উক্ত 

রচনানমূহের মধ্যে প্রধানত বেদাস্তের তবব্যাখ্যাতারূপে রাঁমমোহনের বিশিষ্ট 
ৃষ্টভক্গির পরিচয় পাওয়া যায়। এই তত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য তাকে বিভিন্ন 


১০৩ 


প্রতিপক্ষের সঙ্গে শান্্রবিচারে প্রবৃত্ত হতে হয়েছিল। সেই বিচারগ্রন্থগুলিতে 
বাযমোহনের তর্কপ্রতিভা বিশেষরূপে পরিস্ফুট। এগুলি যেন তার সমগ্র 
বেদাস্ত-আলোচনার তর্কপাদ | এই শ্রেণীর রচনার মধ্যে সংস্কৃতে ও বাঙলায় অন্তত 
চারটি উল্লেখের দাবি রাখে, যথা ১. উৎসবানন্দ বিষ্াবাগীশের সহিত বিচার 
( কলিকাতা, ১৮১৬-১৭ )) ২, ভট্রাচার্ধের সহিত বিচার ( কলিকাতা, ১৮১৭); 
৩ গোম্বামীর সহিত বিচার ( কলিকাতা, ১৮১৮)) ও ৪ কবিতাকারের 
সহিত বিচার (কলিকাতা, ১৮২০ )। ইংরেজিতে এই শ্রেণীর প্রধান ছুখানি 
গ্রন্থ ১. 4৯ 106166106 06 [711)000 101)61500 11 1215 0০ (9618 00801 
0 ৪1) ৪৫৬0০806101 [00126:5, ৪ 7$080:83 ( কলিকাতা, ১৮১৭৯); ও 
২, 4৯ ১০০0150 1)661706 06 002 1৬10170006150081 99806]) 0৫ 016 
৬6০৫৪ 11 16১15 00 ৪ 20০01085201 006 71296170 50266 0: 1197000 
৬/০:৪1)10 (কলিকাতা, ১৮১৭)। এই গোত্রভুক্ত আরও কয়েকখানি 
বাঙলা-ইংরেজি পুস্তক-পুস্তিকা আছে, তবে আলোচা প্রসঙ্গে সেগুলির গুরুত্ব 
অপেক্ষাকৃত অল্প। প্রয়োজনমত সেগুলি যথাস্থানে উল্লিখিত হবে। কিন্ত 
রামমোহন কেবলমাত্র তাত্বিক বা তাফ্কিক ছিলেন না; বৈদাস্তিক ব্রহ্মবাদকে 
জীবনে বূপামিত করবার প্রয়োজন তিনি তীব্রভাবে অন্ুভব করেছিলেন । স্থৃতরাং 
ধর্মজীবন সংগঠনের জন্ত তাঁকে একটি উপাসনা-প্রণালী উদ্ভাবন করতে 
হয়েছিল। ব্রন্ববাদের এই বাবহারিক দ্দিকটি তার অপর কতিপয় রচনার 
বিষয়, ম্থা, ১. গায়ত্রীর অর্থ (কলিকাতা ১৮১৮) ২. প্রার্থনীপত্র (কলিকাতা, 
১৮২৩) ৩. ব্রক্ষনিষ্ঠ গৃহস্থের লক্ষণ ( কলিকাতা, ১৮২৬), ৪. গায়জ্রা 
ত্রদ্মোপাসনাবিধানমূ ( কলিকাতা, ১৮২৭); ৫. ব্রদ্ষোপাসনা ( কলিকাতী, 
১৮২৮); ৬. অনুষ্ঠান (কলিকাতা, ১৮২৯); ও ৭. ক্ষুত্রপত্রী 
( কলিকাতা,?)। এগুলির অনুরূপ কিছু বচনা ইংরেজিতেও আছে, যেমন 
১,170100516 90886501018 60 1015 ০0001701021) 0০ 10611656 
1) 006 0156010৪9০0 (কলিকাতা, ১৮২৩) ২, শুু৪105186000 
০৪ 98051001680 017 0165161700009065 04 ৬/০78171 (কলিকাতা, 
১৮২৫ )) ৩. 4 [21051800] 1060 চ0081750 06 8. 981751016 8০0 
11১০01580178 006 1015106 ৬৬০01510123 650661750 5 00086 জা1)0 


06116৮6 11) 0) 18৮619007) ০৫ 006 ৪5 ৪3 1703 80170191186 


১৬৪ 


€০ 006 1080016০0৫6 006 909:21006 86178 ( কলিকাতা, ১৮২৭ ); ও 
৪. ৮106 0015156159] 1২61181070 : চ611610005 11/5000001)8 101018060 
০01) 98০160 4১00১011065 ( কলিকাতা, ১৮২৯ )। দেখা যাচ্ছে, তত্বব্যাখ্যা। 
তর্কবিচার ও সাধন- মুখ্যত এই তিন ভূমিকে আশ্রয় করে রামমোহনের বেদাস্ত- 
'আলোচনা বিস্তার লাভ করেছে । আমাদের যথাক্রমে এগুলির আলোচনায় 
অগ্রসর হতে হবে। 

রামমোহন বেদাস্ত-আলোচনায় প্রবৃত্ত হয়েছিলেন শংকর, রামান্জ প্রমূখ 
ভারতবর্ষের প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বেদাস্তাচার্ধগণের প্রদশিত পথ ও এঁতিহৃকে 
অন্গমরণ করে । এই চিরাচরিত ধারার সম্ভবত তিনিই শেষ বেদাস্তভান্তকার। 
শ্রুতিপ্রামাণ্যের সম্পৃণ স্বীরুতির উপরই এই ধারা প্রতিষ্িত। এই বিষয়ে 
জনৈক আধুনিক মনম্বী সমালোচক যথার্থ বলেছেন : *.."মহাত্মা রামমোহন 
রায়---একজন শান্ত্রের অসাধারণ মীমাংসক ছিলেন ।-*-তিনি বেদ ও অন্যান্য 
সমূদ্ায় শাস্ত্রের যথাযোগ্য মান্য রাখিয়া শাস্ত্রের এক চমৎকার সংক্ষেপ মীমাংস! 
আমারদবিগকে প্রদান করিয়া গিয়াছেন। এইক্ষণে ইওরোগীয় দর্শনকারদিগের 
শ্রেণীর অনেক গ্রন্থকার এ দেশে জন্মগ্রহণ করিতে পারিবেন, কিন্তু রামমোহন 
রায় যে শ্রেণীর দর্শনকার ছিলেন, বোধ হয় শান্ধপ্রিয় ভারত-রাজ্য তাহার 
অর্ণবপোতারোহণের সঙ্গে সঙ্গে তাহা হইতে চিরকালের নিমিত্তে বঞ্চিত 
হইয়াছেন।”০২ এই বেদ-প্রামাণা ও আনুষঙ্গিক শান্রসমুহের প্রামাণ্য 
রামমোহন কী অর্থে কতদূর শ্বীকার কবে নিয়েছিলেন দ্বিতীয় অধ্যায়ে সংক্ষেপে 
তার উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমান প্রসঙ্গে কিছু বিস্তারিতভাবে তার বিচার 
করে দেখা আবশ্তক, কেনন! বেদাস্তমত স্থাপনে তার স্ববিখ্যাত পৃর্বস্থরিগণের 
মতোই তিনি শ্রুতিকে অন্যতম প্রমাণ হিসাবে বার বার উল্লেখ করেছেন। 

তার প্রথম জানিত রচনা আরবী-ফার্সাতে লিখিত'তুহ ফাৎ-উল্- 
যুওয়াহিদিন্-এ € রচনাকাল আহ্থমানিক ১৮*৩-৪ ) রামমোহন আত্মপ্রকাশ 
করেছিলেন কঠোর যুক্তিবাদিরূপে । ইসলামের যুক্তিবাদী মুতাঁজিলা 
সম্প্রদায়ের দ্বারা প্রভাবিত এই ক্ষুত্র পুক্তিকায় যদিও তিনি এক সার্বভৌম 
একেস্বরবাদী দিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন তবু কোনও প্রচলিত ধর্ম, ধর্মশান্্ বা 
ধর্মগুরুকে অভ্রাস্ত বলে স্বীকার করেন নি; অধিকন্ত প্রত্যেক এতিহাসিক 
ধর্মের মূল সত্যের সঙ্গে কালক্রমে যে বহুল পরিমাণে কুসংস্কার, অন্ধ বিশ্বাস, 


১৪০৫ 


অলৌকিক গাল-গল্প ও পুরোহিততন্ত্রের সংমিশ্রণ ঘটেছে ও ফলে ধর্মবিশ্বাসীদের 
ভাগো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জুটেছে প্রবঞ্চনা, নিপুণ বিশ্লেষণের হ্বারা তা 
দেখিয়েছেন । কিন্তু উত্তর জীবনে ধর্মশান্ত্র সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গির উল্লেখযোগ্য 
পরিবর্তন হয়েছিল। বিভিন্ন শাস্ত্রের, বিশেষত উপনিষদ, ্রহ্গস্থত্র ও গীতা,- 
বেদাস্তের এই প্রস্থানত্রয়ের, গভীরতর আলোচনার ফলে তিনি ক্রমশ উপলঙ্ধি 
করেন বিভিন্ন দেশকালে বিভিন্ন খধি ও দ্রষ্টাদের প্রজ্ঞালব আধ্যাত্মিক সত্যসকল 
ধ্মশান্গুলিতে সঞ্চিত হয়ে আছে; অন্ুভূতিমূলক এই সত্য নিছক! যুক্তির 
অগম্য। শান্বসমূহের মধো এই রত্বের পাশে অবশ্ যুগে যুগে বহু আবর্জনাও 
জম! হয়েছে যেগুলি সর্বথা বর্জনীয়; কিস্তু বত্বুগুলিকে অবহেলা করলে চলবে 
না। ধর্মের পূর্ণ পরিচয় লাভ করতে হলে শাস্ত্রীয় আধ্যাত্মিক সত্য ও যুক্তি, 
ছুইয়েরই সমান প্রয়োজন_-একটিকেও বাদ দেবার উপায় নেই। তাই শ্রমাণ 
হিসাবে তিনি শাস্ত্র ও যুক্তিকে সমান মর্যাদা দিয়েছেন । বিচার প্রসঙ্গে নিছক 
শান্রনির্ভর মনোভাবের অসম্পূ্ণত! প্রতিপাঁদনপূর্বক তাঁকে নিয়লিখিত বৃহস্পতি- 
বচন উদ্ধৃত করতে দেখা যায় : 
কেবলং শাস্ত্রমাশ্রিত্য ন কর্তব্যো বিনির্য়ঃ | 
যুক্তিহীনবিচারেণ ধর্মহানিঃ প্রজায়তে ॥৩৩ 

অপর পক্ষে সম্পূর্ণ যুক্তিতর্কের পথেও যে আধ্যাত্মিক সত্য লাভ করা যায় 
না সে সম্পর্কেও তার মনে পরবর্তীকালে কোনও সন্দেহ ছিল না। এই 
সম্পর্কে দ্বিতীয় অধায়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে; সংক্ষিপ্তাকারে 
হুত্রগুলির পুনরুল্পেখ করা যাচ্ছে। এই পরিবন্তিত দৃষ্টিভঙ্গী 
প্রমাণ রয়েছে কেনোপনিষদের ইংরেজি অন্বাদের ভূমিকায় তার 
এবংবিধ উক্তিতে :₹ “*৬/1)০০ ৪ 100] 0০9 006 089100178 ০0: 
8101510)6 108010183 6 0610 8190 [02100 806 ৮820181506 ড/10) 82019 
0৮106] 7 2100 71061) 01509078650 ৮গ 0019 ০1007082106, ৪ 
809681 00 16801 25 ৪. 50161 69106, আ6 9001) 5150 190 11- 
0০010076661) 1 15, 21015, €0 01500060500 0156 ০০1৪০ ০0: 001 
0875010 ৬/০ 01662 9730 0080 17556620. 0£ 9011109086 ০০: 
€170880213 01 01521138 0০ ০0] 06101651068, 1৮ 00015 56৬৪৪ 6০ 
£67161206 2 01)1561581 000190 11300707861516 চ510) 006 0127010155 


১০৬ 


010 1101) ০0 ০000:016 8120 15870117658 10811)]5 060610. 7176 
065 7060000 106100899 15, 156101961 60 £1%€ 01951563 0 €:০10- 
55615 609 0৮০ £19866 ০0: 006 0786 01 06 00096: 0৫৮ ৮০ & 
00296 956 0৫ 0306 11805 £0112181,80 05 0০900, 517068৮০000 
10000৮5 01 17061160002] 2170 28029] 19001065, 16151176010 006 
£099015583 0৫6 0106 4/৯110181) 0০৬6 13101) 81017866198 0165 03 
00 806811) 0026 ৮/1)10)) 9০ 62117650615 8150 01118619015 566]. 31158 
স্তরাং রামমোহনের পরিণত মতে শান্ত্রপ্রামাণোর স্বীকৃতি আছে-_কিন্ত সে 
শান্তপ্রামাণা হবে যুক্তির কষ্টিপাথরে পরীক্ষিত। এর সঙ্গে তিমি আর-একটি 
প্রমাণ স্বীকার করতেন যেটিকে তিনি বর্ণনা করেছেন ০01005091) ৪61)96 বা 
সহজ জ্ঞান বলে । শান্রালোচনা ও ধর্মসাধনার পথে তিনি এই তিনের উপযুক্ত 
সংমিশ্রণকেই আদর্শ মেনেছেন। ইংলগ্ডে ইউনিটেরিয়ান আসোসিয়েশন কর্তৃক 
সম্থধনার উত্তরে বত্তৃতাপ্রসঙ্গে তিনি এই মত স্পষ্ট ব্যক্ত করেন : “10066 18 
৪ 0800616 £01176 01) 06661) 1225010, 5০110016815 00100100018 
9610565 ৪750 ৬2৪10), 0০৬6] 2790 7012)00106. 01065600166 182৮ 
066€1) 52008511178 আ100 076 0006] 00166 3 006] 809 001)11)060 
008 চ০ 9100295, 80010] 0] 18661, 19 ০610811915৫ সুতরাং দেখা! 
যাচ্ছে রামমোহন উত্তরকালে তার প্রথম জীবনের বিশুদ্ধ যুক্তিবাদ পরিত্যাগ 
করে শ্রতিগ্রামাণ্য স্বীকার করলেও আধ্যাত্মিক জ্ঞানলাভের উপায়স্বরূপ একক- 
ভাবে তাকে যথেষ্ট মনে করেন নি, যুজি ও সহজজ্ঞানের সঙ্গে শ্রুতিলব্ধ অভিজ্ঞতা 
ও এতিহথকে সমন্থিত করে নেবার প্রয়োজন অন্ুতব করেছিলেন। আর- 
এক বিষয়েও এক্ষেত্রে রামমোহনের দৃষ্টি ভারতবর্ষীয় পূর্বাচার্গণের অপেক্ষা 
উদার ও যুগোপযোগী ছিল। প্রাচীন ও মধাযুগীয় বেদাস্তাচার্যর] শান্ত বলতে 
বুঝতেন মুখাত বেদকে ও গৌণত বৈদিক এরতিহ্বাহী স্মতি, পুরাণ, তব 
ইত্যাদিকে। তাদের দৃষ্টি ভারতবর্ষের এই ব্রাহ্মণা পরিমণ্ডলকে কদাচ অতিক্রম 
করে নি। অপর পক্ষে রামমোহন অনুভব করেছিলেন, প্রজ্ঞালন্ধ আধ্যাত্মিক 
সত্য কদাচ কোনও বিশেষ দেশ, কাল, জাতি বা গোষ্ঠীর একাস্ত নিজস্ব সম্পত্তি 
হতে পারে ন1; স্বদেশে সর্বকালে এই সত্য্রষ্টাগণের আবির্ভাব হয়েছে'। 
আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার সঞ্চয় কেবলমাত্র বৈদিক খধিগণেরই ছিল এমন কথ! 


১০৭ 


বল! এ্রতিহাসিক সতোর অপলাপ ও অযৌক্তিক সংকীর্ণ-দৃষ্টির পরিচায়ক ; 
পৃথিবীর সমস্ত ধর্মশান্ত্রেই এই সতোপলদ্ধির পরিচয় আছে। তাঁর মুসলিম ও খ্রীহটীয 
গ্রতিপক্ষগণের সঙ্গে আলোচনা-কালে তিনি এ সম্প্রদায়ছয়ের ধর্মাশান্ত্রগুলিকেও 
সমূচিত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্বীকার করেছেন, যেমন শ্রুতিপ্রামাণ্য স্বীকার করেছেন 
বেদাত্ত-আলোচনার বেলায়। এই. অসাম্প্রদায়িক বিশ্বদৃষ্টি রামমোহনের শান্্র- 
প্রামাণা-স্বীকারের বৈশিষ্টা । বলা বাহুলা, সর্বশান্ত্রের ক্ষেত্রেই তিনি শান্তলন্ধ 
ররর রা রায় রর 
] 1 


রামমোহনের স্থুবিস্তীর্ণ রচনার মধো শান্ত্প্রামাণ্কে যে ভাব এবং যে 
পরিমাণে স্বীকার করা হয়েছে তার মধো ম্পষ্টত একটি ক্রম লক্ষা করা যায়। 
এই ক্রমনির্দেশের ক্ষেত্রে তিনি সাধারণ ভাবে ভারতের পূর্বতন বেদাস্তাচার্গণের 
অনুসরণ করলেও কোনও কোনও দিকে হ্বকীয়তার পরিচয়ও দিয়েছেন । শাস্া- 
প্রামাণ্য বিচারে তার দৃষ্টিতঙ্ির বৈশিষ্ট্যগুলিকে গুরুত্ব অনুসারে যে ভাবে ভাগ 
করা যেতে পারে তা সম্ভবত এই : 

১. বেদই সর্বাধিক প্রামাণিক এবং শান্ত্রাদির মধ্যে যা বেদবিকদ্ধ বা 
বেদার্থপ্রতিষ্পধা তা নিন্দনীয় ও বর্জনীয়। দ্বিতীয় সংখ্যা ব্রাহ্মণ সেবধি' পত্রে 
(১৮২১) তিনি ম্প্ট বলেছেনঃ গ্রন্থের মান্যামান্যের সাধারণ নিয়ম এই, যে 
সকল গ্রন্থ বেদবিরুদ্ধ অর্থ কহে তাহা! অপ্রমাঁণ।"."হিন্দুদের পুরাণতন্ত্রা্দি বেদের 
অঙ্গ কিস্তু সাক্ষাৎ বেদ নহেন; বেদের সহিত পুরাণাদির অনৈক্য হইলে এ 
পুরাণাদির বচন অগ্রাহা হয়।” অতঃপর তিনি তাঁর উক্তির সমর্থনে ন্ার্ত 
( রঘুনন্দন )-ধৃত নিম্নলিখিত বচন উদ্ধার করেছেন £ 

শ্রাতম্বতিবিবোধে তু শ্রুতিরেব গবীয়সী । 
অবিরোধে সদা কার্ধং ম্মার্তং বৈদিকবৎ লতা ॥৩৯ 

২, বামমোহন-অবলঘ্িত শান্্ববিচারের ছিতীয় স্থত্র হল, শ্রুতি বা বেদ 
শান্্রহিসাবে সর্বাধিক প্রামাণিক হলেও বেদের জ্ঞানকাণ্ড ( অর্থাৎ উপনিষদ্‌ ) 
তার কর্মকাণ্ড অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এই প্রসঙ্গে তিনি মুণডকোপনিষদ ( ১-১-৫ ) উদ্ধৃত 
করেছেন £ “ঘ্বে বিদ্যে বেদিতব্যে ইতি হ ন্ম যছ_ম্ধাবিদো বদস্তি পরা চৈবাপরা৷ চ; 
তন্রাপরা খখেদে| যজুর্বেদঃ সামবেদোহধর্ববেদঃ শিক্ষা কল্পো ব্যাকরণং নিরুক্তং 
ছন্দো জ্যোতিষমিতি; অথ পরা যয়া তদক্ষরমধিগমাতে”-_বিদ্যা ছুই প্রকার হয় 


৯০৮৮ 


জানিবে ক্রন্ধজ্ঞানির! কছেন ১ এক পরা! বিদ্য! ছিতীয় অপর বিদ্যা হয় ; তাহার 
মধ্যে খকৃবেদ, যজুবেদ, সামবেদ, অথর্ববেদ, শিক্ষা, কল্প, ব্যাকরণ, নিকুক্ত, ছন্দ 
আর জ্যোতিষ এ সকল অপরা বিদ্যা হয়) আর পর] বিদ্যা তাহাকে কহি 
যাহার দ্বারা অক্ষর, অনৃশ্ঠ, ইন্ত্রিয়ের অগোচর যে পরত্রন্ধ তাহাকে জান! যায় সে 
কেবল বেদশিরোভাগ উপনিষদ হয়েন |” এখানে ক্রতিপ্রমাণের সাহায্যে 
তিনি বলতে চেয়েছেন, বেদের যাগযজ্ঞাদি বাহা অনুষ্ঠান বিষয়ক ও স্বর্গাদি 
ফললাভ বিষয়ক উপদ্েেশসম্পন্ন অংশগুলি অপেক্ষাকৃত নিকষ্ট; এগুলি শ্রুতির 
ভাষায় অপর বিদ্যা মাত্র। সেই বিদ্যাই পরা বা! শ্রেষ্ঠ যার দ্বারা অক্ষর পুরুষ 
বাত্রন্ষকে জানা যায়। পরা বিদ্যা বলতে উপনিষদ্কে বুঝতে হবে; সুতরাং 
শ্রুতির অন্যান্ত অংশ অপেক্ষা ব্রহ্মজানপ্রতিপাদক উপনিষদই অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ 
ও মান্য ।. রামমোহনের এই দৃষ্টিভঙ্গি যে বিশেষভাবে শংকরমতের ঘ্বারা 
প্রভাবিত এ কথা মনে করবার যথেষ্ট কারণ আছে । শংকর বৈদ্দিক কর্মকাণ্ডের 
প্রাথমিক মূলা সম্পূর্ণ অস্বীকার না করলেও তার বেদাস্তভাষ্কের মুখবন্ধে তাকে 
অবিদযাধীন, অধ্যাসমূলক ও ক্রন্মজ্ঞানলাতের পক্ষে একাস্ত অনুপযোগী রূপে 
বর্ণনা করেছেন ।৩* উপরবস্ত শংকর শ্রুতি ও স্বতির প্রমাণের উপর নির্ভর 
করে এমনও বলেছেন যে বর্ণাশ্রমের অন্তর্গত কোনও একটি বিশেষ আশ্র্ন 
যিনি অবলম্বন নাও করেছেন এমন ব্যক্তিও ব্রন্মজ্ঞানলাভের যোগ্যতা অর্জন 
করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে রামমোহছনকেও শংকরের প্রতিধ্বনি করতে দেখা 
যায়।» মৃখ্যত এই সমন্তা নিয়েই দর্দিণী পত্তিত হ্বত্ন্ষণ্য শান্ত্রীর সহিত 
রামমোহনের শান্তার্থ হয়েছিল। শাস্তীর্ন বক্তব্য ছিল, বৈদিক কর্মকাণ্ডের 
অনুষ্ঠান ব্যতীত ত্রহ্মজ্ঞানলাভ হতে পারে না। উত্তরে, রামমোহন শান্প্রমাণের 
সাহায্যে প্রতিপন্ন করেন, “ইহা| সর্বথ! অমান্য হয়, যে বর্ণাশ্রমকর্মের অনুষ্ঠান 
বাতিবেকে ্রক্মজানের উৎপত্তি হয় না1”8* সুতরাং ক্রক্ষজ্ঞান যে শ্রোত- 
কর্ষনিরপেক্ষ হতে পারে এ বিষয়ে রামমোহন স্থনিশ্চিত ছিলেন এবং শংকরের 
মতো এই জ্ঞানমার্গের শ্রেষ্ঠতায় দৃঢবিশ্বাসী ছিলেন। 

৩. বামমোহন বেদাস্তব্যাখ্যায় শ্রতিপ্রমাণপ্রয়োগপ্রসঙ্গে তৃতীয় যে স্থত্র 
স্বীকার করেছেন তাকে শংকর-রামাহজ প্রভৃতি প্রাচীন আচার্ধগণের অনুসরণে 
বলা যেতে পারে শ্রুতির একবাকাতা। উপনিষদ্গুলি বৈদিক ব্রহ্মবিস্তার 
মলাধার হলেও ভিন্ন ভিন্ন উপনিষদ আপাছৃষ্টিতে কিছু কিছু পরম্পর- 


১৩৪ 


বিরোধী সিদ্ধাস্তও বর্তমান। কোথাও বা সগুণ উপাসনা, কোথাও বা নিগুণ 
উপাসনা ব্যাখ্যাত হয়েছে। কোথাও বা হষ্ট বস্ত বা! দেবতাকে ব্রন্মরূপে বর্ণনা 
করা হয়েছে। সমগ্র শ্রুতিকে তর্কাতীত প্রমাণ গণ্য করতে হলে এই-সব 
আপাত-অন্তবিরোধের সিরসন হওয়া আবশ্তক। এই প্রয়োজনবোধ থেকেই 
আসে শ্রুতির একবাক্যতা স্বীকার। এই দৃষ্টিতে তত্সগত ভাবে মগগ্র 
বেদে এক অখণ্ড ও সামগ্বন্তপূর্ণ শান্্। স্থতরাং আপাতদৃষ্টিতে বিরোধী শ্রুতি- 
বাক্সমূহের মধ্যে সংগতি রক্ষা করাই এই মতাবলঘ্িগণ কর্তবা মনে করেন। 
শংকর তার ব্রহ্্ত্রভান্তের প্রায় সর্বত্র নিবিশেষ অদ্বৈতবাদের সমর্থনে বিভিন্ন 
শ্রতিবাকোর মধ্যে সামগ্রস্থ স্থাপনের নিমিত্ত প্রভূত যত্ব করেছেন। এ ক্ষেত্রে 
রামমোহনের বক্তব্য ছিল, সকল বেদের প্রতিপাদ্ একমাত্র পব্রদ্ধ ; শ্রুতি- 
বাকোর মধো বিশেষ কয়েকটি নির্বাচন করে প্রাধান্য দিলে সেগুলির তাৎপর্ষের 
সঙ্গে শ্রতিবাক্যের সামগ্রিক তাৎ্পর্ষের অসংগতি ঘটতে পাবে। শ্রতিসাক্ষ্যের 
মধ্যে এই ম্ববিরোধ এড়াবার উদ্দেস্তে বামমোহন একাধিক স্থলে বলেছেন, 
শ্রুতিতে যেখানে আপাতবিচারে সগুণ বা! সাকার উপাসনার কথা বল! হয়েছে 
বলে ধারণা হয়, সেই সকল অংশ প্ররুতপক্ষে বহুদেবোপাসনাবাচক নয়; 
বন্ষের সর্ববাপিত্ব প্রতিপন্ন করবার উদ্দেশ্ত্েই সেখানে সীষিত বস্তকে ব্রহ্ম বলে 
বর্ণনা কর! হয়েছে; যেমন, “বেদের পুনঃ পুনঃ প্রতিজ্ঞার ত্বার! এবং বেদাস্ত- 
শাস্ত্রের বিবরণের ছারা এই প্রতিপন্ন হইয়াছে যে সকল বেদের প্রতিপাস্ 
সন্্রপ পরব্রদ্ধ হয়েন।'''য্দি বল বেদে কোন কোন স্থানে বূপগুণবিশিষ্ট দেবতার 
এবং মচষ্তের ব্রহ্ত্বপে বর্ণন করিয়াছেন অতএব তাহার] সাক্ষাৎ ব্রহ্মরূপে 
উপান্ত হয়েন ইহার উত্তর এই : অত্যন্প মনোযোগ করিলেই প্রতীতি হইবেক 
যে এমত কথনের ত্বারা ওই দেবতা কিন্বা মন্তষ্বের সাক্ষাৎ ব্রন্ষত্থ গ্রতিপন্ন হয় 
নাই, যেছেতু বেদেতে যেমন কোন কোন দেবতার এবং মলুম্বোর ত্রহ্ষত্বকথন 
দেখিতেছি সেইপ আকাশের এবং মনের এবং অন্নার্দির স্থানে স্থানে বেদে 
্রম্বত্বরূপে বর্ণন আছে; এ সকলকে ব্রক্ষকখনের তাৎপর্য বেদের এই হয় যে 
্রন্ধ সর্বময় হয়েন, তাহার অধ্যাস করিয়া সকলকে ত্রন্ষূপে স্বীকার করা যায়; 
পৃথক পৃথককে সাক্ষাৎ ত্রদ্ধ বর্ন কর! বেদের তাৎপর্য নহে এই মত সিদ্ধান্ত 
বেদ আপনি অনেক স্থানে করিয়াছেন-*..।”৪১ স্তরাং দেখা গেল শংকর যেমন 
উপনিষদ্-সমূছের একবাক্যতা :প্রতিপাদনকল্পে যুক্তিসহকারে প্রমাণ করবার 


১১৩ 


চেষ্টা করেছেন, উপনিষদ্সিদ্ধান্তমাত্রই অহ্ৈত ত্রন্ষতত্বের পরিপোষক, রামমোহনও 
অনুরূপভাবে স্থাপন কববার প্রয়াস পেয়েছেন শ্রুতিবাক্যের অস্তনিহিত তাৎপর্ধ 
সর্বত্র পরব্রদ্মের অখণ্ুত্ব ও সর্বব্যাপিত্ব স্বীকার | মুখ্যত প্রচলিত প্রতিমাপৃজার 
সমর্থকগণের সঙ্গে তাকে বিচারে প্রবৃত্ত হতে হয়েছিল বলেই তার উক্তিতে 
একতত্ববাদ অপেক্ষা! স্থানে স্থানে একেশ্বরবাদের উপর ঝৌঁক কিছু বেশি 
পড়েছে; কিন্তু মূলত তিনি যে একতত্ববাদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই এ সিদ্ধান্তে 
উপনীত হয়েছিলেন তার প্রমাণ “তাহার অধ্যাস করিয়া সকলকে ত্রন্ষরূপে 
স্বীকার করা যায়' তাঁর পূর্বোদ্ধত এই উক্তির মধ্যেই আছে। 

৪. রামমোহন-নির্দিষ্ট শান্ত্রবিচারের পরবর্তী স্ুত্রটি পুরাণতন্ত্রাদি বেদোত্বর- 
কালে রচিত গ্রন্থলমূহের প্রামাণ্যবিষয়ক | এই ক্ষেত্রে তিনি দেখিয়েছেন 
পুরাণ ও তন্ত্রের বিষয়বস্র মধ্যে ছুটি ভাগ আছে। এক অংশে এগুলিতে 
উপনিষদ্দের মতোই ব্রহ্ষকে এক ও অদ্বিতীয় বলে বর্ণনা করা হয়েছে; অন্থত্র 
অবশ্যই সাকার দেবতার ও সাকারোপাসনার স্থবিস্তীর্ণ বর্ণন৷ ও ব্যাখ্যা বর্তমান। 
কিন্তু এই সকল গ্রন্থেই আবার বার বার বলা হয়েছে যে দ্িতীয়োক্ত স্থূল বর্ণনা 
কেবল তাদেরই জন্য ধারা চিত্তের হূর্বলতাহেতু নিরাকার ও নিগুণ ব্রহ্ষের 
ধাবণা করতে অশক্ত। শ্রুতিবিরুদ্ধ না হলে তন্ত্রপুরাণের উক্ত প্রথম অংশ 
অবশ্ঠয মান্য ; এবং শান্ত্রবাক্যসমূহের সামঞ্রস্যরক্ষার জন্য মনে করতে হবে দ্বিতীয় 
অংশে প্রদত্ত সাকারোপাসনার বিধান কেবলমাত্র নিম্নাধিকারিগণের জন্ট | এ 
সম্পর্কে ঈশোপনিষদ' এর ভূমিকায় রামমোহনের উক্তি অতি স্পষ্ট: “যদি কহ 
পুরাণ এবং তন্ত্রাদি শান্ত্রেতে যে সকল দেবতাদির উপাসনা লিখিয়াছেন সে সকল 
কি অপ্রমাণ আর পুরাণ এবং অন্ত্রা্দি কি শান নহেন। তাহার উত্তর এই যে 
পুরাণ এবং অস্ত্রার্দি অবশ্ঠ শান্থ বটেন যেহেতু পুরাণ এবং তস্ত্রাদিতেও পরমাত্বাকে 
এক এবং বুদ্ধিমনের অগোচর করিয়া পুনঃ পুনঃ কহিয়াছেন ; তবে পুরাণেতে 
এবং অন্ত্াদিতে সাকার দেবতার বর্ণন এবং উপাপনার যে বাহুলামতে লিখিয়াছেন 
সে প্রত্যক্ষ বটে, কিন্তু এ পুরাণ এবং তন্ত্রাদি সেই সাকার বর্ণনের সিদ্ধান্ত 
আপনিই পুনঃ পুন: এইরূপে করিয়াছেন যে, যে বাকি ত্রহ্মবিষয়ের শ্রবণ 
মননেতে অশক্ত হইবেক সেই ব্যক্তি দুষ্র্মে প্রবৃত্ত না হইয়া রূপকল্পনা করিয়াও 
উপাসনার দ্বার] চিত্ত স্থির রাঁখিবেক ; পরমেশ্বরের উপাসনাতে যাহার অধিকার 
হয় কাল্পনিক উপাসনাতে তাহার প্রয়োজন নাই ৮." অতএব বোপুরাণতন্ত্রাদিতে 


১১১ 


যত যত রূপের কল্পনা! এবং উপাসনার বিধি দূর্বলাধিকারীর নিমিত্ব কহিয়াছেন 
তাহার মীমাংসা পরে এইরূপ শত শত বচনের দ্বারা আপনিই করিয়াছেন 1১৪২ 
স্থতরাং দেখ] যাচ্ছে শ্রতিসম্মত হলে পুরাঁণতস্ত্রের প্রামাণ্য মানতেও রামমোহনের 
আপত্তি ছিল না; অধিকন্ধ তিনি অধিকারিভেদের তত্বও স্বীকার কষেছেন। 
উক্ত দুই বিষয়েই তার দৃষ্টি ভারতবর্ষের পূর্বতন শ্ান্ত্ব্যাখ্যাতা আচার্ধগণেরই 
অন্বপ। কিন্ত শান্ত্রহিসাবে পুরাঁণতন্ত্রের উপর সম্পূর্ণ নির্ভর করাতে বিপ্ 
আছে। অপেক্ষাকৃত আধুনিককালে বিশেষ উদ্দোশ্তে রচিত অনেকা গ্রন্থ পুরাঁণ 
ও অস্ত্রের ছাপ নিয়ে এ ছুই শাস্ত্রের অন্তভূর্তি হয়ে গিয়েছে। নির্ভরযোগ্য 
প্রাচীন শান্ত থেকে এই প্রামাণ্যবিহীন অর্বাচীন গ্রস্থসমূহকে পৃথক করবার 
উপায় কি? বামমোহনের প্রখর ও সতকর্ণ মনীষা! সেই নিমিত্ত কোনও 
পুরাণ ব! তন্্গ্রন্থের প্রামাণ্যবিচারের যে ছুটি মানদণ্ড নির্ণয় করেছিল তা এই : 
১. গ্রন্থের প্রাচীনতা ও প্রামাণ্যের প্রথম লক্ষণ, তার টীক। থাকবে ; ২ দ্বিতীয় 
লক্ষণ, তার বচন নিবন্ধাদি সংগ্রহগ্রস্থে গ্রমাণরূপে উদ্ধৃত থাকবে । তার উক্তি 
অনুসারে : “.*-ইহা বিশেষরূপে জান কর্তব্য যে অন্ত্রশান্ত্রের অস্ত নাই; সেইরূপ 
মহাপুরাঁণ, পুরাণ ও উপপুরাণ এবং রামায়ণাদি গ্রন্থ অতি বিস্তার; এ নিমিত্ত 
শিষ্টপরম্পর। নিয়ম এই যে, যে পুবাণ ও তন্ত্রাদির টীকা আছে ও যেষে 
পুরাণাদির বচন মহাজনাদির ধৃত হয় তাহারি প্রামাণ্য ; অন্যথা পুরাণের অথবা 
তন্ত্রের নাম করিয়া বচন কহিলে প্রামাণ্য হয় এমৎ্ড নছে ; অনেক পুরাণ ও 
তন্ত্রাদি যাহার টাক] নাই ও সংগ্রহকারের ধৃত নহে তাহা আধুনিক হুইবার 
সম্ভাবনা আছে; কোনে! কোনে! পুরাণতন্ত্রার্দি একদেশে চলিত আছে অন্য 
দেশীয়রা তাহাকে কাল্পনিক কহেন, বরঞ্চ একদেশেই কতক লোক কাহাকে মান্য 
করেন কতক লোক নবীনকৃত জানিয়া অমান্য করেন। অতএব নটাক কিন্বা 
মহাজনধৃত পুরাণতন্ত্রাদির বচন মান্য হয়েন ।”৪৬ যে গ্রন্থের গীক1 বচিত হয়েছে 
অথবা স্বতিকারগণ যার বচনকে প্রমাণস্বরূপ উদ্ধৃত করেছেন তার গুরুত্ব ও 
প্রামাণা এ টীকা বা উদ্ধৃতির মাধামে তক্ণাতীতরূপেই বিদ্সমাঁজে শ্বীকৃত 
হয়েছে-এ কথাই এখানে রামমোহনের বলবার উদ্দেশ্ত। শান্তরপ্রামাণ্য 
-বিচারের এই মানদণ্ড আধুনিক বিচাঁরশীল মনের স্থৃটি। শাস্ত্রের প্রতি অসীম 
শ্রদ্ধা সত্বেও শান্গ্রস্থ নির্বাচনে রামমোহন কী পরিমাণ স্বচ্ছ ও সংস্কারমুক্ত 
দব্টঘ অধিকারী ছিলেন টার এই আধুনিক পদ্ধতির প্রয়োগই এর 


১১৭ 


প্রমাণ। এই সতকর্তা পূর্বতন আচার্গণের সকলের মধো সর্বদা লক্ষা করা 
যায় লা 

৫. রামমোহন শান্্বিচারের অপর এক স্যত্ররপে ক্বীকার করেছেন, 
স্বৃতিসমূহের মধ্যে মনুম্থৃতিব প্রামাণ্যই সর্বাধিক কেনন! মনু বেদার্থের সংগ্রহকর্ত1। 
এই প্রসঙ্গে ব্রহ্মনিষ্ঠ গৃহস্থের লক্ষণ" শীর্ষক পুস্তিকায় তিনি বলেন : “বেদঘ্বেষকাৰি 
জৈন ও যবনাদির আক্রমণ প্রযুক্ত ভারতবর্ষে নান! শাখাবিশিষ্ট বেদের সমূদায় 
প্রাঞ্ধি হইতেছে না, কিন্তু এই দৌর্ভাগা প্রশমনার্থ বেদ স্বয়ং কহিয়াছেন যে-য্ছৈ 
কিঞ্চিন্মরবদত্তদ্বে ভেষজং- “যাহা! কিছু মন কহিলেন তাহাই পথা হয়', অর্থাৎ, 
কর্নকাও ও ব্রহ্মকাণ্ড উভয় প্রকার বেদার্থ মন্চগ্রস্থে প্রাঞ্চ হইয়াছে. তদন্গসারে 
অনষ্ঠানে বেদবিহিত অনুষ্ঠানের সিদ্ধি হয় 1৮৪৭ অন্যত্রও এ বিষয়ে ত্তার উক্তি 
অতি স্পট : “বেদার্থবিবরণকর্তা যত মুনি তাহাদের মধো ভগবান মন সকলের 
প্রধান ; ত্বাহার বাক্যের বিপরীত যে সকল বাক্য তাহা অপ্রমাণ হয়, যেহেতু 
বৃহস্পতি কহেন £ “মন্বর্থ-বিপরীতা যা সা স্থৃতি্নপ্রশশ্ততে” মন্ধ অর্থের বিপরীত 
যে খষিবাক্য তাহ] মান্য নহে -- 1১8« মন্গম্থতিকে এই বিশেষ মর্ধাদা-প্রদনের 
বাপারেও রামমোহন সাধারণভাবে পূর্বতন আচার্যদেরই অঙ্গামী ছিলেন। 

পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে রামমোহন শান্ত্প্রমাণের সঙ্গে সতাস্থাপনের আর 
দুটি ঘে উপায় স্বীকার করেছেন তা হল যুক্তি (68507) ও সহন্জ বুদ্ধি 
(০012170017 58188) | এ ক্ষেত্রে সবত্র তিনি প্রাচীন বৈদাস্তিক আচার্গণ- 
অবলম্বিত পরিভাষ| বাবহার করেন নি। শংকর, রামাঙজ, মধ্ব, নিশ্বাক প্রভৃতি 
ভাস্তকারগণ সিদ্ধান্তে পরস্পরবিবোধী হলেও তারা মূলত যে প্রমাণগুলির উপর 
নির্ভর করেছিলেন সেগুলি ছিল প্রতাক্ষ, অনুমান ও শ্রুতি ।৪» এর মধো 
শ্রুতিপ্রমাণের স্থান সর্বোচ্চ । শংকর ম্প্টই বলেছেন, শ্রুতিসাক্ষাই ব্রন্ষের 
অস্তিত্বের একমাত্র প্রমাণ, তর্ক বা অপর কিছু নয়।*' তথাপি উক্ত আচার্ধগণ 
যুক্তিতর্কের বিশেষ প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করেন নি। তাদের দৃষ্টিতে সমস্ত 
প্রমাণই তর্কসাহায্যনির্ভর । অবশ এ ক্ষেত্রে শ্রুতির বৈশিষ্ট্য আছে; শ্রুতি 
ক্বত:প্রমাণ; সুতরাং যুক্তিতক হবে শ্রুতির অধীন। শ্রাতর পক্ষে যুক্তির 
সাহায্য সর্বদা একান্ত প্রয়োজন, কিন্তু যুক্তি কখনও শ্রতিকে অতিক্রম করতে 
পারবে না; শ্রুতির সহায়করূপে শ্রুতির অধীন থেকে তাকে চলতে হবে। 
রামানজের মতে সকল প্রমাণের পক্ষেই তর্কের সাহায্য আবশ্থক) যদিও শ্রারতি 


৮ ১১৩) 


প্রমাণ পর কোনও কিছুর উপর নির্ভরশীল নয় এবং এর বিষয়বস্ত ইন্্িয়জগতের 
অতীত, তথাপি এর পক্ষে সর্বদা তর্কের সাহায্যের বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে ।৫৮ 
দ্বেখা যাচ্ছে, আচার্ধগণ প্রমাণ ও তর্কের ঘনিষ্ঠ সন্ন্ধ স্বীকার করলেও, শ্বতত্ত্রভাবে 
এদের বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ; শ্রুতিপ্রমাণকে শ্রেষ্ঠ ও স্বতঃসিদ্ধ গণা 
করেছেন ; এবং তর্ককে পেণাঁলীহিসাবে সবকটি প্রমাণের একাস্ত লহায়ক বলে 
নির্দিষ্ট করবার সঙ্গে সঙ্গে তাকে শ্রুতির অধীনরূপে সীমিত করতেও দ্বিধা 
করেন নি। বেদাস্-সম্পকিত রামমোহনের রচনাবলী বিশ্লেষণ করলে দেখা 
যায়, তিনিও প্রাচীন আচার্ধগণের মতো শ্রুতি ভিন্ন প্রত্যক্ষ ও অন্ুমানকে দুটি 
অতিরিক্ত প্রমাণস্বরপ উল্লেখ করেছেন |» কিন্তু উক্ত প্রমাণছয় সম্পর্কে 
কোথাও তিনি হ্গতন্থ ও বিস্তাবিত আলোচনার মধো যান নি। অপর পক্ষে 
সতাস্াপনে যুক্তিতর্কের আবশ্যিকতা৷ সম্পর্কে তিনি যথেষ্ট অবহিত ছিলেন । এই 
শেষোক্ত ক্ষেত্রে দেখা যায় শান্ত্রবিচারে যুক্তিতকের অবতারণ] ও জীবনের নান! 
লৌকিক সমস্তার সমাধানকল্পে সমগ্রভাবে যুক্তির প্রয়েগ-_-এই ছুইয়ের মধ্যে 
রামমোহন স্পষ্টত প্রভেদ করেছেন। প্রাচীন আচার্গণের মতোই তিনি মানতেন 
আধ্যাত্মিক জীবনে অগ্নভূতি ও অভিজ্ঞতার মুল্যই দর্বাধিক; শ্রুতি সেই 
অভিজ্ঞতার আধার হিসাবে সর্বাগ্রে ও সর্বতোভাবে গ্রাহা ; স্থৃতরাং ব্রহ্মপ্রতিপাস্ঠ 
তর্কের ঘাবহার সেখানে স্বভাবত হবে সীমিত ও শ্রুতির অনুগত । স্বরচিত বেদাস্ত- 
ভাঙ্কে তিনি এই হেতু বলেছেন £ “তর্ক কেবল বুদ্ধিসাধা এই হেতু তাহার প্রতিষ্ঠা 
নাই; অর্থাৎ স্থ্র্ধ নাই ; অতএব তর্কে বেদের বাধা! জন্মাইতে পারে নাই ; যদি 
তর্ককে স্থির কহ তবে শাস্ত্রের সমন্থয়ের বিরোধ হইবেক." অতএব কোন তকের 
প্রামাণ্য নাই ।”ৎ অন্যত্র এ বিষয়ে তার উক্তি: “যেখানে যেখানে তকে 
নিষেধ আছে সে বেদবিরুদ্ধ তক জানিবে; কিন্তু বেদসম্মত তকের ছ্বাবা 
বেদার্থের সর্বথা নির্ণয় কর] কর্তব্য". 1৫১ কিন্তু এ তো গেল আধ্যাত্মিক 
রাজের কথা যেখানে অতীন্দ্িয় অনথভূতিই জিজ্ঞান্থ মানুষের আরোহণের শেষ 
ভূমি। লৌকিক জীবনের শিক্ষা, সমাজ, অর্থনীতি, রাজনীতি প্রভৃতি সম্পর্কিত 
ছুরূছ সমশ্যাসমূহের বিচার-বিশ্লেষণেরও কি একই মানদণ্ড? সেখানেও কি 
শ্রুতিপ্রমাণকে সবাগ্রে স্থাপন করে যুক্তিকে তার পশ্চাদনুসরণ করানোই হুবে 
বিধি? এই প্রশ্নে রামমোহনের সঙ্গে পূর্বতন ভারতীয় আচার্ধগণের দৃষ্টিভঙ্গির 
মৌলিক পার্থক্য ছিল। শংকর; রামানুজ, মধব, নিশ্বাক্ প্রভৃতি বৈদাস্তিকগণের 


১১১৪ 


জগৎ ছিল সম্পূর্ণরূপে আধ্যাত্মিক জগৎ। মানুষের ব্রহ্মজিজ্ঞাসা ভিন্ন অন্য কোনও 
জিজ্ঞাসার উত্তর তারা অন্বেষণ করেন নি। অপর পক্ষে রামমোহনের মানম ছিল 
নবযুগের নূতন পাশ্চাতা জ্ঞানবিজ্ঞানের আলোকন্বাত; তার জীবন-জিজ্ঞাসা ছিল 
প্রাচীন আচার্ধগণের ব্রন্মজিজ্ঞাসা অপেক্ষা শতগুণে ব্যাপকতর-_-যার মধো তিনি 
মান্তষের আধাত্মিক মুক্তি ও ইহলৌকিক কল্যাণকে তুল্য মর্যাদা দিয়েছিলেন । 
এ হুল রেনেশাস বা নবজাগরণের মন্ত্রে দীক্ষিত আধুনিক যুগোপযোগী জীবনাদশ, 
মধ্যযুগের ভারতবর্ধীয় বেদাস্তাচার্াগণের কল্পনায় যা আসে নি। সেই কারণে 
তিনি শেষোক্তগণের নিকট হতে উত্তরাধিকাবথত্রে প্রাপ্ত ব্রক্ষবিষ্ঠার উপযোগী 
অন্রঙন্ধানপ্রণালী লৌকিক জীবনের ক্ষেত্রে কখনও প্রয়োগ করেন নি। 
সমাজ, রাষ্ট্র, শিক্ষা, অর্থনীতি প্রভৃতির সহিত জড়িত' সমশ্তাগুলির বিশ্লেষণ ও 
সমাধানের প্রসঙ্গে তাকে কোথাও শান্ত্প্রমাণের দোহাই দিতে দেখা যায় না। 
এখানে তিনি পরিপূর্ণ যুক্তিবাদী | এই যুক্তিবাদে তীর প্রথম দীক্ষা ইসলামের 
মৃতাজিল সম্প্রদায়ের শান্তর থেকে। উত্তরকালে এই মনোভাব পুষ্ট ও 
সম্প্রসারিত হয়েছিল পাশ্চাতা জ্ঞানবিজ্ঞানের সংস্পর্শে। আধাত্মিক ও 
লৌকিক জীবন ত্বার নিকট ছিল ছুই স্বতন্ত্র অনুসন্ধানের ক্ষেত্র। অবস্ঠ যৌবনে 
রচিত “তুহ ফাৎ-উল-মুওয়াহিদিন্‌' গ্রন্থে তিনি যুক্তিবাঁদের প্রয়োগকালে এই 
দুইয়ের মধো সীমারেখা টানেন নি-_-নিবিচারে শান্তপ্রমাণকে অস্বীকার 
করে নিছক যুক্তির সাহায্যে জীবনের আধ্যাত্মিক ও লৌকিক উভয় দিকেরই 
বিচার করেছিলেন । পববর্তা জীবনের আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা ও অনুভবের 
বৈশিষ্টা স্বীকার করে তিনি এ বিষয়ে শান্তপ্রমাণকে প্রধান ও যুক্তিকে তার 
সহায়ক গণ্য করেন? কিস্তু লৌকিক জীবন ও জগৎ সম্পর্কে পূর্বের ন্যায়ই 
যুক্তির সার্বভৌমত্বে তাঁর আস্থা অটুট ছিল। সেখানে শান্বপ্রমাণের কোনও 
স্থান ছিল না। আধ্াত্মিক ও লৌকিক জিজ্ঞাসাহয়ের প্ররূতিগত প্রতেদ ও 
উভযক্ষেত্রে অনুসরণীয় প্রণালীহয়ের স্বাতন্থ্য সম্পর্কে তার এই সচেতন 
মনোভাবের উৎস নি:সন্দেহে তীর স্বীকৃত তৃতীয় উপায়-_যাকে তিনি নাম 
দিয়েছিলেন “সহজ বুদ্ধি' বা ০970007, 8611861 একে স্বতন্ত্র গ্রমাণ বা 
তর্ককৌশল হিসাবে পূর্ববর্তী ভান্তকারের! কোনও স্থান দেন নি। এর স্থীুতি 
ামমোহনের আধুনিক যুগোপযোগী পরিপূর্ণ জীবনজিজ্ঞাদার অন্ততম বৈশিষ্টয। 
নবস্ত একথা সম্পূর্ণ স্বীকার করে নিয়েও এখানে শংকরের একটি তাৎপর্বপূরণ 


১১৫ 


উক্তির প্রতি দৃষ্টি মাকর্ষণ কর] যেতে পারে। বৃহদারণ্যকোপনিষদ্-ভাস্ের 
ভূমিকায় তিনি বলেছেন, যা দুষ্ট বিষয়, অর্থাৎ ইহলোকে ইষ্টপ্রার্থি ও অনিষ্ট 
পরিহারের উপায়, তা প্রতাক্ষ ও অনুমান প্রমাণ প্রয়োগের দ্বারাই জান যেতে 
পাবে; তার জন্য শ্রতিপ্রমাণ অন্বেষণ করবার প্রয়োজন নেই (দৃষ্টবিষয়ে 
চ ইষ্টানিষ্টপ্রার্ধিপরিহারোপ্রায়জ্ঞানন্ত প্রত্যক্ষান্গমানাভ্যামেব সিচ্ধত্বাৎ ন 
আগমান্বেষণ1 )।৫১ক রামমোহন যেখানে ব্ক্তিগত ও সামাজিক স্তরের 
ব্যাবহারিক জীবনে শান্ত্প্রমাণকে সম্পূর্ণ পরিহার করে যুক্তিকে আশ্রয় 
করেছেন সেখানে শংকরের এই উক্তিটি যে তার মনকে একেবারেই স্পর্শ 
করেনি তা জোর করে বলা যায় না। | 

মুখাত যে গ্রন্থগুলি অবলম্ধন করে রামমোহন বৈদাস্তিক ততবব্যাখ্যায় প্রবৃত্ত 
হয়েছিলেন_-তা হুল পাঁচখানি উপনিষদের ভূমিকাসহ অন্গবাদ ; ত্রন্ধসুত্রের 
“বেদাস্তগ্রন্থ'শীষফক ভাস্ত ও “বেদাস্তসার' নামধেয় তার সংক্ষিপ্ত সংস্করণ; ও 
ভগবদ্গীতার ছন্দোবদ্ধ বঙ্গান্বাদ। এর মধ্যে গীতার অন্বাদখানি পাওয়া যায় 
নি। সুতরাং তত্বব্যাখ্যাতারূপে রামমোহনের মূল্যায়ন তার ব্রহ্ষন্থত্রভান্য ও 
অনূদিত উপনিষদ্গুলির সাহায্যেই করতে হবে; অবশ্য প্রতিপক্ষগণের সঙ্গে 
বিচারমূলক তার গ্রন্থগুলি থেকেও এ বিষয়ে সাহায্য পাওয়। যাবে। পূর্বেই 
নানা সাক্ষাপ্রমাণের সাহায্যে দেখানে। হয়েছে যে উনবিংশ শতকের 
দ্বিতীয় দশকে রামমোহন যখন ব্দোস্তের ব্যাখ্যা ও প্রচারে প্রবৃত্ত হন তখন 
বঙ্গীয় পণ্ডিতসমাজে বেদাস্তের পঠন-পাঠন সম্পূর্ন অজ্ঞাত না হলেও তার ধার! 
ছিল আত ক্ষীণ। প্রকাশ্ত বেদাস্ত আলোচনায় বা বাংল! ভাষায় এ সম্পর্কে 
রচন। প্রকাশে, পণ্ডিতগণের মধ্যে অত্যক্পসংখাক ধারা উক্ত শাস্ত্রের সঙ্গে 
পরিচিতও ছিলেন-তারাও ছিলেন ম্পষ্টত অনিচ্ছুক । এ বিষয়ে ইউরোপীয় 
প্রাচাবিদ্মহলেও তখন পর্যস্ত ব্যাপক উদ্যম দেখা! যায় না। উপনিষদ্‌কে 
বেদাস্তশান্ত্রের শ্রুতিপ্রস্থান বলা হয়। বাষমোহন কর্তৃক বাংলা ও ইংরেজি 
ভাষায় উপনিষদের অন্বাদ ও ব্যাখ্যা প্রকাশিত হবার পূর্বে--অষ্টাদশ শতকের 
শেষ দশকে-_সার উইলিয়ম জোন্স ঈশোপনিবদের একখানি ইংরেজি অনুবাদ 
প্রকাশ করেছিলেন ।*২ এর কিছুকাল পরে ১৮০৫ গ্রীষ্টাবধে হেনরী টমাস 
কোলক্রক এঁতবেয় উপনিষদের এক ইংরেজি অনুবাদ “এদিয়াটিক রিসার্চেদ্‌; 
অষ্টম খণ্ডে প্রকাশিত “বেদ” সম্পকিত তার বিখ্যাত নিবন্ধের অস্তভুক্ত 


১১৬ 


করেন ।*২ক পরধৎদর ( ১৮*৬) শ্রীরামপুর ব্যাপটিস্ট মিশনের পাদ্রী ও 
ফে!্ট উইলিয়ম কলেজের অধ্যাপক উইলিয়ম কেরী তাঁর ইংরেজিতে রচিত 
সংস্কৃত ভাষার ব্যাকত্বণে সংস্কৃত পদবিন্যাসপ্রকরণের অন্যতম দৃষ্টাস্তস্বরূপ ইংরেজি 
অন্থবাদসহ ঈশোপনিষদ্খানি মুত্রিত করেন।৫৩ ুখানি মান্র উপনিষদূকে 
অবলম্বন করে এই ছু'একটি বিচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা ব্যতিরেকে বামমোহনের পূর্বে এ 
দেশে উপনিষদ্‌ প্রচারের অপর কোনও উল্লেখযোগা নিদর্শন পাওয়া যায় না। 
এ কথাও ম্মরণীয় জোন্স বা কেরী উপনিষদ্তত্বের কোনও ব্যাথা বা আধুনিক 
যুগপরিপ্রেক্ষিতে শপনিধদ্‌ ব্রহ্মবাদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে কোনও আলোচন] তাদের 
অন্বাদের সঙ্গে যোগ করেন নি। ভারতে উপনিষদ্চর্চার যে ধারা শংকর 
প্রমুখ বিভিন্ন ভাস্যকারগণের মাধামে আধুনিক কাল পর্যস্ত প্রবাহিত তার সঙ্গেও 
এদের পরিচয়ের কোনও প্রমাণ নেই । কোনও ভাষ্বেরই তীরা উল্লেখ কষেন 
নি। অন্য পক্ষে রামমোহনের উদ্দেশ্ট ছিল উপনিষদ-প্রোক্ত ব্রন্মবাদকে জাতীয় 
জীবনে প্রতিষ্ঠিত করে তার প্রভাবে জাতির পুনকুজ্জীবন ও পুনর্গঠন সাধন। 
ঈশোপনিষৎএর বঙ্গান্গবাদের মুখবন্ধে তিনি ম্পষ্ট বলেছেন : “এই সকল 
উপনিষদ্‌কে শ্রবণ এবং পাঠ করিয়া তাহার অর্থকে পুনঃ পুনঃ চিন্তন করিলে 
ইহার তীশ্পর্য বোধ হয়। কেবল ইতিহাসের ন্যায় পাঠ করিলে বিশেষ 
অর্থবোধ হইতে পারে না; অতএব নিবেদন ইহার অর্থে যথার্থ মনোযোগ 
করিবেন ।”'* মনন ও নির্দিধাঁসন ছাড়া শান্্রপাঠ যে সম্পূর্ণ হয় নাঁ_ 
এই উক্তিতে চিরন্তন সেই ভারতীয় মনোভাবই প্রতিফলিত। বেদাস্তের 
্বৃতিপ্রস্থানরূপে পরিচিত ভগবদ্গীতা বামমোহনের কালে উপনিষদ্‌ অপেক্ষা 
কিছু অধিক পরিমাণে অঙন্গবীলিত হুত যদিও টোল চতুষ্পাীতে প্রচলিত 
বেদান্তের পাঠক্রমে যে এর বিশেষ কোনও স্থান ছিল না তা আমরা 
পূর্বে দেখেছি। পাশ্চাত্য প্রাচ্যবিদ্গণের মধ্যে চার্শস উইলকিন্দ ১৭৮৫ 
শরষ্টাব্দে গীতার ইংরেজি অন্থবাদ প্রকাশ করেছিলেন । ত৷ ছাড়া রামমোহনের 
উক্তি থেকেই জানা যায়, তার সময়ে তার নিজের অধুনালুপ্ত অন্থবাদ 
ভিন্ন এর কয়েকটি বাংল! ও হিন্দস্থানী অন্থ্বাদ প্রচলিত ছিল।* কিন্ত 
আধুনিক যুগে ব্রহ্মবাদের স্থাপনে ও সামাজিক প্রশ্রের বিচারে বেদাস্তের অঙ্গরূপে 
রামমোহন তার অন্যান্ত বিচাবগ্রন্থসমহে গীতার তত্ব ঘে ভাবে প্রয়োগ করেছেন 
সে প্রণালী এক দিকে পূর্ববর্তী শংকর বামান্থুজ প্রভৃতি বিখ্যাত আচার্যগণকে 


১১৭ 


ও অন্য দিকে বঙ্কিমচন্দ্র, অরবিন্দ, টিলক প্রভৃতি উত্তরকালীন মনন্বী গীতাভাস্ত- 
কারগণকে ম্মরণ করিয়ে দেয়। বাদরায়ণ-রচিত ব্রহ্ষস্থত্র বেদাস্তশান্ত্ের 
্যায়প্রস্বানরূপে প্রসিদ্ধ। আধুনিক কালে ভারতবর্মে রামমোহনই ব্রহ্ষস্থত্রের 
প্রথম ভাষ্রকার। তার পর্বে প্রাচীন ধারায় ব্রন্ধস্থত্রের শেষ ভাষা রচিত হয় 
অষ্টাদশ শতাব্দীতে ওড়িশাবাসী গৌড়ীয় বৈধণব-সম্প্রদায়ভুক্ত পণ্ডিত বলদেৰ 
বিদ্যাডৃষণ কর্তৃক। কিন্তু দৃষ্টিভঙ্গি বা সিদ্ধান্তের দিক থেকে বলদেব ছিলেন 
সম্পূর্ণ মধাঘুগীয়_ তার সঙ্গে রামমোহনের দূরতম সাদৃশ্যও ছিল না। পাশ্চাত্য 
পণ্ডিতগণ সভাস্ ত্রহ্গস্থত্রের বিস্তারিত আলোচন! আরম্ভ করেন বামমোহনের 
অনেক পরে। বস্তত সব দ্দিক বিচার কবলে স্বীকার করতে হয় বেদাস্ত অধায়ন 
ও এর তবব্যাখার পথে রামমোহনকে পর্বতপ্রমাণ বাধা অতিক্রম করে প্রায় 
একক গ্রচেষ্টায় অগ্রসর হতে হয়েছিল। দেশীয় বা পাশ্চাত্য পণ্ডিতসমাজে 
তখন পর্যন্ত প্রকাশ্য বেদাস্তচর্চার এক স্বাভাবিক পরিমগ্ডল স্থ্টি হয় নি। স্থতরাং 
সহায়ক পরিপ্রেক্ষিত বিদ্কমান থাকলে এই ক্ষেত্রে তার অধ্যয়ন, অঙ্ুশীলন, 
মনন, চিন্তন ও প্রচার যত স্বচ্ছন্দ হতে পারত, তা হয় নি। এই কারণেই 
বেদাস্তশাস্ত্রে যে স্ুবিস্তীর্ণ অধায়ন, অনায়াস অধিকার ও গভীর অস্তর্ষ্টির পরিচয় 
তার গ্রন্থ গুলিতে পাওয়া যায় তা অতি বিশ্ময়কর মনে হয় । 

' পূর্বে বল! হয়েছে বেদাস্তের যুগোপযোগী নৃতন ব্যাখা! দেবার প্রয়োজন 
অতি গভীরভাবে অন্ভৰ করলেও রামমোহন এই ব্যাখ্যার যে পদ্ধতি অবলম্বন 
করেছিলেন তা সম্পূর্ণভাবে বেদান্তের প্রাক্তন আচার্ধগণের নির্দিষ্ট পদ্ধতির 
অন্ুসাধী । শেষোক্তগণের মধ্যে শংকরের প্রভাবই তাঁর উপর সর্বাধিক । 
কি উপনিষদের অন্থবাদে, কি ব্র্স্ত্রভাস্তে তিনি অতিশয় নিষ্ঠার সঙ্গে শংকরের 
বাথাকে অন্থুমরণ করেছেন, যদিও শংকরের সঙ্গে কোনও কোনও বিষয়ে তার 
দৃষ্টিভঙ্গির মৌলিক পার্থকাও লক্ষণীয় । ব্রদ্বনুত্রতাস্তের ও কেন, কঠ ও মাওঁকা 
উপনিষদের বঙ্গান্থবাদের ভূমিকায় তাঁকে গভীর শ্রদ্ধার সহিত শংকরের 
শামোল্পেখ করতে দেখা যায়।** এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করা৷ আবশ্যক রামমোহন 
ব্রহ্ম যে পাঠ গ্রহণ করেছেন তার সঙ্গে শংকর-অবলঘ্িত পাঠের ঈষৎ 
প্রভেদ লক্ষিত হয়। ব্রহ্ধস্থত্রের অন্তর্গত স্ুত্রগুলির সংখ্য। সম্পর্কে ভাস্তকারগণ 
অবস্ত একমত নন। প্রচলিত ধারণ! অন্্যায়ী এই সুত্রনংখা। পাঁচশ পঞ্জাশ। 
রামম়োহছনণও সে কথা জানতেন, এবং অন্তত তিন স্থানে এই প্রথাগত ধারণাৰ 


1৯১৮ 


উল্লেখ করেছেন ।** কিন্তু কাত ভাম্তরচনাকালে তিনি স্ম্্রংখা। ধবেছেন 
পাঁচশ আটাল্ন। এতে অবশ্য আশ্চর্য হবার কিছু নেই, কেননা এক নিম্বার্ক 
ভিন্ন কোনও ভাস্তকারই স্থত্রের সংখ্যা পাঁচশ পঞ্চাশ ধরেন নি, কেউ নিয়েছেন 
বেশি, কেউ কম।ধ৮ শংকরের হিসাবে স্ুত্রসংখা!। পাচশ পঞ্চান্ন। 
ভা্কারগণের মধ্যে এই পাঠভেদ অবশ্ঠ খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়। কখনও 
দেখা যায় কোনও ভাম্তকার একটি শ্থত্রকে ছুই ভাগে বিভক্ত করে দুটি পক 
সৃত্র হিসাবে গ্রহণ করেছেন; কোথাও বা! একটি বিশেষ স্জ্মের শেষ শব্দটি 
পরবর্তী স্থত্রের প্রথমে যুক্ত হওয়ায় ছুটি স্বত্রের পাঠই ঈষৎ পরিবর্তিত হয়েছে। 
এতে মাঝে মাঝে ভাষ্তকারগণের মধ নিজ নিজ মতান্ছ্যায়ী বাখার তারতমাও 
ঘটেছে । শংকর তার ভাষ্যে সম্ভবত এই কথা মনে বেখেই বলেছেন, 

এক ভাব্যকারের মতে যেটি দিদ্ধাস্ত, অপরগণের মতে সেইটিই পূর্বপক্ষ ।4৯ 

্রহ্ষস্থত্রের শংকর-অবলগ্থিত পাঠের সঙ্গে রামমোহন-গৃহীত পাঠের পার্থকা 

নিয়রূপ £ 

১. রামমোহন-ভাম্য : ২ ৩. ১৯: 'যুক্কেশ্ট? ; শাংকব-ভাস্ে এই সুত্র নেই। 

২, শাংকর-ভাষ্য : ২. ৪ ৩: “তৎ প্রাক শ্রুতেশ্ট ; রামমোহন-ভাষ্যে এই স্ুত্ 
নেই। 

৩. বামমোহন-ভাষা : ৩. ২ ২৫: প্রিকাশাদিবচ্চাবৈশেষাম্? ; ৩. ২. ২৬ : 
প্রকাঁশশ্চ কর্মণযভ্যাসাৎ” ; শাংকর-ভাষা : ৩. ২. ২৫এ দুটি স্থত্রকে একক 
করে একটি সুত্র হিসাবে প্রহণ করা হয়েছে : (প্রকাশাদিবচ্চাবৈশেষাং 
প্রকাশশ্চ কর্মণাভ্যাপাৎ” ; সুতরাং রামমোহনের তৃতীয় অধায়ের দ্বিতীয় 
পাদের ২৬ সংখ্যক স্ুত্রটি অতিরিক্ত দাঁড়াচ্ছে। এ স্থলে উল্লেখযোগ্য 
দ্বৈতবাঁদী আচার্য মধ্ব ও গৌড়ীয় বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের ভাষ্যকার বলদেৰ 
বিষ্ভাভূষণকেও ৩. ২. ২৫ সংখ্াক ুত্রটিকে অন্ুক্নপ ভাবে দ্বিধাবিভক্ত করতে 
দেখা যাঁয়। রামমোহন এই পাঠ অন্গসরণ করেছিলেন । 

৪. বামমোহন-ভাষা £ ৩. ২, ৪৩. 'মায়িকত্বাত্ত ন বৈষমাং' ; শাংকর-ভাষো 
এই স্থত্র নেই। 

৫. রামমোহন-ভাষা : ৩, ৩, ৩ : হিরন 
৩. ৩. ৪ : *শরবচ্চ তক্নিয্মঃ ॥ সলিলবচ্চ তঙ্গিয়ম£ ; শাংকর-ভাষ্যে তৃতীয় 
অধ্যায়ের তৃতীয় পাঁদের রামমোহন-প্রদত্ত চতুর্থ সুত্র ন্বতন্থভাবে ধরা হয় 


১১৬ 


নি। শংকর এই পাদের তৃতীয় স্ত্রের যে পাঠ দিয়েছেন তা এই : 


“স্বাধ্ায়শ্ত তথাহেন হি সমাচারেহধিকারাচ্চ সববচ্চ তন্নিয়ম: | এই স্কত্রটির 


১২৬ 


পাঠ সম্পর্কে ভাষ্যকারগণের মধো কিছুট] পার্থক্য দেখা যায় । বামানুজধূত 
পাঠ শংকরের সঙ্গে মেলে। অপর পক্ষে ভেদাভেদবাদী ভাষাকার ভাস্কর 
“সববচ্চ তনিয়মঃ' অংশের স্থলে পড়েছেন “সলিলবচ্চ তন্নিয়ম: | দ্বৈতবাদী 
অর্ধ “সলিলবচ্চ ভঙ্গিয়ম:, অংশটিকে তৃতীয় অধ্যায়ের তৃতীয় পাদের চতুর্থ 
সত্রূপে উল্লেখ করেছেন। স্পষ্ট বোঝা যায় “সলিলবচ্চ তন্গিয়মঃ' এই 
পাঠাস্তরের এতিহ্ যথেষ্ট প্রাচীন । অচিস্ত্য-ভেদাভেদবাদী বলদেৰ 
বিষ্যাভূষণ শংকর অবলদ্িত ৩. ৩ ৩. সংখাক স্থত্রটিকে বিভক্ত করে দুটি 
স্থত্রে পরিণত করেছেন যথা : স্বাধ্যায়ন্ত তথাত্বেন হি সমাচারেইধিকারাচ্চ' 
(৩. ৩. ৩.) পববচ্চ তত্লিয়মঃ (৩.৩ ৪.) যাঁর সঙ্গে রামমোহনকূত 
উক্ত স্ুত্রবিভাগের সাদৃশ্ঠ পাওয়া যাচ্ছে। এই প্রসঙ্গে রামমোহন অবলম্গিত 
পাঠ বিচার করলে দেখা যায় তিনি শংকর প্রদত্ত স্থত্রটিকে ' ৩. ৩. ৩) 
দ্বিখণ্ডিত করে তার শেষাংশ ( শরবচ্চ তন্লিয়ম: ) পরবর্তী চতুর্থ স্থত্রের সঙ্গে 
যুক্ত করেছেন এবং চতুর্থ স্তরের শেষাংশরূপে গ্রহণ করেছেন ভাস্কর ও 
মধ্ৰ প্রদত্ত অপর একটি স্থত্র বা স্থত্রাংশ (সলিলবচ্চ তন্লিয়ম: )। সুতরাং 
তার ভাষ্যে সমগ্রটি একটি অতিরিক্ত সুত্র হিসাবে সংযোজিত হয়েছে । 
এখানে উল্লেখ করতে হয়, রামমোহন-ভাষ্যে তৃতীয় অধ্যায়ের তৃতীয় পাদের 
চতুর্থ স্থত্রের প্রথমাংশ রূপে তার গ্রস্থাবলীর বঙ্গীয়-সাহিত্য-পবিষৎ সংস্করণে 
যা মুদ্রিত হয়েছে তা ম্পষ্টত মূদ্রণ-প্রমাদ। অংশটির প্রত পাঠ 'শরবচ্চ 
তম্নিয়ম:” নয়, “লববচ্চ তত্িয়ম:? | “সব শব্দটি এখাঁনে অথর্ববেদাধায়িগণ 
অনুষ্ঠিত সৌর্ধ হতে শতৌদন অবধি সাতটি হোমক্রিয়! অর্থে বাবহৃত হয়েছে 
এবং সকল ভাষ্যকারই এই অর্থ গ্রহণ করেছেন। বরামমোহনও যে এ 
বিষয়ে বাতিক্রম নন তা ত্বার এই স্ত্রাংশের ব্যাখ্যা থেকেই প্রমাণিত 
হয়, : শর [?1 অর্থাৎ সপ্ত হোম যেমন আথর্বণিকর্দের নিয়ম সেইরূপ 
মুণ্কাধ্যয়নেতে শিবোঙ্গারত্রতের নিয়ম হয়।' “শর” শব্দটি এই প্রসঙ্গে সম্পূর্ণ 
অর্থহীন। মুল পাওুলিপিতে যে সংস্কৃতে বাংলায় উতয়ন্ত্র €দব” শব ছিল 
অর্থব্যাখ্যার সঙ্গে ুত্রাংশটি মিলিয়ে পড়লে তা ম্পষ্ট বোঝা যাঁয়। দুঃখের 
বিষয় বামমোহন-গ্রস্থাবলীর কোনও সম্পাদকই মুদ্রিত গ্রন্থে মূল ও ভাষ্যের 


এই বিরোধ লক্ষা করেন নি এবং তাদুযায়ী গ্ররুত পাঠ নির্ণয়ের প্রয়াস 
পান নি। 

৬. এ ভিন্ন আরও কয়েকটি স্ত্রে শংকর ও বামমোহনের মধ্যে পাঠের সামান্য 
তারতমা লক্ষিত হয় যেমন, শংকর (৩. ২. ১৮): "অতএব চোপমা 
কুর্যকাদিবৎ' ; রামমোহন (৩. ২ ১৮): “অতএবোপমা হুর্ধকাদিবৎ, ; 
শংকর (৩. ৩.৮): িংজ্ঞাতশ্চেতদুক্তমন্তি তদপি' ; রামমোহন-ভাষো 
এটি পরবর্তী স্ত্র (৩.৩. ৯): িংজ্ঞাতশ্চেত্ুক্তমন্তি তু তদপি' ; শংকর 
( ৩. ৩. ৬৬ ) : 'দর্শনাৎ' ; বামমোহন-ভাষ্যে এটি পরবত্তণ স্থত্র (৩. ৩. ৬৭) : 
দর্শনাচ্চ' ; ইত্যাদি। এগুলি চ-বা-তু'র গুরুত্বশৃন্ত অকিঞ্চিৎকর পার্থক্যমাত্র। 
স্বতরাং দেখা যাচ্ছে, পূর্ববর্তী বেদাস্ততাষাকারগণের মধো আচার্ধ শংকরকে 

সর্বাধিক মান্ত করলেও, রামমোহন ১৮১৫ গ্রীষ্টাবে তার “বেদাস্তগ্রন্থ' প্রকাশ- 

কালে ক্রন্মন্থত্রের যে পাঠ অবলঙ্বন করেছিলেন তা! সর্বাংশে শংকর-প্রদত্ত পাঠ 
নয়। কোনও কোনও স্থলে তার পাঠ বা স্ুত্রবিভাগ ভাস্কর মধ্য ও বলদেব 
বিদ্যাভৃষণের সঙ্গেও মিলছে। এটি অবশ্য আশ্চর্ধের বিষয় নয়, কেননা গোঁড়ীয় 
বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের সঙ্ষে মধ্বসম্প্রদীয়ের ঘনিষ্ঠ যোগ ছিল এবং ওড়িশার অধিবাসী 
বলদেব তো স্বয়ং ছিলেন গৌড়ীয় বৈষ্ণব সম্প্রদায়েরই ভাষ্যকার । রামমোহন 
যেখানে বেদাস্তচর্চা করেছিলেন, সেই পূর্বভারতে, এই ছুই আচাধ সম্যক পরিচিত 
ছিলেন, ও অঙ্থুমান করতে বাধা নেই সাধারণ টোল-চতুষ্পাঠীর পাঠক্রমের 
অস্তভুক্তি না হলেও তাঁদের ভাষাছয়েরও__অস্তত পক্ষে গোঁড়ীয় বৈষ্ণব 
সমাজে-_বহুল প্রচলন ছিল। সেহেতু তাদের অবলদ্বিত পাঠের সঙ্গে ঘে 
নিষ্ঠাবান বৈষ্ণব পরিবারের সন্তান রামমোহনের পরিচয় থাকবে এটা স্বাভাবিক, 
যদিচ ব্রহ্মতত্ববিষয়ক বৈষ্ণব সিদ্ধান্তের রামমোহন ঘোর বিরোধী ছিলেন। কিন্ত 
মনে হয়, মূলত এ বিষয়ে রামমোহনের মনে কিছু অতৃপ্তি থেকে গিয়েছিল এবং 
শংকর-অবলম্ষিত ব্রহ্মসত্রের বিশ্তুদ্ধ পাঠের অন্বেষণে তিনি তার স্বীয় বেদাস্ত- 
ভাষ্য প্রকাশের (১৮১৫ ) পরেও বিরত হন নি। এই প্রচেষ্টাই ত্বাকে 
প্রণোর্দিত করেছিল ১৮১৮ খ্রীষ্টাব্দে বু অন্সন্ধানে ও যত্বে সমগ্র শাঁংকর-ভাষ্য 
সমেত ব্রন্মস্ত্রের একটি স্থবৃহত সংস্করণ বঙ্গাক্ষবে প্রকাশ করতে। দেখা যায়, 
এই গ্রন্থে তিনি আগ্মোপাস্ত শংকর-অবলছিত ব্বসত্রের পাঠই গ্রহণ করেছেন 
এবং এখানে স্ুত্রসংখ্যাও ব্বভাবত পাঁচশ পুষ্চান্ন। যতদূর জানা যাচ্ছে 


১৭১ 


্রক্ষস্থত্রের শংকর-রুত স্থবিখাত ভাষোর এটিই সর্বপ্রথম মুত্রিত সংস্করণ এবং 
এর সম্পাদন! ও প্রকাশ রামমোহনের এক অক্ষয় কীন্তি।*১ মনে রাখতে হবে, 
্রহ্মস্তত্রের পাঠ সম্পর্কে শংকর ও রামমোহনের পারম্পবিক পার্থক্যের সবগুলি 
সমান গুরুত্বপূর্ণ নয়, ভাঁষাকারগণের মধো এই জাতীয় পাঠভেদ অভূতপূর্বও 
নয়। তবে সমগ্র বিচারে রামমোহন-অবলম্ঘিত “সলিলবচ্চ তঙ্গিয়মঃ (৩. ৩. ৪) 
পাঠের যে তার নিজন্ব তব্বসিদ্ধান্তের দিক দিয়ে কিছু গুরুত্ব ছিল, আলোচনা- 
প্রসঙ্গে তা দেখা যাবে। 

তত্বব্যাখ্যাতারূপে রামমোহনকে বিচার করতে অগ্রসর হলে প্রথমেই আচার 
শংকরের প্রতি তার অতি সশ্রদ্ধ মনোভাব আমাদের দুষ্টি আকর্ণ করে। তার 
প্রথম কারণ নিশ্চয় এই যে প্রাক্তন বেদাস্তাচার্গণের মধো শংকর বেদাস্তশান্ত্রের 
সম্পূর্ণ ব্রদ্ষপর বযাখাযাই করেছিলেন। তিনি একটি মাত্র তত্বে বিশ্বাসী ছিলেন, 
তা নিগুণ অদ্বৈত ব্রহ্ম। এই ক্রদ্ধকে তিনি কোনও প্রকার বৈশিষ্ট বা 
সাম্প্রদায়িকতার দ্বারা সীমিত করেন নি। তার মতে পারমার্থিক দৃষ্টিতে 
সমন্ত দেবদেবী মিথ্যা; ব্রহ্মজ্ঞানলাভের নিমিত্ত যাগধজ্ঞপূজার্চন। প্রস্ৃতি পর্ববিধ 
শ্রোত ও শ্মার্ত কর্ম ও বিধিনিষেধাদি সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়। অপর পক্ষে 
শংকরোত্তর অধিকাংশ তাষাকারই বেদীস্তের সংকীর্ণ সাম্প্রদায়িক বাখ্যা 
করেছেন । বিশিষ্টাইৈতবাদী রামান্জের মতে ব্রহ্ম ও বিষণ অভিন্ন ; দ্বৈতাদ্বৈত- 
বাদী নিম্বার্কও বেদাস্তের ব্রহ্ম ও ভক্তগণের উপাস্ত বিষ্ণুর মধ্য কোনও প্রভেদ 
দ্বেখেন নি) বাধারুষ্ণের যুগলরপ নিষ্ধার্ক-সম্প্রদ্দায়ের উপাস্ত ; দ্বৈতবাদী মধ্বাচার্ধ 
বলেন যিনি ব্রন্ম তিনিই বৈকুঠলোকবাসী বিষ বা হরি; শুদ্ধাদ্বৈতবাদী বল্লত 
ব্রদ্ধের সক্ষে গোলকাধিপতি কৃষ্ণের অভিন্বত্ব প্রতিপাদন করেছেন ; গৌড়ীয় 
বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের ভাষাকার অচিন্তাভেদাভেদবাদী বলদেবও তাই ; অপর পক্ষে 
শৈব সম্প্রদায়ের আচার্ধ প্রীকণ্ঠের ব্রন্ধস্থত্রভাষ্যান্ছসাঁরে শিবই পরক্রহ্ধ । তদুপরি 
উক্ত সাম্প্রদ্দায়িক ভাষাসমূহে, বিশেষত বৈষ্ণব ভাষাগুলির যধো, সাকার উপাসন। 
অতাধিক প্রাধান্য লাভ করেছে। সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণতা ও সাকার উপাসনার 
ঘোর বিরোধী আধুনিক দৃষ্টিসম্পন্ন রামমোহনের নিকট তাই এগুলির যুক্ধি 
ও সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয় নি। অপর পক্ষে শংকরের অপেক্ষারত 
মুক্ত, অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টি তার সঙ্গে চিত্তের নিবিড় যোগস্থাপনের পক্ষে 
বামমোহনের সহায়ক হয়েছিল 


১৭৭ 


বেবি! 11 ১৮৪ 


বধৃতসূতাবানাম্যথাবতৃতত্বতাববৃপৃসঙ্কৃঃ | এবং আীবাদিহপদার্েছেক মিন্ধম্মি 
নিসস্বাসতূয়োর্বিকজয়োরসন্তরবাৎ সবচৈকমিন্‌ ধম্মেংসনু ুসএধর্ারসযাস শব! 
দসতেগৈবং অব্বস্যাসন্তবাদসঙ্গতনিদ্সার্ফততনত' | এতেনৈকামেকনিত/ 
নিড/ব/তিত্িক্তাবঃতিরিভাদবেকাস্তাতুঠপগমানিরাকৃতামসতরযাঃ | যতৃপ্দল 
স্জ্ঞকেতেঠাণুভ/ংসন্্াভাংসভতবনীতিকল্রয়স্তিতৎপর্থে শৈবাণুবাদনিরাকরঃণল 
দিরাকভন্তব ভীত/তোনপূথব্বিরাকরণায়পুযত/তে ৬ ॥ এবংচান্াকাৎস্ব/ 
॥ ৫.0 ৩৩ ॥ যৈকষিন্বর্থিণিবি কক্ধবর্মসস্ভ বাহোবঃসণাাদেপ্সন্তঃ এবনা 
আ্রনোপিকীবমঠাকাত্ররএনপরোদোধংপ্নজঃতে | কথ শরীরপরিমাণোহিজী 
বইতঠার্থতানব/স্থে ৷ শরীরপরিমাণতায়াঞ্চসতঠানকুত্ণস্বাৎ সর্বগতঃপরি টি 
আম্মেতততোঘটাদিধদটি ত/হবনাত্মনঃপূসজেতত 1 শরীরাণাধ্চানবনহ্কিতপরিনা 
গতান্মনুষ্যজীবোননৃষ/শরীরপরিমাশেোভূহাপূনঃকেনচিতকর্মবিপাকেনহন্তি সম্মন 
পরার ব্মকৃত সু হস্তিশরীর'বগাণু য়া পৃতিং ্াজন্যচপৃাপু বন্কৃত সুঃপুত্িকাশনী 
রেষ-বীয়েত। সনানএএকস্মিপি ন্মনিকৌনারযৌবনন্থাবিবেশদোষ:1 নদে 
তত অনস্থাবয়বোদ্ীবঃতস/ভ এবাবয়ৰা অল্লেশরীরে সফূচেযমই(তাবিকসেযূরিতি 
(তেযা*প্নর নস্তানাৎক্্রীবাবয়বানা"সমানদেশব*পুণ্তিহনে/তরানবেতিবক্তব/* 
।পৃতিষাতেভাবন্বানস্তা বয়বাংপরিচিমেছেশেসমীয়েবন্। অপৃতিঘ।তেপে/কা বয় 
বছেশতোপপত্রে:সর্বেধানবয়বানা"পৃথিমানৃপপত্তেছীবিসঠাণ্মাই গুন ;স ঢা 
২। অপিচশরীরমাত্রপরিচিানা*্জীবাবয়বানামানভ্ত/*নোৎপুফি বনপিশক/" 
॥ অন্ষপর্য/ায়েণবৃহ্চ্রী রপৃতিপাত্তৌকেচিন্জীবাবয়বাউপগচুস্তি তনুশরীরপৃতি৭ 
ভৌচকেচিহ্বপগচূভ্ভী হ/চেঠত তত্বাপু/চ/তে ॥ ০100 নচপর্ধঠায়াদপ/বিরোধোবি 
কারাদিত/ত 1৬ 0 ৩৫ 11 নচপর্য্ায়েগাপঠবয়ঠবাশগমাপানা তানের তে 
কপরিনাণভুণ্ক্ীবসঠাবিরোধেলোপপাদবিত্তংশক/তে কঃ বিকারাদিদোষপঞ্জ 
জাত | অবয়বোপপমাপগমাত/াংহানিশ যাপ্র্তজলওা/পক্ীয়নাণস)চভীৰ 
অ/বিক্রিয়াবৃংতাবদপরিহার্” বিক্িয়াবত্চম্ম।ঈি বনিত/হৃপ্বজেতত ও 
তশ্বন্ধমোক্ষাতৃঠপগমোবাধে/ত কর্মাই্ইকপরিবেিতন/জীরস/ল।বৃবৎস'সার 
সাপরেছিমপরুস/বদ্ধনোচেকাদুদ্থ পামিহুন্তবভীতি * কিকান/ত আগচংতা মপগচ, 


রামমোহন কর্তৃক ১৮১৮ শ্রীষ্টীকে'কঙ্গিকাতা৷ থেকে প্রকাশিত 
ব্রহ্ম সৃত্র-শাংকর ভান্তের এক পৃষ্ঠা । . 
সংস্কৃত কলেজ গ্রন্থাগার, কলিকাত1। 


শাংকর ভাস্তের প্রতি রামমোহনের আকুষ্ট হবার দ্বিতীয় কারণ নি:সন্দেছে 
এই যে পূর্বতন ভাষ্তকারগণের মধো সম্ভবত একমাত্র শংকরই বহুল পরিমাণে 
পৌরাণিক প্রভাব থেকে মুক্ত ছিলেন। নিজ সিদ্ধান্তসমূহের স্থাপনে তিনি 
তার বিভিন্ন গ্রন্থে যে-সকল শান্ত্বচন উদ্ধার করেছেন তার মধো প্রচলিত 
পুরাণগুলি প্রায় অনুল্লিখিত। এমন-কি, বৃহদারণাকোপনিষদের দ্বিতীয় 
অধায়ভুক্ত চতুর্থ ( মৈত্রেয়ী ) ব্রাহ্মণের এক অংশে উল্লিখিত “পুরাণ” শবের 
বাখাপ্রসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত করেছেন পুরাণ অর্থে পুরাবৃত্তপ্রকাশক বিবরণ” ; 
এবং নিজমতসমর্থনে দৃষ্টাস্তরূপে, প্রচলিত অষ্টাদশ পুরাণের উল্লেখমাত্র না করে 
তৈত্তিরীয় উপনিষদ ( দ্বিতীয় বল্পী, সপ্তম অন্থবাক )এর বচন উদ্ধৃত করেছেন : 
“অসন্ধ! ইদমগ্র আসীৎ" (এই জগৎ আদৌ অসৎ ছিল )।* শংকরের সমগ্র 
শান্্রবিচার মুখাত শ্রুতিনির্ভর, এবং সে ক্ষেত্রেও প্রাধান্য পেয়েছে শ্রুতির 
জ্ঞানকাণ্ড। তীর উদ্ধৃত প্রায় সকল শান্ত্রবাকাই চয়ন করা হয়েছে শ্রুতি থেকে। 
রাধাকষ্ণন তাঁর সম্পর্কে যথার্থই বলেছেন: “ন০ 0160 0০ 00 
0801 072 2£6 7010) 00০ 01011117176 10 00105 17001709360 006 
[08:০0 0001) 0৫ 006 [07921718705 1”১৩ অপর পক্ষে শংকর-পরবর্ত 
বেদাস্তাচার্ধগণ যথা রামানুজ, মধ, নিগ্ার্ক, বিজ্ঞানভিক্ষু, বল্পভ, জীব গোস্বামী, 
শ্রীকর, শ্রীক*, রাধাদামোদর, বলদেব প্রভৃতি__ তাদের সিদ্ধান্তের স্বপক্ষে প্রচুর 
পুরাণবচন উদ্ধার করেছেন। পুরাণের এই বহুল প্রয়োগের মধো বিশেষ 
বিশেষ আচার্ধের সাম্প্রদায়িক মনোতাবও স্থপরিষ্ফুট | মধ্বের মতে পাঞ্চবান্ত 
শান্্র ও বৈষ্ণব পুরাঁণগুলির প্রামাণা চতুর্বেদের তুলা এবং শৈব শান্ত বিষ্ণুর 
আদেশে অস্ুরগণকে বিষুঢ করবার জন্যই রচিত হয়েছে । বিজ্ঞানভিক্ষু কৃর্ম- 
পুবাণের অন্তর্গত “ঈশ্বরগীতা'র এক স্বতন্ত্র ভান্ত রচনা করেছেন ।*৪ তেমনি 
পাওয়া যাচ্ছে বল্লভাচার্য রচিত ভাগবত পুরাণের টীকা “হুবোধিনী” । গৌড়ীয় 
বৈষ্ণব সম্প্রদায় তো প্রথমে ভাগবত পুরাণকেই বেদাস্তন্থত্রের ভাষা গণা 
করেছিলেন এবং বুন্দাবনের স্থপপ্তিত গোম্বামিগণ সেই কারণে কোনও স্বত্ত 
বেদাস্তভাষা প্রণয়ন করেন নি। অষ্টাদশ শতাবীতে ব্রন্বন্ত্রের গোবিন্দভাষা 
রচনা করে বলদেব বিদ্যাভুষণ এই অভাব দূর করেন। জীব গোস্বামীর 
'ষট্‌সন্দর্ভ' প্রকৃতপক্ষে ভাগবতপুরাণেরই বিস্তারিত আলোচনা! ও বাখা]। 
জীব গোন্বামী, বাঁধদাষোদর প্রভৃতি গৌড়ীয়, বৈষ্ণব আচার্ধগণ পুরাণণুলির 


১৭৩) 


সাত্বিক, রাজসিক, তামসিক শ্রেণীবিভাগ করে বৈষ্ণব পুরাণগুলিকেই সাত্বিক 
গণা করেছিলেন এবং এই শ্রেণীর মধোও ভাগবত পুরাণকে সমগ্র শ্রুতি-স্বৃতির 
উদের্ব শ্রেষ্ঠ স্থান দিয়েছিলেন । শরীক ভার শৈবভাষ্কে শিব-পুরাণের অন্তর্গত 
বায়বীয় সংহিতার প্রামাণ্য স্বীকার করেছেন,» এবং এই শৈব সাম্প্রদায়িক 
দৃষ্টির স্পষ্টতর পরিচয় পাওয়া যায় বীরশৈব ভাম্বকার শ্রীপতি-কৃত শ্রীকর-ভাস্ত্ে, 
যেখানে গ্রন্থকার বলছেন, বেদ রচিত হবার পূর্বেই স্বয়ং শিব কর্ডুক পুরাণ রচিত 
হয়; প্রচলিত পুরাণগুলির মধ্যে শিবপুরাণই শ্রেষ্ঠ ; এবং রিষ্ণমাহাত্মা স্থচক 
অপরাপর পুরাণগুলি অপেক্ষাকৃত নিকৃষ্ট ।** আলোচনাপ্রসঙ্গে পূর্বেই দেখা 
গিয়েছে রামমোহন শাস্তপ্রামাণা-বিচারকালে শ্রুতির জ্ঞানকাগুকে সর্বোচ্চ স্থান 
দিয়েছেন। পুরাণ ও তন্ত্রকে তিনি শান্তর বলে গণ্য করলেও প্রামাণ্য ও 
গুরুত্বের দিক থেকে এই শাস্তদ্বয়কে তিনি শ্রুতি অপেক্ষা অনেক নিয়মর্যাদাসম্পর 
মনে করতেন। তার স্বকৃত বেদাস্ততাস্তে ও উপনিষদের অনুবাদে ভূমিকাগুলির 
আলোচনাভাগ বাতীত তিনি কোথাও পুরাণতন্ত্রাদির কোনও বচন প্রমাণন্বরূপ 
দাখিল করেন নি। পুরাণতন্ত্রাদির প্রচুর ব্যবহার তাকে করতে দেখা যায় 
প্রধানত তার বিচারপ্রন্থগ্ুলিতে প্রতিপক্ষগণের সঙ্গে তর্কপ্রসঙ্গে। অধিকন্ত 
সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণতার প্রতি ভার ছিল প্রবল বিরাগ ও শাস্ত্রীয় 
এতিহ্ের উৎপত্তি ও বিকাশ সম্পর্কে তার দৃষ্টি ছিল আধুনিক ও বিচারশীল। 
স্বতরাং তত্বগত ও এঁতিহাসিক দিক থেকে শংকরোত্তর বৈদীস্তিকগণের পুরাণ- 
সম্পকিত সিদ্ধান্ত মান্য করা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। প্রসঙ্গত বৈষ্ণব প্রতি- 
পক্ষের সঙ্গে বিচারকালে ভাগবত পুরাণকে কেন বেদাস্তস্থত্রের ভাস্তরূপে গণ্য 
করা হবে না এই প্রশ্নের উত্তরে তার তীক্ষ বিরুদ্ধ যুক্কতিগুলি স্মরণীয় ।** 
বিভিন্ন বিচারগ্রন্থে অমোঘ যুক্তি প্রয়োগ করে তিনি আরও দেখিয়েছেন : 
সাম্প্রদায়িক পুরাণগুলির সাক্ষ্য যুক্তিহীন ও পরম্পরবিরোধী ; বিষ্ণুর শ্রেষ্ঠত্ব 
প্রতিপাদক পুরাণ-সমূহ যেমন অন্যান্য দেবতাকে হেয় প্রতিপন্ন করে বিষ্কুমাহাত্া 
স্থাপনে তৎপর, শৈৰ পুরাণসমূহ শিবপক্ষে ও তন্ত্রাদি গ্রন্থ শক্কিপক্ষে অবিকল 
সেইরূপ ১** স্থৃতরাং এই-নকল গ্রন্থোক্ত পরম্পরপ্রতিম্পর্ধী সাম্প্রদায়িক বচনগুলি 
প্রমাণ হিসাবে শির্ভওরের অযোগা। এখানে বক্তবা, মূলত প্রমাণ হিসাবে 
পুরাণতন্ত্র অপেক্ষা শ্রুতির শ্রেষ্ঠতা সম্পর্কে বামমোহনের সিদ্ধান্তের সঙ্গে 
শংকরমতের সাদৃশ্ঠ থাকলেও রামমোহন এই যুক্তির বিস্তারে শংকরকে অতিক্রম 


১২৪ 


করে গিয়েছেন। পৌবাঁণক সাক্ষ্যের অস্তর্ধিরোধ ও দুর্বলতা বিষয়ে এমন 

নিপুণ বিশ্লেষণ শংকর বা অন্ত কোনও প্রাচীন ভান্তকাবের রচনায় দেখা যায় 

ন1। এক্ষেত্রে রামমোহনের দৃষ্টি সম্পূর্ন আধুনিক | চতুর্থ অধ্যায়ে এ-সম্পর্কে 
কিছু বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন হবে। 

শংকরের গ্রতি রামমোহনের অসীম শ্রদ্ধার অপর কারণ নিশ্চয় ছিল 
শংকরের আপসহীন নিধিশেষ অছৈতবাদ। এই একতত্ববাদ রামমোহন স্বয়ং 
যে মনেপ্রাণে গ্রহণ করেছিলেন তার রচনায় এর প্রচুর নিদর্শন আছে। 
অছৈতবাদের মূল কথা হল, একমাত্র ব্রদ্ম ভিন্ন আর কোনও কিছুরই পারমাথিক 
অস্তিত্ব নেই; জীব ও জগৎমংসার মিথ্যা; মায়াগ্রস্থত অলীক ধারণাবশত 
আমরা এই বস্তজগৎকে সতা মনে কবি; কিন্তু ব্রন্মজ্ঞানের উদয় হওয়া মাক 
এই ভ্রম স্বপ্র ভাঙার মত দূর হয়ে যায়। রামমোহনের রচনাবলী বিশ্লেষণ করলে 
দেখা যায় যে শাস্ত্রব্যাখা! ও প্রতিপক্ষের সঙ্গে তর্ক-_ এই উভয় প্রসঙ্গেই 
তিনি শাংকর-বেদান্তের এই মূল তত্বটি প্রতিষ্ঠা করবার জন্য বিশেষ 
তৎপর । ত্বার এই বিষয়ক বিবিধ উক্তি থেকে কিছু কিছু চয়ন কৰে নিয়ে 
দেওয়া গেল : 

১. ব্রন্ষমের ন্ববূপলক্ষণ বেদে কহেন যে সত্য সর্বজ্ঞ এবং মিথা] জগৎ যাহার 
সত্যতা দ্বারা সতোর ন্যায় দৃষ্ট হইতেছে ) যেমন মিথা। সর্প সত্যরজ্ছুকে 
আশ্রয় করিয়া সর্পের ম্যায় দেখায় ।** 

২. জীব মায়াঘটিত উপাধি হইতে দূর হইলে আনন্দময় ব্রন্ম্বরূপ হয়েন এবং 
উপাধি জন্ত স্থথদুঃখের যে অনুভব হইতেছিল সে অনুভব আর হইতে 
পারে নাই ।** 

৩. যাব নামরূপময় মিথ্যা জগৎ সত্যন্বরূপ ব্রহ্মকে অবলম্বন করিয়। সত্যের 
্যায় দুষ্ট হইতেছে, যেমন মিথা। সর্প সত্য রজ্জুকে অবলম্বন করিয়! সত্যবূপে 
প্রকাশ পায় বস্তত সে রজ্জুই সর্প হয় এমৎ নহে সেইরূপ সত্ম্বরূপ যে ব্রন্ধ 
তেহে। মিথ্যারূপ জগৎ বাস্তবিক না! হয়েন এই হেতু বেদাস্তে পুনঃ ২ কহেন 
যে ব্রহ্ম বিবর্তে অথাৎ আপন স্বরূপের ধ্বংস না করিয়া প্রপঞ্চমরপ দেবাদি 
স্থাবর পরস্ত জগদাকারে আত্মমায় দ্বার! প্রকাশ পায়েন।*১ 

৪, ***জগতের কারণ এবং ব্রদ্াণ্ডের ও তাবৎ শরীরের চেষ্টার কারণ যে 
পরমেশ্বর তাহার চিন্তন পুনঃ পুনঃ করিলে সেই ব্যক্তির অবশ্য পিশ্চয় 


১২৫ 


হইবেক যে এই নামক্বপময় জগৎ কেবল সতান্বরূপ পরমেশ্বরকে আশ্রয় 
করিয়া সত্যের ম্যায় প্রকাশ পাইতেছে...।"২ 

«. -- যথার্থ জ্ঞানের উদয় হইলে এই জাগরণের জগৎ যাহাকে এখন সতা 
করিয়া জানিতেছ ইহাকেও মিথ্যা করিয়া জানিবে এবং বিশ্বাস হইবেক যে 
সেই সত্ন্বরূপ পরমাত্মার আশ্রয়েতে মিথা! জগৎ সতোর ন্যায় প্রকাশ 
পাইতেছিল |" 

৬. একত্মন্গপশ্নতামম্মাকং আব্রন্ষস্তদ্বপর্যস্তানি যাবস্তি নামরূপাণি মায়াকারাণি 
দিক্কালাকাশবৃত্তীনি পরিমিতানি সত্যাশ্রিতানি তবস্তি কেবলং স্দধাসেন 
সতামিব প্রতীয়ন্তে, অতোহ্ধ্যাসবলাৎ সর্বং খন্দিদং ব্রহ্ম ।৭£ 

৭. "**পরমার্থদৃষ্টিতে ত্রন্মনিষ্ঠ ব্যক্তিরা---কেবল এক ব্রহ্মমাত্র সতা আর নাম- 
রূপময় জগৎকে মিথা! জানিবেন-"" 1৭৫ 

৮, দ্বিতাৰ ভাব কি মন এক ভিন্ন ছুই নয়। 
একের কল্পনা রূপ সাধকেতে কয়।৭৬ 

স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে দীর্শনিক সিদ্ধান্তে রামমোহন শংকরের ন্যায় নিখিশেষ 

অগ্বৈতবাদী। উৎসবানশ্দ বিদ্যাবাগীশের সহিত বিচারপ্রসঙ্গে তাকে জগৎসত্যত্ 

সম্পর্কে দ্বৈতবাদী মধ্বমত খগ্ডন করে নিথিশেষ অদ্বৈত সিদ্ধান্ত স্থাপন করতে 
দেখা যায়।'*ক তার নিকট এই একতত্ববাদের একটি অতিরিক্ত আকর্ষণ 
এই ছিল যে এর ব্বপক্ষীয় যুক্তিগুলির সাহাষো তিনি তার আজীবন পোষিত 
একেস্বরবাদী ধর্মমতকে প্রতিপক্ষগণের আক্রমণের বিরুদ্ধে দৃঢ়রূপে স্থাপনের 
স্থযোগ পেয়েছিলেন। অসাম্প্রদায়িক একতত্ববাদ তার বিশ্বজনীন একেশ্বরবাদের 
প্রধান পোষক হয়েছিল। বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায় প্রতিপক্ষগণের সহিত 
বিচার বিষয়ক তার গ্রন্থগুলির প্রায় প্রতি পৃষ্ঠায় এর প্রমাণ পাওয়া যাবে। 
বেদাস্তের শাংকর-ভাষ্য ভিন্ন অন্য কোনও ভাষ্যের নিকট হতে এই সাহাষ্য 
পাওয়া তার পক্ষে সম্ভব ছিল না, কেনন! পূর্বেই বল! হয়েছে সেগুলি ছিল 
সাম্প্রদায়িক ও সাকার দেবোপাসনার সঙ্গে সংশ্িষ্ট। অপর পক্ষে শংকর- 
কর্তৃক অনুপ্রাণিত হয়েই রামমোহন তার প্রতিপক্ষকে স্পষ্ট বলতে পেরেছেন : 

'ব্র্ষজিজ্ঞান্থ ব্যক্তি বিকারভূত যে নামরূপ তাহাতে পরমেশ্বরের বোধ 

করিবেক না যে হেতু এক নামরূপ অন্য নায়রূপের আত্ম! হইতে পারে ন1'1** 
রামমোহনের উপর শংকরের গভীর প্রভাবের কারণগুলি অনুসন্ধান প্রসঙ্গে 


১০৬ 


উভয় মনীষীর চিন্তাধারায় কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সাদৃশ্য আমাদের দৃষ্টি আকধণ 
করে। ব্রন্ধের নিগুণত্ শ্বরূপলক্ষণ এবং কর্মকাণ্ডের নিকষ্টতা সম্পকে 
রামমোহন শংকরের সঙ্গে একমত । জীব ও ব্রন্ষের অভেদ ও মোক্ষের স্বরূপ 
সম্পর্কেও উভয়ের দৃষ্টিভঙ্গির কোনও পার্থক্য নেই। মুক্তি সম্পর্কে বামমোহন 
বলেন £ “**এই ভাবে মন অহঙ্কার ও চিত্তের অধিষ্ঠাতা এবং সর্বব্যাপী অথচ 
ইন্দ্রিয়ের অগোচর পরক্রদ্ধ হয়েন ইহাই নিতা ধারণা করিবেন পরে মরণাস্ছে 
এইরূপ জ্ঞাননিষ্ঠ ব্যক্তির জীব অন্থাত্র গমন না হইয়া! উপাধি হইতে সর্বপ্রকারে 
মুক্ত হইয়া তৎক্ষণাৎ ব্রহ্ষস্বরূপ প্রাঞ্চ হয়।””* এ উক্তি সম্পূর্ণ নিবিশেষ 
অদ্বৈতবাদ-সম্মত। কিন্তু শংকরের প্রতি অসাধারণ শ্রদ্ধাবান হয়েও বেদাস্ত- 
বাখ্যাতারূপে রামমোহন কয়েকটি বিষয়ে সম্পূর্ণ মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় 
দিয়েছিলেন। সংক্ষেপে সেগুলির আলোচনা কর। ঘেতে পারে। 

প্রাক্তন বেদাস্তচাধগণ, বিশেষত শংকর, বোস্তকে বাখ্া। করেছিলেন 
প্রধানত যতির ধন ও দর্শনদূপে । শংকর কর্ম স্বীকার করেন নি, তার মতে 
রহ্ষজ্ঞানলাভের জন্য কর্মাহষ্ঠান সম্পূর্ণ অনাবশ্ক ; আর এই সর্বোচ্চ ব্র্জ্ঞান 
একমাত্র »ন্্যাপীরই লভ্য। ব্রদ্ষস্থত্র ৩. 9. ২০ “বিধির্বা ধারণব্এর আলোচন৷ 
প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ত্রহ্মসংস্থ অবস্থ! একমাত্র সন্ত্যাস আশ্রমেই সম্ভবপর । এই 
স্তরে উপনীত হবার নিমিত্ত যে ক্রহ্ষনিষ্ঠতার প্রয়োজন তা অর্জন করা গৃহস্থের 
মাধা নয়।৭৯ সম্গ্যাস প্রাচীন ভারতের জীবনচর্ধায় জীবনের চতুর্থ বা শেষ পর্ব 
রূপে অনুমোদিত । গ্রাচীন্ন ভারতবর্ষের ব্রাহ্মণ সমাজ-ব্াবস্থাপকগণ কখনই 
সর্সাধারণকে জীবনের যে কোনও পর্বে নিধিচারে সন্তাসগ্রহণের উপদেশ ব! 
অনুমতি দেন নি। এ বিষয়ে অর্থশান্ত্রের ও ধর্মশান্তের নির্দেশ অতি ম্পষ্ট। 
কৌটিল্য বলেন, স্ত্রী ও সম্ভানগণের উপযুক্ত ভরণপোষণের ব্যবস্থা না করে যদি 
কেউ স্বয়ং গ্রত্রজ্য। গ্রহণ করেন ব৷ তার পত্বীকে প্রব্রজ্যা গ্রহণ করান, তাহলে 
সেই ব্যক্তি রাজদ্বারে দণ্ডনীয় হবেন। ধার পুরুষত্ব ( অপত্য-উৎপাদন শক্তি ) 
সম্পূর্ণ লোপ পেয়েছে কেবলমাত্র এমন ব্যক্তি রাজসরকারের অন্থ্মতি নিয়ে তবে 
সন্তাস গ্রহণ করতে পারবেন । মন্গসংহিতাতেও প্রায় একই কথা বল। হয়েছে । 
মহ স্পষ্ট বলেছেন চতুরাশ্রমের মধ্যে গার্স্থাই হল শ্রেষ্ঠ আশ্রম ; বেদাধায়ন, দান, 
যজ্জ, সম্ভানোৎপাদদন প্রমূখ প্রথম তিন আশ্রমের কর্তব্াগুলি সম্পাদন না করে 
যদি কোনও দ্বিজ গ্ররব্রজ্যা গ্রহণ করেন সেক্ষেত্রে তার গতি হবে নরকে । এই 


১২৭ 


দু্টিভক্ষি থেকেই প্রাচীন ধর্মশান্ত্রে বর্ণিত একটি মতের উদ্ভব হয়েছিল যে, সত্তর 
বদর পার হলে তবেই সম্তাস গ্রহণ কর্তবা ।**ক অবশ্থ উত্তরকালে এক বিশেষ 
বিধিও প্রচলিত হয়, মনে বৈরাগ্যের উদয় হলেই চতুরাশ্রমপারম্পর্য উপেক্ষা করে 
তৎক্ষণাঁৎ সন্গ্যাস অবলম্বন করতে হবে ( যদহরেব বিরজেত তদহবে প্রব্রজেৎ )। 
কিন্ত এই নিয়ম সাধারণের জন্য নয়; ধাদের অন্তরে প্রক্কৃত অধ্যাত্ম-জিজ্ঞালার 
উদয় হয়েছে__সর্বকালে অঙ্গুলীমেয় এমন এক গোর্গীর প্রতিই একমাত্র তা 
প্রযোজায | অপরপক্ষে এই বিধির অপব্যবহার সমাজ-স্থিতির পক্ষে ক্ষতিকারক, 
কেনন] সেক্ষেত্রে ব্ক্তির সামাজিক দায়িত্বের মুলেই তা কুঠারাঘাত করবে। 
যথেচ্ছ-সন্টাস-বিধির এই বিপজ্জনক দিকটি রামমোহনের দৃষ্টি এড়িয়ে যায়নি । 
চতুবাশ্রমপরম্পরা সম্পর্কে তিনি যে স্থসমঞ্জস মত পোষণ করতেন্‌ তা প্রাচীন 
ভারতীয় ব্রাহ্মণ্য সমাজ-শান্ত্রিগণের মতেরই অনুরূপ । সন্নাস আশ্রমকে তিমি 
অস্বীকার ন] করলেও বুদ্ধ বা শংকরের মত অহেতুক প্রাধান্য দেননি, এবং 
্রক্ষজ্ঞান যে একমাত্র সন্ন্যাসীরই লভা শংকরের এই সিদ্ধান্তও গ্রহণ করেন নি । 
জ্ঞানবিজ্ঞানসমৃদ্ধ আধুনিক জীবন এই একদেশদর্পিতার বিরোধী, কারণ এই 
জীবনদর্শনে মাষের এহিক কলাণ ও আধ্যাত্মিক মুক্তি তুল্য মর্ধাদীসম্পন্ন। 
্দ্মজ্ঞানকে মুষ্টিমেয় সংসারবিমৃখ সন্গাসীর সম্পত্তি জ্ঞান করা আধুনিক 
বিচারুশীল মনের পক্ষে সম্ভব নয়। রামমোহন তীর শান্ত্রবাখায় তাই নিরভীক 
ভাবে ঘোষণ! করেছেন, ব্রহ্ধজ্ঞানে কোনও বিশেষ সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীর একচ্ছত্র 
অধিকার নেই; যোগ্য আধার হলে সন্নাসী, গৃহস্থ সকলের পক্ষেই এই 
মহাসম্পদ সমানভাবে লতা । “ঈশোপনিষদ'এর ভূমিকায় তার উক্তি : “যদি 
কহ আত্মার উপাসন1 শান্্ববিহিত বটে এবং দেবতাদের উপাসনাও শাস্ত্রসম্মত 
হয় কিন্ত আত্মার উপাসনা মন্গ্যাপীর কর্তব্য আর দেবতার উপাসনা গৃহস্থেরো 
কর্তব্য হয়; তাহার উত্তর; এইরূপ আশঙ্কা কদাপি করিতে পারিবে না। 
যেহেতু বেদে এবং বেদাস্তশাস্ত্রে 'আর মন্ধ প্রভৃতি ম্থৃতিতে গৃহস্থেরে! আত্মোপাসন। 
কর্তব্য এরূপ অনেক প্রমাণ আছে।''.কেবল সন্নামী হইলেই মুক্ত হয়েন এমৎ 
নহে কিন্তু এরূপ গৃহস্থেরো মুক্তি হয়।”*ৎ কোনও অছৈত-বেদাস্তীর পক্ষে এই 
মত সম্পূর্ণ বিপ্লবী । ব্রহ্মভ্ঞানরূপ মহাসম্পদ জাতিধ্মগোষ্ঠী-আশ্রমনিরপেক্ষভাবে 
সকল মান্ষের প্রাপা ও লভ্য ঘোষিত হওয়া বেদান্তদর্শনের সুদীর্ঘ হীতহাসে 
এই প্রথম। নবযুগের সর্বতৌমুধী জীবনদৃষ্টির সঙ্গে এই ব্রহ্মতত্বব্যাখ্যার সম্পৃণ 


১৭৮ 


সামগ্তন্ত আছে। আধুনিক কালে অছৈত-ব্দোস্তের ব্যাখা! ও প্রচারে রাম- 
মোহনের পরে যে মনীধী জীবনী উৎসর্গ করেছিলেন সেই স্বামী বিবেকানন্দের 
মত এ বিষয়ে কিস্তু রামমোহনের ঠিক বিপরীত । বিবাহ ও গাহ্‌স্থা আশ্রমের 
প্রতি স্বামীজীর প্রবল বিরাগ ছিল। তিনি স্পষ্টই বলেছেন গৃহস্থের পক্ষে 
ব্হ্মজ্ঞান অলভ্য £ “যারা বলে-_ এ সংসারও করব ব্রহ্গজ্ঞও হবো তাদের 
কথা আদপেই শুনবি নি। ও-সব প্রচ্ছন্ন ভোগীদের স্তোক বাকা ।"..ও 
পাগলের কথা, উন্মন্ত্ের প্রলাপ, অশাস্ত্রীয, অবৈদিক মত।:* সন্গযাম না 
নিলে কিন্তু আত্মজ্ঞান লাভের আর উপায়ান্তর নেই।”*১ আধুনিক যুগের 
গতিপ্রকৃতির সঙ্গে এ সিদ্ধাস্তের মৌলিক বিরোধ সহজেই লক্ষণীয় । 
বেদাস্তভাম্তকাররূপে রামমোহনের মৌলিকতার দ্বিতীয় পরিচয় মায়াতত্ব ও 
বস্বজগৎ সম্পর্কে তাঁর ভাবনায়। অদ্বৈত-বেদাস্ত-মতাহ্ুসারে ব্রন্মই একমাত্র 
সত্য, পারমাধিক দৃষ্টিতে জীব ও জগৎ যিথা!। বস্ত-জগৎ সম্পর্কে যে গ্রতীতি 
আমাদের আছে তা মায়াপ্রস্থত। অস্তরে ব্রহ্মজ্ঞানের উদয় হওয়া মাত্র এই 
মায়৷ বা অজ্জানের বিলুপ্তি ঘটে এবং মায়াজনিত জগত-প্রতীতিও লোপ পায়। 
সে অবস্থায় জ্ঞাতা ও জ্ঞেয় এই দুইয়ের পার্থকা সম্পূর্ণ তিরোহিত হয়, একমাত্র 
নিগুণ নির্বিশেষে ত্রহ্হই থাকেন- ্রহ্গবিদ্‌ ব্রন্মেব ভবতি | এই মায়ার স্বরূপ 
নিয়ে আবহমানকাল থেকে বৈদাস্তিকগণ অনেক আলোচন! করেছেন। 
বিস্তারিতভাবে সে সবের অবতারণা ন1! করে সংক্ষেপে বল! যায় অছৈত-বেদাস্ত 
মতে মায়া সৎও নয় অসৎও নয়- এব স্বরূপ ভাষায় প্রকাশ করা যায় না) 
স্থতরাং বর্ণনা করতে গেলে একে বলতে হয় অনির্বচনীয়।”ৎ মায়া-প্রস্থত 
দেশকালকার্ককারণগত এই পরিদৃশ্ঠমান জগৎ একটি অনিত্য ও অলীক প্রবাহ- 
মাত্র যা পূর্বেও ছিল না পরেও থাকবে না, কেবল মধ্যে কিছকালের জন্য 
ব্যবহারের গোচর হয়েছে।”* কিন্তু জগতের এই সাময়িক গোচরীভূতত্বও 
ভ্রম ছাড়া আর কিছু নয়, একমাত্র ব্রহ্ষমজ্ঞানই এই ভ্রম নিরাশ করতে সমর্থ । 
ব্র্ষকে অবলম্বন করে এই যে মায়াময় জগত্-কল্পন। সাময়িকভাবে সত্যরপে 
প্রতিভাত হয় এই প্রক্রিয়া ত্রন্বস্বর্ূপের কোনও বিকার ঘটায় না। ব্রহ্ষকে এক, 
অদ্ধিতীয় তত্ব রূপে স্বীকার করলে হৃষ্টিবহস্তের ব্যাখ্যান্বরূপ মায়াঁর ন্যায় কোনও 
একটি ধারণাকেও স্বীকার করা .প্রায় অনিবার্ধ হয়ে পড়ে। অৈত-বোদাস্তী 
হিনাবে বামমোহনকেও তাই মায্া-প্রত্যয়ে বিশ্বামী হতে হয়েছে।”* কিন্তু 


৯ ১২৪ 


আধুনিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে এতে একটু অস্থবিধা আছে। মাগ্সিক 
বস্ভঙ্রগৎকে মিথ্যা ঘোষণ1 করে প্রাক্তন অদ্বৈতিগণ বেদাস্ুকে বহুল পরিমাণে 
সংসারবিমূখ বৈরাগ্যশান্ত্রে পরিণত করেছিলেন । ব্রহ্ম যর্দি একমাত্র নিত্য বস্ত 
হন ও ব্যবহারিক জীবনের স্বখ, দুঃখ, সমাজবন্ধন, কর্তব্যাকর্তব্য যদি সবই 
ভ্রমাত্মক ভেদজ্ঞানপ্রস্থত হয়, তাহলে একমাত্র পুরুার্৫থ দাড়ায় যথাশীত্র এই মিথ্যা 
জগৎসংসারপাঁশ থেকে মৃক্তিলাভ করে ব্রন্মে লীন হওয়া। অবস্ত অদ্বৈতদৃষ্টিতে 
এই মামিক জগতেএও বাবহারিক যথার্থতা আছে। কিন্ত রামমোহনের পূর্বে 
কোনও অ্বৈতিকেই সে ঘাথার্ঘোর এতটুকু মর্ধাদা! দিতে দেখা মায় না_ ত্রদ্ধের 
সঙ্গে তাকে তুলা জ্ঞান করা তো দূরের কথা। কিন্তু রামমোহন রেনেশাসের 
আদর্শে উদ্বুদ্ধ আধুনিক মানুষ, তার দৃষ্টিতে জগৎ্সংসারের গুরুত্ব কিছুমাত্র 
কম নয়। স্ৃতবাং জগৎ-প্রতীতি মায়াজনিত হলেও একে অবজ্ঞা করা তার 
পক্ষে সম্ভব ছিল না। টোলচতুষ্পাঠীতে অনুন্থত প্রাচীন পদ্ধতি অনুসারে 
অদ্বৈত-বেদান্তের অনুশীলন ব্যাপকভাবে প্রচলিত থাকলে মায়াবাদ যে সমাজের 
উপর অবান্থণীয় প্রভাব বিস্তার করতে পারে আমহাস্ট কে লিখিত বিখ্যাত পত্রে 
এমন ইঙ্ষিত তাকে করতে দেখা যায়। লোকশ্রেয়সাধন ধার জীবন-সাধনার 
মূলমন্ত্র তার পক্ষে এ আশঙ্কা বিচিত্র নয়। কোন্‌ শাস্ত্রীয় স্ত্রে তার পক্ষে 
মায়াবাদের সঙ্গে সামাজিক প্রগতির সামগ্ুস্ত বিধান সম্ভব হয়েছিল এ জিজ্ঞাস 
স্বভাবত মনে উদ্দিত হয়। চতুর্থ অধ্যায়ে বিস্তারিত আলোচনার দ্বারা 
প্রতিপন্ন করবার চেষ্টা করা হয়েছে ভারতীয় শান্ত্রাদির মধ্যে তন্ত্র রাঁম- 
মোহনের দার্শনিক সিদ্ধান্ত ও ধর্মমতকে যথেষ্ট প্রভাবিত করেছিল ।৮* তস্ত্রশান্ত্রের 
আলোচা বিষয়কে প্রধানত ছুই ভাগ করা যায় ঃ ১. দর্শন ও ২, ক্রিয়া । তান্ত্রিক 
পূজা ও সাধনপদ্ধতি আপাতদৃষ্টিতে কতগুলি অর্থহীন ও বিশুদ্ধ নীতিমার্গের 
পরিপন্থী আঁচার ও ক্রিয়ার সমষ্টি বলে মনে হলেও এগুলিই তস্ত্রশান্ত্র ও তন্ত্রধর্মের 
সব নয়। অন্ত্রের একটি গতীর দার্শনিক ভিত্তি আছে এবং সিদ্ধান্তগত.ভাবে 
উক্ত দর্শনের সঙ্গে অছৈত-বেদাস্তের কোনও প্রভেদ নেই । কুলার্ণৰ তন্ত্রের একটি 
উক্তিতেই তার স্পষ্ট পরিচয় পাওয়া যাবে : 
ক্ষণং ব্রন্ধাহমশ্মীতি ঘঃ কুর্যাদীত্মচিস্তনমূ । 
স পর্বং পাতকং হুন্াতমঃ হযোদয়ো যথা ৮৯ 
তত্ত্রর্শনেব এই বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অধ্যাপক হুরেন্দ্রনাথ দাশগুঞধ বলেন : “6 


৯৩৩ 


1001018010 01011950121) 01 0105 ৬০৪1). 01105 15 70850100176 810 
6 962 0108 17217521715 15£5196 85 006 01015 006 [901101016 
11) 01)€ 0110 1””* কেবলমাত্র তন্বসিদ্ধান্তই নয় তন্ত্রের পৃজা-পদ্ধতি পর্যস্ত 
বৈদাস্তিক অছৈতবাদের ভিত্তিতে পরিকল্লিত। অপর এক হিশেষজ্ছের মতে £ 
৮0165721068 017 0৫ 01511 ৪150 9665 95 7. 00196 ০0 
07900081 00811710560 00৩ 16৪11280101 0 005 ৬৪০৪1) 10651 0: 
0761061)0চৈ 0100৫ 21772 10) 006 [091016651৮৮ স্থতবাং দেখা যাচ্ছে 
ব্দোস্তের মতো! তন্ত্রও একটি তন্বকেই স্বীকার করেছে । বৈদাস্তিক একতত্ববাঁদী 
রামমোহনের নিকট তাই এশান্্র যে বিশেষ আদবরণীয় হবে তা স্বাভাবিক । 
এই প্রসঙ্গে যা বিশেষ পর্যালোচনার যোগা তা হুল সৃষ্টির মূলে অন্তরদর্শনও 
মায়াশক্তির কার্যকারিত্ব স্বীকার করেছে। কিন্তু অছৈত-বেদাস্ত-সম্মত মায়াবাদের 
সঙ্গে তন্ত্রবাখ্যাত মায়াভাবনার কিছু মৌলিক প্রভেদও লক্ষণীয়। প্রথমত 
অদ্বৈতিগণের ব্যাখা মায়া ব্রন্ষমের রহস্যময়ী স্জনীশক্তি হলেও তা সৎও নয় 
অসৎও নয়। কিন্তু তন্ত্রোক্ত মায়াশক্তি নিতা, সৎ ও পরমাত্মন্বরূপেরই 
অংশবিশেষ । বেদান্তের মায়িক জগৎ যেখানে পারমাথিক দৃষ্টিতে মিথ্যা, 
তত্ত্রবাখাত মায়াশক্তিপ্রন্থত জগৎ সেখানে নিত্য ও চিরস্তন। দ্বিতীয়ত 
বৈদান্তিক মায়! ব্রন্মত্বরূপে আবোপিত শক্তিরূপে কল্পিত হলেও তা জড়শক্তি; 
কিন্তু তান্ত্রিক মায়া চিৎ্শক্তিরই রূপান্তর বা আবৃত চিৎশক্তি। বস্তত তন্ত্র 
্রন্ধ ( শাক্ততন্ত্রের পরিভাষায় শিব ) ও মায়াকে একই তত্বের স্থির ও 
চঞ্চল ছুই প্রকাশ রূপে গণ্য করা হয়েছে।** মায়া-সম্পকিত দৃষ্টিভঙ্গির এই 
মৌলিক পার্থক্যের জন্য বেদান্ত ও তন্ত্রের মধ্যে বন্বজগৎ্ সম্পর্কেও মনোভাবের 
পার্থক্য এসেছে। অছৈত-বেদাস্ত মায়িক জগৎকে অলীক জ্ঞান করে ন্বভাবত 
বৈরাগ্যের উপর জোর দিয়েছে ; তন্ত্র মায়াপ্রস্থত জগৎকে নিত্য ও সত্য ধারণা 
করেছে ও সেই হেতু অনিবার্ধভাবেই এই দর্শনে এসেছে এক বলিষ্ঠ 
জীবনস্বীকৃতি। জনৈক তান্ত্রিক পণ্ডিতের ভাষায় : “**.বৈদিক সাধকের ন্যায় 
'আস্ত্রিক সাধকের সংসারে নরক দর্শন করিতে হয় না। বৈদিক সাধকগণ ত্র, 
, মিত্র, ভূত্য পরিজনময় সংসারের যে দ্বণিত বীভৎস চিত্র অস্কিত করিয়াছেন 
তাহা শুনিলে স্বাভাবিক পুরুষেরও ঘ্বণার উদ্রেক হয্ন। কিন্তু আশ্চর্য এই যে 
সাধকগণ সেই সংসারেই ব্রহ্মানন্দ তরঙ্গ ব্রেখিয়৷ সংসারের কার্ধকারণ 


১৩৯ 







প্রক্রিয়াকেই গুত্াক্ষরূপে সাধনার সোপান পরম্পর] বলিয়া--.. দেখাইয়া) 
দিতেছেন 1৮, অছৈতবাদী বৈদাস্তিক রূপে রামমোহন মায়াবাদকে সিদ্ধাস্তরপে 
গ্রহণ করলেও আধুনিক যুগোপযোগী সমাজকল্যাণাদর্শের সঙ্গে তাকে সমন্বিত 
করবার সমন্তা তার ছিল। টোলচতুষ্পাঠীতে প্রচলিত প্রাচীন পদ্ধতির বেদাস্ত- 
চর্চায় এর কোনও সমাধান খুজে পাওয়াও সম্ভব ছিল না। আধুনিক 
জানবিজ্ঞানের অগ্ুশীলন তার মতে অবশ্ঠ সর্বোত্তম প্রতিষেধক। কিন্তু সে 
তে] শাস্ত্রীয় সমাধান নয়। শাস্ত্রব্যাখ্যাতারূপে শাস্ত্রীয় সমন্বয়ের প্রয়োজনও 
তার নিশ্চয় ছিল। তার চিন্তায় তন্ত্রদর্শনের গভীর প্রভাবের কথা স্মরণ 
বাখলে এমন অনুমান অবশ্যই করা চলে যে অন্ত্রপ্রদত্ত মায়াবাদের অভিনব 
বাথা। তাকে ক্রহ্ষের ক্ষ্টিশক্তিরপে মায়ার ঝণাত্মক মিথ্যাত্ব অপেক্ষা 
তার স্ৃট্টিশীলতার উপর বেশি পরিমাণে জোর দিতে প্রণোদিত কবেছিল। 
বৈদান্তিক অছৈতবাদকে ত্যাগ না করেও তিনি তান্ত্রিক শক্তিবাদের দ্বার তাকে 
বহুল পরিমাণে মাজিত ও যুগোপযোগী কবে নিতে সক্ষম হয়েছিলেন । 
অদ্বৈত-বেদান্তিক্পে রামমোহণের তৃতীয় বৈশিষ্টা ব্রন্মোপাসনার প্রতি 
অসীম গুরুত্ব আবোপ। শংকরের মতে উপাশ্থ-উপাসকের পরম্পর-সম্ন্ধ 
ভোদজ্ঞানের উপর প্রতিষ্ঠিত।*৯ স্তরাং মায়িক ভেদ-জ্ঞানের জগৎ অতিক্রম 
করে জীব অভেদ ব্রহ্মজ্ঞানের ভূমিতে প্রতিষ্ঠিত হলে আর উপাসনার প্রয়োজন 
থাকে না। কিন্তু রামমোহন শংকরের মতো অদ্বৈতজ্ঞানভিত্তিক মুক্তিকে 
সাধণার চরম লক্ষা বলে স্বীকার করে নিলেও খুব জোর দিয়েই বলেছেন যে 
ব্রন্মোপাসনাই চরম মুক্তিলাভের একমাত্র উপায় এৰং মোক্ষপ্রাপ্তির পরেও 
উপাসনার প্রয়োজন ফুরিয়ে যায় ন]। ত্রহ্মনত্রের চতুর্থ অধায়ের প্রথম পাদের 
দ্বাদশ হুত্র 'আপ্রায়ণাত্তত্রাপি হি দৃষ্টম* এর ব্যাখাপ্রসঙ্গে তার উক্তি ম্মরণীয় £ 
“মোক্ষ পর্যস্ত আত্মোপাসন1 করিবেক, জীবন্ত হইলে পরেও ঈশ্বর উপাসনার 
ত্যাগ করিবেক না যেহেতু বেদে মুক্তি পর্যস্ত এবং মুক্ত হইলেও উপাসন! 
করিবেক এমত দেখিতেছি।”*২ এই স্থত্রভাঙ্ত ছাড়া 'গায়ত্রীর অর্থঃ 
(১৮১৮ ), “প্রার্থনাপত্র' (১৮২৩), 'গায়ত্রা। ব্রন্মোপাসনাবিধানম্ (১৮২৭ ), 
'ব্রদ্ধোপাসনা" (১৮২৮ ), অনুষ্ঠান” (১৮২৯ ), ক্ষিত্রপত্রী শীর্ষক পুস্তিকাগুলিতেও 
রামমোহন তার উপাসন। সম্পফ্কিত মতামত বিস্তারিতভাবে বুঝিয়েছেন । এই- 
সব আলোচন] থেকে দেখা হায় তাঁর মতে উপাসনার ব্যক্তিগত ও সামাজিক দুটি 


১৩২ 


অঙ্গ আছে। বাক্তিগত উপাসনাতে নিগুণ ব্রঙ্গের স্বরূপলক্ষণই অবলঙম্বনীয়। 
স্ববূপচিস্তন সম্পর্কে তার নির্দেশ £ পপরমাত্মার গ্রতিপাদক প্রণব ব্যাহ্ৃতি 
গায়ত্রী ও শ্রুতি স্থৃতি তত্ত্রাদির অবলম্বন দ্বার! তদর্থ যে পরমাত্ম! তাহার চিন্তন 
করিবেন।” এই স্থত্রে আরও বলা হয়েছে, “ইন্দ্িযদমনে ও গ্রথব উপনিষদাঁি 
বেদাভাসে যত্ব করা এ উপাসনার আবশ্যক সাধন হয়।”'* এই উপাসনার 
লক্ষা নিবিশেষ আত্মজ্ঞান লাভ এবং এব জন্য প্রয়োজন শম, দম, উপবতি, 
তিতিক্ষা, সমাধান ও শ্রদ্ধা এই ছয়টি সাধনসম্পদ্‌।*৪ সম্টিগত বা সামাজিক 
উপাসন] সম্পন্ন করতে হবে সগুণ ব্রদ্দের তটস্থ লক্ষণ অনুশীলনের মাধ্যমে £ 
“পরমেশ্বরেতে নিষ্ঠার সংক্ষেপ লক্ষণ এই যে তাহাকে আপনার আমুর এবং 
দেহের আর সমূদায় সৌভাগোর কারণ জানিয়া সর্বাস্তঃকরণে শ্রদ্ধা ও প্রীতি- 
পূর্বক তাহার নানাবিধ স্থ্টিরপ লক্ষণের ছার! তাহার চিন্তন এবং তাহাকে, 
ফলাফলের দাতা এবং শুভাশুভের পিয়স্তা জানিয়! সর্বদা তাহার সমীহা করা 
অর্থাৎ এই অনুভব সর্বদা কর্তব্য যে যাহা করিতেছি কহিতেছি এবং ভাবিতেছি 
তাহা পরমেশ্বঝের সাক্ষাতে করিতেছি কহিতেছি এবং ভাবিতেছি।”* 
ব্রন্মোপাসকের লোকবাবহারের মান কী হবে এ বিষয়েও রামমোহনের নির্দেশ 
সষ্পষ্ট । আত্মোপাসক ও আত্মজ্ঞানী ভুলতে পারেন ন1 তিনি সামাজিক জীব। 
স্থৃতরাং যুক্তি ও ন্যায়সম্মত লোকবাবহার ত্বার অবশ্য কর্তব্য £ “বশিষ্ঠ, পরাশর, 
সনৎকুমার, বাস, জনক ইতাদি ত্রহ্মনিষ্ঠ হইয়াও লৌকিক জ্ঞানে তৎপর ছিলেন 
আর বাজনীতি এবং গৃহস্থবাবহার করিয়াছিলেন ইহা! যোগবাশিষ্ঠ ও মহা- 
ভারতাদি গ্রন্থে স্পষ্টই আছে। ভগবান কৃষ্ণ অজু যে গৃহস্থ তাহাকে ত্রহ্গবি্ঠা- 
স্বরূপ গীতার ছার! ব্রহ্ষজ্ঞান দিয়াছিলেন এবং অজুনও ব্রহ্মজানপ্রাপ্ত হইয়া 
লৌকিক জ্ঞানশূন্য না হইয়া বরঞ্চ তাহাতে পটু হুইয়া রাজাদি সম্পন্ন করিয়া- 
ছিলেন ।”** অপর পক্ষে সামাজিক উপাঁসকগণের সম্পর্কে রামমোহনের ছুটি 
অনুশাসন : ১. সকল ধর্মসম্প্রদায়ের প্রতি ভ্রাতৃভাবে প্রীতিপূর্ণ আচরণ কর্তব্য ** 
২. অপরে আমাদের সহিত যেরূপ বাবহার করিলে আমাদের তুষ্টির কারণ হয় 
সেইরূপ ব্যবহার আমরা অপরের সহিত করিব আর অন্ঠে যেরূপ বাবহার 
করিলে আমাদের অতুষ্টি হয় সেরূপ ব্যবহার আমরা অন্যের সহিত কদাপি 
করিব ন1।”*৮ মনে রাখতে হবে রামমোহনের দৃষ্টিতে ব্যক্তিগত ও সামাজিক 
উপাসনা পরস্পরের পরিপূরক, একটিকে ছাড় অন্যটি অসম্পূর্ণ। লামাঞ্িক 


১৩ 


উপাসনা ছৈতভূমির অন্তর্গত, এর মধ্যে ভক্তি ও অন্্রাগের বিশিষ্ট স্থান আছে; 
কিন্ত বাক্তিগত আত্মোপাসনা বা সাধনের লক্ষা অৈত ব্রহ্মজ্ঞান। তটম্থ 
লক্ষণের ছ্বারা সম্পন্ন সামাজিক সগুণ উপালন1 প্রথমাধিকারীর জন্য ; তা৷ 
অহৈত ত্রঙগজ্ঞান লাভের প্রস্বৃতির জন্য প্রয়োজন ।৯*ক এইভাবে রামমোহন 
তাঁর উপাসনার ধারণায় ছ্বৈতাহ্বৈতক্রমকে স্বীকৃতি দিয়েছেন ৷ এই পরিপ্রেক্ষিতে 
ভাস্কর ও মধ্ব-পদত্ত ৩.৩.৪. সংখাক ব্রহ্ধস্ূত্র সলিলবচ্চ তক্গিয়মঃ* রামমোহন 
নিজ ভাষা-গ্রন্থে কেন গ্রহণ করেছিলেন তা হয়তো কিছুটা বোঝাযায়। এর 
ব্যাখায় তিনি বলেন, 'সমুদ্বেতে যেমন সকল ( জল ) প্রাবেশ করে সেইরূপ সকল 
উপাপনার তাৎপর্য ইঈশ্বরে হয়।** উপাসনার এই ক্রমছয়ের সন্তোষজনক 
বাখায় শুত্রটি তার সহায়ক হয়েছিল। এই আলোচনাপ্রসঙ্গে দেখা গেল 
উপাসনাতত্বের বাখায় রামমোহন শংকরমত হতে বহু দূরে সরে এসেছেন । 
বাক্তিগত ও সামাজিক উপাসনার ক্রমদ্বয়কে মিলিয়ে তিনি জ্ঞান-ভক্তির 
সমন্বয়স্থাপনেরও প্রয়াস পেয়েছেন | এদেশের শংকবের পরবর্তী অদ্বৈতবাঁদী 
বেদাস্তাচাধগণের মধো এমন সমন্বয়ের আভাস কোনও কোনও ক্ষেত্রে দেখ! 
গিয়েছে । শ্রীধর স্বামী তার বিষ্ুপুরাণ, গীত ও ভাগবতের উপর সুবিখ্যাত 
টীকাত্রয়ে করের সমস্ত সিদ্ধান্ত স্বীকার করেও বলেছেন ভক্তিই অদ্বৈত- 
মুক্তিলাভের সর্বশ্রেষ্ঠ উপায়। স্বয়ং চৈতনাদেবের গুরুপরম্পরায় মাধবেন্জ্ 
পুরী, ঈশ্বর পুরী, এবং কেশব ভারতীও এই প্রকার ভক্তিবাদী শংকরপন্থী 
ছিলেন এমন কথা৷ মনে করবার কারণ আছে। এ ছাড়। চতুর্দশ শতকে 
বিদ্ভারণা, ষোড়শ শতকে মধুন্ছদন সবস্থতী প্রভৃতি স্থপ্রসিদ্ধ অদ্বিতিগণও 
উপাসন1 ও ভক্তিকে যথেষ্ট প্রীধান্য দিয়েছিলেন | বিগ্ভারণোর মত যেন বাম- 
মোহনেরই প্রতিধ্বনি : “উপাসনার সামর্থাবশত মুক্তির কারণ জ্ঞান উৎপন্ন 
ছয় ; অতএব জ্ঞান বাতীত মুক্তির আর উপায়াস্তর নেই, শাস্ত্রের এই উদ্ভির সঙ্গে 
উপাসনার কোনও বিবোধ নেই ।”১** রামমোহনের শান্্রীলোচনামূলক গ্রস্থগুলি 
অন্থশীলন করলে এই প্রতীতিও জন্মায় যে তাকে এ বিষয়েও প্রভাবিত করেছিল 
ভাবতীয় তন্ত্শাস্ত্।১০১ কিন্তু উপাসনা-তত্বে রামমোহনের সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য 
গ্বাতগ্ত্রা সর্বপ্রকার প্রতীক-বর্জনে । প্রতীকে আত্মদৃষ্টি না করবার প্রেরণা 
তিনি শংকরের নিকট পেয়েছিলেন একথা পূর্বেই বলা হয়েছে । অপর পক্ষে 
অন্থৈতবেদাস্তই হোক বা তত্ত্ই হোক, প্রচলিত প্রতিমাপৃজাকে কেউ বর্জন 


১৩৪ 


করেনি। এমন কি, একতত্ববাদী শংকর পর্যস্ত এ জাতীয় পৃজার্চনাকে গুকুত্থ 
না দিলেও সেগুলির ব্যবহারিক যথার্থতা অস্বীকার করতে চান নি। রামমোহন 
কিন্ত এখানে অধিকতর একনিষ্ঠ । তর্কের খাতিরে পুরাণ-তন্্-প্রোক্ত প্রতিমা- 
পূজাকে নিম়্াধিকারিগণের জন্য প্রদত্ত বিধান বলে স্বীকার কৰে নিলেও তিনি 
স্পষ্ট দেখিয়েছেন, প্রচলিত প্রতিমাবদ্ধ দেবোপাসনায় দেবদেবীতে ঈশ্বরভাব 
আরোপ করবার পরিরর্তে উপাসকগণ সর্বপ্রকার তামসিক মাম্থধবীভাবের 
আবোপই সর্বত্র করে থাকেন। হিন্ুসমাজের প্রচলিত উপাসনাবিধিতে 
নামরূপে ত্রন্মের আরোপের পবিবর্তে ব্রন্মে নামরূপারোপেরই প্রাধানা | ১০১ক 
সুতরাং যা নামে প্রর্তীকোপাসনা তা পবিণামে হয়ে দাড়িয়েছে স্থুল জড়োপাসনা । 
ঈশোপনিষদের ইংরেজি অন্থবাদের ভূমিকায় তিনি এর সামাজিক ও নৈতিক 
কুফল সম্পর্কে অতি নিপুণ ও বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ।১*১ স্থুতরাং তাঁর 
পরিকল্পিত নিগুণ আত্মোপাসনা ও সগুণ সামাজিক উপাসনা উভয়ই 
অনিবার্ধভাবে এই জাতীয় প্রতীকের সর্বসংঅববজিত। মৃতুাঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের 
সঙ্ষে বিচারে তার অন্ুতম বক্তবা ছিল, সগুণ উপাসনার অর্থ সাকার উপালন! 
নয়।১০০ সর্বশেষে বলা ষায় সামাজিক উপাসনার কেন্দ্র ব্রাহ্মমমাজ ব! 
ব্রদ্ষদভাকে তিনি যে সর্বসম্প্রদায়ের মিলনভূমিরূপে কল্পনা করেছিলেন এ 


ছিল তার সম্পূর্ণ মৌলিক দৃষ্টি। এমন স্বপ্প দেখা প্রাচীন বেদাস্তাচাধগণের 
সাধ্যাতীত ছিল। 


বেদাস্তব্যাখাতারূপে রামমোহনের চতুর্থ ও শেষ বৈশিষ্ট্য সমাজকল্যাণের 
আদর্শের সঙ্গে ব্রহ্মবাদের সামঞ্রশ্তবিধান করা । এই সমাজমৃখীন দৃষ্টি তিনি 
লাভ করেছিলেন মুখ্যত আধুনিক পাশ্চাত্য জ্ঞানবিজ্ঞানের মাধামে এ কথা 
সর্বথা স্বীকার্য। শ্রীষ্টধর্মের জনসেবা! ও মানবগ্রীতির আদর্শও তাঁর সামনে সে 
যুগে খুব বড় হয়েই দেখা! দিয়েছিল। মরমী ফাঁসর্ণ কবি সাদির যে বাণীটি তার 
অতি প্রিয় ছিল তা এই £ “মানবসেবাই ঈশ্বরের সর্বশ্রেষ্ঠ উপাসন11” এই 
মানবিকতাবাদের মনোভাব তার বেদাস্তবাখ্যাতেও প্রতিফলিত হতে দেখ] ধায়। 
হ্স্থজের অন্তর্গত 'পরেণ চ শসা তাঘিধাং ভূয়্থাত্নথবন্ধ:” ( ৩.৩.৫৩ ) সুত্রটির 
ব্যাখ্যায় তিনি বলেছেন ; “পরমেশ্বর এবং তাহার জনের সহিত অন্ুবন্ধ অর্থাৎ 
গ্রীতি আর তাছ্ধিধায অর্থাৎ গ্রীত্যহ্থকূল ব্যাপার এই দুই মুখ্য উপাসন! হয়।”১০৯ 
ঈশ্বরগ্রীতিকে ব্যক্তিস্তরে আবদ্ধ না রেখে তাত স্বপ্রাণীর মধো সম্প্রসারিত 


১৩৫ 


করে দেওয়া এবং এই প্রেমের দ্বারা লোকবাবহারকে নিয়ন্ত্রিত করার নির্দেশের 
মধোই লোকসেবার আদর্শটি রূপ পেয়েছে । সার্বভৌম প্রীতি দ্বার! উদ্ধন্ধ মানব- 
কলাণের এই আদর্শ নৃতন যুগের নৃতন মন্ত্র। এই উত্তরাধিকার রামমোহন 
রেখে গিয়েছিলেন তার ভবিষ্দ্বংশীয়গণের জন্য । পরবর্তী এক শতাবীরও 
অধিক কাল এই সেবাদর্শ নান] রপে আমাদের জাতীয় জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রকে 
সমৃদ্ধ করেছে। মহধি দেবেন্দ্রনাথ রচিত ত্রাহ্মধর্মের বীজমন্ত্র “তশ্মিন্‌ প্ীতিস্তস্য 
প্রিয়কাধসাধনঞ্চ তদুপাননমেব” (ঈশ্বরে প্রীতি ও তার প্রিয়কার্ধসাধমই তার 
উপাসন। ) বা স্বামী বিবেকানন্দের “জীবে প্রেম করে যেই জন সেই জন সৈবিছে 
ঈশ্বর”_ উক্ত মূল বাণীরই বিভিপ্ন রূপ । সাধারণ মানুষের প্রতি এই অন্রাগকে 
রামমোহন নানা স্থানে প্রীতি' “সেহ'১** দয়া'১০৬ ইত্যাদি নামে অভিহিত 
করেছেন। সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগা এই যে তিনি তার শান্ত্রবিচারমূলক প্রথম 
গ্রস্থেই (১৮১৫) এই প্রত্যয়টিকে তার বৈদাস্তিক তব্বসিদ্ধান্তের অঙ্গীভূত করে 
নিয়েছিলেন । এ ব্যাখা! অনন্ত । এই উদার মানবপ্রীতির মন্ত্রে কোনও 
প্রাক্তন বেদাস্তভাষ্যকারই দীক্ষিত ছিলেন না। শংকর বা অন্য কোনও 
ব্যাখাতাই আলোচা স্থত্রের এমন অর্থ করেন নি। 

বেদান্তভাম্তকার ও বৈদাস্তিক রূপে রামমোহনকে মুলায়নের যে প্রচেষ্টা 
কর] গেল তাতে সম্ভবত প্রমাণিত হচ্ছে যে তিনি ভারতবর্ষের এ্রতিহাগত ধারাঁর 
শেষ বেদাস্তভাঘকার ও সেই সঙ্ষে আধুনিক কালে এদেশে বৈদাস্তিক চিন্তাধারার 
যুগোপযোগী নববপায়ণের অগ্রদূত। পূর্বেকার অতি ক্ষীণ বেদাস্তচর্চার ধারাকে 
গণ্তিবদ্ধ বক্ষণশীল মনোভাবের বিরুদ্ধে একক সংগ্রামের মাধামে তিনি প্রবল 
শ্রোতশ্থিনীতে পরিণত করেন। আচার শংকরের পরম ভক্ত হয়েও তিনি তার 
অন্ধ অনুসারী নন। অহৈত ত্রক্ষতত্বকে তিনি গ্রহণ করেছেন, কিন্তু প্রাচীন 
পদ্ধতির শিক্ষার্ম এ তত্ব যে সর্বদা সামাজিক প্রগতির উপযোগী হয় না এ সম্পর্কে 
তিনি সম্পূর্ণ চেতন । তাই নৃতন পদ্ধতিতে পাশ্চাত্য জ্ঞানবিজ্ঞান ও তুলনামূলক 
ধর্মতত্বের সঙ্গে সমদ্থিত করে বেণীস্ত অধাযাপনার জন্য তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন 
নৃতন শিক্ষায়তন | গৃহী, নন্গ্যাসী সকলের জন্য নির্বিচারে ত্রহ্ধজ্ঞানের অধিকার 
উক্ত করে সামাজিক জীবনে বেদাস্তকে প্রতিষ্ঠার ব্যাপারেও তিনিই অগ্রণী। 
বেদান্তের ব্রদ্ষবাদকে আশ্রয় করে উদ্দার অসাম্প্রদায়িক নিরাকার উপাসনা- 
পদ্ধতির অষ্ঠাও রামমোহন যার মধ্যে ব্যক্তিগত ও সামাজিক উভয় উপাসনারই 


১:5৩ 


ক্রমানুসারে স্থান আছে। সর্বোপরি মানবপ্রেম ও সেবাধর্ষকে ব্রহ্ষবাদের 
অস্তভূক্ত করে তিনি উনবিংশ শতাবীর নব মানবিকতাবাদের ভিত্তিও স্থাপন 
করেছেন বেদাস্ত-দর্শনে যা কোনও প্রান্তন আচার্ষের হার! সম্ভব হয় নি। 
বৈদাস্তিক হিসাবে ভার এই কীন্তিসমূহের কথা শ্মরণে রাখলে বোঝা! সহজ হয় 
কেন তার সমকালীন প্রাচ্যবিষ্যাবিশারদ সংক্কতজ্ঞ হোরেস হেমান উইলসন 
তাঁকে তাঁর সময়কার অদ্বিতীয় বেদাস্তজ্ঞ জেনে শংকরাচার্ষের কালনি্ণয়েব প্রশ্নে 
সমকালীন প্রাচীনপস্থী দেশীয় পণ্ডিতগণকে উপেক্ষা কবে তার শরণাপন্ন 
হয়েছিলেন ,১০+ আব কেনই বা তার মৃত্যুর পর, “সমাচার-দর্পণ” পত্রিকাঁ_যা 
তার জীবদ্দশায় তার প্রতি সর্বদা প্রসন্ন ছিল না--১ মার্চ) ১৮৩৪ সংখায় এক 
শোক-গাঁথা প্রকাশ করে লিখেছিল £ 


“বেদাস্তশান্ত্রের অন্ত নিতান্ত এবার । 
স্তব্ধ হইয়া শবশান্ত্র করে হাহাকার ॥”১০৮ 


প্রমাণপঞ্জী £ 


১. বিভিন্ন যুগে রচিত এই সাম্প্রদায়িক বেদাস্তভাস্তগুলির তালিক! সম্পর্কে দ্রষ্টবা 
এ. মি. ৯001085154৮ 086106 ০ 1617670%8 27061516160 17476505192) 1990, 
92977 5. 00500800180005105 276 20170 58051095490) 1990, 9. 1 । যে 
ধর্মসংপ্রদায়গুলির নিজব্য বেদাস্তভান্ত ছিল ন! ভার! ক্রমশ অপাঙ.ক্তেয় হয়ে দর্বল হয়ে পড়েন 
ও অবলুপ্তির পথে যান। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যায় সম্প্রদায়গুলির মধ্যে বার! বেদাস্তভান্ 
রচনা করেন নি তারাও প্রয়োজনমত নিজ নিজ মতের বৈদান্তিক ব্যাখ্য। দিতে পশ্চাৎপদ 
ছিলেন না। এর অন্কতম উদাহরণ অধুনালুণ্ড সুধোপাসক সৌর সম্প্রদায়। এ'দের কোনও 
স্বতন্ত্র বেদাস্ততাস্ত ছিল বলে জান। নেই। কিন্ত অ|নন্দগিরি প্রণীত *শংকরবিজয়, গ্রন্থের 
অয়োদশ প্রকরণে বণিত শংকরাচার্ধের সঙ্গে সৌরগণের বিচারপ্রসঙ্গে সৌরগণকে বেদীস্তমত 
শুকাশ করতে দেখা যায়। পূর্বপক্ষে তাদের মৃখ দিয়ে বলানো! হয়েছে £ *সূর্যই পরমাত্ম। ও 
জগৎকারণ।..আমর] শুর্ষের সর্বাত্মত্ব ও পররক্্াত্ব প্রতিপাদন করে থাকি” ( “সূর্য এব পরমা 
ঈিসংকারণং বর্ততে ।...আত্যাং হি সূর্যন সর্বাস্ত্বং অন্যৈব চ পরক্রন্ত্বং প্রতিপাদিতং ভবতি'-- 
'শিংকরবিজয়+, জয়নারায়ণ তর্কপঞ্চারম সম্পাদিত সংশ্বরণ, কলিকাত1, ১৮৬৮, পৃ.৯৪)। 
গোঁড়ীয় বৈফব সম্প্রদায় নিজন্ব বেদাত্তভান্ের অভাবে দীর্ঘকাল সর্বভারতীয় বৈফবসমাজে পূর্ণ 
মর্ধাদা পান নি। অষ্টাদশ শতাম্বীতে বলদেব বিভাতৃষণ, ব্গসৃত্রের গোবিশভান্ত রচনা করে 


১৩৭ 


এই অভাৰ দুর করেন। জবা ৪. 0. 106. 20119215101 ০ 6০ ড2151/5286 2670 
010 18105617676 2 1361726] (186 5৫. ) 08100668, 2949, 00. 17 

২, শ্বর্গত হীরেজনাথ দত্ত কতৃক তার 49810078096 ৪ ড5৩৫৪০৪1৪৮ প্রবন্ধে 
উদ্ধৃত ॥ জরষ্টবয ৬159৫ 70507461 094166115 0158০16 811615085 ই ০005০ 80540০৮০৮৪৮, 
1941, 7), 9] 

৩,7৮6 24061 07 11061 17507, 2815 15001000100 1৮০5 060109207 
(007076100018 810) ০0107). 08160668, 1996, 28৮ 71, 0. 169 ূ 

৪. চন্দরশেখর দেব, 49810110789810088 ০01 1877070)01)02) 79০5.) তত্ববোধির্সী পত্রিকা, 
অগ্রহায়ণ ১৭৯৪ শক, পৃ. ১৩৯-৪০ ! 

৫, 00011600469 

৬. ব্রজেলনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, রামমোহন রায় (সাহিত্য-সাধক চরিতমালা! ১৬), 
পঞ্চম সংহ্করণ, পৃ, ৬৩ 

৭, 00118, 0. 460 

৮. 11৫ 

৯». 181. 0. £58-59। আমহার্টকে লিখিত রামমোহনের শিক্ষাবিষয়ক পত্রথানি 
পাশ্চাত্য শিক্ষাসম্পর্কে ভার দৃষ্টিভঙ্গির সৃচকরূপে কীতিত হয়েছে। কিন্ত এই পত্রে দেশে 
সংক্কৃত-শিক্ষার সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণ বিষয়ে তিনি ইঙ্গিতে যে সৃচিন্তিত প্রস্তাব করেছিলেন 
ভার শিক্ষা-চিস্তার আলোচনাপ্রসঙ্গে তা বিশেষ উল্লিখিত হতে দেখ| যায় না। একসময়ে 
দেশের টোল-চতুল্পাঠীসমূহের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন রাজ] ভুম্বামী প্রভৃতি সমাজের বিত্তশালী 
সম্প্রগায়। আধুনিক যুগে ধীরে ধীরে এই সমর্থন ক্ষীণ হয়ে এসেছে। কিন্ত তার পরিবর্তে 
শাসক-সন্প্রদায় যেটুকু সাহাযা দিতে অগ্রসর হলেন ত৷ নিতান্ত অকিধিৎকর। ফলে 
সংস্কৃতচর্চার এই প্রকৃত প্রাণকেন্দ্রগুলির শক্তি প্রার নিঃশেষিত ও ম্বন্ম বিদ্যায় ব্যুৎপন্ন 
পঙ্িতসম্প্রলায়ও খঅবলপ্তির পথে । রামমোহন-প্রন্তাবিত পথে ঘথাসময়ে সরকারের সংস্কৃতি" 
শিক্ষানীতি নির্থারিত হলে প্রাচীন সংস্কৃত-শিক্ষাপদ্ধতির ও সংস্কৃতচর্চার এ দবরবন্থ! হত ন1। 
সাম্প্রতিক কালের সংস্কত-গবেষকগণের মধ্যে এ-সম্পর্কে রামমোহনকে কৃতজ্ঞতাভরে ম্মরণ' 
ফয়েছেন সম্ভবত একমাত্র পঙ্ডিত দীনেশচন্দ্র ভট্টাচার্য । দ্রষ্টবা "বঙ্গে নবাচ্যায়চর্চ।”) বাঙালীর 
সারস্বত অবদান, প্রথম ভাগ, কলিকাতা, ১৩৪৮, পৃ. ৩১৬, পাটাকা ৭ 

১০. 00116. 0. 189: আশ্চর্যের বিষয় ব্রজেল্্রনাথ বঙ্যোপাধায় তার 'রামমোহন 
ঝায়ঃ (সাহিতা-সাধক-চরিতমাল। ) গ্রন্থে কুত্রাপি রামমোহন কতৃক এই বেদাস্ত-বিদ্যালয়- 
স্বাপদ-্প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন নি। সাধারণভাবে বণ্তমানে বীছ্া রাহমোহ্নের শিক্ষাসংস্কার- 
নীতির আলোচন। করে থাকেন তাদের অধিকাংশ পাশ্চাত্য শিক্ষাধিস্তার-কল্লে রাযযোহনের 
চিন্তা ও কাধাবলীর উল্লেখ করলেও তার বেদাস্ত-বিভ্ঞালয় সম্পর্কে নীয়ষ । 

১১, ভারতপধিক রামমোহন মায়, রধাল্-শতবাধিকী সংস্করণ, বিশ্বভারতী, ১৩৬৬৮ 
পৃ. ৭৪ 


ঠ ৩৮ 


৯২. ভা, আ৬:৫, 98০০0470০16 চ7াচদহ৩, £601৫৮0% 2৮৫10017763 ০1 11 
17752005, ০). 7 9525198 81881007985, 8880920016১ 1811, 0. 199 

১৩, 10, 0, 199 

১৪, 1৮৫, 0. 959 

১৫, সংক্ষিপ্ত 'বিবরণ নামটি থেকে সঠিক অনুমান কর] কঠিন, কোন্‌ গ্রন্থটির উল্লেখ 
এখানে অভিপ্রেত। এই প্রসঙ্গে নৃসিংহাশ্রম মুনি প্রণীত *প্ধপাদিকা?র টীক। “বিবরণতাব- 
প্রকাশিক।; শীর্ষক গ্রস্থখানির নামও মনে পড়ে । 

১৬, ভা, ৬৭, & 764০ 07 61৮6 12656019, 17106101616, 0৮৫. 14500001029 ০767৫ 
17052005 (89০০00 8016100 ), ড০]. , 86:৯007০:9, 1818, 08০6৪: ভা (01006 
ঢ799626 96869 ০1 198121086 80008 61917209008 )১, 95০61০00 ]1 (00118899 ), 200. 
68৪৪-94 । 

১৭. 11180 40510, 8690171501৮ 016 51016 ০7 50০2101% 17 81)201 (17895 
27৫ 71838 ) 50. 4. 9580, 01018979165 01 0510066৬), 1941 70, 16-99, 60-61, 61- 


5৪, 70-78, 7৮-8, 85-86, 98, 96-96, 2109-04, 206.07, 119-14, 119-99) 186-84, 
259-17 


১৮. 106 00, 180-81 

১৯, 11008807091 2181610520106 2251015447611%16163, 20০67%70 274 
362015065 01 1525061৮102, ০1 [1 (10০950০09 1898) 7. 718 

২০, 10/2, ০1. 11) 1.90002$ 1898, 8০. 193, 605 

২১, ব্রঙ্গেন্্রনাথ বন্যোপাধ্যায়, কলিকাতা সংস্কৃত কলেজের ইতিহাস প্রথম থণ্ড 
১৮২৪-১৮৫৮ কলিকাত|, ১৩৫৫) পৃ, ২২-২৪৪ ৪০ 

২২. ব্রজেন্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে মৃত্যুঞ্জয় বিস্তালঙ্কার বাগবাজারে অবস্থিত তীয় 
নিজয় চতুম্পাঠীতে বেদাস্তাদি শাস্ত্রের অধ্যাপনা করতেন; প্রব্য-“্ৃতুাগ্রয় বিদ্তালম্বারণ, 
সাছিত্য-সাধক-চরিতমাল!, চতুর্ধ মুদ্রণ, ১৩৫২, পৃ. ২৬-২৭। কিন্তু সমকালীন সাক্ষা থেকে 
জান! যায় মৃত্বাপ্তয় চতুষ্পাঠীতে স্যার ও ম্বতির অধ্যাপনাই করতেন, যেদাস্তের নম্ন। 
শ্রীরামপুর ব্যাপটিস্ট. মিশনের পাদ্রী ওয়ার্ড ার পূর্বোক্ত গ্রন্থের দ্বিতীয় সংদ্করণে লিখেছেন 
কলিকাতার তদানীত্তন টোল-চতৃষ্পাঠীগুলিতে প্রধানত ন্যায় ও শ্মতি শান্রন্থয় পড়ানো! হত 
এবং এই ন্যায় ও শ্মৃতির অধ্যাপকগণের মধ্য মৃত্যুয় অন্যতম হ্থিলেম। তার বাগবাক্ধায়ের 
চতুষ্পাঠীতে ১৫ জন ছাত্র অধায়ন করত (“105 161105%7758 5200208 6১6 ০০118£৩ ৪৩ 
19800 80 0519086৬ 500 578 60888 6106 73550. 5200 810021665 9888708 85 
চ:100171 650856 2-পতযতত)০5৭ 10501008585 01 985808587,01690 ৫168০, 
জা. ৮/৬:৫, &, 54৬১ ০ 0৮6 1715409, 186106512, 01001 115001985০1 04 চ2৮2০05 
৪৪০০০ 78,» ০], ৪৪:%০০, 1819, 2. 69399) | শ্রীরামপুর ব্যাপটিস্ট. মিশনের 
বাজকগণ মৃত্যুঞ্জ়কে ঘনিষ্ঠভাবে জানতেন-_তাই ওয়ার্ডের উক্তি বিধ্যা হবায় কোনও কারণ 


১৩$ 


নেই। সৃতরাং দেখা যাচ্ছে, সৃত্বাপ্রয় সমকালীন কলিকাতায় ঘন্তান্ত পঞ্ডিতগণের মতে! 
জায় ও শ্বতির অধ্যাপনাই করেছেন ॥ বেদাস্তের সঙ্গে কিছু পরিচয় থাকলেও তিনি ঘে কদাচ 
বেঙাস্তের অধ্যাপক ছিলেন এ বিষয়ে প্রমাণ1ভাব | 

২৩. 'কবিতাকারের সহিত বিচার”- গ্রন্থাংলী-১, পৃ. ৬৮) “ঈীশোপনিযৎএর ভূষিকার 
“অনুষ্ঠান অংশেও রামমোহনকে এই বলে আক্ষেপ করতে দেখা যায়, বিরেধীপক্ষ তার 
বেশাস্তের বাংল! ভাস্তকে অশান্ত্ীর আধুনিক মত আধ্য। দিয়ে পাঠকগণকে তার অনুশীলন 
থেকে নিবৃত্ত করবার চেষ্ট। করছেন- দ্রষ্টব্য 'ঈশোপনিষৎ, গ্রন্থাবলী ১, পৃ. ০৪ 

২৩. (ক), “পাষগুগীড়ন'-গরস্থাবলী ৬, পৃ" ৫৬ ॥ “পথ্য প্রদান, গ্রস্থাবলী ৬, পৃ. ৪১ 

২৪. “বেদাভ্তচন্জ্রি ক!» গ্রপ্বাবলী ১, পৃ ১৩১ 

ক, তদ্দেব, পৃ. ১৫২ 

২*, “কবিতাকারের সহিত বিচার”, গ্রস্থাবলী ২, পৃ. ৭১ 

২৭, 0০119, 0১, ৪-9 

২৮, 0০01186, 00. 14-15,419 ॥ এলাহাবাদ কেন্ত্রীয় মহাফেজথানায় রক্ষিত 'বেনারস 
কমিশপার দক -তর'এর 11780611808008 চ%5206 7880০:88-এ ১৮০৩ ব্রীষ্টাবন্দের মার্চ$ এপ্রিল, 
মে, ভুন, জুলাই মাসের কর্মরত কর্মচারিগণের তালিকায় রামমোহন রায়ের নাম উল্লিখিত 
জাছে। শিকাগো বিশ্ববিদ্তালয়ের ইতিছাসাধ্যাপক প্রয্টিফেন, এন, হে. অনুগ্রহপূর্ক এই 
'তখাটি বর্তমান লেখককে জানিয়েছেন। অবহ্য এই উল্লেখ খুব স্পষ্ট না হলেও ১৯০৩ খ্রীষ্টাব্দের 
কোনও সময়ে যে রামমোহন কাশীর সরকারী রাজত্ব-বিভাগের কর্মচারী ছিলেন এতে তা 
প্রমাণিত হুয়। ১৮০৫ ত্রীষ্টাবধে রামমোহন সিভিলিয়ান জন ডিগবির অধীনে কর্মগ্রহণ করেন 
ও যথাক্রমে তার সঙ্গে রামগড়, যশোর, তাগলপুর ও রংপুরে অবস্থান করেন। এর মধ্যে 
ভার রংপুর-প্রবাস (১৮*৯-১৮১৫) দীর্ঘতম । ১৮০৩ থেকে ১৮০৫ ভার গতিবিধি সম্পর্কে 
আমাদের জ্ঞান খুব ম্পষ্ট নয়। এই সময়ের যধ্যে পুনর্বার কাশী-গতায়াতের সম্ভ।বন! 
একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ব্রজেন্রমাথ বন্দ্যোপাধ্যায় অনুমান করেছেন, 
রামমোহনের সংস্কৃত শান্তে অধিকার বহুল পরিমাণে তার গুকুস্থানীয় অন্তরজ নল্াকৃমার 
বিভ্ভালঙ্কার বা! হরহরানলদ তীর্ঘামী কৃলাবধূতের নিকট প্রাপ্ত শিক্ষার ফল। চোদ্দ বৎসর 
বয়সে নিজগ্রাম রাধ'নগরে রামমোহন এর সঙ্গে পরিচিত হন (রামমোহন রা, সাহিত্য- 
সাধক-চরিতমালা, পৃ. ১৩) । আজীবন রামমোহন একে অসীম শ্রদ্ধা ও এর নিকট 
শান্রাধ্যযঘন কবে এসেছেন। সম্গযালজীবনে হরিহরানন্গও কাশীবাসী হগেছিলেন, যদিও 
রংপুরে ও কলিকাতায় ইনি রামমোহনের সঙ্গে কিছুকাল জতিবাহিত করেন । হরিহরানল্ের 
বিশেষ ব্ুৎপত্তি ছিল স্তায় এবং তত্ত্রশান্তঘয়ে। রামমোহন তার নিকট বিশেষভাবে 
উদ্ত্রশান্্রই অধায়ন করেছিলেন । ইনি যে রামমোহনের বেদান্তের আচার্য ছিলেন এমন 
প্রমাণ নেই। [ত্ষ্টবা 00116, 29. 101-09। নগে্রনাথ পৃ. ৭০৬-০৮ ) অ্রজেত্রনাথ 


বন্দোপাধ্যায়, বামচত্ত্র বিভ্ভাবাগীশ, হরিহরানন্দ তীর্ঘন্বামী, সাহিত্য-সাধক-চরিতমালা, 
ঘিজীয় সংস্করণ, পৃ. ৩১-৩২ )। 


১৪৬ 


২৯. রামমোহন রচিত ও প্রকাশিত 'গীতা'র পল্ভানৃধাদ বর্তমানে যে পাওয়া যায় না ত 
অত্যন্ত ছঃখের বিহর। বেদাস্তের স্বতিপ্রস্থান “গীতা*র মর্মার্থ সম্পর্কে তার বক্তব্য কী ছিল 
তা জানতে স্বভাবত কৌতুহল হয়। ১৮২৯ ক্ীষ্টাবে প্রকাশিত গার পহছমরণ বিষয়) গ্রন্থে 
তিনি স্বকৃত গীতানুবাদের উল্লেখ করেছেন : *'সহমরণাদিনূপ কাম্য কর্মের নিন্দা ও নিষেধের 
ভরি প্রমাণ গীতাদি শাস্ত্রে দেদীপ্যমান রহিয়াছে তাহার কিঞিৎ আমাদের প্রকাশিত 
ভগবদূগীতার কতিপয় প্লোকে ব্যক্ত আছে'**।” (শ্রস্থাবলী ৩) পৃ. ৫৬) মনীষী রাজেগ্রলাল 
মিশ্র ১৮৫৮ ব্রীষ্ঠান্ে ভাগবত পুরাণ, একাদশ দ্বদ্ধের এক বঙ্গানববাদের আলোচনা-প্রসঙ্গে 
রামমোহন-কৃত গীতা-অনুবাদের অকুই্ট প্রশংসা করেছিলেন (বিবিধার্ঘ-সংগ্রন্, আধা 
১৭৮* শক, পৃ, ৭২) আরও ত্রষ্টবা, ব্রজেন্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, রাষমোহম রায় (সাহিতা" 
মাধক-চরিতমাল|) পঞ্চম সংস্করণ, পৃ. ৯৬-৯৭। "গীতা'কে রামমোহন সর্ধশান্ত্রসার জ্ঞান 
করতেন (্রষ্টব্য *-**এবং লকল শ্মতি, পুরাণ, ইতিহাসের সার যে ভগবদগীত৷ তাহাতে 
লিখিতেছেন...”, সহমরণ বিষয়ে প্রবর্তক ও নিবকের সম্বাদঃ ১৮১৮, গ্রন্থ! বলী ৩, পৃ. ৭ )॥ 
এবং অনেক সময়ে বন্ধুদের বলতেন, ''গীতার কথ! শুনেন! যে, তার কথ শুঁনযে কে?” 
(নগেশ্রনাথ, পৃ, ৩৪৬)। আমাদের নবজাগরণের চিস্তাধারার সঙ্গে ভগবদৃগীতার সম্পর্ক 
অতি ঘনিষ্ঠ ॥ বন্ছিমচন্র, টিলক, অরবিন্দ, গার্ধীজি প্রভৃতির গীতাভাম্বই তার প্রমাণ। 
রামমোহন এক্ষেত্রে এ দের পূর্বসূরী। 

৩০ রামমোহন প্রকাশিত ব্র্দসৃত্রের শাংকর ভায়ের সংগ্থরণ বর্তমানে অতি ছুপ্রাপ্য। 
কলিক।ত। সংস্কৃত কলেজের গ্রন্থাগারে এর দুইখানি আছে (021010886০1 521751776 70001$ 


ঢা) 06 3০৬67717766 501510760011586 17509, 06101625 ড5৫5065 ০৪, 989 
৪06 940 ]। 


৩১. রাজনারায়ণ বসু ও আনল্চন্ত্র বেদান্তবাগীশ সম্পাদিত রাজ। রামমোহন রায় প্রণীত 
্রস্থাবলী, কলিকাতা, ১৮৮০, পৃ, ৮১২ 

৩২, চন্দ্রশেখর বসু, বেদাস্ত-প্রবেশ ( কলিকাতা, ১২৮২), পৃ. ১৫০-৪১ 

৩৩, “গোত্বামীর সহিত (বিচার'--গ্রস্থাবলী ২, পৃ. ৫৭ ১ 716 818185 ০] 1117055 ০6? 
4/75665051 07006169 (8880) গ্রন্থেও [তিনি এই বচন উদধূত করেছেন । সেখাৰে 
প্রথম পঙ.ক্রির শেষাংশের পাঠ_“ন কর্তব্যোহ্ধ নিয়ত; ভব, 78119 চ70114, 
৮৮৯ 2) 0. 300 

৩৪, 10005 [8008118) 11508186100 01 0006 060 0081058180---] 06000061010 - 
78115 70115 283 109 5,115; এই সম্পর্কে মনীবী ব্রজেন্ত্রমাথ ঈীলের উক্তি স্মরণীয় £ 
৭১১০) 91680600913 8 606 268০0286500) ০01 1015 60618619 18581 0805 & 206ব7 ওয় 
০1 656 02580808 80৫. 007:0086 ০01 89180964728] ৪061)02167, 1719 09015160. 61086 80৪ 
1185৬ ০৫ 100155008] 158807) 2080 6০ 05 16907001166 জা$8) 606 596007165 01 68৪ 
৪০:80587৩5 9৪ :91১08$607595 ০ 6156 ০০16৩6$%5 850000 ০£ 6006 28০5. 26100572688 02 


20: 50615032867 86 ৪81688 (0: 6006 80108:096 ০1 1106) 100 6106 01005718106695 ৪0৫8. 


১৪৯. 


9810068598 01 0087018 20028] 800 10691190638] 90010110628, 506. 60১৬ 25001003117 
81800 ০1 8158 6৮০ 0877 810706 10770181) 8000) 60108006 8৪ 19 &ড%118016 ৮০ 00805 


£21180740% 0186 0161501201৮ (18৮ 6. 885৫1089782) 9150000 957002) 08৯16066৬ ) 
0. 18 


৩৪, 08090692175 10695 0. 98 

৩৬. ব্রাক্ষণ সেবধি, সংখ] ২ 5 গ্রস্থাবল ৫. পৃ. ১৫, ১৬) এ ক্ষেত্রে রামমোহনের 
সিদ্ধান্তের সঙ্গে শংকরাচর্যের মতের সম্পূর্ণ মিল। ব্রন্থসূত্তের "স্বত্যনবকাশদোষ প্রামঙ্গ ইতি 
চেন্াস্স্বত্যনবকাশদোবপ্রসঙ্গাৎ (২. ১.১,) শীধক সৃত্রের বাথ্য! প্রসঙ্গে শংকর বলেছেন, 
“বেদত্য ছি নিরপেক্ষং স্বার্থে প্রামাণ্যং রবেরিব ন্ূুপবিষয়ে ; পুরুষবচসাংস্ত মুলান্তরাপেক্ষং 
বত্তৃম্বতধ্যবনহ্িতঞ্চেতি বিপ্রকর্ষঃ1,' মর্মার্থ £ “নুর্ধালোক যেমন ন্দপবিষয়ে প্রত্যক্ষ গান 
জন্মায় তেমনি বেদ ম্বত:প্রমাণ । কিন্তু পুরুষষাক্য (স্মৃতির বচন) মৃলসাপেক্ষ ( শ্রুতিনির্ভর ) 
এবং (সেইহেতু) দ্বরাবস্থিত (অর্থাৎ পরোক্ষ) জ্ঞানের জনক'। অন্তত ব্রহ্মনুত্রের, 
*আপিসংরাধনে প্রত্ক্ষানৃমানাভ্যাম্‌” (৩ ৭, ২৪*) শীর্বক সৃত্রের ব্যাখ্যায় শংকর “গুত্যঙ্গ” 
অর্থে শ্রুতি এবং “অনুমান? অর্থে স্মৃতি ধরেছেন (প্রত্যক্ষানুমানাভাং শ্রুতিম্মতিভ্যামিত্যর্ঘঃ)। 
এই সৃত্রের নিজকুত ভাস্তে রামমোহনও শংকরকে অনুসরণ করে বলেছেন, “সংরাধনে অর্থ1থ 
সমাধিতে ব্রদ্ধত্জে উপলব্ধি হয় এইপ প্রত্যক্ষে অর্থাৎ বেদে এবং অনুমানে অর্থাৎ স্মৃতিতে 
কছেন।”--“বেদাস্তগ্রস্থগ্রস্থাবলী ২, পৃ. ৭৩ ) মীমাংস! শান্রে শ্রুতি-শ্বতি-পুরাণাদির প্রামাণ্যের 
আপেক্ষিক গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত ও সুল্ষ্রবিচার আছে, ভ্রষ্টবা ঘু, 0. 887181 
74712158165 01 1766101512100% (0816568 1909 ) 0, 982-98 

৩৭. "মাও,ক্যোপনিষৎ £ ভূমিক! গ্রস্থাবলী ১* পৃ. ২৪৪) *লে কেবল বেদশিরোভাগ 
উপদিধদ্‌ হয়েন? উক্তি রামঘোহ্নের নিজের ব্যাখ্যা, মূলে নেই। রামমোহন এর যথাযথ 
অনুবাদও অন্যত্র করেছেন, দ্রষ্টব্য, 'মুণ্ডকোপনিধৎ ঃ গ্রস্থাবলী ১, পৃ.২৬০। আরও দ্রষ্টব্য 
“চারি প্রশ্নের উত্তর? : গ্রন্থাবলী ৬, পৃ. ১০ 

৩৮. শংকর: অধ্যাসভান্ত : "'দেহেল্রিয়াদিবছংমমাভিমানহীনস্ত প্রমাতৃদ্ধানুপপত্বৌ 
প্রমাপপ্রবত্তানবপপত্তেঃ। ন হি ইন্দ্রিয়াণানুপাদায় প্রত্যক্ষাদি-ব্যবহারঃ সম্ভবততি। ন 
চাসধ্যত্তাত্বভাবেন দেছেন কশ্চিৎ ব্যাপ্রয়তে। ন চৈতশ্মিন সর্বন্মি্নসতি অসলস্যাত্মনঃ 
প্রমাধত্বনুপপভতে। ন চ প্রমাতৃত্বমত্তরেণ প্রমাণপ্রবৃত্তিরস্তি। তল্মাদবিস্কাবছিষরাণ্যেব 
গ্রতাক্ষাদীনি প্রমাণ।নি শান্ত্রাণি চেতি।**শস্ত্রীয়ে তু ব্যবহারে যস্তপি বৃদ্ধিপূর্বকারী 
নাবিদিত্বাজনঃ পরলো কনম্থন্ধমধিক্রিয়তে, তথাপি ন, বেদা স্তবেত্তমশনায়া স্কতীতমপেতব্র্গক্ষত্- 
ছিভে্মসংসাধাত্মতত্বমধিকারেহপেক্ষাতে অনুপযোগাদধিকারবিরোধাচ্চ।, বৈদিক কর্মকাণু- 
ছ্লিতিক দুর্বশীমাংস! দর্শনের প্রবস্তাগণের সঙ্গে জ্ঞানমার্গাবলম্বী শংকর ও তার অনুগামিগণের 
এই বিষয়ে দীর্ঘকাল তীত্র বাদানুবাদ চলেছিল। শংকর-শিক্প সৃরেশ্বর তার “নৈকর্ম্য সিদ্ধি 
নানক মুহনি্ধ গস্থের প্রথম অধ্যায়ে বিস্তারিতভাবে মীমাংসকগণের মত খগ্ডনপুর্বক 
জ্ঞাননার্ের শ্রেওন্ধ স্থাপনে প্রবন্ধ করেছেন। উদ্াহরণন্বূপ উষ্টব্য, নৈষবর্স্য সিদ্ধি ১1৫৪, ৯৯ 


১১৬৭ 


৩৯, শাংকরভান্ত, ব্রদ্মসৃত্র ৩. ৪, ৩৬. (অস্তর! চাপি তু তন্দষ্টেঃ) ( ৩, ৪. ৩৭, (পিচ 
শ্মর্তে)॥ রামমোহন এই ছু সৃত্রের ভাস্তে শংকরকেই অনুসরণ করেছেন, যখ। *.*.*আশ্রমের 
কিয়া বিনাও জ্ঞান জন্মে) রৈক্য প্রভৃতি অনাশ্রমীর জানের উৎপত্তি হইয়াছে এমত নিদর্শন 


বেদে আছে। শ্বতিতেও আশ্রম বিন! জ্ঞান জন্মে এমত নিদর্শন আছে ।»--বেদাস্তগ্স্থ ঃ 
্রস্থাবলী ১. পৃ. ৯৬ 


৪০. “সুত্রঙ্গণা শাস্ীর সহিত বিচার" খস্থাবলী ৯, পৃ. ৯৮ 

৪১, বেদান্তপ্রস্থ £ ভূমিকা] £ গ্রস্থাবলী ১, পৃ, ৩) আরও দ্রষ্টব্য, কবিতাকারের সহিত 
বিচার) গ্রন্থাবলী ২, পৃ. ৮৪; 4৯ 70915095 ০ 1110000 70088870057) 291] 6০ ১০6 8০৮৯০ 
0180 80090866101 [00196 &6 21801:88 ১ 57)61151, চ70115 28. 21, 08৮ 1 [0081180 
গ8208186100 01 6709 [09001080181880 ; 17000000680) 75%/61151) 57015 2৮. 10, 0. 14. 

৪২. ঈশোপনিষৎ ; ভূমিকা । গ্রন্থাবলী ১, পৃ, ১৯৫-৯৬। রামমোহন রায়, উপনিষদ 
(সাধারণ ব্রাঙ্ষসমাজ, কলিকাতা, ১৯৭০ ) পৃ. ২০, ২৩ $ আরও ডষ্টব্য, বেদাত্তপ্রন্থ : ভূমিক1 : 
রস্থাবলী ১, পৃ, ৬ £ মাও,ক্যোপনিষৎ ভূমিক! ) গ্রস্থাবলী ১, পৃ. ২৪৪-৪৫ 

৪৩, ব্রান্ধণ সেবধি-__সংখ্য। ২, গ্রস্থাবলী &, পৃ, ১৪-১৫ ) আরও দ্রষ্টব্য, গোস্বামীর সহিত 
বিচার £ গ্রস্থাবলী ২, পৃ. ৪৯-৫০ 2 পথ্যগ্রদান £ গ্রস্থবলী ৬, পৃ ১৩২-৩৩ ; কায়স্ত্ের সহিত 


মন্তপান বিষয়ক বিচার, গ্রস্থাবলী ৬, পৃ. ১৮৪ ॥ পরবর্তাঁ চতুর্ধ অধ্যায়েও এ সম্পর্কে কিছু 
আলোচন। কর! হয়েছে। 


৪৪. ব্রন্মনিষ্ঠ গৃতস্থের লক্ষণ £ গ্রস্থাবলী ৪, পৃ. ৩৩ 

8২. গোন্বামীর সহিত বিচার £ গ্রস্থাবলী ২, পৃ. ৫২) আরও গ্রষ্টব্য, স্মরণ বিষয়ে 
প্রবর্তকের ও নিব্তকের সম্বাদ £ গ্রন্থাবলী ৩, পৃ. ৫, ৮; সহ্মরণ বিষয়ে প্রবর্তক ও নিবকের 
দ্বিতীয় সম্বাদ £ গ্রন্থাবধলী ৩, পৃ, ৩১-৩৩ 

৪৬. এই উক্তি সাধারণভাবে আদি ভাস্ুকারগণ সম্বন্ধে প্রঘোজ্য । উত্তরকালে এদের 
নিজ নিজ সম্প্রদায়তৃক্ত অনুব্তিগণ কোনও কোনও স্থলে কিছু অতিরিক্ত প্রমাণ স্বীকার 
করেছেন, যেমন অহ্বৈতবেদাস্তে প্রত্যক্ষ, অনুমান ও শ্রতি ছাড়াও স্বীকৃত হয়েছে অর্থাপত্তি, 
উপমান ও অনুপলব্ধি ( ডরষটব্য, ধর্মরাজাধবরীল্ত্র কৃত বেদাত্তপরিভাষা, তৃতীয়, পঞ্চম ও যষ্ঠ 
পরিচ্ছেদ )। তা! ছাড়! রামানুজ তার গীতাভান্তে (১৫. ১৫) ইঙ্গিত করেছেন, যোগলন্ধ 
আত্ানৃতৃতি জ্ঞানের অন্ততম আকর (-"সর্বস্ত ভূতজাতম্ত চ সকলপ্রবৃত্িনিবৃ্তিমূলজ্ঞানোদয়দেশে 
স্বাদ সর্বং মৎসংকল্পেন নিয়চ্ছন্‌ অহ্মাস্বত়া সন্নিবিষ্টঃ| “**সতে। মত্তঃ এব সর্বেধাং স্মৃতি 
জায়তে ॥ স্মৃতি; পূর্বানুভূতবিহব্মনৃভরলংস্কারমণন্রজং জ্ঞানম্‌। ভ্যানমিল্রিয়লিলাগমযোগজে | 
বন্তনিশ্চয়ঃ সোহপি মত্তঃ)। রামমোহন গার বেদাস্ত সম্প্ষিত বচনালমূহে প্রমাণ লিয়ে এত 
বিস্তারিত আলোচন| করেন নি। তাই বগ্তমান প্রসঙ্গে এই সব বিতকের মধ্যে আমাদের 
ষাওয়ার গুয়োজন নেই। 

৪৭ শাংকরভান্ব, ব্ন্ধসৃত্র ৭. ১. ২৭ £ ''শবসূলঞচ ব্রন্ধ শবপ্রমাণকং মেশ্রিয়াদিপ্রমাণকং, 
তাযেখাশব্বমতা পগত্তব্যম্‌।.**লৌঁকিকানামশি মণিমন্তোযুিপ্রভৃতীনাং দেশকালনিমিততৈ- 


১৬৩ 


চিত্রাবশাচ্ছক্তয়ে! বিরুদ্ধানেককার্ধবিষয়! দৃষ্ধীন্তে ত| অপি তাবক্নোপদেশমভ্তরেণ কেবলেন 
তর্কেণা বগন্তং শক্যন্তে-.কিমুতাচিতন্ত্যপ্রভাবন্ ব্রন্ধণে। রূপং বিনা শষেন নিরূপ্যেত | উক্ত 
সৃ'্রর ভাত্ুপ্রলঙ্গে রামানুজ বলেছেন, সাধারণ অভিজ্ঞতার রাজ্যের অন্যান্য বন্তর সঙ্গে ত্রন্মের 
পার্থকা এইযে ব্রক্ষকে (তর্কের সাহায্যে) প্রমাণ ব1 অপ্রমাণ কিছুই কর। সম্ভধ নয় (“ন 
সামান্তে। দৃষ্টং সাধনং দ্লধণং বার্ধতি ব্রহ্ম _শ্রীভান্ত ১ ২. ১. ২৭,)। 


৪৮, ্রাভাত £ ২. ১, 58 “অবগ্ং চ শান্তর অনন্যাপেক্গ হ্তাতীন্দ্িয়ার্থগোচরভ্যাপি 
তার্কাহনুসরণীয়ঃ। যতঃ সর্বেষাং প্রমাণানাং কচিৎকচিত্বিষয়ে তর্কানুগৃহীতানামেবার্ঘনিশ্চয়- 
হেতৃত্বদ। তর্কে। ছি নামার্থগব্তাববিষয়েশ ব। সামগ্রীবিষয়েণ বা নিরূপণেনার্থবিশেষে প্রমাণং 
ব্যবস্থাপয়তর্গিতিকর্তবযতারূপমুহাপরপর্ায়ং জ্ঞানম্‌। তদপেক্ষ! চ সবেষাং প্রমাণানাং সমান1)' 
শান্ত তু বিশেষেণা কাজা দংনিধিযোগ্যতাজ্ঞানাধীন প্রম।ণভাবন্ত সর্বত্ৈব তর্কানুখহাপেক্ষা” । 


৪». রামমোহন -ভাঙ, ক্রহ্ষহথত্র ১. ৩. ২৮) ৩, ই. হ৪ 7 9৪, ৪. ২০১ ইতাদি । দ্রষ্টব্যঃ 
বেদাস্তগ্ন্থ £ গ্রন্থাবলী ১, পূ. ২৮, ৭৩, ১১৩ কিন্তু প্রত্যক্ষ বা অনুমান বিষয়ে শংকর ব! 
রামমোহ্ম যতন আলোচনাতে বড় একটা উৎসাহী ছিলেন ন।। অবশ্য শংকর ইন্দ্রিয় প্রত্ক্ষ 
ও অনুমানকে শ্তিগ্রমাণ হতে ভিন্ন ছুটি স্বতন্ত্র প্রমাণ হিসাবে উল্লেখ যে ন| করেছেন তা! নয়ঃ 
যেমন, “'ন চ পরিনিষ্টিতবস্তদ্বরূপত্বেৎপি প্রত্যক্ষ দিবিষয়ত্বমূ।*"*ন চানুমানগম্যং শংস্ত্প্রামাণ)ং 
েনান্ত্র দৃষ্টং নিদর্শনমপেক্ষতে__শাংকরভাস্ব, ব্রন্গনুত্র ১. ১,৪। কিন্তু তার দৃষ্টি মুখ্যত, 
শ্রুতিনিবন্ধ ছল বপেই তিনি তার ভাস্তের কোনও কোনও স্থলে সাধারণ অর্থে শ্রুতিপ্রমাণকে 
প্রত্যক্ষ (৫179০6 0০দ%16086 ) আর স্মৃতিকে অধ্ুমান (200179৩6 00700দ16288 ) রূপে 
বর্ণন! করেছেন; দ্রষ্টব্য, পাদটাক। ৩এ। রামমোহন এ ক্ষেত্রে তার অনুগামী । শংকর- 
পরবর্তী অইৈতবেদাস্তিগণই বেদান্তের প্রমাণ-অংশ নিয়ে বিস্তারত আলোচন। করেন এবং 
প্রত্যক্ষ (09:০9০81০০ ) ও অনুমান (171579095 )-কে বেদাস্তদর্শনের দুই দ্বতন্তর প্রমাণকপে 
সৃপ্রতিষ্ঠিত করে দেন। ধর্মরাজাধ্বরীল্রের “বেদাস্তপরিভাবা” (রচনাকাল আনুমানিক খ্রীন্টায় 
যোড়শ শতান্ধীর মধাত্ভাগ) অদ্বৈত-বেদান্তের প্রমণতত্ব বিষয়ক এই শ্রেণীর একটি গুরুত্বপূর্ণ 
গ্রন্থ। রামমোহন তার ভাস্তে ব। অন্তত্র বেধান্তের এই প্রম!ণতত্তব্ের দিকটি নিয়ে আলোচন। 
করবার প্রয়োজন অনুভব করেন নি, কেনন! বিচারে তার প্রতিপক্ষগণ কেউই এ-সম্পর্কে 
কোনও প্রশ্নের অবতারণ করেন নি। 


৫০, ব্বামমোহন-ভাত্, ক্রন্ষনথত্র,। ২. ১- ১১ । দ্রষ্টব্য £ গ্ন্থাবলী ১. পৃ. ৩৮1 এ দিদ্ধাত 
শংকর-মতে$ই প্রতিধ্বনি, ভ্রষ্টবা, “ইতশ্চ নাগমগঞোহর্থে কেবলেন তর্কেণ প্রত্যবস্থাতব্াং 
যস্মান্লিরাগমাঃ পুরুযোত্প্রেক্ষামাঅরনিবন্ধনান্তর্ক। অপ্রতিঠিতাঃ সম্ভবস্ধি, উৎপ্রেক্ষায়! নিরদ্কুশত্বাৎ 
শংধকরভায়। অ্রসূত্রঃ ২, ১, ১১ 


৫১, *গোত্বামীর সহিত বিচার: এরস্থাবলী ২. পৃ. «৭; মৃত্যুপগ্রর বিদ্তালঙ্কার কৃত 
সথালোচনার প্রতু[ত্তরম্বরূপ নিঙ্জের সম্পর্কে তার উদ্ভিতেও অনুক্ধপ মনোভাব পরিস্ফুট £ 
“আর একজন শান্তর এবং লোকের. বোখের নিমিত্ত বথাসাধ্য তাহার ভাবাবিবরণ করিয়া 


৯৪৪ 


লোকের সম্মুখে রাখে এবং নিবেদন করে আপনার অনুভবের দ্বারা ও বেদসম্ত যুক্তির দ্বার! 
ইহাকে বৃঝ-**।”২-ভষ্ট।চার্ধের সহিত বিচার £ গ্রন্থাবলী ১, পৃ. ১৮৪ 

৫১. (ক) বৃহদারণ্য উপনিষৎ, শাংকরভাত্, ভূমিক|। 

৫৯. ড70115 ০ ১11 570111017 001৫5 ০) সা (3, 3, 80৫ ও, ২০৮108009 [,00000, 
1799) 79. &23-25 ॥ ১৭৯৯ বষ্টান্দে জোন্সের গ্রস্থাত্বলীতে মুদ্রিত হলেও এই অনুবাদ কর! 
হয়েছিল আরও কয়েক বৎসর পূর্বে ১৭৯৩ অথব1 ১৭৯৪ ধী্টাবে। দ্রষ্টব্য 8 নে. ল. 089900, 
7.৯ ৩৮ 07/01117 7০7655 07125001156, ৫৮ 40150606602 21761191759 ০) [15 70715 
( ম্০০০]৪1ঘ, 1962) 9. £৪1 পাশ্চাত্য জগৎকে হিন্দুদের বৈদিক সাহিত্যের কিছু নিদর্শন 
দেবার উদ্দেশ্যে জোন্স বেদের অন্য কয়েকটি অংশের সহিত এই উপনিষদ্খানি অনুষাদ করেন। 

৫২. (ক) ভ্রষ্টব্য, 7. থা, 00165:০0 74465061161760%8 855095 ০] 1, 1০002, 

1887, 
0. 47-59 1 আরও ড্রষ্টব, তার 785549$ 0) (৫ 17611860070. 72701050189) ০ 01৫ 
11085 টতজ্দ ম০৮৪০০১ 1.00000. 18889 20০. 26-90 7 ৯00 1109 ৬6৫৪৪ 0: :580:6৫. 
1166:88075 ০1 [110095 ? শীর্বক কোলক্রকের প্রবন্ধটি আদৌ প্রকাশিত হয়েছিল 'এনসয়াটিক 
রিসার্চেস্‌?এ । দ্রষ্টবা, /55120707 985801085 ০1 1] (1806 ) 1১6, 969-£76 

৫৩, ভা)]]8500 08155, 48 01721117701 0) 0156 56511/6 7701718066 (3৫188100, 01688 
99:817)0029, 1806) 8০০৮ ড্র. 098০06৮ 7. 00. 908-06 1) জোন্সের পূর্বপ্রকাশিত 
অনুবাদ কেরীকে বিষর়-নির্ধাচনে অনেক পরিমাণে প্রণোদিত করেছিল সলেছ নেই। এখানে 
উলখা কেরা তার গ্রন্থে ইংরেজি অনুবাদসহ ভাগবত পুরাণের প্রথম অধ্যায় ও বাইবেল থেকে 
সন্ত ম্যাথিউ লিখিত গসপেলের প্রথম তিন অধ্যায়ের সংক্কত অনুবাদ ঈশোপনিষদের 
পাশাপাশি সংযোজিত করেছেন। এই তিনটি সংস্কৃত রচন! মৃদ্রণের উদ্দেগ্ত সম্পর্কে বল! 
হয়েছে এগ্ডলি 63:9:01868 110) 7878108 ব! সংস্কৃত বাকোর অন্য অভ্যাস করবার নিদিত্ত 
প্রদত্ত পাঠাবলী। ীশোপনিষদের অনুবাদ ও মুন্রণের পশ্চাতে ডার কোনও মহতুর উদ্দেশ 
ছিল ন!। শংকর বা! অন্ক কোনও ভাক্কারের উল্লেখ তিনি করেন নি 

৫৪, জীশোপনিষ্চ; গ্রস্থাবলী ১, পৃ. ২০৪ 

৭৫, তদেব; ৭**তবে ভগবদ্গীত| যাহাকে বাঙ্গালি ভাষায় এবং কিলোস্বানি ভাবায় 
কয়েকজন বিবরণ করিয়াছেন সেই সকল ব্যক্তির মত হইতে পারে.'ইহা। হইলে অনেক খস্থের 
প্রামাণয উঠিয়। যায়।” 

৫৬. গ্রন্থাবলী ১, পৃ. ১১৪ ১৩) ১৮৭১ ১৯৫? ২১২, ২৪৭। রামযোহনের যৈফব প্রতিপক্ষ 
তাকে শংকরপন্থী আখ্য! দিয়ে বিজ্রপ করলে প্রত্যুত্তরে রামমোহন লেখেন, “আমাদের 
প্রতি আচাধমতাবলম্বী ধলিয়। যে কটাক্ষ করিয়াছেন সে আমাদের ললাঘা সুতয়াং ইহার উত্তর 
কি লিখিব+, 'গোস্বামীর সহিত বিচার' £ গ্রস্থাবলী ২, পৃ. ৫৫-৫৬ 

৫৭, “বেদাস্ত-পরস্থ; ভূমিকা ; গ্রন্থাবলী ১, পৃ. ৬ ১০) “গোস্বামীর সহিত বিচার? ঃ 
গন্থাবলী ২, পৃ. ৫* 


১০ ১৪৫ 


৫৮, রামানুজ-ধৃত সৃঃসংখ্য! ৫৪৫7) ভাম্করের ৫৪১) মধ্যের ৫৬৪$ বল্লভের ৫৫৪; 
বিজ্ঞানভিক্ষুর ৫৫৫) এবং বলদেব বিস্বাভূষণের ৫৫৮। এর মধ্যে বলদেবের সঙ্গে রামমোহনের 
দৃষ্টিভঙ্গি ও সিদ্ধান্তের কোনও [মল ন! থাকলেও তার আলোচিত সৃত্রগুলির মেট সংখ্যা 
র[মমোহন-ভাস্তের মোট সৃত্রসংখ্যার সঙ্গে মেলে। 

৫৯. শাংকরভান্ত, ব্র্নূত্র ৪. ৩. ১৪: "তাবেতে। তৌ পক্ষাবাচার্ষেন সুত্রিতৌ। 
গত্যুপপত্ত্যািভিরে কঃ মুখাত্বা দিভিরপরঃ। তত্র গত্যুপপত্তাদয়ঃ প্রভবস্তি মুখাত্বাদীনাভাসয়িতুং 
ন মুখ্যত্বাদয়ে। গত্যুপপত্তযাদীন্‌ ইত্যান্ত এব দিদ্ধাস্তো ব্যাথ।ত;। দ্বিতীয়ন্ত পূর্বপক্ষঃ।”.. 
কেচিৎ পুনঃ পূর্বাশি পূর্বপক্ষসূত্র!ণি ভবস্ত্যত্বরাণি সিদ্ধাত্তসূত্রা ণত্যেতাং রাবঘ্থামনুরুধযমানা: 
পরবিষয়। এব গতিশ্রুতীঃ প্রতিষ্ঠাপয়স্তি 1” । 

৬০. বেদাস্ত-গরন্থ : গ্রস্থাবলী ১, পৃ. ৭৬) রাজনারায়ণ বনু ও আনন্দচন্ত্র বেদাস্তবাগীশ 
সম্পাদিত 'রাজ1 রামমোহন রায় প্রণীত গ্রন্থাবলী, (কলিকাত। ১৮৮ )তেও (পৃ. ৭৭) এইই 
মুদ্রধ-প্রমাদটি স্থান পেয়েছে । সাহিতা-পরিষৎ সংক্ষরণের সম্পাদক প্রীব্রজেন্্রনাথ 
বন্দ্যোপাধ্যায় ও শ্রীসজনীকান্ত দাস নিধিচারে সেই ভূলপাঠেরই পুনমু্রধ করেছেন | বঙ্গীয়- 
সাহিতা-পরিষৎ গ্রন্থাগারে রক্ষিত “বেদান্ত-গ্রন্থ'এর দুল্রাপা প্রথম সংক্করণেরও আলোচ্য পাঠ 
'শরবচ্চ তন্নিয়মঃ? (দ্রষ্টব্য “বেদাস্ত-গ্রন্থ', প্রথম সংহ্করণ, কঙগিকাতা, ১৮১৫, পৃ. ১০৪) । অর্থাৎ 
এই মুদ্রণ-প্রমাদ প্রথম সংস্করণ থেকেই চলছে। কিন্তু আশ্চর্ষের বিষয় কোনও সম্পাদকই এ 
পর্যস্ত অনুবাদের লঙ্গে মিলিয়ে প্রকৃত পাঠ নিধ্ণরণের চেষ্টা করেন নি। এস্লে উল্লেখযোগ্য 
পণ্ডিত কালীবর বেদান্তশ্বাগীশ সম্পাদিত ও অনুদিত শাংকরভান্ত ও বাচম্পতি মিশ্র কৃত 
ভামতী টাক! সমেত ব্রন্গসত্রের সৃবিখযাত সংস্করণেও আলোচ্া হুত্রটিতে (৩. ৩, ৩.) “মববচ্চ 
তন্নিয়ম:,এর স্থলে ছাপা হয়েছে 'সরবচ্চ তন্লিম$ ২ জ্রষ্টবা, কালীবর বেদান্তবাগীশ 
বেদাস্তদর্শনমূ, তৃতীয় খণ্ড (কলিকাতা, ১৩৬০) পৃ. ১৭১ এই প্রমাদ পণ্ডিত হুর্গাচরণ 
সাংখ্যবেদাত্ততীর্থের ম্যায় বিচক্ষণ সম্পাদকেরও দৃষ্টি এড়িয়ে গিয়েছে । 

৬১, আশ্চর্ধের বিষয়, আচার্য শংকরের প্রতিভাকে বিশ্ববানীর নিকট পরিচিত করবার 
রামমোহনের এই প্রয়াম আধুনিক কালে যথাযোগা স্বীকৃতি পায় নি। গ্রীমৎ স্বামী 
প্রজ্ঞানানন্দ সরম্বতী প্রণীত 'বেদান্তদর্শনের ইতিহাস" গ্রন্থের আলোচন'-পরিধি যদিও আধুনিক 
কাল পর্যস্ত বিভ্তীর্গ তথাপি রামমোছন-কুত বেদান্ত-ভান্ত (১৮১৫) ও রামমোছন সম্পাদিত 
ও প্রকাশিত শাংকব-ভাস্তের সম্পূর্ণ সংস্করণ সেখানে অনুল্িখিত ॥ দ্রষ্টব্য 'বেদান্তদর্শনের 
ইতিহাল, দ্বিতীয় মুদ্রণ, প্রথম ভাগ (কলিকাতা, ১৩৭২), পৃ. ২২৯-৩০ দ্বিতীয় ভাগ 
(কলিকাতা, ১২৭৩), পৃ. ৫৫৭-৮* 

৬২. শাংকরভাত্, বৃহদাবণাকোপনিষদ ২, ৪. ১০, 

৬৩. 17,210 [10105099 ([0750150 50181005 1940) ০1. ]া. 20,449 1 
আপাতদৃষ্টিতে এর বাতিক্রম শংকরের নামে প্রচলিত “ম্বেতাশ্বতরোপনিষদ্‌ ভান্ত'। এই ভালে, 
বিশেষ করে এর ভূমিকায়, বিশু, বিুধর্ম, ব্রহ্ম, লিঙ্গ, শিবধর্ষোত্তর প্রভৃতি হু পুরাণের বচন 
সবিস্তায়ে উদ্লিখিত দেখা যায়। ০কিন্ত এই প্রসঙ্গে মনে রাখতে হবে এইভাস্ত প্রকৃতপক্ষে 


-১৪১ 


শ্রকরের রচনা] বলে অনেক পণ্ডিতই মনে করেন ন।। শংকরের দশোপনিষদ্ভায়ের উপর 
ঘিনি টীক। রচনা করেছিলেন সেই আনলাগিরির উক্ত গ্বেতাশ্থতরোপমিষদ-ভাষ্যের উপর লিখিত 
কোনও টীক। পাওয়া যায় নি। এতেও এই গ্রন্থের অকৃত্রিমতায় সঙ্গে হছয়। 

৬৪৭ 9, টব, 108860516৬১ ১7775601990 10101) 10501) ০1, 11 
(097071086, 1940), 0. £89 

৬৫. 108880768১ 44 8115001 ০] 1770/017 271050%70, 5০], স্ব. (08011289, 
1956) 0. 91 

৬৬, 100 0. 181 

৬৭, “গোস্বামীর সহিত বিচার” ; গ্রস্থাবলী ৯, পৃ. ৪৯-৫১ 

৬৮, “উৎসবানন্দ বিদ্তাবাগীশের সহিত বিচার» গ্রস্থাবলী ২, পৃ. ৪) ২০, ২৩) ৩৭ ইত্যাদি । 
*গোস্বামীর সহিত বিচার? গ্রন্থাবলী ২, পৃ. ৫১-৫২ । “চারি গ্রশ্গের উত্তর, গ্রস্থাবলী ৬, পৃ. ১৪; 
“পথাপ্রদান?, গ্রন্থাবলী ৬, পৃ. ৯ং ইত্যাদি । 

৬৯. “বেদাত্তগ্রচ্থ') গ্রন্থাবলী ১, পৃ. ১১ 

৭০. তদেব, পৃ ১৫-১৬ 

৭১. “ভট্টাচার্যের সহিত বিচার” : খ্রস্থাবলী ১, পৃ. ১৬৪ 

৭৭. “মাও্,ক্যোপনিষৎ £ ভূমিক1': গ্রস্থাবলী ১, পৃ. ২৩৭ 

৭৬. তদেব, পৃ. ২৫৫ 

"৪. “উৎমবানন্দ বিস্তাবাগীশের সহিত বিচার? : গ্রস্থা বলী ২, পৃ. ৬ 

৭৫, *কবিতাকারের সহিত বিচার+ £ গ্রন্থা বলী ৫? পৃ. ৭৪ 

৭৬. 'ব্রহ্মলংগীত? ; গ্রন্থাবলী ৪, পৃ. ৫৯ 

৭৬. (ক) “উৎসবানন্দ বিগ্তাবাগীশের সহিত বিচারঃ : গ্রস্থা বলী ২, পৃ. ২৩-২৫ 

৭৭. *কবিতাঁকারের সহিত বিচার; ; গ্রন্থাবলী ৭, পৃ. ৭৯১ ৯২; এই উপলক্ষে রামমোহন 
রনসূত্র ৪, ১, ৪., 'ন প্রতীকেন হি সঃ' উল্লেখ করেছেন। শংকর এই সূত্রের ভাষ্যে বলেন £ 
“ন প্রতীকেধাত্বমতিং বর়ীয়াৎ। ন হাপাসকঃ প্রতীকানি ব্যস্তান্তাত্বত্বেনা কলয়েৎ।.** 
বিকারহ্বূপোপমর্দেন হি নামাদিজাতন্ত ব্রন্ষত্বমেবাশ্রিতং ভবতি। দ্বরূপোপমর্দে চ নামার্দীনাং 
কৃত: প্রতী কত্বমাত্মগ্রহো ব। ন চব্রহ্গণ আত্মত্বাৎ ব্রশ্গদৃষ্টাপদেশেঘ বৃষ্টি: কল্প কতৃত্বানিরা- 
করণ।ৎ। করত্তৃত্বাদিসর্বলংসারধর্মনিরাকরণেন হি ব্রহ্মণ আল্মত্বোপদেশঃ, তানির/করণেন 
চোপাসনাবিধানম্। 'অতশ্চোপালকল্ত প্রতীকৈ: সমত্বাদাক্মগ্রহা! নোপপসতে। ন ছি 
রুচকযস্তিকয়োরিতরেতরাত্মত্বমন্তি, সুবর্ণাত্বনৈব তু ক্রন্ধাত্মত্বেনৈকত্বে প্রতীকাভাব- 
প্রসঙ্গমধোচাম। অতে। ন প্রতীকে ঘাস্ধদৃষটিঃ ক্রিয়তে।”-_শংকরেয় এই সৃত্রটির ব্যাখ্য। অত্যন্ত 
গুরুতপূর্ণ। এই প্রসঙ্গে তিনি ব্রহ্মজিজ্ঞানুর পক্ষে প্রভতীকোপাসন! সম্পূর্ণ নিষেধ করেছেন । 
প্রতীকোপাসন|-বিরোধী রামমোহন যে শংকরের এবংবিধ সিদ্ধান্তের দ্বারা অনুপ্রাণিত হবেন 
সেআর আশ্চর্য কী? 

গ৮, মাও,ক্যোপনিষৎ : ভূমিকা : গ্রন্থাবলসী ১, পৃ. ₹ও৭ রর 


১৪৭ 


৭৯. শ্াংকরভাষ্য, ব্রন্ধনুত্র ৩, ৪, ২০: ব্রদ্ষসংস্থ ইতি হি ব্রক্মণি পরিসহা গ্িরনগ্তঃ 
বাপারতারূপং তন্নিষঠত্বমভিধীয়তে । তচ্চ ত্রয়াণাশ্রমাণাং ন সম্ভবতি, ম্থাশ্রমবি ছিতকর্মানুষ্ঠানে 
প্রত্যবায়শ্রবণাৎ। পরিক্রাজকন্য তু সর্বকর্মসন্াসাৎ প্রত্যবায়ো! ন সম্ভবত নৃষ্টাননি মিপ্তঃ 1, 

৭৯, (ক) কোঁটিলীয় অর্থশান্ত, ২. ১. ১৪ : “পুত্রদারমপ্রতিবিধায় প্রব্রজজতঃ পুর্ব: সাহসদণ্ডঃ 
স্রিয়ং চ প্রব্রাজয়তঃ | লুগুব্যব।রঃ প্রব্রজেদা পৃচ্ছা ধর্মস্থান্‌ অন্যথ। নিয়মে)ত? (গণপতি শাস্ত্রী 
সম্পাদিত সংহ্করণ, প্রথম থণ্ড, পৃ. ১১৫-১৪) ॥ মনু, ৩. ৭৭-%৮ ; ৬. ৩৩) ৩৫-৩৭ ) বোঁধায়ন 
ধর্ুত্র, ২, ১০, ৬ ১ “সপ্তত্য! উধধি সম্যাসমুপদিশস্তি? । 

৮০, চীশোপনিবৎ : ভূমিকা, গ্রন্থাবলী ১. পৃ. ১৯৮-৯৯ ৃ 

৮১. “শ্বামি-শিষ্য-সংবাদ? : স্থ।মী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা, নবম খণ্ড (শতবাধিকী 
সংল্করণ ), পৃ. ৪৮, ৪৯, ৫০ 

৮২. 'অন্ঞানন্ত সদসভ্ত্যামনির্বচনীয়ং ত্রিখুণ|ক্কং জ্ঞানবিরোধি ভাবরূপং যৎকি ফিদিতি 
বঙভি-সদানল্কৃত ব্দোস্থসার, ১৩ (কালীবর বেদাস্তবাগীশ সম্পাদিত চতুর্থ সংস্করণ, 
পৃ. ৪$-৪৭): শংকরাচার্ষের নামে প্রচলিত “সর্ববেদাস্তলারসংগ্রহ” গ্রন্থেও সংক্ষেপে মায়1 ব1 
অজ্ঞানের সৃন্দর সংজ্ঞানির্ণয় কর! হয়েছে £ 

সদসন্ত্যামনিব!চ্যমজ্ঞানং ত্রিগুণাত্বক ম্‌ 
বস্ততত্বাববোধৈক বাধ্যং তদ্ভাবলক্ষণম্‌। শ্লোক ৩০৪ 
সর্ববেদাত্তসারসংগ্রহ £ (প্রমথনাথ তর্কভূষণ ও অক্ষয়কুমার শাস্ত্রী সম্পাদিত ও অনুদিত, 
কলিকাতা, ১৩৩৬ ), পৃ. ১২১ 

৮৩. প্রমথনাথ তর্বভূষণ, মায়াবাদ ( বিশ্বভারতী, ১৩৫০) পৃ, ৩৩-৩৪ 

৮৪. এবিষয়ে রামমোহনের কিছু কিছু সুনির্গিষ্ট উক্তি পূর্বেই উদ্ধৃত হয়েছে, অ্রষ্টব্য 
পাদটাক। ৬৯, ৭০, ৭১, ৭২, ৭৩ ও ৭৪1 এগুলি ছাড়া তিনি মায়াবাদ সম্পর্কে তার রচনার 
অন্তত কিঞ্চিৎ বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন; দ্রষ্টব্য 'ব্রাহ্মণ সেবধি” প্রথম সংখ্য] : গ্রস্থাবলী 
৫) পৃ, ৬-১০ ( সম্প্রতি কেউ কেউ বলেছেন, রামমোহনের 'ভ্রাঙ্মণ সেবধি'তে উক্ত মায়াবাদ- 
ব্যাখ্যা] অহ্থৈত-বেদান্তম্মত হলেও এ ভার নিজের সিদ্ধান্ত না হতেও পারে, কেনন! এখানে 
রামমোহন সাধারণভাবে খ্রীষীর় মিশনারীগণের আক্রমণের বিরুদ্ধে বেদান্ত, ভ্টায়, মীমাংসা, 
সাংখ্য, ফোগ, পুরাণ, তন্ত্র প্রস্তুতি তাবৎ হিন্দু দর্শন প্রস্থান ও শাস্ত্রের স্বপক্ষে নিরপেক্ষভাবে 
তার ঝুক্তি প্রয়োগ করেছেন । এই সমালোচকগণ উদাহরণন্বব্বপ সাধারণত লর্ড আমহ্থান্টকে 
লিখিত রামমোহনের শিক্ষাবিষয়ক পত্রে বৈদাস্তিক মায়াবাদ সম্পর্কে রামমোহনের কিছু 
আপাত-বির্ূপ মন্তব্যের প্রতি সাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকেন। কিন্তু তর্কের খাতিরে 
'্রাঙ্গণ সেবধি,র উক্তি সম্পর্কে এ দের মত যাঁদ মেনেও নেওয়! যায়, ত1 হলেও প্রন্থ থাকে ত্তার 
উপনিবদ্-ভুমিকা॥ ব্রক্ষদংগীত ও বিচারখস্থগুলিতেও কি রামমোহন ব্রন্ধতত্ব ও মায়! সম্পর্কে 
তার স্বীয় মত প্রকাশ করেন নি? এই কারণেই 'ত্রাঙ্গণ সেবধি'র উক্তি বাদ দিয়ে 
রামমোহমের অভ্ভান্ত রচনা থেকেই তত্বসিদ্ধাত্তবিষয়ক ভার উক্তি নির্বাচন কর! হয়েছে। 
আমহাস্টকে লিখিত তার পত্র বেদাস্তবিষয়ক উক্তি সম্পর্কে মস্তবা প্রবদ্ধমূধ্য ইতিপূর্বে 


১৪৮ 


প্রলঙ্গত করেছি। রামমোহনের উজির বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত রুচি অন্বসারে কোনও মত ভার 
উপরে আরোপ করাও এক ধরণের অধ্যাস! 
৮৫. বিস্তারিত প্রমাণপঞ্জীর জন্ত পরবর্তী (চতূর্ঘ) অধ্যায় রষ্টব্য। 
৮৬. কুলার্ণব তন্ত্র ৯. ৩২) [82010 [6৪ 58358, ০1. ড. [.000005 1911, 9. 11 
৮৭, 90760078085 1088800005) 4050678] : 106:001006100 60 18065 


90110800327, 52145178005 119161766 511961 ০7166 ০0116, ৬০], 0৬ 
0. 966 


৮৮, 00106508750 0058:58:65) 1150৮ 00. ড৩৫৪০৮৪৪ £521901,6 12110001%, 
৬০1, হা], ০. 0, 0. 176 


৮৯, 4 2 5992০001992) 216 00০0০0৮6 ০ 2649৫, 09. 180 ; তঙ্ত্রের মায়!” 
ভাবনা সম্পর্কে প্রামাণিক আলোচনার জগ্ক দ্রষ্টব্য 31 0০৮০. ০০:০৫, 910%01 ৫174 
972144, 150002৭1918, 20. 69-109 

৯০. শিবচন্ত্র বিস্তার্ণব, তন্ত্রতত্ব, প্রথম ভাগ, দ্বিতীয় মুদ্রাঞ্ষণ, কাশী, ১৩১৭ বঙ্জাবা, পৃ.”১ 

»১. শাংকরভায়্, ব্রহ্সৃত্র ১২. ৪ ॥ 'ভথ! উপান্তোপাসকতাযোইপি ভেঙাদিষ্টান এব | 

৯২. রামমোহ্ন-ভাব্য, ক্রক্ষনৃত্র ৪. ১. ১২ : বেদাস্তগ্রন্থ £ গ্রন্থাবলী ১, প্‌. ১০১ 

৯৩. “অনুষ্ঠান, গ্রন্থা বলী ৪, পৃ. ৬৯ 

৯৪, “মাও,ক্যোপন্ষিৎ-ভৃমিক] £ প্রস্থাবলী ১ পৃ. ২৩৯ 

৯৫. 'ব্রন্মোপাসন!”, গ্রন্থাবলী ৪, পৃ. ৫১ 

»৬. “বেদাত্তগ্রস্থ £ গ্রস্থা বলী ১, পৃ. ৫-৬ ) 'ঈশোপনিষৎ্-ভুমিক! £ খ্রন্থাবলী ১, পৃ. ২০১৫ 
মাগ,ক্যোপনিবৎ£ গ্রস্থাবলী ১, পৃ. ২৪৭ 

৯৭. এপ্রার্থনাপত্র' £ গ্রস্থাবলী ৪, পৃ. ২৭-২৮ 

»৮. 'ব্রন্মোপাসনা? £ গ্রস্থাবলী ৪, পৃ. £১ 

৯৮, (ক) ভট্টাচার্ধের সহিত বিচার £ গ্রন্থাবলী; ১, পু. ১৬৫ 

৯৯, বেদান্তগ্রন্থ £ গ্রন্থথবলী ১, পৃ. ৭৬1 এক্ষেত্রে ধধ্ব অনেকট: একরকম কথ! বললেও 
উপাসনার স্থলে বেদেক্ত ব্রহ্মজ্ঞান-প্রতিপাদদক বচন অর্থ করেছেন ; 'বধ! সর্বং ললিলং সমৃত্্ং 
গচ্ছতি এবং সর্বাণি বচনানি ব্রন্গাজ্ঞানার্ধানীতি নিয়ম: | রামমোহনের ব্যাথ্য! অপেক্ষাকৃত 
লরল ও উদার । মধ্ব এই প্রসঙ্গে বেদের শাখাসমৃছ ও অগ্রিপুবাণের নজ্ষির যে ভাবে টেনে 
এনেছেন ত1 অনাবগক ও কষ্টকল্পিত মনে হয় ॥ দ্রব্য, মধ্বভাঘা, ত্রন্ানুত্র ৩. ৩, ৪ $ ও তার 
উপর জন্মতীর্থ রচিত “তত্বপ্রকাশিক1; টাক। 

১০০, *উপাসনন্ত সামর্ধাৎ বিদেযাৎপত্তিরবেত্ৃতঃ | 
নাল্ঃ পন্থ। ইতি হোডচ্ছান্ত্রং নৈষ বিরুধ্যতে | 
পঞ্চদণী ». ৭৪ (আননচন্র বেদাস্তবাগীশ-কৃত সংস্করণ, পৃ. ৫৬৬-৬৭ ]। 
১৯১, এ সম্পর্কে পরবর্তী অধ্যায়ে বিস্তারিত আলো চন। ভ্রষ্টব্য। 
১০১, (ক) গোস্বামীর সহিত বিচার £ গ্রস্থাবলী &। পৃ. এ» 


১৪৪ 


১০২. 7721151, 07011 281৮ 10], 00 44747 

১০৩. 'ভট্টাচার্ধের সহিত বিচার' £ খ্রস্থাবলী ১, পৃ. ১৬৪-৬৫ 

১০৪, রামমোহন-ভাষা, ব্রদ্গন্ত্র ৩. ৩. ৫৩ বেদাত্তগ্রস্থ, গ্রন্থাবলী ১, পৃ. ৮৮-৮৯। এই 
সূত্রে শ্রীষ্টের ছুটি অমূল্য উপদেশ মনে পড়ে ; [5০৬ ৪৮:৯1 1০5৪ (1৩ [০24 (৮ 0০৫ 
স18) &]1] 605 09516 900 101) ৪1] 05 ৪8০০] 800 8100 ৪1] 80 00100. 10100158 609 
9156 8700 5198 001)00811012)8706, 41700 608 8900100 18 1186 11700 10. 01000 ৪0816 
[০৪ (5 08181)০এ: 8৪ 055911. (1৮৮01), 81, 97. 98 99)1 রামমোহনের 
পূর্বোক্ত সৃত্রব্যাখ্যার সঙ্গে এর ভাবসাদৃগ্ত চমকপ্রদ। প্রসঙ্গত বলা যার ত্ীঃ্টব এই উপদেশছর় 
রামমোহনেব অতি প্রিয় ছিল ॥ তিনি তার খ্রীষ্টবাণীসংগ্রহে এগুলি চয়ন করেছিজ্ে ওহীন্ী় 
প্রতিপক্ষের সঙ্গে তকে এগুলির শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণ| করেছিলেন ॥ দ্রষ্টবা 4]1)9 7150870৮৪ ০£ 0890৪? 
107761159 70115, 088৮ ড, 0,398 7:4899০01)0 820098] 00 0118 01071861870 01807, 
121151, ৮70115, 26৮ ডা, 200, 23 

১০৫, 'ব্রন্মোপাসন|? ১ খ্রন্থাবলী ৪, পৃ. ৫১ 

১০৬, 49781)100010108] 1181582106৭ ০. 7৬ 51011518 ৮7071, £81৮ 00) 0. 169 

১৯৭, নল. 7. ড71800, 10100601709 921,50760 71075701515, 051066৪, 1819, 
০6৯০৪, 700. আদ-আ? ) পঞ্চম অধ্যায়ে রামমোহন ও উইলসনেব পারস্পরিক যোগাযোগ 
সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনাও তৃতীয় পরিশিষ্ট দ্রষ্টবয । 

১০৮, ব্রজেন্্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, সংবাদপত্রে সেকালে কথা, দ্বিতীয় খণ্ড, (চতুর্থ মুদ্রণ, 
কলিকাতা, ১৩৮৪) পৃ. ৪৮৯ 


১৫? 


৮জজুর্থ অপ্রযাজ 


রামমোহন রায় ও পুরাণ-তন্ 


রামমোহন রায় মুখাত ব্রাক্ষধর্মের প্রবর্তকরূপে সুপরিচিত হলেও তার 
নিজন্ব ধর্মবিশ্বাস ও ধর্মসাধন সম্পর্কে যথেষ্ট আলোচনা এখনও হয় নি। 
রামমোহন প্রতিষ্ঠিত ব্রাহ্মপমাজের ধর্মমত পরবর্তী কালে স্থদীর্ঘ বিবর্তনের মধা 
দিয়ে বর্তমান অবস্থায় উপনীত হয়েছে । এর আদিরূপের সঙ্গে উত্তরকাঁলীন 
কপের বিস্তর প্রতেদ। ধর্মসমাঁজ ও ধর্মসম্প্রদায় সমুহের ইতিহাসে কোনও 
ধ্েব আদি ও অস্থা পর্বদ্বয়ের মধো এই জাতীয় রূপভেদ বিরল নয়। আদিম 
্ষ্টধম ও বর্তমান শ্রষটধর্ম, মূল বৌদ্ধধর্ম ও পরবর্তা বৌদ্ধধর্», আদি পর্বের 
শিখধর্ম ও উত্তরকালের শিখধর্ম» প্রভৃতির পারস্পরিক তুলনায় এ সত্য আমাদের 
কাছেম্পষ্ট হয়। সুতরাং কোনও ধর্মসমাজের ইতিহাস আলোচনা প্রসঙ্গে 
উত্ত ধর্মের নেতৃস্থানীয়গণের বাক্তিগত ধর্মমত শ্বতন্ত্রভাবে পর্যালোচনা করে 
দেখবার একটি বিশেষ প্রয়োজন ও মূল্য আছে। তার ফলে কেবল যে 
এত্হাসিক পটভূমিতে বাক্তিবিশেষের পরিচয় জীবন্ত ও পূর্ণাঙ্গ হয়ে ওঠে তাই 
শয়, সাম্প্রদায়িক মতবিবর্তনের ইতিহাসে নির্দিষ্ট দেশকালে অভিব্যক্ত তার 
বিশিষ্ট চিন্তাধারার কতটা রক্ষিত ও কতটা বঞজিত বা উপেক্ষিত হয়েছে সেটি 
শ্ধারণ করাও সহজ হয়। রামমোহন সম্পর্কে এমন একটি ধারণ! এক সময়ে 
প্রচলিত ছিল, এবং হয়তো কোনও কোনও মহলে এখনও আছে,__যে 
বামমোহন কেবল উপনিষা-বেদাস্ত আশ্রয় করেছিলেন বলেই তার প্রাচা ও 
পাশ্চাত্য ভাবধারার সমঙ্য়প্রচেষ্টা একদেশদর্শা হয়ে পড়েছে; ভারতীয় 
সভাতার উপনিষদোত্তর অধ্যায়গুলিকে তিনি বুঝতে পারেননি বা বুঝবার চেষ্টা 
করেন শি।* একমাত্র রামমোহনের বাক্কিগত ধর্মবিশ্বাসের সর্বাত্মক বিশ্লেষণের 
দ্বাবাই এসব সিদ্ধান্তের সত্যাঁসত্য যাঁচাই কর! সম্ভব । স্তরাঁং দ্বিতীয় অধ্যায়ে 
সাধারণভাবে শান্ত ও শাস্ত্প্রমাণ সম্পর্কে রামমোহনের সমগ্র দৃষ্টিভঙ্গী ও তৃতীয় 
অধায়ে বেদাস্তবিদ্রূপে তাঁর মূল্যায়ন প্রসঙ্গে ঘ্বে মন্তব্য করা হয়েছে তার 


১৫১ 


পরিপূরকরূপে বর্তমানে রামমোহনের ধর্মচিন্তার অপর এক বৈশিষ্ট্যের বিষয় 
কিছু আলোচনা করা যাচ্ছে। 

পূর্ববর্তী অধ্যায়ে রাঁমমোহনের বেদীন্ত-অন্থণীলন বিষয়ক আলোচনা 
প্রসঙ্গে দেখা গেছে জীবদ্দশায় এবং পরবর্তীকালে তিনি ধর্মতাগী ও সমাজদ্রোহী 
বলে যতই নিন্দিত হয়ে থাকুন না কেন, ভাবতীয় ব্রহ্মবাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও 
তত্ববিদ্যা হিসাবে বেদাস্তের শ্রেষ্ঠত্বে নিঃসংকোচ বিশ্বাস তার চিন্তাধারার 
অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল। বেদের জ্ঞানকাঁওড বেদান্তদর্শনের ভিত্তি। এই দর্শন 
ভারতবর্ধায় জীবনচর্যাকে নান! দিক দিয়ে অতি গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে 
সন্দেহ নেই। তথাঁপি এ কথাঁও স্বীকার্য স্বীয় অভিব্যক্তিব পথে ভারতীয় চিন্তা 
আদি বৈদিক কর্মমার্গ ও জ্ঞানমার্গের মধ্যেই আবদ্ধ থাকেনি; তার সীমানা 
অতিক্রম করে উত্তরকাঁলে নব নব রূপে বিকশিত হয়েছে । অনেক নৃতন ধার! 
ও নুতন মাত্রা কালক্রমে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। তার মধ্যে কতকগুলির 
উৎস শাস্ত্রীয়, কতকগুলির লৌকিক । হিন্দুধর্মের এই উত্তরকালীন পর্যায়ের ছুই 
অঙ্গ হল পুরাণ ও তন্ত্র। রচনার প্রাীনত্ব, উৎকর্ষ ও সৌষ্ঠব, তত্বের গভীরতা! ও 
আধ্যাত্মিক মর্যাদার বিচারে এগুলি অবশ্ই বেদবেদান্তের সঙ্গে তুলনীয় নয়; 
কিস্তু বিষয়বস্তর বিস্তার, বৈচিত্র্য ও জনমাঁনসে গভীর প্রভাবের দিক থেকে 
পুরাণ-তঙ্ত্রের স্থান হিন্দুধর্মের ইতিহাঁসে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ । এ-ঢুটিকে বাদ দিয়ে 
হিন্কু সংস্কৃতির সমগ্র ও চলিঞ্চু রূপটিকে ধারণা করা সম্ভব নয়। যদি 
রামমোহন পুরাণ ও তন্ত্রকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে বেদান্তের প্রস্থানত্রয়ের ব্যাখা 
ও আলোচনাতেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখতেন তাহলে শান্ত্রমীমাংসক রূপে 
তার কীতি স্থনিশ্চিতরপেই হত অসম্পূর্ণ ও একদেশদর্শা। কেবল 
রামমোহন নন, তার পূর্ববর্তী সমস্ত বেদান্ত-ভাঙ্ককারগণকে এই সমস্তার সম্ম্থীন 
হতে হয়েছে । তারা লক্ষ্য করেছেন গ্রস্থানত্রয় ও সুপরিচিত স্বতি্রস্থগুলি 
ছাড়াও তাদের সামনে রয়েছে স্থুবিশাল পৌরাণিক ও তান্ত্রিক সাহিত্য, 
লোকচিত্তে ঘার প্রভাব বিপুল, এমন কি শ্রুতিম্থৃতি অপেক্ষাও বহুগুণে অধিক। 
হ্তরাং এগুলিকে তারা কোনও ক্রমেই উপেক্ষা! করতে পাবেন নি। তবে 
পুরাঁণ ও তস্ত্ের মধো পার্থক্য আছে। পুরাণ সম্পূর্ণরূপে বৈদিক এঁতিহ্যের 
অন্তর্গত ও অনুগামী; অপরপক্ষে সকল ক্ত্রগ্রন্থ প্রকাশ্ঠত বেদবিবোধী ন! 
হলেও, সমগ্রভাবে তন্ত্র এমন এক সাধনমার্গ ও পৃজাপদ্ধতির শ্রষ্টা যা বহুল 


১৫২ 


পরিমাণে বৈদিক এঁতিহোর প্রতিষ্পর্ধী। এই কারণেই ভারতের প্রাচীন ও 
মধ্যযুগের বেদীস্তিগণ পুরাণের মর্যাদা স্বীকার করলেও তন্ত্রমতের প্রতি বিমুখ 
ছিলেন। পুরাণ সম্পর্কে এদের পরস্পবের মধো দৃষ্টিভঙ্গীর তারতমা থাকলেও 
সে দৃষ্টির সামান্য লক্ষণ এই যে,তা সম্রদ্ধ। পূর্ববর্তী অধ্যায়ে প্রসঙ্গত এর 
কিছু সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়! হয়েছে। কিন্তু পুরাণকে বেদের সমকক্ষ মনে 
না! করলেও শান্ত্রহিসাবে তাকে এরা কমবেশী যে মর্ধাদা দিয়েছেন, তন্ত্রকে 
কখনই তা দেন নি। বেদান্তের বেদশ্রুতিভিত্তিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে এব কোনও 
যোগস্থত্র স্বীকার করে নেওয়] তাঁদের পক্ষে অসম্ভব ছিল। শংকর, রামানুজঃ, 
প্রমুখ বেদাস্তাচার্ধরা স্প্ত শৈব, পাশ্ুপত, কাপালিক প্রমুখ তন্ত্রগোষ্ঠীভুক্ত 
সম্প্রদায়গুলিকে অবৈদিক গণ্য করেছেন। আনন্দাগরি রচিত 'শিংকরবিজয়' 
গ্রন্থের ত্রয়োবিংশ প্রকরণে শংকরাচার্ষের সঙ্গে কাঁপালিকসম্প্রদায়ের মতসংঘর্ষ- 
প্রসঙ্গে কাঁপালিকগণকে শ্রুতিবিরুদ্ধ আঁচারে তথ্পর” আখা! দেওয়া]! হয়েছে ।* 
অবশ্ট শৈবসম্প্রদায়গুলির মধ্যেও কালক্রমে একটি বেদাস্তমতের উত্তুব হয়েছিল 
ও একাধিক ব্রহ্গস্থত্রভাঙ্যও রচিত হয়েছিল; কিন্তু সে সব ভায্যকারেরা 
শিবমাহাত্মাস্থচক পুরাণের প্রামাণ্য স্বীকার করলেও তন্্কে প্রমাণরূপে গ্রহণ 
করবেন নি। এদের মধো শ্রীপতি তন্ত্রনামধেয় ছু'একটি গ্রন্থের উল্লেখ 
করেছেন বটে, কিন্তু সেগুলিকে সাম্প্রদায়িক তন্ত্রশান্ত্রের অস্তভূক্ত করা চলে 
কিনা সন্দেহ । তান্ত্রিক ও বৈদাস্তিক শৈবমতদ্বয়ের মধ্যে এখাঁনে মৌলিক 
প্রভেদ আছে। তম্ত্রশান্ত্রের অস্তনিহিত ভাববস্তকে নিরপেক্ষভাবে বিচার ও 
বেদাস্তমতের সঙ্গে সমন্বিত করে শ্রদ্ধার সঙ্গে গ্রহণ করবার প্রচেষ্টা আধুনিক 
কালেই আবস্ত হয়েছে । বাঁমমোহনের চিন্তাধারায় এর স্ুত্রপাত। তিনি 
প্রাক্তন বেদাস্তাচার্যদের পস্থা অনুসরণ করে যেমন পৌরাণিক সাহিতোর 
অঙ্কশীলন ও শান্ত্রসমস্থয়ের ভূমিতে তার উপযুক্ত স্থাননির্দেশ করতে অগ্রসর 
হয়েছেন, তেমনি উল্লেখযোগা পূর্বদৃষ্টাস্ত ন1 থাকা সত্বেও আশ্চর্য সাহসিকতার 
সঙ্গে তম্তরতকেও যুক্তি ও পহান্ুভূতির সাহায্যে বিচার করে তার লারভাগকে 
নিজ বেদান্তভিত্তিক দর্শনের সঙ্গে সমম্থিত করেছেন । শান্্মীমাংসক রূপে এ 
কাজ করবার তাঁর বিশেষ প্রয়োজন ছিল। তৃতীয় অধ্যায়ে আলোচনা প্রসঙ্গে 
আমর! দেখেছি তীর কালে বাঙলা দেশে তথ! পূর্বভারতে বেদবেদাস্তের চ্চ 
সামান্তই ছিল। শাস্্ববিচারে তার প্রতিপক্ষগ্গণের প্রধান অবলম্বন ছিল পুবাণ 


১৫৩ 


ও তন্ত্র। বস্তত সমকালীন হিন্দুধর্ম ও আচারের লোক প্রচলিত রূপ ছিল প্রান 
সম্পূর্ণভাবেই পুরাণ-তম্ত্রনির্ভর । সুতরাং এই শাস্তদ্য়ের অন্রশীলন ও মূল্যায়ন 
ভিনি অবশ্ঠাকর্তব্য বিবেচনা করেছিলেন ও নিষ্ঠার সহিত সে কর্তবাপাঁলনে ক্রটি 
করেননি । 

সংস্কত পুরাণসাহিতোর পরিধি বিপুল। সনাতন দৃষ্টিতে পুরাণ অতি 
প্রাচীন শান্ত, বেদ. ও মহাভারতের রচয়িতা বাঁস কলিমুগের 'প্রারস্তে এই শান্তর 
রচন। করেছিলেন বলে প্রসিদ্ধি আছে । কিন্তু প্রচলিত আকারে পুরাণনামধেয় 
যেগ্রন্থগুলি আমাদের সম্মুখে আছে সমগ্রভাবে তা কখনই এত প্রাচীন নয়। 
পণ্ডিতগণ অন্গমান করেন, প্রচলিত পুরাণসমূহের মধো যেগুলি সত্যই সার্থক- 
নাম। অর্থাৎ পুরাতন, খ্রীষ্টীয় তৃতীঘ্ব-চতুর্থ শতকের মধো সেগুলির রচনা সমাপ্ত 
হয়েছিল। কিন্তু পৌরাণিক সাহিতা এর পরবর্তী যুগেও সম্প্রনারিত হয়ে 
চলেছে-ও উত্তরকালের ভারতীয় জীবনচর্যার বহু বিচিত্র উপাদান কালক্রমে এতে 
সন্গিবিষ্ট হয়েছে । দৃগীস্তত্বরূপ বল! যায়, প্রায় মহাভারতসদৃশ বিপুলায়তণ 
প্রচলিত ক্বন্দপুরাণের আবন্তাখণ্ডের 'বেবাখণ্ড' শীর্ষক তৃতীয় ভাগে স্পষ্টত 
মধ্াযুগীয় দেবতা সত্যনারায়ণের মহিমা কীতিত +* ব্রহ্মপুরাণে ওডিশার স্থবিখ্যাত 
কোণার্কক্ষেত্রের মাহাআ্মা বণিত হয়েছে, _যে কোণার্ক সুরধধমন্দির শিঞ্জিত 
হয়েছিল গ্রীষ্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীতে; এক কিংবাস্তী অনুসারে স্থপরিচিত 
ভাগবত পুরাণের রচয়িতা ব্যাস নন, 'মুপ্ধবোধ' রচয়িতা বৈয়াকরণ বোপদেব, 
ধার জীবিতকা'লও সম্ভবত শ্রীষ্য় ত্রয়োদশ শতাব্দী,” এবং এই লোকশ্রুতি সত্য 
হোক বা মিথা হোক এর দ্বারা প্রমাণ হয় ভারতীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও এই 
পুরাণের প্রাচীনত্ব সর্বসম্মত নয়, তা নিয়ে বিবাদ ছিল। ব্রহ্ম বৈবর্তপুরাণ সম্পর্কে 
তো] বন্ধিমচন্দ্রের স্পষ্ট উক্তিই বর্তমান : “ইহার রচনাপ্রণালী আজিকালিকার 
ভট্টাচার্ধদিগের রচনার মৃত। ইহাতে ষঠী মনসারও কথা আছে? ।৯» এই 
জাতীয় বু উদ্দাহরণ প্রচলিত পুরাণগ্রস্থগুলি থেকে আহরণ করা যায়। অপর 
পক্ষে পুরাণসাহিত্যের এই বিপুল ও ক্রমবর্ধমান অর্বাচীন অংশকে বাদ দিলেও 
এর মধ্যে এমন বহু উপাদান খুঁজে পাওয়া যাবে ব্রাহ্মণ্য এতিহ্বে যা সতাই অতি 
পুরাতন । নান] বৈদিক উপাখ্যান, রূপক, প্রাচীন রাজবংশাবলীর বর্ণন, বেদ- 
বনিত মৃনিধধির কাহিনী, প্রাচীন স্থষ্টিতত, সাংখাযোগ, বেদাস্ত, প্রভৃতি গভীর 
দার্শনিক তত্ব ইত্যাদি, এই গ্রন্থগুলির মধ্যে ওতপ্রোত হয়ে আছে। বৈদ্দিক 


১৫৪ 


সাহিত্যে যা অনেক সময়ে স্ত্রাকারে কথিত ব! বিমূর্ত চিন্তায় বাক্ত, পুরাণের 
বর্ণনায় তা প্রায় সর্বক্ষেত্রে অতিপল্লবিত ও রক্তমাংসসংযৌজনে মৃত্তিময়। 
পাশ্চাতা পণ্ডিতগণের মধো পুরাণসম্পর্কে স্ুপবিকপ্পিত ও উল্লেখযোগা গবেষণা 
সর্বপ্রথম করেন হোবেস হেম্যান উইলসন ; এ বিষয়ে তার উক্তি প্রণিধানযোগা : 
“96 00650950105 20 05 595000£005 0: 006 0018795 108৩ 
[71010801505 08০90 [0 006 ৬০০০৪..--[0006 50186006 01 0117121৩ 
৪180 21210061891 01280101) 0065 0001০ 2010 005 9810151)98 
[19110950115 13101) 15 00108015010 ০16 00৪ 01065501011703 01 
50200101107. 91 0081) 2180 1780016 817)010650 0196: 77177075.-"[0 18 
€৮1321) 000 082 00617 2000018050৫ 860০0100815 016280101) 01 
006 06৮21011061 01 00165 6%150706  00910105 01 01011)085, 2110 006 
01570951001 06 0065 001৮6156, 216 0611৮50. 0000 52৮ €121] 810 
01796212100 5001069 ; ৪10 16 9006915 ৬1:% 11615 0186 065 216 
0০702 23:০0$60. 0%6 80706501002 11)00970810161655 ৪1)0 21057101068 
95 17101) 006 00901018052 18 015980190 11) 00105601606 ০৫ 
108%11)6 8৪066100050 (0 25516016811 21)0 5161019081)06 00 4108 
23170217615 10060911001 2170 105 5010151009, 1110616 15 100৬০], 
8091050 06 1)1)5055581% 00101161016 06501119001) ৪. 661)618] 
8561061)0 210010856 0010 85 100 00০ 07141] 0৫ 0101155, 8100 
00611 91191] 01561000102 3) ৪130 11) 17791)% 01 006 ০11000)50717063 
0065 13 8 8001101175 50100010510706 71010 002 10655 10101) 560) 
6০ 1)2%6 06:58050 006 ৮/1)016 0: 006 217016176 ০0110, 2190 চা1)101) 
6 0025 0061660165 708116ড2 10 106 121017601]5 16105851765 112 
06 700181085১০ | নুতরাং প্রাচীন-অর্বাচীন বহু বিচিত্র উপাদানের 
সম্মিলনে বহু যুগ ধরে গড়ে ওঠা স্থবিস্তীর্ণ পৌরাণিক সাহিত্য হিন্দুধর্ম ও 
সংস্কৃতির এক বিশ্বকোষে পরিণত হয়েছে । এর এক প্রান্ত স্পর্শ করে আছে 
বৈদিক যুগকে ; বৈদিক ভাবধাবাকে প্ররুতপক্ষে এর তিত্তিভূমি বলতে হয় 
অপর সীমানা ভারত-ইতিহাসের প্রাচীন কালকে অতিক্রম করে মধাযুগে 
সম্প্রলারিত। ত্রান্ধণা হিন্দুধর্মের প্রচলিত লৌকিক রূপটি পুরাণে যতখানি 


১৫৫ 


অকুত্রিমভাবে পরিস্ফুট, বৈদিক সাহিতো তেমন নয়, একথা নি:সংকোচেই বলা 
যায়। 

হিন্দুধর্মতত্বজিজ্ঞান্থ বা সমাজসংস্কারক-কারও নিকটই পুরাণ উপেক্ষণীয় 
নয়, প্রধানত কয়েকটি কারণে £ 

১. পুরাণ-সাহিত্য ম্পষ্টত শ্রুতিভিত্তিক ৷ পুরাণের তব্বচিস্তা ও সামাজিক 
দৃষ্টি সম্পূর্ণ বৈদিক এঁতিহোর অন্ুগামী__ব্লতে গেলে বৈদিক চিন্তার সম্প্রসারণ । 
পুরাণের দার্শনিক অংশগুলিতে বেদানুসাৰী ব্রাহ্মণ আন্তিক দর্শনপ্রস্থানসমূহের 
মধ বেদাস্ত ও সাংখ্য-যোগই মুখাত আলোচিত। তবে বেদাস্তদর্শনের ব্যাখ্যায় 
পুরাণে নিবিশেষ অছবৈতবাদী ধারার সাক্ষাৎ প্রায় পাওয়াই যায় ন।। এখানে 
কঝৌকটা প্রায় সর্বত্র কোনও না কোনও আকারে জগত্-স্বীকৃতির উপর। 
বেদান্ত বাথাব ক্ষেত্রে চরম অছ্বৈতবাদী শংকরের পুরাণবিমুখতার (যার 
উল্লেখ পূর্বাধ্যায়ে কর] হয়েছে ) এটি অন্যতম কারণ হতে পারে । অপর পক্ষে 
যে-সকল বৈদান্তিক বস্তজগৎকে মিথ্যাজ্ঞান করেন নি, যেমন ভাস্কর, রামান্জ, 
মধব, নিঙ্থার্ক, বিজ্ঞানভিক্ষ, বলদেব, প্রভৃতি, তারা স্বীয় স্বীয় মতস্থাপনে 
বহস্বলের পুরাণের বচন উদ্ধৃত করেছেন। বলদেব বিছ্যাভূষণের ( অষ্টাদশ 
শতাব্দী ) আবিতাবের পূর্বে তো গৌড়ীয় বৈষ'ৰ সম্প্রদায়ের আচার্ধগণ ভাগবত 
পুরাণকেই বেদাস্তের প্রকৃত ভাষ্য গণা করে-_স্বতন্ত্র ব্রক্মস্ত্রভাগ্তই রচনা 
করেন নি। পৌরাণিক হ্থষ্টিতত্ব মুখাত সাংখাদর্শনকেই অস্থসরণ করেছে। 
স্থুতরাং ভারতীয় দার্শনিক ব্রহ্গতত্ব পর্যালোচনাকালে প্ররাণগুলিকে বাদ 
দিলে চলে না।১১ অপর পক্ষে হিন্দুর সামাজিক ইতিহাসের অন্যতম আকর 
হিসাবেও পুরাণসাহিত্য গুরুত্পূর্ণ। বর্ণাশ্রম বাবস্থার স্পষ্ট স্বীকৃতির উপরই 
পুরাণগুলির ভিত্তি স্থাপিত ও নানাপ্রসঙ্গে বর্ণাশ্রমের কাঠামোটির পুঙ্থানুপুঙ্খ 
পরিচয় লাভ করতে হলে স্থবতিনিবন্ধ ইত্যাদির মত পুরাণসাহিত্যেরও দ্বারস্থ 
হওয়া! ভিন্ন উপায় নেই। এখানে উল্লেখা যে ব্রাঙ্গণ্য স্থতিভান্তকার ও 
নিবন্ধকারগণ পুরাণবচনকে অন্যতম প্রমাণ গণ্য করে বার বার নিজ নিজ 
সিদ্ধান্তের সমর্থনে বিভিন্ন পুরাণ থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন । 

২. হিন্দুধর্মের সাম্প্রদায়িক ও ম্মার্ত পঞ্চোপাসনার অন্যতম প্রধান 
অবলহ্বন পুরাণ-সাহিত্য । বেদোত্বর কালের হিন্দু দেবপুজক সম্প্রদদায়গুলিকে 
সাধারণত বৈষ্ণব, শৈব, শক্ত সৌর ও গাণপত্য এই পাঁচ ভাগে বিভক্ত 


১৫৬ 


করা হয়; এদের উপাস্য দেবতা যথাক্রমে, বিষণ, শিব, শক্তি (বা দেবী ), 
সুর্য ও গণেশ। এইসব অন্প্রদায়ভুক্তগণ যেমন বিশেষভাবে নিজ নিজ 
ইষ্ট দেবদেবীর উপাসন1! করতেন, তেমনি স্থতিশান্তরণিয়ন্ত্রিত হিন্দুসমাজে 
একত্র এই পঞ্চদেবতার পুজারও প্রচলন ছিল।১২ প্রচলিত পুরাণ সমূহের 
অধিকাংশের মধ্যেই উক্ত কোনও না কোনও দেবতার মাহাত্মা ও পৃজাপদ্ধতি 
বিশেষ ভাবে বণিত ও বাখাত। বিষ্ণু, ভাগবত, পদ্ম, নাবরদীয়, গরুড, 
্রহ্ধবৈবর্ত প্রভাত পুরাণের প্রধান আরাধা বিষণ; বাযু, শিব বা লিঙ্গ পুরাণের 
মুখ্য বিষয়বস্ত শিবমাহাত্মা ; ভবিষুপুরাণের গ্রধান দেবতা স্ুর্ধ। উপপুবাণগুলিও 
এই সাম্প্রদায়িক হস্তাবলেপ থেকে মুক্ত নয়। এগুলির মধো নরসিংহ, 
বিষ্ণধর্মোত্তর, পুরুযোত্বম গ্রভৃতি মুখাত বৈষ্ণব; শাহ্বপুরাণ সুর্যমাহাত্মাস্থচক ; 
দেবীপুরাঁণ, দেবীভাগবত, কালিকাপুরাণ, মহাভাগবতপুরাঁণ প্রস্ভৃতির বিষয়বস্ত 
শক্তি-উপাসন1। এছাড়া বিভিন্ন গ্রাচীন গ্রস্থের উল্লেখ ও উদ্ধৃতি থেকেও 
অধুনালুপ্ত একাধিক সাম্প্রদায়িক উপপুরাণের অস্তিত্ব জান] যায়।১০ সৃতরাং 
পুরাণকে স্বচ্ছন্দে গ্রচলিত হিন্দুধর্মের সাম্প্রদায়িক শান্তর বলা যেতে পারে। 
বিভিন্ন দেবতার মাহাত্মাস্থচক স্থপরিচিত পুরাঁণগুলির বিষয়বস্ত বিশ্লেষণ করলে 
এই সংকীর্ণ সাম্প্রদায়িক দৃষ্টির আর একটি লক্ষণও ধর] পড়ে। কোনও 
বিশেষ সম্প্রদায় ব্যবহত গ্রন্থে কেবল যে সম্প্রদায়ের ই্দেবতার শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণ! 
করা হয়েছে তাই নয়, তুলনায় প্রায়শ অন্যসকল দেবতার মাহাত্ম্যকেও 
সুপরিকল্পিত ভাবে খর্ব করা হয়েছে। বৈষ্ণৰ পুরাণগুলিতে শিৰ গ্রত্ৃতি 
অন্থান্ত দেবগণের মুখে বিষুস্্রতি আরোপিত; তেমনি শৈব পুরাণে বিষুর 
মুখে শোন! যায় শিববন্দনা ; আবার শাক্ত পুরাণে ব্রহ্ম|-বিষু-মহেশ্বরাদি সকলেই 
দেবী বা মহাশক্তির শরণাগত। পুরাণ-সাহিত্যের এসব অতি লাধাবণ বৈশিষ্ট্য | 
সুতরাং ব্রাহ্মণ হিন্দু সম্প্রদায়গুলির এঁতিহাসিক বিকাশের ধারাঁটিকে অ্ুসরণ 
করতে হলে অপরাপর শাস্তগ্রন্থের মধ্যে পুরাণের দ্বারস্থ না হয়ে উপায় নেই। 

৩. বর্তমান হিন্দুধর্মের ক্রিয়াকর্ম ও পুজাপদ্ধতির মধ্যে কিছু কিছু বেদমন্ত্ 
ব্যবহৃত হলেও এর কাঠামোটি প্রায় সম্পূর্ণ পৌরাণিক এঁতিহের উপর 
প্রতিষ্িত। অবশ্যই এর মধ্যে বহুল পরিমাণে দেশাচার ও লোকাচারের মিশ্রণ 
আছে এবং এই সকল আচারের এক বিরাট অংশকে আর্ধসভ্যতা বা আধশাস্ত্রের 
দান বলে কিছুতেই স্বীকার কর] যায় না| * এই প্রসঙ্গে তন্ত্রের কথাও আসে 


১৫৭ 


এবং তা যথাস্থানে উত্থাপিত হবে। আপাতত মনে রাখা প্রয়োজন, চলিষণণ ও 
ক্রমসম্প্রসারমান পৌরাণিক সাহিত্যের সমগ্র আয়তন াঁয় মহাসাগরতুলা) 
বিভিন্ন অঞ্চলে ও কালে রচিত বহু অর্বাচীন গ্রন্থ ক্রমশ এর অস্তভুক্তি হয়েছে এবং 
সব মিলিয়ে যে এতিহ্বোর সুষ্টি হয়েছে তার পূর্বসীমা যেমন বৈদিক ভাবধারার 
সঙ্গে যুক্ত, তেমনি প্রসারিত সম্মখভাগ প্রায় আধুন্কি যুগের ছ্বারপ্রাস্তকে স্পর্শ 
করেছে। এই বিপুল প্রসার এর সঞ্চয়ের ভাগারকেও বিপুল করেছে এবং 
লৌকিক ধর্ম ও সংস্কৃতির ধারাগুলিকে আত্মসাৎ করতে এর কোথাও 
আটকায় নি। প্রচপিত প্রতিমাপূজা ও তৎ্সংক্রাস্ত সর্ববিধ সংস্কার এই 
পৌরাণিক হিন্দুধর্সেরই অঙ্গ; বিশ্তুদ্ধ বৈদিক ধর্মের পক্ষে তা অপরিহার্য নয় | 
মূল বৈদিক ধর্মেব সঙ্গে শতিমাপূজার কোনও সংশরব আজ পর্যস্ত প্রমাণিত 
হয়নি। 

কিন্ত পৌরাণিক সাহিতা ও এতিহের এই সর্বলোলুপ অথচ স্থিতিস্থাপক 
চরিত্র শান্ত্রহিসাবে পুরাণের মর্ধাদা ক্ষন করেনি । অবশ্যই ব্রাহ্মণ দৃষ্টিতে 
শ্রতিগ্রমাণের আসন সর্বোচ্চ । স্মৃতি, পুরাণ প্রভৃতি শাস্ত্র মান্য হলেও 
গ্রামাণিকতা৷ ও গুরুত্বের দিক দিয়ে সেগুলি কখনই বেদের তুল্য নয়। বেদাস্ত 
মুখাত শ্রতিভিত্তিক দর্শন হলেও ব্রক্গন্তত্রকার একাধিক স্থলে প্রত্যক্ষত বা 
পরোক্ষত স্মৃতির উল্লেখ করেছেন ।১৭ এ সকল স্থলে ভাষ্কারগণ সাধারণ 
ভাৰে ম্বতিপ্রমাণের আলোচনা ছাড়া বিশেষ ভাবে গীতার সাক্ষ্যকেই অবলম্বন 
করেছেন যে কারণে গীতা বেদীস্তের স্বৃতিপ্রস্থান রূপে গণ্য হয়েছে। প্রসঙ্গত 
ভারা মন গুভূতি ধর্মশান্ত্কারগণের বচন কখনও কখনও উদ্ধার করেছেন। 
কিন্তু স্ত্রকার কোথাও ম্পষ্টত পুরাণের উল্লেখ করেন নি, ইঙ্গিতও করেছেন 
কিনা সন্দেহ । শংকর ও রামমোহনের ভান্ত অনুযায়ী মাত্র একটি স্তরে 
(৩.১. ১৫) পৌরাণিক মতের উল্লেখ স্ত্রকারের অভীপ্সিত ছিল।১ 
্রহ্বস্তত্রকারের এই পুরাঁণবর্জন সম্ভবত ভাষ্তকার শংকর প্রদর্িত পৌরাণিক 
মত ও সাক্ষের প্রতি উপেক্ষার অপর এক কারণ; আর এক্ষেত্রে রামমোহন 
তার ভাস্কে শংকরকেই অন্রণ করেছেন। কিন্তু স্বীয় সুত্রব্যাখ্যায় পুরাণের 
সাহাযা গ্রহণ না করলেও এবং শ্রুতির তুলনায় পুরাঁণকে নিক্পর্যায়ের শান্ত 
মনে করলেও শংকর একথা ম্পষ্টই বলেছেন__ইতিহাঁস-পুরাঁণ বেদমূল এবং 
নষ্টা ব্যাসাদি খধিগণের প্রত্যক্ষ অন্ুভূতিজনিত অভিজ্ঞতার উপর এর 


১৫৮ 


সত্য প্রতিষ্ঠিত; সতবাং দেবগণের অস্তিত্ব ও দেবদর্শনের যাথার্থ্য প্রমাণের 
পক্ষে ইতিহাস-পুরাণের সাক্ষ্য অভ্রান্ত।১৬ সাম্প্রদায়িক বিষ্ুপাঁসক রামাহজ 
তার বেদান্তভাস্বে শ্রুতিবাক্য ও স্থবতিবচনের পাশাপাশি বহস্থলে বিষুপুরাঁণের 
সাক্ষা উদ্ধত করেছেন; কিন্তু তিনিও শান্্ররপে পুরাঁণকে শ্রুতির সমকক্ষ মনে 
করেন নি। পাতঞ্জল-যোগসিদ্ধাস্ত খণ্ডন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুরাণপ্রব্ক্তা 
হিরণাগর্ভ দেহধারী হওয়ায় স্বয়ং যেমন বজঃ: ও তমোগুণ থেকে মুক্ত নন, 
তার রচিত পুরাণশান্ত্র তেমনি রজঃ ও তমোমূলক-_স্কৃতরাং যোগম্বতির মতই 
পুরাণের মধোও ভ্রাস্তির অবকাশ আছে ।১* কিন্ত রাঁমান্থজের (শ্রীষ্টীয় একাদশ 
শতাব্দী ) পর থেকেই সাম্প্রদায়িক বেদাস্তভাঙ্ককাঁরগণের মধো পুরাপপ্রামাণা 
সম্পর্কে দৃষ্িভঙ্গীর পরিবর্তন লক্ষা করা যায়। তৃতীয় অধায়ে প্রসঙ্গত এর 
কিছু উল্লেখ করা হয়েছে । শংকর বা রামান্তজ পুরাণকে শান্ত্ররূপে গণ্য করেও 
তার শ্রুতিসমকক্ষতা স্বীকার করেন নি। কিন্তু পরবর্তা বৈদাস্তিকগণ শান্ত- 
হিসাবে শ্রুতি ও পুরাণের মধো প্রভেদদ তো করেনই নি, অধিকন্ত সাম্প্রদায়িক 
প্রয়োজনসিদ্ধির জন্য কোনও কোনও ক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িক পুরাঁণগুলিকে 
প্রত্যক্ষত বা পরোক্ষত শ্রুতির উধেরব স্থান দিতেও তাদের দ্বিধা ছিল না। 
দ্বৈতবাদী মধবাচার্ধের মতে (খ্রীষ্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দী) প্রামাণিক শান্গ্রস্থ 
বলতে বুঝতে হবে খগাদি চতুর্ষেদ, পাঞ্চরাত্রশান্ত্র মহাভারত, বাঁমায়ণ, 
রন্স্ত্র, পাঞ্চরাত্রাত্মক বৈষ্*ৰ পুরাণসমূহ এব” এই সকলের প্রতিকূল না হলে 
মন্ু প্রভৃতি স্বৃতিগ্রন্থ ।১৮ দেখা যাচ্ছে রামান্চজের মনে পুরাণপ্রামাণা সম্পকে 
যে দ্বিধাট্রকু ছিল মধ্ব তা কাটিয়ে উঠেছেন। তাঁর বিবেচনায় পুরাণশান্ত 
প্রমাণরূপে বেদের মতই মান্ত_-তবে যে কোনও পুরাঁণ নয়, পাঞ্চরাত্রাঙসারী 
বৈষ্ণব পুরাঁণগুলিরই কেবল এই মরধাদা প্রাপা। এই সিদ্ধান্তের মধো তাঁর 
অবিমিশ্র সাম্প্রদায়িক দৃষ্টির প্রকাশ লক্ষণীয়। অনুরূপ মনোভাবের পরিপূর্ণ 
বিকাশ ঘটেছে গৌড়ীয় বৈষ্ণব সম্প্রদায়ভুক্ত আচার্ষগণের মতবাদে । এই 
সম্প্রদায়ের প্রধানতম তত্বব্যাখ্যাতা জীবগোস্বামী আলোচনাপ্রসঙ্গে জ্ঞানের 
উৎপত্তিস্থলরূপে ভারতীয় দর্শনের বিভিন্ন শাখায় সাধারণ ভাবে স্বীকৃত অন্য 
সকল প্রমাঁণকে অগ্রাহ করে একমাত্র শবপ্রমাণকেই মান্য করেছেন $১৯ কিস্ত 
শব্প্রমাণ বলতে, শংকর, ভাস্কর বা বামানুজ প্রভৃতির ন্ঠায় তিনি একমাত্র 
শ্রুতিসাক্ষ্যকে বোঝেন নি। তাঁর মতে বর্তম্থন যুগে শ্রুতি বা বেদ অধিগত 


১৫৪৯ 


করা সহজ নয়; বেদভাঙ্াকারগণের পরস্পরের মধ্যেও মতের যিল নেই ; স্থৃতরাঁং 
বেদের অর্থনির্যয় করতে হলে আমাদের ইতিহাস-পুরাণের সাক্ষ্যকে শব- 
প্রমাণের মর্ধাদা দিতে হবে; বেদের অন্তপিহিত অর্থকে সম্পূর্ণতা দান করবার 
জন্যই পুরাণের স্ৃষ্টি।২০ অতঃপর তিনি আরও অগ্রসর হয়ে মতস্তপুরাণের 
বচন উদ্ধৃত করে পুরাঁণসমুকে সাব্বিক, রাজসিক, তামসিক ও সংকীর্ণ এই চার 
শ্রেণীতে ভাগ করেছেন । তার মতে এর মধ্যে সাত্বিক পুরাণগুলি বিষ্ুমাহাত্মা 
সুচক, রাজনিক শ্রেণীতে ব্রহ্মার মাহাত্ম্য বণিত, তামসিক পুরাঁণসমূহের 
আরাধা শিব ও সংকীর্ণ গ্রন্থগুলির উদ্দেশ্য দেবী সরম্বতী ও পিতৃগণের মহিমা 

তরন২১। কিন্তু এই ভাবে বৈষ্ণব পুরাণগুলির শ্রেষ্ঠতা প্রতিপন্ন হলেও জীব 
তা যথেষ্ট মনে করেন নি। তিনি তার পরেও বলতে চেয়েছেন, বৈষ্ণব- 
পুরাণসমূহের মধো, এমন কি সর্বশান্ত্রের মধ্যে, ভাগবতপুরাণই সাত্বিকতম ও 
প্রমাণ হিসাবে সর্বশ্রেষ্ঠ ; ব্যাস ত্রন্ষস্থত্রের রচয়িতা বটে, কিন্তু এই স্থত্র সর্ব- 
সম্প্রদায় কর্তৃক স্বীকৃত নয়; তাছাড়া এগুলি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ধ হওয়ায় এর ব্যাখ্যা 
সম্পর্কেও মতভেদ আছে; স্থতরাং প্রমাণরূপে বেদ, ইতিহাসপুরাণ, ব্রহ্গস্থত্র 
প্রভৃতি সর্বশাস্ত্রের সারস্বরূপ একটি অপৌরুষেয় পুরাণগ্রস্থকেই মান্য করা 
বিধেয় ; এমন এক গ্রন্থ 'সর্বপ্রমাণচক্রবর্তা" ভাগবতপুরাণ ; ব্যাস ক্রন্ধস্ত্র 
ও বিবিধ পুরাণগ্রস্থ রচনা করেও পূর্ণ তৃপ্তি লাভ করতে পারেননি সেই হেতু 
তিনি সমাধিমগ্র হয়ে ত্রহ্মস্থত্রের অকৃত্রিম ভাম্তরূপে ভাগবতপুরাণ প্রণয়ন 
করেছেন; স্থতরাঁং ভাগবত পুরাঁণেই সবশান্ত্ের সমন্বয় ।২২ এই দৃষ্টিতঙ্গীর মধ্যে 
সাম্প্রদায়িক মতে প্রগাঢ় বিশ্বাস এবং অরুত্রিম শ্রদ্ধা ও অন্ুরাগের প্রকাশ 
যথেষ্ট থাকলেও এতিহাসিক বিচারবোধের পরিচয় অল্লই ছিল। গোঁড়ীয় 
বৈষ্ণব-সম্প্রদায়ের অন্যান্য আচার্ধগণ ভাগবত পুরাণের প্রতি তাদের অপরিসীম 
শ্রদ্ধাস্বেও কিন্তু সর্বদা প্রকাশে এতটা নিরংকুশ হতে পারেন নি। 
রাধাদামোদর ও তার শিদ্ক বলদেব বিগ্ভাভূষণের রচনা বিশ্লেষণ করলে তার 
প্রমাণ পাওয়া যায়। রাধাদামোদর তার “বেদাস্ত-স্তমস্তক” গ্রন্থে স্বীকার 
করেছেন পরবর্তী যুগের খধিগণের মধো প্রায়শ সিদ্ধান্তগত মতভেদ লক্ষ্য 
করা যায়; তাই তাদের উক্তিকে প্রমাণম্বরপ গণ্য কর। চলে না; অপর 
পক্ষে শ্রুতির মধো কোনও অন্তবিরোধ নেই--শ্রুতিই একমাত্র আদি অকুত্রিম 
প্রমাণ ।২৩ বলাবাহুল্য পুরাণকঠরগণ এই পরবতী ঝধিকৃলেরই অস্তভূক্তি। কিন্তু 


১৯৬৩০ 


কার্ধত বাধাদ্ামোদর নিজেকে সর্বত্র তার শ্রুতিশ্রেষ্ঠত্ববাদে নিবন্ধ রাখতে 
পারেন নি। এ একই গ্রন্থের ছিতীয় অধ্যায়ে দেখা যায় তিনি জীব 
গোম্বামীর অন্থকরণে পুরাণসমূহকে তামসিক, রাঁজসিক ও সাত্বিক শ্রেণীত্রয়ে 
বিতক্ত করে তথাকথিত সাত্বিক ( অর্থাৎ বৈষ্ণব) পুরাণগুলির শ্রেষ্ঠত্ব ও 
প্রামাণিকতা! প্রতিপন্ন করবার জন্য সচেষ্ট ।২» এই শ্ববিবোধ বলদেবের 
রচনাতেও ( অষ্টাদশ শতাব্দী ) লক্ষণীয়। তিনি বেদের শ্রেষ্ঠত্বে ও সর্বোচ্চ 
প্রামাণিকতায় বিশ্বাসী এবং তাঁর মতে শূদ্রের বেদপাঠে অধিকার নেই, 
পুরাঁণ-ইতিহাস শ্রবণই তার পক্ষে বিধেয়। এমন কি তিনি বলেন, যেহেতু 
শূদ্রগণের মুক্তি পুরাণাদি শ্রবণের ফলেই সম্ভব, সেই কারণে তারা এই 
উপায়ে মুক্তিলাভ করলেও তাদের অজিত মুক্তি বেদাধিকারী ব্রাহ্মণার্দি তিন 
উচ্চবর্ণের লভা মুক্তি অপেক্ষা নিম্স্তরের |-_ অর্থাৎ মুক্তির ভূমিতেও বর্ণবিভাগ 
আছে ।২« কিন্তু সেই সঙ্গে লক্ষা কর] যায় স্বরচিত ব্রহ্মন্ত্রের গোবিন্দভাষ্ের 
মঙ্গলাচরণে (তৃতীয় গ্লোকে ) ভাগবতপুরাণের শ্রেষ্ঠতা সম্পর্কে সবার অকু 
স্বীকৃতি এবং “ুশ্ত্াশীর্ষক এ অংশের নিজরুত টীকায় এই মর্মে উক্তি যে 
বেদব্যাসের সমা ধিলন্ধ ব্রঙ্গস্থত্রের অকৃত্রিম ভাস্স্বরূপ সমস্ত বেদাস্তের সারভূত 
শ্রীমদ্ভাগবতের আহগগতোই তিনি ব্রঙ্গস্ত্র ব্যাখ্যা আরম্ভ করছেন ।২* জীব- 
গোস্বামীর প্রভাব তিনিও এড়াতে পারেন নি। অপর পক্ষে. শ্রীপতি, 
শরীক প্রতৃতি রচিত সাম্প্রদায়িক শৈব বেদাস্তভাস্তগুলিতে অনুরূপভাবেই 
শিবের শেষ্ঠত্ব স্থাপন করা হয়েছে; বলা হয়েছে,_শিবই পরক্রহ্ম ; বেদের 
সমস্ত বচনই শিবের গৌরবস্চক ; শৈব আগম শিবপুরাণ সর্বাধিক প্রামাণিক 
শাস্ত্র; এবং বিষ্কমাহাত্মাস্থচক পুরাণ গুলি শান্্র হিসাবে অপেক্ষাকৃত নিকৃষ্ট ।২* 
বীরশৈব ভাষ্যকার শ্রীপতি স্পইত পুরাঁণ-ইতিহাঁসের প্রামাণ্য স্বীকার করেছেন 
_এবং এই শ্রেণীভুক্ত যে-সব গ্রস্থের বচন তিনি প্রমাণরূপে ভাষ্তে উদ্ধৃত 
করেছেন তার মধ্যে সাম্প্রদায়িক শৈবশান্ত্রেরই স্থনিশ্চিত প্রাধান্য-_যথা 
শিবগীতা, শিবপুরাণ, শিবপুরাণের অন্তর্গত বায়বীয় লংহিতা, ব্রহ্মাগপুরাণ, 
লিঙ্গপুরাঁণ, স্বশ্দপুবাণ, ঈশান-সংহিতা, শিবধর্ম, বাতুলতন্ত্, অন্ভবন্থত্র, বীরাগম, 
মহিয়তন্ত্র, ইত্যাদি ।২ 

এ পর্বস্ত পুরাণের তাৎপর্য ও পৌরাণিক সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য এবং ক্রম- 
অভিব্যক্তি সম্পর্কে যা বলা হুল সেই প্রেক্ষাপুটটি মনে রাখলে পুরাণ সম্পর্কে 


১৬১ 
৯৯ 


রামমোহনের দৃষ্টিভঙ্গী ও উক্তিগুলির তাঁৎপর্য বিচার করা সহজ হবে। সংস্কৃত 
ও বাঙলায় রচিত তার বিচারপ্রন্থগুলির মধো বিভিন্ন প্রসঙ্গে সর্বসমেত তাকে 
পুরাণ-ইতিহাস পধায়ের২» ছাব্বিশ খানি গ্রন্থের উল্লেখ করতে দেখা যায়: 
(১) ভাগবতপুরাণ (৮৯ বার))৩০ (২) বিষ্ণপুবাণ (৬ বার )১১ 
(৩) পদ্সপুরাণ (১৯ বার))৩২ €৪) গরুড়পুরাণ (৮ বার )১৩৩ 
(৫) কালিক] (কালী ) পুরাণ (৮ বার );৩৪ (৬) স্বন্দপুরাঁণ (১৮ বার ))৩৫ 
(৭) ভবিস্পুরাণ (২ বার) (৮) ব্রদ্ষবৈবর্তপুরাণ ' 0৬ বার )7** 
(৯) নরসিংহপুরাণ (১ বাঁর)১*৮ (১০) শিবধর্ম (১ বার )১২৯ 
(১১) কৃর্মপুরাণ (১২ বার) ১৪০ (১২) বরাহপুরাণ (২ বার) ৪১ (১৩) শিবপুরাণ 
(৫ বার); (১৪) লিঙ্গপুরাণ (৩ বার ))৫৩ (১৫) শান্পুরাণ 
(১ বার )১৪* (১৬) মার্কগেয়পুরাণ (€ বার )3৭ (১৭) ক্রদ্ষপুবাণ 
€৪ বার )১৪৬ (১৮) বিষুধর্মোত্তর (১ বার )3৪ (১৯) নারদীয়পুরাণ 
(১ বার ),৮ (২৭) মতস্তপুরাণ (২ বার):৪* (২১) দেবীপুরাঁণ 
(৩ বার )$৭ (২২) মহাভারত (৩১ বার );৭১ (২৩) রামায়ণ 
(২ বার )১৭২ (২৪) হরিবংশ (২ বার ))৩ (২৫) যোগবাশিষ্ঠ (রামায়ণ ) 
(১৫ বার )7৪ এবং (২৬) অধ্যাত্ম রামায়ণ (৩ বার );৫৫| এই কিঞ্চিৎ 
বিস্তারিত সমীক্ষা থেকে সহজেই যে সিদ্ধান্ত করা যায় তা এই : রামমোহন 
হিন্দুধর্ম অনুশীলনের ক্ষেত্রে নিজেকে মাত্র বৈদিক সাহিতোর জ্ঞানকাণ্ডের মধ্যে__ 
অর্থাৎ উপনিষদ্-বেদাস্তে সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন এই প্রচলিত সংস্কার সম্পূর্ণ 
ভিত্তিহীন । বেদৌত্বর সুবিশাল পৌরাঁণিক সাহিতোর সঙ্গে তার পরিচয় ছিল 
খুবই গভীর এবং স্থবিস্তীর্ণ। হিন্দুধর্মের যুগোপযোগী ব্যাখা! ও মূল্যায়নের 
কাঁজ যে পৌরাণিক (ও তান্ত্রিক ) এঁতিছ্ের উপযুক্ত বিচার ছাড়া সম্ভব হতে 
পাঁরে না এই বোধও তাঁর চিত্তে খুবই স্প্ট। এই কারণেই প্রথম থেকে তাঁকে 
তীর বাউলা ও সংস্কৃত গ্রস্থগুলির মধ্যে শান্্রহিসাবে পুরাণ-তন্ত্রের গুরুত্বের 
প্রসঙ্গটিকে একাধিক বার আলোচনা করতে দেখা যায়। এ-সম্পর্কে তৃতীয় 
অধ্যায়েধ বিস্তারিত ভাবে যা বলা হয়েছে পুনকরুক্তি না করে, সংক্ষেপে তার 
সারমর্ম এখানে উদ্ধার করা যেতে পারে £ রামমোহনের মতে পুরাণ ও তন্ত্রকে 
অবশ্ঠই শান্তর বলে গণা করতে হবে, এবং শ্রুতিবিরোধী না৷ হলে এদের সাক্ষ্য 
নিশ্চয় প্রমাণরূপে মান্য। শ্রতিপ্রমাণ প্রসঙ্গে তিনি সমগ্র শ্রুতির যে 


১৬২ 


একবাক্যতা স্বীকার কবেছেন.৭ পুরাণ-তন্ত্র সংক্রান্ত আলোচনায় সেই তত্বকেই 
তিনি কিছু সম্প্রসারিত অর্থে প্রয়োগ করেছেন। আপাতদৃষ্টিতে পুরাণ- 
তন্ত্রের সাক্ষ্য নানা স্থানে বৈদিক সিদ্ধান্তের বিরোধী ; পুরাণে ও তন্ত্রে সাকার 
উপাসনার বিস্তারিত উপদেশ ও পুথ্থান্থপুঙ্খ ( এবং প্রায়শ স্থল) বর্ণন] দৃষ্ট 
হয়। এ-সম্পর্কে রামমোহনের বক্তবা, বৈদিক জ্ঞানকাণ্ডে ব্যাখ্যাত একতত্ববাদী 
ও একেশ্বরবাদী সিদ্ধান্তের সঙ্গে এগুলির একবাক্যতা স্থাপন করে সামপ্তস্ত করে 
নিতে হবে। এই সমস্ত তথাকথিত সাকারোপাসনা বাচক পৌরাণিক ও তান্ত্রিক 
উক্তিসমূহ প্রকৃতপক্ষে বহুদেববাদী সিদ্ধান্ত নয়; এক অথণ্ড ব্রহ্ম বা পরমেশ্বরের 
উপাসনাঁয় মা্ুষকে উদ্ছূদ্ধ করাই এগুলির অভিপ্রায়। ব্রহ্ের শ্রবণ, মনন, 
নিদিধ্যাসনে যারা অসমর্থ সেই সব দুর্বল অধিকাঁরীর উপাসনার জন্য ঈশ্বরের 
এই ইন্জ্রিয়গ্রাহ বূপগুলি কল্পনা করা হয়েছে। উপাসনার এই অপেক্ষাকৃত 
সহজ প্রণালী সামনে না থাকলে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে পড়বে, ধর্মভয়শূন্য 
নাস্তিক ও ছুক়্ৃতিকারীর সংখ্যা বাড়বে এবং লোকস্থিতি বিপন্ন হবে। কথাটি 
রামমোহন একাধিকবার অতি স্পষ্ট করেই বলেছেন £ “**”*"তবে পুরাণেতে 
এবং তন্ত্রাদিতে সাকার দেবতার বর্ণন এবং উপাসনার যে বাহুলা মতে 
লিখিয়াছেন সে প্রতাক্ষ বটে কিন্তু সে পুরাণ এবং তন্ত্রাদি সেই সাকার বর্ণনের 
সিদ্ধান্ত আপনিই পুনঃ পুনঃ এইরূপে করিয্নাছেন যে, যেবাক্তি ব্রহ্মবিষয়ের 
শ্রবণ মননেতে অশক্ত হইবেক সেই ব্যক্তি দৃষ্র্মে প্রবর্ত ন1 হইয়া রূপকল্পনা 
করিয়াও উপাসনার ছারা চিত্ত স্থির রাখিবেক (1) পরমেশ্বরের উপাসনাতে 
যাহার অধিকার হয় কাল্পনিক উপাঁসনাতে তাহার প্রয়োজন নাই ।”4৮ অন্যত্র £ 
“বাস্তবিক যেযে বচনে দ্বিভূজ, চতুভুজ, শতভুজ, সহম্রভুজ ইত্যাদি রূপেতে 
ব্রঙ্মারোপে ব্রহ্ম করিয়া কহিয়াছেন সেই সকল বচনের সহিত বেদাস্তস্ত্রের 
একবাক্যতা করিয়া তাবৎ খধিরা বা গ্রস্থকর্তারা এই সিদ্ধান্ত করেন যে সেই 
সকল আকার কল্পনা মাত্র, যাবৎ ব্রহ্থাজিজ্ঞাস1! ন! হয় তাবৎ ঈশ্বরোদেশে এ 
কাল্পনিক রূপের আরাধনা করিলে চিত্তশুদ্ধি হইয়া ত্রক্মজিজ্ঞাসার সম্ভাবনা হয় 
কিন্তু ব্রহ্মজিজ্ঞাসা হইলে পর কাল্পনিক রূপের উপাসনার প্রয়োজন থাকে 
না" *.. |”৫৮ক এই অধিকারিভেদ স্বীকার করে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে» 
রামমোহন খুব জোর দ্রিয়েই বলেছেন, পুরাঁণ-তন্ত্র কথিত পরমেশ্বরের বূপকল্পনা 
কল্পনামাত্রই, তার কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই; এগুলি যে কোনও স্ষ্ট বন্তর মত 


১৬৩, 


উৎপত্তি-বিনাশশীল। প্ররুতপক্ষে উপনিষদের মত পুরাঁণতন্ত্রাদিবও প্রতিপান্ 
এক অখণ্ড পরমত্রন্ধ ৷ দুর্বল উপাঁসকের চিত্ত পৌরাণিক রূপকল্পনার মাধামে 
্রহ্মজ্ঞানের ভূমিতে আরোহণ করতে সক্ষম হলেই সকল রূপকল্পনা অস্তহিত হয়। 
এই বক্তব্যের প্রমাণে তার বিচারপ্রস্থগুলিতে বিষণ, ভাগবত প্রভৃতি পুরাণ 
এবং কুলার্ণব, মহানির্বাণ প্রভৃতি তন্ত্র থেকে একাধিকবার তিনি বনু বচন উদ্ধার 
করেছেন ।*০ বেদের জ্ঞানকাণ্ডেও যে একই পদ্ধতিতে ছুর্বল অধিকারীর 
উদ্দেশে বিশেষ বিশেষ উপাসনার বিধান দেওয়া আছে এই প্রসঙ্গে রামমোহন 
সেদিকেও আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ভোলেন নশি। এই উপাসনাসমূহ 
দুটি ধারায় বিভক্ত : (১) প্রণব" জপের দ্বারা উপাননা) (২) ব্রহ্ষা, সুর্য, 
অগ্নি, প্রাণ, মন, আকাশ ইত্যাদি সষ্ট বস্তকে ব্রদ্ধ জ্ঞানে উপাসনা ।*১ বাহত 
এই দ্বিতীয়োক্ত বৈদিক বিশেষ উপাসন1 ও পৌরাণিক সবূপ উপাসনার মধ্যে 
একটি বড় পার্থকা এই যে পুরাণ-তন্ত্রে সপ উপাসনা বলতে সাকার উপাসনা ব! 
প্রতিমাপুজাই বিহিত, বৈদিক যুগে উপাসনায় প্রতিম! মাধ্যমের উদ্তব হয় নি। 
উভয়ত্র কিন্ত মূল তত্বটি এক : দুর্বল অধিকারীর চিত্ত স্থির করবার জন্য ও 
লোকস্থিতি রক্ষা করবার উদ্দেশ্তেই বেদে ও পুরাণে রূপকল্পনার নির্দেশ 
দেওয়া হয়েছে । উপাশ্য বাজ্ঞেয় কিন্ত সর্বদা ও সর্বত্র পরক্রহ্ম। বেদের 
সঙ্গে পুরাণের একবাক্যতা স্থাপনে তাই কোনও বাধা নেই। এই একবাকাতা 
স্বীকার করে নিলেই সমগ্রভাবে শাস্ত্রের একটি স্থসঙ্গত ও স্ুসমঞ্স মীমাংসায় 
উপনীত হওয়া সম্ভব | পুরাণশাস্ত্রের প্রকৃতি বিশ্লেষণ প্রসঙ্গে বামমোহনের এই 
বিস্তারিত আলোচন] থেকে দেখা যাচ্ছে বেদাস্তদর্শনে তীর গুরুস্থানীয় শংকরের 
সঙ্গে তার মতের কয়েকটি সাদৃশ্য ছিল। প্রথমত শংকরের যত তিনি 
শ্রতিগ্রমাণকে পুবাণতন্ত্রাদির সাক্ষ্য অপেক্ষ] শ্রেষ্টজ্ঞাঁন করেছেন এবং শ্রুতিসম্মত 
এবং শ্রুতির অনুগত হলে তবেই পুরাঁণ-তন্ত্রেরে বচনকে শাস্ত্রের মর্যাদা দান 
করেছেন । দ্বিতীয়ত শংকরের মতই তিনি তার বেদাস্তভাস্তে বা 'বেদাস্তসাঁর” 
প্রভৃতি বেদাস্তবিষয়ক অন্যান্য গ্রন্থে পুরাণতন্ত্রাদির বচনকে সাক্ষা হিসাবে 
গ্রহণ করেন নি। অপর পক্ষে শান্ত্রহিসাবে বেদ ও পুরাণতন্ত্রাদির একবাকাতা 
স্থাপনের উদ্দোস্টে তিনি যেরকম বিস্তারিত, তথ্যনিষ্ঠ ও যুক্তিপূর্ণ আলোচনা 
করেছেন, শংকরের রচনায় তার নজির খুজে পাওয়া যাবে না। সাধারণভাবে 
পুরাণের বেদমূলত্ব স্বীকার কর? ছাড়া শংকর তার স্থবিস্তীর্ণ রচনাবলীর মধ্যে 


১৩৪ 


কোথাও প্রচলিত পুরাণগুলির উল্লেখমাত্রও করেন নি। তার নামে প্রচলিত 
শ্বেতাশ্বতরোপ নিষদ-ভাষ্যভূমিকাঁতে একাধিক পুবাণের বচন উদ্ধত হয়েছে 
বটে, কিন্তু পুর্বেই উল্লেখ করেছি অনেক পণ্ডিত এই ভাষাকে শংকরের রচনা 
মনে করেন না ।৬২ 

পুবাণকে শাঞ্তরূপে স্বীকার করে সজাগ এতিহাসিক দৃষ্টির পরিচয় দিলেও 
রামমোহনের বিচারশীল আধুনিক মনের পক্ষে পৌরাণিক সাক্ষ্যের 
দুর্বলতা ও ম্ববিরোধগুলি আবিষ্কার করা কঠিন হয় নি। তার বিস্তারিত 
আলোচনায় এ বিষয়ে তিনি যে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন সেগুলি এখানে একে 
একে আলোচন! কর! যেতে পারে £ 

১. পুরাণ (ও তন্ত্র) শাস্ত্রের পরিধি বিপুল। প্রাচীনকাল থেকে মধাযুগের 
অবসান (এমন কি আধুনিক যুগের আরমস্তকাল ) অবধি পুর1ণ-তন্ত্রাদি 
শ্রেণীর গ্রস্থরচনা অব্যাহত আছে। সুতরাং এই শ্রেণীভুক্ত গ্রস্থাদির প্রামাঁণা 
বিচারের প্রশ্থে আমাদের প্রতিপদে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং 
যে গ্রন্থ অর্বাচীন প্রমাণিত হবে তার সাক্ষ্য ব্ন করতে হবে। এই 
গ্রহণ-বর্জন বাপারে রামমোহন যে মানদণ্ড অবলম্বন করেছিলেন তৃতীয় 
অধ্যায়ে তার আলোচন। কর হয়েছে» ক্রমরক্ষার নিমিত্ত এখানে সংক্ষেপে 
পুনকুল্লেখ করলেই চলবে। রামমোহনের মতে পুরাণ-তন্ত্র শ্রেণীর কেবলমান্ত 
সেই গ্রস্থগুলিই শান্ত্ররূপে মান্য--ষে গুলির টীকা! আছে এবং যেগুলির বচন 
পূর্বাচার্ধ ও নিবন্ধকারগণ উদ্ধৃত করেছেন। এই সতর্কতার কারণটি তিনি স্পষ্ট 
ভাষায় ব্যক্ত করেছেন ; “-."এদেশে পুরাণ সকলের প্রায় পরম্পরা প্রচার নাই 
এবং স্থলভ সংস্কৃতে অনায়াসে পুরাণের ন্যায় বচনের রচন1 হইতে পারে -* 1৮৯৪ 
তাই দেখা! যায় যেখানে তিনি পুরাণ ব1 তন্ত্র থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, সেখানে 
আকরম্বূপ হয় মুল গ্রন্থ নতুবা কোনও সুপরিচিত প্রাচীন সংগ্রহগ্রস্থের 
উল্লেখ করতে ভোলেন নি। তার প্রতিপক্ষগণকেও আলোচনাকালে তিনি 
বার বার গ্রস্থপ্রামাণ্য বিচারের এই মূল নীতি ম্মরণ করিয়ে দিয়েছেন এবং তা 
লঙ্ঘিত হতে দেখলে তীব্র সমালোচন! করেছেন। অর্বাচীন পুরাণ-তন্তর শ্রেণীর 
গ্রন্থ এবং কল্পিত পুরাণবচন রচনা করে নিজ সিদ্ধান্তের পক্ষে শাস্ীয় সমর্থন 
আদায় করবার চেষ্টা যে কত হাম্তকর তার কয়েকটি দৃষ্ান্তও তিনি দিয়েছেন । 
বিচারে তার প্রতিপক্ষ কাশীনাথ তর্কপঞ্চানন «চৈতন্যদেবের অবতারত্ব প্রমাণ 


১৬৫ 


করবার উদ্দেশ্টে “অনস্ত-সংহিতা” নামক গ্রন্থের বচন উদ্ধৃত করলে রামমোহন 
তার পূর্বোক্ত আদর্শের মাপকাঠিতে "অনস্ত-সংহিতা'কে প্রামাণ্যহীন অর্বাচীন 
গ্রন্থ ঘোষণা করেন এবং কতকটা কৌতুকের বশবর্তা হয়েই দেখান যে অনুরূপ 
একখানি অর্বাচীন গ্রন্থ “তত্ত্রবতবাকর'এর উক্তির ভিত্তিতে চৈতন্যাসম্প্রদায়কে সম্পূর্ণ 
নশ্যাৎ করাও চলে, কিন্তু এই রকম দুর্বল প্রমাণ বাবহার করা পশ্তিতজনোঁচিত 
নয় (“এ গ্রন্থের প্রসিদ্ধ টাকা নাই এ সকল বচন প্রসিদ্ধ সংগ্রহকারের ধৃত নহে 
এ নিমিত্ত আমাদের ও তাবৎ পণ্ডিতদের নিয়মান্সারে এ সফল বচনকে 
লিখিতে বাসনা ছিলনা--*”) 1৬৭ অন্যত্র  “**-এতর্দেশীয় বৈষ্ণবেরা যেমন 
শ্রীভাগবতকে [বেদান্ত ] ভাষা করিয়া প্রমাণ করিবার নিমিত্র গকড় পুরাণ 
বলিয়া বচন রচনা করিয়াছেন, আর দুই তিন শত বৎসরের মধ্যে জন্ম যাহাদের 
এবং অন্য দেশে অপ্রসিদ্ধ এমৎ নবীন নবীন বাক্তিকে অব্তার করিয়া স্থাপন 
করিবার নিমিত্ত ভবিষ্য ও পদ্মপুবাণ বলিয়া যেমন কল্পিত বচন লিখেন 
সেইরূপ কোনে! কোনো! শাক্ত শ্রীভাগবতকে অপ্রমাণ করিয়। কাঁলীপুরাণকে 
ভাগবতরূপে স্থাপন করিবার নিমিত্ত স্বন্দপুরাণীয় বচনের প্রকাশ করেন ।*৬ 
স্তরাঁং দেখা যাচ্ছে সম্প্রসারমান পৌরাণিক সাহিত্যে পরবর্তাকালীন 
অংশের অবাচীনত্ব সম্পর্কে বামমোহন যথেষ্ট সচেতন। বঙ্কিমের মত তিনিও 
জানতেন সন্ধান করলে এই বিপুলায়তন সাহিত্য থেকে যেমন বেদমূল ধ্যান- 
ধারণার সন্ধান পাওয়া যায় তেমনি এ-সবের মধো স্তানারায়ণ, ষঠী-মনসার 
কাহিনীরও অপ্রতুল নেই। স্থতরাঁং বেদ-বেদাস্তেব সঙ্গে পুরাণের দার্শনিক 
অংশের একবাকাতা স্থাপন করেও পৌরাণিক সাক্ষাকে নির্বিচারে মেনে নেওয়ার 
বিপদ সম্পর্কে তাঁকে সতর্ক থাকতে হয়েছিল। এইখানে রামমোহনের দৃষ্টি 
বিচাঁরশীল ও আধুনিক । 

২. বর্তমান অধায়ের ভূমিকায় পুরাণ-সাহিতোর বৈশিষ্ট্যগুলির আলোচনা 
প্রসঙ্গে আমর! দেখেছি পুরাণ হিন্দুধর্মের সাম্প্রদায়িক ও স্মার্ত পঞ্চোপাসনার 
অন্যতম প্রধান অবলম্বন । শংকরোত্তর সাম্প্রদায়িক বেদাস্তভাষ্কারগণও বহুল 
পরিমাণে সাম্প্রদায়িক পুরাণগুলির সাক্ষ্যের উপর নির্ভর করেছেন, এমন কি 
কেউ কেউ পরোক্ষে এগুলির স্থান শ্রুতির উপরে নির্দেশ করতেও দ্বিধা! 
করেন নি। শংকরশিষ্ত আধুনিকমন| রামমোহনের পক্ষে এই সাম্প্রদায়িক 
লংকীর্ণতাকে শ্বীকার করা সম্ভঘ ছিল না। অপর পক্ষে তার প্রতিপক্ষগণের 


১৬৩৬ 


মধো স্বত্রন্ষণয শাস্ত্রী এবং কিছু পরিমাণে মৃত্যু্জয় বিগ্ভালঙ্কার ছাড়া আর প্রায় 
সকলেই মুখ্যত এই সাম্প্রদায়িক পুরাণগুলিকে অবলম্বন করে তব সঙ্গে তর্কে 
নেমেছিলেন । বৈষ্ণব গোস্বামী ( নাম অজ্ঞাত ), কবিতাকার (নায় অজ্ঞাত ) 
উৎসবানন্দ বিদ্যাবাগীশ, কাশীনাথ তর্কপঞ্চানন প্রভৃতি কেউই এ বিষয়ে 
বাতিক্রম নন।** উত্সবানন্দ বিদ্যাবাগীশের প্রশ্ন ছিল, 'কৃষ্ণ” ও রঙ্গ” শব্ধ ছুটি 
যখন একার্থবাচক, তখন রামমোহন তার “বেদাস্তসার; গ্রন্থে কষ্ণকে সৃর্ধ, বায়ু, 
মহাদেব (রুদ্র ) প্রতৃতি দেবতার সঙ্গে এক পর্যায়ভুক্ত করে পবব্রদ্মেব চেয়ে 
নিয়ভূমিতে স্থাপন করেছেন কোন যুক্তিতে ?** এই বিচারে উভয় পক্ষের মধ্যে 
কয়েক বার উত্তর-প্রতুাত্তর বিনিময় হয়েছিল । রামমোহন তার উত্তরে সর্বত্র 
পুরাণ-তন্্াদি বন্ধ গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে দেখান যে, সাম্প্রদায়িক বৈষ্থব 
পুরাণগুলি যেমন বিষুকে একমাত্র উপাস্ত সবশ্রেষ্ঠ দেবতারূপে বর্ণনা করে 
শিব, শক্তি, সুর্য, ব্রঙ্গা প্রভৃতি দেবদেকীকে তাঁর অনুগত নিম্পর্ধায়ের দেবতা 
গণা করেছেন, তেমনি শৈব ও শান্ত পুরাঁণ ও অন্তগ্রস্থগুলিতে আবার বিষ্ণুর 
মাহাত্মা খর্ব করে শিব বা শক্তিকে সর্বোচ্চ আরাধ্য বা আবাধা! ঘোষণ1 করা! 
হয়েছে । এই ভাবে শাস্ত্রের সাম্প্রদায়িক ব্যাখ্যার উপর নির্ভর করলে কোনও 
মীমাংসাই সম্ভব হয় না, সাম্প্রদায়িক কলহ বেড়ে চলে মাত্র; সকল উপাসনার 
মধ্যে তাই অসাম্প্রদায়িক ভিত্তিতে তত্বজ্ঞানের অন্ুশীলনই শ্রেষ্ঠ; তা ভিন্ন 
অবিদ্যাবন্ধন ছিন্ন করার দ্বিতীয় পন্থা! নেই ( তত্বতস্ত সকলশান্ত্র-সততর্কবিরুদ্ধমিব 
ভাতি অবিষ্যাবন্ধনলক্ষণৈকরোগস্ত তত্বজ্ঞানরূপৈকভেবজং বিনা অন্ৌধবিরহাৎ 
নান্যঃ পন্থা বিছ্যতেহয়নায় )।** উৎসবানন্দের মত রামমোহনের পূর্বক থিত 
অপর তিন প্রতিপক্ষও ছিলেন বৈষ্ণব । এদের আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিযুক্কি 
দেবার কালে রামমোহন তার এই বক্তবাটিকেই আরও বিশদ ভাবে 
উপস্থাপিত কবেছেন। গোস্বামীর প্রতি প্রযুক্ত তাঁর নিম্নলিখিত উক্তিটিকে 
এই বিষয়ক যুক্তির নির্ধাস গণ্য করা যেতে পারে : “আপনি .. লিখিয়াছেন 
যে গোপালতাপনী ও শ্রীভাগবত প্রভৃতি পুরাঁণেতে সাকার বিগ্রহ কষ্ণকে 
ব্রহ্ধ করিয়! কহিয়াছেন অতএব সাকার যে কৃষ্ণ কেবল ত্েহো! সাক্ষাৎ 
্রন্ধ হয়েন।*-*আপনকার কথ! তবে গ্রাহ হইতে পারিত যদি সাকার সকলের 
মধ্য কৃষ্ণকেই ব্রহ্ম করিয়া কহিতেন () কিন্ত আপনার! যেমন গোপালতাপনী 
শ্রুতি ও ভাগবতকে প্রমাণ করিয়া কৃষ্ণকে ব্রন্ধম কহেন সেইরূপ শাক্তেরা 


১৬৭ 


দেবীস্ুত্ত ও অন্য অন্য উপনিষৎকে প্রমাণ করিয়া কালিকাকে ব্রহ্ম করিয়া 
কহিয়া থাকেন এবং কৈবল্যোপনিষৎ ও শতরুদ্রী ও শিবপুরাণ প্রভৃতি শ্রুতি 
স্থৃতিতে মহেশ্ববকে ব্রদ্ম করিয়া কহেন () এইরূপে ছান্দোগা, বৃহদারণাক 
প্রভৃতি শ্রুতিসমূহ ব্রনহ্ধা, ুর্ঘ, প্রাণ, গাক্সত্রী, মন আকাশ ইত্যাদিকে ব্রহ্ম 
করিয়া কহেন এবং পুরাণের মধো যেমন শ্রীভাগবতে শ্রীকৃষ্ণকে বিস্তাররূপে 
বর্ণনা! করেন সেইরূপ শিবপুরাণ প্রভতিতে মহাদেবকে এবং কালীপুরাণ 
প্রভৃতিতে কালিকাকেও শাহ্পুরাণ প্রভৃতিতে সূর্যকে বিশেষরূপে ত্রদ্ধ করিয়া 
কহিয়াছেন এবং মহাভারতে ব্রহ্ধা, বিষু, শিব তিনকেই ব্রঙ্গ করিয়া কহেন () 
অতএব তাপনী ও ভাগবতাদি গ্রন্থে শ্রীকুষ্ণকে প্রতিপন্ন করিয়াছেন এই প্রমাণের 
বলে যদি দ্বিভূজ মুরলীধর ক্ৃষ্ণবিগ্রহকে কেবল সাক্ষাৎ ব্রহ্ম করিয়া মানা 
যায় তবে ত্রন্ধা, সদাশিব, ুর্য, অগ্নি প্রভৃতি ধাহাদিগো বেদে এবং পুরাণাদিতে 
ব্রদ্ধ করিয়া কহিয়াছেন তাহাদের প্রত্যেককে সাক্ষাৎ ব্রঙ্ধ করিয়া স্বীকার 
কেন না কর”।"১ পৌরাণিক সাম্প্রদায়িকতার বিরদ্ধে এই যুক্তিই ছিল 
রামমোহনের ক্রন্ান্। তাকে প্রধানত বৈষ্বদের সঙ্গে তর্ক করতে হয়েছিল 
বলেই তর্কটি এখানে আপাতদৃষ্টিতে বৈষ্ণব-বিরোধী রূপ নিয়েছে । সন্দেহ 
নেই, যদি সাম্প্রদায়িক শৈব বা শাক্তগণ তাঁর প্রতিপক্ষ হতেন তাহলে এই যুক্তিটি 
ঘুবিয়ে তাদের প্রতি প্রয়োগ করতে তিনি দ্বিধ! করতেন না| 

৩. বামমোহনের প্রতিপক্ষগণ গৌড়ীয় বৈষ্ণব সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন বলেই-_ 
পুরাণ অবলম্বনে তাদের সঙ্গে রামমোহনের তর্ক বিশেষ ক্ষেত্রে আরও কিছু দূর 
অগ্রসর হয়েছিল। বর্তমান অধ্যায়ের ভূমিকায় আমরা রেখেছি রামানুজের 
পর থেকে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বৈষ্ৰ আচাধগণ প্রকাশ্তভাবেই পুরাণপক্ষপাতিত্থ 
প্রকাশ করেছেন এবং এ-বিষয়ে সর্বাধিক অগ্রসর হয়েছিলেন গৌড়ীয় বৈষ্ণব 
সম্প্রদায়। বিষ্ণমাহাত্মাস্থচক পুরাণগুলি এদের প্রিয় শান্তগ্রস্থ ছিল এবং 
সেসবের মধ্যে জীব গোস্বামীর মতে ভাগবতপুরাঁণ হল 'সবপ্রমাণচক্রবর্তাঁ”, 
তার স্থান বেদবেদাস্তেরও উধ্রবে। বলদেব কর্তৃক অষ্টাদশ শতাব্দীতে গৌড়ীয় 
সাম্প্রদায়িক ব্রহ্মস্ত্রতান্ত রচিত হবার পূর্বে এবা বিশ্বাস করতেন ভাগবত 
পুরাণ প্রকৃতপক্ষে তাদের বেদান্তভান্ত। জীব গোস্বামীর পরবর্তী ছুই আচার 
রাঁধাদ্দামোদর ও বলদেব বিদ্তাভৃষণ এতদূর না গেলেও বৈষ্ণব পুরাণগুলির 
বিশেষ মর্যাদা স্বীকার করেছেন এবং সেগুলির উপর প্রায় প্রতি পদে 


১৯৮ 


নির্ভর করেছেন। বামমোহনের প্রতিপক্ষগণের মধো বৈষ্ৰ গোস্বামী এই 
সাম্প্রদায়িক মতগুলি নিয়েই রামমোহনের সম্মুখীন হয়েছিলেন । গোম্বামীর 
গ্রন্থ পাওয়। যাঁয় নি, কিন্তু বাঁমমোহনের উত্তর আমাদের সামনে আছে। 
প্রধানত এই গ্রস্থখানি এবং গৌণত কবিতাকার ও কাশীনাথ তর্কপঞ্চাননকে 
প্রদত্ত তার উত্তরগুলি থেকে (“কবিতাকারের সহিত বিচার, “চারি প্রশ্নের 
উত্তর ও 'পথাপ্রদান” গ্রস্থত্রয়ে লিপিবদ্ধ) আমরা গৌড়ীয় সাম্প্রদায়িক 
বৈষ্ণব মতের বিরুদ্ধে তার যুক্তিগুলির পরিচয় পাই। বামমোহনরূত পুবাঁণ- 
অনুশীলনের সমীক্ষার ফলে জানা যায়-_বিচার-প্রসঙ্গে ভাগবতপুরাণের ব্যবহারই 
তিনি করেছেন সর্বাধিক । এর ছুটি কারণ অনুমান কর]! যেতে পারে। 
নিষ্ঠাবান বৈষ্ণব পরিবারের সন্তান হিসাবে এই গ্রন্থের সহিত তাঁর পরিচয় 
প্রথম থেকেই ছিল গতীর ; দ্বিতীয়ত তাঁর বৈষ্ণব প্রতিপক্ষগণের, বিশেষত 
বৈষ্ণৰ গোস্বামীর, নিকট ভাগবতের মর্ধাদা ছিল অতি উচ্চ। সুতরাং বিতর্কে 
এই গ্রন্থের প্রসঙ্গ যে বার বার উত্থাপিত হবে তা অতি স্বাভাবিক | বাম- 
মোহনের রচনা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় তিনি তাঁর গৌড়ীয় বৈষ্ণব 
প্রতিপক্ষের নিম্নলিখিত কয়েকটি সিদ্ধান্ত বিশেষভাবে খণ্ডন করেছেন £ (১) বেদ- 
বেদাস্ত আলোচন করা নিক্ষল, কেননা তা এত দৃরূহ ঘে মাঁনববুদ্ধির অগম্য ; 
বেদার্থনিণায়ক খধিগণের বাক্য পরস্পর বিরোধী; সুতরাং পুরাণ-ইতিহাসকেই 
বেদ গণ্য কর! উচিত; (২) প্ুরাণগুলির মধ্যে বৈষ্ণব পুরাণগুলি সাত্বিক এবং 
এই কারণে রাজসিক ত্রদ্ধাদির মাহাত্মাস্থচক পুরাণ ও তামসিক শৈবপুরাণ 
অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ; (৩) এর মধ্যেও আবার ভাগবতপুরাণ সর্বশ্রেষ্ঠ ; তা একাধারে 
রহ্স্তত্রের ভান্তস্বূপ এবং মহাভারতের অর্থস্বরূপ : (৪) ব্রহ্ম সাকার কৃষ্ণমূত্তি 
এবং সেই আকার মায়িক নয়, আনন্দরূপ, তা কেবলমাত্র ভক্তজনের দৃষ্ি- 
গোচর। সিদ্বান্তগুলিতে ম্পষ্টত জীবগোস্বামীর মত প্রতিফলিত। এগুলির 
বিকদ্ধে রামমোহন যথাক্রমে যে প্রতিষুক্তি দিয়েছেন তা সংক্ষেপে এই রকম £ 
€১) বৈদিক খধিগণের বা বেদব্যাখ্যাতাগণের বাক্য পরম্পর বিরোধী, এ যুক্কি 
পুরাঁণ-ইতিহাস সম্পর্কেও খাঁটে ; কেনন! বিভিন্ন পুরাণের মধোও প্রচুর 
পরস্পর বিরোধী উক্তি দেখা যায়। বেদ মানববুদ্ধির সম্পূর্ণ অগম্য এ সিদ্ধান্তও, 
যুক্তিগ্রাহথ নয়, কারণ গায়ত্রী, সন্ধা, দশ সংস্কার প্ররুতি ব্রাহ্মণগণ এখন প্বস্ত 
বেদমন্ত্রের সাহাযোই জপ ও অনুষ্ঠান করে* থাকেন। পুরাণাদি বেদমূল ; 


১৯৪ 


বেদার্থকেই সাধারণ মানুষের পক্ষে (যাদের বেদশ্রবণ শাস্ত্রে নিষেধ ) সহজভাবে 
ব্যক্ত করেছে মাত্র। এই জন্যই এগুলিকে শান্ত্রপদবাচ্য মনে করা! হয়। এই 
শ্রেণীর গ্রন্থ কখনও বেদের সমকক্ষতা দাবী করতে পারে না; (২) সত্ব, রজ 
তম গুণের ভিত্তিতে প্ররাণগুলির শ্রেণীবিভাগ, এবং শিবমাহাত্মাস্চক 
পুরাঁণকে তামস শ্রেণীভুক্ত করবার পক্ষেও কোনও যুক্তি নেই। পুরাণমাত্রকে 
যদি ব্যাসবাকা বলে স্বীকার করতে হয় তাহলে বৈষ্ণব পুৰাঁণ উচ্চ এবং 
শৈবপুরাণ নিম্ন পর্যায়ভূক্ত এমন কথা বললে ব্যাসবচনের একবাক্ষযতা রক্ষা হয় 
না। দেখা যাচ্ছে শৈবপুরাণসমূহে ও মহাভারতের অনেক স্থলে শিবকে 
সর্বোচ্চ দেব্তা বল! হয়েছে এবং বিষ্ণুর মুখে শিবস্ততি বসানো হয়েছে । সুতরাং 
পুরাণমাত্রেরই সমান মান্যিতা ; সেখাঁনে উচ্চনীচ শ্রেণীবিভাগ করা অর্থহীন 
স্বেচ্ছাচারিতারই নামাস্তব; (৩) ভাগবতপুরাণকে কোনও যুক্তিতেই 
বেদান্তভাষারূপে গণা করা চলে না। ক্রহ্ষস্থত্রের সাড়ে পাচশ স্ত্রের মধ্যে 
একটিও স্ত্রের ব্যাখা! বা উল্লেখ ভাগবতে কোথাও পাওয়া যায় না। অপর 
পক্ষে শ্রীকৃষ্ণের ব্রজলীলার যে পুঙ্ান্ুপুঙ্খ বর্ণনা ভাগবত পুরাঁণে কর] হয়েছে, 
সেই সকল লোকবিরদ্ধ আচরণেব সঙ্গে ত্রহ্মস্ত্রের সংশ্রবমাত্রও কল্পন1 করা যায় 
না। বৈষ্কবাচার্ধরা যেমন কৃষ্ণপক্ষে বেদান্তের ব্যাখ্যা করে থাকেন, শৈবাচার্ষরা 
তেমনি শিবপক্ষে এরূপ করেছেন; এমন কি কোনও শাক্ত কর্তৃক স্বত্বং 
ভগবত পুরাণকে কালীপক্ষে ব্যাথা! করার নিদর্শনও আছে। এই সব সংকীর্ণ 
সাম্প্রদায়িক ব্যাখায় শাস্ত্রের প্রকৃত তাৎপর্য কখনও ধরা পড়ে না। বেদাস্তের 
একমাত্র প্রতিপাদ্য অদ্বিতীয় পরক্রহ্ষ, সাকার গোপীজনবল্লভ শরীক নন। 
হ্যায়, বৈশেধষিক, মীমাংস! প্রভৃতি অন্যান্য শান্ত্রে এবং মানবধর্সশান্ত্রে যে যে 
স্থলে বেদাস্তমতের উল্লেখ আছে সেখানেও এই কথাই বলা হয়েছে । ভাগবত 
পুরাণ যে অন্যান্য সকল পুরাণ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ এমন সিদ্ধান্তেরও কোন শান্ত্ীয় 
প্রমাণ নেই। অন্যান্য পুরাণ ইতিহাস বচনাঁর পর পূর্ণ পরিতৃপ্থি না হওয়ায় 
সর্বশেষে ব্যাসদেব সর্বশ্রেষ্ঠ ভাগবত পুরাণ রচন1 করেছেন, এ যুক্তিও দাঁড়াচ্ছে 
না; কেন না অষ্টাদশ পুরাণের তালিকায় ভাগবতের স্থান পঞ্চম, সনাতন 
.এতিষ্থ অনুসারে তার পরেও আরও তের খানি পুরাণ রচিত হয়েছিল । 
ভাগবত পুরাণের শেষে ভাগবতকে যে সর্বোত্তম বল! হয়েছে তার থেকেও 
কিছু প্রমাণ হয় না, এটি মাফলী প্রশংসাবাক্য মাত্র; অনুসন্ধান করলে দেখ! 


১৬৭৩ 


যায় প্রত্যেক পুরাণের শেষেই সেই বিশেষ পুরাঁণকে অন্য পুবাণ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ 
বল] হয়েছে; (৪) ব্রদ্ধ সাকার আনন্দরূপ কষ্মৃত্তি যা কেবল মাত্র ভক্ত- 
জনের দৃষ্টিগোচর, বৈষ্ণব প্রতিপক্ষের এই পিদ্ধান্তের বিকদ্ধে রামমোহনের 
বক্তবা, পক ব! কল্পনার মাঁধামে বিমূর্ত আনন্দের ধারণ! কর] যেতে পারে, 
কিন্ত আনন্দের মৃন্তিমান মন্ত্ব্যারৃতি হস্তপদবিশিষ্ট রূপ শাস্ত্র, অনুভব, প্রতাক্ষ _- 
সকল প্রকার প্রমাণের বিরোধী । বাপারটি সম্পূণ মনোগত ($016০0৫) 
এর কোনও বিষয়গত (0916০06) ভিত্তি নেই। বেদে বা পুরাণে তো 
নিম়াধিকারীর উপাসনার জন্য স্র্য, বাঘু, অগ্নি, অন্ন, শিব, কাপিকা 'পৃভৃতি 
নানা শক্তি, বস্ব বা দেবদেবীকে বিভিন্ন সময়ে ব্রহ্ম বলা হয়েছে; কৃষ্চকে 
্র্গন্বরূপ ও আনন্দমূত্তি স্বীকাব করলে, এদের ভক্তদের দৃষ্টিতে এদেরও সাবয়ব 
আনন্দমূতি স্বীকার করতে হয়। এবিষয়ে শান্ত্রসিদ্ধান্তের প্রকৃত তাৎপর্য, 
এক অদ্বিতীয় পরমত্রক্ষই আনন্দন্ববপ , এই ব্রঙ্গানন্দের কোনও মূর্ত বিগ্রহ সুতি 
স্বীকার করেন ন1।*২ 

বৈষ্ণব প্রতিপক্ষের সঙ্গে তর্কবিতর্ক উপলক্ষে তাঁর উত্থাপিত সব কটি যুক্তিই 
রামমোহন এই ভাবে অনায়াসে ও নিপুণতার সহিত খণ্ডন কবেছেন। এক্ষেত্রে 
রষ্টবা রামমোহনের প্রতিপক্ষ জীব গোস্বামীর যুক্তি গুলিকেই প্রধানত অবলম্বন 
করেছেন, পরবর্তা বৈষ্ণব বৈদীস্তিক বাধাদামোদর বা বলদেব বিদ্যাভূষণের 
উল্লেখ করেন নি; তাই রামমোহনকেও তাদের প্রসঙ্গ তুলতে হয়নি । 

এই বাদান্থবাদ পাঠে আমাদের স্বভাবত মনে হয় মনীষায় ও পাণ্ডিত্যে 
উক্ত প্রতিযোগী বামমোহনের সমকক্ষ ছিলেন না। বিতর্কে যে সব প্রশ্ন উঠেছিল 
সেগুলিও নিতাস্তই সাময়িক, আজকের মননজগতে তার বিশেষ কোনও গুরুত্ব 
নেই। কিস্তু আলোচনাপ্রসঙ্গে রামমোহনের চিন্তার কিছু স্ত্রের সঙ্গে 
আমরা পরিচিত হই যার স্থান নিছক সাময়িকতাঁর উধের্বে এবং যা বৈষ্ণবধ্ম 
সংক্রান্ত বর্তমান গবেষণায় অবলম্থিত কয়েকটি বিশেষ অন্ুসন্ধানধারাঁর কথা 
মনে করিয়ে দেয়। গোস্বামীর প্রঙ্োত্তরে তাঁকে ভাগবতপুরাঁণের সুদীর্ঘ ও 
পুদ্থানুপুঙ্খ আলোচন। করতে হয়েছিল। এই প্রসঙ্গে তার বক্তব্য ছিল, 
ভাগবত পুরাণে যদিও সাকার কৃষ্োপাসনার বিস্তারিত বণনা আছে-_-ত৷ 
সত্বেও এই গ্রন্থের মূল প্রতিপাদ্য অছৈত ব্রহ্ববাদ।** ভাগবতে যেমন দেখা 
যায় কৃষ্ণ কোথাও নিজেকে ব্রন্ম বলেছেন, তেমনি এই গ্রস্থেরই তৃতীয় স্ববা্থ 


১৭১ 


উনত্রিংশ অধায়ে কপিলও নিজেকে সবব্যাপী পরমাত্মা বলে বর্ণনা করেছেন। 
ভাগবতের দশম স্বন্ধের ৬৯ অধায়ে দেখা যায় কষ্চ কখনও সন্ধা করছেন, 
কখনও বা! ব্রঙ্গমন্ত্র জপ করছেন, আবার কখনও পবমাত্মার ধানে মগ্ন আছেন; 
ভাগবতে অন্যান্র উপদেশ দেওয়া হয়েছে, কেবল কৃষ্ধকে নয়, তাবৎ বিশ্ব- 
চরাচরকে ব্রহ্ম বলে জানবে ; দশম স্বন্ধের ৮৫ অধাঁয়ে পিতা বস্থদেবেব প্রতি 
কষ্ধের উক্তি : আমি, তুমি বলদেব, দ্বারকাবাশী সকল নরনারী, সমস্ত স্থাবর 
জঙ্গম এই সন কিছুকেই ব্রক্ম বলে জান। সুতরাং ভাঁগবতের .কৃষ্চ এক ব্রহ্গ- 
জিজ্ঞাস ও ব্রন্ষজ্ঞান্ী পুরুষ, তিনি বা তার বিগ্রহ একমাত্র ত্র্ধ নন।৪ যে অর্থে 
তাকে ব্রহ্ম বলা হয়েছে সে অর্থে চরাচরের সকল ব্যক্তি বা বস্তকেই ব্রহ্ম বল! 
ঘেতে পারে- কেন না অছৈত বেদাস্তের দৃষ্টিতে সব কিছুই ব্রহ্ষ্ববপ। এই 
প্রসঙ্গে রামমোহন ছান্দোগা উপনিষদূ ( ৩।১৭।৬ ) উদ্ধৃত করে দেখিয়েছেন 
শরুতিতে প্রাপ্ত কষ্চের এই প্রাচীনতম উল্লেখে তাকে অঙ্গিরসগোত্রীয় ঘোর 
নামক খষির নিকট পুরুষজ্ঞ বিজ্ঞান বিষয়ক উপদেশ গ্রহণরত শিক্ষার্থীরূপে 
বর্ণনা করা হয়েছে ( তদ্ধৈতদ্‌ ঘোর আঙ্গিরসঃ কষ্ণায় দেবকীপুন্ায়োক্কোবাচা- 
পিপাস এব দস বভৃব পোহস্তবেলাযামেতত্রয়ং প্রতিপদ্ভেতাক্ষিতমস্তচ্যুতমসি 
প্রাণসংশিতমসীতি-"" )। ভাগবতে যে কৃষ্ণকর্তৃক ব্রহ্মমন্ত্রজপের উল্লেখ আছে 
সেটি এই বিশেষ শ্রুতির অনুসরণ । এই শ্রুতির ইঙ্গিত অনুসারে, আদৌ কৃষ্ণ 
ব্রন্ধ নন, দেবতাও নন, ব্রহ্মজিজ্ঞাস্থ পুরুষ মাত্র। বর্তমান কৃষ্ণ-গবেষণায় এ 
তথ্য মোটামুটি স্বীকৃত যে ভাগবত ধর্মের উপাস্য দেবতা কৃষ্ণ মূলত ক্ষত্রিয় 
বুঝ্িকুলজাত এক বীরপুরুষ, ব্রহ্ষবিদ্‌ ও ধর্মপ্রবক্তা। ছান্দোগ্যোপনিষদে 
অঙ্গিরাবংশীয় ঘোর খষির শিষ্যরূপে তার সর্বপ্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় : 
উত্তরকালে ভারতবধের অপরাপর অনেক মহাপুরুষের মত তিনি ক্রমশ উপাস্তয 
দেবতার মধাদা লাভ করেছেন।*৫ বর্তমানে অধিকাংশ পণ্ডিতের মতে 
উপনিষদের দেবকীপুন্র কৃষ্ণ এবং ইতিহাস-পুরাণে বধিত দেবকীপুত্র কচ একই 
বাক্তি। সম্ভবত আধুনিক"যুগে সর্বপ্রথম মূল কুষ্ণচরিত্রের এই বোশশষ্ট্ের প্রতি 
দৃষ্টি আকর্ষণ করে রামমোহন নিজের অলক্ষ্যে আধুনিক কৃষ্ণ-গবেষণাঁর উক্ত 
মূল্যবান স্ুত্রটি পণ্ডিতসমাজকে ধরিয়ে দিয়েছেন । এর থেকে আর একটি 
সিদ্ধান্তও কর] চলে। কৃষ্* কাহিনী বৈদিক ও পৌরাণিক সাহিত্যের মাধ্যমে 
যে ভাবে আমাদের কাছে উপস্থিত হয়েছে তার মধো কৃষ্র ছুটি স্বতন্ত্র রূপ 


১৭ 


আমরা! দেখতে পাই £ এক দিকে উপনিষদ ও মহাভারতে বর্ণিত কৃষ্ণচবিন্্, 
যেখানে কৃষ্ণ ব্রহ্মবিদ্‌, ধর্মপ্রবন্তা, কৃটনীতিজ্ঞ, রণপত্তিত ও আশ্রিতবৎসল; অপর 
দিকে হরিবংশ-পুরাঁণাঁদিতে বণিত রুষ্ণ যিনি প্রেমিক, ভক্তপখ! ও গোপীজন- 
বল্পভ। রামমোহন স্পষ্টত ব্রহ্মজ্ঞ ও ধর্মপ্রব্তা মানব কৃষ্ণের পক্ষপাতী । লক্ষা 
করবার বিষয়, গীতা রামমোহনের অতি শ্রদ্ধেয় ও প্রিয় গ্রন্থ। তিনি এর 
বঙ্গান্নবাদ করেছিলেন ও অসংখ্যবার বিভিন্ন স্থানে গীতার কৃষ্কোক্তি তাকে 
উদ্ধাত করতে দেখ! যাঁয়। বুন্দাবনলীলার নাঁয়ক ব্রজগোপাল কৃষ্ণকে তার 
আধুনিক মন প্রত্যাখ্যান করেছিল। আলোচনায় দেখা গেছে ভাগবত 
পুরাণের কষ্ণকেও তিনি ক্র্মজ্ঞ পুরুষ রূপেই গ্রহণ করেছেন। এই ভাবে 
বামমোহন সম্ভবত এক্ষেত্রেও নিজের অলক্ষো আধুনিক কঞ্চগবেষণার আর 
একটি ধারার স্ত্রপাত করেছেন । বর্তমানে অধিকাংশ পণ্ডিত মনে করেন 
উপনিষদৃ-মহাভারতে বণিত কৃষ্ণজীবনেব কাঠামোটির অতিরঞ্জন সত্বেও একটি 
এতিহাসিক ভিত্তি আছে; সে তুলনায় বুন্দাবনের কাহিনী অর্বাচীন, উত্তরকালের 
সংযোজন ।** এই প্রসঙ্গে ম্মরণীয় বঙ্কিমচন্ত্র তার 'কুষ্ণচরিত্র'তে কৃষ্ণের 
বৃন্দাবনলীলাকে অনৈতিহাসিক জ্ঞানে বর্জন করেছেন। এই গ্রন্থে তিনি 
রামমোহনের নাম কোথাও না করলেও শেষোক্তের দৃষ্টিভঙ্গীর দ্বারা নিজের 
অলক্ষো যে প্রভাবিত হননি এমন কথা জোর করে বলা চলে না। 

ভাগবত পুরাণের আলোচনা প্রসঙ্গে রামমোহন আর একটি প্রশ্ন তুলেছেন 
যেটিও পরবর্তী গবেষণার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ । প্রশ্নটি চৈতন্ দেবকেন্দজ্িক 
গৌড়ীয় বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের পূর্ব-পরম্পরা বিষয়ক । উক্ত সম্প্রদায়ভুক্ত পরমানন্দ 
সেন কবিকর্ণপুর ( ষোড়শ শতাব্দী ) বা বলদেব বিগ্াভূষণের ( অষ্টাদশ শতাব্দী ) 
মতাম্থসাবে চৈতন্য সম্প্রদায় দাক্ষিণাত্যের ছ্বৈতবাদী মাধব বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের 
শাখা।"৭ কিন্তু শুনতে আশ্চর্য লাগলেও একটি গ্রাচীনতর এতিহা অনুযায়ী 
চৈতন্য-সম্প্রদায়ের পুর্বন্থরীরা সকলেই শংকরপন্থী অদ্বৈতবাদী সঙ্গাসী এবং এই 
পরম্পরার আদি পুরুষ স্বয়ং শংকরাচার্ধ। গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্মের আধুনিক 
আলোচনাকারীদের মধ্যে রামমোহনই সর্বপ্রথম এই তথ্যের প্রতি বিদ্বৎসমাজের 
দৃষ্টি আকর্ণ করেন। বৈষ্ণব গোস্বামীর প্রশ্নোত্তরে তার নিয়লিখিত উক্তি 
স্মরণীয় : যগ্যপিও ভগবাঁন আচার্ধের [ শংকরাচার্ধের ] কৃত ভা্বকে মোহের 
নিমিত্ত করিয়া! কহা সকলেরি দুষ্ধতের কারণ চ্ছয় তথাপি 'বিশেষ করিয়! 


১৭৩ 


চৈতন্যদেব সম্প্রদায়ের বৈষ্বদিগের অত্যন্ত অপরাধজনক হইবেক, 
যেহেতু পুজ্যপাদ ভগবান ভা্যকারের শিশ্ঠান্থশিষ্য প্রণালীতে কেশবভারতী 
ছিলেন () সেই কেশব ভারতীর শিষ্য চৈত্্যদেব হয়েন 0) আর শ্রীধরম্বামীও 
পূজাপাদ সম্প্রদায়ের সর্বথা মান্য, . এবং চৈতন্তদেবও এ টাকাকে মান্ত 
করিয়াছেন(1) আর সেই শ্রীধরন্বামী ব্বয়ং গীতার টাকাতে ।লিখেন যে-_ভাঙ্যকার- 
মতং সম্যক ত্দ্ব্যাখ্যাতুগিরস্তথা-ইত্যা্দি। -*** অতএব ভগবান আচার্ধের 
মত মোহের কারণ হয় এম কহিলে চৈতন্যদেৰ ও শ্রীধরস্বামী: প্রভৃতি সেই 
সম্প্রদায়ের সন্গাসীদিগো মুগ্ধ করিয়া! স্বীকার করিতে হইবেক আর আচার্য 
মতান্ুসারে যে সকল শ্রীধরস্বামীর টীক1 তাহারি বা কি প্রকারে মান্ততা হইতে 
পারে। অতএব আচার্ষের নিন্দা করাতে এতদ্দেশীয় বৈষ্বদিগের ধর্মের ক্রমে 
মূলোচ্ছেদ হইয়া যায় ।”৮ রামমোহন এখানে দু'জন শংকরপন্থী সন্ন্যাসী কেশব 
ভারতী ও শ্রীধরস্বামীকে চৈতন্যের সাম্প্রদায়িক উধ্বতন গুরুপবম্পরার অন্তর্গত 
গণ্য করে চৈতন্তকে অদ্বৈতবাদী সন্াসী-সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। 
শ্রীধর ( চতুর্দশ শতাব্দী ), বিষুপুরাণ, গীতা ও ভাগবতের উপর তার স্থবিখাত 
টীকাত্রয়ে শংকরের সমস্ত সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ স্বীকার করে নিয়েও এই কথাই 
প্রমাণ করবার চেষ্টা করেছেন যে ভক্তিই মুক্তিলাভের সর্বশ্রেষ্ঠ উপায়। বৈষ্ঞব- 
ধর্মের আধুনিক গবেষকগণের মধ্যে অধ্যাপক স্থশল কুমার দে বৈষ্ণব সাহিত্য ও 
এতিহোর অতি নিপুণ ও পাণ্ডিত্যপূর্ণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তে উপনীত 
হয়েছেন যে চৈতন্তদেব ও তার শিল্কপ্রশিত্তগণ শাংকর অদ্বৈতবাদ সম্পর্কে যতই 
বিরূপতা প্রদর্শন করে থাকুন চৈতন্য মূলতঃ শংকরপন্থী দশনামী সন্ন্যাসী সম্প্রদায়- 
ভুক্তই ছিলেন এবং তাঁর গুরুপবম্পরার মধ্যে মাধবেন্দর পুরী, ঈশ্বর পুরী এবং 
কেশব ভারতীও পূর্বোক্ত শ্রীধরের মত ভক্তিবাদী শংকরপন্থী ছিলেন এমন মনে 
করবার কারণ আছে।** সর্বস্বীকৃত হোক বা না হোক আধুনিক গবেষণাক্ষেত্রে 
ডঃ দে'র এই মতটি স্থচিস্তিত ও প্রণিধানযোগ্য। কিন্তু তিনি উল্লেখ না 
করলেও একথা স্বীকার্ধ তার শতাবীরও অধিককাল পূর্বে অনুরূপ সিদ্ধান্ত 
প্রকাশ্তে ব্যক্ত করেছিলেন রামমোহন রায় । 

বৈষ্কব পুরাণের আলোচন1 মাধ্যমে রামমোহন আর একটি সিদ্ধান্তে 
আনেন য| তার পরবতী উনবিংশ শতাবীর চিস্তাকে প্রভাবিত করেছিল এবং 
যাব রেশ ব্র্তমানকালের গবেনণাক্ষেত্রেও কোথাও কোথাও অনুভব করা যায়। 


১৭৪ 


বৈষ্ব গোস্বামী ব্যাখাত সাকার কৃষ্ণৌপাঁসন] সম্পর্কে তিনি বলেছেন, “পূর্বে 
যেসকল অধিকারী দুর্বল ছিলেন তাহার! মনস্থিরের নিমিত্ত যে কাল্পনিক 
রূপের উপাসনা করিতেন সেই রূপকে পরব্রহ্মপ্রাপ্তির কেবল উপায় জানিতেন, 
কিন্ত সেই পরিচিত কাল্ননিক রূপকে বিভু ও নিত্যধামবাসী যাহা ব্দে এবং যুক্তি 
এ উভয়ের বিরুদ্ধ হয়, এমৎ জানিতেন না () পরস্ত সেই কান্ননিক রূপকে 
বিভু ও শিতাধামবাসী করিয়া! জানা ইহা অল্লকালের পরম্পরা] ছারা এদেশে 
প্রসিদ্ধ হইয়াছে -.-**”।৮* এখানে বামমোহন গোঁড়ীয় বৈষ্ণব মতবাদের 
একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। এই সম্প্রদায়ভুক্ত ভক্ত ও 
সিদ্ধ বৈষ্ণবের দৃহিতে কৃষ্ণের সাকার রূপ এবং নরলীলার প্রতিটি অনুপুঙ্খ 
প্রত্যক্ষ, নিত্য এবং ৰাস্তব) তা রূপক বা কল্পনা নয়। বেদ-বেদাস্ত পুরাণতন্ত্ 
দুর্বল অধিকারীর জন্য রূপকল্পনার মাধ্যমে উপাসনার ব্যবস্থা দিলেও বার বার 
উক্ত কল্পিত রূপসমুহকে নশ্বর বলেছেন, যা ব্রহ্মজ্ঞানোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে অস্তহিত 
হয়। স্ৃতরাং এর সঙ্গে গৌড়ীয় বৈষ্ণব সিদ্ধান্তের মৌলিক প্রভেদ আছে । সর্ব- 
সাধারণের জন্য এই প্রত্যক্ষ মূর্ত লীলায় বিশ্বাসের বিধানের পরিণাম অবশ্তস্তাবী 
আধ্যাত্মিক ও নৈতিক বিধপয়। আধ্যাত্মিক জগতে তা জড়পৃজাকে প্রশ্রয় 
দেয় ;৮১ এবং ভাগবতাদি পুরাণ বর্ধিত কৃষ্ণের লোকবিরুদ্ধ আচরণগুলিকে এই 
বিশেষ দৃষ্টিতে আদর্শ বলে ধারণা করলে সমাজে ব্যাপক নৈতিক বিশৃঙ্খলা 
ঘটে ।*১ বস্তত বৈষ্ণব ধর্মের এই দৃষ্টিভঙ্গী ধর্ম ও নীতির মধ্যে এক চিরস্তন 
বিচ্ছেদ স্যট্টিকরেছে। রাঁমমোহনের এই মনোভাবের পিছনে হয়তো উনবিংশ 
শতাব্দীর ইউরোপীয় গ্রটেস্টাণ্ট, খ্রীষ্টধর্মের নীতিবাদ কিছুট। সক্রিয়। এ 
শতাঁবীতে তাঁর পরবর্তা যুগেও শিক্ষিত সমাজে বৈষ্ণব ধর্মের বিরুদ্ধে এই 
নৈতিক আপত্তি দীর্ঘকাল ব্জায় ছিল। এমন কি বঙ্কিমচন্দ্রের মনেও যে 
এই দ্বিধা ছিল তার প্রমাণ আছে। তিনি পুরাণ বণিত কৃষ্ণলীলাকে বার বার 
পরিমার্জনের চেষ্টা করেছেন। প্রথমত তাঁর মতে এই কৃষ্ণচরিত্রে এই ব্রজলীলা 
এক অনৈতিহাসিক প্রক্ষিপ্ত পর্ব-_“এ সকল পুরাঁণকাঁরের কল্লিত উপন্তাঁস মাত্র ।” 
দ্বিতীয়ত তিনি স্বীকার করেন, পুরাণ বর্ধিত কৃষ্ণের গোপীপ্রেমকাহিনীর 
অস্তশিহিত আধ্যাত্মিক তত্ব গভীর হলেও “লোকে তাহা বুঝিল না। তাহার 
রোপিত ভগবন্তত্কিপস্কজের মূল, অতল জলে ডুবিয়া গেল__উপরে কেবল 
বিকশিত কামকুস্থমদাম ভাসিতে লাগিল । যাহারা! উপরে ভাসে-_তলায় না, 


১৭৫ 


তাহারা কেবল সেই কুস্থমদীমের মালা গীথিয়! ইঞ্জিয়পরতাময় বৈষ্ণবধর্ম প্রস্তত 
করিল |"... এতকাল আমাদের জন্মভূমি সেই মদনধর্মোৎসবভারাক্রাস্ত । ৮৩ 
এই মনোভাবের পিছনে রামমোহনের দৃষ্টিভঙ্গী কারকরী একথা কল্পনা করলে 
অন্যায় হবে না। সাম্প্রতিক কালে মুক্ত মনে ও সুগভীর পাণ্ডিত্য সহকারে 
ঘিনি গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্মতত্ব আলোচনা করেছেন এমন একজন গবেষকের 
সিদ্ধান্তও প্রায় অনুরূপ £ [6 08101100 06 5810 00৪, 700157178 ৪5 
০0150616005 006 610610109] 361085] 19100) 15 00115 €00101560 
৫ 19০ 0902110905 0.80108-71151)108. 12561)0) 01 10101) 165 
5/1)0916 555062100 0: 02৬09007915 08520, 13 31061) 1)0 25 2. 55000] 
০0055219811, 2010 85161151005 [05010 006 28 161161005 1)15001:5, 
4 50512000905 20621010015, 0061:61016, 120805 00 €301911) 2100 5 
1) 81] 105 0609115 2170 100191108 010199 3 ..,.,, 00০ 06091160 010017£ 
০5০ 01 05 ড৬1100552172-1118, 09০60 10 7০ 01)501951081 ৪,180 
ঢ700980108] 01713 01 00০ 5800, 01621] 51105 0026 16 15 17০০1: 
81:61) 11) 00০5210550৫ 219 2116£015...... ০৪৮10 5 ৬1৮10 11612] 
561)56১...1015 ৪. 061181)0611 02৮96101381 19170, ০৪০৮ 16 15 ড/1)01]5 
0196601081 ...,., [176 11151015806 উ01055 8158 210176০০189 ) 
6106 1৫101510188 01 10701510608, 15 ৫6110621221 ০9০60) ...]1)6 
£10719026131) 01 0102 565-100000155 13 500012106. :..১70105 5010106021 
£001809001) 15 00০9 10110055101 15 ০৮1/1)6117011)8 60238 ০0 
€1:000190. ,১,১১, 005 ০0156800101 2150 ৪0004০) 11)50105 0: 
50111900791] 8170 1706801755108] 1056195801010, 00955253 08194 5:008 
7095511116165 ০7 060001911517)8 6215061)0165.”৮8 | বৈষ্ণবধর্ম সম্পকিত 
এই বিশিষ্ট চিন্তাস্থত্রটির জন্ত আধুনিক যুগ রামমোহনের নিকট খণী। 

উপরি উক্ত আলোচনার ফলে দেখা যাচ্ছে পুরাণ সম্পর্কে রামমোহনের 
মনে কোনও অহেতুক বিরাগ বা বিরূপতা ছিল না । পুরাণকে তিনি শান্ত 
ব্লে মুক্ত কণ্ঠে স্বীকার করেছেন এবং শ্রুতির সঙ্গে তার একবাক্তা স্থাপন 
করে শ্রুতির অনুগত প্রমাণ রূপে শান্ত্রবিচারেও তাকে স্থান দিয়েছেন। তবে 
উত্তর কালে পুরাণপাহিত্যে গ্রে স্ববিরোধ ও সাপ্প্রনায়িকতা প্রবেশ করেছিল 


৯৭৬ 


তার সমালোচনাতেও তিনি নিত্পক। এই সাহিতোর অর্বাচীন অংশকে 
তিনি গ্রহণ করেন নি এবং পুরাণ-তন্ত্রকে কোন্‌ মানদণ্ডে শান্ত্রপদবাচ্য স্বীকার 
করা যায় তাঁও নির্দেশ করেছেন । সর্বোপরি পুরাণাশিত কয়েকটি সমন্যার 
আলোচনায় তার যে দৃষ্টভঙ্গী প্রকাশিত তার মধ্যে পরোক্ষে উত্তর কালের 
চিন্তা ও গবেষণার কয়েকটি সুত্র আভাপসিত। সাম্প্রতিক কালের এক 
পণ্ডিতকে বলতে শুনি, “411 0০151151995 1608৭ 00 
[২7101170010271) 05 00 10852102009. 981285581 1070 00170007160 
016 17272152585 0190000650৫ ৪. 06517272662 76৫,৮1৫ এই উক্তি 
পুরাণের প্রতি অন্তত রামমোহনের দৃষ্টিভঙ্গীর সম্পূর্ণ পরিচয় বহন করে না। 
তন্ত্রশান্ত্র ও তত্ত্রধর্মের দ্বারা রামমোহনের প্রভাবিত হবার দুটি সম্তাবা স্থত্র 
ছিল। তাঁর মাতৃবংশ ছিলেন শান্ত তাস্ত্িক এবং শৈশবে তিনি তাব মাতামহ 
ঘোব তান্ত্রিক শ্যাম ভট্রাচাধের সংস্পর্শে আসবার ক্থযোগ পেয়েছিলেন । 
অবশ্য এই সংযোগ শিশু বামমোহনের মনকে কতখানি প্রভাবিত করেছিল তা! 
সঠিক জানবার উপায় নেই, তবে তাম্বিকমহলে এই যোগাযোগের উপব 
খানিকটা গুরুত্ব মারোঁপ করা হত। প্রচলিত ছু'একটি কিংবদন্তী থেকে তা 
বুঝতে পারা যায়।”* দ্বিতীয়ত একথা স্বনিশ্চিত যে রামযোঁহন তন্ত্রমতের 
দ্বারা গভীর রূপে প্রভাবিত হয়েছিলেন তৎকালীন স্থবিখাত তান্ত্রিক কৌল 
সন্গাসী হরিহরানন্দ তীর্ঘস্বামী কুলাবধূতের সঙ্গে তার আজীবন অন্তরঙ্গতার 
ফলে। বামমোহনের চোদ্দ বর বয়সে তার সঙ্গে হরিহরানন্দের প্রথম 
পরিচয় হয় এবং ক্রমশ তা ঘনিষ্ঠতায় পরিণত হয়ে আজীবন স্থায়ী হয়। ইনি 
রংপুরে এবং পরে কলিকাতায় দীর্ঘকাল রাঁমমোহনের সঙ্গে বাস করেছিলেন । 
কলিকাতায় বাসকালে ইনি “কুলার্ণবতন্ত্র প্রকাশ করেন এবং 'মহানির্বাণ-তস্ত্রের' 
উপর তীর ্থুপ্রসিদ্ধ টাকা রচনা করেন। রামমোহন এর কাছে অস্ত্রশাস 
উত্তমরূপে অধায়ন করেছিলেন।”* কেউ কেউ বলেছেন হরিহরানিন্দ 
রামমোহনের গুরু ছিলেন, তবে এ সম্পর্কে মনে রাখা উচিত যে গোবিন্দপ্রসাদ 
রায় বনাম বামমোহন রায় শীর্ষক বৈষয়িক মামলায় রামমোহনের পক্ষে স্থগীম 
কোটের সামনে সাক্ষ্য দেবার সময় হরিহরানন্দ রামমোহনের সঙ্গে তার গভীর 
অস্তরঙ্গতার উল্লেখ করলেও তাঁকে শিষ্য বলে অভিহিত করেন নি; যদি চ এ 
প্রসঙ্গে তিনি স্টীধারণ ভাবে ভার অন্যান্য শিশ্তদের উল্লেখ করেছেন 1৮৮ যাই 


১৭৭ 
১২ 


হোক, প্রচলিত অর্থে হবিহরানন্দ রামমোহনের গুরু হয়ে থাকুন বা না থাকুন, 
রামমোহন যে তাকে অসাধারণ শ্রদ্ধা ও মান্য করতেন তা সুনিশ্চিত । 
কলিকাতায় বাঁসকালে হরিহবানন্দ বামমোহনের মাণিকতলার বাড়ীতে 
থাকতেন এবং রামমোহন প্রতিষ্ঠিত আত্মীয়-সভাব অধিবেশনে যোগ দিতেন। 
তাই বামমোহনের চিহ্তা ও কার্ধপ্রণালী হবিহবানন্দেব সানিধাহেতু ভন্তরপ্রভাবিত 
হবার বিশেষ স্তযোগ ছিল। 

সাধারণ অর্থে তম্থবপতেযে কোন শান্্কে বোঝালেও এর একটি 
বিশেষ অর আছে । “উপাসনাবিশেষ প্রতিপাদক শান্ত্রবিশেষ” অর্থে শব্দটি 
আমরা সচরাচন বাবহাঁন শ্রবে থাঁকি।** তম্ত্র ভারতীয় দার্শনিক চিন্তার ও 
জীবনচর্যাব এক বিশিষ্ট ধাবা । এর উৎপত্তি সম্পর্কে নানা মত আছে, 
সে-সবের আলোচনা এখানে নিশ্ঘয়োজন । সাধাবণভাবে এর বৈশিষ্টা সম্পর্কে 
কিছু বল! যেতে পাপে । পণ্ডিতগণেব মতে তন্ত্রের অনেকটাই মূলত এসেছে 
অবৈদিক অনাধ চিন্তাধারা ও আচাঁব-অনুষ্ঠান থেকে । তৃতীয় অধাষে 
প্রসঙ্গত বলেছি এব আলোচা বিষয়কে ছুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায় : 
(১) দর্শন (২ ক্রিয্না। পববতী যুগে অবশ্য এই ভাবধাব! আর্ষ সভাতার 
অঙ্গীভূত হয়ে যার এব ক্রমশ পরিণতি লাভ কবে ত্রাঙ্মণা ও বৌদ্ধ ধ্গের 
অস্ততুক্ত হয়। হিন্ুধর্দের বর্তমানে প্রচলিত দেবদেবীপূজা বা অন্যান্য 
আচার-অন্্ঠান 'তন্বেব দ্বারা অতি বাপক ও গভীর ভাবে প্রভাবিত। উপাস্য 
দেবতা ও উপাসনাপদ্ধতিব বিভেদ অন্তসারে তান্ত্রিক উপাসকগণ শৈব, শাক্ত, 
বৈষ্ণব, সৌব, গাণপতা, স্থায়ন্তবব, কালমুখ প্রভৃতি নানা শাখাপ্রশাখায় 
বিভক্ত । বাল! দেশে শৈবশাক্ত মতবাদের মধো আবার দিবা, বীব, 
পশু, বাম, চীন, দক্ষিণ, সময়, কুল গ€্ভৃতি বিভিন্ন আচাব ৰা উপাসনা- 
পদ্ধতির সন্ধান পাওয়া যাঁয়।৯০ তৃতীয় অধায়ে বামমোহনের বেদাস্তমত 
আলোচন! প্রসঙ্গে তন্ত্রের আচাব ও দর্শন সম্পর্কে আমরা বলেছি, তান্ত্রিক পূজা ও 
সাধনমার্গে কিছু নীতিবিবোধী আচার ও ক্রিয়ার অন্তপ্রবেশ ঘটলেও এই বাহা 
আবরণের অন্তরালে তন্্শান্ত্রের একটি গভীর তাত্বিক ভূমি আছে; ত্ত্রদর্শনের 
সঙ্গে অছৈত বেদান্তের সিদ্ধান্তগত কোনও প্রভেদ নেই ।*১ এর পৃজাপদ্ধতিও 
অছ্বৈতবার্দেব ভিস্তিতে পরিকল্পিত। এ সম্পর্কে তৃতীয় অধ্যায়ে সংক্ষেপে 
উল্লিখিত জনৈক বিশেষজ্ঞের মত কিঞ্চিৎ সবিস্তারে উদ্ধার করা যেতে পারে : 





১৭৮ 


পপু[)208.008, 10100 0৫ ড৮0151)1 2150 56165 2৪ ৪ ০001:59 ০0£ 
009000621 01211511076 60: 002 16521128010] 01 005 ৬৪৪15281069] 0£ 
00610617061 01006 £11716 1) 006 1091116, 0৫ 0106 11501510859] 
500] 7100 0176 ১9161206১০0]. 001)5 ৮211005 02105 01 জ9151)1-- 
10762521001) 8100 000০ 01616106 152525--8]1] 2110) 20 ৮১15 
162117280107), 10106 ৮৮015101016 1095 00 00100615& 115 0099৮ ৪5 
006 5620 01 006 06105 ৪6 0112 01006 01 02610115 ড/9151010, 018 
06 09508510917 0 41150621179] 01501] (27210/2£6) 19101) 15 056 
1062] 8100 10015 101616121012 1010170 0৫ ড/01581)1]), 01015 0105855 15 
০৪11120 ৪ 502] 10106]. 77216 0172 70151811961 10985 10 1708106 
80052100005 00 1691126 01)€ 102106165 0৫6 0112 02165 1100 01715 10) 
1)11705611 06 2159 ড/101) ৪1] 005 09001600501 9/01581010, [0 ০10 
0005 80281 0086 11751105016 01615100569 11) 00900011781 02021]5 
00678170085 1980 002 52106 10681 11) 51০ 85 0) ৬581705৮1৯২ 

তত্বগত ভাবে বেদান্ত ও তন্ত্রের সম্বন্ধ এত ঘনিষ্ট হলেও তত্ববের স্বাতন্ত্রা 
লক্ষণীয় তার উপাসনাপ্রণ।লীতে। অদ্বৈতবেদাস্তে উপাসনার স্থান খুব উচ্চ 
নয়। জীব-্রন্ষ-অভেদজ্ঞানের উদয় হলেই অদ্বৈতমতানুসারে উপাসনার 
প্রয়োজন শেষ হয়; তার পূর্বে মুখ্যত চিত্রশুদ্ধির জন্ঠই উপাসনার প্রয়োজন 
স্সীকৃত। কিন্ত তন্ত্র ব্রহ্ম, বৈষ্ণবধর্মের ঈশ্বরের মতই উপাস্য এবং আবাধা | 
এই অর্থে ব্রন্দোপাসনা তান্ত্রিক ধর্মসাধনার এক বিশিষ্ট অঙ্গ। মহাঁনির্বাণতন্থে 
এই সম্পর্কে বলা হয়েছে : 

ধোয়: পূজা: সুখারাধ্যস্তং বিন! না্তি মুক্তয়ে।৯*৩ 

“মুক্তিলাভের জন্য সেই ব্রহ্ম ভিন্ন ধোয়, পৃজ্য এবং স্বখারাধা আর কেউ নেই ।” 


ব্রন্ধোপাসনাকে আশ্রয় করে ভক্তি তন্ত্রসাধনায় অতি উচ্চ আমন লাভ করেছে। 
কুলার্ণব-তন্ত্র বলেন : 

ভজনাৎ পরয় ভক্ত্যা মনোবাক্কায়কর্মভিঃ | 

তরত্যখিলছুংখানি তম্মাদূভক্ত ইতীরিতঃ ৯৪ 
এইভাবে অদ্বৈতবাদী তান্ত্রিক সাধক তার সাধন] ও আচাবু-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে 


১৭৯ 


জ্ঞান-তক্তির এক সমন্বয় সাধন করেছেন। শঙ্করের পরবর্তী অছৈতবাদী 
বেদাস্তাঁচার্গণের কারও কারও মধ্যে এমন সমন্বয়ের আভাস যে দেখ] যায় নি 
তা নয়; এই প্রসঙ্গে শ্রীধর, মাধবেন্দ্র পুরী, ঈশ্বর পুরী, কেশব ভারতী, বিগ্যারণা, 
মধুস্থদন সরম্বতীর নাম পূর্বেই উল্লেখ করেছি।৯ কিন্তু এই প্রচেষ্টা অনেকটা 
বাক্তিগত 'প্রবণতানির্ভব, তন্বের মত এমন সারধ্ধিক নয়। কঠোর শঙ্করপন্থী 
অছৈতিগণের দৃষ্টিতে ভক্তি, আরাধনা, উপাসনা প্রভৃতি উপাস্ত-উপাসক 
ভেদজ্ঞানের স্তরেই নিবদ্ধ অভেদজ্ঞানের উদয়ে অবিদ্যা দূর হলে এসবেরও 
বিলুপ্তি 

সাধনপ্রণালীর ক্ষেত্রেও বেদান্ত '৪ তন্ত্রের মধো একটি মৌলিক প্রভেদ 
আছে। অদ্বৈত বেদান্ত মায়িক জগৎ ও জীবনের স্খদ্বঃখকে মিথ্যা জ্ঞান 
করে সাধককে সংসাঁববিমুখ হয়ে যোক্ষসাধনায় আত্মনিয়োগ করতে উপদেশ 
দেয়। ব্র্গ ও মায়াশক্তির ( শাক্ততান্ত্রিক পবিভাষায় শিবশাক্তর ) সমন্য়েই 
আন্ত্রিক অদ্বৈতবাদের পূর্ণতা; মায়িক জগৎ এই দৃষ্টিতে ব্রন্মের মতই নিত্য 
সতা, মিথাও নয় অপাঙক্তেয়ও নয়। তস্তরোক্ত পঞ্চ ম'কার সাধন, ষট্কর্ম প্রভৃতি 
ক্রিয়া ও অন্্ঠানগুলি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তন্ত্রশান্ত্র এই সংসারকে 
এবং মান্থুষের ব্যবহাঁবিক জীবনকে সম্পূর্ণ স্বীকার করে নিয়েছে। মানুষের 
স্বস্থ ও স্বাভাবিক ভোগবাসনাঁনিচয়কে মোক্ষপথের চরম বিদ্ব জেনে নিবৃত্তি- 
মার্গের উপদেশ দেওয়ার পরিবর্তে উক্ত প্রবৃত্তিনমূহকে আশ্রয় করে সেগুলির 
মাধ্যমে আধ্যাত্মিক উন্নতি ও মোক্ষ লাভের চেষ্টা তন্ত্রনাধনার প্রধান লক্ষ্য। 
সেইজন্য অদ্বৈতবেদান্তের জীবনবিমুখতার স্থলে তন্ত্র আমর! দেখি এক বলিষ্ঠ 
জীবন-ম্বীকৃতি, যদিচ উভয্বের মূল উদ্দেশ এক | তৃতীয় অধ্যায়ে স্থপ্রসিদ্ধ তান্ত্রিক 
পণ্ডিত শিবচন্দ্র বিদ্যাণবের যে উক্তি আমরা উদ্ধত করেছিলাম, এই প্রসঙ্গে 
তা আবার ম্মরণ কব] যেতে পারে, “তান্ত্রিক সাধকগণ সেই সংসারেই 
ব্রন্ধানন্দতরঙ্গ দেখিয়া সংসাবের কার্ষকারপপ্রক্রিয়াকেই প্রত্যক্ষরূপে সাধনার 
সোপান-পরম্পব1 বলিয়া দেখাইয়া দিতেছেন-*- 17৯৬ 

সামাজিক ক্ষেত্রে তম্রমত বেদ-বেদাস্ত অপেক্ষা উদার ও প্রগতিশল। 
প্রাচীন যুগে যেমনই হোক পরবর্তাকালে বৈদিক সংস্কৃতির সামাজিক দৃষ্টি 
ছিল অনুদীর ও সংকীর্ণ। নারী ও শূত্রের বেদাধায়ন এমন কি বেদশ্রবণের 
উপরেও সামাজিক নিষেধাজা ঘোষিত হয়েছিল। ব্ররহ্মবিষ্যায় অধিকার: 


১৮৩ 


যেমন ব্রাক্মণাদি উচ্চবর্ণের মধ্যে নিবদ্ধ হল তেমনি স্ত্রী-শূত্র রইল বৈর্দিক 
দীক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত। শাস্ত্রের মধ্যে তন্থই বোধকরি সর্বপ্রথম 
এই কৃত্রিম বিধিনিষেধের বেডি ভাঙ্বাঁর জন্য এগিয়ে আসে এবং আচগ্ডাল 
্ী-পুরুষের মধো মন্ত্রদীক্ষার অধিকার প্রসারিত করে। গৌতমীয়তন্ত্ে 
আরন্তেই দেখা যায় খষি গৌতম বিষুর নিকট প্রার্থনা করছেন £ 


যেন সর্ফলাবাঞ্চি সর্বেষাং বন্ধুরেব যঃ 
সববর্ণাধিকারশ্চ নারীণাং যোঁগা এব চ 
তং বহি ভগবন্ন্্ং মম সব্বার্থসিদ্ধয়ে 1৯" 


'ঘে মন্ত্র সবফলদাতা, সকলের বন্ধু, ফে মন্ত্রে সর্ববর্ণের সমান অধিকার এবং 
যে মন্ত্র নারীদের যোগা, ভগবান সব্বার্থসিদ্ধির নিমিত্ত সেই মন্ত্র আমাকে 
বলুন” মহানিবীনতন্ত্রে স্প্টত চগ্ডাল ও যবনদের পর্যন্ত সর্বোচ্চ আধাত্মিক 
অধিকাঁব স্বীকার করা হয়েছে ।৯* ধঃসাঁধনাব ক্ষেত্রে এই সমবুষ্টি তন্ত্রের অন্যতম 
বৈশিষ্ট্য | 

রামমোহনের বিচারগ্রস্থ গুলি খু টিয়ে দেখলে তার তন্ত্রশান্্রালোচনার একটি 
সমগ্র ৰপ আমাদের দৃষ্টিতে ধরা পড়ে। তিনি সর্বসমেত উনিশ খানি তন্ত্র বা 
হম্বজাতীয় গ্রন্থের উল্লেখ করেছেন ও এগুলির অধিকাংশ থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন £ 
(১) কুলার্শবতন্ত্ব (৩৪ বার );৯৯* (২) মহানির্বাণতস্থ (২২ বার )১০০ 
(৩) তন্ত্রসার (৪ বাব)১৯০১ (৪) নির্বাণতন্্ব ৭ বার)১১০২ কুলাবলী (কৌলাবলী) তন্ব 
১৪ বাব ):১০৩ (৬) কুলার্চনচক্দ্রিকা (২ বার ):১% (৭) কুলতন্্ব (৩ 
বার )১* ; (৮) কুলার্চনদীপিকা। (* বার)১,৬ ; (৯) কুক্জিকাতন্ত্র ১১ বার)১** ; 
১১০) সময়াতন্ত্র ৫২ বার)১০* ; (১১) কামাখ্যাতন্ত্র (২ বার)১০* ; (১২) শিরুত্তর- 
তন্ব (২ বার)১১০ 5 (১৩) কালীবিলাসতন্ত্ব $৪ বার) ১৯১ (১৪) কালীকল্পলতা 
(৩ বার )৯১২ 7) (১৫) অনস্তসংহিত! (২ বার )৯১০) (১৬) তন্ত্ররত্বাকর (২ 
বাব )৯১৪ ; (১৭) কালিকোঁপনিষৎ (২ বার )১১৫; (১৮) সিচ্ধলহরীতন্ত্র (২ 
বার )১১৬ ; (১৯) চীনতন্ত্র (২ বার )১১*। এই হিসাব থেকে বোঝা যাচ্ছে 
রামমোহন বাঙলাদেশে প্রচলিত শৈবশাক্ত মতের অন্তর্গত কৌলতান্ত্রিক 
সাহিতাই বিশেষভাবে অধ্যয়ন করেছিলেন । তার মাতৃকুল ছিলেন শাক্ত এবং 
তার তত্বগুরু হরিহরানন্দ তীর্ঘস্বামী স্বয়ং ছিলেন বামাচারী কৌল সন্যাসী। 


১৮১ 


এ দুটি কথা মনে রাখলে কৌল সাহিত্যের প্রতি তার এই প্রবণতা অস্বাভাবিক 
মনে হবে না । তবে শাঞ্ত সম্প্রদায়ের অস্তভুক্তি দিবাচাব, পশ্বাচার, বামাচার, 
সময়াচার, দক্ষিণাচার প্রর্তৃতি বিভিন্ন উপাসনাপদ্ধতির'ও যে ভিনি খবর রাখতেন, 
তা তার সময়াতস্ত্রের, এবং রচনাব্লীর বিভিন্ন স্থানে, অন্যান, বিধিগুলির উল্লেখ 
থেকেই প্রমাণিত হয় ।১১* তম্্রমত যে বাঙলাদেশে বহুল প্রচলিত এ সম্পর্কেও 
তিনি সচেতন ছিলেন, এবং 'পথাপ্রদান” গ্রন্থে স্পষ্টই বলেছেন £ “তত্ত্রমতবিমুখ 
বাক্তি প্রায় এদেশে অপ্রাপা' ।--» উপরের তালিকা থেকে একথাও স্পষ্ট 
হয় যে. পুরাণেব মত তগ্রশান্তেও রামমোহনেব পাণ্ডিতা ছিল অসাধারণ । 
মাত্র বেদে জ্ঞানকাঁণ্ড উপনিষদেব মধো তিনি আপনাকে নিবদ্ধ রাখেন নি। 

এর পর স্বভাব প্রশ্ন উঠবে শান্সহিসাবে রামমোহন তন্ত্রকে কি দৃষ্টিতে 
দেখেছিলেন । তৃতীয় অধ্যায়ে তার বেদাস্তমত ও বর্তমান প্রসঙ্গে পুরাণ 
ক্রান্ত তব দৃষ্টিভক্ষি আলোচনাকালে এই গুশ্রের উত্তর পাওয়া গিয়েছে। 
আমরা দেখেছি, পুবাণ "ও ভন্ত্রকে তিনি শাস্ত্র বলে স্বীকার কবেছেন প্রাচীন 
শান্্কাবদের পন্থায়, শ্রুতি সঙ্গে তাদের এক বাকাতা স্থাপন করে। পুরাণেব 
মত তন্ত্রে যেখানে প্রতিমাপৃূজার বিধান ও তৎ্সংক্রান্ত খুঁটিনাটি ক্রিয়াকলাপেব 
বর্ণনা আছে-সেই অংশগুলিকে তিনি দ্র্বলচিত্ত উপাসকদের জন্য প্রদত্ত বিশেষ 
ব্যবস্থা বলে গণা করেছেন। পুরাঁণের মত অন্ত্রেরও মূল গ্রতিপা্ ব্রঙ্গজ্ঞান ; 
্রহ্মজ্ঞানের স্তরে উপনীত হলে উপাঁমকের চিত্ত থেকে দেবদেবীর বূপকল্পনা 
অন্তহিত হয়। সাম্প্রদায়িক পুরাণগুলির সিদ্ধান্তের মত সাম্প্রদায়িক তন্ত্র গুলির 
সাক্ষাও রামমোহনেব কাছে গ্রহণযোগা বিবেচিত হয় নি। সাম্প্রদায়িকতার 
বিরুদ্ধে উপস্থাপিত তার তীক্ষ মুক্তিগুলি পৌরাণিক ও তান্ত্রিক সাম্প্রদায়িক 
মতের বিরুদ্ধে সমভাবে প্রযোজা ৷ শান্ত্রহিসাবে বিবেচনা ও বিচারের যোগা 
অন্্গ্রন্থ নির্বাচনের ক্ষেত্রেও রামমোহন সর্বদা সজাগ এবং সতর্ক । অর্বাচীন্‌ 
পুরাঁণের মত অর্বাচীন তন্্ও তার নিকট একই যুক্তিতে অগ্রাহা। মাত্র সেই 
সব অন্ত্গ্রস্থের প্রাচীনতা ও প্রামাঁণা তিনি মানতে প্রস্তুত যার টাকা আছে এবং 
যার বচন নিবন্ধাদি সুপরিচিত সংগ্রহগ্রন্থে উদ্ধৃত। 

নিজ শান্ত্রালোচনায় বাবহৃত অন্ত সকল অন্তগ্রস্থগুলির প্রামাণ্য বিচারে 
শেষোক্ত কঠোর মানদণ্ড যদিও রামমোহন প্রয়োগ করেছিলেন তথাপি 
আপাতদৃষ্টিতে এর একটি ধ্বাতিত্রম ছিল মনে হয়। সেটি হল মহানির্বাণ- 


১৮২ 


্্। বর্তমান স্মাকাবে এই বনুল প্রচলিত তগ্থগ্রন্থথানিকে প্রাচীন বলে মনে 
হয়না! এব খুব পুরাতন পুথিও পাওয়া যায় নি; এব কোনও প্রসিদ্ধ 
নিবন্ধগ্রন্থে এর থেকে কোনও উদ্ধতি আছে এমন কথাও আমাদের জানা 
নেই। তা সত্বেও বামঘোহন অতি যত্বু ও শ্রদ্ধা সহকারে এ্র্থথানি পাঠ 
করেছিলেন 'এবং নিঃসন্দেহে এব দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন । আর্থার 
আভেলন (স্ব্গত সার জন উডরফ) তাঁর সম্পাদিত মহানিরবাণতন্ত্রে 
ভূমিকায় এ বিষয়ে লিখেছেন 2 06 008 1005 7661) 5110160 
9 ০0100)61008175 05 [70111)810171170710106 10710050700 01 006 
00100210091 10101) 15 আটা) 06 591601, 15 91100050 2100116]% 
11) 0106 ি18.5 1)01)0%71101116. [1 00০ 06610101736 0 5801) ০17210661 
0 006 0017017021)01-5 0০ 7২209. 11663 40017 120917)08111010021)65 
714 11 006 06111010106 01 006 ০0100)01767175 00 002 90) ০079766 
00615 15 110 80010101700 0176 7৮০০, 0106 10110 জ11)£ 110৮0070101 
১1011 510171-105008-05 02001091601 76707, 208 (17505 006. ২৮ | মহা 
নিবাণতন্্রকে বামমোহনের তত্ত্রগুর হরিহরাঁনন্দ তীর্থন্গামী অতি উচ্চ মর্যাদা 
দিযেছেন | তিনি জয়ং এই গ্রন্থের স্প্রসিদ্ধ টীকা! রচনা করেন । কেউ কেউ এমন 
ইঙ্গিতও করেছেন যে বর্তমানে এচলিত মূল “মহানিরাণতঙ্ক' খানি হবি- 
হবাঁণন্দের বচিতত অথবা তার দ্বারা পরিমাজিত। শেষোক্ত মত সতা কি না তা 
নিশ্চিতভাবে বলবার উপায় নেই, কিন্ত গ্রন্থখানি যে প্রাচীন নয় একথা সম্ভবত 
ঠিক। হয় তো বা হরিহরানন্দ এবং তার রচিত টাকার প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবশত 
ধামমোহন এই গ্রন্থথানিব প্রামাণানির্ণয়ের ব্যাপারে তার প্রথর বৈজ্ঞানিক 
বিচারবুদ্ধিণ আশয় গ্রহণ করেন নি। এ বিষয়ে কোনগ সঠিক সিদ্ধান্ত 
কর! কঠিন। তবে এইটুকু মনে রাখা যেতে পারে সেযুগে রামমোহনের 
প্রতিপক্ষীয় কোনও পণ্ডিত মহানির্বাণতন্ত্রের বিরদ্ধে আধুনিকত্বের অভিযোগ 
আনেন নি। কাশীনাথ তর্কপঞ্চানন অভিযোগ করেছিলেন বামমোহন মাত্র 
কুলার্ণৰ ও মহানির্বাণের বচনেব উপর নির্ভর করেছেন, কিন্ত উক্ত গ্রন্থদ্বয়ের 
সাক্ষা অগ্রাহা, কেনন] তা! শ্রুতি, স্মৃতি ও অপর তন্ত্রাদির বক্তবোর বিরোধী ।১২১ 
এর উত্তরে রামমোহন নানা প্রমাণ উপস্থিত করে দেখান যে কুলার্ণব ও 
মহাঁনির্বাণ এই কৌল আগমঘয়ের শিক্ষা শরুতিঝিরোধী নয়, সুতরাং এ ঢখানি 


১৮ 


সদাগম।১২২ তার পক্ষে আরও বলবার ছিল যে তিনি এছুটি ছাড়া অন্য 
ন্তগ্রস্থের বচন ও যথেষ্ট উদ্ধত করেছেন। যাঁই হোঁক এই তর্ক মহানির্বাণতন্ত্রের 
অর্বাচীপত্তের প্রশ্নের সঙ্গে জড়িত নয়। 

পুরাণ ও অন্ত্রের শান্ত প্রতিষ্ঠায় একই প্রণালী এবং একই যুক্তি অন্সসরণ 
করলেও রামমোহন এই দুই শান্ত্রকে ঠিক এক দৃষ্টিতে দেখেন নি। তার বিচার 
গ্রন্থগুলি বিশ্লেষণ করলে দেখা! যায় “দর্শন” ও “আচার” এই চুই ক্ষেত্রেই তন্ত্রের 
প্রতি তার পক্ষপাতিত্ব অধিক। তার চিস্তা ও কর্মে পুরাণেব কোনও স্বতুত্ 
প্রভাব খুঁজে পাওয়। যায় না; কিন্ধ একথা! অস্বীকার করবাব উপায় নেই তন্ত্রের 
গ্রভাব তার উপর গভীর | পুরাণের মত তন্ত্রের ব্রহ্গজ্ঞান গ্রতিপাদক অংশকেই 
তিনি প্রধানত মান্ত করতেন। বিভিন্ন হিন্সম্প্রদায়ে প্রচলিত প্রতীকো- 
পাসনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত তান্ত্রিক মন্ত্র ও ক্রিয়াহুষ্ঠানকে স্বতন্ত্র ভাবে গ্রহণ 
করা একেশ্বরবাদী বামোহনের পক্ষে সম্ভব ছিলন1। তবে ব্রহ্ষজ্ঞানবাচক অংশের 
সঙ্গে একবাকাতা৷ স্থাপনের দ্বারা দুর্বল অধিকাঁরীর জন্য প্রদত্ত বিধান হিসাবে 
এগুলির ব্যাখা! করে তিনি একটি সামঞ্রস্তপূর্ণ মীমাংসায় উপনীত হয়েছিলেন । 
তস্ত্রোক্ত মারণ, উচাটন, বশীরকণ ইত্যাদি তথাকথিত কারে সিদ্ধিপ্রদ ষট্‌কর্মেও 
তার শ্রদ্ধা বা বিশ্বাম ছিল না1।১২৩ তন্্োক্ত ব্রন্মবিদ্যাব প্রতি রামমোহন আকৃষ্ট 
হয়েছিলেন প্রথমত এই কারণে যে তার মধো তিনি তার বৈদাস্তিক অদ্বৈত- 
বাদের পূর্ণ সমর্থন পেয়েছিলেন । একথা খুব দৃঢ়ভাবেই তিনি একাধিক স্থানে 
বলেছেন, যেমণ £₹ “শিষ্টপরিগৃহীত প্রসিদ্ধাগমোক্তাত্মতত্বশ্রবণমননাদেনিঃশ্রে- 
যসাবাপ্চিরৈকাস্তিকীতি পরমাবাধাস্ত মহেশ্ববশ্ত দৃঢপ্রতিজ্ঞাপি সফলাশীৎ। 
আত্মানাত্মনোঃ সত্যানৃতত্বে প্রদর্শয়ন্তো লোকানাত্মশ্রবণমনননিদিধ্যাসনেষু 
প্রবর্তয়স্তো বেদান্তগ্রথিতশব্াা যথা নিঃশ্রেয়সহেতবেো৷ ভবস্তি তথৈব তমেবার্থং 
প্রবদতাং স্থতাগমপ্রভৃতীনাং তত্রচ্ছোতৃভ্যো নিঃশ্রেয়সপ্রদাতৃত্বং যুক্তম্‌**** ৷” ১২৪ 
বস্তত তত্গত ভাবে তন্ত্র সম্পূর্ণ অছ্বৈতমতাঁবলশ্বী। এ বিষয়ে তৃতীয় 
অধাঁয়ে যা বল৷ হয়েছে তারপর আর কিছু বলা বাহুলা ।১২ তা ছাড়া 
আমর! তৃতীয় অধায়ে বলেছি অদৈতবেদাস্তের মায়াতত্ব সম্পর্কে রামমোহনের 
চিন্তা যে বহুলাংশে তন্ত্রের মায়াশক্তিতত্বের দ্বারা পরিমাজিত ছিল এমন 
মনে করারও যথেষ্ট কারণ আছে ।১২ংক এই দিক দিয়ে দেখলে 
রামমোহনের বেদীস্তকে স্বচ্ছন্ধে তান্ত্রিক বেদান্ত আখ্যা দেওয়া যেতে 


১৮৪ 


পারে। বৈদাস্তিক অছৈততত্বেব সমর্থন ও মায়াতত্বের পরিমার্জন 
ছাড়া অন্য যে তত্বের জন্য তিনি অঙ্কের নিকট বিশেষভাবে খণী তা হল 
ব্রদ্দোপাসনা। পূর্ববতী অধায়ে বেদাস্ত সম্পর্কিত আলোচনা সত্রে আমরা 
দেখেছি অদ্বৈতবাদের সঙ্গে উপাসনাতত্বেব সংমিশ্রণ টবদাস্তিকরূপে বাম- 
মোহনের বৈশিষ্টা। এ বিষয়ে শ্রীধর, বিগ্যারণা মধুস্দন সরম্থতী, ( এবং 
সম্ভবত চৈত্ন্যদেবের গুরুপবম্পরার অন্তর্গত মাঁধবেন্দ্র পুবী, ঈশ্বন পুনী ও 
কেশব ভারতী ) প্রভৃতি তার কয়েকজন বৈদাস্তিক প